বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতীয় পার্টির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি স্থগিত

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ নভেম্বর, ২০২৪ ০২:১৪

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির ডাকা আজ শনিবারের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানায় দলটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে (সভাস্থল) পাইওনিয়ার রোডের ৬৬ নম্বর ভবন, কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকায় যেকোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর কাকরাইলে মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয় দলটি। চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ছাড়াও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ সমাবেশ ডেকেছিল জাতীয় পার্টি। একইদিন জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণপ্রতিরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা। এ অবস্থায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার মাইনুল হাসান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নম্বর ১১১-৭৬)–এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামীকাল শনিবার পাইওনিয়ার রোডের ৬৬ নম্বর ভবন, পাইওনিয়ার রোড, কাকরাইলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হলো।


নির্বাচিত

এমপি হিসেবে বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের ফলে সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত আদেশে আরও উল্লেখ করেছেন যে, হাইকোর্ট কর্তৃক সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিয়মিত আপিল করতে পারবে। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে লড়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

উল্লেখ্য, এর আগে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করলে সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। উক্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন। মূলত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষেই আজ আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত জানালেন।


নির্বাচিত

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি।

আজ মঙ্গলবার এক জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানিয়েছে দলটি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামীকাল ২৯ জুলাই সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

‘এমতাবস্থায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সকল মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


নির্বাচিত

বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনার রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পাদপ্রদীপে আসেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: এস এম জিলানী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, সংগঠনের যেখানে যেখানে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলকে সুসংগঠিত করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি অডিটোরিয়ামে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম জিলানী বলেন, ‘আমাদের আজকের মতবিনিময় সভার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো। যেখানে যেখানে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত নেতারা তাদের মতামত দেবেন। আমরা ধৈর্য সহকারে সেই মতামত শুনব এবং পর্যালোচনা করে কোটালীপাড়ায় জাতীয়তাবাদী দলের কার্যক্রম পরিচালনা করব।

তিনি বলেন, ‘অতীতের ১৭ বছরে এ অঞ্চলের মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার পর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। ভোটের নামে এখানে গণতন্ত্রকে কলুষিত করা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ নির্বাচনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, ততদিন মানুষের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো।

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত হবে জানিয়ে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সভা করবে। স্থায়ী কমিটির সভা হবে, সিদ্ধান্ত হবে, এরপরই জানা যাবে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার নাম শোনা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্লিজ, সংবিধান অনুযায়ী যে সকল নিয়ম আছে সেটা মেনে দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই হবে চূড়ান্ত।’

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এই সময়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে আরডিএ’র বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষায় কৃষিজাতপণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে বাস্তবমুখী ও নতুন নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। সেই সঙ্গে তিনি সরকারি পর্যায়ে নিবিড় গবেষণা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গবেষক ও উদ্ভাবকদের অনেক ভালো কাজ হলেও সেগুলো যথাযথভাবে প্রচার পায় না। অথচ এসব উদ্ভাবন কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে তিনি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।’

বক্তব্যে তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে অনেক তরুণ সফল হতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’ গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ’র মহাপরিচালক আবদুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আনম রশিদ, কৃষি সচিব রফিকুল মোহাম্মদ, আরডিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অধিবেশনে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরডিএ’র ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ পরিকল্পনা সম্মেলনে বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন, পরিকল্পনা পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। এতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।


নির্বাচিত

৩ নেতা এক হলে সপ্তাহের মধ্যে সরকার পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক—এই তিন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা একজোট হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঐক্য গড়ে উঠলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালানোর কোনো পথ খুঁজে পাবে না। ঐতিহাসিক জুলাই গণহত্যার বিচার, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিশেষ সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্নেল অলি তাঁর বক্তব্যে দূরদর্শী রাজনৈতিক সমীকরণের কথা তুলে ধরে বলেন, উল্লিখিত তিন রাজনৈতিক নেতা যদি এক মঞ্চে এসে দাঁড়ান, তবে তাঁরা যেকোনো সময় রাজধানীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের বিশাল গণজমায়েত ঘটাতে সক্ষম হবেন। এর মাধ্যমে টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের মতো রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলো একযোগে অবরুদ্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি সরকারের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেই পরিস্থিতিতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখনই অনুধাবন করা উচিত। তাই অন্য কারও দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত না হয়ে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে এলডিপি প্রধান অভিযোগ করেন যে, বিদ্যমান শাসনের অধীনে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের নিজস্ব লোকেরা উল্টো দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের নানা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ব্যক্তির ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একই ব্যক্তি একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রাহ্য করেনি। তিনি বিএনপি সমর্থিত একক প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশবাসীকে সর্বজনীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার অনুরোধ জানান। জনতার মৌলিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে না নিলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা এক দাবি, এই সরকার কবে যাবি’ কর্মসূচি ঘোষণা করে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব মো. আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ফুয়াদ, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের চারটি জেলা থেকেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।


নির্বাচিত

১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ দলীয় জোট ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ এক অধিবেশনে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ১১ দলীয় জোটের আহ্বায়ক বা শরিকদের নেওয়া যেকোনো ধরনের যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস সম্পূর্ণ বিরত থাকবে; তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো জাতীয় বা ধর্মীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বৈঠক শেষে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর স্বাক্ষর করা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট ছাড়ার এই কারণ ও সিদ্ধান্ত বিস্তারিত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, ১১ দলীয় জোটটি মূলত তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ নির্বাচন কেন্দ্রিক কৌশলগত সমঝোতা হিসেবে। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই সেই ঐক্যের মূল কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিকতা বস্তুত সমাপ্ত হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের পর সৌজন্যতাবশত ১১ দলীয় জোটের বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খেলাফত মজলিস সক্রিয় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নীতিগত আলোচনার পর জোটের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতেও দেশ, জাতি এবং ইসলামের সার্বিক কল্যাণে নতুন কোনো বৃহৎ ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিলে সেই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বড় একটি বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই খেলাফত মজলিস সাময়িকভাবে সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছিল যে, পরবর্তীতে জোটের কোনো সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার বা প্রচারণায় যেন তাদের দল বা দলীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করা না হয়।

রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আজ সকাল ৯টায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। সংগঠনটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং মুফতি আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুল-ত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্ভুল ফেরেশতাদের দল নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষের সংগঠন হিসেবে ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ঢাকা জেলার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।”

বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে বিনয়ের সাথে স্বীকার করেন যে, মানুষ হিসেবে তাঁদেরও ভুল, অন্যায় বা অপরাধ হতে পারে। তিনি দেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তারা আমাদের কোনো অন্যায় বা অপরাধ দেখলে তা আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি—আমরা সংশোধন করব, ইনশাআল্লাহ।” দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবার পরামর্শ ও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা প্রকাশ করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমীর বলেন, “আপনার গায়ে যদি সাদা কাপড় থাকে, তাহলে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। ভেরি কেয়ারফুল! নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই।” তিনি কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জামায়াত সব সময় ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে নৈতিক লঙ্ঘনের মাত্রা যদি গুরুতর হয় এবং সংগঠনের মৌল নীতিকে আঘাত করে, তবে সেক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে জামায়াত দ্বিধাবোধ করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে নেতাকর্মীদের আত্মশুদ্ধি এবং জনকল্যাণে নিবেদিত হওয়ার তাগিদ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব আমীর থেকে শুরু করে তৃণমূলের সকল কর্মীর ওপর বর্তায়। নৈতিক স্খলন বা গুরুতর কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখার বিষয়ে তিনি সকল রুকন ও দায়িত্বশীলদের কড়া সতর্কবার্তা প্রদান করেন।


নির্বাচিত

গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি

সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি। চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও ইসিকে বলা হয়েছে।

চিঠিতে জামায়াত বলেছে, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

চিঠিতে বলা হয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের কী হবে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসি ও স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে অবহিত করতে আজ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

৭৪ বছর বয়সি গাজী নজরুল এবার তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ছিলেন তিনি।

তদন্তে যা পেয়েছে জামায়াত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দেন গাজী নজরুল। কমিটি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

কী ধরনের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পেয়ে তাকে বহিষ্কার করা হলো? এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘‘পর্দা লঙ্ঘন’’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তার আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়ের বাসায় উঠতেন।

সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে পরদিন গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জামায়াত, গাজী নজরুল ও তার পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিয়ের পরের এবং প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে গাজী নজরুল নৈতিক স্খলনের পাশাপাশি একটি চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন বলেও মনে করেন জামায়াতের কোনো কোনো নেতা।


নির্বাচিত

বহিষ্কৃত গাজী নজরু‌লের এম‌পি পদ বা‌তি‌লে স্পিকার-ইসিকে জামায়া‌তের চি‌ঠি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠি পাঠিয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতীতে দল থেকে পদত্যাগ কিংবা ফ্লোর ক্রসিংয়ের কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নজির থাকলেও, দল কর্তৃক বহিষ্কারের ক্ষেত্রে পদ বাতিলের বিষয়টি সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদের ভেতরে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়। তবে দল বহিষ্কার করলে কী হবে, সে বিষয়ে এই অনুচ্ছেদে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের দায়ে যদি আদালত কর্তৃক অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হয়, তবে তিনি পদ হারাবেন। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের দণ্ড বা সাজার ঘটনা ঘটেনি বিধায় এই অনুচ্ছেদটিও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না। সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে ৭০ অনুচ্ছেদও প্রযোজ্য নয়।" তবে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে, "৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।"

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত এই বিধানের কারণে গাজী নজরুল পদ হারাতে পারেন বলে কোনো কোনো আইন বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। এর আগে ২০১২ সালে এইচএম গোলাম রেজা জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তৎকালীন স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে না পাঠানোয় তিনি পদে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ঘটনায় শুনানি শুরু হলেও তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন, ফলে বহিষ্কারের কারণে পদ বাতিলের আইনি প্রশ্নটির চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। সেই শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার জানান, "দল বহিষ্কার করলে এমপি পদ থাকবে না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুই রকম; দলীয় ও স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলে সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি পদ থাকবে না।"

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের ভাগ্য এখন স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার আইনি সুযোগও তাঁর রয়েছে। ফলে তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে আইনি লড়াইয়ের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। সংসদ সদস্য আইন-১৯৮১ অনুযায়ী স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠালে কমিশন এই বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


নির্বাচিত

জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসমূহ গুরুত্বের সাথে নিয়ে একটি সাংগঠনিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে জনৈক তরুণীর সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তাঁর 'দ্বিতীয় স্ত্রী' হিসেবে দাবি করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, 'এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।' তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং তদন্তে নৈতিক বিচ্যুতির প্রমাণ মেলায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।


নির্বাচিত

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত সোমবার রাতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়।

ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ওই পোস্টে নজরুল উল্লেখ করেন, ‘মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম।’

চলতি বছরের ১৭ জুন তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন বলেও উল্লেখ করেন নজরুল। এই এমপি বলেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাছুম বিল্লাহ সঙ্গে তার মামা ওবায়দুল্লাহ পূর্বশক্রতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই তিনি এই ষড়যন্ত্রের শিকার।’

যারা ঘটনাটি নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমানও বলেন, ‘ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে তিনি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলে জেনেছি। পারিবারিকভাবে তাদের আগেই বিয়ে হয়েছে। তবে বয়সের কারণে বিষয়টি গোপন ছিল। বিয়ের পর থেকে পারিবারিকভাবে তারা জীবনযাপন করে।’

আজিজুর রহমান বলেন, ‘তারা যেখানে ছিলেন, সেইখান থেকে সিসিক্যামেরা ফুটেজ কীভাবে বাইরে এলো সে বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

মরিয়মের বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত: মরিয়মের বায়োডাটায় দেখা গেছে, দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

বায়োডাটায় দেখা যায়, গত ২২ জুন তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে ‘জোর সুপারিশ করছি’। অথচ গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে আমার প্রথম স্ত্রীসহ সবার সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মোসাম্মাৎ মরিয়ম আক্তার, তার বাবার নাম মাসুম বিল্লাহ। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন।’

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে জামায়াত:

জামায়াত নেতা ও এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এ ভিডিও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়- গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অতিসম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ জুলাই রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে। একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়।


নির্বাচিত

জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার পর মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খোকা বহিষ্কার

ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এর আগে গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজ বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজনকে চাপাতিসহ আটক করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মাত্র এক মিনিটের পরিকল্পিত হামলায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগে মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন। তারা জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরের একটি বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িটি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকার বড় ভাইয়ের।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল। তাদের দাবি, মোকাররম হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকেই খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম (শাকিল)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৪ এর বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার স্বামীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close