মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২

জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ২১:২৩

জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে দলটি ভারতের সহযোগিতায় স্বাধীনতার সুফল না পাওয়ার শঙ্কা ছিল বলে জানান তিনি। শুক্রবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এমনটি দাবি করেছেন জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল না। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, ভারতের সহযোগিতায় যদি দেশ স্বাধীন হয় তাহলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া যাবে না। এরপরেও এটা সঠিক যে, জামায়াত চেয়েছিল এক পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তাদের নিপীড়ন, নির্যাতন, খুন এবং নানা ধরনের অপকর্মের কারণে সারা জাতি ফুঁসে উঠেছিল, মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘এরপর স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা আমাদের কলিজা দিয়ে ভালোবেসে কবুল করে নিয়েছি।’ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় যায় তখন তাদের নিষিদ্ধের ঘোর পেয়ে বসে। নিষিদ্ধের রাজনীতি আমাদের সমর্থনের বিষয় না। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কি না, সেটি জনগণই ঠিক করবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কার করবে আর কিছু সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। আমরা মনে করি নৈতিক দায়বদ্ধতা আছে বর্তমান সরকারের। তারা তাড়াহুড়া নেই বলে এই বিষয়টি টেনে লম্বা যেন না করে এ কথা আমরা বারবার বলেছি।’


তারেক রহমান: তৃণমূল থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্য, সৌজন্য, সম্পর্কের সম্মান—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভর করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরলেন তারেক রহমান। কাঁধে তুলে নিলেন তারই বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব; মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪০ বছর দলটির হাল ধরে রেখেছিলেন তারই মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তার এই অভিষেক শুধু একটি দলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা নয়—দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন আহ্বানও বটে। রাজনীতিতে তার উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের প্রতি সম্মান, প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীলতা এবং জাতির প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা।
গত ২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি নিচে চাপা দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির নজির সৃষ্টি করেন। রাজনীতির জাদুকর হিসেবে তিনি দেশের সব পথের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া তারেক রহমানের বয়স ৬০ বছর। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। বহু প্রতিকূলতা পারি দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি হয়ে ওঠেছেন একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের আগে তারেক রহমান গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এটা ছিল জনসম্মুখে তার প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য। গণমাধ্যমের কাছে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছিল। এর পরপরই জেনারেল এইচ এম এরশাদের স্বৈরাচারী সরকার তার কণ্ঠ রোধ করতে তাকে ও তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার গৃহবন্দি করে।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সরাসরি দলের হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্রিয় হন। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ওই সময় তরুণ তারেক রহমান ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি বগুড়ায় তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এই সফল উদ্যোগের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচনে উৎসাহিত করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি স্থানীয় সমস্যা ও সুশাসন নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি কার্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে তিনি বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন। তার এই উদ্যোগের ফলেই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। চেয়ারপারসনের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও এবং তৃণমূল থেকে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ করেননি; বরং দলের তৃণমূল শক্তিশালী করার কাজেই মনোযোগ দেন। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।
২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব সম্মেলনে তিনি কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, বয়স্কদের জন্য ভাতা, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ব্যাগবিরোধী উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন। এসব উদ্যোগ স্কুলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে নিবন্ধন করা অন্তত ১৮ হাজার মানুষের চিঠির জবাব দেন।
২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সামরিক শাসন জারি হলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সময় দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করা হয়। একই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন যেতে হয়।
পরবর্তীতে তারেক রহমানে দেশে ফিরে আসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা করা হয়। একাধিক মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৯ সালে। তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও অনলাইনে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং দল পুনর্গঠনের কাজে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালে তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে গত এক দশক ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দলটির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন পুরোটাই জিয়াউর রহমানের মতো।’
২০০১ সালের পর তিনি তৃণমূলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার ভিত্তিতেই তিনি রাজনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকেন্দ্রিক করার চিন্তা করেন। দেশের প্রতিটি খাত নিয়ে তিনি ওয়াকিবহাল, আরও জানার আগ্রহও তার আছে। ফলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপি সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছে।


নওগাঁয় ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়রা ও স্থানীয় বর্তমান-সাবেক খেলোয়াড়রা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়ার এনামুল হক, আজিম উদ্দিন, রনি, স্থানীয় সাবেক ফুটবল খেলোড়ার সাজ্জু, সাবেক ক্রিকেটার রুহুল কুদ্দুস পলাশ ও অপুসহ অন্যান্যরা।

এ সময় তারা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খেলাধুলোকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলোকে বাধ্যতামূলক করা, ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, গ্রামঅঞ্চলে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা, দেশীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধা বঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিতকরণসহ বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়ার এনামুল হক বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিএনপি যে ভাবনা তা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খেলাধুলো শুধু শখ নয় নতুন প্রজন্মের প্রেরণা ও মর্যাদার পেশা হবে। ক্রীড়াঙ্গনে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ছেলে ও মেয়েদের সমান সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার। সে জন্য ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানে যে পরিকল্পনা সেটি সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে।’


৩০ আসনে লড়বে এনসিপি, জানালেন মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

আপডেটেড ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সারা দেশের ৩০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। আসিফ মাহমুদ জানান, এনসিপি মূলত ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর নির্বাচনি সমঝোতা জোটের অংশ হিসেবে এই আসনগুলোতে লড়াই করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই তাঁদের দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি এই জোটটিকে মূলত ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংস্কারের জোট’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে এই জোটই ইনশাআল্লাহ আগামীতে সরকার গঠন করবে।

নির্বাচনি কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা জানান যে, জোট গঠনের স্বার্থে এনসিপি অনেক ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছে এবং বড় ধরণের ছাড় দিয়েছে। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও একই ধরণের মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই জোটটি মূলত একটি কৌশলগত বা ‘স্ট্র্যাটেজিক’ জোট, এটি কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক জোট নয়। যেসব আসনে এনসিপির নিজস্ব কোনো প্রার্থী থাকছে না, সেই ২৭০টি আসনেও দলটি নিষ্ক্রিয় থাকবে না। বরং সেই আসনগুলোতে দলীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। তৃণমূল পর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা মূলত গণভোটের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় থেকে ভোটারদের সচেতন করার কাজ চালিয়ে যাবেন।

দলের ভেতরে সাম্প্রতিক কিছু পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে আসিফ মাহমুদ তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, যারা ব্যক্তিগত বা অভিমান থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের দলের অমূল্য সম্পদ বা ‘অ্যাসেট’। এখন পর্যন্ত তাঁদের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মূলত জাতীয় সংস্কার এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এনসিপি এই ভারসাম্যপূর্ণ নির্বাচনি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ৩০ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই: জামায়াত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. মিজানুর রহমানের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর ও কাশিনাথপুর এলাকায় একটি মাদরাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত ইসলামী মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় যে, যারা নির্বাচনি লড়াইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লার’ পক্ষে থাকবে না, তাঁদের পবিত্র কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের অনুরোধ করেন যেন তাঁরা কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষে জামায়াতের নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বক্তব্যটি মাস দুয়েক আগে দেওয়া হয়েছিল এবং ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যটি আংশিক বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি ভিডিওতে যেভাবে দেখানো হয়েছে ঠিক সেভাবে কথাগুলো বলেননি, বরং তিনি সবাইকে কোরআনের পথে আসার জন্য সাধারণ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রার্থীর এমন সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা ও ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পবিত্র ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, যেহেতু দলটির নামের সাথে ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাই তাঁরা সুযোগ পেলেই ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, যা প্রকৃত আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষ পছন্দ করে না। বিএনপি নেতার মতে, জামায়াত মূলত তাঁদের সুনির্দিষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ধর্মীয় মাহফিলগুলোকে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। নির্বাচনি আমেজের মধ্যে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


একসঙ্গে এনসিপির ১২ নেতার পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফের বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এবার দলটির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ মোট ১২ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা এই গণপদত্যাগের বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্যরা রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দল ছাড়ার পেছনে সংগঠনের বর্তমান গতিধারা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের অসামঞ্জস্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইন তাঁর লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত কারণ তুলে ধরে জানান যে, তিনি ২০২৫ সালের ৩ জুন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা এবং সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্ম ও পথচলা শুরু হয়েছিল, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির মধ্যে সেই আদর্শের প্রতিফলন আর দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, ‘নতুন বন্দোবস্তের’ যে স্বপ্নের ভিত্তিতে তাঁরা এই সংগঠনে যুক্ত হয়েছিলেন, বর্তমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে তার চরম ব্যত্যয় ঘটেছে। আলী হুসাইন স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর ব্যক্তিগত দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে দলটির সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আলী হুসাইনের সাথে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া অন্য সদস্যরা হলেন—যুগ্ম সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমান এবং সদস্য আশিকুর রহমান সুমন, শেখ রাসেল, শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসান শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ নাবিল হোসেন, মো. জনি, মুনিয়া আক্তার জেনি ও মো. রাতুল আহসান। পদত্যাগকারী এই নেতাদের অভিযোগ, যে আদর্শকে পাথেয় করে তাঁরা জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় কাজ করতে চেয়েছিলেন, এনসিপি এখন সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে উপজেলা পর্যায়ের একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ নেতার এমন বিদায়ে বাগেরহাট অঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরণের ধাক্কা খেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদত্যাগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।


সুষ্ঠু ভোট হলে জাতীয় পার্টি ৪০-৭০টি আসন পাবে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দলের প্রার্থীদের আপিল শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, যদি দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় এবং প্রকৃত অর্থে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ থাকে, তবে জাতীয় পার্টি অনায়াসেই ৪০ থেকে ৭০টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হবে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের মাঠ বর্তমানে অত্যন্ত অনিশ্চিত বা ফ্লুইড অবস্থায় রয়েছে, তাই ভোটারদের আস্থা অর্জনে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই। শামীম হায়দার অভিযোগ করেন যে, প্রাথমিক বাছাইয়ে তুচ্ছ ও কারিগরি ভুলকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি করেছে।

জাতীয় পার্টির এই নেতা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বর্তমানে দেশে এক ধরণের ‘মবতন্ত্র’ বিরাজ করছে যা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে অনেক ছোটখাটো ভুল সংশোধনের সুযোগ দিতে পারতেন, কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি মূলত ‘ট্যাগিং’ হওয়ার ভয়ে। কোনো প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করলেই তাঁকে ‘দোসর’ বা বিশেষ মহলের সহযোগী আখ্যা দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাতে প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েছে। শামীম হায়দার পাটোয়ারী মনে করেন, এমন একটি আতঙ্কিত ও ভারাক্রান্ত প্রশাসনের অধীনে উৎসবমুখর এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি প্রশাসন কঠোর ও সাহসী না হয়, তবে জাতি একটি ‘মানহীন’ নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারে, যা পরবর্তী সরকারের ম্যান্ডেটকে দুর্বল করে দেবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি সরকারের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে ব্যাপক হারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যাঁদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরকে অবিলম্বে রদবদল বা বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাপা মহাসচিবের মতে, বর্তমান প্রশাসন অনেকটা বিএনপি-জামায়াতের দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে বলে জনমনে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে কমিশনকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। একই সাথে তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি বৃহত্তর সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন যে, পারস্পরিক স্পেস এবং সম্মান বজায় রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা জরুরি।

দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা এবং প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে শামীম হায়দার পাটোয়ারী অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন যে, জাতীয় পার্টির মূল ও শক্তিশালী অংশটি বর্তমানে জিএম কাদেরের নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ এবং দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘লাঙ্গল’ তাঁদের অধিকারেই রয়েছে। প্রতিকূল ও ভীতিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর দল সারা দেশের ২৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে তাঁদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যদি গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যায়, তবে জাতীয় পার্টি জাতীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে। পরিশেষে তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানসম্মত নির্বাচন না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের ওপর পড়বে।


ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রের লড়াই থামানো যায় না: মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রের দীর্ঘ লড়াইকে কখনোই স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। আজ রবিবার নির্বাচন ভবনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার রায়কে তিনি ‘সত্যের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। মান্না উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়েছে, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করা কিংবা ক্ষমতার লোভে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত অশুভ এবং এটি কখনোই কাম্য নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো দল বা ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, জনগণের সামগ্রিক ইচ্ছার কাছে সবাই নতি স্বীকার করতে বাধ্য।

মনোনয়নপত্র বাতিলের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল বলে অভিযোগ তুলে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছোটখাটো ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া, কাউকে অযোগ্য হিসেবে নির্বাচন থেকে ছিটকে ফেলা নয়। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী হলফনামা বা নথিপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সম্পূরক তথ্যের মাধ্যমে ঠিক করার বিধান থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি অতীতেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন উল্লেখ করে জানান যে, এবারের বাধাটি ছিল মূলত অশুভ রাজনৈতিক কূটকৌশলের অংশ, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কমিশনের স্বচ্ছ সিদ্ধান্তে সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পথে বড় বাধা হিসেবে আসা ব্যাংক ঋণের অভিযোগ নিয়ে মান্না চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করে তাঁকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন এবং তদন্তের পর ওই কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও বদলি করা হয়। মান্না আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের খবর ফলাও করে প্রচার হলেও ষড়যন্ত্রকারীর শাস্তির বিষয়টি গণমাধ্যমে আসেনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ষড়যন্ত্র করে সাময়িকভাবে কাউকে থামানো গেলেও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক লড়াইয়ে সততাই টিকে থাকে।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভূমিকার প্রশংসা করে মান্না জানান, কমিশন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে যা প্রশংসার দাবিদার। তবে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি এখনও যথেষ্ট শঙ্কিত। মান্নার মতে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সক্রিয় বা ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ভূমিকা পালন করছে না এবং অনেক জায়গায় তাদের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপি জোটের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যেহেতু তাঁকে জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তাই বগুড়া-২ আসনে বিএনপির মনোনীত বিকল্প প্রার্থী খুব শীঘ্রই তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি এখন পূর্ণোদ্যমে প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


‘প্রশাসন কঠোর না হলে মানহীন নির্বাচনের আশঙ্কা’, সতর্ক করলেন জাপা মহাসচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন যদি কঠোর ভূমিকা পালন না করে, তবে একটি ‘মানহীন’ নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। রবিবার নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। শামীম পাটোয়ারী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁদের স্বাধীন বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছেন না। বিশেষ করে ‘মব’ বা উন্মত্ত জনতার চাপ এবং ‘ট্যাগিং’ অর্থাৎ কাউকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক তকমা দিয়ে দেওয়ার ভয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ইতস্ততবোধ করছেন। কেউ আইন অনুযায়ী কাজ করতে চাইলে তাঁকে ‘দোসর’ আখ্যা দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাতে প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ভেঙে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে জাপা মহাসচিব বলেন যে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় দেশে এক ধরণের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল, যার ফলে অনেক প্রার্থীর পক্ষে যথাযথভাবে কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। আগে যেসব ছোটখাটো ভুল বা কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতো, এবার তা না করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা গণহারে মনোনয়ন বাতিল করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে জানান যে, জাতীয় পার্টির ১৩ জন প্রার্থীর আপিলের মধ্যে ১১ জনই ইতিমধ্যে তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান এবং বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিল কমিশন মঞ্জুর করেছে।

বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখল করার ঘটনাকে নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনক হিসেবে অভিহিত করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, নির্বাচনি তফশিল চলাকালীন এমন ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন তা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন যে, বাহিনীর মধ্যে এক ধরণের দ্বিধা ও কাজের ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করতে হবে এবং প্রশাসনকে আরও বেশি দৃঢ় ও স্বাধীন হতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বড় ধরণের সংকটে পড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দলের সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে শামীম পাটোয়ারী জানান যে, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে কিছুটা বিভক্তি থাকলেও দলটির মূল অংশ জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা প্রায় ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি একটি সত্যিকারের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়, তবে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে চমকপ্রদ ফল করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে, তিনি নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করার আহ্বান জানান, যাতে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করা যায়। মূলত ইনসাফ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


বিএনপির নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাচ মাই পলিসি’র যাত্রা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তারুণ্যের শক্তি ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও পলিসিভিত্তিক আলোচনাকে উৎসাহিত করতে চালু হয়েছে নতুন ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাচ মাই পলিসি’। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই বিশেষ ওয়েব অ্যাপটি (www.matchmypolicy.net) জনসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক দল জনমত যাচাই ও পলিসি নির্ধারণে এমন একটি আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করতে যাচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনাকে সরাসরি গুরুত্ব প্রদান করবে।

এই ওয়েব অ্যাপটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর অত্যন্ত সহজ ও পরিচিত সোয়াইপভিত্তিক ইন্টারফেস। এর মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রতিটি স্ক্রিনে বিএনপির প্রস্তাবিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নীতি, সংস্কার পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখতে পাবেন। ব্যবহারকারীরা কেবল সোয়াইপ করার মাধ্যমেই সেই সকল পলিসির প্রতি নিজেদের অবস্থান বা সম্মতি জানাতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো নীতি বা পরিকল্পনা নিয়ে যদি কারো ভিন্ন কোনো সুচিন্তিত পরামর্শ থাকে, তবে সেটির জন্য অ্যাপটিতে ‘ওপিনিয়ন’ (Opinion) নামে একটি বিশেষ সেকশন রাখা হয়েছে। এর ফলে নাগরিকরা সরাসরি লিখে তাঁদের মতামত দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারবেন, যা আগামীর পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

‘ম্যাচ মাই পলিসি’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ ও শিক্ষিত তরুণ সমাজকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। বিএনপি মনে করে, জনগণের প্রত্যক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত মতামতের ভিত্তিতে তৈরি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো অনেক বেশি গণমুখী, কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত হবে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং এটি বাংলাদেশে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে যেখানে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে। অ্যাপটির শেষ অংশে ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যবহুল কনটেন্ট রাখা হয়েছে, যা বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জনগণকে আরও স্বচ্ছ ধারণা পেতে সাহায্য করবে। দলটির মতে, জনগণের প্রতিটি মতামতই হবে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি।


তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ‘কঠিন সময়ে’ জনগণ বুক ভরা প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ‘তাকিয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে একটা বেশ কঠিন সময়ে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। সমগ্র দেশের মানুষ বুক ভরা প্রত্যাশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি ইতোমধ্যেই দূর থেকে ডিজিটালি যে কথা আমাদের সামনে বলেছেন জাতির সামনে বলেছেন গোটা জাতি আজকে অনেক বেশি আশান্বিত হয়েছে এ জন্যই যে, এবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে সত্যিকার অর্থেই একটা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা এখানে সৃষ্টি করতে পারব।’

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং চব্বিশের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সেইসব ছেলে-মেয়ে-শিশুদের মধ্যে যারা ২০২৪ সালে আমাদের একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবার একটা অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছেন। তাদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই।’

যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।

এর ১০ দিনের মাথায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তারেক রহমান।

এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী, বার্তা সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানস্থলে এসে বিএনপি নেতা তারেক রহমান সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার সঙ্গে ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অনেকগুলো বছর সংগতকারণেই দলের প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় হয়নি। এ কারণে দলের তরফে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।’


মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের কারণ না হয়: তারেক রহমান

* ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না * ১৬ বছরে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের কথা জানি * বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘হিংসা বা প্রতিহিংসা কখনো ভালো কিছু বয়ে আনে না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু মতবিভেদ যেন না হয়। দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে সমস্যা সমাধান সম্ভব।’

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু মতবিভেদ নয়– ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ভবিষ্যত সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণই নেই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি দেশে না থাকতে পারলেও সারাক্ষণ যোগাযোগ রেখেছি। সবার তথ্য রাখার চেষ্টা করেছি। গত ১৬ বছরে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের কথা আমি জানি। পাশাপাশি আমার নেতা-কর্মী এবং আমার মা নির্যাতনের শিকারের বড় উদাহরণ।’

এ সময় তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশ গঠনের পরিকল্পনার কিছু দিক নিয়ে কথা বলেন। তার আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের নদীতে পানি দূষণের কথাও।

তিনি বলেন, ‘একের পর এক নদী দূষণ হচ্ছে। এর সমাধান নিয়ে সংসদে এবং সেমিনারে আলোচনা হওয়া উচিত।’

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম আশাবাদী হয়ে আছে। তাদের সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়। সবাই এক হয়ে কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।’

দেশে দেড় কোটির মতো কৃষক আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এত বিশালসংখ্যক মানুষ- যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করছে, খাওয়ার-অন্নের সংস্থান করছে সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়। তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনারা আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শোনতে জানতে সহজ হয় বিকজ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই যারা এ রকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো। কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।’

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা তুলে ধরে তার বড় ছেলে তারেক বলেন, ‘মরুহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। পরবর্তীতে আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে; এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে, এদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটু আগে আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম, সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি, এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।’

কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড চালুর ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলথ ইস্যু। বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ। আমরা স্লোগান দিয়ে হয়তো বলতে পারি যে, সকলের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করব, আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেব।’

বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলটির নতুন চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে; অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা; একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতা-কর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ সবচাইতে বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে- আসলে ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।’

সাংবাদিকদের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ইনশাআল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই, যেটা আমাদের সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা- সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই, যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে- সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই।’

বেলা ১১টা ২০ মিনিটে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত সাংবাদিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের আলোচনায় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের গণমাধ্যমে স্বাধীনতা না থাকা এবং সংবাদকে কীভাবে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাংবাদিকদের উপর দমন-নীপিড়নের বিষয়ও সেসব আলোচনায় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরসহ অন্যান্য সম্পাদকরা বক্তব্য দিয়েছেন।


সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং বিএনপির নেতারা উপস্থিত আছেন।

অনুষ্ঠানস্থলে এসেই তারেক রহমান সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনেকগুলো বছর সংগত কারণেই দলের প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় হয়নি। এ কারণে দলের পক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।


বেগম খালেদা জিয়া ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী: আক্তারুজ্জামান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আমৃত্যু দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছেন এবং যেকোনো দুর্যোগ, জাতীয় সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে গফরগাঁও পৌর এলাকার ইমামবাড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শরিক হন।

আক্তারুজ্জামান বাচ্চু তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণার নাম। তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার দেশপ্রেম এবং আপসহীন নেতৃত্বই আজ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংগঠিত রেখেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশে পুনরায় ইনসাফ ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই তাঁর দলের প্রতিটি কর্মী গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এবং মাঠ-ঘাটে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশনেত্রীর রেখে যাওয়া সেই বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে শোকাতুর পরিবেশে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ শেখসহ স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আজহারুল হক এবং ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আ. আজিজ সাদেক। মাগরিবের নামাজের পর মুফতি আসাদুল্লাহর পরিচালনায় এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, প্রিয় নেত্রীর প্রয়াণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাঁর আদর্শই তাঁদের আগামীর পথচলার মূল হাতিয়ার।


banner close