বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’
বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।
‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’
তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।
‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’
তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।
তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।
দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।
তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।
দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
নতুন এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই নেতা মাঠপর্যায়ের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি করে উঠে এসে তিনি যুবদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও আন্দোলনমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা তাকে সংগঠনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দলের ভেতরে আলোচনায় আসেন।
নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। তার অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই দায়িত্ব পেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলকে আরও সংগঠিত ও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন।
একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি। এর আগে তাকে রুহিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, একটি মহল চেষ্টা করছে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার জন্য। এই অস্থিতিশীলতা যাতে না করতে পারে, তার জন্য আপনাদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান করছি। কারণ এই সময়ে যখন আমরা নতুন করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করছি তারেক রহমানের নেতৃত্বে, তখন যেন আমরা আবার বিভ্রান্ত না হয়ে যাই।
তিনি বলেন, যে কথাগুলো দিয়েছি, আমরা সেই কথাগুলো পালন করার চেষ্টা করছি। তারেক রহমান বলেছিলেন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচির কথা, সেই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। অন্যান্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রত্যেকটি পূরণ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন, এই সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস, এই তিন মাসের মধ্যে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম, আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলেন। আমি এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ, সব শ্রেণির মানুষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, তাদের সমর্থনে আজকে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
নারীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, নারীরা এমনিতেই সংগঠিত, তাদের আরও সংগঠিত হতে হবে। সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহর জানাজা ঢাকার বেরাইদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টায় বেরাইদ রহমতউল্লাহ স্টেডিয়াম ও বেরাইদ বড় মসজিদ মাঠে জানাজার পর মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।
বেরাইদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সাজেদুল হক সুজন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতুল্লাহকে বিকাল সাড়ে ৫টায় বেরাইদ কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে রহমতুল্লাহর মৃত্যু হয়।
রহমতুল্লাহর পারিবারিক সূত্র জানায়, বেশ কয়েক দিন ধরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতুল্লাহ আমৃত্যু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিজ জন্মভূমি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং হাজারো সাধারণ নাগরিক অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় আট মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার জীবনাবসান ঘটে।
গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন।গত কয়েক বছর ধরে তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, তোফায়েল আহমেদ যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন, তখনই তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। তোফায়েল আহমেদের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্বজনরা।
গোরখোদক আবু তাহের দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত মানুষের জন্য কবর খুঁড়ে আসছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তোফায়েল আহমেদের বাবা, মা, চাচা-চাচি, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনের কবর তিনি খুঁড়েছেন। আজ তোফায়েল আহমেদের কবর খুঁড়তে গিয়ে তার খুব খারাপ লাগছে।
ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘদিন পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাবাসী একজন অভিভাবক হারিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে: ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। শিক্ষাজীবনের শুরু ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। ইকবাল হল ছাত্র সংসদ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রসমাজের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, যখন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ভূমিকা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র চার প্রধানের একজন হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হন। মুজিবনগর সরকার গঠন, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন তিনি।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গ্রেপ্তার হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাবন্দি জীবন কাটান তিনি। কারাগারে থেকেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে দলকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তোফায়েল আহমেদ মোট ১২ বার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পথচলা বিস্তৃত ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জীবনের শেষভাগে রাজনৈতিক বাস্তবতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকলেও শেষ দিকে দলীয় রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব ও আড়ালে চলে যান তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থান, মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন ও বাস্তবতার মধ্যেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন ছাত্রনেতা, গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমসাময়িক নেতারা। ইতিহাসের নানা বাঁকবদলের সাক্ষী এই প্রবীণ রাজনীতিককে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছে তার জন্মভূমি ভোলা।
বাংলার রাজনীতির অন্যতম দিকপাল এবং মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি সংগঠক তোফায়েল আহমেদের অন্তিম যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটেয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অশ্রুসিক্ত ঢল লক্ষ্য করা গেছে। জানাজার পূর্বে এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মাটি ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই নেতাকে তার পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অনন্য সাধারণ। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। ঐ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক পথচলায় তোফায়েল আহমেদ ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থাকলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি জনসেবায় সক্রিয় ছিলেন। ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হওয়া এই নেতা কেবল ভোলার মানুষের প্রিয় অভিভাবকই নন, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। যাদের বয়স ৩০ হয়নি তারা উপদেষ্টা হয়ে দেশ-বিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে। সোমবার (০১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি আমাদের নতুন জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। এ দেশে অনেক চক্রান্ত করে গুপ্ত সংগঠন সৃষ্টি করে একটা রাজনৈতিক দল। তাদের লেখাপড়া নাই, খেলাধুলা নাই, সংগীত-সংস্কৃতি নাই, এমনকি রিয়েল ধর্ম পালনও নাই।
এনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘তারা শুধু কিভাবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে ছাত্রসমাজকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মিছিলে নিয়ে যাবেন। তাদের জীবনকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের ঘোচাতে পারবেন, সে চক্রান্ত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দুজন লোক যাদের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। কুমিল্লার ডিসিকে গিয়ে বলেছেন ১৫ কোটি টাকা দাও।
রাজস্ব ভাণ্ডারের টাকা না দিয়া উপায় নাই। আরেকজনের নাম হাসনাত আব্দুল্লাহ। উনি এখন এমপি। তিনি গিয়ে ডিসিকে বলছেন আমারে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দাও। এরা অমানুষ, চিটার-বাটপাড়। এদের মতো মানুষ ধ্বংস করার কোনো মেশিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্পের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই নেতা যদি সত্যিই এই টাকা না নিয়ে থাকেন, তবে যেন প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন।
রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের প্রশাসক তাঁর আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোর কপালে জুটেছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকা।
নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকার এমন অসমান বণ্টনকে উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এই নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।
অবশ্য বক্তব্যের শেষভাগে কিছুটা সুর নরম করে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, নেতারা এই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন—এমন দাবি তিনি করছেন না। বরং প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে, তিনি মূলত সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁ জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০মে) সকালে নওগাঁ শহরের কেডির মোড়স্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু,। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর ই আলম মিঠু, মোঃ শফিউল আজম ভিপি রানা এবং খায়রুল আলম গোল্ডেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রহমান রিপন।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। পরে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গভীর শ্রদ্ধাভরে এই মহান নেতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তার জীবনকালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।’
শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বিজয়ের পরে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসন-শোষনের জাঁতাকলে দেশের মানুষ ভয়াবহ অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়। মানুষের নাগরিক অধিকারগুলো হরণ করা হয়, গণতন্ত্রকে দেওয়া হয় কবর। নির্মম একদলীয় দুঃশাসন আইন করে চালু করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে মুছে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাচারী আক্রমণে। একদলীয় প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি করা হয় সারা জাতিকে।’
তৎকালীন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নৈরাজ্যের সেই সময়ে সিপাহি ও জনতা মিলিত হয়ে রাজপথে গড়ে তোলে প্রবল প্রতিরোধ। সিপাহি-জনতার মিলিত স্রোতে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি করা হয়। জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় অভিসিক্ত হন। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রসহ নাগরিক স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক সার্থকতা নিশ্চিত করেন। শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তার অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয় এবং অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।’
জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক শাহাদাত ও তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশবিরোধী চক্র তার বিরুদ্ধে নীলনকশা আঁটতে শুরু করে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারায় দেশবাসী। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোনাে ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে অবস্থান করেন। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াও আপসহীনতা নিয়ে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা করে। নিখাদ দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়াকে কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। তিনি সারা জীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে।’
বিগত শাসনামলের সমালোচনা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বন্দি করেছিল ফ্যাসিবাদের কারাগারে। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুম ছিল পতিত ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী। এ অবস্থায় অপরুদ্ধ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে ছাত্র, শ্রমিক, জনতাসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিঞ্চুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থীতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’ পরিশেষে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত চলছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এদেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয় নি, কখনো নিবেও না।’
এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।
রিজভী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবে দলটি। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব সহ্য করা হবে না, সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি চলবে না; যাদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকবে, কেবল তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান জননেতার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা দবিরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির আঙিনায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আদর্শে দীক্ষিত হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বিরল অনন্য কীর্তি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ সময় কারান্তরীণ থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলকে ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, কোরবানি কোন হত্যা নয় এটি সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। ত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। আজকের দিনে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন— আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে , মুসলমানদের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল মুসলমান যেন শান্তিতে থাকেন, যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে যেন ক্ষতি না হয় এই দোয়া করি। আমাদের কোরবানি যেন আল্লাহ তা’লা কবুল করেন। এ সময় সবাইকে, মনের কলুষতা পরিত্যাগেরও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।