সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্ট হাতে পেলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ আগস্ট, ২০২৪ ১৯:২২

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পাসপোর্ট হাতে পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দ্রুতগতিতে তার পাসপোর্ট নবায়নের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেত্রীর পক্ষে তার প্রতিনিধির কাছে নবায়নকৃত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) হস্তান্তর করা হয়। তাকে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহৃত সবুজ রংয়ের পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার নবায়নকৃত পাসপোর্ট তার প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা আসে। মূলত এর পরপরই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট প্রিন্টিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকালেই তার পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, এর আগে ২০২১ সালের জুনে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তার পাসপোর্ট নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তড়িঘড়ি পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন করে ডেলিভারির জন্য রেডি করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শেষ পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে খালেদা জিয়ার হাতে পাসপোর্ট না দেওয়ার নির্দেশনা আসে। এমনকি পরে তার নবায়নকৃত পাসপোর্ট বাতিলও করা হয়।

জানা যায়, হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই বন্দি অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির আদেশে তার মুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পরে তার পাসপোর্ট নবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হলে মঙ্গলবার মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই তা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাসপোর্ট নবায়নের মধ্য দিয়ে আরেক দফা চিকিৎসার্থে খালেদা জিয়ার বিদেশ গমনের আলোচনা শুরু হলো। যদিও বিএনপি থেকে এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু বলা হয়নি। তবে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে বিএনপির দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু উচ্চ আদালতের দোহাই দিয়ে এতদিন তার বিদেশ গমন ঠেকিয়ে রাখা হয়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানায়, অসুস্থ থাকায় ই-পাসপোর্টের জন্য খালেদা জিয়ার বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ, চোখের মণি ও মুখমণ্ডলের ছবিসহ নিরাপত্তা ফিচার) নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে তার পুরোনো এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) নবায়ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে মেয়াদ রয়েছে ৫ বছর। ২০২৯ সালের ৫ আগস্ট এটি মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এতে জরুরি যোগাযোগকারী হিসেবে তার ভাই শামিম ইস্কান্দরের নাম রয়েছে।


গাজী নজরুলের ফ্ল্যাটে ছুটে গেলেন এমপি হানজালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে যান মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তিনি দুজন নিরাপত্তারক্ষীসহ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখা যায়। পরে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে তিনি ও শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। ভবনের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডির সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তাদের উপস্থিতিতে দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলাম রোববার দুপুরে তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে খাবার খান। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা আলাদা আলাদা কক্ষে চলে যান।

পরে বিকেল ৫টার পর মরিয়মকে ডাকতে গিয়ে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ পান গাজী নজরুল। একপর্যায়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য।

এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। তবে কখন মরিয়মের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তসহ তদন্তের অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গাজী নজরুল দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁদের শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়।

রোববার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনের লোকজন। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে ডাকা হয়।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, মরিয়মের মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁরা ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে জানান তিনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্তের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে মৃত্যুটিকে হত্যা বা আত্মহত্যা—কোনোটিই নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

এর আগে গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলীয় বহিষ্কার আদেশে তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়।

বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও শুধু দলীয় বহিষ্কারের কারণে তাঁর এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অন্যতম কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির একটি বড় অংশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। তাঁরা স্বাগত কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেছেন।

কমিউনিটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং দলের সাবেক নেতাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৪টি প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত একটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন সভাপতিত্ব করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রবাসীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এসব প্রচারণামূলক সামগ্রীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং নির্ধারিত স্থানে অবস্থানের বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, সাইড ইভেন্ট ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন।

পররাষ্ট্র সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানাবেন বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের সমাধান কঠিন—এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে সফরটিকে দেখছে সরকার।

২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরবে।

এ ছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ আয়োজনে বৈশ্বিক অসমতা সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আয়োজিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন তিনি। সেখানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফারি সেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচিতে রয়েছে।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ, মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। ওইদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন।

এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন এবং পরবর্তী বিভিন্ন অধিবেশনেও বক্তব্য রাখেন।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সময়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সাধারণ পরিষদে ভাষণ—দুই ঘটনাই সফরটির কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


রাশেদ খাঁনের পদের কাজ নিয়েই প্রশ্ন সাদ্দামের

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনের কাজই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলা—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, রাশেদ খাঁন ‘বিশেষ কোটায়’ সহকারী হয়েছেন এবং তাঁর পদের প্রকৃত দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এগুলো নুরুল ইসলাম সাদ্দামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর রূপকথা থিমপার্ক কনভেনশন সেন্টারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন রংপুরে ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ ও বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা শিবির সভাপতির কাছে বিষয়টি জানতে চান।

রাশেদ খাঁন সম্পর্কে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তাঁর কাছে তাঁর পদের দায়িত্ব জানতে চাইলেও সম্ভবত তিনি এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না। শিবির সভাপতির দাবি, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া অথবা কোনো ইতিবাচক বিষয়কেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাই রাশেদ খাঁনের প্রধান কাজ।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের লং মার্চ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শুধু জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের বিষয়টি রয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দাবিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

শিবির সভাপতি বলেন, দেশে খুন-হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটিও তাঁদের দাবির অংশ। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তিনি।

লং মার্চে জ্বালানি তেল ব্যবহারের সমালোচনা প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্দোলনের মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। তাঁর দাবি, বিরোধী দলগুলো নিজেদের অর্থায়নে কর্মসূচি পালন করছে এবং এতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত এবং সরকারকে সে বিষয়ে কথা বলতে হবে। কিন্তু দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।

বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচির প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামর্থ্য অনুযায়ী বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচিতে পাশে থাকার চেষ্টা করছে ছাত্রশিবির।

বিরোধী দলগুলোর ছয় দফা দাবি সরকার বাস্তবায়ন করছে—রাশেদ খাঁনের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দাবি বাস্তবায়ন হয়ে থাকলে লং মার্চের প্রয়োজন হতো না। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলন চলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং জুলাই গণভোটের রায় ও জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন শিবির সভাপতি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বিএনপি নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছে।

তবে তাঁর এ অভিযোগের পক্ষে তিনি বক্তব্যের সময় কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথির উল্লেখ করেননি।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে বলাৎকার, নোয়াখালীতে সাবেক জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগের ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন ফরাজী শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। স্থানীয় বাজারে তাঁর একটি দোকান রয়েছে। সেখানে তিনি কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথার কথা বলে ওই শিক্ষার্থী আলমগীরের দোকানে যায়। অভিযোগ, ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে সেখানে শিশুটিকে বলাৎকার করেন আলমগীর। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে অসুস্থ বোধ করলে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। এরপর তার বাবা বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দলীয় সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময়ে শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের বেগমগঞ্জ কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে আলমগীরকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা ইসলাম রুমীর আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

তিনি আরও জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা শেষে একই দিন বিকেলে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো বিষয় থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে।


দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথসভায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সভা শেষে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে নেতারা একমত হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সভায় দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যৌথসভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবের রহমান শামীম, সৈয়দ শাহীন শওকত, আসাদুল হাবিব দুলু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সভায় অংশ নেন।

সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, নজরুল ইসলাম আজাদ, হারুন অর রশীদ হারুন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, মো. আব্দুল খালেক, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, মিফতাহ সিদ্দিকী, মো. মোস্তাক মিয়া, খন্দকার মাশুকুর রহমান, আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ওয়ারেছ আলী মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও অংশ নেন।

সভায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে বিভিন্ন সময় বিএনপির যৌথসভায় দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত আগস্টেও নয়াপল্টনে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে সারাদেশে দলীয় কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও বলা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারা এসব কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন।

রোববারের যৌথসভায়ও দলীয় কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরিকল্পিত সন্ত্রাস বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।


ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুতগতিতে আলোচনা শেষ করতে প্রতি সপ্তাহে কমিটির একটি করে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মতবিনিময় সভা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিনিধিরা মাঝপথে বেরিয়ে যান। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদে তারা বৈঠক বর্জন করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করে দ্রুত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলাপ-আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপর ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ কমিটির আলোচনায় অংশ নেয়নি বলে জানান তিনি। এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ তারা গ্রহণ করছে না।

সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত ও সুচারুভাবে বাস্তবায়ন এবং অপচয় কমানোর লক্ষ্যে জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১০০ সদস্য নিয়ে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে—সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে সদস্য মনোনয়ন হবে, নাকি মোট প্রদত্ত ভোটের আনুপাতিক হারে হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে না। সংসদে পাওয়া আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এটি গঠনের একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা উচ্চকক্ষের হাতে থাকবে না বলে জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট ও দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এমন প্রচারণা চলছে উল্লেখ করে তিনি তা নাকচ করেন। তাঁর ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধন ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনীয় দলিল নয়; সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে পরিবর্তন আনা যায়।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে জনচাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করতে পারে। বিরোধী দলগুলো বর্তমানে সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের পর তারা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভার মাঝপথে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদে তারা বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁদের দাবি, সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত।

বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকটি রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটিতে মোট ১২ সদস্য রয়েছেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া এগোবে।


স্বামীর অসুস্থতায় সবার দোয়া চাইলেন সামান্থা শারমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

নিজের স্বামীর মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি পারিবারিক এই সংকটের কথা প্রকাশ করেন।

পারিবারিক বিষয়কে সাধারণত জনসমক্ষে বা আলোচনার বাইরে রাখার পক্ষপাতী উল্লেখ করে তিনি জানান, পূর্বে পরিবারের একজনের অসুস্থতার কথা সংক্ষেপে জানালেও মূলত তাঁর স্বামীই গুরুতর অসুস্থ এবং বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিগত তিন মাস ধরে একজন কর্মঠ ও উদ্যমী তরুণের এমন নিস্তেজ হয়ে পড়ার দৃশ্য পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সৃষ্টিকর্তার এই পরীক্ষাকে শুকরিয়ার সাথে গ্রহণ করে কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক কারণে নিজেদের প্রতি অনেকের অসন্তোষ থাকতে পারে স্বীকার করে সামান্থা শারমিন মানবিক জায়গা থেকে তাঁর স্বামীর সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার ক্ষমা, হেদায়েত এবং পূর্ণ অনুগ্রহ কামনা করে নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।


গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় গণভোটে প্রকাশিত জনগণের সরাসরি রায়কে পাশ কাটিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারসমূহ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বিএনপি সরকারের উদ্যোগে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা অনুমোদনে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। জনগণ কেবল কতগুলো বিচ্ছিন্ন প্রস্তাব নয়, বরং সংস্কার বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কাঠামো হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনকেও সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফলে গণভোটের রায়ের বিপরীতে গিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া জনগণের সাংবিধানিক 'ম্যান্ডেটকে' পাশ কাটানোর নামান্তর, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবিধানিক বিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের সংশোধন ক্ষমতা সীমাহীন নয় এবং সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিষ্ঠিত নজির অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এককভাবে মৌলিক সংস্কার চাপিয়ে দিলে ভবিষ্যতে নতুন সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো অপরিহার্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে, গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কারগুলো হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সংস্কারের বর্তমান উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত রাখতে হবে। একই সাথে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি একতরফা উদ্যোগ থেকে সরে এসে জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। নেতারা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়ের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁদের নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি চলমান থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ১১ দলীয় ঐক্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং এ সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের শীর্ষ নেতাদের দাবি, গণভোটে দেশের আপামর জনগণ সংবিধানের মৌলিক ‘সংস্কারের’ পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে, প্রচলিত ‘সংশোধনের’ পক্ষে নয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটের জনরায়ের পর নতুন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে বিশেষ কমিটি গঠনের এই উদ্যোগ জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মূলত সেই নীতিগত অবস্থান থেকেই জোটভুক্ত দলগুলো বিশেষ কমিটির নির্ধারিত মতবিনিময় সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, গণভোটের রায়ের সঠিক বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জনমতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক, যা বর্তমান প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির বৈঠক বর্জনের সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধনের বিষয়ে জোটের অবস্থান এবং বর্তমান কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে তাঁদের যাবতীয় আপত্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।


বিএনপির কর্মীদের ঘরে ঘরে আজ কান্না: অলি আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বিএনপির ক্ষমতা চলে গেলে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। কর্মসূচিটির ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

অলি আহমেদ তাঁর বক্তব্যে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় ক্রুশ্চেভের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে তাঁর মা কান্নাকাটি করেছিলেন। কারণ, ক্ষমতা চলে গেলে পরিবারের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি ওই গল্পে উল্লেখ করেন।

অলি আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির ক্ষেত্রেও ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারকে বিএনপির সরকার নয়, শেখ হাসিনার সরকার বলে মন্তব্য করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর এ বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উদ্ধৃত হয়েছে।

লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে এলডিপির এই নেতা বলেন, দেশকে সঠিক পথে আনার জন্যই তারা এ কর্মসূচি করছেন। এর পেছনে কোনো ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ফেসবুকে কে কী লিখল, কে কী মন্তব্য করল—এসবের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনকে কোনোভাবেই বিপথগামী করা যাবে না।

অলি আহমেদ আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। তাঁরা হরতাল বা অপরাধমূলক কর্মসূচিতে না গিয়ে জনদুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন।

এদিনের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তাঁদের লংমার্চ। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেন।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে।


বৈধ-অবৈধ ইটভাটার তালিকা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সারা দেশে থাকা বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। সরকারি নির্মাণকাজে পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো. আব্দুল মান্নান ও সুলতানা জেসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে ইটভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব ইটভাটা আইন ও পরিবেশগত অনুমোদন না নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অবৈধ ইটভাটাগুলো যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ বা অন্য কোনো ধরনের অর্থায়ন না পায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে। এ জন্য কমিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হবে।

কমিটির মতে, অবৈধ ইটভাটাগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ বন্ধ করা গেলে এসব ভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তা সহায়ক হবে। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে।

এ ছাড়া সারা দেশে বর্তমানে কতগুলো বৈধ এবং কতগুলো অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ইটভাটাগুলোর অবস্থান, বৈধতা ও কার্যক্রমের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিটি মনে করছে, নির্ভুল তালিকা তৈরি হলে অবৈধ ইটভাটা শনাক্ত করা এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে প্রচলিত ইটের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কমিটি মনে করে, নির্মাণ খাতে ইটের ব্যবহার কমানো গেলে ইটভাটার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস করা সম্ভব হবে। এ কারণে সরকারি প্রকল্পগুলোতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা এবং প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে কমিটি। বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার এবং ব্যয়ের ধরন পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে চলতি অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনাও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ও পরিকল্পিতভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোকে কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের কারণে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইটভাটায় অর্থায়ন বন্ধ, অবৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারি নির্মাণকাজে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ—এই তিন উদ্যোগকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংসদীয় কমিটি।


নিরাপত্তা দিতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাস্তায় নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় নারীরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যদি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে এ বিষয়ে জবাবদিহি করা উচিত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি নিজেকে গণতন্ত্রের আন্দোলনের একজন ভুক্তভোগী ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তাঁর দায়িত্ববোধ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।

ঢাকা-রংপুর লং মার্চের কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি দাবি করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দুটি ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একটি ভোটের ফলাফল নিয়ে সরকার গঠনের পর অন্য ভোটের রায়ও অস্বীকার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্যই তারা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের দেওয়া ওই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের ঘোষিত আট দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

লং মার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাত মাসের সরকারের সময়ে কেন লং মার্চ—এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। সে কারণে এবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নিজেদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিম হত্যার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বগুড়াবাসীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী দিনের গণআন্দোলনে বগুড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও সংস্কারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা রাজপথের আন্দোলন থেকেই রাজনৈতিকভাবে উঠে এসেছেন এবং রাজপথেই থাকবেন। তাঁর ভাষ্য, তারা বাইরে থেকে এসে ক্ষমতায় বসেননি; জনগণের সঙ্গে রাজপথে থেকেই আন্দোলন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, রাজপথে থাকব, যেমনটা ২৪-এ ছিলাম।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। ঘোষিত আট দফা দাবি সামনে রেখে কর্মসূচিটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে মূলত জননিরাপত্তা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আট দফা দাবির বিষয়গুলো উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের পর লং মার্চের কর্মসূচি রংপুরের দিকে এগিয়ে যায়।


banner close