ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ে জাতীয় নির্বাচনসহ ১০ দফায় একমত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মো. রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর সাহেব) ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারা এ ঐক্যমতে পৌঁছান।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীমের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা মোটামুটি ১০টি বিষয়ে একমত হয়েছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় ১০ দফার যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি, সেগুলো হচ্ছে- আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সামাজ্যবাদমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম টেকসই রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দ্রুত বিচার, ভোটাধিকারসহ সব মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্যমত গড়া, ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ও সব অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিককরণ।
পাশাপাশি আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা না বলা, আগামীতে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রশাসনে রয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।
এমনকি ইসলামী শরিয়াহবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলামবিরোধী কোনো কথা কেউ বলবে না এ ব্যাপারে দুই দলই ঐক্যমত পোষণ করেছে।
বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘দেশ, মানবতা এবং রাজনীতির ব্যাপারে যে কথাগুলো আমাদের সঙ্গে হয়েছে; তা বিএনপির মহাসচিব গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। আমাদেরও ওই একই কথা।’
দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির বলেন, ‘এটা আমরা আগে থেকেই বলে আসছি- খুব বেশি সময় না নিয়ে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন চাই। আর ৬ মাস তো প্রায় চলেই গেল, এক বছরের মধ্যেই সুন্দর একটা জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে এটাই মূলত আমাদের কথা।’
আমির আরও বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে আমাদের দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলবে।’ এর আগে দুপুর ১২টায় পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বৈঠক শেষে তারা সেখানে চরমোনাইয়ের পীরের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সঙ্গে ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি খেলাফত মজলিসের আমির, মহাসচিবসহ ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। খেলাফত মজলিস একসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক ছিল। ২০২১ সালের অক্টোবরে একটি ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ জোট ছেড়ে যায় তারা। ২২ জানুয়ারির বৈঠকটি ছিল দুই দলের মধ্যে প্রায় তিন বছর পর।
এই বৈঠকের পর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারীদের অপমান করেছেন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাতের কথা শুনলে বুঝা যায়, তারা ক্ষমতা পেলে নারী সমাজের দুর্দিন চলে আসবে।
সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতকে উদ্দেশে রিজভী বলেন, জান্নাতের কার্ড শেষ হয়ে গেছে? যে কারণে নারীদের ধরলেন! অল্প সময়ের জন্য শফিক সাহেবের আইডি হ্যাক হয়ে গেল?
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শফিক সাহেবের মন্তব্যে নারী সমাজকে অপমান করা হয়েছে। আপনাদের কথা শুনলে বুঝা যায়, ক্ষমতা পেলে নারী সমাজের দুর্দিন চলে আসবে।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আপনারা মন্ত্রী হননি? আর এখন বলেন, দলের প্রধান কোনো নারী হবে না। আপনারা কেন একজন নারীকেও মনোনয়ন দেননি?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে শফিকুর রহমানকে, নয়তো যেই আগুন জ্বলে উঠবে, সেই আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে জামায়াত। যেই মায়ের গর্ভ থেকে সবার জন্ম, সেই মায়ের জাতিকে পায়ের নিচে রাখতে চায় জামায়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ১২ তারিখে নারীরা বুঝিয়ে দেবে, তাদেরকে হেয় করে কোনো দল জিততে পারে না।
নেত্রকোনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল হকের সমর্থনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আব্দুর রহিম নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসে গাজী আব্দুর রহিম এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আব্দুর রহিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে মানুষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান। ১০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী আসন ভাগাভাগি নিয়ে মোনাফেকি করেছে। দলের জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে ঐক্যের অংশ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল হককে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ক্বারী সাইদুর রহমান, হাজী রজব আলী, মোহাম্মদ হোসাইনসহ অন্যরা।
দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারে এক অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
কখনও বিএনপির নাম নিয়ে, কখনওবা দলটির দিকে ইঙ্গিত করে আবার দলটির প্রধান ও অন্য নেতাদের নাম করে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে ভোটে জামায়াতে ইসলামীর জোট সঙ্গী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত। এসব বিষয়ে ইসির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একাধিক অভিযোগ জানায় এনসিপির এ প্রতিনিধি দল।
দলটির অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দল পূর্ব পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কয়েকটা দলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের দিন গত রোববার সিইসির সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধি দল আলাদা বৈঠক করে। পরদিন এনসিপি বৈঠক করল।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শেরপুরে জামায়াতে নেতা মারা গেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায়। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দেশজুড়ে হামলার ঘটনাগুলো ইসিকে অবহিত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এরকম ঘটনা ঘটছে, ইসির নিয়ন্ত্রণ নেই। যে দল ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র করে ঘটাচ্ছে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান বলেন, গণভোট নিয়েও বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
বিফ্রিংয়ের সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, আইনজীবী হুমায়রা নূর উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেছেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর উপজেলা শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন সরকার।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে দেশের জনগণ রয়েছে। ২৭৮টি আসনে আমরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’ তিনি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। তারা ইসলামের লেবাস ধারণ করলেও প্রকৃত ইসলাম অনুসরণ করে না। তারা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলেনি। প্রচলিত আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করে কখনো শান্তি আসতে পারে না।’
তিনি নবীনগরবাসীকে ইসলামী আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজুকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজু। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নবীনগরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
এ ছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফ, মাওলানা হাবিবুর রহমান মির্জা, মাওলানা মেহেদী হাসান ও মাওলানা আব্দুল মতিনসহ অন্য নেতারা।
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লা শহরে আর কোনো জেলখানা থাকবে না। শহরের মধ্যে জেলখানা শোভা পায় না, তাই এটি শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে কুমিল্লায় যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি নির্বাচিত হলে কুমিল্লার উন্নয়নে একটি বৃহৎ ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা বিভাগ গঠন কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে অবিলম্বে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংসদে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে ইপিজেড, যেখানে নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অচিরেই কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা তার অন্যতম পরিকল্পনার অংশ।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকায় সোমবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি ফ্রি হার্ট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে কড়াইল বস্তির আনসার ক্যাম্প মাঠে এই বিশেষ হেলথ ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও শারীরিক চেকআপ করানোর সুযোগ পান।
উদ্বোধনী পর্বে ডা. জুবাইদা রহমান নিজে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ১৯নং ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুল আলীম নকিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পের কার্যক্রম শেষে ডা. জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) কার্যালয়ে গিয়ে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা শোনেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু এবং বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্পের সমন্বয়ক ডা. জিয়াউল করিম। এ ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন এবং প্রফেসর ডা. খবির উদ্দিনসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ এই সেবামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মূলত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় এবং তারা প্রগতির পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে বিএনপি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নিজের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের রক্ষণশীল মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দলটি নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার বিরোধী। তারা চায় নারীরা কেবল ঘরের ভেতরেই বন্দি থাকুক। এমনকি পোশাক কারখানায় কর্মরত নারীদের কাজের সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার মতো অযৌক্তিক কথাও তারা প্রচার করছে। অথচ দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য এবং বিএনপি তাদের সমান অধিকারে বিশ্বাসী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবে তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সাহস ও নির্ভয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এখন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। বিএনপি সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন জনগণের হাতে। তাই ভোটের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল করা যাবে না। দেশকে আধুনিক ও প্রগতিশীল ধারায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চল জুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি জনসভাস্থলে পৌঁছান। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে সমবেত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক করতালির মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে উপস্থিত জনসমুদ্রের অভিবাদনের জবাব দেন।
জনসভার মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের মোট ১৪ জন প্রার্থী উপস্থিত রয়েছেন। এই মঞ্চ থেকেই তিনি এই অঞ্চলের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমীর এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪), মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬); সাতক্ষীরা থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪); এবং বাগেরহাট জেলা থেকে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২), শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)। এক মঞ্চে এই তিন জেলার শীর্ষ প্রার্থীদের সমাগম স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল শিল্পনগরী খুলনায়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যান্ডের তালে তালে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ খুলনা সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
খুলনার এই কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন উপশহর এলাকার বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের সেই জনসভা শেষ করে তিনি আকাশপথেই ঢাকায় ফিরে যাবেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী হাওয়া ধানের শীষের অনুকূলে নিয়ে আসবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনসভার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত রোববার রাজধানীর খিলগাঁও বাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ পরিচালনা করেন। প্রচারণা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপপ্রচার বা ধাপ্পা দিয়ে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল আগেভাগেই নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে আস্ফালন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনবিচ্ছিন্ন এই দলগুলো আসলে কোথা থেকে এমন শক্তি পাচ্ছে তা দেশবাসী জানতে চায়।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে নেই। নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে এককভাবে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কমিশন একচোখা নীতি অবলম্বন করে হাত গুটিয়ে বসে আছে, যা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটারের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল সংখ্যক ‘অদৃশ্য’ ভোটার কারা—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এসব ভোটারদের অবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তবে স্বচ্ছ ফলাফলের স্বার্থে অবিলম্বে এই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করলে কখনোই প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম ধর্মে কোথাও নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ধরণের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজর রাখতে তিনি সচেতন নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বিএনপি সরকারের সহনশীলতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম বিএনপির সমালোচনা করলেও দল তা মুখ বুজে সহ্য করেছে কারণ তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অথচ বর্তমান সময়ে একজন ‘অর্বাচীন বালক’ যেভাবে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে কথা বলছেন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেসের কণ্ঠরোধ করার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
খিলগাঁও বাজারের কর্মসূচি শেষে বিকেলে মির্জা আব্বাস আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিং এলাকায় উঠান বৈঠক করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতে তিনি পলওয়েল মার্কেটের পেছনে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারে গণসংযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে এক প্রীতি মিলন মেলায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। মূলত কারচুপি মুক্ত নির্বাচন ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান দাবি হিসেবে ফুটে উঠেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার খুলনা ও যশোর সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা দুটিতে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মঞ্চ থেকেই বৃহত্তর খুলনা জেলার মোট ১৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। জনসভাটি সফল করতে খুলনা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
খুলনার এই জনসভায় তারেক রহমান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। বিশেষ করে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় সচল করা, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তাঁর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানা গেছে। এটি মূলত আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের আঞ্চলিক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
খুলনার কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যশোর ক্রীড়া উদ্যানে (স্পোর্টস উদ্যান) আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশটি যশোরে তাঁর প্রথম সরাসরি কোনো রাজনৈতিক জনসভা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যশোর জেলা বিএনপি জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে শহরের মূল কেন্দ্রের বাইরে এই খোলা মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশে যশোর অঞ্চলের প্রধান সংকট ‘ভবদহ’ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমানের এই দ্বৈত সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও যশোরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৎপর রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই সরাসরি উপস্থিতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। মঞ্চ নির্মাণ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকা এখন নির্বাচনি স্লোগান ও তোরণে ছেয়ে গেছে। মূলত দক্ষিণ বাংলার মানুষের মন জয় করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে বসে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত। আমরা ভারত ও আমেরিকার ইনসাফ দেখেছি; ওই ইনসাফ বাংলার মানুষ, আমরা আর দেখতে চায় না। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় হাজিরহাট এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘যে ইনসাফ বা যে নীতিতে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে, যে নীতি-আদর্শে এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে বেগমপাড়া তৈরি হয়েছে; রাস্তায় মানুষ নামার পড়ে গুম হয়ে যেতো, ঘরে গেলে খুন হয়ে যেত— এ নীতিতে তারা দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে ৫৪ বছর দেশ চালানোর পর কি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে? এ নিয়মে আবার নতুন করে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে তারা? জামায়াত স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবে না। তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ চালাবে ক্ষমতায় গেলে। তাদের প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন, জামায়াত কোনো ইসলামী দল না। তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে কোন নীতি আদর্শে দেশ পরিচালনা করবে?’
এসময় তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের হাতপাখার প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. ইব্রাহিমের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের হাতপাখার প্রার্থীর খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজাউল করিম আবরার, ইসলামি চিন্তাবিদ হাবিবুর রহমান মেজবাহ ও ইসলামী আন্দোলন জেলা কমিটির সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধী তাদের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। গত ২৪ বছরে তাদের কোনো দল ছিল না, এখন তাদের দল হয়েছে নতুন বাড়ি হয়েছে। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিরাপদে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। পুলিশ প্রশাসন, মিলিটারি আর্মি পাহারা দিবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদ পুর এলাকায় তোজামুলের চাতালে ভগিরথ বর্মনের সভাপতিত্বে এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে হিন্দু মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। যারা ভেদাভেদ করতে চায় এরা দেশের ক্ষতি করতে চায়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যায়, তাহলে আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। আর হিন্দু মুসলমানকে ভাগ করে দিলে আমরা এগোতে পারবো না।
তিনি বলেন, আমি জোর গলায় বলতে চাই। আপনাদের আমানত ভোটের যে দায়িত্ব আমি নেব তা কখনো খেয়ানত করব না। বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে এক কোটির মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করবে। মায়েদের কৃষি কাঠ প্রদান করবে। কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করবে যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গললে গেলে যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, তা মাফ করা হবে। যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন সেই ঋণ শোধ করার আমরা ব্যবস্থা নেব।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার সময় তিনি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। উন্নত বাংলাদেশ সমান অধিকারের বাংলাদেশ যদি করতে চান তাহলে সকলেই ভোট দেবেন। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করবেন। তিনি আরো বলেন, আপনারা ভাববেন এ প্রতিশ্রুতি তো সবাই দেয় আমরা যতটুকু পারি কথা রাখার চেষ্টা করি।
এসময় আরো বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল বাড়ি রেজু, ইউনিয়ন সম্পাদক জালাল উদ্দিন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যাদের জনগণের মধ্যে কোনো অবস্থান নেই, অতীতেও যারা ভোট পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না, তারাই নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল বক্তব্য দিচ্ছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, ‘যখন নির্বাচন সামনে আসে এবং কেউ বুঝতে পারে যে ভরাডুবি নিশ্চিত, তখনই তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায় এবং তারা বিএনপিকে ও দলের নেতা তারেক রহমানকে ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। কেউ কেউ দাবি করছে ঢাকা শহরের সব আসন তারা দখল করে নিয়েছে এবং বিএনপি একটি আসনও পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অতীত ইতিহাসই বলে দেয় জনগণ কাকে ভোট দিয়েছে। যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল তারা জামানত রক্ষা করেছে, আর যারা বিএনপির বাইরে ছিল তারা জামানত হারিয়েছে।’
ঢাকা শহরে অতীতেও বিএনপি সব আসনে বিজয়ী হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ‘নির্বাচনে দাঁড়িয়ে এমন প্রার্থীও দেখা যায় যারা শত ভোটও পায় না, অথচ তারা বিপুল ভোটে জয়ের দাবি করে। কিন্তু জনগণ জানে কে নির্বাচিত হবে?’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সংকটকালে সব সময় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে। দেশের ক্রাইসিসের সময় জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নেতা বানিয়েছিল। তিনি কোনোভাবেই জোর করে ক্ষমতায় আসেননি, বরং জনগণের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে যখন দেশে গণতন্ত্র ছিল না, তখন জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে এবং তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে নেই। এই অবস্থায় দেশের মানুষ মনে করছে আবারও একজন নেতা দরকার, আর সেই নেতা হিসেবে তারা তারেক রহমানকে ইতিমধ্যেই বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে জনগণের ভিড় দেখা যাচ্ছে।’
ঢাকা–১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকার চিত্র তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘ভাষানটেক এলাকা ও কড়াইল এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে যে কেউ অবাক হবে। রাজধানী শহরে এমন অবস্থাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।’
তিনি বলেন, ‘এসব এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়— গ্যাস, রাস্তা, পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা চায়। তারা বিশ্বাস করে, একটি নির্বাচিত সরকার ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। সে কারণেই আগামী নির্বাচনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে চায়।’