বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’
বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।
‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’
তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।
‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’
তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।
তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।
দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।
তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।
দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের নিয়ে একটি দলের প্রধান অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছে, আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদল আয়োজিত মৌলভী ছাঈদুল হক স্মৃতি কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা অবমাননা করে, নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক চায় না, তাদের পক্ষে এদেশের নারী সমাজ থাকতে পারে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা এই অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে তারা নারীদের ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চায় কর্মস্থলে যেতে দিতে চায় না, তারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে কথা বলছে যাতে নারীদের কর্মসংস্থান না হয়।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এদেশে সাম্য, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সুবিচারের রাষ্ট্র বির্নিমানের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ও ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু একটি দল তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের জন্য অনেক নারীকে মনোনয়ন দিয়েছি। অথচ ওই দল জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ডেই বোঝা যায় তারা এদেশের নারী সমাজকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চায়; তারা নারীদের অগ্রগতি প্রগতি সমৃদ্ধি ও মর্যাদা দিতে চায় না। এগুলো হলো মধ্যযুগীয় ভাবনা।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমাদের দেশে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী তেমনি পৃথিবীর প্রায় দেশেও তাই। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছনে বা অন্ধকারে ফেলে রেখে কোনো দেশ বা পৃথিবী কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। তাই তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে নারী অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানান।
উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের নারী শিক্ষার প্রসারে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন বলেই আজ নারী শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। আমাদের নারীরা পর্দানশীন ও প্রগতিশীল। আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামীর বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রগতি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বিএনপির পরিকল্পনায় নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করবে মর্যাদাবান ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনবে বলেই দাবি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার।
এতে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্য সচিব আবুল কাশেম নুরী ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে। ভোট গণনা দেরির নামে কোনো পক্ষ যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এবার নাকি ভোট গণনা করতে সময় লাগবে—এমন নতুন গল্প শোনা যাচ্ছে। যদি কেউ ভোট গণনা দেরির নামে কোনো সুযোগ নিতে চায়, জনগণকে তা প্রতিরোধ করতে হবে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’
তারেক রহমান সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি যশোরে আসেন। জনসভায় তিনি যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তারা বাঁচার জন্য এখন বলছেন, তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। ওই রাজনৈতিক দল মিথ্যা কথা বলছে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের ক্যারেক্টার (চরিত্র)। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা–বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’
যশোরের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যশোরে একটি শিল্প আছে। সেটি হলো ফুল চাষ। গার্মেন্টেসের জামাকাপড় যেমন এক্সপোর্ট হয়, তেমনি আমরা ফুল বিদেশে এক্সপোর্ট করতে চাই।’
জনসভায় যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২ জন বিএনপি প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হকের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম প্রমুখ। যশোরের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর–৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
‘একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়’
একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায় বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এটি করতে হবে। শুধু এক ধরনের মানুষ নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা যায় না। দেশের ২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ। তাদের পেছনে রেখে যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এজন্যই খালেদা জিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন তারা কোনওভাবেই নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। তিনি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা এদেশের মানুষের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। নারীরা সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকেন। ৫০ লাখ নারী গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করেন। ওই নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মানিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-কে স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। দলটির একজন নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মান করেছেন। অথচ আমাদের মহানবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা ছিলেন একজন কর্মমুখী নারী এবং সফল ব্যবসায়ী।’
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যে দলের নেতা নারীদের এভাবে কথা বলতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায় তাহলে নারীদের কীভাবে অপমান অপদস্ত করবে তা ভাবা যায় না। এর উদাহরণ ১৯৭১ সালে দেখা গিয়েছিল। লাখ লাখ মা বোনকে এই দলের পূর্বসুরীরা অপদস্ত করেছিল। যাদের কাছে মানুষের আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের কাছে কখনও দেশ নিরাপদ হতে পারে না।’
জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের নিয়ে একথা বলার পরে যখন তীব্র নিন্দা, সমালোচনা শুরু হলো তখন তারা বলছে তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে। এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে আইডি হ্যাক হওয়ার মিথ্যা কথা এভাবে বলছে, অথচ তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্বাচনের আগে মানুষের সামনে তারা মিথ্যা তথ্য তুলে ধরছে। এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী। এরা দেশদরদী হতে পারে না। এদের দরদ শুধু নিজেদের লোকেদের জন্য।’
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়, জাতিকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকায় নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া মির্জা ফখরুল ওই ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর, শিমুলতলী, ব্যারিস্টার বাজার ও আখানগর ইউনিয়নের শুকানীপাড়া, দলুয়াপাড়া, কালিতলা বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী সভায় অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতের আমির সাহেব নাকি মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, বাজে কথা বলছেন। আমি ডিটেইল জানি না—সত্য নাকি মিথ্যা। তবে তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন, তবে অন্যায় করেছেন। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।’
একই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটাই এ রকম। ওরা তো নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না। তারা বলে মেয়েরা ঘরে থাকবে, কাজ করবে কী? যেসব নারী গার্মেন্টসে কাজ করেন, তাদের বলে দিয়েছেন ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারেন না। কাজ না করলে, তারা খাবে কী? জামায়াতে ইসলামী এ দেশটাকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়, পেছন দিকে নিয়ে যেতে চায়।
জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাধা দিয়েছিল। দলটি মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা করে নাই, উল্টো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল—তাদের কাছে কি দেশটাকে নিরাপদ মনে করতে পারি?’
দেশে একটা নতুন সুযোগ দেখা দিয়েছে এমন বার্তা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুশাসন, ন্যায়বিচার, ইনসাফ, হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দেশ হিসেবে আমরা এ দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ কারণে এবারে নির্বাচনকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।’
১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। এক কোটির ওপরে মানুষ ভারতে চলে গিয়েছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করেছিল একটি রাজনৈতিক দল, সেটি হলো জামায়াতে ইসলামী। এটা বলতে কি আপনারা ভয় পাচ্ছেন, ভয় পাবেন না।’
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি, খালি হাতে আসি নাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ব। বিমানবন্দর চালু করব। আমাদের ভাইবোনদের চাকরির জন্য কলকারখানা গড়ে তুলব। একটি ইপিজেড গড়ে তুলব। সনাতন আর মুসলিম ভাইবোনদের মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি করে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল অঞ্চলে তৈরি করব।’
গণসংযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক ও রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারীদের অপমান করেছেন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাতের কথা শুনলে বুঝা যায়, তারা ক্ষমতা পেলে নারী সমাজের দুর্দিন চলে আসবে।
সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতকে উদ্দেশে রিজভী বলেন, জান্নাতের কার্ড শেষ হয়ে গেছে? যে কারণে নারীদের ধরলেন! অল্প সময়ের জন্য শফিক সাহেবের আইডি হ্যাক হয়ে গেল?
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শফিক সাহেবের মন্তব্যে নারী সমাজকে অপমান করা হয়েছে। আপনাদের কথা শুনলে বুঝা যায়, ক্ষমতা পেলে নারী সমাজের দুর্দিন চলে আসবে।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আপনারা মন্ত্রী হননি? আর এখন বলেন, দলের প্রধান কোনো নারী হবে না। আপনারা কেন একজন নারীকেও মনোনয়ন দেননি?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে শফিকুর রহমানকে, নয়তো যেই আগুন জ্বলে উঠবে, সেই আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে জামায়াত। যেই মায়ের গর্ভ থেকে সবার জন্ম, সেই মায়ের জাতিকে পায়ের নিচে রাখতে চায় জামায়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ১২ তারিখে নারীরা বুঝিয়ে দেবে, তাদেরকে হেয় করে কোনো দল জিততে পারে না।
নেত্রকোনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল হকের সমর্থনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আব্দুর রহিম নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসে গাজী আব্দুর রহিম এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আব্দুর রহিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে মানুষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান। ১০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী আসন ভাগাভাগি নিয়ে মোনাফেকি করেছে। দলের জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে ঐক্যের অংশ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল হককে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ক্বারী সাইদুর রহমান, হাজী রজব আলী, মোহাম্মদ হোসাইনসহ অন্যরা।
দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারে এক অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
কখনও বিএনপির নাম নিয়ে, কখনওবা দলটির দিকে ইঙ্গিত করে আবার দলটির প্রধান ও অন্য নেতাদের নাম করে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে ভোটে জামায়াতে ইসলামীর জোট সঙ্গী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত। এসব বিষয়ে ইসির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একাধিক অভিযোগ জানায় এনসিপির এ প্রতিনিধি দল।
দলটির অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দল পূর্ব পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কয়েকটা দলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের দিন গত রোববার সিইসির সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধি দল আলাদা বৈঠক করে। পরদিন এনসিপি বৈঠক করল।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শেরপুরে জামায়াতে নেতা মারা গেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায়। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দেশজুড়ে হামলার ঘটনাগুলো ইসিকে অবহিত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এরকম ঘটনা ঘটছে, ইসির নিয়ন্ত্রণ নেই। যে দল ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র করে ঘটাচ্ছে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান বলেন, গণভোট নিয়েও বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
বিফ্রিংয়ের সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, আইনজীবী হুমায়রা নূর উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেছেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর উপজেলা শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন সরকার।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে দেশের জনগণ রয়েছে। ২৭৮টি আসনে আমরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’ তিনি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। তারা ইসলামের লেবাস ধারণ করলেও প্রকৃত ইসলাম অনুসরণ করে না। তারা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলেনি। প্রচলিত আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করে কখনো শান্তি আসতে পারে না।’
তিনি নবীনগরবাসীকে ইসলামী আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজুকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজু। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নবীনগরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
এ ছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফ, মাওলানা হাবিবুর রহমান মির্জা, মাওলানা মেহেদী হাসান ও মাওলানা আব্দুল মতিনসহ অন্য নেতারা।
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লা শহরে আর কোনো জেলখানা থাকবে না। শহরের মধ্যে জেলখানা শোভা পায় না, তাই এটি শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে কুমিল্লায় যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি নির্বাচিত হলে কুমিল্লার উন্নয়নে একটি বৃহৎ ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা বিভাগ গঠন কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে অবিলম্বে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংসদে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে ইপিজেড, যেখানে নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অচিরেই কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা তার অন্যতম পরিকল্পনার অংশ।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকায় সোমবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি ফ্রি হার্ট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে কড়াইল বস্তির আনসার ক্যাম্প মাঠে এই বিশেষ হেলথ ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও শারীরিক চেকআপ করানোর সুযোগ পান।
উদ্বোধনী পর্বে ডা. জুবাইদা রহমান নিজে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ১৯নং ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুল আলীম নকিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পের কার্যক্রম শেষে ডা. জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) কার্যালয়ে গিয়ে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা শোনেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু এবং বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্পের সমন্বয়ক ডা. জিয়াউল করিম। এ ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন এবং প্রফেসর ডা. খবির উদ্দিনসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ এই সেবামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মূলত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় এবং তারা প্রগতির পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে বিএনপি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নিজের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের রক্ষণশীল মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দলটি নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার বিরোধী। তারা চায় নারীরা কেবল ঘরের ভেতরেই বন্দি থাকুক। এমনকি পোশাক কারখানায় কর্মরত নারীদের কাজের সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার মতো অযৌক্তিক কথাও তারা প্রচার করছে। অথচ দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য এবং বিএনপি তাদের সমান অধিকারে বিশ্বাসী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবে তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সাহস ও নির্ভয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এখন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। বিএনপি সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন জনগণের হাতে। তাই ভোটের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল করা যাবে না। দেশকে আধুনিক ও প্রগতিশীল ধারায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চল জুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি জনসভাস্থলে পৌঁছান। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে সমবেত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক করতালির মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে উপস্থিত জনসমুদ্রের অভিবাদনের জবাব দেন।
জনসভার মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের মোট ১৪ জন প্রার্থী উপস্থিত রয়েছেন। এই মঞ্চ থেকেই তিনি এই অঞ্চলের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমীর এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪), মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬); সাতক্ষীরা থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪); এবং বাগেরহাট জেলা থেকে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২), শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)। এক মঞ্চে এই তিন জেলার শীর্ষ প্রার্থীদের সমাগম স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল শিল্পনগরী খুলনায়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যান্ডের তালে তালে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ খুলনা সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
খুলনার এই কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন উপশহর এলাকার বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের সেই জনসভা শেষ করে তিনি আকাশপথেই ঢাকায় ফিরে যাবেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী হাওয়া ধানের শীষের অনুকূলে নিয়ে আসবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনসভার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত রোববার রাজধানীর খিলগাঁও বাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ পরিচালনা করেন। প্রচারণা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপপ্রচার বা ধাপ্পা দিয়ে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল আগেভাগেই নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে আস্ফালন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনবিচ্ছিন্ন এই দলগুলো আসলে কোথা থেকে এমন শক্তি পাচ্ছে তা দেশবাসী জানতে চায়।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে নেই। নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে এককভাবে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কমিশন একচোখা নীতি অবলম্বন করে হাত গুটিয়ে বসে আছে, যা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটারের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল সংখ্যক ‘অদৃশ্য’ ভোটার কারা—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এসব ভোটারদের অবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তবে স্বচ্ছ ফলাফলের স্বার্থে অবিলম্বে এই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করলে কখনোই প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম ধর্মে কোথাও নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ধরণের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজর রাখতে তিনি সচেতন নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বিএনপি সরকারের সহনশীলতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম বিএনপির সমালোচনা করলেও দল তা মুখ বুজে সহ্য করেছে কারণ তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অথচ বর্তমান সময়ে একজন ‘অর্বাচীন বালক’ যেভাবে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে কথা বলছেন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেসের কণ্ঠরোধ করার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
খিলগাঁও বাজারের কর্মসূচি শেষে বিকেলে মির্জা আব্বাস আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিং এলাকায় উঠান বৈঠক করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতে তিনি পলওয়েল মার্কেটের পেছনে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারে গণসংযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে এক প্রীতি মিলন মেলায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। মূলত কারচুপি মুক্ত নির্বাচন ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান দাবি হিসেবে ফুটে উঠেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার খুলনা ও যশোর সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা দুটিতে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মঞ্চ থেকেই বৃহত্তর খুলনা জেলার মোট ১৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। জনসভাটি সফল করতে খুলনা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
খুলনার এই জনসভায় তারেক রহমান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। বিশেষ করে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় সচল করা, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তাঁর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানা গেছে। এটি মূলত আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের আঞ্চলিক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
খুলনার কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যশোর ক্রীড়া উদ্যানে (স্পোর্টস উদ্যান) আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশটি যশোরে তাঁর প্রথম সরাসরি কোনো রাজনৈতিক জনসভা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যশোর জেলা বিএনপি জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে শহরের মূল কেন্দ্রের বাইরে এই খোলা মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশে যশোর অঞ্চলের প্রধান সংকট ‘ভবদহ’ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমানের এই দ্বৈত সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও যশোরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৎপর রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই সরাসরি উপস্থিতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। মঞ্চ নির্মাণ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকা এখন নির্বাচনি স্লোগান ও তোরণে ছেয়ে গেছে। মূলত দক্ষিণ বাংলার মানুষের মন জয় করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।