সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

বিএনপির বর্ধিত সভায় শীর্ষ নেতারা ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৭:৫৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম, ওলামা পীর মাশায়েখ তথা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে এক ধরনের ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপির বর্ধিত সভা আজ দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা কিংবা কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করছি। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব আর সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিলো সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল রাজনৈতিক দলকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।’

বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে, যারা শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন, সন্তান-স্বজন হারিয়ে যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যাদের শ্রম ঘাম মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, আজকের বর্ধিত সভার শুরুতে তাদের প্রত্যেকের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সাহসী বীর আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদ এবং বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই সুযোগ এবং সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়েই রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এসবই ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে বিএনপি সরকার স্কুল কলেজে বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখতে বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলোও ছিল রাষ্ট্র ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এ ধরনের আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচারের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। অকার্যকর করে দেয়া হয়েছিল দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাহীন করে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

‘এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বিএনপি ২৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঘোষণা করা হয় ৩১ দফা কর্মসূচি। এই ৩১ দফা নিয়ে বর্তমানে বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে জনগণের সঙ্গে সংলাপ চলছে।’

তারেক জিয়া বলেন, রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল মেরামতের জন্য দফা ৩১টি হলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি। সেটি হলো একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্যও একটি। সেটি হলো রাষ্ট্র ও সমাজে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্র-নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি কোনটিই টেকসই হবে না।

‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোনোই বিকল্প নেই। রাষ্ট্র এবং সমাজে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পূর্ব শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন। এবং এ লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বারবার জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়।’

তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির এই ৩১ দফা হচ্ছে, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সনদ। তবে এই ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র-সরকার-রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য এই ৩১ দফাতেও সংযোজন-বিযোজনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার খুব বেশি ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ নেই।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করলেও ‘জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে কোনো কোনো উপদেষ্টার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য হতাশার কারণ হয়ে উঠছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নিঃশর্ত সমর্থন থাকলেও সরকার এখনো তাদের কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, সারাদেশে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়েই চলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেখানে দেশের বাজার পরিস্থিতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারছে না সেখানে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের নামে কেন দেশের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে চাইছে এটি জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটি হবে সারাদেশে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া যা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী। গণহত্যাকারী, টাকা পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার এই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণহত্যাকারী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহবান, সারাদেশে গণহত্যাকারীদের দোসর, মাফিয়া চক্রকে পুনর্বাসনের ‘স্থানীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুন। অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট ‘কর্ম পরিকল্পনার রোডম্যাপ’ ঘোষণা করুন।

তিনি বলেন, মাফিয়া প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এ পর্যন্ত ১৬/১৭টি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি সকল নতুন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে স্বাগত জানায়। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রহণ কিংবা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে জনগণ। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ‘জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সবার আগে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষতাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি। কিন্তু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যেই জনমনে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে । নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আরো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাই।

দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও যোগাযোগ এবং কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমি কখনোই আপনাদের কাছ থেকে দূরত্ব অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি যে দলে আপনাদের মতো ত্যাগী এবং সাহসী নেতাকর্মী রয়েছে সেই দলকে কোনো স্বৈরাচার-ই দমিয়ে রাখতে পারে না।'

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটিই পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করে বর্তমান বিশ্বে স্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু নেই, উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটি দেশের সঙ্গে অপর দেশের সম্পর্ক হবে ‘পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ নিজ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাই হতে হবে প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপির কাছে জনগণের যেমন আশা ভরসা প্রত্যাশা রয়েছে, একইসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও থেমে নেই। চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করে কিভাবে দলকে আরো শক্তিশালী এবং সুসংহত করা যায় সেই সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার। এই পরিবারের নানা বিষয়ে আমাদের মতের অমিল থাকতেই পারে। আমরা সবাই আমাদের ঐক্যের শক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত। ঐক্যই আমাদেরকে বারবার বিজয় আর সফলতা এনে দিয়েছে। গত দেড় দশকে সারাদেশে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের ভিন্ন দল এবং মতের নেতাকর্মীদেরকে অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। কেবল বিএনপিরই প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড়লাখ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো অনেক নেতাকর্মীর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থককে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছে। তবুও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ দল ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচারের সঙ্গে করেননি আপোষ। এই সৎসাহস এবং সততার কারণে বিএনপি আজ শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলই নয়। দেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড হিসেবে বিশ্বাস করে। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।

তারেক রহমান বলেন, দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আচরণে হতে হবে আরো সতর্ক ও সংযত। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি নেতাকর্মী সমর্থকের এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা কর্মী হয়তো নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আমি আপনাদের আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।

দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ হবেন ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়েই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজকে বিএনপি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

জাতীয় নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, বিএনপি শুধুমাত্র আপনাদের ভোটের পুনরুদ্ধারই নয়, আপনার ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আপনাদের সমর্থন পেলে বিএনপি এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার আপনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমি জনগণের সমর্থন চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।’


নির্বাচিত

সরকারের ব্যর্থতায় অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে ইশরাককে: আখতার হোসেন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের অকার্যকারিতার কারণেই ইশরাক হোসেন অস্ত্র প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের অকার্যকারিতার কারণেই ইশরাক হোসেন অস্ত্র প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘শুধু তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, সরকারের এমন কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’

সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এটি স্পষ্ট। বিভিন্ন জায়গায় মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ইশরাককাণ্ডের মধ্য দিয়ে আবার সামনে এসেছে।’

আইনপ্রয়োগকারী দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেশের মাদক নির্মূলের জন্য যেসব সংস্থা রয়েছে, সেগুলোও অকার্যকর অবস্থায় আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অকার্যকর অবস্থায় আছে। বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কারণ যেসব মাদক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেগুলো প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যতের করণীয় বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘ইশরাকের পদত্যাগ কী শুধু অস্ত্র সামনে নিয়ে আসার বিষয়, নাকি এর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও কোনও বিষয় রয়েছে? সে প্রশ্নও সামনে আসছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তগুলো সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

দখল বাজি-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি: ইশরাক

কোনো ধরনের জমি দখল বা চাঁদা তুলেতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি বলে স্পষ্ট করেছেন সদ্য পদত্যাগী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো ধরনের জমি দখল বা চাঁদা তুলেতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি বলে স্পষ্ট করেছেন সদ্য পদত্যাগী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকার ঘুণ্টিঘর মাদকের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হইনি।’

এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের অনুরোধে আমি শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে যাই। যা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের পরে বিষয়টি জানাই। তারা পরে ঘটনাস্থল গিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে।’

ওই এলাকার অপরাধপ্রবণতা ও অতীত সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। ওই দিন পূর্বনির্ধারিত অভিযান ছিল।’

অভিযান চলাকালে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ওই দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২০-৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকে। কয়েকজন আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসে। এ সময় আত্মরক্ষাতে আমার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে নিই। নিশ্চিত হই তাদের হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র আছে কি না। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হলে আমার অস্ত্রটি পকেটে রেখে দিই।’

অভিযানের ফলাফল সম্পর্কে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সেদিন প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক উদ্ধার করি। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে পুলিশ আটক করে।’

গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও বিভিন্ন হেডলাইনে প্রকাশ করে আমার ও আমার দলকে বিব্রত করা হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।’

পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ‘এক পর্যায়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। ইস্যুটি নিয়ে দল বিব্রত হওয়া আমি পদত্যাগ করতে চাই।’

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি। শুধু আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় আমার অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।’


নির্বাচিত

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক হোসেন

বিশেষ কিছু কারণে তাকে এই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই ও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর তৈরি হওয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে মন্ত্রিসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তবে কী সেই বিশেষ কারণ, সে বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো ধরনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রিসভা ছাড়ার এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তিনি।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন যে, বিশেষ কিছু কারণে তাকে এই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই ও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মূলত মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই আজকের এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আজ তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে তাকে সরানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা না থাকলেও মূলত বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি আরও অনেক বেশি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।

এর মধ্য দিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের পর অবশেষে বিএনপি সরকারের মাত্র আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় সরাসরি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন এই প্রতিমন্ত্রী। এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ব্যাপক বিতর্কের মুখে রোববারই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সেই কঠোর নির্দেশনা মেনেই সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন ইশরাক হোসেন।

এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজেই দুপুর দুইটায় প্রেস ক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, ফেসবুকে কিছু তথাকথিত সুশীল ব্যক্তিকে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন বা সংগ্রামের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।

নিজের পোস্টে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেও ভবিষ্যতে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় শতগুণ বেশি উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রীর কোনো দাপ্তরিক পদে থেকে নয়, বরং একজন সাধারণ বিএনপি কর্মী হিসেবেই তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এছাড়া তার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারবেন বলেও জানান।

ফেসবুক পোস্টের একেবারে শেষাংশে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্লোগানের সুরে লিখেছিলেন যে মন্ত্রী হওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা এবং এই মাদক নির্মূলের লড়াই চলবে।

এর আগে রোববার রাতেই ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সে সময় প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই তথ্যকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

বিষয়:

নির্বাচিত

দুপুরে প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

অস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, আজ দুপুর দুইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতায় অংশ নেবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলা বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে ইশরাক হোসেন লেখেন যে তিনি ফেসবুকে কিছু সুশীল ব্যক্তির উল্লাস করতে দেখেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন বা সংগ্রামের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুদূর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।

তিনি আরও পরিষ্কার করে লেখেন যে এখন থেকে সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রীর কোনো দাপ্তরিক দায়িত্বে নয়, বরং দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি উদ্দীপনা ও শক্তি নিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।

এছাড়া তার গৃহীত বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারবেন বলেও জানান।

ফেসবুক পোস্টের একেবারে শেষাংশে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্লোগানের সুরে লেখেন যে মন্ত্রী হওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য হলো সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা এবং এই মাদক নির্মূলের লড়াই অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবকল্যাণ ও মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করতেও সংগঠনটি কাজ করছে।

রোববার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বিদ্বান ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ ও মানবসেবা।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, হামসহ বিভিন্ন সংকটের সময় ফাউন্ডেশন আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাঞ্চল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বন্যার সময়ও সংগঠনটি ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। যারা পা হারিয়েছেন, তাদের কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ করে দেওয়ার মতো কাজও করেছে সংগঠনটি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের মানুষ এ সংগঠন থেকে আরও কার্যকর সেবা পাবে।

দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যায় না। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

তিনি বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

ভবিষ্যতেও ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জেডআরএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, মনিটর, সমন্বয়ক, আজীবন সদস্য এবং প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।


নির্বাচিত

ফেইক আইডিতে গুজব ছড়িয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘এই সরকার পাঁচ বছরের জন্য এসেছে, নির্ধারিত সময় পূর্ণ করেই যাবে।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান সরকার সাত মাস ধরে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন এবং বিশেষ নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়ে আলাদাভাবে বলতে হয় না; তিনি জনগণের মনের কথা বোঝেন। সরকার দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কুৎসা রটিয়ে কোনো ফায়দা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে দলীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে শতভাগ কাজ করে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। সময় এলে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষয়ের সমন্বয়ে প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গণঅধিকার পরিষদের উত্তর শাখার সহসভাপতি মিজানুর রহমান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি কালাম পঞ্চাইত, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম খান ও যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমরান শাহিনসহ বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ বছর দশমিনা উপজেলায় ১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার সদর এলাকার নলখোলা শ্রীশ্রী কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

বান্দরবানে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতাকে অব্যাহতি

শৈক্যসিং মারমা। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বান্দরবানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে এই অব্যাহতি একইসঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা নোটিশে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে শৈক্যসিং মারমাকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরো বলা হয়, কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের কাছে জমা দিতে হবে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা শহরের শিশু পার্কসংলগ্ন সাইনি রিসোর্টে এক মারমা তরুণীকে টাকা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শৈক্যসিং মারমার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে শনিবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


নির্বাচিত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দাবি এনসিপির

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির কার্যালয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তিন দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দপা দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি যাবে না। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।


নির্বাচিত

দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্গাপূজাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রতিটি উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন রিজভী। এ সময় মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

রিজভী জানান, এবার প্রতিটি মন্দিরে আট হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি ও সরকার যৌথভাবে বিভিন্ন মণ্ডপের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছে। উৎসবের সময় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা তিনদিন ছুটি চেয়েছিলেন, সেই জায়গায় পাঁচদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চাল দেওয়া হয়, সেখানে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে প্রতিটি মন্দির আট হাজার করে টাকা পাবে এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা তারেক রহমানের সরকার করেছেন, যোগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

বিএনপি ৫ বছর দেশ শাসন করলে আমরা দুর্ভিক্ষে মারা যাবো: রাশেদ প্রধান

ছবি: জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে যেটা বুঝি, সেটা হচ্ছে—এই নতুন জালেম বিএনপি তেলের দাম, গ্যাসের দাম, সিলিন্ডার, সার সংকট, সিন্ডিকেট, দলীয়করণ, এদের অপকর্ম বলে শেষ করা যাবে না। তিনি বলেন, বিএনপি যদি পাঁচ বছর বাংলাদেশে শাসন করে, আমরা দুর্ভিক্ষে মারা যাবো বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাগপার জেলা শাখা আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাশেদ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্ভিক্ষে মরার জন্য আসিনি। আমার প্রাণের সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা লাইন আমি ধারণ করি। ওরাও বলে, ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমিও বলি। আমরা তো ওই শহীদি তামান্না নিয়ে এসেছি। আমাদের চোখ রাঙানি দেখিয়ে লাভ নাই।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকার কথা জানিয়ে জাগপার এই মুখপাত্র বলেন, বাংলার মাটি ভারতের অঙ্গরাজ্য হবে না। এ দেশের মাটিতে নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্রকে আমরা কায়েম হতে দেব না।

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ প্রধান বলেন, আমার এই উত্তরবঙ্গ শুরু থেকে অবহেলিত। রংপুর বিভাগ আর রাজশাহী বিভাগ—আমি তো রাজশাহী শহরটা ব্যতিরেকে রাজশাহী বিভাগ এবং পুরো রংপুর বিভাগে কোনো উন্নয়ন দেখতে পাই না। হাইওয়ের কিছু রাস্তা পাকা হলেই বলে দেওয়া যায় না যে ওই জেলা উন্নত হয়ে গেছে। আমি কোনো উন্নয়নের ছিটেফোঁটা দেখতে পাই না।

তিনি বলেন, উন্নতিটা তো আমাদের ঘটাতে হবে। আমরা এই অঞ্চলের মানুষ হিসাবে যেটা বলতে পারি, ওই সময়েও আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছিলো এই উত্তরবঙ্গ থেকেই তো আবু সাঈদ। ​আমরা তো যুগে যুগেই প্রস্তুত আছি শহীদ হওয়ার জন্য, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা নতুন করে নামার জন্য প্রস্তুত আছি, শহীদী তামান্না নিয়ে তৈরি আছি। জুলাই যদি আবার নামাতে হয়, তাহলে আমরা আবার নামবো।

রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমি একটা জিনিস স্পষ্ট করতে চাই, এই যুদ্ধটা ১১ দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধটা জামায়াতকে ক্ষমতায় নেওয়ার যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধটা বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধটাতে আমাদের জয়যুক্ত হতেই হবে।’

ক্ষমতার প্রতি নিজের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমার সামনে ক্ষমতা কোনো বিষয় নয়। ওপরে আল্লাহ আছে, আল্লাহর কসম করে বলতেছি, আমি খালি মরার আগে এইটুকু দেখতে চাই এই দেশটা পরিপূর্ণ স্বাধীন এবং সার্বভৌম। এই দেশটার এক ইঞ্চির মধ্যেও ভারতীয় আধিপত্য নাই, দেশটার মধ্যে মানবিকতা আছে, ইনসাফ আছে। আমি এটা চাই, আমি ক্ষমতা চাই না। আমি সেই মানুষ।

আমাকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাগপার মুখপাত্র বলেন, আমাকে ভয় দেখায়ে লাভ নাই।আমার বাসা যখন হামলা করে নব্য জালেম বিএনপি, আমি তখন ভয় পাই না। আমাকে ভয় দেখানো এত সহজ না। আমার মৃত্যু যেই সেকেন্ডে লেখা আছে, আমি সেই সেকেন্ডে মৃত্যুবরণ করব। কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না। আর ওই সেকেন্ডের এক সেকেন্ড আগে ইন্ডিয়ানরা, বিএনপি, আওয়ামী লীগকে আমাকে মারতে পারবে না, আমি এটা জানি। আর মরব তো একবার।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আ স ম সায়েম, খেলাফত মজলিস নওগাঁর সভাপতি রেজাউর রহমান, এবি পার্টি নওগাঁর আহ্বায়ক কাজী আতিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক অঙ্গনকে ফের অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে: রিজভী

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনকে ফের অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে সরকারি দল কোনো গ্রেফতার-নিপীড়ন করেনি, যা হাসিনার আমলে করা হতো। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রত্যেকটি অঙ্গনে হতাশা কাজ করেছিল। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।’

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দোহারের জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সব চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অর্থ লুটপাট করতে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছিল। বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া দিতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, এমন আইন করেছিল। অথচ সেসব নিয়ে আজকের বিরোধী দল কোনো কথা বলেনি।’

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ভয়ভীতিহীন এবং নির্বিঘ্ন করতে সরকার ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন বলে জানান রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পূজামণ্ডপের পাশে গরুর মাংস রান্না করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মাংস রান্না করেছে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতা-কর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হবে। পরিস্থিতি কেউ জটিল করতে চাইলে ছাত্রদল ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে।’


নির্বাচিত

মালয়েশিয়া থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে মালয়েশিয়া থেকে স্বদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো ও স্থিতিশীল রয়েছে।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। সেখানে তিনি দেশটির স্বনামধন্য প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এরও আগে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরেছিলেন। পরবর্তীতে শারীরিক কিছু ফলোআপ পরীক্ষার জন্য আবারও তাঁকে বিদেশে যেতে হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজানের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে দ্রুত রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেইন স্ট্রোক) হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ দেড় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে আরও উন্নত থেরাপি ও ফলোআপের জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

banner close