আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূসের বক্তব্যকে ‘অস্পষ্ট ও হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা রোডম্যাপ দেবেন। কিন্তু তিনি তা দেননি। এটা আমাদের হতাশ করেছে।’
এর আগে বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো প্রস্তুতি দেখছি না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্য অস্পষ্ট। আমরা যেটা আশা করেছিলাম যে, তিনি সুনির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ দিয়ে দেবেন। সেটা তিনি দেননি। এটা আমাদের কিছুটা হতাশ করেছে এবং একই সঙ্গে জাতিকেও কিছুটা হতাশ করেছে।’
নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কথায় সময়ক্ষেপণ কিংবা বিষয়টা আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যৌক্তিক তো মনে হয়নি। এটাতে আমরা হতাশ হয়েছি।’
নির্বাচনের সময়ের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ ও তার প্রেস সচিবের বক্তব্যকে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে, ২৫ সালের শেষের দিকে অথবা ২৬ সালের প্রথম দিকে নির্বাচন হবে। তারপরে তার (প্রধান উপদেষ্টা) প্রেস সচিব বলেছেন যে, ২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তার (প্রেস সচিব) এ কথা আবার সাংঘর্ষিক কথা হয়ে গেছে। তাদের দেওয়া বক্তব্য কোনটা সঠিক, আমরা বুঝতে পারছি না। এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবেও জানানো হয়। তাতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপদেষ্টার ভাষণের যে ব্যাখ্যা দেন, তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণে নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্য অস্পষ্ট। তার বক্তব্যে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়ের কথা বলা হলেও নির্বাচনের রোডম্যাপ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখা হয়নি।
স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এ-ও বলা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৫ সালের শেষ অথবা ২০২৬ সালের প্রথম অংশে অনুষ্ঠানের কথা বলেন, যা একেবারেই অস্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ নেই। অথচ তার প্রেস সচিব বলেন, ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা পরস্পরবিরোধী। সভা মনে করে, এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, তাদের দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি মনে করে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। জনগণ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশা করে। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধা পৌর পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, গাইবান্ধা শহর আ.লীগ নেতা ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমারুল ইসলাম সাবিন এবং সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহীদ দিবসে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি দল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে দুই জনকে আটক করলেও বাকিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলা বাংলার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। এগুলা বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে তারপর ও আমি বলবো কারণ আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশরা এই দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে চেপে ধরা হয়েছিল, আমাদের শোষণ করার জন্য। ৫৪ সালে যারা জীবন দিয়েছে তারাই ভাষা রক্ষার বীজ বপন করে গিয়েছিল। তোমরা যারা ইয়াং আছো তোমাদের ভাবতে হবে, না হলে কিন্তু আমাদের এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে।
টুকু বলেন, নিজের ভাষাকে ঠিকমত জানার চেষ্টা করি নাই বলেই আমাদের মধ্যে ন্যাশনালিজমটা গ্রো করে নাই। নিজের ভাষা, নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে, অন্য কেও গড়ে দিবে না।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজবাড়ী সদরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় পিতার জানাজায় এসেছে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী(২৮)।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে ঈদগাহ মাঠে পিতার জানাজাতে অংশ নেন তিনি।
মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী রাজবাড়ী সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার পিতার নাম শুকুর পাটোয়ারী। আলাউদ্দিন অস্ত্র মামলায় কারাবন্দী রয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে আলাউদ্দিন পাটোয়ারীর পিতা শুকুর পাটোয়ারী মারা যান। পিতাকে একনজর শেষ দেখা ও জানাজায় অংশ নিতে পরিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা আক্তারের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টার জন্য আলাউদ্দিনের প্যারোলে মুক্তি মেলে। পরে পুলিশ পাহারায় আলাউদ্দিন তার পিতার জানাজাতে অংশ নেন।
রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পুলিশি পাহারায় সন্ধ্যায় পিতার জানাজায় আলাউদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর নিমতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে জার্মানির তৈরি একটি রিভলবার ও একটি রামদাসহ আলাউদ্দিন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় অস্ত্র মামলা রুজু হলে বিজ্ঞ আদালত ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিনকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।
দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দিনাজপুরের কোন চাঁদাবাজ তো মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জেল রোডের দলীয় কার্যালয়ে দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণগান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বিএনপি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশিত উন্নয়নের রোডম্যাপের আলোকে দিনাজপুর জেলার জন্য বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮টি অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আবাসনখাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই প্রতিটি পরিবারের নারীর নামে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা, ভর্তুকি, সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল বিগত বিএনপি সরকারের আমলে প্রয়াত মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের উদ্যোগে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সেই সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে এবং দিনাজপুরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা অতীতের দিকে না তাকিয়ে আগামীর দিনাজপুর গড়তে চাই। উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবার সহযোগিতায় পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
দিনাজপুরের প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে ভারী শিল্পকারখানার অভাব, অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ২/৩ লেনবিশিষ্ট সড়কের অভাব এবং সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিস্তার যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বেকারত্ব, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় হাসকিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বড়মাঠ সংক্রান্ত চলমান সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধানে আমরা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসনের সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা হবে। দিনাজপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বপ্রথম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে। দিনাজপুরে কোনো চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবেনা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা কররন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা ও দিনাজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অতীতের সকল রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা আঁকড়ে ধরে না রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান এবং অতীতে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াত দেশে এবং বিদেশে তাদের অতীতের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। যদিও সেই ক্ষমার ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, তবুও তাদের এই পরিবর্তিত অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, জাতি কি এখনো সেই পুরনো বিভাজনকে পুঁজি করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে, যেভাবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশটিকে চরম মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? বিভাজনের রাজনীতি দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলেই তিনি মনে করেন।
বক্তব্য চলাকালে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষ জাতীয় দিবসগুলো একসাথে পালন করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল শক্তিকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বিভাজনের কোনো স্থান নেই বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বছরই প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর এমন উদার ও ঐক্যকামী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে একটি শান্তিময় ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সকলের অংশগ্রহণে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। আজ শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে এই শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধানিবেদন শেষে তাঁরা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন, কারণ অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কখনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এভাবে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করার নজির ছিল না। এবারই প্রথম দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে এবং বিরোধীদলীয় জোটের নেতা হিসেবে ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের পর পর্যায়ক্রমে তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা শহীদ মিনারে প্রবেশ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবারের একুশের উদযাপন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে একুশের মূল চেতনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোটের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে অমর একুশে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেত্রীরা। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নারী রাজপথে ছিলেন তারাই এই সংরক্ষিত নারী আসনের দাবিদার—এমনটি বলেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা।
জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেবে হাইকমান্ড। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও জায়গা পাবেন। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এবারও জায়গা করে নিতে পারেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে সর্বাগ্রে আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী আছেন প্রথম কাতারে। তাদের সঙ্গে আছেন ইডেন কলেজ কাঁপানো ছাত্রদল নেত্রী, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা; সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী; সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।
আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া; রাশেদা বেগম হীরা; সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু; ইয়াসমিন আরা হক; জাহান পান্না; বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।
আলোচনায় আরও রয়েছেন—মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আর্লি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের দাবিদার অন্যরা হলেন—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর। আরও আলোচনায় আছেন চেমন আরা বেগম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও।
নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি ২১১ আসনে জয়ী হয়েছে। এ হিসেবে বিএনপি সংরক্ষিত আসন পাবে ৩৬টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি। তারা নারী আসন পাবে ১২টি। এনসিপি ৬টির বিপরীতে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টির বিপরীতে ১টি আসন পাবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠনটির সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সেই চিঠিটি পাঠ করার সময় তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় নারীদের রাষ্ট্রপ্রধান বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান হওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
রোবাইয়াত ফাতিমা তনি আরও জানান, আরপিও অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই আদর্শকে চরম অসাংবিধানিক অভিহিত করে তিনি বলেন, নারীর সম্মান ও অধিকার নিয়ে কোনো রাজনৈতিক আপস হতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, দলটির আমিরের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে পুড়ল ১৮ পরিবারের বসতঘর। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার আগেই স্বর্ণলংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে এমপি মান্নান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর এই দুর্দিনে আমি তাদের পাশে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় নূরুল আলমের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্টিটে আগুন লাগে। মূর্হুতের মধ্যে ১৮টি কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। প্রাণ নিয়ে বের হতে পারলেও একটি কাগজও তারা উদ্ধার করতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন জুম্মান মিয়া, নুরুল আলম ও মাহিজ উদ্দিনের বাড়িতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে ১৮টি পরিবারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল আলম জানান, শিল্প এলাকা হওয়ায় তাদের বাড়ির ১০টি কক্ষে ১০টি পরিবার ভাড়া থাকতেন। আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোমতে জীবন নিয়ে বের হয়েছেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস এর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. জাহেদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বাড়ির মোট ১৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারের নবনিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ১০ দিনের একটি তাৎক্ষণিক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রথম ১০ দিনের কর্মসূচি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে-পরের ধারাবাহিক কার্যক্রমের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর ঘোষিত এই প্রাথমিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এলাকার গ্যাস-সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনের মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইশরাক হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, স্থানীয় থানাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া পুলিশ ফাঁড়িগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধ দমনে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ যুদ্ধ ঘোষণা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এলাকার সকল মাদক স্পট অবিলম্বে বন্ধ করা হবে এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি যেসব মাদক কারবারি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে, তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়েও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনবান্ধব রাখতে প্রতিমন্ত্রী গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো যানজটমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচল সহজ করার বিষয়টিও তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
ঈদের আগে ও পরবর্তী সময়ের জন্য ইশরাক হোসেন ‘প্রাধান্য স্তর-২’ নামে আরও একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলো ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা করে জমে থাকা ময়লা অপসারণ এবং এলাকা পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত পানি ছিটানোর কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত ওয়াসা ও তিতাস গ্যাসের মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা-৬ আসনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সম্মানিত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রথম জুমার সালাত আদায় করেন।
আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায় অবস্থিত কাজীপাড়া মসজিদুর রহমান জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নামাজের আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
জুমার নামাজ শেষে তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপির শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে তীব্র আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে। এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকে।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন।
বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজানের মধ্যে করার পরিকল্পনা চলছে। ঈদের আগে এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ নেত্রী এবার মনোনয়ন না পেলেও এখন সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগের নেত্রীরা। বিএনপির শীর্ষ নেত্রীরাও দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন, দলের অভ্যন্তরে যে নেত্রী কার জন্য এগিয়ে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও বিভিন্ন জেলা নেত্রী। তারা জানিয়েছেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন। এখন দল যদি তাদের উপযুক্ত মনে করে, তাহলে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে আসা, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। জেল-জুলুম, দমন-পীড়ন সহ বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। এখন যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে দল, তাহলে সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। মনোনয়ন প্রক্রিয়া অনুযায়ী নেত্রীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ চলছে। সব বিষয় বিবেচনা করে চেয়ারম্যান তারেক রহমানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সুযোগ বেড়েছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে।
পটুয়াখালীর নদীবেষ্টিত দুর্গম চরবিশ্বাস ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন নুরুল হক নুর। সম্প্রতি তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন তিনি। তার এই অর্জনকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া নুরুল হক নুর শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মাকে হারানোর পর বাবার স্নেহ ও পরিবারের সহায়তায় বড় হয়ে ওঠেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে স্থানীয় জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গিয়ে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন এবং রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘ভিপি নুর’ নামে দেশজুড়ে পরিচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি গণ অধিকার পরিষদের নেতৃত্বে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০২৩ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি তার রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রাখেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নুরুল হক নুর বিবাহিত। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার একজন শিক্ষিকা। তাদের দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবার ও রাজনীতির দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে তিনি জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
নুরের এই সাফল্যকে তার পরিবারসহ স্থানীয় মানুষ সততা, অধ্যবসায় ও সংগ্রামের ফল হিসেবে দেখছেন। দুর্গম চরাঞ্চল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে পৌছানোর তার গল্প তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।