বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

বিএনপির বর্ধিত সভায় শীর্ষ নেতারা ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৭:৫৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’

বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’

তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।

‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’

তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।

তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।

দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।

তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।

দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’


হাত পাখার নারী কর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলা, আহত ৩

আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর একই আসনের জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

এই ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামি আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত হাতা পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল ও তার দুইভাইসহ কয়েকজন নারী কর্মীদের নিয়ে পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ৯টার দিকে তার বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এ সময় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধ হয়ে হাত পাখার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিবসহ ৭ থেকে ৮ জন নারী কর্মীকে নিয়ে সকাল ৯টায় পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের প্রচারণায় বাঁধা দেন এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। এনিয়ে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে প্রথামিক চিকিৎসা দিয়েছেন।

ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জানান, জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে আমার নির্বাচনী প্রচারণা বানচাল করতে চায়। আমার এতে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করছে।

ঘটনার পর পরই জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন ও সোহেল তাদের মোঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামির আমীর অধ্যক্ষ মীর মোঃ শরিফ জানান, যদি আমাদের কর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে আমাকে ঘটনাটি অবগত করেছেন। তবে তারা নিজেরাই সমঝোতা করবে বলেও জানিয়েছেন।


কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জিয়ারকান্দি মাতৃছায়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তারা দলটিতে যোগদান করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যোগদান তিতাস ও হোমনা এলাকায় ধানের শীষের পালে নতুন হাওয়া লাগিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে এই যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে সেলিম ভূঁইয়া নবাগতদের স্বাগত জানান এবং দেশ পুনর্গঠনের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সরকারসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

যোগদানকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আজমল সরকার। তিনি তার যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, তিনি মূলত একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে দলের অভ্যন্তরে ভালো কাজের সুযোগ না পাওয়া এবং বারবার অবমূল্যায়নের শিকার হওয়ায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জোরপূর্বক তার ভোট ছিনিয়ে নিয়েছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

একই সময়ে দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া অপর নেতা মাজহারুল ইসলাম সরকার জানান, তারা মূলত তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও বলিষ্ঠ বক্তব্য শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি বলে তারা মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে মনে পদত্যাগের ইচ্ছা থাকলেও অনুকূল পরিবেশের অভাবে তারা তা করতে পারেননি। তবে গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বিকেলেই তারা বিএনপির পতাকাতলে আশ্রয় নেন।

এই যোগদান প্রসঙ্গে তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া জানান, বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক দল। যারা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এবং দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সামিল হতে চান, তাদের সবার জন্যই বিএনপির দরজা সব সময় খোলা থাকবে। তিতাসের জিয়ারকান্দিতে এই গণযোগদান ধানের শীষের বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সন্ধ্যার এই জনসভাটি শেষ পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলে রূপ নেয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


এ দেশের মানুষকে কেন্দ্র করেই বিএনপির সব পরিকল্পনা: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপির যা কিছু পরিকল্পনা, রাষ্ট্রভাবনা সবকিছুই এ দেশের মানুষকে কেন্দ্র করেই। আসুন সবাই মিলে সারা দেশে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এমন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে যেটা ছিল শহীদদের প্রত্যাশা এবং এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। ষষ্ঠ দিনের মতো মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক এলাকায় গণসংযোগকালে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সালাহউদ্দিন আহমদকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তায় চলে আসেন। তার আগমনে চারিদিকে মিছিলে, মিছিলে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। অনেকে ফুলের মালা, ফুলের পাপড়ি কেউ আবার দুহাত নেড়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেচ্ছা জানান এবং ধানের শীষে ভোট চান।

খিলছাদক স্টেশনে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রত্যাশা পূরণে ধানের শীষে ভোট দিন।

স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এ পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করলে দেশের মানুষ দেশের শক্তিকে পাবে কারণ বিএনপি এদেশের মানুষের রাজনৈতিক দল।

এ সময় চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


একটি দল স্বৈরাচারের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে

ময়মনসিংহে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোটের অধিকার না থাকায় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধান হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হতো। মানুষ চায় অসুস্থ হলে তারা যেন সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। মানুষ মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা চায়।

তারেক রহমান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ওই দলের দুজন সংসদ সদস্য পদত্যাগ না করে পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে বিএনপি দুর্নীতিকে সমর্থন করে না।

তিনি বলেন, তারা বলে—বিএনপি ছিল দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন। আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তাদের দুজন সদস্য তো বিএনপি সরকারের অংশ ছিল। যদি বিএনপি এতটাই খারাপ হতো, তাহলে ওই দুইজন কেন পদত্যাগ করলেন না? কেন তারা সরে দাঁড়ালেন না?

তিনি বলেন, তারা পদত্যাগ করেননি, কারণ সরকারের ভেতরে যারা ছিলেন,

তারা খুব ভালোভাবেই জানতেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে সমর্থন করতেন না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে মারাত্মক দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। যে দলটি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তারা নিজেদের নেতাদের সম্পর্কেই মিথ্যা প্রমাণ করছে। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের দুজন সদস্য সরকারে থাকা মানেই তারা নিজেদের লোকজন সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা বলছে, সেটাই প্রমাণ হয়’, যোগ করেন তিনি।

নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন জনসভাস্থল

জনসভায় উপস্থিতিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনা করতে একটি রাজনৈতিক দল জনগণের জন্য কী করবে, তার সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে। কীভাবে গ্রাম অঞ্চলে রাস্তাঘাট করতে হয়, চিৎকার মানোন্নয়ন করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষকে কীভাবে নিরাপদ রাখতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে কঠোর হাতে নিরাপদ রাখতে হয়, কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।’

চিকিৎসাসেবার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ময়মনসিংহের বড় সমস্যা চিকিৎসাব্যবস্থা। বিশেষ করে শিশুরা এবং মা-বোনদের অনেক চিকিৎসার সমস্যা বেশি। ঘরে বসে তারা যেন চিকিৎসা পেতে পারেন, সে জন্যই আমরা চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করতে চাই। হেলথ কেয়ারে চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

সব জেলায় অসংখ্য খাল রয়েছে উল্লেখ কলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালগুলো পুনঃখনন করে দেওয়া হবে। আগামী ১২ তারিখ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে খাল খনন শুরু করা হবে।’

এ সময় ১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পরে তিনি বিভাগের ২৪টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেন।

এদিন ২২ বছর পর ময়মনসিংহে আসেন তারেক রহমান। সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা জনসভায় যোগ দিতে নগরীতে আসেন দলে দলে। ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল করে অংশগ্রহণ করেন জনসভায়। বেলা আড়াইটার দিকে তারেক রহমানের মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি মঞ্চে ওঠেন ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে। মঞ্চে উঠে নেতা-কর্মী ও জনসভায় আগতদের অভিবাদন জানান। এ সময় নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন জনসভাস্থল।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করছেন—বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম—আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।

তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।

বক্তব্যে প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা স্লোগান দেন— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।


উন্নয়নই আমার নির্বাচনী পোস্টার, কাজ করে থাকলেই ভোট দেবেন: নূরুল ইসলাম মনি

পাথরঘাটার খলিফার হাট হাইস্কুল মাঠে নূরুল ইসলাম মনির জনসভায় জনতার ঢল
আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৪৪
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পাথরঘাটায় জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নূরুল ইসলাম মনির জনসভা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পাথরঘাটার খলিফার হাট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভাটি শুরু হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা জনসভা থেকে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশ নেন।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি সবসময় কাজ করেছি। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সবই করেছি। জেলেদের জন্য চালের কার্ডের ব্যবস্থা করেছি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ আমার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আমার করা উন্নয়নই হলো- আমার নির্বাচনী পোস্টার, আমি যদি কাজ করে থাকি আপনাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকি তাহলে আমার কর্মের জন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সকল মৌলিক সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। অথচ একটি দল এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে; কিন্তু তারা নিজেরা জান্নাতে যাবে কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জনগণ এখন আর মিষ্টি কথায় ভুলবে না। যারা এই বাংলাদেশই চায়নি তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তারা বেফাঁস কথাবার্তা বলে মা-বোনদের বেইজ্জতি করছে। আমাদের ইসলামধর্মকে নিয়ে তারা ভণ্ডামি করছে। তাদের সমগ্র দেশের মানুষ বয়কট করবে আপনারা দেখবেন।’

জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ।


বৃহস্পতিবার ১৯ বছর পর তারেক রহমান বগুড়ায় আসছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বগুড়ায় আসছেন। তার আগমন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। পুরো জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। তাকে এক নজর দেখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মুখিয়ে আছেন। তার জনসভায় লাখের অধিক মানুষের সমাগমের আশা করা হচ্ছে বলে জানান নেতারা।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ তারিখে তিনি রাজশাহীতে বিমানযোগে পৌছাবেন। সেখানে জনসভা শেষে নওগাঁ, পরে তিনি বগুড়া আদমদিঘী ও কাহালু হয়ে বগুড়ায় এসে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন এবং রাত্রী যাপন করবেন। পরের দিন আগামী শুক্রবার বগুড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরবেন, ভোটরদের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন এবং ১০টি ইউনিয়নে ঘুরবেন। পরে তিনি সাবগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যে পিতৃভূমি গাবতলীতে যাবেন, সেখাসে ১২টি ইউনিয়ননের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথেকথা বলবেন। শেষে শাজাহানপুর হয়ে তিনি তার পরবর্তী গন্তব্যে পৌছাবেন।

এদিকে জনসভার নির্ধারিত স্থান আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, তারেক রহমানের এই সফর দলীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে তিনি বগুড়ার জনসাধারণের সামনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরবেন।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা জানান, গত ১৭ বছরে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। আমরা চাই সর্বোচ্চ ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা। সারাদেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে ভোটে তাকে পুরস্কার করতে চাই। তারেক রহমানের সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বগুড়ার মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। আমরা আশা করছি এটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। তারেক রহমানের সফর আমাদের নতুন শক্তি দিচ্ছে। তার এ সফরকে ঘিরে শুধু বিএনপি নয়, এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি, তারাও সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় যাওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। কিন্তু বিএনপির চেয়ারম্যানের সেই সফর কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

ঢাকা ১৭ আসনের পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন।


নীলফামারীতে সাবেক মেম্বার-শিক্ষক-ব্যবসায়ী বিএনপিতে যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গোড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে কীর্তনীয়া পাড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল, সাবেক সভাপতি আ খ ম আলমগীর সরকার বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, নীলফামারী জেলাকে রংপুর বিভাগের মধ্যে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাইপাস সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক ইউপি সদস্য আকবর আলী, শিক্ষক হুমাউন কবির, ব্যাবসায়ী জিয়া ইসলামসহ তিনজন বিএনপিতে যোগদান করেন। জনসভায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।


চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে দেশের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে এবং সবকিছুর জন্য তাকে দায়ী করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের নানামুখী অভিযোগের জবাব দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটাও নাকি হুমকি। এটাও আমার দোষ। কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।’

প্রতিপক্ষের উস্কানি ও প্রচারণার ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি তাদের কথায় ভীত। যে যত কথাই বলুক, আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না। আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ, আর কী করবে, সেটা বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।’ নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও এলাকার মানুষের সঙ্গে নাড়ির টানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এ এলাকার মানুষ হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি।’

সাবেক এই মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা ও জনসেবার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু যা পারবো না, তা কখনো আশ্বাস দিইনি। মিথ্যা আশ্বাস দিই না। আমি ফেরেশতা না, তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।’ নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কী? আমি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আজ লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়েতে গেছেন? আবার বলেন, আমার এলাকা।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ ও প্রতিপক্ষের হুমকির জবাবে তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘একজন বলছে, চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।’ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’ মালিবাগ ও গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগ শেষে তিনি মৌচাক ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত পদযাত্রা করেন এবং বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন।


বিএনপি প্রার্থীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, নাটোর জেলা বিএনপি নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য রঞ্জিত কুমার সরকারকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এিই তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রঞ্জিত কুমার সরকার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং তার বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানা, একজন বিএনপি নেতা হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য রঞ্জিত কুমার সরকারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যারা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশনসংলগ্ন কড়ইতলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনি সভায় রঞ্জিত কুমার সরকার তার বক্তব্যে নাটোর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।


দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতি করতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে নিজেরা দুর্নীতি করবো না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। সবাইকে নিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বো। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে মাগুরা আদর্শ কলেজ মাঠে জামায়াতের পথ সভায় কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজদের টাকা এনে দেশের উন্নয়ন করা হবে। নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। পাঁচ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে পাল্টে দেওয়া হবে।

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমীর দশ দলীয় জোটের মাগুরা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মুস্তারসিদ বিল্লাহ বাকেরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা- ১ আসনের দশ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল মতিন সহ জোটের নেতারা।


প্রচারণায় ডিম নিক্ষেপ, মির্জা আব্বাসকে দায়ী করলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুনরায় ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অভিযুক্ত করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচ তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাস ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা করিয়েছেন। আজকের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হলো মির্জা আব্বাস এখনো সন্ত্রাসের রাজনীতি ছাড়তে পারেননি। তার বাহিনীর এই কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের সামনে তার আসল চেহারা উন্মোচন করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, "দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপরাধে মির্জা আব্বাসকে অবিলম্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের অনুরোধ জানাচ্ছি।" তিনি এই ঘটনার বিচারভার জনগণের ওপর অর্পণ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, "আমি এই হামলার বিচার দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দিলাম। ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই এই গুণ্ডামির জবাব দেবেন। ঢাকা-৮ আসনের সচেতন জনগণ ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজেদের রায় জানিয়ে দেবেন।"

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম জানান, কলেজে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় এই হামলার সূত্রপাত হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামিল আবদুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের অনুসারীরাই শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। ওই সময়কার ভিডিও চিত্রে এক পক্ষকে ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং অন্য পক্ষকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়, যা পুরো ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

এদিকে নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে বলেন, "আজকে যেটা হয়েছে, সেটি খুবই দুঃখজনক। এটি অস্বীকারের চেষ্টা আরও বেশি ন্যক্কারজনক। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে। মির্জা আব্বাসের নির্দেশে তারেক রহমানের সম্মতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। একদিকে মঞ্চে উঠে ভালো ভালো কথা বলবেন, অন্যদিকে বিরোধীদের সন্ত্রাসী কায়দায় দমন করবেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসন করবেন, সেটি হতে দেব না।" তিনি একই সাথে নির্বাচন কমিশন, কলেজ প্রশাসন এবং বিএনপির নিকট এই ঘটনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, অন্যথায় রাজপথে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। সামগ্রিক বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে।


একটি দল বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছে: বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি কার্ডের তথ্য ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডকে ষড়যন্ত্র ও কারচুপির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, দু-একটি রাজনৈতিক দল তারা তাদের ভোটের রাজনীতিতে বিভিন্ন অপপ্রচার, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নম্বর নিচ্ছে বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, যাতে সেই এনআইডি নম্বর দিয়ে তারা এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ভোটের মাঠে কারচুপি করতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে নির্বাচনী জনসংযোগকালে গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেন।

নির্বাচনী মাঠে অবৈধভাবে অর্থের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে গত দুই দিনের। তাঁরা কিছু কিছু জায়গায় গিয়ে বিকাশে টাকাটা দিয়েছে। বিকাশে না দিতে পেরে অনেক জায়গায় দেখা গেছে, তারা হাতে হাতে ৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে জামায়াতের কর্মীরা ক্ষেত্রবিশেষে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই বিষয়ে এলাকাবাসীকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে–ই হোক না কেন, যদি আমার নামও বলে যে এনআইডি কার্ড বা মোবাইল নম্বর দেন। তখনো যাতে এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর না দেওয়া হয়। কারণ জামাত (জামায়াতে ইসলামী) এ কাজটি করছে।

জামায়াতের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে অবগত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তারা আমাদের নাম ধরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। গিয়ে বলছে, বিএনপি থেকে আমরা আসছি। আপনার এনআইডি নম্বর দেন, আপনার মোবাইল নম্বর দেন। এ ধরনের মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা করছে। এ জন্যই আমি বলতে চাই, যদি আমার নামও ব্যবহার করে, কেউ কোনো এনআইডি নম্বর বা মোবাইল নম্বর দেবেন না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমিনুল হক জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে বিএনপি দমন-পীড়নের বদলে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রাজনীতি কায়েম করবে। এদিন তিনি মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা, ঝুটপট্টি ও বেনারসিপল্লিতে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজের পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আসেন। কিন্তু শুরুতেই গেটে তাকে কলেজের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে অনেক ধস্তাধস্তি হয় সেখানে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে একের পর ডিম নিক্ষেপ করা হয়।


banner close