আওয়ামী লীগের দোসররা তাদের অবৈধ টাকা দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের উত্থানের বিষয়ে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিকটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব বলেন তিনি।
রিজভী বলেন,‘পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি অবৈধ টাকার মালিক। তাদের অবৈধ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো উত্থান ঘটেনি। বরং বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো ছোবল নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করছেন। কথা বলতে পারছেন। নির্ভয়ে ও স্বস্তিতে ঈদ পালন করেছেন। শেখ হাসিনার আমলে যা সম্ভব ছিল না।’
আরও পড়ুন: সংস্কার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: বিএনপি মহাসচিব
আওয়ামী লীগের দোসররা বিশ্বব্যাপী অপতথ্য ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের নামে নাটক করে সেটা বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন। এটা ক্ষমতায় টিকে থাকতে তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। একজন সাবেক আইজিপির বইয়েও তা উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘কালো টাকা খরচ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। অস্থিরতা তৈরি করতে দেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিমত দেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উত্থানের শঙ্কা প্রকাশ করে একটি প্রতিবেদন করা হয়। এ প্রতিবেদনটি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এক সময় রাজনৈতিক দল ছিল, এখন মাফিয়া পার্টি। এই দলটি এখন বাংলাদেশের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের উৎপাদিত পণ্যের ওপর যেমন লেখা থাকে মেইড ইন বাংলাদেশ, তেমনি আওয়ামী লীগ হলো মেইড ইন ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়ার মাল ইন্ডিয়ায় রপ্তানি হয়ে গেছে, এখন দেশে নতুন করে পাকিস্তানি মাল আসবে নাকি?’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গরিব মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়নের পক্ষের দল বিএনপি।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।’
ধর্মীয় বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যারা দেশ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা না দিয়ে শুধুই জান্নাতের কথা বলছে, তারা মানুষের ঈমান নষ্ট করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে থাকা দল বিএনপি।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার ফাজেলপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর পক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।’ একটি বিশেষ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলে গঠনের মাধ্যমে এক বাক্স নীতিতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে। তারা পাকা ধানের ভেতর মই দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলল। তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলামের লেবেল লাগিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।’
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘তারা গোপনে গোপনে পাশের দেশের সঙ্গে মিটিং করে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। যারা ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে এদের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামকে এরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবাই করবে। এরা ইসলামের আশা চিন্তার ফসলকে নষ্ট করেছে।’ শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও সর্বস্তরের জনগণকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারি না। এখন একটা বাক্সই ইসলামের পক্ষে যেটা হাতপাখার বাক্স।
তরুন ভোটারদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মা বোন মুরব্বিদের বলবো একবারের জন্য হাতপাখায় ভোট দিয়ে দেখেন। ফতুল্লার মাটি ইসলামের পক্ষের ঘাঁটি।’ সমাবেশে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরি, দেলোয়ার হোসেন সাকী এবং মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আমি আপনাদের লোক। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি এমপি থাকাকালীন আপনাদের পাশে ছিলাম। পাশে থেকে কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনে এমপি হলে আপনাদের পাশে থেকেই কাজ করতে চাই।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বামনা উপজেলার ১নং বোকাবুনিয়া ইউনিয়ন স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি জনসাধারণের উদ্দেশে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমি যতদিন এমপি ছিলাম বিগত সব এমপি মিলে যতটুকু কাজ করেছে আমি তার চেয়ে বেশি করেছি যার সাক্ষী এবং প্রত্যক্ষদর্শী আপনারা। এমন কোন রাস্তা -ঘাট নেই যা করিনি। বিগত পনেরো বছর ফ্যাসিস্টরা উন্নয়নের নামে আপনাদেরকে শুধু ধোঁকা দিয়েছে। আমি এমপি হলে পুনরায় আপনাদের পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন জামায়াত ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে দেশের বিরোধিতা করেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তাদের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে। ২ লাখ মা বোন ধর্ষিত হয়েছে। জামায়াত কখনোই ক্ষমতায় যাইনি, না গিয়েই তারা দেশের ক্ষতি করার জন্য কাজ করছে। তারা দেশকে একটি অস্থিতিশীল এবং জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে চায়। একাত্তরের বিরোধিতার জন্য তারা নাকি সরি বলেছে, আপনাদের কাছে (জনসাধারণ) প্রশ্ন রেখে বলছি, তারা যদি ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিনত করে এবং তাদের জন্য যদি আবারো ১০ লাখ লোকের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে তারা যদি এসে সরি বলে তাহলে কি সব সমাধান হয়ে যাবে? তারা কখনোই দেশের ভালো চায় না।
সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এদেশে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমার যতটুকু অধিকার রয়েছে হিন্দু ভাই-বোনদের ও ঠিক ততটুকুই অধিকার রয়েছে। তাদের দিকে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় তাহলে তাদেরকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোট নিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট আমার আপনার অধিকার। এই অধিকারকে রক্ষা করতে সকলে সজাগ থাকতে হবে। ধানের শীষের যে গণজোয়ার বইছে সে গণজোয়ারে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেই সকলকে ঘরে ফিরতে হবে।
জনসভায় বামনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ১০ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাস তার প্রতীক ‘শাপলার কলি’ নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রচারণাকালে প্রীতম দাস কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা এবং জনসমাগমস্থলে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কুশলবিনিময় করেন।
গণসংযোগকালে তিনি উন্নয়ন, টেকসই গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি তার বক্তব্যে প্রাধান্য পাচ্ছে।
নির্বাচনী এই প্রচারণায় এনসিপি ছাড়াও জোটভুক্ত দল হিসেবে জেলা যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তির নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। নেতা-কর্মীদের স্লোগান, পোস্টার এবং লিফলেটে পুরো নির্বাচনী এলাকা এখন মুখর।
জানা যায়, প্রীতম দাসের সহজ-সরল জীবনযাপন, স্পষ্টবাদিতা এবং নতুন ধারার রাজনীতির আহ্বান তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে এই ক্রমবর্ধমান জনসম্পৃক্ততা মৌলভীবাজার-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে ‘শাপলার কলি’ প্রতীককে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
উন্নয়ন ও অধিকারের প্রশ্নে প্রীতম দাসের এই জয়যাত্রা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় জেলাবাসী।
প্রচারণাকালে প্রীতম দাস বলেন, ‘কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা আমি চিহিৃত করেছি। সেসব এলাকায় আমি কাজ করব। যেমন-চা-শ্রমিক, খাসিয়া জনগোষ্ঠী, পর্যটন শিল্পে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট, হাওড় টিলা, স্কুল-কলেজ। এসব ক্ষেত্রে আমরা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বেকারদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষীতদের চাকরির ব্যবস্থা, চা-শ্রমিকদের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি তা করব। রাস্তাঘাট ও পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করে আমার যা করণিয় সেটা করে যাব।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি। বর্তমানেও করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের পরিষ্কার ঘোষণা হলো আমরা চাঁদাবাজি করব না, কাউকে করতেও দেব না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আমিরে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। সকল যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াবাসীর প্রাণের দাবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যুমনা সেতু নির্মাণ করা হবে।’
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাড. হেলাল উদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি বগুড়া জেলার ৭টি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস শনিবার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁর শৈশবের বিদ্যাপীঠ মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক অবক্ষয় রোধে একক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, "মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা।" ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাঁর নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান যে, "৫ আগস্টের পর দুই মাস চাঁদাবাজ মুক্ত করতে আমি স্পেশাল টিম করেছিলাম। হটলাইন খুলেছিলাম। দুটি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছিলাম। চাঁদাবাজির খবর পেলেই আমরা পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দুই মাস আমার এলাকা শান্ত ছিলো। যখনই দায়িত্ব প্রত্যাহার করলাম তখন পুলিশও অফ হয়ে গেলো। আবার শুরু হলো চাঁদাবাজি। এতে প্রায় সব দলই জড়িত হলো। আমি যাদের নিয়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করবো তারা চায় সংস্কার। তারাও জড়িত এই চাঁদাবাজিতে।"
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল, তবে এর সাথে একাত্তরের বীরত্বগাঁথার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ভাষায়, "৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ২৪ এক করা যাবে না। কারণ, ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, আর ২৪ স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন।" দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের অসামান্য ত্যাগ, কারাবরণ ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও একটি দেশ পরিকল্পিতভাবে এদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে এবং বিগত সরকার সচেতনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন যে, বর্তমান প্রজন্মের মেধাবিকাশ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হলে তাদের খেলাধুলা ও বই পড়ার প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হবে। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিব্যবহারকে তিনি মাদকের ন্যায় এক ভয়াবহ ও মারাত্মক রোগের সাথে তুলনা করেন, যা সন্তানদের প্রতিনিয়ত বিপথগামী করছে। নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রযুক্তিগত আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পথে ফিরে আসার পরামর্শ দেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। মতবিনিময় শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি শেষে এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ২০০৫ সালের ৬ মে শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান, ফলে বিশ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে বন্দরনগরীতে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রতিটি মোড় ও প্রধান সড়ক এখন ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন আর তোরণে, যা নেতাকর্মীদের মাঝে এক বাড়তি উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
মহাসমাবেশ সফল করতে নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই মঞ্চে এক সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সামনের অংশে রাখা হয়েছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার। জনসভার শব্দ প্রক্ষেপণের জন্য মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস এলাকা পর্যন্ত দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স স্থাপন করা হয়েছে। মাঠকে চলাচলের উপযোগী করতে সমতল করার পাশাপাশি পানি ছিটিয়ে পরিবেশ অনুকূল রাখার চেষ্টাও চোখে পড়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে পুরো পলোগ্রাউন্ড এলাকাকে কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি সমাবেশস্থলকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করবেন। ইয়েলো জোনে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্লক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো মাঠটি গ্রিন জোনের আওতাভুক্ত। তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে এক বিশাল প্রত্যাশার সঞ্চার হয়েছে, যা চট্টগ্রামের জনসমুদ্রে প্রতিফলিত হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে।
দেশজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণার ব্যাপক প্রস্তুতির মাঝেই ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম আকস্মিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তাঁর নির্বাচন পরিচালক মো. মাকসুদূর রহমান ভোটারদের এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের পথ সুগম করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বার্তায় মাকসুদূর রহমান ভোটারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে উল্লেখ করেন যে, বিগত এক বছর ধরে বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের প্রতিটি অলিগলি এবং ঘরে ঘরে গিয়ে তারা যে গণজোয়ার ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তবে পরিস্থিতির দাবি ও দলীয় শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত তাদের এই 'কঠিন সিদ্ধান্ত' গ্রহণ করতে হয়েছে। ইতিপূর্বেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় জামায়াতে ইসলামীর একাধিক প্রার্থী নির্বাচনি মাঠ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মাওলানা ফজলুল করিমের এই সরে দাঁড়ানোর ফলে উক্ত আসনে এখন বিএনপির প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত এলডিপির প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
কামরুল আহসনের এমরুলের পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ মহানগর জাতায়েতের নেতা অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার। ময়মনসিংহের সার্বিক উন্নয়নে এ ইশতেহারে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়। ময়মনসিংহে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাালতে ১ হাজার শয্যা থেকে ৩ হাজার শয্যায় উন্নীত করা, ময়মনসিংহ থেকে সিলেট ও রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ চালু করা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ অফিস টাইম ট্রেন চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে। এছাড়া ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র চরাঞ্চলে সবজি সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোরেজ করা শিক্ষক, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতি খাতে বিভিন্ন উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করা হয় জামায়েত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়েত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। সভাপত্বি করেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়েতের আমীর আব্দুল করিম। এছাড়া ১০ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলমকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশ পাঠানো হয়। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আয়োজিত জোটের এক জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে স্বাগত জানাতে গিয়ে তোরণ নির্মাণ, বিলবোর্ড স্থাপন এবং ব্যানার প্রদর্শনীর মাধ্যমে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করায় তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের মোট ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই জোটের ব্যানারে সারজিস আলম ছাড়াও ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ এবং রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেনের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনে লড়ছেন। এছাড়াও ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মাহবুব আলমও এনসিপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে লড়ছেন।
নির্বাচনি ময়দানে এনসিপির হয়ে আরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নেত্রকোণা-২ আসনে ফাহিম রহমান খান, রাজবাড়ী-২ আসনে জামিল হিজাযী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন এবং বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, দিনাজপুর-৫ আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী-২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ময়মনসিংহ-১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর-২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর-৩ আসনে শামীম হামিদী, নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির এবং মৌলভৈীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাস দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।
কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মাহমুদ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার অপারেশন করা হয়।
হাসান মোল্লার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
আগামী রবিবার (২৫ জানুয়ারি) তারেক রহমান দাউদকান্দিতে আগমন করবেন। বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে বরণ করতে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দফায়-দফায় মতবিনিময় করছেন। তিনি সভাস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষন করছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ কুমিল্লা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
দলীয় নেতারা জানান, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তারেক রহমানের দাউদকান্দিতে প্রথমবারের মত আগমনে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানকে সফল করতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, তারেক রহমান সরাসরি উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে। এটি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে তিনি মরহুমের কবরে যান এবং সেখানে কোকোর রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের এই মুহূর্তে তারেক রহমানের সাথে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত কোকোর সহধর্মিণী শর্মিলা রহমান এবং তাঁর দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের এই দিনে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্মরণে আজ বিএনপির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।