বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আপনাদের (জনগণকে) ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত মহান বিজয়কে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ এবং অর্থবহ করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকে সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি কী বার্তা নিয়ে এসেছেন-সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
১২ দিনের সফর শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন ফখরুল। স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে দুপুর পৌনে ১২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
ফখরুল বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে।
ফখরুল বলেন, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তাদের আয়োজিত মিটিংয়ে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'ওখানে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমার লন্ডন সফর ফলপ্রসূ হয়েছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যারা ভারতের পক্ষের শক্তি ছিল তারা ভারতে পালিয়েছে। আরেকটি শক্তি বিদেশি শক্তির গোলামি করে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি করে রাজনীতি করছে। আমরা বাংলাদেশের শক্তি, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুমার নামাজের আগে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের মালিকানা ফেরত পেয়েছি, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্ত করতে পেরেছি, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, প্রগতির সবকিছুর জন্য বিএনপি আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দেবেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি প্রগতির বিকল্প নাম বিএনপি। গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। সকল কিছুর ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে তুলে ধরব। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভবিষ্যতে আমরা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করব।’
পথসভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। তাকে ঘিরে ছোট ছোট শিশু কিশোররাও আনন্দে মেতে উঠেন।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে প্রচারণার শুরুতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় লবণশ্রমিকদের কাছে যান তিনি।
লবণমাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছিলাম। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এখন অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের বলে আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করেছি।’
নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’
বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।
১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকার সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। ভোট দিয়ে তার নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।’ এ সময় জনসভা মঞ্চে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাষানটেকের মৌলিক সমস্যার কথাও শোনেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শোনে সমাধান করবেন।’
এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এ ছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে।’ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।’
বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি। নির্বাচিত হলে তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত হন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক উপস্থিত হন। বাদ মাগরিব কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এদিকে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতা-কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেতা-কর্মী মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, এটা ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত। আমি মনে করি যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। কেউ সরাসরি, কেউ ইনডাইরেক্টলি (পরোক্ষভাবে)। আমি প্রথমত মনে করি, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবটাকে আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয়, এটা রেজিম চেঞ্জ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। জামায়াত যদি বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন চালু করতে চায়, তাহলে সেটা করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ফরহাদ মজহারের মন্তব্য জানতে চান তিনি।
এ কথা তিনি শুরু থেকে বললেও সাংবাদিকেরা গুরুত্ব দেননি বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি গণ অধিকার পরিষদ ও গণঅভ্যুত্থানের আগেও আমি বলেছি যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে সরানো এটা কোনো ইস্যু নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রই সরিয়ে দেবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র কী করে আমরা গঠন করব। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র একটা ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক আইন বলে কিছু নাই। দেখেছেন ট্রাম্পের যে আচরণ। এই রূঢ় বাস্তবতা, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে আমার চিন্তা, আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে বেঁচে থাকব কী করে? আমার প্রশ্ন খুব সহজ। আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে ডাল-ভাত দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’
প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘আপনারা অনেকে ভারতবিরোধিতার কথা বলেন, ভারতের আধিপত্য আমি স্বীকার করি। কিন্তু আপনারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা বলেন না কেন? কী জন্য বলেন না? জামায়াত তো বলে নাই, গাজাতে (ফিলিস্তিনের) এই যে স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) যাচ্ছে, আমার সেখানে আপত্তি আছে। তবে বোঝা গেল জামায়াতের সঙ্গে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের একটা নীতি, একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্যটা দিচ্ছে। এটা আমি ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত হিসেবে দেখি।’
সভায় বক্তব্যে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের মৈত্রীর ভিত্তিতে। সৈনিকেরা কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান। তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বিপজ্জনক।’
গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের জীবনধারণ নিশ্চিত করার মতো একটি রাষ্ট্র গঠন কিন্তু সেই লক্ষ্য উপেক্ষিত হয়েছে। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘লুটপাটতন্ত্র উৎখাত না করে নির্বাচন করলে সেই সরকার জনগণের হবে না।’ সে কারণে নির্বাচন নয়, আগে রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এসব সংকট প্রাকৃতিক নয়, বরং কাঠামোগত ও রাজনৈতিক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, এটি লুটপাটমূলক ব্যবস্থার প্রমাণ। তিনি বলেন, উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকেরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিচ্ছে। আইন পরিবর্তন না করে এই সংকট দূর হবে না।
বিশুদ্ধ পানির সংকট রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, নদী দখল ও বাণিজ্যিক লুণ্ঠনের ফল বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবনধারণের মৌলিক শর্ত- খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জমির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই প্রকৃত রাজনীতি। নির্বাচন এখন লুটপাটের ভাগ–বাঁটোয়ারার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। জনগণের রাজনীতি মানে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা।’
গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন এই সভা আয়োজন করে। সভায় আলোচনকদের মধ্যে আহমেদ ফেরদৌস, ভাববৈঠকীর সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘নেতৃত্ব মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো নয়, মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের মাঝে মিশে যেতে চাই।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারও জনতা, নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এ সময় স্লোগান ও পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। সভায় উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করা হয়েছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উন্নয়ন হয়েছে। বাড়ি-গাড়ি- সবই হয়েছে।’ ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট না চেয়েও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছিল। তারপরেও আমি জয়ী হয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসার ভোটে। ওই সময় আমি বামনা-পাথরঘাটায় যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা স্বাধীনতার পরে কেউ করতে পারেনি। তবে শুনেছিলাম হাসিনার আমলে এখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু যা দেখলাম তাতে হাসিনার জন্যও দুঃখ হয়েছে, আপনাদের জন্য আরও বেশি দুঃখ হয়েছে। কারণ, এখানের রাস্তাঘাট ভাঙা। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন হয়েছে। মানুষ দুঃখ-কষ্টে আছে। এত উন্নয়ের কথা বলে, ফাঁকি দিয়েছে। কিন্তু তারা নিজের পেট ভরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে জনগণ ও প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’