নিজেদের বন্যামুক্ত রাখে বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে ভারত বিপদে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিভভী বলেন, ভারত বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু রাষ্ট্র নয়। নিজেদের এলাকা বন্যামুক্ত রাখতে বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে। এ সময় বন্যাদুর্গত এলাকায় সাহায্যের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, কেন জানি ভারত বাংলাদেশের মানুষ, তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবন-যাপনের প্রতি উদাসীন। বাংলাদেশের মানুষের বাঁচা-মরা ভারত কখনোই আমলে নেয় না।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ভারতের ত্রিপুরা ধলাই জেলার গোমতি নদীর ওপর থাকা ডুম্বুর বাঁধের গেইট খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে বলে মানুষের মনে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহে প্রতিবেশী দেশ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পানি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থকে বিপন্ন করছে।
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সমূহের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক বন্যার প্রকোপে বন্যা উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সমর্থকবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সামর্থবান ও ধনী ব্যক্তিদেরকেও বন্যার্তদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সামগ্রিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বন্যা দূর্গত মানুষ নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের অকার্যকারিতার কারণেই ইশরাক হোসেন অস্ত্র প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘শুধু তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, সরকারের এমন কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’
সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এটি স্পষ্ট। বিভিন্ন জায়গায় মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ইশরাককাণ্ডের মধ্য দিয়ে আবার সামনে এসেছে।’
আইনপ্রয়োগকারী দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেশের মাদক নির্মূলের জন্য যেসব সংস্থা রয়েছে, সেগুলোও অকার্যকর অবস্থায় আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অকার্যকর অবস্থায় আছে। বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কারণ যেসব মাদক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেগুলো প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যতের করণীয় বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘ইশরাকের পদত্যাগ কী শুধু অস্ত্র সামনে নিয়ে আসার বিষয়, নাকি এর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও কোনও বিষয় রয়েছে? সে প্রশ্নও সামনে আসছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তগুলো সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।’
কোনো ধরনের জমি দখল বা চাঁদা তুলেতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি বলে স্পষ্ট করেছেন সদ্য পদত্যাগী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকার ঘুণ্টিঘর মাদকের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হইনি।’
এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের অনুরোধে আমি শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে যাই। যা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের পরে বিষয়টি জানাই। তারা পরে ঘটনাস্থল গিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে।’
ওই এলাকার অপরাধপ্রবণতা ও অতীত সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। ওই দিন পূর্বনির্ধারিত অভিযান ছিল।’
অভিযান চলাকালে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ওই দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২০-৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকে। কয়েকজন আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসে। এ সময় আত্মরক্ষাতে আমার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে নিই। নিশ্চিত হই তাদের হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র আছে কি না। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হলে আমার অস্ত্রটি পকেটে রেখে দিই।’
অভিযানের ফলাফল সম্পর্কে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সেদিন প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক উদ্ধার করি। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে পুলিশ আটক করে।’
গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও বিভিন্ন হেডলাইনে প্রকাশ করে আমার ও আমার দলকে বিব্রত করা হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।’
পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ‘এক পর্যায়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। ইস্যুটি নিয়ে দল বিব্রত হওয়া আমি পদত্যাগ করতে চাই।’
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি। শুধু আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় আমার অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।’
অস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর তৈরি হওয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তবে কী সেই বিশেষ কারণ, সে বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো ধরনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রিসভা ছাড়ার এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন যে, বিশেষ কিছু কারণে তাকে এই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই ও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই আজকের এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আজ তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে তাকে সরানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা না থাকলেও মূলত বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি আরও অনেক বেশি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।
এর মধ্য দিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের পর অবশেষে বিএনপি সরকারের মাত্র আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় সরাসরি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন এই প্রতিমন্ত্রী। এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ব্যাপক বিতর্কের মুখে রোববারই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সেই কঠোর নির্দেশনা মেনেই সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন ইশরাক হোসেন।
এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজেই দুপুর দুইটায় প্রেস ক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, ফেসবুকে কিছু তথাকথিত সুশীল ব্যক্তিকে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন বা সংগ্রামের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
নিজের পোস্টে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেও ভবিষ্যতে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় শতগুণ বেশি উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রীর কোনো দাপ্তরিক পদে থেকে নয়, বরং একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবেই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এছাড়া তার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারবেন বলেও জানান।
ফেসবুক পোস্টের একেবারে শেষাংশে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্লোগানের সুরে লিখেছিলেন যে মন্ত্রী হওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা এবং এই মাদক নির্মূলের লড়াই চলবে।
এর আগে রোববার রাতেই ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সে সময় প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই তথ্যকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।
অস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, আজ দুপুর দুইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতায় অংশ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলা বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে ইশরাক হোসেন লেখেন যে তিনি ফেসবুকে কিছু সুশীল ব্যক্তির উল্লাস করতে দেখেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন বা সংগ্রামের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুদূর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।
তিনি আরও পরিষ্কার করে লেখেন যে এখন থেকে সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রীর কোনো দাপ্তরিক দায়িত্বে নয়, বরং দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।
এছাড়া তার গৃহীত বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারবেন বলেও জানান।
ফেসবুক পোস্টের একেবারে শেষাংশে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্লোগানের সুরে লেখেন যে মন্ত্রী হওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা এবং এই মাদক নির্মূলের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবকল্যাণ ও মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করতেও সংগঠনটি কাজ করছে।
রোববার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বিদ্বান ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ ও মানবসেবা।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, হামসহ বিভিন্ন সংকটের সময় ফাউন্ডেশন আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাঞ্চল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বন্যার সময়ও সংগঠনটি ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। যারা পা হারিয়েছেন, তাদের কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ করে দেওয়ার মতো কাজও করেছে সংগঠনটি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের মানুষ এ সংগঠন থেকে আরও কার্যকর সেবা পাবে।
দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যায় না। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
তিনি বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
ভবিষ্যতেও ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা। সূত্র: বাসস
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জেডআরএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, মনিটর, সমন্বয়ক, আজীবন সদস্য এবং প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘এই সরকার পাঁচ বছরের জন্য এসেছে, নির্ধারিত সময় পূর্ণ করেই যাবে।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান সরকার সাত মাস ধরে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন এবং বিশেষ নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়ে আলাদাভাবে বলতে হয় না; তিনি জনগণের মনের কথা বোঝেন। সরকার দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কুৎসা রটিয়ে কোনো ফায়দা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে দলীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে শতভাগ কাজ করে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। সময় এলে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষয়ের সমন্বয়ে প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গণঅধিকার পরিষদের উত্তর শাখার সহসভাপতি মিজানুর রহমান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি কালাম পঞ্চাইত, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম খান ও যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমরান শাহিনসহ বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ বছর দশমিনা উপজেলায় ১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার সদর এলাকার নলখোলা শ্রীশ্রী কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
বান্দরবানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে এই অব্যাহতি একইসঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।
এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা নোটিশে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে শৈক্যসিং মারমাকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরো বলা হয়, কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের কাছে জমা দিতে হবে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা শহরের শিশু পার্কসংলগ্ন সাইনি রিসোর্টে এক মারমা তরুণীকে টাকা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শৈক্যসিং মারমার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে শনিবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির কার্যালয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তিন দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দপা দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি যাবে না। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।
দুর্গাপূজাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রতিটি উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন রিজভী। এ সময় মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী জানান, এবার প্রতিটি মন্দিরে আট হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি ও সরকার যৌথভাবে বিভিন্ন মণ্ডপের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছে। উৎসবের সময় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা তিনদিন ছুটি চেয়েছিলেন, সেই জায়গায় পাঁচদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চাল দেওয়া হয়, সেখানে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে প্রতিটি মন্দির আট হাজার করে টাকা পাবে এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা তারেক রহমানের সরকার করেছেন, যোগ করেন তিনি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে যেটা বুঝি, সেটা হচ্ছে—এই নতুন জালেম বিএনপি তেলের দাম, গ্যাসের দাম, সিলিন্ডার, সার সংকট, সিন্ডিকেট, দলীয়করণ, এদের অপকর্ম বলে শেষ করা যাবে না। তিনি বলেন, বিএনপি যদি পাঁচ বছর বাংলাদেশে শাসন করে, আমরা দুর্ভিক্ষে মারা যাবো বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাগপার জেলা শাখা আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাশেদ প্রধান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্ভিক্ষে মরার জন্য আসিনি। আমার প্রাণের সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা লাইন আমি ধারণ করি। ওরাও বলে, ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমিও বলি। আমরা তো ওই শহীদি তামান্না নিয়ে এসেছি। আমাদের চোখ রাঙানি দেখিয়ে লাভ নাই।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকার কথা জানিয়ে জাগপার এই মুখপাত্র বলেন, বাংলার মাটি ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে না। এ দেশের মাটিতে নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্রকে আমরা কায়েম হতে দেব না।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ প্রধান বলেন, আমার এই উত্তরবঙ্গ শুরু থেকে অবহেলিত। রংপুর বিভাগ আর রাজশাহী বিভাগ—আমি তো রাজশাহী শহরটা ব্যতিরেকে রাজশাহী বিভাগ এবং পুরো রংপুর বিভাগে কোনো উন্নয়ন দেখতে পাই না। হাইওয়ের কিছু রাস্তা পাকা হলেই বলে দেওয়া যায় না যে ওই জেলা উন্নত হয়ে গেছে। আমি কোনো উন্নয়নের ছিটেফোঁটা দেখতে পাই না।
তিনি বলেন, উন্নতিটা তো আমাদের ঘটাতে হবে। আমরা এই অঞ্চলের মানুষ হিসাবে যেটা বলতে পারি, ওই সময়েও আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছিলো এই উত্তরবঙ্গ থেকেই তো আবু সাঈদ। আমরা তো যুগে যুগেই প্রস্তুত আছি শহীদ হওয়ার জন্য, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা নতুন করে নামার জন্য প্রস্তুত আছি, শহীদী তামান্না নিয়ে তৈরি আছি। জুলাই যদি আবার নামাতে হয়, তাহলে আমরা আবার নামবো।
রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমি একটা জিনিস স্পষ্ট করতে চাই, এই যুদ্ধটা ১১ দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধটা জামায়াতকে ক্ষমতায় নেওয়ার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধটা বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধটাতে আমাদের জয়যুক্ত হতেই হবে।’
ক্ষমতার প্রতি নিজের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমার সামনে ক্ষমতা কোনো বিষয় নয়। ওপরে আল্লাহ আছে, আল্লাহর কসম করে বলতেছি, আমি খালি মরার আগে এইটুকু দেখতে চাই এই দেশটা পরিপূর্ণ স্বাধীন এবং সার্বভৌম। এই দেশটার এক ইঞ্চির মধ্যেও ভারতীয় আধিপত্য নাই, দেশটার মধ্যে মানবিকতা আছে, ইনসাফ আছে। আমি এটা চাই, আমি ক্ষমতা চাই না। আমি সেই মানুষ।
আমাকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাগপার মুখপাত্র বলেন, আমাকে ভয় দেখায়ে লাভ নাই।আমার বাসা যখন হামলা করে নব্য জালেম বিএনপি, আমি তখন ভয় পাই না। আমাকে ভয় দেখানো এত সহজ না। আমার মৃত্যু যেই সেকেন্ডে লেখা আছে, আমি সেই সেকেন্ডে মৃত্যুবরণ করব। কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না। আর ওই সেকেন্ডের এক সেকেন্ড আগে ইন্ডিয়ানরা, বিএনপি, আওয়ামী লীগকে আমাকে মারতে পারবে না, আমি এটা জানি। আর মরব তো একবার।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আ স ম সায়েম, খেলাফত মজলিস নওগাঁর সভাপতি রেজাউর রহমান, এবি পার্টি নওগাঁর আহ্বায়ক কাজী আতিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনকে ফের অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে সরকারি দল কোনো গ্রেফতার-নিপীড়ন করেনি, যা হাসিনার আমলে করা হতো। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রত্যেকটি অঙ্গনে হতাশা কাজ করেছিল। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দোহারের জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সব চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অর্থ লুটপাট করতে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছিল। বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া দিতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, এমন আইন করেছিল। অথচ সেসব নিয়ে আজকের বিরোধী দল কোনো কথা বলেনি।’
এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ভয়ভীতিহীন এবং নির্বিঘ্ন করতে সরকার ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন বলে জানান রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পূজামণ্ডপের পাশে গরুর মাংস রান্না করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মাংস রান্না করেছে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতা-কর্মীরা।’
তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হবে। পরিস্থিতি কেউ জটিল করতে চাইলে ছাত্রদল ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে।’
দীর্ঘ প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে মালয়েশিয়া থেকে স্বদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো ও স্থিতিশীল রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। সেখানে তিনি দেশটির স্বনামধন্য প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এরও আগে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরেছিলেন। পরবর্তীতে শারীরিক কিছু ফলোআপ পরীক্ষার জন্য আবারও তাঁকে বিদেশে যেতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজানের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে দ্রুত রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেইন স্ট্রোক) হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ দেড় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে আরও উন্নত থেরাপি ও ফলোআপের জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।