সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত’ জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ তাদের সব অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী জামায়াত এবং এর সব অঙ্গ সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে আজ বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দলটির ওপর এটি দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের’ কারণে। পরে জিয়াউর রহমানের আমলে তারা রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়।
দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল তখন থেকেই। চার দশক পর সেই দাবি পূরণ হলো, যদিও যুদ্ধাপরাধের জন্য জামায়াতের বিচারের দাবি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নিধনযজ্ঞে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল।
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর অনেকের প্রাণহানি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে আসছে সরকার।
আজ জারিকৃত সরকারের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘সরকার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৮ (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিল এবং উক্ত আইনের তফসিল-২-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করিল।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কয়েকটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (পূর্বনাম জামায়াত-ই-ইসলামী/জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ) এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (পূর্বনাম ইসলামী ছাত্রসংঘ)-কে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী হিসাবে গণ্য করা হইয়াছে; এবং যেহেতু, বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত/প্রাপ্ত নিবন্ধন বাতিল করিয়া দিয়াছে এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায়কে বহাল রাখিয়াছে।’
‘যেহেতু, সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রহিয়াছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল; এবং যেহেতু, সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সহিত জড়িত রহিয়াছে।’ সেহেতু দলটিকে নিষিদ্ধ করে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
১৯৭২ সালে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলেও ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। ১৯৭৬ সালের ৩ মে রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশ জারি করে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন।
তবে জামায়াতে ইসলামী তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াতে ইসলামী নামে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করেনি। পরিবর্তে, তখন তারা একটি ভিন্ন রাজনৈতিক দল বেছে নেয়।
১৯৭৬ সালের ২৪ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দল ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এই দলে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে।
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেন এবং ছয়টি আসনে জয়লাভ করেন।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন।
১৯৭৯ সালের ২৫, ২৬ ও ২৭ মে ঢাকার ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় এবং এই সম্মেলনে দলটির নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয়।
এরপর ১৯৭৯ সালের ২৭ মে চার দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে জামায়াতে ইসলামী।
জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে।
তৎকালীন বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব ছিল না। তখন থেকেই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়।
২০০৮ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এরপর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার শুরু হয়।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আলোচনায় থাকলেও বিষয়টি গতি পায় সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতার পর।
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জুনের শেষে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে ছাত্ররা ফের মাঠে নামে। জুলাইয়ে তা সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে একপর্যায়ে তা সহিংসতায় গড়ায়।
এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা শুরু হয়। রামপুরায় বিটিভি ভবন, বনানীতে সেতু ভবন, মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাংচুর করে আগুন দেওয়া হয় এক্সপ্রেসওয়ের মহাখালীর টোল প্লাজা এবং মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনে।
এই আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাতের মধ্যে এক সপ্তাহে ১৫০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে সরকার, যদিও সংবাদমাধ্যমের খবরে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর এসেছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে নাশকতা করেছে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী, আর তাতে মদদ দিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি।
এই প্রেক্ষাপটে গত সোমবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তা করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে বুধবারের মধ্যে।
বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে।
জামায়াত নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বুধবারই জারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া সারতে এক দিন সময় লেগে যায়।
প্রমত্ত পদ্মা নদীতে রাতভর মাছ ধরেছেন মাঝি রিপন মৃধা। ভোরে পা ধুতে ধুতে কাছাকাছি জায়গার একটি বাজারের দোকানের দেয়াল ও শাটারে চোখ বুলিয়ে নেন তিনি।
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ী জেলার এই এলাকায় কিছুদিন আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বড় বড় পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো ছিল। সেই সব চিহ্ন এখন আর নেই।
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রায় কোনো চিহ্নই আর সেখানে চোখে পড়ে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার সেই স্বৈরশাসনের অবসান হয়। উৎখাত হওয়ার পর তিনি তার ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের গুম ও হত্যা করার অভিযোগে অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হাসিনা-বিরোধী বিক্ষোভের সময় এক হাজার চার'শর বেশি মানুষ হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রহসনের বিচার করার জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনা নিজে ওই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে উৎখাতের পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজীবন আওয়ামী লীগের ভোটার রিপন মৃধা বলেন, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলকে নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন নিয়ে তার তেমন আগ্রহ নেই।
এরপরও তিনি হয়তো ভোট দেবেন। কিন্তু ব্যালটে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না থাকায় কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন।
প্রায় ৫০ বছর বয়সি মাঝি রিপন মৃধা জানান, পরিবারের সদস্যরা ভয় পাচ্ছেন যে ভোট না দিলে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
এটা এমন সময়ে হতে পারে যখন কয়েক দশকের হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় হাসিনা ও তার দল এখনো ব্যাপক ক্ষোভের মুখে রয়েছে।
হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দলটির কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ছিলেন। গত ডিসেম্বরে তিনি মারা গেছেন। তার ছেলে এবং বিএনপির বর্তমান চেয়াম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত হচ্ছে। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এখন অন্যান্য দলের সাধারণ সমর্থকদের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকেরা রেহাই পাচ্ছেন না। নেতাদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে তারা রোষানলের শিকার হচ্ছেন।
রিপন মৃধা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা যদি ভোট না দিই, তাহলে আমরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারি। সে কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে যাবে।’
যেসব এলাকায় একসময় আওয়ামী লীগ আধিপত্য ছিল, সেখানে দলটির পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায়, তাদের মনোভাব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে জানালেও অন্যরা আদৌ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জে রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বছর ভোট দেবেন না। তার ভাষায়, ‘ব্যালটে নৌকা ছাড়া নির্বাচন কোনো নির্বাচন না।’ গোপালগঞ্জের অনেক বাসিন্দা তার সঙ্গে একমত।
ঢাকার কেন্দ্রস্থল গুলিস্তান এলাকায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সেখানে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এর পর থেকে পরিত্যক্ত ওই ভবনে গৃহহীনেরা আশ্রয় নিয়েছেন। ভবনের কিছু অংশ গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কার্যালয়ের বাইরে হকার আবদুল হামিদ বলেন, কয়েক মাস ধরে এই এলাকার আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দেখেননি।
তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থককে পাবেন না। কেউ সমর্থক হলেও তা কখনো স্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ আগেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু কখনো এ রকম প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়নি।’
কাছেই আরেকজন হকার সাগর, উলের তৈরি মাফলার বিক্রি করছেন, যেগুলোতে বিএনপি এবং তার সাবেক মিত্র ও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক রয়েছে।
সাগর বলেন, ‘এই দলগুলোর মাফলার ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগ কিছু সমর্থক দলের ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদী।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান বলেন, ‘দল হয়তো কৌশলগত নীরবতা পালন করে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দূরের বিষয়।’
আরমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর যখন ফিরবে, শেখ হাসিনাকে নিয়েই ফিরে আসবে।’
তবে ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি এতটা নিশ্চিত নন। তিনি মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হবে।
রেজাউল করিম রনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে তাদের ভোটাররা ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। তারা স্থানীয়ভাবে মিশে যাবে, যে দল বা শক্তি তাদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করবে, তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। এভাবে তারা দৈনন্দিন জীবন সাজাতে শুরু করবে।’
রেজাউল করিম বলেন, এতে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের জন্য তার সমর্থকদের ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, যদিও দলের সমর্থকদের একটি অংশ এখনো হাসিনা ছাড়া দলের ভবিষ্যৎ দেখতে পান না, তারপরও দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার শাসনামলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে হতাশ।
রেজাউল করিম বলেন, ‘সমর্থকেরা বিভক্ত থাকায়, হাসিনা থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগের জন্য আগের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে আসাটা অত্যন্ত কঠিন—প্রায় অসম্ভব।’
অন্য বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, আপাতবিরোধী মনে হলেও জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থনের সাম্প্রতিক জোয়ারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনরুত্থানের এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া যেতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে-কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে-এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোনো দল নেই।’
শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা মানুষ তার ওপর ভরসা করে- যার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে-যার ওপরে ভরসা করা যেতে পারে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে-যে মানুষকে বিপদের সময় ফেলে রেখে চলে যায়নি। এই সব গুণ একমাত্র বিএনপির ভেতরেই আছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা কাজেই আসুন আজকে যদি আমাদের দেশ গড়তে হয়, আজ যদি বিশ কোটি মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়-তাহলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের এই ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে।’
এদিকে বগুড়াকে বিএনপির অবিচ্ছেদ্য দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ওপর বিশেষ আস্থার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সকালে বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত কোনো কোনো নেতা মন্তব্য করেন, বগুড়ায় ধানের শীষের যে জনপ্রিয়তা, তাতে ভোটারের কাছে না গেলেও বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত। তবে এই মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসে থাকলে চলবে না, সবার কাছেই যেতে হবে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জয়ের আশা করা যাবে না।’
তারেক রহমান আরও যোগ করেন, ‘বগুড়ার সাতটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। জয়ের ব্যবধান যত বেশি হবে, জনরায়ের প্রতিফলন ততটাই শক্তিশালী হবে।’
তারেক রহমান এবার বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারের ব্যাপক ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজের আসনে সময় দিতে পারবেন না বলে জানান। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতে নানা সময়ে আপনাদের কাছে এসেছি। এবার প্রার্থী হয়ে এসেছি। তবে আমার নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। কারণ, সারাদেশে আমাকে যেতে হচ্ছে। এই ঘাঁটির দায়িত্ব আপনাদের সঁপে দিলাম, এই ঘাঁটির জনগণকে আপনারা দেখে রাখবেন।’
একটি দল, যারা ধর্মের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে মানুষকে দিয়ে শিরক করানোর চেষ্টা করছে তারা ধর্মকে পুঁজি করে ফায়দা নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যারা একাত্তরে দেশ চায়নি সেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশ দখলের পায়তারায় নেমেছে। যাদের কারণে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে, ২ লাখ মা- বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে তারা অনেকটা একই কায়দায় বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে বেতাগী ৩ নং হোসনাবাদ ইউনিয়ন এর হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।
মনি আরো বলেন, বিএনপি মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করে। যখনই দেশ ক্রান্তিকাল পার করেছে তখনই বিএনপি দেশের হাল ধরেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে, বেগম খালেদা জিয়া-তারেক রহমান গণতন্ত্রের কাণ্ডারী হয়ে দেশের জন্য করেছেন, করছেন।
তিনি বলেন, এই জনসভায় আজকে যারা আমাকে ভালোবেসে এসেছেন যারা মনে করছেন আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন, আপনাদের উদ্দেশে বলি- আমি নির্বাচিত হলে এই বেতাগী থেকেই আমি আপনাদের জন্য আপনাদের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপিকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।
সাধারণ জনতার স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল। সাধারণ জনগণ ছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংঘটনের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জামায়াতের মুখে একটা কাজে আরেকটা। আমাদের সামনে বলে একটা আর গোপনে বৈঠক করে ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে। আমরা পরিষ্কার বলব, বৈঠক হতেই পারে, গোপন কেন? সেই গোপনের মধ্যে ডাল মে কুচ কালা হে। এটা বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গেছে।
শুক্রবার রাতে নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, আর ধোঁকা দিয়ে আমাদের ধোঁকায় ফেলানো যাবে না। আমরা একা হয়ে যায়নি, আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছে, ওলামা আলেমসহ জনগণ আছে।
তিনি বলেন, ইসলামের নীতি আদর্শের ওপর আমরা দাঁড়িয়ে থাকলে দুনিয়াতে শান্তি পাব, আখিরাতে মুক্তি পাব। আমরা যখন দেখলাম, জামায়াত সমঝোতার মধ্যে নেতৃত্বের ক্ষমতা নিয়ে নিল, তারা প্রচলিত নিয়মে দেশ পরিচালনা করবে। যখন এটা আমরা বুঝতে পারলাম তখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম। ইসলামকে বাংলার জমিনে উঁচু করার জন্য, মানবতা রক্ষা করার জন্য আমরা ঘোষণা দিলাম ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা নিয়ে ইসলামের পথে একাই নির্বাচন করবে। বাংলাদেশকে পরিবর্তন করব, সোনার দেশে পরিণত করব।
নরসিংদী সদর আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও জেলা শাখার সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে নরসিংদীর বিভিন্ন আসনে মনোনীত প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ভিত হিসেবে পরিচিত সিরাজদিখান উপজেলায় দলটিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণদী শেখ মিয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় জাতীয় পার্টির প্রায় শতাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা ওই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও প্রভাবশালী নেতা শেখ মো. আব্দুল্লাহর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তার নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
যোগদানকারী নেতাকর্মীদের তালিকায় রয়েছেন সিরাজদিখান উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ওমর বেলীম, উপজেলা জাপার বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান ঢালী এবং খাসমহল বালুচর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কাশেম মেম্বার। এ ছাড়াও বয়রাগাদী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. বাবুল, লতব্দী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কার্তিক চাঁন ফকির এবং সাধারণ সম্পাদক সদাগর মাদবরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক দলবদল করে ধানের শীষের পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে শামিল হতে তারা জাতীয় পার্টি থেকে একযোগে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিএনপির রাজনীতি কেবল ক্ষমতার মোহে নয়, বরং এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং একটি সুসংহত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে যেভাবে নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাতে প্রমাণিত হয় যে বিএনপি এখন জনগণের আস্থার শেষ ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে তিনি সিরাজদিখান ও শ্রীনগর এলাকাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ আব্দুল্লাহ আরও বলেন, তার মূল লক্ষ্য হবে এই এলাকাকে সব ধরনের সন্ত্রাস, মাদক এবং চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত রাখা। বিশেষ করে ইদানীং বাড়তে থাকা কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়াও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি কুচিয়ামোড়া, পাথরঘাটা ও রামকৃষ্ণদী সড়কের দ্রুত সংস্কারসহ আধুনিক মুন্সীগঞ্জ-১ বিনির্মাণে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। নবাগত নেতাকর্মীরাও আব্দুল্লাহর জয় নিশ্চিত করতে জীবনবাজি রেখে মাঠে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়ার সঞ্চালনায় এই যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন, লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়াও শাহা আলী, সিরাজ মাস্টার, আলীম খান ও অনু খানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার এই সন্ধিক্ষণে জাতীয় পার্টির এত বড় সংখ্যক নেতাকর্মীর দলবদল মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের ভোটের লড়াইয়ে বিএনপিকে একধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই গণযোগদানকে কেন্দ্র করে পুরো রামকৃষ্ণদী এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় ভোট গণনার স্বচ্ছতা ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলছে তিনদিন লাগবে ফল দিতে, কাকে জেতাতে তারা এমনটা বলছে। এর পেছনে কারা কাজ করছে সেটা সরকারকে বের করার অনুরোধ।’ ফলাফল ঘোষণায় অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি ১২ ঘণ্টার বেশি দেরি করে তাহলে বুঝতে হবে তাদের মধ্যে অসৎ উদ্দেশ্য আছে, সেটা আমরা মেনে নেব না। কোনো ধরনের অসততার কারণে অর্জিত এই ভোটাধিকার নষ্ট হতে দেব না।’
সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী কেন্দ্র ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। ঢাকা-৮ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, যা সফল হতে দেওয়া হবে না। আমি সহ্য করছি। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না।’ একইসঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কেউ দান করে নাই। অনেক ছেলেপেলে মনে করেন ২৪ এর জুলাইয়ে সব করেছেন, তাহলে ১৭ বছর কী করেছি আমরা? আমরা বরং এদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছি, সবাই সমর্থন দিয়েছে ২৪ এ।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনজীবনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস ভোটারদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেন, ‘হাসিনা যাওয়ার পর যতটা ভালো থাকার কথা, ততটা ভালো থাকতে পারেনি দেশের মানুষ। তাই বিএনপিকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করতে হবে। ভোটাধিকার ১২ তারিখে ঠিক করে প্রয়োগ করতে হবে, কারণ সেদিন খারাপ কিছু হতে পারে সেই শঙ্কা আছে।’ এভাবেই তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সজাগ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ১১-দলীয় জোটের এক নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এবার দেশের নির্বাচনে কোনো প্রকার বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এবং তেমন চেষ্টা হলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
জনসমর্থন ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে আসছে। তারা বলেছে ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না। গত ১৬ বছর তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, কারা ক্ষমতায় আসবে তার নির্ধারণ করবে একমাত্র জনগণ। আধিপত্যবাদ যদি এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে জনগণ দাঁড়াবে। সারা দেশে ১১ দলের প্রার্থী যারা রয়েছে তাদেরকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। তাহলে দেশের মানুষের স্বপ্ন, শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
আসন্ন নির্বাচনকে তিনি চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় নির্বাচনের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই নির্বাচন জুলাই আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতা। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে।’
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্নের গুরুত্ব তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম একটি ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন শহীদ ওসমান হাদি। এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে জুলাই যোদ্ধারা। আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার আমরা এ বাংলার মাটিতে করব। আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। জনগণের সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। আমরা সাম্য মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।’ এভাবেই তিনি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১১-দলীয় জোটের বিজয় সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের মুন্সীপাড়ায় শনিবার আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, যারা সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তারা মূলত দেশের ক্ষতি করছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান যুগ যুগ ধরে এখানে মিলেমিশে বসবাস করছে। তাই আমরা এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ চিরতরে বন্ধ করে দেবো।’ তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং গণমানুষের সামগ্রিক মঙ্গল নিশ্চিত করতেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, শান্তির জন্য। দীর্ঘ দুর্দিন পার করে আজ দেশের মানুষ সুদিনের পথে এগিয়ে আসছে।’
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। জনগণের হাতেই যে রাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি রয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন জনগণের হাতে আবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে।’ পথসভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি সঠিক বিবেচনার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের হাতেই দেশ, আপনারাই দেশের প্রকৃত মালিক। তাই ভুল করার সুযোগ নেই। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের ভোট প্রয়োগ করতে হবে।’ এভাবেই তিনি আগামীর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ এক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক দুই প্রভাবশালী কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেন মোল্লা ও আলমগীর মাস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তারা ধানের শীষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দলটিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনির সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় দুই সাবেক কাউন্সিলর তাদের সহস্রাধিক অনুসারী ও সমর্থকদের নিয়ে বিশাল এক মিছিল সহকারে উপস্থিত হন। এর আগে তারা মঞ্জুরুল করিম রনির বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দলের আদর্শের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার এই সন্ধিক্ষণে এমন গণযোগদানকে কেন্দ্র করে গাছা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
যোগদান অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন মোল্লা ও আলমগীর মাস্টার তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, তারা মূলত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়ার লক্ষ্যেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি। নবাগত এই দুই নেতার দাবি, তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং জাতীয় স্বার্থে এবং এলাকার উন্নয়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই যোগদান প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এই দুই জন প্রতিনিধির যোগদানে গাজীপুর মহানগর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হলো। তাদের এই অংশগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভের পথে একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারা তাদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ব্যবহার করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগরের গাছা মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একে একে নবাগতদের স্বাগত জানান এবং ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা গগনবিদারী স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন, যা মূলত আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের ভোটের লড়াইয়ে বিএনপিকে একধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপি ও জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ বোরকা তৈরি করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বোরকা পরে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ভুয়া ভোট দেওয়ার একটি গোপন নীল নকশা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোরকার আড়ালে অন্যের ভোট দেওয়ার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দেশের ভবিষ্যৎ এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতিটি কেন্দ্রে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এ ধরণের যেকোনো বড় ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা। তাঁর দাবি, সরকারের ভেতরে এবং নির্বাচন কমিশনে ঘাপটি মেরে থাকা একটি নির্দিষ্ট চক্র নির্বাচনকে বানচাল ও বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই চক্রটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ভোটের ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করার একটি পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল দিতে যদি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া হয়, তবে সেটি হবে চরম ধুরন্ধরপনা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১২ ঘণ্টার বেশি দেরি করা হলে সেই ফলাফল বিএনপি ও দেশের জনগণ মেনে নেবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল যুগে ফলাফল গণনায় এত দীর্ঘ সময় লাগার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং যেকোনো ধরণের বিলম্ব জালিয়াতিরই নামান্তর।
গণসংযোগকালে মির্জা আব্বাস ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হচ্ছে জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে এবং সব ধরণের কারচুপি রুখে দেওয়া সম্ভব হলে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সকল ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব হবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। দিনব্যাপী এই প্রচারণায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী মির্জা আব্বাসের সাথে উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বিগত দেড় বছর যারা সরকার পরিচালনা করেছে, তারা আসলে নির্বাচন হোক তা চায় না। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইশরাক হোসেন বলেন, এই বিশেষ গোষ্ঠীটি নানাভাবে পরিস্থিতি বিতর্কিত করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে দেশের মানুষ বা বিএনপি কোনোভাবেই এমন কোনো ফাঁদে পা দেবে না।
প্রচারণাকালে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমানে একটি দল জনসমক্ষে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের শক্তি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে তারা নারীদের ঘরে বন্দি করে ফেলবে এবং জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা পুরোপুরি হরণ করবে। ওই দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, বিগত ১৭ বছর যখন দেশ দুঃশাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তারা কোথায় ছিলেন? রাজপথে তাদের কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে উদয় হয়ে প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসীদের কাজ, প্রকৃত রাজনীতিবিদের কাজ নয়।
ইশরাক হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হচ্ছে ভোটাধিকার রক্ষার এক বড় সুযোগ। সব ধরণের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণকে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় সমস্যা, বিশেষ করে গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে সব জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ধানের শীষের এই প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এলাকার গ্যাস সংকটসহ যাবতীয় নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন। দয়াগঞ্জ এলাকার এই গণসংযোগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত শুক্রবার রাতে আয়োজিত এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াত প্রকাশ্যে এক কথা বললেও গোপনে আমেরিকা ও ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বৈঠক যদি হতেই হয় তবে তা গোপনে কেন? জামায়াতের এমন দ্বিমুখী আচরণকে তিনি ‘ডাল মে কুচ কালো হে’ বা সন্দেহজনক বলে অভিহিত করে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন এসব বুঝতে শিখেছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রেজাউল করীম বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যারা একবার সুযোগ পেয়েও শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা এখন নতুন করে কী উন্নয়ন করবে তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ আর আগের মতো বোকা নয় যে তাদের বারবার ধোঁকা দেওয়া যাবে।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চরমোনাই পীর জানান, তিনি চেয়েছিলেন ইসলামের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি বা ‘ইসলামী বক্স’ তৈরি করে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করতে। তবে নেতৃত্বের নীতিগত অবস্থান ও কর্মপন্থা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, একশ্রেণির ক্ষমতালোভী ইসলামের কথা বললেও আসলে বর্তমান প্রচলিত আইনেই দেশ চালাতে চায়। ৫৪ বছর ধরে যে নিয়মে ইনসাফ কায়েম হয়নি, সেই একই নিয়মে নতুন করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিকে তিনি একটি রাজনৈতিক ধোঁকা হিসেবে বর্ণনা করেন।
উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, যারা দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন তারা যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করেন। তিনি মনে করেন, এখন আর চুপ থাকার সময় নেই এবং পরিবর্তনের জন্য হাতপাখাই একমাত্র বিকল্প।
নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ প্রধান, নরসিংদী-৩ আসনের ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৫ আসনের বদরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক বৈপরীত্যকে লক্ষ্য করেই চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ ব্যয় করেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মুসলিম বিশ্বের তরুণদের জন্য এক অনন্য ‘আইডল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ শনিবার সকালে উপজেলার এইচজে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাদিক কায়েম ডা. তাহেরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও চারিত্রিক গুণাবলি তুলে ধরে তাঁকে আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সাদিক কায়েম বলেন, ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শুধু চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানীই নন, তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রনেতা হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। চৌদ্দগ্রামের এই কৃতি সন্তান আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর এবং তাঁর আদর্শ আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিম যুবসমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে দেশে অনেক সরকার এসেছে এবং গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক ছিল। তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং দলের আমির প্রতিটি শহিদ পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, যারা গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনামলে রাজপথে থেকে নির্যাতিত হয়েছেন এবং সর্বাবস্থায় জনগণের পাশে ছিলেন, ভোটাররা এবার তাদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবার তাদেরই ভোট দেবে যারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এবং যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও শোষণমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনই এখন নতুন প্রজন্মের মূল লক্ষ্য।
বিশাল এই নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ডা. তাহেরের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো চৌদ্দগ্রাম এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।