শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২

গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ৪২২ জন বিএনপির: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৪:৩৬

জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমগ্র দেশে শহীদ হয়েছেন ৮৭৫ জন মানুষ। যার মধ্যে কমপক্ষে ৪২২ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা, অবদান ও প্রত্যাশা’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ফখরুল বলেন, আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের জনগণকে বারবার ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এ দেশের স্বাধীনতাকে যখনই গ্রাস করেছে স্বৈরতন্ত্র, প্রতিবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বাকশালের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের পর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। সেই ধারাবাহিকতায়, ১৬ বছরের স্বৈরাচারী দুঃশাসনকে চূর্ণ করে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণ আবারও মুক্তির স্বাদ পায়, গণতন্ত্রের পথ সুগম করে। অসংখ্য ব্যক্তি ও পরিবার রয়েছে, যাদের বছরের পর বছর ধরে ত্যাগের মহিমায় আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণহত্যায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশে শহীদ হন ৮৭৫ জন মানুষ, যার মধ্যে কমপক্ষে ৪২২ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দেশজুড়ে শহীদ সব শ্রেণি-পেশা-রাজনীতির মানুষগুলোর এ বিশাল অংশ যে বিএনপিরই নেতা-কর্মী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আমাদের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অনিবার্য ফল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পোশাক শ্রমিক কিংবা রিকশাচালক, পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র; বাম কিংবা ডান আদর্শের অনুসারী; সব মত ও পথের রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক ব্যক্তি হতাহতের পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি প্রাণের মূল্য ও রক্তের মর্যাদা সমান। আর তাই সমান গুরুত্বের সঙ্গেই প্রণয়ন করতে হবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তালিকা। নিশ্চিত করতে হবে সুবিচার। শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য যে জাতীয় ঐক্য আমরা দেখতে পাই, তা কিন্তু হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। এটি মূলত অবৈধ সরকারের অত্যাচার-অবিচার, দুর্নীতি-দুঃশাসন, বঞ্চনা-অবজ্ঞা এবং শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে আসে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। যাতে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল নয়, বিএনপির উদ্দেশ্য ছিল সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখে ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। আর তাই বিএনপির যে ৬০ লাখ সদস্যের নামে ফ্যাসিবাদের সময় মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার সুবিশাল অংশ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের যড়যন্ত্র ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে রুখে দাঁড়ায়। ফলে যার-যার অবস্থান থেকে জনগণের কাতারে নেমে আসে বিএনপি ও সমমনা সব রাজনৈতিক দল, তথা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিসমূহ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুলিশ। একই দিন চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামকেও হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডগুলোতে সমগ্র বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, বেগবান হয় আন্দোলন। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে ১৬ বছর ধরে আওযামী লীগের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গায়েবি মামলা ও নৃশংস নিপীড়ন দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর ফলস্বরূপ জাতিসংঘসহ স্বীকৃত মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নীতির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ায়। তৃণমূলের স্পন্দন ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে, অবিরাম জুলুম-অবিচারের মাঝেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য অবিচল সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবদানে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের ঐক্যকে ধারণ করে গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তির বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। বাংলাদেশের জনগণের এ বিজয় শুধুই দেশের মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতিশ্রুতি, যা অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত।

তিনি বলেন, বিজয়ের পেছনে রয়েছে অসংখ্য নির্যাতিত মানুষের বেদনার অপ্রকাশিত ইতিহাস, গুম হওয়া ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় ব্যথাতুর মায়ের ডাক, স্বামী হারানো বেদনাবিধূর স্ত্রীর অনন্ত আর্তনাদ, পঙ্গু বাবার জন্য সন্তানের হৃদয়বিদারক হাহাকার, আর কারাগারে বন্দী ভাইয়ের জন্য বোনের নীরব প্রার্থনা। তাদের সবার ১৬ বছরের রক্ত, শ্রম ও অশ্রু দিয়ে প্রতিটি পরিবারের ক্ষোভ, ক্রোধ ও অব্যক্ত বিস্ফোরণ বুকে ধারণ করে চলমান ছিল শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। বস্তুত ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে শহীদ ৪২২ জন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত শহীদ এক হাজার ৫৫১ জন, গুম ৪২৩ জন (সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে প্রায় ৭০০ জন), আসামি ৬০ লাখ, এবং মামলা দেড় লাখ—এসব কেবল বিএনপির ত্যাগের পরিসংখ্যানই নয়, বরং বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পথে দলটির অবিচল সংগ্রাম ও অবদানের প্রতিফলন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে যুক্ত ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিটি ব্যক্তি, দল, সংগঠন ও গোষ্ঠী- তাদের সবার আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি না দিলে তা হবে ইতিহাসের প্রতি অবিচার। সব শ্রেণি-পেশা-মতের মানুষের অংশগ্রহণকে সম্মান জানিয়ে জনগণের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই পথযাত্রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে গড়ে তুলতে হবে একটি নিরাপদ ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিফলন ঘটবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিষয়:

দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের স্থান বিএনপিতে হবে না: কায়কোবাদ

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২১
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনীতি করবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী, পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা হাইস্কুল মাঠে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

কায়কোবাদ বলেন, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা চাঁদাবাজ, যারা সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত তাদের দলে কোনো স্থান হবে না। তাদের সঙ্গে আমি রাজনীতি করবো না এবং তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কও থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, এক সময় কেউ ভাবেনি এই জালিম সরকার এভাবে বিতাড়িত হবে। আমিও কখনো ভাবিনি সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে এসে নির্বাচন করার সুযোগ পাব। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের দোয়ার বরকতেই আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে আল্লাহ আমাকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহর দয়ায় এবং আপনাদের সমর্থনে আবার এমপি হলে মুরাদনগর আর নেতাদের কথায় চলবে না। মুরাদনগর চলবে জনগণের কথায়। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক ও ভালো মানুষদের নিয়েই আমি রাজনীতি করবো এবং তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসবো। অসৎ ও চাঁদাবাজদের দলে কোনো জায়গা হবে না।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপনের সভাপতিত্বে জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তোফাজ্জল হোসেন লিটনের যৌথ সঞ্চালনায় পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


বিএনপিকে বিজয়ী করলে শ্রীমঙ্গলে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে: হুমায়ুন কবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, দেখবেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের উন্নয়ন কীভাবে করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চা-শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কৃষকদের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজারে আয়োজিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, চাশ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার মাধ্যমে কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৪ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, লন্ডন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খছরুজ্জামান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন এবং সদস্য মিজানুর রহমান। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শের আলী হেলালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে: শহিদুল ইসলাম বাবুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করে বলেছেন, নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে ফরিদপুর ৪ আসনের নির্বাচনে। এছাড়া আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা, সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনে নাশকতার চেষ্টা করছেন। তার দুই এপিএস এলাকায় গিয়ে মানুষকে টাকা পয়সা দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে। বিদেশে বসে নিক্সন চৌধুরী এই এলাকার মানুষকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

তিনি বলেন বাড়ি বাড়ি মহিলা পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে টাকা দিচ্ছেন সেই ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। এরা বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে‌ এই গোষ্ঠী। প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই মহড়া দিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কিছু হলে এর দায় তাঁর দল নিবেনা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদরপুরের কাঠপট্টিস্থ তার বাড়িতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এ আসনে নিক্সন চৌধুরী একাধিকবার এমপি ছিলেন। তার অনেক লোকও রয়েছেন। তাদের নিয়ে নির্বাচন বানচাল করার জন্য তিনি একাধিকবার জুম মিটিং, গ্রুপ মিটিং করেছেন। তাঁর কাছে প্রচুর কালো টাকা। এই কালো টাকা ব্যবহার করে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করছেন। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ এবং তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে নিক্সন চৌধুরীর সহযোগী নজরুল সহ কয়েকজনের সহযোগিতায় লুটের কালো টাকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে গাড়ি বহর নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। নিক্সন চৌধুরী যেই টাকা ছড়াচ্ছে এবং তাঁর লোকগুলো যেই তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে পরিবেশ নষ্ট করছে।

এসময় সদরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল আমীন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম খন্দকার, জেলা কৃষকদের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদ মামুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচনি ইশতেহারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ঘোষণা বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চিরস্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এবারের ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, জনসাধারণের ইচ্ছা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে তারা এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ইশতেহার পাঠকালে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় প্রথমে জুলাই সনদের বিষয়টি ছিল না; কিন্তু দেশের দলমত সবাই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চায় না। আমরা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চাই না। তাই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদের মূল বিষয়বস্তুগুলোর সঙ্গে বিএনপির পূর্বঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার ব্যাপক সামঞ্জস্য রয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও স্মৃতি রক্ষার্থে এক বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। তারেক রহমান জানান, যারা শহীদ হয়েছেন তারা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য তাদের নামে নিজস্ব এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।

দলের ৪৭ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপি এখনো তার মূল রাজনৈতিক আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। মূলত একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যেই এই নির্বাচনি ইশতেহারটি সাজানো হয়েছে।


ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত নিজেরা চাঁদাবাজি করবে না এবং কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেবে না। বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালে এবং একই দিন মেহেন্দিগঞ্জে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমীর বলেন, ৫ তারিখের পর আমরা যখন সুযোগ পেয়েছি, তখন আমরা বলেছি কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। আমরা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিনি, কোনো চাঁদাবাজি করিনি। বরং মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকা ফেরত আনতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনো এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তাই লুটপাটমুক্ত নেতৃত্বকেই ক্ষমতায় আনতে হবে।

মেহেন্দিগঞ্জের জনসভায় তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির পাতা বা ডাল ধরবো না সরাসরি ঘাড় ধরে টান দেবো। বড় দুর্নীতিবাজরা আইনের বাইরে থাকবে আর ছোট অপরাধীরা শাস্তি পাবে এটা হতে দেওয়া হবে না। দুর্নীতির শেকড় ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিদেশে পাচার হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা, যা চারটি জাতীয় বাজেটের সমান। এই টাকা ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ তা ফিরিয়ে আনার জন্য চূড়ান্ত লড়াই করবে জামায়াত।

দলের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল। বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, বহু মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। তবুও আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার পতনের পর জামায়াত প্রতিহিংসার পথে হাঁটেনি। তবে শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

নারী ও যুব সমাজ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের সম্মান নিশ্চিত করতে চায় জামায়াত। নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

বরিশাল অঞ্চলের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের অন্যতম বড় সংকট নদী ভাঙন। শুধু নদী শাসন নয়, সঠিকভাবে নদী সংস্কার করা জরুরি। পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে এক দশকের মধ্যেই এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কাছে দলীয় বিজয়ের চেয়ে জনগণের বিজয়ই মুখ্য। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই যেখানে রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই আইনের চোখে সমান থাকবে।

সমাবেশে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা জনসভায় উপস্থিত ছিলেন এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।


একান্ন দফার ইশতেহারে বিএনপির নয় অগ্রাধিকার: তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন পথরেখা

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার পাঠের কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সাজানো এই ইশতেহারে মোট ৫১টি দফার মধ্যে নয়টি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটিই বিএনপির প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা, যা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির এই নির্বাচনী দলিলে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে কর্মমুখী করার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পণ্য রপ্তানি এবং ই-কমার্সের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক হাব স্থাপনের পরিকল্পনাও ইশতেহারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকারে ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি

১. প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‌‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

মূলত একটি আধুনিক ও কর্মসংস্থানবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতিকে ইশতেহারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৫১ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে।


বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরছেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই ইশতেহার পাঠ করেন।

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে ঘোষিত এই ইশতেহারে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ওলামা দলের আহ্বায়কের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তারেক রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে প্রধান্য দিয়ে এবং ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ মূলনীতিকে সামনে রেখে ইশতেহারটি সাজানো হয়েছে। ইশতেহারটি মূলত পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং শেষ অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতির বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’, তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ‘৩১ দফা’ এবং সাম্প্রতিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে। অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান তার আগামী দিনের রাষ্ট্রের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরবেন।” এরপর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালে তারেক রহমান উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইশতেহারের মূল পাঠ শুরু করেন। মূলত একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারই ফুটে উঠেছে বিএনপির এই নির্বাচনী দলিলে।


ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’ নির্মাণ করবে: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে এক নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম তাঁর দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে ‘সবুজ বাংলা’ কিংবা ‘ডিজিটাল বাংলা’র স্বপ্ন দেখালেও জনগণের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ঘোষণা করেন যে, “ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে ‘স্বর্ণের বাংলা’ নির্মাণ করবে।” তাঁর মতে, দেশের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনই সঠিক নীতির মাধ্যমে জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ইসলামের সুমহান আদর্শের কথা উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, “ইসলাম শুধু মুসলিমের জন্য নয়, মানুষের জন্য নয়; এটি একটি পিপীলিকার স্বাধীনতার জন্যও, এর নামই হলো ইসলাম।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশে অনেক নেতা ও দলের শাসন প্রত্যক্ষ করা গেলেও সাধারণ মানুষ যা চেয়েছিল, তা আজও অধরা রয়ে গেছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধগুলো বন্ধ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন না। এই অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে তিনি ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

জনসাধারণের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে চরমোনাই পীর সতর্ক করে বলেন, “আরও মায়ের কোল খালি করতে না চাইলে শান্তির জন্য হাতপাখা মার্কায় ভোট দিতে হবে।” একই সাথে দেশের সম্পদ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চাঁদার মাধ্যমে দেশের মধ্যে অশান্তির আগুন জ্বালাতে না চাইলে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে না চাইলে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয় করতে হবে।” তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলামের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ একটি প্রকৃত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং ইনসাফ কায়েমে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের বিজয়ী করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। মাদারীপুরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীরাও এ সময় নিজ নিজ নির্বাচনি পরিকল্পনা তুলে ধরে জনসাধারণের সমর্থন প্রার্থনা করেন।


জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়: হেফাজত আমির

আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে তিনি এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাজিরহাট মাদরাসায় হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারি শরিফের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জামায়াতকে ভোট দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, “আমার কাছে এটা নির্বাচন নয়, এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’। সমস্ত মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম সমাজের উদ্দেশে হেফাজত আমির জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে যারা জোট করেছে, তারাও মওদুদি।” মূলত আকিদাগত ও আদর্শিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের মৌলিক বিরোধ রয়েছে এবং তারা দ্বিনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। এই কারণে একটি ‘বাতিল শক্তি’র উত্থান রোধ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্বারোপ করেন তিনি। উক্ত ধর্মীয় মাহফিলে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরসহ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মূলত ফটিকছড়ির নির্বাচনী সমীকরণে হেফাজত আমিরের এই প্রকাশ্য সমর্থন ও জামায়াত বিরোধী অবস্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


পুরান ঢাকার সমস্যা নিরসন ও আধুনিকায়নে ইশরাক হোসেনের অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা-৬ আসনকে কেন্দ্র করে জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংকট দূরীকরণ এবং মাদক নির্মূলের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার বলদা গার্ডেন এলাকায় নিজ নির্বাচনী ক্যাম্পে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর নির্বাচনী ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালির একাংশ নিয়ে গঠিত এই জনবহুল এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে তিনি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। এলাকার সমস্যা ও অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ঢাকা-৬ আসন। এখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো ও নানাবিধ নাগরিক সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানই হবে আমার অগ্রাধিকার।”

সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তীব্র সমস্যা হিসেবে গ্যাস সংকটকে চিহ্নিত করেন এবং ৭০ বছরের পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। যানজট নিরসনে তিনি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ত্রিস্তরীয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে অন-রোড পার্কিং বন্ধ ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে মেট্রোরেল বা সাবওয়ের মতো আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলবেন বলে জানান। এছাড়া বর্ষার আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের অন্যায্য দাবির মুখে না পড়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটাবো।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে, তাঁর হাত ধরেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।” বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন না এবং এলাকার উন্নয়নে চরম অবহেলা করেছেন। নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগের সঙ্গে বলেন, “আমি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়।” তাঁর পিতা অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জনকল্যাণমূলক কাজের ধারা অব্যাহত রেখে পুরান ঢাকাকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে তিনি এলাকাবাসীর সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা করেন।


বিএনপির ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ বাতিল, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নির্ধারিত তাদের নির্বাচনি সমাবেশটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের পরিবর্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কর্মসূচির এই পরিবর্তন নিয়ে রিজভী বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনি বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অধিকতর নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতাদের বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে রিজভী মন্তব্য করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা ও অবদানে অনুপ্রাণিত হয়েই তরুণ এসব নেতৃত্ব বিএনপির ছায়াতলে এসেছে। একই অনুষ্ঠানে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শিগগির ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।


বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি জিতু

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন জাকসু নেতৃবৃন্দ।

তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত একঝাঁক প্রতিনিধিও বিএনপি ও ছাত্রদলের আদর্শে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এসময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জিতু বলেন, ‘একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’ নবীন এই নেতাদের বরণ করে নিয়ে রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাকসু ভিপি জিতুসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের নির্বাচিত অনেক প্রতিনিধি আজ বিএনপি ও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ছাত্র আবদুর রশিদ জিতু মূলত জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই সাহসী ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং পটপরিবর্তন পরবর্তী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জিতুর পাশাপাশি ছাত্রদলে যুক্ত হওয়া অন্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি। এছাড়া মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ ও শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলামও এই যাত্রায় সামিল হয়েছেন। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ছাত্রদলে নাম লিখিয়েছেন শহীদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান, জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল।


জামায়াত একটি বহুদলীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়

ফাইল ফটো
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে অভিহিত করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে তারা নিরন্তর নিজেদের নীতিমালায় পরিমার্জন এনেছেন। ভারতের ইংরেজি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে।’ জনমুখী রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’

দীর্ঘ সময় প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে প্রতিকূল সময়েও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি।’ তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগকে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিপরীতে জামায়াতের সুশৃঙ্খল রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের অভাবনীয় সাফল্য এরই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনি রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে জামায়াত আমির জানান যে তারা ইতিমধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছেন। বিএনপির সঙ্গে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ এবং ভবিষ্যৎ ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি—এই তিনটি মূলনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বহুদলীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।

সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার নিয়ে ওঠা দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে জামায়াত সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে কৌশলগত কারণে জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব না হলেও জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির নারী প্রতিনিধিদের সফলতার উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও তিক্ততা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত মানবিক অবস্থান থেকে বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’ মূলত কর্মসংস্থান ও জাতীয় উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জামায়াতের বর্তমান রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন।


banner close