আজকের নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা অতিদ্রুত মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ সোমবার দুপুরে নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে সতীর্থ স্বজনের উদ্যোগে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন,'যার জন্য আমরা গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে লড়াই করছি এখনও সেটি নিশ্চিত হয়নি। সেটি নিশ্চিত করার পথেই আমরা এগুচ্ছি। কিন্তু, এটি নিয়ে টালবাহানা করা চলবে না। চলবে না এই অর্থেই যে, এটার জন্যই তো সংগ্রাম হয়েছে—সেটা হলো গণতন্ত্র। সুতরাং নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা মানুষের ভোটাধিকার ফিরেয়ে দেওয়া। কারণ, শেখ হাসিনা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ভোটাধিকার কেড়ে নিতে গিয়ে তিনি(হাসিনা) আজীবন ক্ষমতাবিলাসী চেতনা নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, দেশের ন্যায় বিচার, আদালত, আইন কানুন, গণমাধ্যম সবকিছু ভেঙেচুরে তছনছ করে দিয়ে একটা একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
রিজভী বলেন, 'শেখ হাসিনার এই ভয়ংকর থাবার মধ্যেও এদেশের মানুষ তার নিজস্ব চিন্তা তার নিজস্ব সংস্কৃতি তার গৌরবময় অতীত এবং তার আবহমান বাংলার প্রকৃত যে আদর্শ—সেটা বুকে ধারন করেই লড়াই করেছে। আর এই লড়াই করেছে বলেই আমরা আজকে বিজয়ী হয়েছি।
তিনি বলেন, এই বিজয়কে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে হবে। এই বিজয়কে একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই আমি যে কথাটি বললাম— আজকের নববর্ষের জাতির আকাঙ্খা হচ্ছে অতিদ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেন, 'ভোটাধিকারকে কেন সংস্কারের সঙ্গে এক করে দেওয়া হচ্ছে? পৃথিবীর কোথাও তো এটা দেখা হয়নি। গণতন্ত্র মানেই সংস্কার। গণতন্ত্র মানে একটা নদীর প্রবল স্রোতের মতো একটা পদ্ধতি, একটি ধারাবাহিকতা। যে নদীর পানি যত খরস্রোতা, সেই নদীর পানি তত স্বচ্ছ। কারণ, সেখানে কোনো ধরনের আবদ্ধতা তৈরি হয় না ‘।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, 'বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি বিদেশি সংস্কৃতির উপদানগুলো আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে কত পরিকল্পিত এবং সূক্ষ্মভাবে তারা যে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে যে সমস্ত মুখোশ ব্যবহার করত, যে প্রতিকৃতিগুলো তারা ব্যবহার করত—সেখানে পরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিকৃতভাবে চিহ্নিত করে একে সেটা নিয়ে তারা মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত থাকতে হবে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে দাড়িওয়ালা, টুপি ওয়ালাদেরকে বিকৃত করা হতো, কেন? সব দাড়িওয়ালা টুপিওয়ালারা তো স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেনি। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ একটি পর্যায়ে বুঝতে পেরেছে আমরা একটি পরিকল্পিত আগ্রাসী শক্তির সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি।
রিজভী বলেন, '৫ আগস্টের আন্দোলনের যে সফলতা, এই যে দুনিয়া কাঁপানো যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শুধু একটি রাজনৈতিক দল বা ফ্যাসিস্টের পতন নয়—এটা ছিল আমাদের পদলিত করে রাখার যে সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদী চক্রান্ত, সেটার বিরুদ্ধেও কিন্তু এই লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়া। শুধু হাসিনার পতন নয়, আমরা সমস্ত দিক থেকে বিজয়ী হয়েছি—এটার মধ্য দিয়ে।
এসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, কবি রেজাবুদ্দৌলা স্টারলিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, ছাত্রদল নেতা তৌহিদ আউয়াল, রাজু আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে কোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন তিনি। নজরুল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণাও।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, কাজী নজরুলই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কেউ ষড়যন্ত্র করলে কাজী নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস। আমি এবং আমার দল আজকে নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
রিজভী বলেন, কাজী নজরুলের মত মহীরুহ প্রতিভা সম্পর্কে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে সেটি আবার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনি, তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বাণী বুকে নিয়ে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদেরকে নির্ভয় করে, সামনে এগিয়ে যেতে নির্ভীক করে।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ।
উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তার সাহিত্যকর্ম বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমেরও কবি।
ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উনি শিক্ষক হতে চাইলে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। যার ইচ্ছা সেখানে ভর্তি হতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনে বিরোধী দলের নেতা এসব কথা বলেন। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে সবাইকে কথা বলেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। ঠিক, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ, গিয়ে ভর্তি হবে, উনার লেকচার শুনবে।
এসময় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? মাননীয় স্পিকার, আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে, এইটা কোনো কালচার না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। ঠিক, এটা হওয়া উচিত না।
পল্টনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, উনি এই পল্টন আজকে নতুন করে বলেন নাই । আজকে আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এইটুকু করে আমরা বসবো। না হলে এখানে বসা-অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
জাতীয় পার্টিও (কাজী জাফর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার অংশ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ের আন্দোলনগুলোতে বিএনপির পাশে ছিল কাজী জাফর আহমদের জাতীয় পার্টি। আর কাজী জাফর আহমদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা। বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে রাজনীতিবিদেরা অনেক কিছু শিখেছেন।
স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন ও নওয়াব আলী আব্বাস খান এবং পার্টির মহাসচিব কাজী মো. নাহিদ।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, ‘এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামলাতে বিরোধী দলের ৯০ জন এমপির কান্নাকাটি করা লাগছে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
বিরোধী দল ‘ছায়া মন্ত্রিপরিষদ’ গঠনের পর আজ প্রথম সংসদে গেছে, তাই তাদের মধ্যে একটা গরম ভাব রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণার পর আজকে প্রথম সংসদে গেছেন জামায়াতের আমির। ছায়া প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের একটা গরম আছে না? সেই গরমে একযোগে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকে অ্যাটাক শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সব এমপি দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কথা বলতে দেবেন না। কিন্তু সরকারি দলের এমপিরা বেশ ভদ্রতা দেখাচ্ছেন। তারা চাইলে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সময় হৈচৈ কিংবা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারতেন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আছে, সুতরাং বিএনপিকে দায়িত্বশীল হতেই হবে।’
রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামলাতে বিরোধী দলের ৯০ জন এমপির কান্নাকাটি করা লাগছে। সুতরাং সংসদে বিএনপির অন্য এমপি আছেন, তারাও যদি সালাহউদ্দিন আহমদের মতো বলা শুরু করেন, তবে বিরোধী দলের এমপিরা বলা শুরু করবেন—ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি, আমরা আর খেলব না।’
সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দিলে তারা কথা বলতে বলতে শিখে যাবে বলে জানান রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, এদের আর বেশি যুক্তিতর্ক দিয়ে ধরিয়েন না, মাঝেমধ্যে অযৌক্তিক কথা হলেও বলতে থাকুক। শুনতে ভালো লাগবে না, তার পরও তাদের বলতে দিতে হবে। বলতে বলতেই তারা শিখবে।’
দেশের জনগণের বিপুল সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং রাজপথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনব্যাপী ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজে জামায়াতে ইসলামী আপস করেনি, করবে না। জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধীদল হিসেবে জনগণের দাবি পূরণে সংসদে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যেমে জনগণের সেই দাবি আদায় করা হবে।
বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনগণের সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতো অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তবে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থেমে যাবে না।
এ সময় তিনি আরো বলেন, জনগণের সাথে ভিত্তি মজবুতের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তৃণমূলকে শক্তিশালী করে তুলছে। তৃণমূল হচ্ছে একটি আদর্শ সংগঠনের ভিত্তি। যাদের জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারে না, পারবে না।
তিনি উপস্থিত ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারিদের উদ্দেশে বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা টু চট্রগ্রাম লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অতীতের মতো ভূমিকা রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, অন্যদের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা অস্ত্রের লড়াই করে না, করবে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের জ্ঞানের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা কোনোকিছু না বুঝেই নেতার পেছনে দৌড়ায়। নেতার কথায় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত। জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বায়নের সাথে তালমিলিয়ে চলতে হলে তৃণমূল থেকে নিজেদের নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। যেটি জামায়াতে ইসলামী করে আসছে।
অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান এবং মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, সৈয়দ সিরাজুল হক ও মো. শহিদুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মো: মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদল।
বুধবার (২৬ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় এবং মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল আজাদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শোডাউনটি রূপসী-কাঞ্চন সড়কের ইছাখালী ব্রিজের সামনে থেকে শুরু হয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলাকান্দাইল এলাকায় এমপির বাগানবাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোডাউন পূর্বক পথসভায় বক্তারা বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্যানারে কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অথবা জনমনে আতঙ্ক ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল আজাদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে। শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা সর্বদা সজাগ রয়েছেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক পলাশ, প্রচার সম্পাদক সাইদুর রহমান মামুন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি চৌধুরী, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল মোল্লা, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের কাজী দিপু, মুস্তাকিম দিপু, রতন মিয়া, আলআমিন, বাবু, রাজু, সাগর ও শাকিলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের কার্যক্রমকে ‘ব্যর্থ’ বলে বিরোধী দলের দেওয়া বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও ঢালাও বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে রিজভী বলেন, “এটা একটা ঢালাও মন্তব্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে...আমি মনে করি, এটা যথার্থ নয়। বিরোধী দল বিরোধিতার জন্যই সমালোচনা করে।” বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, সারা দেশে বিএনপি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দলটি কখনো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেনি। জনগণের অঙ্গীকার রক্ষা করে যাচ্ছে। বিএনপি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দাবি করেন, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য-উপাত্ত ভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করেছে, যেখানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সরকারের এই অর্জনগুলো যাচাইযোগ্যভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। তাই তথ্য-উপাত্ত উপেক্ষা করে দেওয়া কোনো রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি বোধ করছেন না।
দলের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের নীতি অনুসরণ এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কারণেই বিএনপি একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সরকারের বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো কর্মসূচিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কাজ নিয়ে কেউ উপহাস করলেও এর সততা জনগণের কাছে স্পষ্ট। এছাড়া বিভিন্ন জরিপে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করার পাশাপাশি তিনি জানান, দলের জাতীয় কাউন্সিলের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনার নিন্দা জানান এবং তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন
আগামী ১ সেপ্টেম্বর নিজেদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের বর্তমান অবস্থান ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখেও বিএনপিকে পরাস্ত করা যায়নি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি আজ একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।”
কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এই অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমেজ ছড়িয়ে দিতে দেশব্যাপী পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাসের সুবিধাজনক দিনে সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে, যার নেতৃত্ব দেবেন শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে, যার উদ্বোধন করবেন দলের নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সরকারের কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচি সম্পর্কে তাদের অবহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না।’
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি কাজ, কর্মকাণ্ড ও বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন। তাই জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না।’
তিনি বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের কাছে যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার পেছনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে। তারা নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে কাজ করেছেন, সেগুলোই বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এখন তাদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যা জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দলের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন এবং তা জনগণের কাছে তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সারাদেশে যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন, তাদের সতর্ক হতে হবে। আপনারা অনৈতিক কাজে যুক্ত না হয়ে গঠনমূলক কাজে যুক্ত থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। দলীয় প্রতীকে এখন আর নির্বাচন হবে না। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দল-সমর্থিত প্রার্থীকেই সমর্থন দেবেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এত অপপ্রচার, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরও জরিপে বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রায় ৫৪ থেকে ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি, ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের পক্ষে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের জন্য কাজ করলে সেই দলের সরকার কখনো ব্যর্থ হবে না। সেই সরকার জনগণমুখী সামাজিক সরকার হিসেবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে।’
এর আগে রিজভী দলের নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস
দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কাজে যুক্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং জনগণের পাশে থাকতে হবে।
বিএনপির বর্তমান জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার জনকল্যাণমুখী রাজনীতিই দলটিকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দলের জনপ্রিয়তার প্রধান উৎস। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সব জনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে সেই জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনপ্রিয়তা সংক্রান্ত বিভিন্ন জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এত চক্রান্ত ও অপপ্রচারের পরও বিএনপির জনপ্রিয়তা বর্তমানে ৫৪ থেকে ৫৬ শতাংশের ঘরে রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বর্তমানে ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ। রিজভী মনে করেন, যে দল বা সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে, তারা কখনো ব্যর্থ হয় না এবং সবসময় জনগণের সমাদর লাভ করে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী জানান, এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, তাই স্থানীয় নেতারাই সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করবেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীরাই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেটি ছিল ভবিষ্যতের ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে যে মানুষ জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ এবার পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং আবর্জনার কলেবর আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত ছিলেন, তাদের কেউ এখন সরকারি দলে, আবার কেউ বিরোধী দলে রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারকে অন্ধভাবে বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো করলে তাকে সহযোগিতা-সমর্থন করা আর সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করে অথবা খারাপ পথে হাঁটে, তাহলে সরকারকে বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা—এটাই বিরোধীদলের দায়িত্ব।
সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা। এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা। এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে চলতে দেবে না। সুতরাং বিরত থাকুন।
অনুষ্ঠানে দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি জাতির সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পেছনে দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও দায়ী।
তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষমতায় আসা কেউই এ অপকর্ম থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি।
শফিকুর রহমান বলেন, মানুষকে ধরে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখা, তাদের স্বজনদের অন্ধকারে রাখা এবং নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। তিনি সচেতন নাগরিকদের জুলাই জাদুঘর ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তবে ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য’ সেখানে অতীতের নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অনেক স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।
সমমর্যাদা নিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বই সফর করতে পারেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সফর করতেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার, বন্ধুত্বের।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, এখন এই দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। এদেশের মানুষ চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হউক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার, সমতার ভিত্তিতে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান উল্লেখ বলে জামায়াত আমির বলেন, তিনি চাইলেই দেশে চলমান, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কিনা এটাই বড় বিষয়।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদেরকে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভোট যেনো কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপির সভাপতিত্বে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর সহস্রাধিক (রোকন) সদস্য (নারী-পুরুষ) উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ এর খ (৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরপর বিএনপি মহাসচিব হিসেবে রিজভীকে মনোনীত করার ঘোষণা এলো।