সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

বিএনপির বর্ধিত সভায় শীর্ষ নেতারা ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৭:৫৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’

বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’

তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।

‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’

তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।

তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।

দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।

তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।

দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’


নির্বাচিত

জামায়াতের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন: ফজলুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের চেয়ে সাপকে বেশি বিশ্বাস করবেন বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। আপনারা সাপকে বিশ্বাস করবেন। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানকে বিএনপিতে রাখতে চাইলে দলের নেতাকর্মীদের সততা বজায় রাখতে হবে। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার ইতিহাসের কারণে দলটির প্রতি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, জামায়াতকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ মনে করা হলে তা ভুল হবে।

শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিকে সহজে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এছাড়া মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা সম্ভবত পাটওয়ারীর ‘অভ্যাস’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন’ ও ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্যের কোনো জবাব দেওয়া সমীচীন মনে করছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, তাঁদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হবে। এ বক্তব্য ককটেল হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনি যার কথা বললেন, অসংলগ্ন এবং ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলা সম্ভবত তার অভ্যাস। এ বিষয়ে আমার পর্যায় থেকে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন মনে করছি না। আপনারা বিষয়টি বিশ্লেষণ করুন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন ৯ দলের ৯ দফা দাবি মেনে নিলে ককটেল বিস্ফোরণ হবে না, তাঁদের বক্তব্য থেকেই একটি বিষয় বোঝা যায়—দাবি আদায়ের জন্যই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দাবি মানার জন্যই ককটেল মারা হচ্ছে।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে জোটে ১১টি দল ছিল। চরমোনাই পীরের দল ও খেলাফত মজলিস বেরিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে তা ৯ দলে দাঁড়িয়েছে এবং দাবিও হয়েছে ৯টি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, এখন ওই ৯ দফা দাবি মেনে নিলে আর কোনো ‘ঠুস-ঠাস’ হবে না—এটাই তাঁদের বক্তব্য। তাঁর মতে, এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা প্রকাশ করছেন।

তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে সরাসরি পাল্টা মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যায়ের লোকের ভারসাম্যহীন ও অসংলগ্ন কথাবার্তার জবাব দিতে চাই না।’

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধের সঙ্গে রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার সম্পর্ক থাকার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেই তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিজেরা বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধের শর্ত হিসেবে রাজনৈতিক দাবি পূরণের কথা বলা হলে, ওই বক্তব্যের সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন উঠে আসে।

তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর বা তাঁর দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করে না; বরং তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যকে ভিত্তি করে তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।


নির্বাচিত

জামায়াতের উত্থান মানে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়া: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামীর উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াত অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করেছে এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। বর্তমানে দলটির ক্ষমতায় যাওয়ার অত্যন্ত উচ্চাভিলাষ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সচেতন তরুণ ও প্রগতিশীল জনসমর্থনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। জামায়াতের উত্থান মানে দেশকে একটি ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলা।

এ সময় জামায়াত-শিবিরের যেকোনো ‘আস্ফালনের’ বিরুদ্ধে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্বৃত্ত, পতিত ফ্যাসিস্ট এবং পতিত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলা ব্যক্তিরা ডিসেম্বর মাসে সরকার পতন করতে চায় বলে বলছে। একদিকে পতিত ফ্যাসিস্টরা, অন্যদিকে বিরোধী দলের মধ্যে থাকা কিছু ব্যক্তিও একই কথা বলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গে নুর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার সবেমাত্র সাড়ে ছয় মাসের মতো দায়িত্ব পালন করছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল লংমার্চ দিলে এর মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসার সুযোগ পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নুর। তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির একজন তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সারাদেশে তার অনেক তরুণ ভক্ত রয়েছে। তার প্রতি মানুষের সংহতি ও সমবেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা তার পাশে রয়েছে।

মিরপুরের ক্লিনিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে নুর বলেন, ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


নির্বাচিত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিলে-পটকা ফাটিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের কোথাও কোথাও পটকা ফাটিয়ে এবং ঝটিকা মিছিল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোথাও কোথাও পটকা ফাটাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ঝটিকা মিছিল করছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ তাদের বাংলাদেশের রাজনীতি করা। কাউকে এ মানিকগঞ্জের মাটিতে সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তারা সময়মতো অফিসে আসছেন এবং কর্মযজ্ঞ বেড়েছে। তার ভাষ্য, এতে দুর্নীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর কথাও বলেন তিনি।

তিস্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় চীনের সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুই ধরনের সমস্যাই মোকাবিলা করতে হবে। সুরমা নদীর পানি আটকে সিলেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের নিচে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতা তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ডলার দিয়ে এসব ব্যয় মেটাতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সারের বাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনো সারের ডিলার বাতিল করা হয়নি। তবে কিছু ডিলার সার চোরাই পথে বিক্রি করে সংকট সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পর বর্তমানে কোনো উপজেলায় সারের ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূরতাজ আলম বাহার ও গোলাম কিবরিয়া সাঈদ।

সভায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মানিকগঞ্জ শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলেও অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


নির্বাচিত

আইনশৃঙ্খলা অবনতির অপচেষ্টা রুখতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য সেখানে জড়ো হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছিল।

শনিবারের অভিযানে ২৭৮ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরিচয় যাচাই শেষে তাদের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী, আরও ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

জাসদের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো বৈঠক চলছিল না; দলটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তাদের দাবি, সভার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে আগেই জানানো হয়েছিল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাও প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠান ও একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতে এক পক্ষ দখলের চেষ্টা করলে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে গুলির খোসা ও কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছিলেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরে ভুক্তভোগী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের আইনগত ভিত্তি নেই। লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।

মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সংঘটিত ওই ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাসসকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ডিএমপি কমিশনারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন সামগ্রী ও আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে শুধু বদলি করাই শেষ পদক্ষেপ নয়। কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা এবং গ্রেপ্তারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ বরদাশত করা হবে না।

ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন নিয়ে এনসিপির এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটিকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বিষয়টি জনগণের মূল্যায়নের ওপর ছেড়ে দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

সামাজিক মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ঘটনার বিবরণসংবলিত ভিডিওটি যুক্ত করে ক্যাপশনে জামায়াত আমির লেখেন, ‘গভীর রাতে জুলাইযোদ্ধা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের বাসা ও স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হানা, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও তাণ্ডব।’

চাঁদাবাজ চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’


নির্বাচিত

অনলাইনে হুংকার না দিয়ে দেশে আসুন, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জামালপুরে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৬
জামালপুর প্রতিনিধি

অনলাইনে হুংকার না দিয়ে সাহস থাকলে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, হত্যাকারীদের বিচারের জন্য দেশে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে। বিচারের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউ অপেক্ষা করতে চায় না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুরে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শহরের শফি মিয়ার বাজার মোড় এলাকায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে দেশ বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, তাদের এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে। অনলাইনে হুংকার দিলে হবে না। সাহস ও বুকের পাটা থাকলে এখনই দেশের মাটিতে আসুন। আপনাদের জন্য ফাঁসির মঞ্চ ও বিচার রেডি আছে।

বিগত সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে ঢাকা শহরে কয়েকটি ব্রিজ ও ওভারপাস বানিয়ে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এখনো তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। অপশক্তিকে আদালতের কাছে সোপর্দ না করা পর্যন্ত রাজপথের এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।

জামালপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশে জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন এবং জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।


নির্বাচিত

গণহত্যায় জড়িতদের বিচারে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করা হবে না এবং অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে। গত ১৭ বছরে যারা গণতন্ত্রকে হরণ করেছে ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জবাব আসেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হোন—সরকার সেটাই চায়। অন্যান্য দেশে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরও দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারের স্বল্প মেয়াদের মধ্যেই বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সরকার সংবিধান সংস্কারে সবাইকে আহ্বান জানালেও একটি গোষ্ঠী তা উপেক্ষা করে রাস্তায় আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে বিএনপি সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণও ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধ এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে সীমিত পরিসরে দাম বাড়াতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জনগণের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তাৎক্ষণিকভাবে তা কমানো হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।


নির্বাচিত

নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর

পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গাজীপুর জেলা বিএনপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ী রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশগ্রহন করে। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথে থেকে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ফজলুল হক মিলন বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা নানা কৌশলে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু গাজীপুরের মাটি ও মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান, জেলা বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান পেরা, আব্দুল মোতালিব, হুমায়ুন কবির মাস্টার, আবু তাহের মুসল্লি, আক্তারুল আলম মাস্টার, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাসিবুর রহমান মুন্না এবং গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করে যা বললেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছাত্রীদের খেলাধুলা ও পোশাকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় সংশয় দূর করতে এবং বিভ্রান্তি নিরসনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ সংক্রান্ত নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়কে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, হলে সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, মেধার ভিত্তিতে আবাসন নিশ্চিত করা, ছাত্রীদের জন্য যানবাহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার মতো বহু ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় কাজ করেছেন সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদরা। তবে একজন মুসলিম হিসেবে শুধু দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে কাউকে শর্তহীন সমর্থন দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে ধর্মীয় অনুশাসন ও আল্লাহর বিধান মেনে চলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাম্প্রতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি উল্লেখ করেন, মূল আপত্তিটি কেবল খেলার আয়োজন নিয়ে নয়; বরং ছাত্রীদের সংক্ষিপ্ত ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করে খেলার আয়োজন এবং সেটিকে প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে উৎসাহ প্রদান করার মধ্যেই মূল সমস্যা নিহিত। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাদিক কায়েমকে বহু সাধারণ শিক্ষার্থী অনুসরণ করে থাকে। এছাড়া শায়েখ আহমদুল্লাহ, মিজানুর রহমান আজহারী, মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সমাবেশে ডাকসু ভিপির উপস্থিতি দেখে তরুণ সমাজ তাঁর সকল কর্মকাণ্ডকে ইসলামসম্মত মনে করতে পারে। ফলে এসব বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ডাকসু নেতৃত্বকে সতর্ক করতে সংশ্লিষ্ট আলেমদের জোরালো বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বিগত সরকারের উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জলাঞ্জলি দিয়ে কেবল উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়ার রাজনীতি সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করতে গিয়ে যদি ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানকে গৌণ করে ফেলা হয়, তবে সেই ক্ষমতার মাধ্যমে কখনোই ইসলামের প্রকৃত কল্যাণ সাধিত হবে না। পরিশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ধর্মীয় মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে সেই রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধেও তাঁদের স্পষ্ট ও আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

ফ্যাসিস্টদের বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বিরোধীদল: রুহুল কবির রিজভী

রাজধানীতে বিএনপির ৩টি বৃহত্তম সংগঠন– যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলগুলো ফ্যাসিস্টদের বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে বিএনপির ৩টি বৃহত্তম সংগঠন– যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেই দল গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মানুষের অধিকার হত্যা করেছে, তাদের বর্বরতা সবকিছুকেই হার মানায়। এই তরুণদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’

জামায়াত–এনসিপিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বিরোধীদল। যারা বাস ট্রেনে আগুন দেবে তাদের বিরোধিতা করছে বিএনপি। এই পরাজিত শক্তিদের আপনারা আশকারা দেবেন না।’

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমামদের ভাতা, বৃক্ষরোপণ, খাল খননের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার দেশ ও জনগণের জন্য অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা সরকারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, গালিগালাজ করছেন, লংমার্চ করছেন।’

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাংচুর এবং বিভিন্ন জায়গায় বাস–ট্রেনে আগুনের উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির জন্য তো আবু সাঈদ এবং মুগ্ধরা জুলাইয়ে জীবন দেয়নি।’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলছেন, রাষ্ট্রপতি–এমপি–মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির বিরোধীতা করবে। কিন্তু সরকার তো বেতন বৃদ্ধি করে নাই, আগে থেকেই এসব বলে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মাত্র ৩৫ জন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়েছে। এর আগে ১০০ থেকে ২০০ জন নিয়ে যাওয়ার প্রথা ছিল।’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেই মানবিক বক্তব্য দিয়েছেন তা সারা বিশ্বের শান্তিপূর্ণ মানুষের ও গনতন্ত্রকামী মানুষের। এমন সরকার কখনো সহিংসতার রাজনীতি করতে পারে না।’


নির্বাচিত

চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে: চরমোনাই পীর

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দেশথেকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এসময় রেজাউল করীম বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছাতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী যুব আন্দোলনকে দেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার সংগঠন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের সহকারী সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচারসহ সব হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান রেজাউল করীম। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৫-২৬ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মুফতি মানসুর আহমদ সাকীকে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও বায়েজিদ হোসাইনকে সহ-সভাপতি এবং মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, আদর্শবান যুবকরাই সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। যুব আন্দোলনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রুহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াসে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিএনপি সরকারকে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে তারা বাধ্য হবেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, একটি দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতি অনেকাংশে যুবশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ইসলামী যুব আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক শক্তি নয়, নৈতিকতায় সমৃদ্ধ আদর্শিক নাগরিক তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে এক কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের কথা বললেও বর্তমানে যুবশক্তিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনেরও দাবি জানান তিনি।

সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ইসলামী রাজনীতির আদর্শ নিয়ে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ইসলামের বিজয় ছাড়া মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়।

ইসলামী যুব আন্দোলনের বিদায়ী সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী যুব আন্দোলনের কর্মীরা ভূমিকা রেখেছেন। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসলাম, দেশ ও মানবতাকে ধারণ করে সব সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


নির্বাচিত

সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না: হামিম

ছবি: শেখ তানভীর বারী হামিম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না, তাদের কোনো সমাজ হবে না উল্লেখ করে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে জিএস পদে নির্বাচন করা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেছেন, ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ ওরা এ দেশের শত্রু।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন হামিম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক।

ফেসবুক পোস্টে হামিম লিখেছেন, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের সমাজ হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ ওরা এ দেশের শত্রু।

ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আনাসের রক্ত, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত। বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রতি একমাত্র প্রেম থাকবে যারা বিকৃত মনস্তাত্বিকতার অধিকারী তাদের। তবে কোনো দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষ যেন হেনস্তা না হয়।

ছাত্র শিবিরকে ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল দাবি করে হামিম বলেন, সাবেক ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছাত্রশক্তি ও সাবেক ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলব- দেশপ্রেমিকতার পরিচয় দিন, জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।

অতীতে ৭১ এ মাফ পেয়েছেন; জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের অংশ হয়ে দুর্নীতি করেও মাফ পেয়েছেন। এবার কিন্তু আর মাফ হবে না।


নির্বাচিত

banner close