শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২
জামায়াত আমীর

রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থপরতার কারণে দেশ পিছিয়ে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:০৬

রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থপরতার কারণে দেশ পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মৌলিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আবারও ‘যৌক্তিক সময়’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে বুধবার ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু স্বার্থপরতার কারণে দেশ পিছিয়ে আছে। আর এ জন্যই ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের কথা ভুলে গিয়ে লুটপাট করে। সাধারণত নেতার চেয়ে দেশ বড় বলা হয়। কিন্তু মানসিকতা হলো- দেশের চেয়ে নেতা বড়, নেতার চেয়ে আমি বড়। এমন মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিবর্তন সম্ভব নয়।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, রাজনীতিবিদরা নিজেরা স্বচ্ছ থাকলে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি জনগণের সম্মানও তারা অর্জন করবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য তিন মাস কিংবা পাঁচ বছর, এমন সময় বেঁধে দিইনি। আমরা সংস্কারের যৌক্তিক সময় বলেছি। উপদেষ্টারা বিবেকবান মানুষ, তারা বুঝতে পারেন কতটুকু সময় প্রয়োজন।’

নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘যৌক্তিক সময়’ দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ মৌলিক সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে একটি ‘যৌক্তিক সময়’ চায়। এই বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে জুলাই বিপ্লবের পক্ষগুলোর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় দেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


ব্যারিস্টার ফুয়াদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগে মুলাদীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মুলাদী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মুলাদী উপজেলার ঈদগাহ ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা হামলার ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জামায়াত নেতা মো. আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঈগল প্রতীকে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক মুলাদী পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের ধাওয়া দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মুলাদী পৌরসভার চর টেকি এলাকায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামী মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে এসে প্রচারণায় বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় জামায়াত নেতা আরিফ বয়াতিকে মারধর করা হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কিল, ঘুষি ও লাঠি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় একটি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পৌর জামায়াতের ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু সালেহ, সেক্রেটারি মাওলানা মোরশেদ আলম, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আহাদ ভূঁইয়া, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হুমায়ুন কবির, ছাত্রশিবির সভাপতি হামিম হোসেনসহ দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


মাগুরায় আরাফাত রহমান কোকোর ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকো' এর ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শোকর্্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) শহরের ভায়না মোড়ে আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব কার্যালয়ে মাগুরায়-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খানের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অত্রক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব আলী মিল্টনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান ও যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর হোসেন।

বক্তারা তার খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতিচারণ করে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। দোয়া মাহফিল শেষে শহরে শোক র্্যালিতে অংশ নেয় দলের নেতা কর্মীরা।


দুই দশক পর তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২০ বছর পর তাঁর নানাবাড়ি তথা সদ্যঃপ্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি ফেনী জেলা সফরে আসছেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি এই জেলায় পা রাখবেন, যা জিয়া পরিবারের কাছে এক গভীর আবেগ ও অনুভূতির স্থান হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলায় একটি স্মৃতিবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ফেনী এসেছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার বিকেল ৪টায় সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী শহরে পৌঁছে তিনি ঐতিহ্যবাহী পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে অবস্থিত নানার বাড়িতে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এই সফরকে কেন্দ্র করে ফেনী পাইলট মাঠে এখন সাজসাজ রব এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি হওয়ার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফেনীর নেতাকর্মীরা নজিরবিহীন নির্যাতন, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের আগমনে নতুন প্রাণের সঞ্চার অনুভব করছেন এবং তাঁর মুখ থেকে সান্ত্বনা ও নির্দেশনার বাণী শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বলেন, "প্রিয় নেতাকে বরণ করতে আমরা প্রস্তুত।"

সফর উপলক্ষে আয়োজিত জনসভার ব্যাপক প্রস্তুতির তথ্য জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, "তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দল-মত-নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষ এ জনসভায় আসবেন ইনশাআল্লাহ।" সভায় শুধু ফেনী নয়, পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও বিশাল জনসমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই মহাসমাবেশে তিন জেলার ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। জনসভা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব নবী প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের নেতার আগমনে আমরা উচ্ছ্বসিত। ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের এমপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা এ জনসভায় অংশ নেবেন। ফেনী পাইলট স্কুলের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে ইনশাআল্লাহ।" দীর্ঘ ১৭ বছরের শোষণ ও বঞ্চনা কাটিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে এই সফরের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন শক্তি সঞ্চয় করবেন বলে মনে করছে স্থানীয় বিএনপি।


তারেক রহমান সকল নির্বাচনী বিধিমালা মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন : রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অতীতের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান সকল নির্বাচনী বিধিমালা মেনেই তার রাজনৈতিক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মিথ্যা অপপ্রচারের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা অহেতুক বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়াচ্ছেন, তাদের মনে রাখা উচিত, কোনো লাভ হবে না।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছে।

আরাফাত রহমান কোকোর অকাল প্রয়াণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে রিজভী বলেন যে, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীদের অমানুষিক নির্যাতনের কারণেই তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তিনি তৎকালীন সময়ের ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যখন গুলশান কার্যালয়ে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তখন তার ওপর ভয়ংকর গোল মরিচের গুঁড়া ছিটানো হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়ের এই অবর্ণনীয় লাঞ্ছনার খবর সহ্য করতে না পেরেই আরাফাত রহমান কোকো মৃত্যুবরণ করেন। সেই দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত মাকে সান্ত্বনা দিতে আসা এক বরেণ্য বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধেও পাঁচটি মামলা দায়ের করে তৎকালীন প্রশাসন তাদের নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছিল।

রিজভী তার বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আয়না ঘর থেকে শুরু করে রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতন এবং হেলমেট বাহিনীর সশস্ত্র তাণ্ডব সত্ত্বেও গণতন্ত্রকামী জনতাকে দমানো সম্ভব হয়নি। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তৎকালীন শাসককে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা জনগণের নেতাদের ওপর জুলুম চালায় এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়, ইতিহাস সাক্ষী যে তাদের চূড়ান্ত পরিণতি হয় অত্যন্ত শোচনীয়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি মহান আল্লাহর ন্যায়বিচার হিসেবে অভিহিত করেন।


দাঁড়িপাল্লায় যদি ভোট না দেন, কিয়ামতের দিন কী উত্তর দেবেন?

আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করা প্রত্যেক মুমিনের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য, কারণ এই জয়লাভের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালে জবাবদিহি করা সম্ভব হবে। জনসভায় তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, ‘সবার ঈমানি দায়িত্ব দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো। দাঁড়িপাল্লায় যদি ভোট না দেন, কিয়ামতের দিন কী উত্তর দেবেন? শেখ মুজিব কি কাউকে জান্নাতে নিতে পারবে? পারবে না। জান্নাতে নিতে পারবেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। অন্তত কবরে গিয়ে যেন বলতে পারেন—আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি।’

দলের সাংগঠনিক আদর্শ ও লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি সদস্য পরকালে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা সমস্বরে ‘আমরা দ্বীন কায়েম করব, দ্বীনের পথে চলব’—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, জনগণের সমর্থন পেয়ে যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে না, তারা মূলত আমানতের খিয়ানতকারী। তিনি ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করে বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমরা সব সময় ন্যায় ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে।’ ব্যারিস্টার কবিরের মতে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা কেবল ক্ষমতার মোহে নয়, বরং জনসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মহান লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত হওয়ার পর আমানতের খেয়ানত করলে নিজ দলের সদস্যের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস একমাত্র জামায়াতই রাখে।

তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা জিয়ার আমলের বিএনপির সাথে বর্তমান বিএনপির কোনো মিল নেই। ভবিষ্যতে কোনো চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি কিংবা অসৎ ব্যক্তির হাতে দেশের শাসনভার ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ভোট চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই ভোট কারচুপি বরদাশত করা হবে না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে না পারার মতো বৈষম্যের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে না, তাদের ভোট দেওয়া ধর্মীয় নাফরমানির শামিল। উক্ত নির্বাচনী সভায় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েমসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি স্থানীয় যুব বিভাগের একটি পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।


একটি দল ইসলামের লেবেল লাগিয়ে  আমাদের ধোঁকা দিয়েছে: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার ফাজেলপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর পক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, "চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।" একটি বিশেষ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলে গঠনের মাধ্যমে এক বাক্স নীতিতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে। তারা পাকা ধানের ভেতর মই দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলল। তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলামের লেবেল লাগিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।"

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, "তারা গোপনে গোপনে পাশের দেশের সঙ্গে মিটিং করে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। যারা ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে এদের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামকে এরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবাই করবে। এরা ইসলামের আশা চিন্তার ফসলকে নষ্ট করেছে।" শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও সর্বস্তরের জনগণকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারি না। এখন একটা বাক্সই ইসলামের পক্ষে যেটা হাতপাখার বাক্স।

তরুন ভোটারদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মা বোন মুরব্বিদের বলবো একবারের জন্য হাতপাখায় ভোট দিয়ে দেখেন। ফতুল্লার মাটি ইসলামের পক্ষের ঘাঁটি।" সমাবেশে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরি, দেলোয়ার হোসেন সাকী এবং মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।


একটি দল রাতের আঁধারে ভোটারদের এনআইডি নম্বর নিচ্ছে: বিএনপি প্রার্থী আমিনুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের আঁধারে ভোটারদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে একটি বিশেষ দল, যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনে জাল ভোট প্রদানের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করা বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

দিনব্যাপী এই জনসংযোগকালে আমিনুল হক ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা ও ভোট ভিক্ষা করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে তিনি যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তবে স্থানীয় সকল সমস্যা নিরসনে জনগণকে সাথে নিয়েই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মূলত আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাওয়ার মধ্য দিয়েই আজ তার নির্বাচনী প্রচারণা অতিবাহিত হয়।


স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশ টিকবে না: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সঠিক সরকার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসলে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন এই দেশ টিকবে না।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, মানুষের ভোটাধিকারের লড়াই করতে গিয়ে তাকে ১১১টি মামলা ও এগারোবার কারাবরণ করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চুরি-ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছি। তার জন্য কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই।” বিগত সরকারের পতন ও তৎকালীন শাসকের পলায়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সেই শাসক সবাইকে ফেলে নিজের প্রাণ বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরত্বগাথার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন যে, যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছিল, তারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বললেও অতীতের ভুল স্বীকার করছে না। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে চাই।” বিশেষ করে জাষ্ঠিভাঙ্গায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর অতীতে চালানো হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিচারণ করে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সঠিক সরকার গঠন করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সার্বভৌমত্ব রক্ষাই বিএনপির রাজনীতি, চুক্তির অভিযোগ ভিত্তিহীন অপপ্রচার: মাহদি আমিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে বিএনপি গোপন চুক্তি করেছে বলে এক জামায়াত নেতার দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এর কড়া জবাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন।

শনিবার সকালে গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বর্ণনা করেন। দলের অবস্থান পরিষ্কার করে মাহদি আমিন বলেন, ‘এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই, পুরোটাই অপপ্রচার। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলমান প্রথম নির্বাচনী সফরে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং চেয়ারম্যানের সফরসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আজ রাতে চট্টগ্রাম যাবেন তারেক রহমান। কাল চট্টগ্রামসহ ৪ জেলায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।’ মূলত দেশীয় সার্বভৌমত্ব অটুট রাখা এবং আসন্ন জনসভাগুলোকে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াত ও জাপার ৩ শতাধিক নেতাকর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গত দুই দিনে জামায়াত-ই-ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।

এর আগে বুধবার জেলার অন্য তিনটি আসনেও একইভাবে ধানের শীষের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে আরও আড়াই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে শামিল হন। উজলকুড় ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সাবেক অফিস সেক্রেটারি আ. কাদের তার দল ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম একজন কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ায় এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা রেখে তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।”

একই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মোল্লা মহসিন দলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে একজন সৎ, নির্ভীক ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।”

নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শুধু রামপাল নয়, গত দুদিনে জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং তারেক রহমানের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। বুধবার যোগদানকালে অন্য তিনটি আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাজির হোসেন, কপিল কৃষ্ণ মন্ডল এবং সোমনাথ দে উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের বরণ করে নেন।


দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে তারেক রহমান: ‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’ জনসভার প্রস্তুতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার রাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রবিবার ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

এই সফরকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ডে বর্তমানে মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে এবং প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে পুরো শহর তোরণ ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দীপনা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, “চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আসার বিষয়টা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চাচ্ছিলাম। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। সমগ্র চট্টগ্রামবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।”

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ অতীতের বিশাল জনসমাগমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানকে ঘিরে এবার জনসভা মাঠ ছাড়িয়ে রাজপথেও জনস্রোতে পরিণত হবে।


আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কোকোর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে দলীয় ও পারিবারিকভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করবেন এবং দুপুর ২টায় পুনরায় কবর জিয়ারত করবেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম। বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এছাড়া বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এবং ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।


একটি শক্তি বিদেশিদের গোলামি করে রাজনীতি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যারা ভারতের পক্ষের শক্তি ছিল তারা ভারতে পালিয়েছে। আরেকটি শক্তি বিদেশি শক্তির গোলামি করে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি করে রাজনীতি করছে। আমরা বাংলাদেশের শক্তি, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুমার নামাজের আগে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের মালিকানা ফেরত পেয়েছি, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্ত করতে পেরেছি, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’

উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, প্রগতির সবকিছুর জন্য বিএনপি আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দেবেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি প্রগতির বিকল্প নাম বিএনপি। গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। সকল কিছুর ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে তুলে ধরব। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভবিষ্যতে আমরা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করব।’

পথসভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। তাকে ঘিরে ছোট ছোট শিশু কিশোররাও আনন্দে মেতে উঠেন।

এ সময় তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে প্রচারণার শুরুতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় লবণশ্রমিকদের কাছে যান তিনি।

লবণমাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছিলাম। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এখন অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের বলে আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করেছি।’

নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’


banner close