৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নানা কারণে আলোচনা-সমালোচনায় আছে দলটি। আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে ‘পালিয়ে যাওয়া’র পর থেকেই জুলাই আন্দোলনে হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত দলটির শীর্ষ নেতারা। অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন, অনেকে গোপনে দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। রাজনীতির ময়দান থেকে তো বটেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও সব সময় কড়া বার্তা উচ্চারিত হচ্ছে দলটির অভিযুক্ত নেতাদের প্রতি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্তে বের হচ্ছে নেতাদের বিপুল ‘অবৈধ সম্পদের’ খোঁজ। অনেকেই আটকাচ্ছেন দুদকের মামলার জালে। এর আগেই জুলাই হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শত শত মামলা দায়েরের পর গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখিও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং দলটির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে। সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে ভারত সরকারের কাছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের ৬ মাস পূর্তির দিনে শেখ হাসিনা দলটির প্রবাসী নেতাদের সঙ্গে কথা বলার কারণে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভবন, জাদুঘর, শেখ হাসিনার বাসভবনসহ একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ছাত্র-জনতা। এর ভেতরেই রাজনীতিতে যখন সংস্কার আর নির্বাচন ইস্যু নিয়ে বড় দলগুলোর সঙ্গে ছাত্রদের দলের মত-পার্থক্য দেখা দিয়েছে, তখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আলোচনা আবারও উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতির মাঠে।
এ আলোচনা প্রকাশ্যে আসে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধি দলের আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।’ আর এরপর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ বেশ কিছু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের এর প্রতিবাদে মিছিল হয়েছে। তারা প্রধান উপদেষ্টার এ মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।
তবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে দাবি করেন ভারতের পরিকল্পনায় ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তাদের চাপ প্রয়োগের বিষয়েও বিস্তারিত লেখেন হাসনাত।
এদিকে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচন পিছিয়ে যাবে, অনিশ্চয়তা তৈরি হবে- এসব শঙ্কার কথা বলে কেউ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে জনতার ঐক্যে ফাটল ধরাতে আসবেন না।’
যদিও গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে ফায়দাবাদ মধ্যপাড়া হাজী শুকুর আলী মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হত্যা-লুটপাটে জড়িত নয়, এমন কারও নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বাধা নেই। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কথা হচ্ছে; কিন্তু বিচার নিয়ে কথা হচ্ছে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের পর আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর জনগণ ক্ষমা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
এরপর গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিবাদের সব সহযোগী ব্যক্তি ও সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল। আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপারে এত সুস্পষ্ট আন্তর্জাতিক বক্তব্য থাকার পরও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধীরগতি অত্যন্ত নিন্দনীয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি অবিলম্বে জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমের সংঘটিত গুম ও বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মন্তব্য করেছেন ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’ আমরা তার এ বক্তব্যের নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসন, বিগত আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড, গুম, ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পথ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।’
ফলে আলোচনায় আবার এসেছে আওয়ামী লীগ কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বদল করে অভিযোগ নেই এমন নেতাদের দিয়ে দলকে নতুন করে পুনর্গঠন করে রাজনীতিতে আসতে চাইছে? হাসনাতের দেওয়া স্ট্যাটাসে পরিষ্কার, ‘সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।’ হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেছেন, ‘একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা’র প্রস্তাব পেয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এনসিপির এই নেতাসহ তার দল আপত্তি জানালেও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ‘জুলাই বিপ্লবের’ পর থেকেই বলে আসছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে তাদের কোন পরিকল্পনা নেই, দাবিও নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত ও দেশের জনগণ। আর রিজভী বলেছেন, যদি নির্দোষ নেতারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন তাহলে তাদের রাজনীতিতে বাধা নেই।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোন সিদ্ধানন্তের কথা জানায়নি। বরং ড. ইউনূস একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চলমান বিচারগুলো শেষ হওয়ার পর তাদের রাজনীতিতে আসতে বাধা নেই।
এদিকে, এরমধ্যেই যদি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পদত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলটির নেতৃত্ব অপেক্ষাকৃত নবীন এবং কোন মামলার আসামি নন এমন কারো হাতে তুলে দেন তাহলে তাদের আইনিভাবে রাজনীতির অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে কিনা সরকার বা কোন পক্ষের তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা এখন হতেই থাকবে। তবে নতুন নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগের ফেরা না ফেরার আলোচনার মধ্যেই একটা বিষয় পরিষ্কার, আগামীকাল রোববার ঐকমত্য কমিশনের কাছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনের সময়ের ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হতে থাকবে। কারণ, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ও বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে, নির্বাচন পেছাবে না।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বরগুনায় এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হারুন, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ মামুন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এস.এম.আফজালুর রহমান, উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুল আলম, উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, জেলা সভাপতি মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান, বরগুনা জেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে বরগুনা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ অলি উল্লাহ নোমান।
রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সাক্ষাতকালীন সময় চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জনগণের সরকারে রূপান্তরিত হয়েছে। এই সরকারের মূল দৃষ্টি হলো দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে বাংলাদেশ।
সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তি তৈরি করা দেশের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন,দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সাক্ষাতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই সাক্ষাতকে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন,জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করতে সকল দলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সাক্ষাতটি স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসন্ন মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৬শে মার্চ রোববার ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন ভোর ৫টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২৫শে মার্চ বুধবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশেই আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, “ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
সম্প্রতি বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বৈলগ্রামের কৃষক খলিলুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবার। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার তুলে দেন। যাতে তারা কিছুটা স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে।
সেসময় তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। একটি পরিবার যখন বিপদে পড়ে, তখন আমাদের সবারই দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমি সেই দিকটা বিবেচনায় করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রত্যাশা করি ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। আর আমি মানুষের সুখেদুঃখে পাশে আছি এবং আগামীদিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এ সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদানের সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সানাউল বাকিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এবং এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আনন্দময় বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করতে পারা দেশবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হওয়ার বিষয়টিকে তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এক নতুন যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে আনন্দের এই আবহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল এই ঈদকে কিছুটা বিষাদময় বলেও অভিহিত করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই ও আকাঙ্ক্ষার পর আজ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই পথ ধরেই দেশ আগামীতে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্যান্ডেলে ৩৫ হাজার মুসল্লিসহ আশপাশের সড়ক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশেই ফিরে এসেছি, যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদরের রামকৃষ্ণ আশ্রমের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য দল-মত, পথ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে কে হিন্দু, কে মুসলিম-এটা মুখ্য নয়; মানুষ হিসেবে আমাদের কর্মই সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ ও একটি সমাজের মূল্যায়ন হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টানদের ধর্মগুরুসহ সব ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাগতিক জীবনে মানুষ অনেক কিছু অর্জন করলেও তা সঙ্গে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় শিক্ষার মূল কথা হলো মানবতা, ন্যায়, সততা ও পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তাই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে সমান অধিকার দিতে হবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ- সবাই যেন গর্ব করে বলতে পারে, এই দেশ আমার বাংলাদেশ- সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মভেদ না করে সবাই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছিল। তখন কেউ দেখেনি কে কোন ধর্মের। ঠিক তেমনি এখন সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার, আর সে কাজে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোপেশ চন্দ্র সরকার।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্কুল মাঠে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল ছাড়া কোনো দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও বিরোধী দল-এই দুই শক্তির সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দৃঢ় ও কার্যকর হয়। বিরোধী দল যদি দায়িত্বশীলভাবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং দেশ এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে।
তিনি বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে সরকার ও বিরোধী দল-দুই পক্ষই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত ১৫-২০ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে বিরোধী মতপ্রকাশের পরিবেশ ছিল না। জাতীয় সংসদ অনেকটা তৎকালীন সরকারের ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হয়েছিল এবং বিরোধী দল ছিল নামমাত্র। এই পরিস্থিতির কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জব্বার খান, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিল্টন ঘোষ, জালাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লক্ষ্মীপুরে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে শহরের গোহাটা সড়কের চৌধুরী ভিলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এই আয়োজনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেথুয়াই প্রোপ্রো মারমা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ১৩৯ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে এবং অবশিষ্ট ৭৮ জনকে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তার চেক দেওয়া হয়। চেক বিতরণকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন যে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাবলম্বী করতে এবং তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে এই ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধাভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ এবং নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রত্যেক পরিবারের নারীরা ফ্যামিলী কার্ডের আওতায় আসবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামেলী কার্ড বিতরন উদ্বোধনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নাটোরের একডালায় শুভেচ্ছা ফার্মের বাগানবাড়ীতে দরিদ্রদের মাঝে শাড়ী লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন । এসময় তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা এই সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ। তারাও মাসে মাসে মাসে সম্মানি ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। এছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তি পর্যায়ের কৃষকরাও উপকৃত হবেন। সবার পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপি জনবান্ধব সরকারে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই কিছু না কিছু বৈশ্বিক ঝামেলা তৈরি হয়। এবারও দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বড় সংকট সামনে এসেছে। কিন্তু সরকারের যোগ্যতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি এবং তেলের দামও বাড়েনি। এমনকি সংকটের মধ্যেও গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতন সঠিক সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি জানান, বর্তমানে ছোটখাটো পরিসরে দলের কার্যক্রম চললেও এ বছরের মধ্যেই বিএনপির দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে এবং এ বছরের মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এক মাসে আমরা সরকারের সব ক্ষেত্রেই সাফল্য দেখছি। এরইমধ্যে পার্লামেন্ট অধিবেশন বসেছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তবে আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সুস্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। সরকার এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
সান্তাহারে ট্রেনের লাইনচ্যুতির মতো দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই রেল চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইউসুফ খান (৩২) নামে এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইউসুফ আজগানা ইউনিয়নের ঘাগরাই গ্রামের দুলাল খানের ছেলে। তিনি আজগানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
ইউসুফ খানের ভাতিজা নীরব খান জানান, তার চাচা ইউসুফ খান শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে মাটির সাইড দেখতে যান। তার পর থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি। এ ঘটনায় ইউসুফ খানের বোন পান্না আক্তার মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ইউসুফ খান নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ ঘাগরাই গ্রামের আলমগীরের ছেলে রিজন এবং একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী হানিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যায় ঘাগরাই গ্রামের আলমাসের ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার একটি মাটির ট্রাকের ধাক্কায় হানিফের একটি গাছ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় হানিফের সঙ্গে ইউসুফের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউসুফ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, ইউসুফ নিখোঁজের ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইটভাটার মাটির স্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লিংকডইনে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ডা. তাসনিম জারার অ্যাকাউন্টটি আজ ‘মেমোরাইলাইজড’ বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ বিষয়ে সোমবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, আপনারা অনেকেই লক্ষ করেছেন যে আজ সকালে আমার লিংকডইন অ্যাকাউন্টটি ‘মেমোরাইলাইজড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সম্ভবত আমার অ্যাকাউন্টে করা কোনো ভুল বা বিদ্বেষমূলক রিপোর্টের কারণে এমনটি ঘটেছে।
তিনি আরও লিখেছেন, আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি। আমি লিংকডইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আশা করছি শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। এদিন বেলা ১১টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তার (মির্জা আব্বাসের) সঙ্গে সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সিঙ্গাপুর যাবেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ চিকিৎসাধীন এই বর্ষীয়ান নেতার মস্তিষ্কে গত শুক্রবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে তার মস্তিষ্কের একটি সিটি স্ক্যান করা হয়। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন ইতিবাচক এসেছে।
তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুই দফায় তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতা-কর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য দেন।
সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, ‘জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। তার মাথায় বাশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্টোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানী করে। যে কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।’ তরু মুন্সীর মৃত্যু স্টোকজতিন কারণে হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্টোক করেন।’ যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারীকর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মহিলাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে মারা যায় তরু মুন্সী। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীনের সঞ্চালনায় ও সভাপতি আব্দুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি)।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি)।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইফুল্লাহ রুবেল, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম।
ইফতার ও আলোচনা সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর বিএনপিরসহ সভাপতি এসএম ওবায়দুর রহমান, শফিকুল ইসলাম জনি, জিয়াউল হক জিয়া, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, হাফিজ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ রশিদুল হক সরকার, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু প্রমুখ।