নিজেদের বন্যামুক্ত রাখে বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে ভারত বিপদে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিভভী বলেন, ভারত বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু রাষ্ট্র নয়। নিজেদের এলাকা বন্যামুক্ত রাখতে বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে। এ সময় বন্যাদুর্গত এলাকায় সাহায্যের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, কেন জানি ভারত বাংলাদেশের মানুষ, তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবন-যাপনের প্রতি উদাসীন। বাংলাদেশের মানুষের বাঁচা-মরা ভারত কখনোই আমলে নেয় না।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ভারতের ত্রিপুরা ধলাই জেলার গোমতি নদীর ওপর থাকা ডুম্বুর বাঁধের গেইট খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে বলে মানুষের মনে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহে প্রতিবেশী দেশ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থকে বিপন্ন করছে।
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সমূহের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক বন্যার প্রকোপে বন্যা উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সমর্থকবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সামর্থবান ও ধনী ব্যক্তিদেরকেও বন্যার্তদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সামগ্রিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বন্যা দূর্গত মানুষ নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হুমকি-ধমকি কিংবা কোনো ধরনের নাটককে তারা পরোয়া করেন না। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবন দেবেন, কিন্তু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একই দিনে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চটি শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে বহরটি বগুড়ায় পৌঁছায়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিন বহু নাটক করা হয়েছে। আমরা কোনো নাটকের পরোয়া করি না। রাস্তায় নেমেছি জনগণের জন্য। প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না।’
লং মার্চে অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের ডাক দিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে বগুড়ার মাটিডালীকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছে। এ জন্য তিনি উপস্থিত জনতাকে অভিনন্দন জানান।
লং মার্চের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাদের কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এত আগে বিরোধী দল লং মার্চ করছে কেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না হলে এই লং মার্চের প্রয়োজন হতো না।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর দাবি অনুযায়ী গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা গণভোট চেয়েছিলেন, তারা এখন অবস্থান পরিবর্তন করলেন কেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে।
সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, তিনটি সংসদ অধিবেশন পার হয়ে গেলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকার দুর্নীতি বন্ধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের চাকরির কথা বলেছিল; কিন্তু তাঁর অভিযোগ, চাকরির পরিবর্তে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল; এখনো একই দাবিতে মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের কারণেই লং মার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হয়েছে।
কৃষকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকের নির্ধারিত ১ হাজার ৪০০ টাকার সার অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও গ্রাহকদের বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জনগণের অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ সময় তিনি মন্ত্রীর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ খাতে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন।
তরুণদের চাকরি ও বৈষম্যের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনের পর তরুণদের চাকরির অধিকার ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সন্তানদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও জীবন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
প্রশাসনে বৈষম্য ও বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে শোষণ করার সুযোগ দেওয়া হলে তারা বসে থাকবে না। এ কারণেও লং মার্চের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের লং মার্চ ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে হচ্ছে। ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে লং মার্চ করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে কর্মসূচির সময় কেউ কেউ তাঁকে ‘এক দফা’র কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
৮ দফা দাবিকে কোনো একক দল বা ব্যক্তির দাবি নয় বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এসব দাবি জনগণের দাবি। তাঁর বক্তব্য, সরকার ৮ দফা মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ৮ দফা বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে তারা বাধ্য হতে পারেন।
নারীদের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, লং মার্চের পথে হাজার হাজার নারী রাস্তায় নেমে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও বক্তব্যে আনেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে।
বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ের পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, দুই নেতার কারও আহ্বানেই বর্তমানে সাধারণ মানুষের সাড়া মিলছে না। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের আমির আগের লংমার্চে বলেছিলেন, জাতির প্রয়োজনে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। আর শনিবারের লংমার্চ থেকে তিনি বলেছেন, আট দফাও প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। অথচ এর মধ্যে জামায়াতের দাবি ছয় দফা থেকে কীভাবে আট দফায় পরিণত হলো, সে বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানে না—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, যে নেতৃত্ব দাবিদাওয়া নির্ধারণে বারবার পরিবর্তন আনছে, সেই নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শনিবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের একটি পথসভায় বলেন, তাঁদের ছয় দফা এখন আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দাবি আরও বাড়তে পারে। আবার প্রয়োজন হলে সব দফা বাদ দিয়ে এক দফা ঘোষণারও প্রয়োজন হতে পারে।
রাশেদ খাঁন এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লংমার্চে জনগণের সাড়া কেমন হবে, তা আগের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত কর্মসূচি থেকেই কিছুটা বোঝা গেছে। তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের তুলনায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি বেশি মনে হয়েছে। কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উপস্থিতি না থাকার কারণ এনসিপি অনুসন্ধান করেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াতের নেতৃত্বকে দেশের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। কিন্তু পরবর্তীতে নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আমিরের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন—এমন দাবি করে তিনি বলেন, এরপর থেকেই দুই নেতার কারও আহ্বানে জাতি আর সাড়া দিচ্ছে না।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য ও মূল্যায়ন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে শনিবারের লংমার্চকে জনগণের দাবি আদায়ের কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের দাবির সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে এবং দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে হবে।
এভাবে একই সময়ে জামায়াতের দাবির পরিবর্তন এবং এনসিপির কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, স্বৈরাচার বিদায় হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দল সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, এমন ধারণা থেকে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। গণতন্ত্র অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে নেতা-কর্মীদের রাজপথে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি এবং খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু ও হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ।
অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি ও অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান ও চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন।
আলোচনা সভা শেষে মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মো. আবু নাঈম কাজী।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জনগণের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।” তিনি বলেন, লংমার্চের পথে মানুষের কাছ থেকে এক দফার দাবির প্রতি সমর্থন পাওয়ার কথা তারা দেখেছেন। সরকার আট দফা দাবি মেনে নিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে এক দফার কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা এখন ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে রংপুরের দিকে যাচ্ছেন। এক দফার কর্মসূচি এলে তখন সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় ঐক্যের দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্যতম প্রধান দাবি।
এদিকে একই পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি কৃষকদের সার পাওয়া নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সরকার সার সরবরাহে ব্যর্থ হলেও কৃষিমন্ত্রী সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করছেন। যদি সংকট না থাকে, তাহলে কৃষক কেন রাস্তায় নামছেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে গুলশানে মিছিল করলেও রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে পারছে না। সামনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা না দিলে তাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
হাটিকুমরুলের পথসভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলম।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৌঁছায়। সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই লংমার্চ গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ঘোষিত দাবিগুলো আদায়ের কর্মসূচি। দলটির নেতারা কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাখার কথাও জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁর আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশন ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তারেক রহমানের এবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে ধারার সূচনা, ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, এবার সেই ধারায় যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘের সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all’। অর্থাৎ আস্থা পুনরুদ্ধার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলার বিষয়টি এবারের অধিবেশনের কেন্দ্রীয় আলোচনার অংশ।
১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে ওই দিনের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।
জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে তৎকালীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা অসাম্য, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
আন্তর্জাতিক উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বহু মানুষের দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে বসবাসের বাস্তবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
সেই সময় বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশ্নটি জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা ছিল বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপরও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক সভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। জাতিসংঘের নথিতে তাঁর বক্তব্যে ফারাক্কা ইস্যু এবং বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়েও বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
২০০২ সালে শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনেও তিনি অংশ নেন। পরে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর বক্তব্য ছিল। জাতিসংঘের নথিতে ২০০৫ সালের সাধারণ বিতর্কসহ একাধিক কার্যক্রমে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।
ফলে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
দারিদ্র্য বিমোচন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্থান পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রোহিঙ্গা সংকটও এবারের সফরে অগ্রাধিকার পাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি পুরো অধিবেশনের বিভিন্ন প্লেনারি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ফলে একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—যা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আয়োজন রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হবে।
এর ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্যের দিনটিও বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা সামনে থাকার একটি সময়। জাতিসংঘের সরকারি সূচিতেও ওই দিন সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে।
জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার ইতিহাস চার দশকের বেশি সময়ের। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণ দিয়ে যার সূচনা, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য এবং পরবর্তী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়, এবার ২০২৬ সালে সেই মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
তবে সময় বদলেছে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতাও বদলেছে। ১৯৮০-এর দশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার কার্যকারিতা।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্যও বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরবেন—এমনটাই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ তাই শুধু পারিবারিক ধারাবাহিকতার দিক থেকেই নয়, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৮ কোটি মানুষের জন্য আমাদের এ লড়াই। জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, নব্য স্বৈর শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় প্রধান অতিথির তিনি একথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না? ১৪শ শহীদদের সাথে কেন বেইমানি করলেন, কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি! আপনারা বলেছিলেন— অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না; কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটা কথাও রাখেননি; সব জায়গায় ধোঁকা দিয়েছেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা দিতে পারছেন না, আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রে নিজেকে এখনও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার গণমাধ্যম-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যাবতীয় দাফতরিক কাগজপত্র ও আইনি হিসেবে তিনি এখনও জামায়াতের সদস্যপদেই বহাল রয়েছেন এবং তাঁকে নিয়ে দলের নেতারা বাইরে কী বলছেন সে সম্পর্কে তাঁর কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে গত ২২ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী তিনবারের এই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পরবর্তীতে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় দলটি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে, যার ফলে সংসদে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
গাজী নজরুলের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সঙ্গে সংগঠনের আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা অবশিষ্ট নেই। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তাঁর সদস্যপদ থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর অঞ্চলের আসনগুলো দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার বেলা ১১টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর আত্মোৎসর্গের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী এলাকায় দলের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান খুবই ভালো। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির যে সাংগঠনিক অবস্থা ও জনপ্রিয়তা তাতে রংপুরের মাটিতে ছয়টি আসনেই বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হবে, এটা অবিশ্বাস্য।’
নির্বাচনের পূর্বে মাঠ প্রশাসন সাজানোর ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রশাসনিক সেটআপ এমনভাবে জামায়াতিকরণ করা হয়েছে, যাতে করে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিলেও জামাতের প্রার্থীকে পাস দেখানো হবে। অথচ জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এবং বুকে পাথর চাপা দিয়ে জামায়াতের আমির সেই নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি, জিএস ও এজিএস। শুক্রবার রাজধানীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডাকসুর দায়িত্বকাল সফলভাবে ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার সঙ্গে সমাপ্ত করায় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও চলমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাকসু প্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ডাকসু ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মব সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে অনতিবিলম্বে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা প্রণয়ন এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবির প্রতি দৃঢ় একাত্মতা পোষণ করেন জামায়াত আমির। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ মৌলিক সংকট নিরসনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি ডাকসু নেতাদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন যেন তাঁরা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প কার্যকর করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশের কোটি কোটি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের লংমার্চে সড়কের দুই পাশে কোটি মানুষ লংমার্চ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনও উস্কানিতে নেতা কর্মীদের পা না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট সময় ও যাত্রাপথ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ‘আমরা যথাসময়ে আগামীকাল সকাল সাতটায় ঐতিহাসিক মানিক মিয়া এভিনিউতে দ্বিতীয় লং মার্চের সমাবেশ শুরু করবো। সকাল ৮টায় মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা শহরের উত্তর দিক দিয়ে টঙ্গী গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইল হয়ে আমাদের যে পাঁচটি পথসভা আছে সেগুলো করে আমরা রংপুরের দিকে যাবো।’
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী কর্মসূচির চেয়েও রংপুরগামী এই লংমার্চ অধিক সফল হবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘১ম লংমার্চের তুলনায় ২য় লংমার্চে দেশের মানুষের অংশগ্রহণ আরও কয়েকগুণ বাড়বে। চট্টগ্রামের চেয়েও ব্যাপকভাবে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ সফল হতে যাচ্ছে।’ রাজপথের এই দীর্ঘ কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে পরওয়ার বলেন, ‘এই লংমার্চ সফলে আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক ইতিহাস ও আদি পরিচয় তুলে ধরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জিন্নাহর পরিবার মূলত গুজরাটের মাছ বিক্রেতা ছিল এবং তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার সূত্র টেনে তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।’
উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লখনৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২৯ সালে মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার, স্বতন্ত্র নির্বাচকমণ্ডলী ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা দিয়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত ১৪ দফা দাবি ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টিতে বাঙালি মুসলিমদের ভূমিকা এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানাইছিলাম, আমরা তো অস্বীকার করি না। কিন্তু বানাইয়া যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ৫২ সালেই আমরা ফাইট শুরু করলাম।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং উদ্বোধকের দায়িত্ব পালন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে ও রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এ নবীনবরণে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৭৬তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি। বিষয়টি বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেখেন, ‘ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন। জন্মদিনে আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। সুস্বাস্থ্য ও উদ্যমের সঙ্গে ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার সেবা ও নিরলস কর্মযজ্ঞ চলুক; এই কামনা করি।’
বৃহস্পতিবারই নরেন্দ্র মোদি ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের গুজরাটের ভাদনগরে তার জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোদি ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মোদির জন্মদিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এদিন তার জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা আসে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও ভারতীয় জনগণের সেবায় তার কর্মযজ্ঞ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানকে বদলিপূর্বক প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।