বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কখনো জামায়াতে ইসলামী পেলে মালিক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ নওগাঁর নওজোয়ান মাঠে আজ শনিবার দলটির নওগাঁ জেলার সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তাদের দুয়ারে দুয়ারে যাব এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার সুযোগ নেব। যারা অতীতে মালিক হয়েছেন তাদের পরিণতি চোখের সামনে আমরা দেখতে পেয়েছি। দূর অতীতেও দেখেছি, নিকট অতীতেও দেখেছি। এর থেকে সকল রাজনৈতিক দলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কী হয়, ধোঁকা দিলে কী হয়, মালিক বনলে কী হয়, জুলুম করলে কী হয়, লুট করলে কী হয়, অপরাধ করলে কী হয়, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে অর্থ লুট করলে কী হয়- এর থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
‘আমরা আশা করব, আমরা সবাই শিক্ষা নেবে। তাহলে আগামীতে আমাদের সন্তানেরা যেজন্য জীবন দিয়েছে ও পুঙ্গত বরণ করেছে, তাদের আশা পূরণ হব। এই যাত্রায় আমরা আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদের বিশেষ সহযোগিতা চাই। তারা যেন আমাদের সোজা-সাপটা কথাগুলো তুলে ধরে।’
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা কথা স্পষ্ট করতে চাই। যারা একটা জাতিকে বিভিন্ন ধোয়া তুলে টুকরা টুকরা করে তারা কোনো দিন জাতির মঙ্গল চায় না। এই বিভক্তি আর চলতে দেওয়া যায় না। দেশ ও জাতিকে সামানের দিকে এগিয়ে নিতে হবে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে জামায়াতে ইসলামী। আমরা মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে চাই। আমরা দল ও ধর্মের ব্যবধান না করে মানুষকে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের সবচাইতে মজলুম দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অপরাধের একটা স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ। আমাদের কলিজার টুকরা নেতৃত্বকে বিচারের নামে প্রহসন করে তারা হত্যা করেছে। আমরা শত শত কর্মীকে হত্যা করেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে।’
‘বাংলাদেশের সবগুলো জামায়াতের ইসলামীর কার্যালয় সিলগালা করেছে। আমাদের দলের নিবন্ধন অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দিশেহারা এ বছরের পহেলা আগস্ট আমাদের দলকে তারা নিষিদ্ধ করেছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচেয়ে মজলুম দল। এর চেয়ে মজলুম দল আর বাংলাদেশে নাই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর আগে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে আমাদের সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছে। রাজপথে আমরা আমাদের সন্তানদের নামাজ আদায় করতে দেখেছি। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ছিল না। এই আন্দোলন মানুষের মুক্তির সংগ্রামের আন্দোলন ছিল।’
‘এই আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব আল্লাহর। এই আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করেছে আমাদের সন্তানেরা। দেশের ১৮ কোটি মানুষ এই আন্দোলনের সাথে ছিল। নির্দিষ্ট কোনো দলের ভিত্তিতে এই আন্দোলনকে বিভক্ত করতে চাই না। এখন আমাদের অ্যাসিড টেস্ট শুরু করেছে। দেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে তরুণেরা যেই দেশপ্রেম বুকে নিয়ে শহীদ হয়েছে, পুঙ্গত বরণ করেছে তা পূরণ করার দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আমরা যারা রাজনীতিবিদ রয়েছি তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’
নওগাঁ রুকন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলাম নওগাঁ জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য খ ম আব্দুল রাকিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
চার দশকের বেশি সময় পর নতুন নেতা পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ দলের হাল ধরলেন তারই বড় ছেলে তারেক রহমান। যিনি এতদিন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।
বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শূন্যপদে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাত বরণের পর, তিনি ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সদস্য হিসাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদে কিছু বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল।
১৯৯৬ সালে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর খালেদা জিয়া টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কারণে, তিনি এক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০০১ সালে আবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। টানা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৬ সালে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন খালেদা জিয়া।
দুবছর দেশ চালায় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন তিনি গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকার তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু করায় তাকে গৃহবন্দি করা হয়। গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য, তাকে ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট ‘গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সাজানো দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিল যে, মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে তার ন্যায্য বিচারের অধিকারকে সম্মান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি।
এরই মধ্যে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবার দেশে ফেরেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে সেদিন বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই তিনি খালি পায়ে শিশিরভেজা ঘাসে দাঁড়িয়ে ১৭ বছর পর প্রথম দেশের মাটির স্পর্শ নেন। পরে জনজোয়ার ঠেলে বিকেল প্রায় ৪টায় তারেক রহমান পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন, ১৬ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। নারী, পুরুষ, শিশু এমনকি সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে সেটাই তাদের চাওয়া বলে জানান। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। এতে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ক্ষমতায় আসেন। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসে নারী। বিরোধীদলীয় নেত্রী তখন আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা। সেই থেকে শুরু হয় দুই নারীর রাজনৈতিক লড়াই। এই লড়াই ‘দুই বেগমের’ লড়াই বলে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৯১ সালের পর প্রথম বাংলাদেশ এমন এক নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে দুই ‘বেগম’-এর কেউই নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ‘অবিচুয়ারি রিপোর্টে’ এ কথা লিখেছে দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ান লিখেছে, ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে ক্ষমতার মেয়াদে নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতির জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাকে। তবে দীর্ঘ জীবনে তিনি দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতার শিকার হয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়া ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার এই রাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই করে গেছেন।
ক্ষমতায় থাকলে দু’জনই একে অপরকে ছাপিয়ে যেতে চেয়েছেন। উভয় নারীই ক্ষমতায় এসেছেন তাদের ঘনিষ্ঠজনের হত্যাকাণ্ডের পর। শেখ হাসিনা তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসেন। শেখ মুজিব ছিলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। আর জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর দলের নেতৃত্বে আসেন খালেদা। দক্ষিণ এশিয়ার বংশানুক্রমিক রাজনীতিতে এই ধারা পরিচিত- পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টো, শ্রীলঙ্কায় সিরিমাভো বন্দরনায়েকে এবং ভারতে ইন্দিরা গান্ধী- তাদের সবাই পুরুষ আত্মীয়দের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তরাধিকার হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন।
তবে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা ছিল ব্যতিক্রম। এখানে দেখা গেছে ‘দুই বেগমের লড়াই’। মুসলিম সমাজে উচ্চপদস্থ নারীদের বোঝাতে ব্যবহৃত এক প্রচলিত শব্দবন্ধ হলো বেগম। শুরুতে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা একসঙ্গে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। এরশাদ ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যার পরপরই ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু এরশাদের পতনের পর এই জোট ভেঙে যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
এর পরের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ধারা মোটামুটি স্থির হয়ে যায়। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসেন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। উভয়ের শাসনামলেই নির্বাচনে কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগ, হরতাল, রাজপথের আন্দোলন এবং সংসদ বর্জনের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। এর মধ্যেই এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সামরিক হস্তক্ষেপ। ২০০১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় এলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা থামেনি। ২০০৬ সালে তার মেয়াদ শেষ হলে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐকমত্য আনার চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং দুই নেত্রীকেই আটক করা হয়। মুক্তির পরও স্পষ্ট হয়ে যায়- কিছুই বদলায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে প্রথমবার নির্বাচন করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিতে হয়। এই জোট দীর্ঘদিন টিকে ছিল, যদিও ভারতের তীব্র বিরোধিতা ছিল; ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের প্রভাবিত শক্তি হিসেবে দেখত। ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়া ভারতের বদলে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেন, যেখানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ভারতের ঘনিষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দিতেন।
এত রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নীতিগত দোদুল্যমানতার মাঝেও একটি প্রশ্ন রয়ে যায়, কীভাবে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলো? বিশ্বব্যাংকের মতে, এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স। তবে ব্যাংকটি নারী ক্ষমতায়নের কথাও উল্লেখ করেছে, যা খালেদা জিয়ার শাসনামলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল।
তাকে যারা প্রথম চিনেছিলেন, তাদের কাছে এটি বিস্ময়কর ছিল। তিনি তখন এক ‘লাজুক গৃহবধূ’, কিশোরী বয়সে এক সেনা কর্মকর্তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং দুই ছেলের লালনপালনেই মনোযোগী ছিলেন। খালেদা জিয়ার জন্ম হয় খালেদা খানম নামে, তৎকালীন বৃটিশ শাসিত বাংলার জলপাইগুড়িতে। বর্তমানে তা ভারতের অংশ। তিনি দাবি করেন, তার জন্মতারিখ ১৫ আগস্ট ১৯৪৫, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনার পিতাকে হত্যার তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। পরিবারে ‘পুতুল’ নামে পরিচিত ছিলেন খালেদা। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন এক চা-ব্যবসায়ী। মায়ের নাম তাইয়েবা।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পরিবারটি দিনাজপুরে চলে আসে, যা তখন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ছিল। সেখানেই তার পড়াশোনা। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন এবং তার নাম গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান একজন সেনা কমান্ডার ছিলেন এবং ধারাবাহিক অভ্যুত্থানের পর ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।
স্বামীর হত্যার সময় খালেদা জিয়া বিএনপির সদস্যও ছিলেন না। তিনি ১৯৮২ সালে দলে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালেই দলের চেয়ারপারসন হন। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি নামমাত্র নেত্রী হবেন, কিন্তু এরশাদ শাসনামলে গৃহবন্দিত্বের সময় তিনি দৃঢ়তা দেখান। ১৯৮৬ সালে সামরিক আইন বহাল রেখে এরশাদ যখন নির্বাচন দেন, খালেদা জিয়া বিএনপিকে তাতে অংশ নিতে দেননি, যদিও আওয়ামী লীগ অংশ নেয়। ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি তুলনামূলকভাবে নৈতিক অবস্থানে ছিল।
ক্ষমতায় এসে তিনি স্বামীর উদার অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষায় জোর দেন, যার ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকেই স্কুলে নারী-পুরুষের সমতা অর্জন করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
খালেদা জিয়া সম্ভবত ভাবেননি যে ২০০৬ সালের পর তিনি আর কখনো ক্ষমতায় ফিরবেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেন। ২০১৮ সালে তিনি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন- যা তার সমর্থকদের মতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে প্রথমে পাঁচ বছর, পরে ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়, ফলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন। তবু তিনি দেশ ছাড়েননি।
স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে ২০২০ সালে তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তিনি সব মামলায় খালাস পান এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন, যদিও বিএনপির নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের হাতে। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ এমন এক নির্বাচনের মুখোমুখি হলো, যেখানে কোনো ‘বেগম’ নেই।
সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির জটিল মঞ্চে পা রেখে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার সংগ্রামী পথ চলা আর কর্মময় জীবনের ওপর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুমা জিয়া উদ্যানে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
এ সময় বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উপদেষ্টা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনটির সভাপতি মারুফা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামী জীবন এতোই বিস্তৃত, এতই বিশাল, এতই বর্ণাঢ্য যে, একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তার জীবন সংগ্রাম কোনোভাবেই ধারণ করা সম্ভব নয়। বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো বেগম জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর তারা যেন আলাদা আলাদা প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
দেশনেত্রীর জানাজায় এতো মানুষের সমাগম হয়েছে যেটা বিশ্বের প্রধান জানাজাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন জনগণের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য। তরুণ প্রজন্ম যারা বেগম জিয়ার নেতৃত্ব সামনে থেকে দেখে নাই, তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে জানতে চায়। এজন্য আমি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো তারা যেন এ বিষয়ে আরও কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী না, বাংলাদেশের চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব নারী নেতৃত্ব সাহস, দৃঢ়তা ও গণআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাদের অগ্রভাগে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন আপসহীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তরুণরা বেগম জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা খুব শিগগিরই বিভিন্ন জায়গায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করব।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা'র সভাপতি মারুফা রহমান বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করেছি। এখানে একেকটি ছবি তার রাজনৈতিক জীবনের একেক সময়কার দলিল। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ এখানে আসছেন। বিশেষ করে তরুণরা আসছেন, তারের আগ্রহটা বেশি। তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে জানতে পারবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় ১০০টি স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আদনান আজাদ, সহ-সভাপতি ফেরদৌস মামুন, জুলফিকার হোসাইন সোহাগ, আনোয়ার হোসেন জনি ও রাশেদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, দপ্তর সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবিরসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম রাজধানীর সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯ নম্বর বাসা থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে গুলশান-২ নম্বরের ৮৬ নম্বর রোডে অবস্থিত বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান তিনি। বিকেল পৌনে ৪টায় বাসা থেকে রওনা হয়ে ২০ মিনিটে তিনি গন্তব্যে পৌঁছান।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হঠাৎ করেই হেঁটে অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। কালো স্যুট পরিহিত তারেক রহমানের সঙ্গে এ সময় তাঁর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম শামসুল আলমসহ অন্যান্য সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত অফিস করছেন তারেক রহমান। আজ বিকেলেই চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে আজ রাত ৯টায় গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এটি নির্ধারিত কোনো বৈঠক নয়, তবে দলের ভেতরে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, আজকের এই সভাতেই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির 'চেয়ারম্যান' হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মায়ের মৃত্যুশোক সামলে নিয়ে নেতৃত্বের এই সক্রিয়তা এবং রাজপথে জনসাধারণের কাছাকাছি আসার এই প্রচেষ্টা দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিপূর্বে বহিষ্কৃত হওয়া ১১ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা এবং নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত এই নেতারা দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ ফিরে পেয়েছেন। যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বরিশাল মহানগর ও এর বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। তালিকায় রয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ, ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, ২৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির এবং ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু।
এছাড়া নারী নেতৃত্বের মধ্যে বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি মোসা. জেসমিন সামাদ শিল্পীসহ ৫নং, ২৪নং ও ৩০নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সাবেক নেত্রীদেরও দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন ১৫নং ওয়ার্ডের মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. কামরুল আহসান রুপন এবং ১৮নং ওয়ার্ডের মো. জাবের আব্দুল্লাহ সাদী। সংশ্লিষ্টরা তাদের ভুল স্বীকার করে দলের কাছে আবেদন করার পর ৯ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সারা দেশে আরও অনেক নেতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে ইমরান হায়দার ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আজকের এই সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আজ রাতেই গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দিনাজপুরের গড়ে শহীদ ময়দানে ভোটের গাড়ি পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফাওজুল কবির বলেন, এ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কারণ, এ নির্বাচনে একটি গণভোট হচ্ছে। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়িত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, এ নির্বাচন বাঁধাধরা নির্বাচনের মত নয়। আগের প্রতিটি নির্বাচন রাজনৈতিক দলের অধীনে হয়েছে। তবে, আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। যেখানে আমাদের কোন দল নাই, আমরা সবার সরকার। সরকার হিসেবে আমরা কারও পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নেব না। আপনাদের সকলের চেষ্টায় একটি সুন্দর ভোট হবে এবং প্রকৃত যোগ্যরাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
ফাওজুল কবির বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে মানুষ ভোট দিতে পারেনি এজন্য। ১২ ফেব্রুয়ারি হলো জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের দিন। এ নির্বাচনে আপনারা যাকেই নির্বাচিত করতে চাইবেন, তিনি যে দলের হোক না কেন, যে ধর্মের হোক না কেন, যে বর্ণের হোক না কেন, যে গোত্রের হোক না কেন তাকেই আমরা বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাই।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এখানে সংখ্যালঘু, আদিবাসী ভোটার আছেন। তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচন আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, এটা পাঁচ বছরের জন্য নয়। কারণ এ নির্বাচনে একটি গণভোট হচ্ছে। গণভোটে চারটি প্রশ্ন একটি প্যাকেজ হিসেবে দেয়া হয়েছে, যেখানে হ্যাঁ অথবা না হবে।
ফাওজুল কবির বলেন, আপনি যদি সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র চান, আপনারা যদি চান ক্ষমতার ভারসাম্য হোক ক্ষমতা কেন্দ্রীভুক্ত যেন না হয়, আপনি যদি চান দেশে গুম-খুন না হয়, মানুষ বিচার পায়, তাহলে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। কারণ, এই সংস্কারের জন্যই জাতিসংঘের হিসাব মতে ১৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষের অঙ্গহানি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞার কারণে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ভাত বর্জন করা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিএনপি সমর্থক নিজাম উদ্দিন (৪৫) ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ওই গ্রামের মৃত নূরানী বাক্স মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় এবং খাবারের হাঁড়ি ফেলে দেয়। এই ঘটনায় চরমভাবে অপমানিত বোধ করে নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি আর ভাত খাবেন না। সেই থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন তিনি ভাত স্পর্শ করেননি এবং বিকল্প হিসেবে কলা, রুটি ও চিঁড়া খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে বহুবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং তার নির্দেশনায় ঢাকা ও ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি এই একনিষ্ঠ কর্মী। সাধারণ একজন মানুষ হয়েও কেবল রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে অটল থেকে নিজাম উদ্দিন দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজাপুরে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিড়িতে সুখটান দিয়েও যদি কেউ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট চায়, তবে সেই উসিলায় আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের এই বক্তব্যটি প্রার্থীর নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভ করার পর বৃহস্পতিবার রাতে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
বক্তব্য চলাকালীন ড. ফয়জুল হক সমর্থকদের পরামর্শ দেন যেন তারা চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় কৌশলে নির্বাচনী প্রচার চালান। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ হয়তো জীবনে ইবাদত করার সুযোগ পাননি, কিন্তু বিড়ি খাওয়ার ফাঁকেও যদি তিনি দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেন, তবে আল্লাহ হয়তো তার পেছনের সব গুনাহ মাফ করে তাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। ভোটারদের উৎসাহিত করতে তিনি রসিকতার ছলে বলেন যে, পাঁচ টাকার চা খেয়ে পনেরো টাকার গল্প করতে হবে এবং সবখানে প্রার্থীর জয়জয়কার প্রচার করতে হবে।
নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যেও তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আহ্বান জানান যেন নির্বাচনের রাতে কেউ না ঘুমান এবং ভোটের দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং বিজয় মিছিল শেষ করে তবেই বাড়িতে ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। এই ব্যতিক্রমী ও ধর্মীয় আবেগ মিশ্রিত প্রচারণা কৌশল নিয়ে এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, আজকের বৈঠকটি নির্ধারিত শিডিউলের বৈঠক নয়।
তাই নির্দিষ্ট এজেন্ডাও থাকছে না। তবে এটি অবশ্যই গুরত্বপূর্ণ। কারণ, এ বৈঠকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে ধীরে ধীরে শোক কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে দেশ। নতুন বছর, তারওপর সামনে জাতীয় নির্বাচন। সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অধিষ্ঠিত হতে তারেক রহমানকে পরামর্শও দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান দু’একদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।
২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
সূত্র : বাসস
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে এক শোক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত অমানবিক ও নৃশংস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
শোক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। না হলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।’
বিএনপি মহাসচিব শোক বিবৃতিতে আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যাকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত এবং জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
সমাবেশ শেষে সিপিবির একটি প্রতিনিধিদল তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এতে সাত দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল আদায় বন্ধ এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত বিল ফেরত দেওয়া, এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বস্তিবাসী সাধারণ মানুষের কাছে সরকার উৎপাদিত সিলিন্ডার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিতরণ, জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ নীতি পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গ্যাস–সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জ্বালানিকে জনস্বার্থভিত্তিক সামাজিক সম্পদ ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি গণমুখী জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ সংকট চলছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সিপিবির সভাপতি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দুর্ভোগকে আমলে নিচ্ছে না। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসা চলছে এবং জনগণের দুর্ভোগকে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি পরিকল্পিত সংকট। সিন্ডিকেট না ভাঙলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।’ এ অবস্থার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘দেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’ তিনি সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে গ্যাস–সংকটের সমাধান না হলে ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মেদ সাজেদুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা লুনা নূর, মহানগর উত্তরের নেতা কল্লোল বণিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ প্রমুখ। সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, চাঁদাবাজদের ঘুম অলরেডি হারাম হয়ে গেছে। তারা কোন উপায় না পেয়ে এখন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছে, তারা ফোনে মানুষদের হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্র দখল করবে, ভোট দিতে দেবে না, ভোটাধিকার কেড়ে দেবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা হোন্ডা-গুণ্ডার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। গুণ্ডা-হোন্ডার ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি এখন আর নাই। মানুষ এখন সচেতন, তারা কোন ঋণখেলাপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যারা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের হক মেরে খাবে তাদের ভোট দিতে যাবে না। আপনারা যদি সংস্কার চান, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চান, নিজের ভোট নিজে দিতে চান, ভারতীয় গুণ্ডামি বন্ধ করতে চান তাহলে গণভোটে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আপনার হ্যাঁ ভোটেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।
ওসমান হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি এই চাঁদাবাজ ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তারা তাকে বাঁচতে দেয়নি, আমরা শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া কাজ বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছি। আমরা কখনোই ওসমান হাদির মতো হতে পারব না। তিনি মুড়ি-বাতাসা নিয়ে তার নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন, তিনি চেয়েছেন বাংলাদেশে যেন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়, চাঁদাবাজ দুর্নীতি বন্ধ হয়, মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। আজকে গ্রামে গ্রামে শহীদ হাদির জন্য দোয়া করছেন মা-বোনেরা ও বৃদ্ধ বাবারা। শহীদ ওসমান হাদি রাষ্ট্রে যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব আমরা নিলাম। আমরা শহীদ হাদির হত্যার বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করে ঘরে ফিরে যাব। এ সময় জামায়াত ও এনসিপিসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।