সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

বিএনপির বর্ধিত সভায় শীর্ষ নেতারা ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৭:৫৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’

বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’

তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।

‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’

তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।

তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।

দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।

তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।

দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’


শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে বিএনপির পরিণতি: সারজিস আলম

সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির বহরে হামলার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি সাংবাদিকদের সামনে এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে বিএনপির পরিণতিও শেখ হাসিনার চেয়ে ভয়াবহ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ওপর দিয়ে ভালো হওয়ার ভান করলেও ভেতরে-ভেতরে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের মতো বেপরোয়া সন্ত্রাসী বাহিনী হয়ে উঠেছে ছাত্রদল। তারেক রহমান কিংবা স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সবুজ সংকেত ছাড়া যুবদল ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা এ ধরনের হামলায় সাহস পেত না বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীদের হাতে রড ও চাপাতি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের খাবারের জায়গায় পৌঁছামাত্র তাদের ওপর অমানুষিক হামলা চালানো হয়।

ছাত্রদলকে ‘চোখপিপাসু’ আখ্যা দিয়ে সারজিস বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন রক্তপিপাসু, আর বর্তমানের কিছু সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে চোখপিপাসু। এর আগে হবিগঞ্জে তাদের এক কর্মীর চোখ তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং আজও চোখে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইটের আঘাত চালানো হয়। গাড়িতে এমনভাবে অতর্কিত হামলা করা হয়েছে যে, ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বড় ধরনের প্রাণহানির সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

এনসিপির এই নেতা স্পষ্ট জানান, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি যদি নতুন করে আরেকটি একচ্ছত্র স্বৈরাচার কায়েম করতে চায় এবং অন্য কোনো দলকে রাজনীতির সুযোগ না দেয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমান তাঁর পেটোয়া বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে সারজিস বলেন, তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবেন।


গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিস আলমের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ শহরের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভা শেষে পদযাত্রার অংশ হিসেবে তারা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একদল ব্যক্তি ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বহর লক্ষ্য করে পেপসির বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী বহর ও স্থানীয় কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এনসিপি নেতারা এই অতর্কিত হামলার জন্য বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যার ধারাবাহিকতায় সিলেটে দলটির এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।


বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে প্রহণ করতে পটুয়াখালী সদর থানার ওসির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে একমাত্র আসামি করা হয়েছে শহিদুল ইসলামকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

মামলায় বলা হয়, প্রায় সাত বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে শহিদুল ইসলামের দেওয়া কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং নিজের বোন দেখাশোনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গত ২৪ মার্চ সকালে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয় উল্লেখ করে এজাহারে আরও বলা হয়, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে।

এ নিয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখনো আদালতের আদেশের কপি হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


হবিগঞ্জ ছাড়লেন নাহিদ-হাসনাতরা, জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগ দায়ের শেষে তারা মৌলভীবাজারের উদ্দেশে ফিরে যান।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে তারা আবার হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।

পরে মুছাই এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংসদ সদস্য মাহমুদা আক্তার মিতুসহ দলের নেতারা।

রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে অভিযোগ দায়ের করেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগের বাদী হন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে তাদের গাড়িবহর পুলিশ আটকে রাখে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামলা করতে হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই অভিযোগ দিতে বাধ্য হন তারা। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়ে বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছে।

এদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। একই দিন বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে জেলা যুবদল।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা ১৪৪ ধারা অমান্য করে শহরে প্রবেশ করে সমাবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কামাইছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করে এনসিপি। ওই ঘটনায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।


জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম: আবু হানিফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম,বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে আবু হানিফ বলেন, জামায়াত কে ছাড়ছে এনসিপি,এমন একটা সংবাদ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি জামায়াত কে ছাড়ছে এনসিপি? মোটেও এমন না, তবে এই সংবাদের পিছনে উদ্দেশ্য ভিন্ন।

তিনি বলেন, একটু পিছনের দিকে গেলে খেয়াল করবেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির শীর্ষ নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিতো।এর পিছনে ছিলো জামায়াত যেন তাদের গুরুত্ব দেয়। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বেশ ভালোই গুরুত্ব দিয়েছে এনসিপিকে।

‘ফলে এনসিপির ৬ জন সংসদ জামায়াতের ভোটে নির্বাচিত হয়। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এনসিপির তৃণমূলে আসলে তেমন ভিত্তি নাই। বরং জামায়াত এনসিপি কে প্রাণ দিয়ে রেখে।’

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত থেকে আরও বেশি সুবিধা যেন পায় সেজন্যই এনসিপি জামায়াতকে ছাড়ার কথা বলছে। বাস্তবতা হলো জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম। ফলে এনসিপি জামায়াতকে কখনই ছাড়বে না।


জিয়া পরিবারের নেতৃত্বে ১৭ বছরের আন্দোলনেই তৈরি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি: রুহুল কবির রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘১৭ বছরের নিরন্তর রক্তঝরানো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিপুল শক্তি নিয়ে ছাত্র-জনতার বিস্ফোরণ ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে যে অভিনব প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে, তা ভুলে যাওয়ার নয়; সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো ইতিহাস। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীর আত্মত্যাগ এবং আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু দানবীয় ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট পতনের পর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাক্-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্ভয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা। এসব অধিকারের জন্য বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছর ধরে লড়াই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সমাজে আরেকটি আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়। যেটির ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী, জনতা ও শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব গণজাগরণ আমরা দেখতে পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। সেদিন অবসান ঘটে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের। সে কারণে আমরা একটি নতুন ধারণাও পেয়েছি। জুলাইয়ের এই বিপ্লবকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মিলিয়ে একটি সংগ্রাম ও রক্তঝরানো গণঅভ্যুত্থানের মাস হিসেবে ঘোষণার কথা আমরা শুনেছি এবং জানতে পেরেছি।

রিজভী বলেন, এ উপলক্ষে গত বছর বিএনপি যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিল। এবারও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জানান, দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচিগুলো আরও সুসংগঠিতভাবে পালনের লক্ষ্যে আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি)-এ একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এমপি হিসেবে বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশের ফলে সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত আদেশে আরও উল্লেখ করেছেন যে, হাইকোর্ট কর্তৃক সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিয়মিত আপিল করতে পারবে। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে লড়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

উল্লেখ্য, এর আগে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করলে সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। উক্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন। মূলত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষেই আজ আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত জানালেন।


হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি।

আজ মঙ্গলবার এক জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এ তথ্য জানিয়েছে দলটি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামীকাল ২৯ জুলাই সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

‘এমতাবস্থায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সকল মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনার রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পাথরঘাটার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পাদপ্রদীপে আসেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।


সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: এস এম জিলানী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, সংগঠনের যেখানে যেখানে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলকে সুসংগঠিত করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি অডিটোরিয়ামে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম জিলানী বলেন, ‘আমাদের আজকের মতবিনিময় সভার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো। যেখানে যেখানে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে হবে। ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত নেতারা তাদের মতামত দেবেন। আমরা ধৈর্য সহকারে সেই মতামত শুনব এবং পর্যালোচনা করে কোটালীপাড়ায় জাতীয়তাবাদী দলের কার্যক্রম পরিচালনা করব।

তিনি বলেন, ‘অতীতের ১৭ বছরে এ অঞ্চলের মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার পর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। ভোটের নামে এখানে গণতন্ত্রকে কলুষিত করা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ নির্বাচনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, ততদিন মানুষের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো।

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত হবে জানিয়ে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সভা করবে। স্থায়ী কমিটির সভা হবে, সিদ্ধান্ত হবে, এরপরই জানা যাবে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার নাম শোনা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্লিজ, সংবিধান অনুযায়ী যে সকল নিয়ম আছে সেটা মেনে দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই হবে চূড়ান্ত।’

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এই সময়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে আরডিএ’র বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষায় কৃষিজাতপণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে বাস্তবমুখী ও নতুন নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। সেই সঙ্গে তিনি সরকারি পর্যায়ে নিবিড় গবেষণা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গবেষক ও উদ্ভাবকদের অনেক ভালো কাজ হলেও সেগুলো যথাযথভাবে প্রচার পায় না। অথচ এসব উদ্ভাবন কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে তিনি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।’

বক্তব্যে তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে অনেক তরুণ সফল হতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’ গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ’র মহাপরিচালক আবদুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আনম রশিদ, কৃষি সচিব রফিকুল মোহাম্মদ, আরডিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অধিবেশনে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরডিএ’র ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ পরিকল্পনা সম্মেলনে বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন, পরিকল্পনা পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। এতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।


৩ নেতা এক হলে সপ্তাহের মধ্যে সরকার পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক—এই তিন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা একজোট হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঐক্য গড়ে উঠলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালানোর কোনো পথ খুঁজে পাবে না। ঐতিহাসিক জুলাই গণহত্যার বিচার, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিশেষ সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্নেল অলি তাঁর বক্তব্যে দূরদর্শী রাজনৈতিক সমীকরণের কথা তুলে ধরে বলেন, উল্লিখিত তিন রাজনৈতিক নেতা যদি এক মঞ্চে এসে দাঁড়ান, তবে তাঁরা যেকোনো সময় রাজধানীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের বিশাল গণজমায়েত ঘটাতে সক্ষম হবেন। এর মাধ্যমে টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরের মতো রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলো একযোগে অবরুদ্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি সরকারের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেই পরিস্থিতিতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখনই অনুধাবন করা উচিত। তাই অন্য কারও দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত না হয়ে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে এলডিপি প্রধান অভিযোগ করেন যে, বিদ্যমান শাসনের অধীনে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের নিজস্ব লোকেরা উল্টো দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের নানা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ব্যক্তির ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একই ব্যক্তি একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রাহ্য করেনি। তিনি বিএনপি সমর্থিত একক প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশবাসীকে সর্বজনীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার অনুরোধ জানান। জনতার মৌলিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে না নিলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা এক দাবি, এই সরকার কবে যাবি’ কর্মসূচি ঘোষণা করে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব মো. আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ফুয়াদ, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের চারটি জেলা থেকেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।


১১ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ দলীয় জোট ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ এক অধিবেশনে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ১১ দলীয় জোটের আহ্বায়ক বা শরিকদের নেওয়া যেকোনো ধরনের যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস সম্পূর্ণ বিরত থাকবে; তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো জাতীয় বা ধর্মীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বৈঠক শেষে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরুর স্বাক্ষর করা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট ছাড়ার এই কারণ ও সিদ্ধান্ত বিস্তারিত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, ১১ দলীয় জোটটি মূলত তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ নির্বাচন কেন্দ্রিক কৌশলগত সমঝোতা হিসেবে। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই সেই ঐক্যের মূল কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিকতা বস্তুত সমাপ্ত হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের পর সৌজন্যতাবশত ১১ দলীয় জোটের বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খেলাফত মজলিস সক্রিয় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নীতিগত আলোচনার পর জোটের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতেও দেশ, জাতি এবং ইসলামের সার্বিক কল্যাণে নতুন কোনো বৃহৎ ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিলে সেই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বড় একটি বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই খেলাফত মজলিস সাময়িকভাবে সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছিল যে, পরবর্তীতে জোটের কোনো সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার বা প্রচারণায় যেন তাদের দল বা দলীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করা না হয়।

রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আজ সকাল ৯টায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। সংগঠনটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং মুফতি আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close