বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’
বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।
‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’
তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।
‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’
তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।
তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।
দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।
তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।
দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালে রয়েল রিসোর্টে আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীল নকশা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সেই নীল নকশায় তারা নিজেরাই ফেঁসে গেছেন।
তিনি জানান, ওইদিন তৌহিদী জনতার তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কাউকে রয়েল রিসোর্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়ি ঘর ফেলে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাওলানা ইকবাল হোসাইন স্মরণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নামবে: মামুনুল হকপ্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নামবে: মামুনুল হক
মামুনুল হক বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধে মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল ফ্যাসিবাদি সরকার। সেই মিথ্যা মামলা বর্তমান সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২১ সালের রয়েল রিসোর্টের মিথ্যা মামলাসহ হেফাজতে ইসলামের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে।
তিনি বলেন, রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় দায়ের করা মিথ্যা মামলায় খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁও থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনের গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান প্রমুখ। এসময় খেলাফতে মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকমী উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের আগে বিএনপি অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিল উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, সরকার গঠনের ছয় মাসেও কোনও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ন্যূনতম লক্ষণ নেই।
চরমোনাই পীর দাবি করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। ৬ মাসে ২০ হাজার মানুষ বেকার এবং দৈনিক গড়ে ১০ জন খুন সরকারের ব্যর্থতারই সাক্ষ্য দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ হত্যার পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করলেও কোনও বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অপরাধ সংঘঠনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংঘঠনের আগেই অপরাধী নিষ্ক্রিয় হবে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে। জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সরকারকে বলবো, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।’
সংস্কারের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু এই বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতে সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।’
বিগত দিনে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার করা হয়েছে: রিজভীবিগত দিনে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার করা হয়েছে: রিজভী
সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমাদের দাবি ছিল, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সাধন করে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, যদি সরকার সংস্কার না করে তাহলে যে ভয়াবহ পরিণতির আশংকা তৈরি হবে তার দায় এই সরকারকে নিতে হবে।’
বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস দীর্ঘ। নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না উল্লেখ করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, মুজিব আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান নিখোঁজ হয়েছিলেন, আমরা এখনো তাঁকে পাইনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় থাকলেও এটি অনেকাংশে ২০০৯ সালের আইনের মতো মনে হচ্ছে। গুমসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।
ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না। স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা, জবাবদিহি এবং নির্দেশদাতাসহ প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সামনে প্রত্যাবাসন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও বাংলাদেশে তাদের শোষণ—এই তিনটি পথ খোলা আছে। তবে কোন পথ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। একইভাবে, গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
মাত্র ছয় মাস যেতে না যেতেই মানুষ বিএনপিকে নিয়ে অন্যভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, আমরা এখনই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও চাই না।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপির কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর শাখার সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দলটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।’
সারজিস আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ এরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটি গণহত্যা ঘটিয়েছে।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণহত্যাকারী, আওয়ামী লীগ খুনি। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিচাশ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না, আগামীতেও করতে চাই না।’
বিএনপিকে ঘিরে জনগণের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা এবং দলটির কর্মকাণ্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সভায় এনসিপির নেতা সরোয়ার তুষারসহ কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গুমের ঘটনায় সত্য উদঘাটন ও দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার পাওয়া, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিনে আমি বিশ্বের সকল গুমের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার প্রত্যেক ব্যক্তিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
রিজভী বলেন, গুম কেবল একজন মানুষকে তার পরিবার ও সমাজ থেকে অদৃশ্য করে দেয়া নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং জীবনের অধিকারের ওপর এক নির্মম আঘাত। বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা, তার ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে অসহনীয় যন্ত্রণা-তা কোনো পরিবারকে বহন করতে হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুম রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত স্তব্ধ করার এক ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার আজও জানে না তাদের প্রিয়জন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন কিংবা আদৌ ফিরে আসবেন কি না। তাদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আমাদের জাতীয় বিবেকের সামনে এক গভীর দায় হয়ে আছে।বাংলাদেশ অর্থনীতি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা আর কখনো নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না; যেখানে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে জবাবদিহির আওতায়; এবং যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভিন্নতার কারণে কোনো নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিপন্ন হবে না।আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আর কোনো গুম নয়, আর কোনো পরিবারকে অনন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
তিনি বলেন, যারা এখনও নিখোঁজ, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করতে হবে। যারা ফিরে এসেছেন, তাদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর যারা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তাদের পরিবার যেন সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার পায়-রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। গুমের শিকার সকল ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সংহতি জানাচ্ছি। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।
বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো ধরনের কর্মসূচি বা অনুষ্ঠান করতে পারবেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, স্থানীয়রা ভালোবেসে জামিয়াটিকে ‘আমাদের জামিয়া’ নামে ডাকেন। জামিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ঘটনা বা সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে দোকানদার, কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক ও নারীরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা রক্ষায় ছুটে আসেন।
হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ না করলে বি-বাড়িয়ায় কোনো প্রোগ্রাম করতে পারবে না—এটা পারবে না লিখে রাখেন, ফাইনাল।’
কেউ ‘হাসিনা স্টাইলে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষ্য, তখন শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠবে।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আঘাত পেলে যেমন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তেমনি ক্ষমা করতেও জানে এবং ক্ষমা করলে আপন করে নিতে পারে।
নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের আবেগ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানেন।
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা মন্তব্য করেছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। হাসনাত দুঃখ প্রকাশ করলে এসব মন্তব্যকারীরা আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাসনাতের শরীর নিয়ে করা মন্তব্যগুলো কোনো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে করা হয়নি। এ ধরনের মন্তব্যকারীদের নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘আমরা নায়েবে নবী, আমাদের প্রতিবাদও সুন্দর হওয়া চাই।’
পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত আবদুল্লাহকে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ হাসনাতকে ছোট করে কোনো সুবিধা নিতে চায় না; বরং তারা তাকে ভালোবাসত। হাসনাত ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধন করলে স্থানীয়রা তাকে আগের মতোই ভালোবাসবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াত এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে। তিনি বলেন, জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপি সরকার নাকি আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ আচরণ করছে বিরোধী দলের সঙ্গে। আমি জামায়াত নেতার বক্তব্যের ধিক্কার জানাই।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-এনসিপির এমপিরা সংসদে সরাকরি দলের এমপিদের মতো সুবিধা চাইছে। তারা কি সুবিধা পাচ্ছে না? জামায়াত ১৭ বছর তাদের কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেনি। তারা এখন আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণ জামায়াত-এনসিপির সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেবে না।
তিনি বলেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে ১১ দলীয় জোটের এমপিরা বিরোধিতা করেছে, হট্টগোল করেছে। বিরোধী দলের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুম হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করছে। তারা একদিকে গুম কমিশনে গুমের ঘটনায় বিচার চাইছে, আরেক দিকে সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটাই জামায়াতের চরিত্র।
রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপি যেদিন জামায়াতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, সেদিনই তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। সবাই এখন বলে, ‘যাহাই জামায়াত, তাহাই এনসিপি’। জামায়াত- এনসিপি মিলে দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালালে বাংলাদেশপন্থি জনগণ তাদের বরদাস্ত করবে না ইনশাআল্লাহ।
এর আগে বিকেলে রাশেদ খাঁনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামান, মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা তাদের সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ও বিএনপিসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলাম। সেখানে উল্লেখ ছিল, নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা এখন জুলাই সনদকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। সেপ্টেম্বরে ১৮০ দিন পূর্ণ হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত ইউনিট সভাপতিদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিকাল ৩টায় কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলে জেলা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য রাখেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা আশা করব, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধিবেশন ডেকে সে সনদকে বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায়, আমরা এদেশের জনগণকে নিয়ে সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সব উন্নয়ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ করা হচ্ছে, এটা অসাংবিধানিক। আজকে যদি, দেশে কোনো দলীয় সরকার না থাকতো, তাহলে প্রশাসক নিয়োগটা বৈধতা ছিল। কিন্তু এখন দলীয় নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তারা এটা পারে না। সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধির নির্বাচন করার সুযোগ দিলে জনগণের ভোগান্তি কমবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছে। তিনি সব মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে ছোট করে তিনি বক্তব্য রাখেন, অথচ তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে তার খেয়াল নাই।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। সব দিকে শুধু সরকারদলীয় লোকদের মারামারি দেখতে পাচ্ছি। দেশে উন্নয়নের বৈষম্য চলছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের আসনে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার এলাকায় সব উন্নয়ন করবে, উদ্বোধন করবে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদেরকে দারোয়ান হিসেবে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব প্রদান করেছে, যা বেমানান। এতে করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছে। তাহলে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদেরকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হোক।
কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলে পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে অঞ্চল সহকারী পরিচালক ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পরিচালনা শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়া।
এর আগে জামায়াতের ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান।
জামায়াতের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের রাজনীতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ সংস্কার শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ৬ মাস। রাতারাতি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের কিছু সময় লাগবে।
তিনি বলেন, অথচ বিরোধী দল ৬ মাস না যেতেই সরকারের বিরুদ্ধে লেগেছে, যেন সরকার দেশের জন্য কাজ করতে না পারে।
তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে। বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ এই ব্রিজে মরিচা ধরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।
দক্ষিণ সিটির উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি সংস্কার করা হয়েছে।
এটি চালুর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। যানবাহন চলাচল না করলেও এখন থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদে পায়ে হেঁটে পার হতে পারবেন স্থানীয়রা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে কোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন তিনি। নজরুল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণাও।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, কাজী নজরুলই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কেউ ষড়যন্ত্র করলে কাজী নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস। আমি এবং আমার দল আজকে নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
রিজভী বলেন, কাজী নজরুলের মত মহীরুহ প্রতিভা সম্পর্কে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে সেটি আবার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনি, তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বাণী বুকে নিয়ে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদেরকে নির্ভয় করে, সামনে এগিয়ে যেতে নির্ভীক করে।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ।
উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তার সাহিত্যকর্ম বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমেরও কবি।
ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উনি শিক্ষক হতে চাইলে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। যার ইচ্ছা সেখানে ভর্তি হতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনে বিরোধী দলের নেতা এসব কথা বলেন। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে সবাইকে কথা বলেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। ঠিক, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ, গিয়ে ভর্তি হবে, উনার লেকচার শুনবে।
এসময় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? মাননীয় স্পিকার, আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে, এইটা কোনো কালচার না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। ঠিক, এটা হওয়া উচিত না।
পল্টনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, উনি এই পল্টন আজকে নতুন করে বলেন নাই । আজকে আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এইটুকু করে আমরা বসবো। না হলে এখানে বসা-অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
জাতীয় পার্টিও (কাজী জাফর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার অংশ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ের আন্দোলনগুলোতে বিএনপির পাশে ছিল কাজী জাফর আহমদের জাতীয় পার্টি। আর কাজী জাফর আহমদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা। বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে রাজনীতিবিদেরা অনেক কিছু শিখেছেন।
স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন ও নওয়াব আলী আব্বাস খান এবং পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, ‘এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামলাতে বিরোধী দলের ৯০ জন এমপির কান্নাকাটি করা লাগছে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
বিরোধী দল ‘ছায়া মন্ত্রিপরিষদ’ গঠনের পর আজ প্রথম সংসদে গেছে, তাই তাদের মধ্যে একটা গরম ভাব রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণার পর আজকে প্রথম সংসদে গেছেন জামায়াতের আমির। ছায়া প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের একটা গরম আছে না? সেই গরমে একযোগে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকে অ্যাটাক শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সব এমপি দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কথা বলতে দেবেন না। কিন্তু সরকারি দলের এমপিরা বেশ ভদ্রতা দেখাচ্ছেন। তারা চাইলে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সময় হৈচৈ কিংবা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারতেন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আছে, সুতরাং বিএনপিকে দায়িত্বশীল হতেই হবে।’
রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামলাতে বিরোধী দলের ৯০ জন এমপির কান্নাকাটি করা লাগছে। সুতরাং সংসদে বিএনপির অন্য এমপি আছেন, তারাও যদি সালাহউদ্দিন আহমদের মতো বলা শুরু করেন, তবে বিরোধী দলের এমপিরা বলা শুরু করবেন—ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি, আমরা আর খেলব না।’
সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দিলে তারা কথা বলতে বলতে শিখে যাবে বলে জানান রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, এদের আর বেশি যুক্তিতর্ক দিয়ে ধরিয়েন না, মাঝেমধ্যে অযৌক্তিক কথা হলেও বলতে থাকুক। শুনতে ভালো লাগবে না, তার পরও তাদের বলতে দিতে হবে। বলতে বলতেই তারা শিখবে।’