মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

গয়েশ্বর-রিজভীসহ বিএনপির ১০২ নেতাকে মামলা থেকে অব্যাহতি

রুহুল কবির রিজভী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৪২

বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানার করা একটি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির আরও ১০২ নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়ার আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ধার্য্য ছিল। এদিন মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আবেদন করেন। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মতো কোনো উপাদান না থাকায় আদালত তাদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব, অ্যাডভোকটে শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইসহাক আলী সরকার।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত বরেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের বকশি বাজারের বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ টাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল টাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরার দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিরা হাইকোর্টের মাজার গেইটের সামনের রাস্তার উপর চারদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় আসামিদের পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও বিভিন্ন গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ওই দিনই শাহবাগ থানার এসআই চম্পক চক্রবর্তী বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুল করিম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব, শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইসহাক আলী সরকারসহ ১০২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।


নির্বাচিত

আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি, সরকারকে বিব্রত করবে: রিজভী

জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রেডিট নেওয়ার অথবা সস্তা বাহবা পাওয়ার জন্য দেওয়া আইজিপির বক্তব্যে দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তির বদলে বিব্রত ও ভীত করবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসাসেবা (মেডিক্যাল ক্যাম্প) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান একটি সরকারের পক্ষে সব কথা বলেন, তা সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে ভীত পাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করে। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে কাজে লাগান। নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করলে সমাজে কোনো অপরাধ থাকবে না। কিন্তু সস্তা ক্রেডিট বা বাহবা নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কথা বললে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকেও বিব্রত করবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে দক্ষ করে তুলে দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জাতির পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে বিশৃঙ্খল নয়, বরং মূল অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ এবং উৎপাদনমুখী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

যুবদলের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, ফেরদৌস মুন্না, এজমাল হোসেন পাইলট, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. তারেকুজ্জামান, আবুল মনসুর খান দীপক, খন্দকার আল আশরাফ মামুন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, নির্বাহী কমিটির সদস্য এবিএম মহসিন বিশ্বাসসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

যুবদল বিএনপির ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী: রিজভী

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধারাবাহিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিজেদের বিএনপির এক ইস্পাতকঠিন অগ্রবর্তী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে যুবদলের অগণিত নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী জানান, আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে সংগঠনের সূচনা হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে তা আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সর্ববৃহৎ ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলের তীব্র রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাহসিকতা ও আপসহীনতার প্রতীক যুবদলকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মম রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাসের পর মাস কারাবরণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় নেতাকর্মীদের যাবজ্জীবন সাজার মুখোমুখি করা হলেও তারা নিজেদের আদর্শিক কর্তব্য ও গণতান্ত্রিক লড়াই থেকে একচুলও সরে যাননি।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা প্রসঙ্গে রিজভী উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণকল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষাকেন্দ্রিক যে নতুন ধারার রাজনীতির ডাক দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল কার্যকর চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দেশ পুনর্গঠন ও নাগরিকের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের প্রতিটি পদক্ষেপে তারেক রহমানের বিশ্বস্ত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে এই সংগঠন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

ছাত্রদলের হাত ধরেই রাজনৈতিক শিক্ষার সূচনা: তারেক রহমান

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্য দিয়েই নিজের প্রত্যক্ষ রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্য দিয়েই নিজের প্রত্যক্ষ রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের সামনের সারিতে সক্রিয় থাকা থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের পেছনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

রাজনীতিতে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘শুভ ভাই সঠিক বলেছেন, প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের একেবারে সামনের লাইনেই ছিলাম। আমার মনে আছে রানীর দিঘির পাড়ে সন্ধ্যায় কুবি, ছাত্রলীগের শহর শাখা আমার গলায় অ্যান্টিকাটার ধরেছিল। ২০১৩-তে কোটা আন্দোলনে আমরা একটা টিম ঢাকায় এসে অংশ নিলে চারুকলার সামনে আক্রান্ত হই। ১৪-এর নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধে খুব সক্রিয় ছিলাম আমি। এরপর থেকেই রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিই নিজেকে, পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি।’

কোটা আন্দোলন পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘২০১৩-এর কোটা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৭-তে ঢাকায় ঢুকি পুনরায় কোটা আন্দোলন করতে। ১৮-এর কোটা আন্দোলনের উদ্যোগটা আমিই নিই, অদ্ভুত সব কৌশল ছিল, মনে হলে মায়া লাগে।’

তৃণমূল শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার স্মৃতিচারণ করে তারেক লেখেন, ‘১৮-এর কোটা আন্দোলন শুরুর আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়তাম, হাতে লেখা লিফলেট সবার টেবিলে টেবিলে রেখে দিতাম। অনেক কষ্টে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করেছিলাম একটা বড় আন্দোলনের জন্য। কনফিডেন্স, ওরাকল সার্বিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছিল তাদের লাইব্রেরিগুলোতে যেন আমি কাজ করতে পারি। কনফিডেন্সে সানোয়ার স্যার একজন শিক্ষক হয়েও সবটা দিয়ে এই আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন।’

সেই সময়কার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রথম প্রতিরোধ সম্পর্কে তারেক রহমান লেখেন, ‘তখন আমি আর কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে ছাত্ররাজনীতির সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কোটা আন্দোলনে। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আমিসহ ৫৪ জন আটক হলে, আমার বন্ধু বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মোশারফ হোসাইনকে ফোন করলে, ছাত্রদলের অপর সহযোদ্ধা কামরুল ভাইয়ের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে অবরুদ্ধ করে। আমাদের মুক্তি পর্যন্ত সেই অবরোধ জারি ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনের প্রথম রাজপথের প্রতিরোধ। কুবিতে তানভীর, হানিফ, তরিকুল অসাধারণ কাজ করেছে সে সময়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার গা শিউরে উঠে কুবিয়ান হয়ে, ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কীভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ এরপর অন্যান্য নেতাদের যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীন মোহাম্মদ ভাই, ভিপি নুর ভাই, রাশেদ খান ভাই, মামুন ভাই, ফারুক হাসান ভাই, সোহরাব হোসেন ভাইয়েরা এসে আমার সঙ্গে যুক্ত হলেন, সবাই মিলে অসাধারণ এক লড়াইয়ের অধ্যায় ছিল।’

রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিবর্তন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সময়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্র অধিকার গঠন, সেখান থেকে যুব, গণ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ গঠন। বিভেদ, ভুল-বোঝাবুঝি থেকে আলাদা হলাম। মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক আমি। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো স্যারের কাছ থেকেই আমি শিখেছি।’

নিজের আদর্শিক চেতনা ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের সম্পৃক্ততা জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, ‘তবে জাতীয়তাবাদের এই লড়াইয়ের শিক্ষা ছাত্রদল হতেই পেয়েছি। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শই আমার শিকড় ছিল। এমনকি, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পরামর্শেই কাজ করেছি।’

এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তারেক রহমানের ছাত্রদলে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। রবিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘স্নেহের ছোট ভাই তারেক রহমান। একসময়কার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য ছিল। তোমার জন্য শুভকামনা রইল। ২০১১-২০১৩ সালে আন্দোলনে কল দিলে বা মেসেজ দিলে সরব উপস্থিতি ছিল তোমার, একসঙ্গে বহুদিন হাসিনাবিরোধী হরতাল, অবরোধে সময় দিয়েছো। সেই থেকে এখন অবধি তোমার হাসিনাবিরোধী অবস্থান প্রশংসা পাবার মতো।’

বিষয়:

নির্বাচিত

আঁতাত করে সুবিধা নিতে চাইলে জনগণ প্রতিহত করবে: রিজভী  

ছবি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরাজিত শক্তির সাথে কেউ আতাঁত করে সুবিধা নিতে চাইলে তার দায় তাদেরকেই নিতে হবে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্মরণ করিয়ে দেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল। আবারও কোনো শক্তি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইলে, জনগণ তা প্রতিহত করবে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের যৌথসভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, জাতীয় প্রেসক্লাবে বরেণ্য সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় যোগ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।’ দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন ন্যায়নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল একজন মানুষ। তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলেও তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত বা কেনার চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।’

স্মরণসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই যাবেন হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ ইসলাম

ছবি: এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন না হলে ক্ষমতায় যিনিই আসবেন, তিনিই আবার ‘শেখ হাসিনা’ হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, ‘শুধু ড্রাইভার বা চালক পরিবর্তন করে লাভ নেই, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মেশিনই পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে সবচেয়ে দক্ষ চালক দিয়েও গাড়িকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব নয়।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারি রয়্যাল পার্টি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক মতবিনিময় সভার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি প্রধান বলেন, ‘দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং এখনও কোথাও কোথাও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন না আনলে বর্তমান ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। ভারত মূলত বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপে রাখতে আওয়ামী লীগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশপ্রেমই মুখ্য।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘কেবল নামমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলেই চলবে না; প্রধান উপদেষ্টা ও পুরো পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো একক দল নিজেদের পছন্দসই লোক দিয়ে সরকার গঠনে অপচেষ্টা চালালে এনসিপি তা প্রতিহত করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের নদী ভরাট, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে স্থানীয়দের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মিষ্টির আসনে মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান

ছবি: বিএনপি ও জোটের প্রার্থী এলিজা জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩২৩ মহিলা-২৩-এর উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ আসনে বিএনপি ও জোটের পক্ষ থেকে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ছিল। আজ ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগমীকাল ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে আগামী ২৯ অক্টোবর।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

এ ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে তার পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।

এরপর শূন্য আসনে উপনির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।


নির্বাচিত

সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকরাই স্বৈরাচারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন: রিজভী

ছবি: জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সত্যনিষ্ঠ ও আদর্শবান সাংবাদিকরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো সাংবাদিকরা সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাদের সাহসিকতা, নীতিবোধ ও দৃঢ় অবস্থান স্বৈরাচারের পতনের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে মানুষ বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার ওপর নির্ভর করতেন। সে সময় ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদের সংবাদ পরিবেশন ছিল মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কণ্ঠেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের খবর জানতে পারতেন সাধারণ মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো। গ্রেপ্তার ও হয়রানির মধ্যেও গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে গেছেন। নিরাপত্তার কারণে কখনো কখনো তাকে সংবাদ পাঠানোর স্থানও গোপন রাখতে হতো। পেশাগত দায়িত্বের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও সাহসিকতাই তাকে মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ওই সময়ের অনেক সাংবাদিক ছিলেন নীতিবান, দৃঢ়চেতা ও আপসহীন। নানা প্রলোভন ও চাপের মুখেও তারা আদর্শ থেকে সরে আসেননি। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে দৃষ্টান্ত তারা রেখে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্যও অনুসরণীয়।’

গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার অসাধারণ বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা এবং তরুণদের প্রতি আন্তরিক ও স্নেহশীল আচরণ তাকে মুগ্ধ করত। তিনি শুধু একজন সাহসী সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।’

আলোচনা সভায় গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী।


নির্বাচিত

জাতির যেকোনো সংকটে পথ দেখাবে গণঅধিকার পরিষদ: নুরুল হক নুর

Ydh: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জাতির যেকোনো সংকটে গণঅধিকার পরিষদ পথ দেখাবে উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ হঠাৎ করে কিংবা কোনো আলাদিনের চেরাগে আজকের রাজনৈতিক অবস্থানে আসেননি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তের বিনিময়ে তাদের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আল-রাজি কমপ্লেক্সে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’

নুরুল হক নুর আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আস্ফালন দেখার জন্য বিগত সময়ে লড়াই-সংগ্রাম করা হয়নি। একটি দল জুলাইয়ের চেতনার কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে বাধা দেয়; তারা দেশকে এমন অসভ্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের স্বাধীনতাবিরোধী তকমা আড়াল করতেই তারা এমন কর্মকাণ্ড করছে। এই গুপ্ত সংগঠনগুলো দেশের অগ্রগতি চায় না।’

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব চেষ্টা কখনো সফল হবে না।’

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম, মহানগর দক্ষিণের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, আইনজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট খালিদ হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


নির্বাচিত

আপনি আসেন, দেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে: হাসিনাকে দুলু

ছবি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, আপনি (শেখ হাসিনা) আসেন, আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের লড়াই-সংগ্রাম শেষে গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে এ সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। ভঙ্গুর অর্থনীতির এই দেশে জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার সুযোগ দিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াই করা বিরোধী দলগুলোর প্রতি তিনি আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রুহুল কুদ্দুস দুলু বলেন, বিগত প্রায় ২০ বছর দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, রক্ত ও দীর্ঘ ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্জিত গণতন্ত্র যেন পুনরায় বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় রমিজ উদ্দিন কাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মোস্তফা কামাল মজুমদার ও সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার উর্মি। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ-রোডমার্চ কিছুই হবে না: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে আর লংমার্চ, রোডমার্চ বলে কিছু থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তাই তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের নামে জুলাই সনদের সাথে বেইমানি করছে। এই প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। গণভোটের মাধ্যমে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে, হচ্ছে। সরকার ১ কোটি লোককে চাকরি দেবে বলেছে। সেখানে উল্টোটা হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ। আইন এবং শৃঙ্খলা কোনোটাই নেই। সরকারে যারা আছে তারা বিচার পাচ্ছে। যারা সরকারে নেই তারা বিচার পাচ্ছে না। বন্ধ ব্যাংক চালুর ব্যবস্থা করেন। এতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, প্রবাসে যারা আছেন তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখছে না। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। কিছু এমপি আছে তারা এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখেন না।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নয়: এ টি এম আজহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নয়, আধিপত্যবাদের স্বপক্ষের শক্তি।’ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁটাবন মসজিদে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ কর্তৃক লগি-বইঠা হত্যাকাণ্ডে শহীদ ও আহতদের স্মরণে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি তারাই যারা শত জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দেশের সংকটকালে জনগণকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি রেখে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা স্বেচ্ছায় নির্বাসনে লন্ডন বা দিল্লি চলে যায়নি। যারা দেশ ছেড়ে নিজেদের প্রভুর দেশ দিল্লি আর লন্ডন চলে যায়, তারা কখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হতে পারে না, দেশপ্রেমিক হতে পারে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সেদিন আওয়ামী লীগ মূলত আধিপত্যবাদী শক্তির সহযোগিতায় জামায়াত-শিবিরকে নিঃশেষ করতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এ দেশে আবারও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চক্রান্তে লিপ্ত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ‘লগি-বইঠা হত্যাকাণ্ডের’ বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, দ্রুত ২৮ অক্টোবরের করা মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে হবে। নতুবা জাতি বুঝে নেবে, বিএনপি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার না করার নিশ্চয়তা দিয়ে আধিপত্যবাদের সঙ্গে আঁতাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানীসহ অনেকে।


নির্বাচিত

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না: জামায়াত আমীর

মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে মুন হলে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারি হিসাবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে এ প্রশ্ন জনগণের।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে মুন হলে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমীর আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি জাতীয় সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকেন, তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে না, সেখানে কোনো সরকারি বরাদ্দ দেয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তবে হ্যাঁ নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত আমরা চাইব। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব—তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা কারো স্কীপ গুড হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে সেই ক্ষমতায় যাবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লুক আফটার করা। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।’

‘সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই আগের চেয়ে ভালোর মাপকাঠি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না’—বলেন তিনি।

জামায়াত আমীর বলেন, ‘সংবাদপত্র সমাজের আয়না। তাদের আয়নায় সমাজের দোষ-ত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমণ হয়েছিল। রাজনীতির ওপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সবগুলো সংবাদ মাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। ৪টি ছাড়া আর কোনো সংবাদ মাধ্যমের অস্তিত্ব রাখা হয়নি।’


নির্বাচিত

এই সংসদের কোনো মূল্য নেই, ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই, এই সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য কিংবা জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নেই। এটি এখন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংসদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর দলটির বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৬ বছর পরে যে সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যেই নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছিল এই সংসদের মূল্য আর দুই আনাও নাই। এই জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ এই জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কথার কোনো মূল্যায়ন নাই। জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নাই। এই জাতীয় সংসদ হয়েছে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের সংসদ। সেটাই জাতীয় সংসদ, আর জনগণের জাতীয় সংসদ নাই।’

সংসদে জনগণের কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি, সংসদে আপনারা আমাদের পাঠিয়েছিলেন আপনাদের কথা বলার জন্য। সেখানে যেহেতু আমরা বলতে পারছি না, আমরা আবারও রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা আবার আপনাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি।’

বর্তমান সরকারকে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী একটি সরকার। যদিও বর্তমান সরকারে যারা রয়েছে বিএনপি, তারা সেই সময় গণঅভ্যুত্থানে সঙ্গে ছিল। ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক নেতারা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপসে ছিলেন। ফলে আমরা দেখেছি, তাদের নেতাদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই। গত ৭-৮ মাসে তারা কোনো পরিবর্তন করেননি।’

গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৬ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে আপনারা দুটি ভোট দিয়েছিলেন। একটি গণভোট, আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সেই গণভোটে আপনারা-আমরা সবাই মিলে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ হচ্ছে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, নির্বাচনের পর যেইমাত্র ক্ষমতায় এসেছে— তারা জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে, গণভোটকে অস্বীকার করেছে। গণভোটকে অস্বীকার করার মাধ্যমে তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারকে একটি জুলাই গাদ্দার সরকার বলতে পারি। যারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলিয়ে-মিশিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে পুরোনো বন্দোবস্তে নিয়ে গেছে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, যদি দেশে বৈষম্য দূর না হয়, যদি চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস দূর না হয়, তাহলে শেখ হাসিনা কী দোষ করেছিলেন, এটা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন বলতে শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কারণ তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনার মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই। তারেক রহমানও শেখ হাসিনার মতো অবৈধভাবে এখন ক্ষমতায় রয়েছেন। তারেক রহমান জনগণের ভোটাধিকার, গণভোটের যে ভোটাধিকার, সেই ভোটাধিকার হরণ করেছেন। তারা কোনোরকম একটি নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আজ সারা দেশে আমরা সেটার উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি।’

জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাবমতে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু আপনি খুচরা বাজারে গেলে সেটা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হবে। নির্বাচনের পরেও যেটা ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, পুলিশের ভঙ্গুর অবস্থা ছিল। কিন্তু সেই সময় ছাত্র-জনতা সবাই মাঠে ছিলাম এবং দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়নি।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশে যে আজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। আজ সকালেও আমরা দেখেছি, গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। অর্থাৎ আপনি সমাজের যে স্তরের নাগরিকই হন না কেন, এই রাষ্ট্রে আপনার নিরাপত্তা নেই। এই সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন।’

মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘মাদকের সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট এবং হটস্পটগুলো বিএনপির নেতাদের আওতায়, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে বিএনপির প্রতিমন্ত্রী যতই বন্দুক নিয়ে বের হোন, বিএনপি সরকারের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।’

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের পরিবহন সেক্টরে নির্বিচারে চাঁদাবাজি চলে। এই সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রত্যেকটি বাস, প্রত্যেকটি রুটের গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এই চাঁদার ভাগ কোথায় যায়? এই চাঁদার ভাগ এখনো কিছুটা আওয়ামী লীগ পায়, আর কিছুটা আমাদের নতুন বিএনপি পায়।’

‘আওয়ামী লীগ ভাগাভাগি করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দেশে চলতে পারে না। সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া, রাজপথে আসা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা জানি, আপনারা আন্দোলন করতে করতে ক্লান্ত। গত ১৬ বছর আপনারা আন্দোলন করেছেন। আপনাদের আমরাই রাজপথে আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমান বেহাত করেছেন। সেই গণঅভ্যুত্থানকে আবার আমাদের নিজেদের কাছে নিয়ে আসার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’


নির্বাচিত

banner close