বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঘোষণায় ছাত্র ও সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ক্যাম্পাস জীবনে গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর ইউএনবির।
ডাকসু নির্বাচনের পদক্ষেপ ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশাও জাগিয়েছে।
এর তাৎপর্য তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলে গোটা বাংলাদেশে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জুলাই-আগস্টের গণজাগরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে এবং আমরা গতানুগতিক রাজনৈতিক চর্চার বাইরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে চাই।’ কায়েম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বকর মজুমদার একই সুরে বলেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। যেহেতু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাই নির্বাচন হলে আমরা তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’
সভাপতি হিসেবে উপাচার্যের ভূমিকা ও বাজেট বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনাসহ ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, ডাকসুর কার্যক্রম কার্যকর করতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করবে।’ নির্বাচনী সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি আবাসিক হলগুলোতে অনিয়ম রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোটের সময় নিয়ে সতর্ক হওয়ার বিষয়ে বলেছেন ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ট্রমা থেকে ক্যাম্পাস ও জাতি এখনো সেরে উঠছে। খুব তাড়াতাড়ি বা খুব দেরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাহত হতে পারে। ইতিবাচক ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অপরিহার্য।’
সংস্কারের আহ্বান
বাম ছাত্র সংগঠনের জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিক অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ‘আমরা চাই ডাকসু নির্বাচন দ্রুত হোক, তবে তা যেন ২০১৯ সালের একতরফা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি না হয়।’ সব ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থীদের জন্য সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারে কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার জোট সমমনা প্রার্থী দেবে।
একই দাবি জানান বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্যের অযাচিত ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত নয়, তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাকে বাধ্য থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোও অনুষদে স্থানান্তর করে অধিকতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
জমজমাট ক্যাম্পাস
এই ঘোষণাটি ক্যাম্পাসকে নির্বাচনী হাওয়ায় ভাসিয়েছে, শিক্ষার্থী এবং সংগঠনগুলো একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনমূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচন একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
নির্বাচনকে ঘিরে আগামীর পথচলা চ্যালেঞ্জিং। শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নির্বাচনে কারচুপি প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন প্রত্যাশা স্পষ্ট। শিক্ষার্থীরা আশা করে, দীর্ঘদিনের এই নির্বাচন শুধু তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারই পূরণ করবে না, সারা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের নজির স্থাপন করবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যাদের জনগণের মধ্যে কোনো অবস্থান নেই, অতীতেও যারা ভোট পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না, তারাই নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল বক্তব্য দিচ্ছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, ‘যখন নির্বাচন সামনে আসে এবং কেউ বুঝতে পারে যে ভরাডুবি নিশ্চিত, তখনই তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায় এবং তারা বিএনপিকে ও দলের নেতা তারেক রহমানকে ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। কেউ কেউ দাবি করছে ঢাকা শহরের সব আসন তারা দখল করে নিয়েছে এবং বিএনপি একটি আসনও পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অতীত ইতিহাসই বলে দেয় জনগণ কাকে ভোট দিয়েছে। যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল তারা জামানত রক্ষা করেছে, আর যারা বিএনপির বাইরে ছিল তারা জামানত হারিয়েছে।’
ঢাকা শহরে অতীতেও বিএনপি সব আসনে বিজয়ী হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ‘নির্বাচনে দাঁড়িয়ে এমন প্রার্থীও দেখা যায় যারা শত ভোটও পায় না, অথচ তারা বিপুল ভোটে জয়ের দাবি করে। কিন্তু জনগণ জানে কে নির্বাচিত হবে?’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সংকটকালে সব সময় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে। দেশের ক্রাইসিসের সময় জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নেতা বানিয়েছিল। তিনি কোনোভাবেই জোর করে ক্ষমতায় আসেননি, বরং জনগণের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে যখন দেশে গণতন্ত্র ছিল না, তখন জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে এবং তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে নেই। এই অবস্থায় দেশের মানুষ মনে করছে আবারও একজন নেতা দরকার, আর সেই নেতা হিসেবে তারা তারেক রহমানকে ইতিমধ্যেই বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে জনগণের ভিড় দেখা যাচ্ছে।’
ঢাকা–১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকার চিত্র তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘ভাষানটেক এলাকা ও কড়াইল এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে যে কেউ অবাক হবে। রাজধানী শহরে এমন অবস্থাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।’
তিনি বলেন, ‘এসব এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়— গ্যাস, রাস্তা, পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা চায়। তারা বিশ্বাস করে, একটি নির্বাচিত সরকার ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। সে কারণেই আগামী নির্বাচনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে চায়।’
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেন, আমেরিকা আক্রমণ করলে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। আমেরিকানদের জানা উচিত যে তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে।
এর আগে ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই তথ্য জানান।
আলী লারিজানি এক পোস্টে লিখেছেন, গণমাধ্যমের সৃষ্ট ‘মিথ্যা যুদ্ধাবস্থার’ বিপরীতে আলোচনার কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আলোচনার এই সম্ভাব্য ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সামরিক পদক্ষেপের মুখে না পড়ে চুক্তি করতে চায় বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, দেখি আমরা কিছু করতে পারি কি না; না পারলে যা হওয়ার হবে। আমাদের বিশাল নৌবহর সেখানে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, তারা (ইরান) আলোচনায় বসছে।
এদিকে শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌমহড়া পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি কোনো অনিরাপদ বা অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের উপকূলে কার্যরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের ভূখণ্ডে মহড়া চালাবে, সেই নির্দেশ দিতে চাইছে।
আরাগচি আরও লেখেন, একই মার্কিন সরকার আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেই সরকারই আবার সেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সামরিক মহড়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘পেশাদারিত্ব’ দাবি করছে!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম- ইসলামের পক্ষে একটাই বাক্স থাকবে, আর সেই বাক্স হলো হাতপাখা মার্কা। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় একমাত্র প্রতীক হাতপাখা। হাতপাখা ক্ষমতায় যেতে পারলে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য ইসলামের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, সৎ ও আদর্শের পক্ষে এবং মানবতার কল্যাণে ভোট দেওয়াই হবে প্রকৃত বিজয়। এ লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা সৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে হাতপাখার সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, যারা ইসলাম ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, তারা ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদেরকে ভোট দেওয়া ঠিক হবেনা। সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে পথ চলছিলাম এবং সমঝোতায় ছিলাম, একমাত্র ইসলামের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে। কিন্তু ইসলাম ও দেশের স্বার্থ যখন বিলীন হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের একা চলতে হচ্ছে। যারা মুখে এক কথা বলে, অন্তরে অন্যটা। দ্বিচারিতা আচরণ কোন ইসলামী দলের হতে পারে না। একটা দল ইসলামকে ব্যবহার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছে, মুখে ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে জামায়াত শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে চায় না।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বিজয় হলে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন রোদে ৩ হাজার ১ শ কোটি টাকার বরাদ্দ শতভাগ বাস্তবায়ন ও টেকসই বেঁড়ীবাঁধ নির্মাণ, সরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে ভূলুয়া নদী খনন করা হবে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলটির মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ পীর সাহেব কমলনগরের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মুফতী হাবিবুর রহমান মিসবাহ কুয়াকাটা, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি অনারারি ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহির উদ্দীন, জামিয়া মার্কাযুল উলুম মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা নোমান সিরাজী, একেএম আব্দুজ জাহের আরিফী, মুফতী হারুন অর রশিদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন তাহেরী ও মুফতী শরীফুল ইসলাম সহ দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও কুঁড়ের পাড় ঈদগাহ মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি এ জনসভায় কাপাসিয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে মা-বোনদের নির্যাতনকারীদের কোনো স্থান নেই বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা আজ নবরূপে ফিরে এসেছে, তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সেইসাথে তিনি ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৌহিদুজ্জামান তপন মেম্বার এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক প্রধানের পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন ভিপি ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাশেম। এসময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান মোল্লা, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা ইয়াসির আক্রাম পলাশ, বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মোক্তার প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রশীদ নয়ন, কড়িহাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ লুতফর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মতি, মহসীন আলম রিটন, সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন বিএসসি, মঈনুল হক সারোয়ার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির প্রমুখ।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। উপস্থিত মা-বোনের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন।
পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।
মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্'র প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারে পৃথক দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখেবেন। এই উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জনসভা কে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সকালে ৯ টায় দ্বীপ উপজেলা বড় মহেশখালী নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মাঠে এবং সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখার কথা রাখবেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই উপলক্ষে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে এক প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
এতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অবিচারের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইসলাম ও দেশপ্রেমিক শক্তি ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এর সফরে ৫ টি জনসভায় ভাষণ প্রদান করবেন। এরমধ্যে সকাল ৯ টায় মহেশখালীতে, কক্সবাজার শহরের গোল চত্ত্বর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে সকাল ১০ টায়, লোহাগাড়া পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সকাল ১১ টায়, চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ দুপুর ২ টায়, চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিকাল ৪:৪৫ টায় বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর, আল আমিন সিরাজুল ইসলাম, রিয়াজ মোহাম্মদ সাকিল।
পরে তিনি ফিতা কেটে কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরের নির্বাচনী প্রচারণার ক্যারাভ্যান উদ্বোধন করেন।
নেত্রকোনা ২ আসনে ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের নির্বাচনী পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বারহাট্টা উপজেলার ফকিরের বাজারের পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এই পথসভা করা হয়।
ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা মো: নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় পথ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা ২ আসনে এনসিপি ও এগারো দলের মনোনীত প্রার্থী ফাহিম আহমদ খান পাঠান,নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মূখ্য সমন্বয়ক ও জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক ডেভিড ভীমপাল্লী রাজু, যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আবু সাইদ লিয়ন,নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মো: রাসেল মোল্লা, জাতীয় নাগরিক পার্টি সদস্য দিদার শাহ সদস্য,জাতীয় যুব শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক,মো:নেসার উদ্দীন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মো: আব্দুল বাচির খান,সহকারি সেক্রেটারি মো: আতিকুর রহমান প্রমুখ। পরে সন্ধ্যায় উপজেলার অতিথপুর বাজারে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন নেতাকর্মীরা।
সভায় এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান বলেন, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিস্টদের প্রতিহত করতে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিতে হবে। আগামী পনেরোদিন ভোটাররা সতর্ক থাকুন কষ্ট করুন পরের পাঁচ বছর আপনাদের পাহারা দেব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, জামায়াত আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে এ দেশে তথাকথিত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে। আজ রোববার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পীর সাহেব দাবি করেন, জামায়াতের এই দ্বিমুখী আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে।
জনসভায় চরমোনাই পীর দেশের প্রচলিত শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যে নিয়মে দেশ চালিত হওয়ার পরও জনজীবনে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই একই পথে হেঁটে জামায়াত কীভাবে নতুন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে? তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত গোপনে বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে বসে যে রাজনৈতিক কৌশল নিচ্ছে, তা আসলে জনগণের সাথে এক ধরণের ধোঁকা। তাঁর মতে, এ দেশের মানুষ আমেরিকা কিংবা ভারতের চাপিয়ে দেওয়া ‘ইনসাফ’ আর দেখতে চায় না।
জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে রেজাউল করিম বলেন, জামায়াত এখন স্পষ্টভাবে বলছে যে তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। দলটির অভ্যন্তরীণ আদর্শের বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, খোদ জামায়াতের প্রার্থীরাও এখন জনসমক্ষে নিজেদের অ-ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেখতে ‘ফেরেশতার মতো’ মনে হলেও দলটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ভেতরে ভিন্ন কোনো এজেন্ডা লুকিয়ে আছে যা দেশের জন্য শুভকর নয়।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে চরমোনাই পীর বিগত সময়ের দুঃশাসন ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, জামায়াত মূলত সেই পুরোনো নীতিতেই দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছে, যে নীতির কারণে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে, গুম-খুনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগম পাড়া’ তৈরি হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইনসাফের মুখোশ পরে যারা দুর্নীতির সেই পুরোনো ধারা বজায় রাখতে চায়, জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশ ও ইসলামকে ভালোবাসেন, তাদের উচিত সব ধরণের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়া। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ ইব্রাহিম এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেই পীর সাহেব তাঁর বক্তব্যের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি এবং যারা দেশের অস্তিত্বকে মেনে নিতে পারেনি, তারাই আজ ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভেদ চায় না, বরং সবাই মিলেমিশে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে চায়। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা মানিক পাড়া এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিএনপির আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই বিলুপ্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে বর্তমানে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত রাখতে জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজপথে ঢেলে দেওয়া শত-সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দ্বিতীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি মনে করেন, শহীদের সেই মহান আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন দেশে জনগণের প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করার দাবি জানান।
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানা বন্ধ করে কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা। তিনি এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে ৩৬ কোটি কর্মের হাত সৃজন করা হবে যাতে প্রতিটি মানুষ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতিতে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট হয়েছে, তা নিরসন করে পুনরায় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
পথসভাটিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ জেলা ও উপজেলার জ্যেষ্ঠ নেতারা। পথসভাটি শেষে একটি বিশাল মিছিল ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, যা নির্বাচনী আমেজকে আরও চাঙ্গা করে তোলে। মূলত জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়নের সমন্বয়ে একটি আধুনিক কক্সবাজার গড়ার স্বপ্ন নিয়েই সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন যে, দেশের আগামী নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান এবং তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজার এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। টুকু ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তাঁর নেতৃত্বেই দেশে পুনরায় গণতন্ত্র সুসংহত হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নারী বিষয়ক সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে দলটির কঠোর সমালোচনা করেন। টুকু অভিযোগ করেন যে, নারীদের বাইরে কাজ করা বা চলাচল নিয়ে জামায়াত আমিরের দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে এখন স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই আয় করতে হয়, অন্যথায় সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া অসম্ভব। তিনি রাজপথে কঠোর পরিশ্রম করা নারীদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখার চিন্তা করে, তারা আসলে উন্নয়নবিরোধী। এ সময় তিনি নারী ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জামায়াতকে ভোট দেওয়া হবে নিজেদের অধিকার নিজেরা বিসর্জন দেওয়ার নামান্তর।
বিএনপি নেতা গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে বলেন, জনগণের হারানো ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবর্ণনীয় জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে জানান, জেল খাটলেও তাঁদের নেত্রী কখনো কারো কাছে মাথা নত করেননি। সম্প্রতি প্রয়াত সেই মহান নেত্রীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজাই প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ কাকে ভালোবাসে এবং দেশের ভবিষ্যৎ কাদের হাতে নিরাপদ।
পথসভাটি শেষ পর্যন্ত এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়, যেখানে স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। টুকু উপস্থিত জনতাকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ধানের শীষের সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পথসভাকে কেন্দ্র করে পুরো ভদ্রঘাট বাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
নীলফামারীতে অটো রাইস মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেছেন সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার আজিজুল হক অটো রাইস মিলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, শ্রমিকরা দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল শক্তি। তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হলে সবার আগে তাদের কথা শুনতে হবে এবং বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করতে হবে।
এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, জেলা বিএনপির সদস্য শেফাউল জাহাঙ্গীর শেপু, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ওয়াহেদ সরকার, আজিজুল হক অটো রাইস মিলের চেয়ারম্যান আজিজুল হক, অভিজাত গ্রুপের চেয়ারম্যান সামসুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, একদল ইতর শ্রেণির লোক তাঁর ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, একটি বিশেষ কুচক্রী মহল তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্যে এই ধরণের সাইবার অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে নারীদের ন্যূনতম সম্মান দিতে জানে না, তারাই আজ রাজপথে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের অসম্মান করে এমন কোনো আচরণ বা রাজনীতি কখনোই সুস্থ সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, তাঁর দল ক্ষমতায় আসলে ঘর থেকে শুরু করে রাজপথ এবং কর্মস্থল—সর্বত্র নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি ‘মা’ ও নারীদের প্রতি যেকোনো প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেতন বৈষম্য দূর করে একটি সুষম বেতন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
আসন্ন নির্বাচন ও প্রচারণার পরিবেশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো পক্ষ যদি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তবে তা বরদাশত করা হবে না। জনগণের ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জামায়াত যেকোনো ধরণের অশুভ তৎপরতা রাজপথে প্রতিহত করবে বলে তিনি জানান। তিনি সকল প্রার্থী ও কর্মীকে নির্ভয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শেরপুরে সম্প্রতি সংঘটিত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন তিনি। শেরপুরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। মূলত দলীয় নেতার মৃত্যু আর সাইবার হামলার শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
প্রমত্ত পদ্মা নদীতে রাতভর মাছ ধরেছেন মাঝি রিপন মৃধা। ভোরে পা ধুতে ধুতে কাছাকাছি জায়গার একটি বাজারের দোকানের দেয়াল ও শাটারে চোখ বুলিয়ে নেন তিনি।
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ী জেলার এই এলাকায় কিছুদিন আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের বড় বড় পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো ছিল। সেই সব চিহ্ন এখন আর নেই।
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রায় কোনো চিহ্নই আর সেখানে চোখে পড়ে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার সেই স্বৈরশাসনের অবসান হয়। উৎখাত হওয়ার পর তিনি তার ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে গিয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের গুম ও হত্যা করার অভিযোগে অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হাসিনা-বিরোধী বিক্ষোভের সময় এক হাজার চার'শর বেশি মানুষ হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রহসনের বিচার করার জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনা নিজে ওই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে উৎখাতের পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজীবন আওয়ামী লীগের ভোটার রিপন মৃধা বলেন, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলকে নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন নিয়ে তার তেমন আগ্রহ নেই।
এরপরও তিনি হয়তো ভোট দেবেন। কিন্তু ব্যালটে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না থাকায় কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন।
প্রায় ৫০ বছর বয়সি মাঝি রিপন মৃধা জানান, পরিবারের সদস্যরা ভয় পাচ্ছেন যে ভোট না দিলে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
এটা এমন সময়ে হতে পারে যখন কয়েক দশকের হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় হাসিনা ও তার দল এখনো ব্যাপক ক্ষোভের মুখে রয়েছে।
হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দলটির কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ছিলেন। গত ডিসেম্বরে তিনি মারা গেছেন। তার ছেলে এবং বিএনপির বর্তমান চেয়াম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত হচ্ছে। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এখন অন্যান্য দলের সাধারণ সমর্থকদের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকেরা রেহাই পাচ্ছেন না। নেতাদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে তারা রোষানলের শিকার হচ্ছেন।
রিপন মৃধা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা যদি ভোট না দিই, তাহলে আমরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারি। সে কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে যাবে।’
যেসব এলাকায় একসময় আওয়ামী লীগ আধিপত্য ছিল, সেখানে দলটির পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায়, তাদের মনোভাব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে জানালেও অন্যরা আদৌ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জে রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বছর ভোট দেবেন না। তার ভাষায়, ‘ব্যালটে নৌকা ছাড়া নির্বাচন কোনো নির্বাচন না।’ গোপালগঞ্জের অনেক বাসিন্দা তার সঙ্গে একমত।
ঢাকার কেন্দ্রস্থল গুলিস্তান এলাকায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সেখানে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এর পর থেকে পরিত্যক্ত ওই ভবনে গৃহহীনেরা আশ্রয় নিয়েছেন। ভবনের কিছু অংশ গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কার্যালয়ের বাইরে হকার আবদুল হামিদ বলেন, কয়েক মাস ধরে এই এলাকার আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দেখেননি।
তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থককে পাবেন না। কেউ সমর্থক হলেও তা কখনো স্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ আগেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু কখনো এ রকম প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়নি।’
কাছেই আরেকজন হকার সাগর, উলের তৈরি মাফলার বিক্রি করছেন, যেগুলোতে বিএনপি এবং তার সাবেক মিত্র ও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক রয়েছে।
সাগর বলেন, ‘এই দলগুলোর মাফলার ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগ কিছু সমর্থক দলের ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদী।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান বলেন, ‘দল হয়তো কৌশলগত নীরবতা পালন করে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দূরের বিষয়।’
আরমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর যখন ফিরবে, শেখ হাসিনাকে নিয়েই ফিরে আসবে।’
তবে ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি এতটা নিশ্চিত নন। তিনি মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হবে।
রেজাউল করিম রনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে তাদের ভোটাররা ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। তারা স্থানীয়ভাবে মিশে যাবে, যে দল বা শক্তি তাদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করবে, তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। এভাবে তারা দৈনন্দিন জীবন সাজাতে শুরু করবে।’
রেজাউল করিম বলেন, এতে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের জন্য তার সমর্থকদের ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, যদিও দলের সমর্থকদের একটি অংশ এখনো হাসিনা ছাড়া দলের ভবিষ্যৎ দেখতে পান না, তারপরও দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার শাসনামলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে হতাশ।
রেজাউল করিম বলেন, ‘সমর্থকেরা বিভক্ত থাকায়, হাসিনা থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগের জন্য আগের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে আসাটা অত্যন্ত কঠিন—প্রায় অসম্ভব।’
অন্য বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, আপাতবিরোধী মনে হলেও জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থনের সাম্প্রতিক জোয়ারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনরুত্থানের এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া যেতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেই দলের অভিজ্ঞতা আছে-কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে-এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোনো দল নেই।’
শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা মানুষ তার ওপর ভরসা করে- যার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে-যার ওপরে ভরসা করা যেতে পারে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে-যে মানুষকে বিপদের সময় ফেলে রেখে চলে যায়নি। এই সব গুণ একমাত্র বিএনপির ভেতরেই আছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা কাজেই আসুন আজকে যদি আমাদের দেশ গড়তে হয়, আজ যদি বিশ কোটি মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়-তাহলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের এই ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে।’
এদিকে বগুড়াকে বিএনপির অবিচ্ছেদ্য দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ওপর বিশেষ আস্থার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সকালে বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত কোনো কোনো নেতা মন্তব্য করেন, বগুড়ায় ধানের শীষের যে জনপ্রিয়তা, তাতে ভোটারের কাছে না গেলেও বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত। তবে এই মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসে থাকলে চলবে না, সবার কাছেই যেতে হবে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জয়ের আশা করা যাবে না।’
তারেক রহমান আরও যোগ করেন, ‘বগুড়ার সাতটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। জয়ের ব্যবধান যত বেশি হবে, জনরায়ের প্রতিফলন ততটাই শক্তিশালী হবে।’
তারেক রহমান এবার বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারের ব্যাপক ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজের আসনে সময় দিতে পারবেন না বলে জানান। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতে নানা সময়ে আপনাদের কাছে এসেছি। এবার প্রার্থী হয়ে এসেছি। তবে আমার নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। কারণ, সারাদেশে আমাকে যেতে হচ্ছে। এই ঘাঁটির দায়িত্ব আপনাদের সঁপে দিলাম, এই ঘাঁটির জনগণকে আপনারা দেখে রাখবেন।’