বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছর ধরে বিএনপি ও দেশের জনগণের ওপর স্ট্রিম রোলার চালিয়ে গেছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে স্বৈরাচার হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু কেউ গণতন্ত্রকে লুট করার চেষ্টা চালালে প্রতিহত করা হবে।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এখন মুক্ত বাতাসে আমরা সমাবেশ করার, কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। অনেক ত্যাগ তিতীক্ষার মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। কেউ গণতন্ত্রকে লুট করার চেষ্টা চালালে প্রতিহত করা হবে। বর্তমান এ সরকারের মধ্যেও অনেক ফ্যাসিবাদের লোক বসে আছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তারা যেন গণতন্ত্র নসাৎ করতে না পারে।
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে দুপুরের আগেই রাজধানীর নয়াপল্টনে জনতার ঢল নামে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা। নয়াপল্টন প্রকম্পিত করে তোলেন তারা। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে এবং হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে উল্লাস করেন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।
কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সিটি করপোরেশন) আসনে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান। তিনি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানান।
হাজি ইয়াছিন বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’ ১৫ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে দলীয় স্বার্থে তাকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাজি ইয়াছিন বলেন, ‘দলের আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও দেশ-জাতির কল্যাণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে তিনি রাজনীতি করেন। দলীয় দায়িত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে তার স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘হাজি ইয়াছিনের এই সিদ্ধান্ত কুমিল্লার রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কুমিল্লা যে বঞ্চনা ও সংকটে পড়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কায়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, এর আগে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে অনেকবার আন্দোলন করেছেন হাজি ইয়াছিন সমর্থকরা। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নেন।
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক সংকট বিবেচনা করে মুফতি আমির হামজা তাঁর পূর্বনির্ধারিত সকল ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মাহফিল আয়োজনে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার ওয়াজ বা তাফসির মাহফিলের সব শিডিউল (সময়সূচি) আজ থেকে স্থগিত ঘোষণা করছি।’ এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে আয়োজক কমিটি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের যে অসুবিধা হবে, সেটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এমন কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য আমার তাফসির মাহফিলের সিডিউল নেওয়া আয়োজক কমিটির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনাদের দোয়ায় শামিল রাখবেন।’ মূলত ব্যক্তিগত ও জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজ থেকে তাঁর সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচি স্থগিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তৃতা করার একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন এবং মঞ্চেই বসে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শহরের মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায় যে, ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাহ চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক তারার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের জন্য মিলিত হয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময়ই মূলত অধ্যাপক আবুল হাশেম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।
অধ্যাপক আবুল হাশেম ব্যক্তিগত জীবনে পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো বড় ধনী ব্যক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অর্থের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনুদানের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ অনলাইন ডোনেশন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এই প্রক্রিয়ার কারিগরি ও স্বচ্ছতার দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিটি প্রার্থীর পোস্টারে একটি করে নির্দিষ্ট কিউআর কোড সংযুক্ত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটার বা সমর্থকরা যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে, যেমন নাহিদ ইসলামকে সরাসরি সহায়তা করতে চান, তবে তারা সহজেই সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে অনুদান পাঠাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, একজন প্রার্থী জনগণের কাছ থেকে মোট কত টাকা অনুদান পেলেন এবং সেই অর্থ রাজনৈতিক প্রয়োজনে কীভাবে ব্যয় করছেন, তার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চিত্র জনগণের সামনে উপস্থাপন করা।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার মাধ্যমেই দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা। তারা জানান, প্রার্থীরা যাতে বিজয়ের পর কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ীর কাছে নয়, বরং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে ফরহাদ সোহেল সমালোচনা করেন যে, সেখানে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এনসিপি পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি বা জোরজবরদস্তিমূলক পেশিশক্তি ব্যবহারকারী কোনো প্রার্থীকে সংসদে দেখতে চায় না এবং অনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কেউ তাদের দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ দলের নীতিগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিকভাবে কোনো ধরনের পরাধীনতা বা ‘বাইন্ডিংস’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা নীতিগতভাবে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান গ্রহণ করবেন না। এর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ১০ টাকা বা ১০০ টাকার মতো ক্ষুদ্র অনুদানকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের এই ক্ষুদ্র অংশগ্রহণই হবে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি। অনুদান প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে চালু করা ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যে কেউ স্বচ্ছভাবে অর্থ প্রদান করতে পারবেন, যা দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে সহায়তা করবে।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই করার হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই ছাত্র প্রতিনিধি পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা হয়ে বিপুল পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন, যা এখন দেশের মানুষের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’। সোমবার দুপুরের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দিন নাছির তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি এখন নির্বাচন কমিশনে এসে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন। ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কারও চোখ রাঙানি বা হুমকিতে কমিশনের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি কমিশনকে সংবিধান, আইন ও জনগণের দেওয়া ক্ষমতার বলে মেরুদণ্ড সোজা করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন যে, আসিফ মাহমুদের হুমকি-ধমকিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভীত নয় এবং তারা মাঠেই থাকবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি শাবিপ্রবি উপাচার্যকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এতটা মিথ্যাচার করেননি। অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য সেই চিঠি গোপন রাখেন এবং কোনো ছাত্র সংগঠনকে তা জানাননি। নাছির উদ্দিনের দাবি, উপাচার্য পরবর্তীতে ঢাকায় এসে তদবির করে তার পছন্দের সংগঠন ছাত্রশিবিরকে জেতানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচনের তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন।
শাবিপ্রবি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে টানা ছয় দিন প্রচারণা বন্ধ রাখা হয়েছে, যা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি জানান, শাবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে আটজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত কমিশন ও বিতর্কিত উপাচার্যকে দায়িত্বে রেখে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপাচার্যকে ‘ভণ্ড ও প্রতারক’ অভিহিত করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন নাছির উদ্দিন। দাবি আদায় ও তিনটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নেকবর হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন মিঠু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সা: সম্পাদক রশীদ চৌধুরী এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শফিকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশের জন্য তার অবদান এবং স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর অংশ হিসেবে ৫টি জেলার ৬ জন নেতাকে দলে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে অতীতে এই নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় রবিবার তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলে ফিরে আসা এই ৬ জন নেতা দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে সিলেটের দুইজন এবং মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও জামালপুরের একজন করে নেতা রয়েছেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতারা হলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. খায়রুল আমিন আজাদ, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আবুল কাশেম, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার লিয়াকত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সদস্য আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী এবং জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফখরুজ্জমান মতিন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়াটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একইভাবে ৩ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দলে ফিরিয়েছিল বিএনপি। ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দলের ভেতরে ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য খায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোও এই সৌজন্য সাক্ষাতের আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিএনপির যোগাযোগ ও তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের দলের শতভাগ আস্থা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিদায়ের পর দেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, বিগত সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করার শপথ তারা গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় হয়তো কিছু ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে, তবে কমিশন তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, এই কমিশনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন যে কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে সফল হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার সমাধি প্রাঙ্গণ নেতাকর্মীদের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকেই প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী জিয়া উদ্যান এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং এক উৎসবমুখর অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সেখানে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও হাজারো কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় এতটাই বৃদ্ধি পায় যে বিজয় সরণি মোড় থেকে বেইল ব্রিজের দুই পাশ এবং জিয়া উদ্যানের ভেতরের পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাধি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। মাজারের পাশেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত কর্মসূচি চলছে। এছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসকরা মাজার এলাকায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করেছেন, যেখান থেকে আগত মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জিয়া পরিষদসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। বিকেল পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের এই ঢল অব্যাহত ছিল। রাজধানী ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদেই মূলত এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা সোয়া ১১টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
ছাত্রদল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রথমত, তাদের অভিযোগ হলো পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ, যা আসন্ন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয়ত, সংগঠনটি দাবি করছে যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে কমিশন তাদের দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কমিশনের হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।
তৃতীয় অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রদলের দাবি, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে ইসি ওই নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। একে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন ছাত্রনেতারা। এসব অভিযোগের সুরাহা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রদল। এর আগে গতকালও একই দাবিতে তারা নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আলেম-ওলামাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রবিবার বিকেলে সালথা উপজেলা সদরের সালথা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বক্তৃতায় শামা ওবায়েদ তার প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি তার বাবার মতোই এলাকার মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রসারে আলেম সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় অসংখ্য মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার আলেম-ওলামারা সমাজ গঠনে ও নৈতিকতা শিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সম্মান বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি সবসময় আন্তরিক এবং সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু আলেম সমাজই নয়, সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নেও বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারের মায়েদের ক্ষমতায়ন ও সহায়তার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এছাড়া দেশের কৃষকদের কৃষি কাজে সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এসব কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ফরিদপুর জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। সভার শেষ পর্যায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের বা রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এমন নজিরবিহীন দাবি তোলা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রবিবার রাতে ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অশোভন আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া তিনি উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। সংগঠনের নেতাদের মতে, ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তার মানসিক স্বাস্থ্যের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মনোসামাজিক সহায়তা বা চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ও অনুষদের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম। ছাত্রদলের এমন কর্মসূচির ঘোষণা ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।