অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বুধবার সাক্ষাৎ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর আগে একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে বৈঠকে অংশ নিলেও আজ নিজেদের আগ্রহে তার সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে দলটি। দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আলোচনার মূল ইস্যু হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। বৈঠকে তারা কবে নির্বাচন এবং কবে নাগাদ এর রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চাইবেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আজকের বৈঠকের সম্ভাব্য এজেন্ডা জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে, নির্বাচন থাকবে প্রধান ইস্যু। পূর্বের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ এবং প্রশাসন’ এই তিন খাতে যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন, ততটুকু দ্রুত সম্পন্ন করে দাবিকৃত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার তার প্রকাশ্য বক্তব্যে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। তার মতে, দলগুলো বড় ধরনের সংস্কার চাইলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে আর কম সংস্কার চাইলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে। কিন্তু বিএনপি দাবি করে আসছে চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন। দলটির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছেন। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন দেওয়াই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব বলেও তারা উল্লেখ করেন।
যদিও নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির দাবির পক্ষে অন্য দলগুলো একমত নয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। জামায়াত প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন দাবি করেছে। আর এনসিপির নেতারা বলছেন, সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন হতে হবে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন ঘিরেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দৈনিক বাংলাকে জানান, নির্বাচন নিয়ে চারদিকে যেসব গুজব ডালপালা মেলছে সেসব বন্ধে প্রধান উপদেষ্টাকে নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গত ৯ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হবে।
তিনি বলেছেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুনির্দিষ্টভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বরের আগে একটা রোডম্যাপ অবশ্যই চাইব। তিনি তা স্পষ্টভাবে জাতির সামনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করেন, যাতে অনিশ্চয়তার যে একটা ভাব আছে, সেটা কেটে যায়।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বলব যে এটা যথেষ্ট সময়। তার আগে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা জুনের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টাও ইতোপূর্বে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার জন্য তারা সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘যেহেতু বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, সেটি পরিষ্কার করার জন্য আমরা তাকে (প্রধান উপদেষ্টা) আহ্বান জানাব।’
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রথম থেকেই বিএনপি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের পর নির্বাচন নেওয়ার চেষ্টা হলে তারা বিরোধিতা করবে এবং প্রয়োজনে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে।
জানা যায়, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে সমমনা সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করবে বিএনপি। সর্বশেষ গত সপ্তাহে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পর দলটির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব এলাকা থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সদ্য প্রয়াত দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টাঙানো ব্যানার ও পোস্টারগুলো এই অপসারণ কার্যক্রমের আওতামুক্ত থাকবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রতীকীভাবে ব্যানার-পোস্টার অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যানার-পোস্টার রাজনৈতিক মত প্রকাশের মাধ্যম হলেও দীর্ঘ সময় এগুলো ঝুলে থাকার ফলে শহরের সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে রিজভী জানান, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই অপসারণ কাজ সম্পন্ন করবেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও উল্লেখ করেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করায় তার স্মরণে লাগানো পোস্টারগুলো হয়তো আরও কয়েক দিন থাকবে, তবে বাকি সব রাজনৈতিক প্রচারসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম সারাদেশে একযোগে চলবে। কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে সারাদেশ থেকে এসব প্রচারসামগ্রী অপসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় এই সমবেদনা জানানো হয়।
বাদশাহ সালমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ তারা গভীর দুঃখের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। এই শোকাবহ সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন খালেদা জিয়াকে অসীম রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করে জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান করা হয়।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত হওয়ার কথা জানান। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রার্থনা করেন যেন পরম করুণাময় আল্লাহ মরহুমাকে রহমত দান করেন এবং দেশবাসীকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। শোকবার্তায় যুবরাজ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই শোকবার্তাগুলো তার রাজনৈতিক প্রভাব ও মর্যাদারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গত ১৪ মাসে তিনি বিন্দুমাত্র দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভা মিলনায়তনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেন, সারা বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন যে, কারো পকেট থেকে এক কাপ চায়ের টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেননি। সংস্কার ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জোটের নেতৃত্বে তারা সরকার গঠন করবেন।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অতীতে কেন্দ্র দখল করেছেন কিংবা আগামীতে দখলের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন, পুলিশ বা অর্থ শক্তি ব্যবহার করে যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দেন তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, যারা নির্বাচনকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন এবং দেবিদ্বারের উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর বেইনসাফি করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তার নীতি স্পষ্ট থাকবে এবং তিনি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে লড়াই করে যাবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলেও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করলেও তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ জবাব দেননি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ধৈর্য ও জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক লোকমান হোসাইন, পৌর জামায়াতের আমির মো. ফেরদৌস আহমেদ এবং এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ গঠনে কাজ করবে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আসনে বিকল্প প্রার্থী থাকায় নির্বাচনি কাজে কেনো প্রভাব পড়বে না। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর এমন ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত হবার প্রশ্ন আসতে। কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি নেই। বাছাইয়ের আগেই তিনি মারা গেছেন।
খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আর নেই, কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জানাজায় যারা ঢাকায় আসতে পারেননি, তারাও গায়েবে গায়েবে জানাজায় শরিক হয়েছেন। কত মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন, তার পরিসংখ্যান হয়তো ভবিষ্যতে আলাদাভাবে তুলে ধরা যাবে। কারণ শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে—গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন, গণতন্ত্রের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে ম্যাডাম নিজের জীবন, সন্তান, পরিবার সবকিছুই ত্যাগ করেছেন। বলতে গেলে, এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের মাটির জন্য তার যে টান, যে ভালোবাসা, যে দেশপ্রেম—তার কোনো তুলনা নেই।
তিনি বলেন, আমরা তার সেই ত্যাগ, সেই অবদান, সেই দেশপ্রেমকে পাথেয় করেই সামনে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করব। করতেই হবে—এটাই জাতির দাবি।
তিনি বলেন, আমরা সেভাবেই দেখি—খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন; তিনি সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি সব দল-মতের ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলতে পেরেছেন, এবং এ দেশের মানুষ, এ দেশের সবাই তাকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সহমর্মিতা জানাতে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ হয়। পরে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। আরও ছিলেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোবারক হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন।
এ সময় জামায়াত আমির বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিএনপির ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সহমর্মিতা জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। গত বুধবার সংসদ ভবন এলাকায় তার ঐতিহাসিক জানাজা হয়। যেখানে লাখ লাখ মানুষ জানাজায় উপস্থিত হন। পরে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পিতা ও পুত্রের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাদের সম্পদের এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, বাবা আমিরুল ইসলাম যেখানে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন, সেখানে ছেলে হান্নান মাসউদ দাখিল করেছেন ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
আয়ের উৎসের ক্ষেত্রেও বাবা ও ছেলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। গত এক বছরে হান্নান মাসউদ ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করলেও তার বাবা কৃষি খাত ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সম্মানী মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
নির্বাচনি মাঠে বাবা ও ছেলে ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ এনসিপির হয়ে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন।
পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলামের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার কাছে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানায় ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে মোট ১৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে।
এই বিষয়ে নিজের সম্পদের হিসাবের বাইরে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আমিরুল ইসলাম।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবারও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবার দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন পুরোনো উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি দলটির সকল প্রকার দায় ও দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। মুরসালীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এনসিপি যে নতুন সংবিধান, নতুন রিপাবলিক বা নয়া বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে ‘ডিকলোনালাইজ’ বা উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য, যেখানে এনসিপি এখন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
মুরসালীন তাঁর ভিডিও বার্তায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলে আসছে, তা মূলত জনবিরোধী ও নিপীড়নমূলক। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আশা করা হয়েছিল যে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিক ও নারীরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসবে। কিন্তু এনসিপি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং অত্যন্ত সচেতনভাবে এই বীর নারী ও শ্রমিকদের পর্দার আড়ালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র রচনার সময় থেকেই আপসকামিতা শুরু হয়েছিল। যদিও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে সনদে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, কিন্তু পরবর্তীতে এনসিপি নিজেদের দুর্বলতার কারণে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশীজনদের সাথে বিভিন্ন কোলাবরেশনে যেতে বাধ্য হয়েছে। মুরসালীনের মতে, জনগণকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করতে না পারাই দলটির এই দুর্বলতার প্রধান কারণ।
নিজের দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, তাঁর পূর্বপুরুষরাও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তিনিও সেই আদর্শিক লড়াইটি চালিয়ে যেতে চান। তিনি মনে করেন, এনসিপির বর্তমান চলার পথ এবং তাঁর নিজস্ব গণরাজনৈতিক ধারা এখন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে। তবে দল থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না বরং আবারও জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে রাজপথে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এনসিপিতে একের পর এক শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের এই ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও আদর্শিক বিচ্যুতিকে আরও প্রকট করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। খুব শীঘ্রই রাজপথে আবারও সবার সাথে দেখা হবে বলে তিনি তাঁর ভিডিও বার্তার ইতি টানেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন আপসহীন ছিলেন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কখনোই কারো সাথে কোনো আপস করেননি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত নেত্রীর কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাবর উল্লেখ করেন যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় র্যাব গঠন করা হয়েছিল। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, বিএনপির শাসনামলে র্যাবকে এক ঘণ্টার জন্যও দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না, যা নেত্রীর কঠোর ন্যায়পরায়ণতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেত্রীর মধ্যে যে বিরল গুণাবলী ছিল, তা সমসাময়িক অন্য কারো মধ্যে দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুবাদে তিনি এই দেশপ্রেমকে খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন। বাবর আরও মন্তব্য করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার সেই আদর্শিক গুণাবলী এখন তাঁর পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আবেগ থেকে তিনি নেত্রীর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান বাবর। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই তিনি জিয়ারতে অংশ নিয়েছেন এবং এটি ছিল তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি মূলত নিজের আবেগ ও ভালোবাসার টানেই নেত্রীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানে ছুটে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দেখানো পথই আগামী দিনে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের মূল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি আসনে তাঁর বিকল্প হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, এখন তারাই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসন থেকে দলের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দল আগেই এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী মনোনীত করে রেখেছিল। এখন তাঁর প্রয়াণের পর আইনগতভাবেই ওই বিকল্প প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, ফেনী-১ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রফিকুল আলম মজনু, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম লড়বেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ওই আসনগুলোতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আইনে এর কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই এবং প্রতীক বরাদ্দের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে এবং তাঁর পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তারাই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানসিক অবস্থা এবং নেতৃত্বের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রিয়জন হারানোর শোক থাকলেও তারেক রহমান একজন অত্যন্ত শক্ত মনোবলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এবং দলের স্বার্থে তাঁকে দৃঢ় থাকতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন যে, অসীম শোকের মধ্যেও তারেক রহমান নিজেকে শক্ত রেখে জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বর্তমানে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে এবং দলটির নেতাকর্মীরা শোকাতুর পরিবেশেই নির্বাচনী কার্যক্রমের আইনি বিষয়গুলো সম্পন্ন করছেন। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এখন দলের পুরো মনোযোগ নির্বাচন এবং চেয়ারপারসনের অসমাপ্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো পূরণের দিকে থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিকটজন হারানোর গভীর শূন্যতা থাকলেও দেশের মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আজ পুরো বাংলাদেশই তাঁর পরিবার হয়ে উঠেছে। তিনি তাঁর মা এবং জীবনের প্রথম শিক্ষক বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি এবং অগণিত নেতাকর্মীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁকে এই কঠিন সময়ে একাকীত্ব অনুভব করতে দেয়নি।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল তাঁর গর্ভধারিণী মা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা। জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। শোকের এই মুহূর্তে তিনি তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান এবং অকালপ্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যারা সশরীরে উপস্থিত থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা প্রমাণ করে যে দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি বিশ্বনেতাদের কতটা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা ছিল।
মায়ের অসম্পূর্ণ কাজ ও জনসেবার মহান দায়িত্ব এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন যেভাবে নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন, সেই উত্তরাধিকার তিনি এখন নিজের কাঁধে গভীরভাবে অনুভব করছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকেই তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে সেই দীর্ঘ পথযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। পরিশেষে তিনি তাঁর মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, উদারতা এবং দেশপ্রেমের উদাহরণ থেকেই জাতি ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা ও শক্তি খুঁজে পাবে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত করার কথা রয়েছে। ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মাহমুদুল হাসান সারাজীবন আদর্শ টাঙ্গাইল গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অনবদ্য অবদানের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে মাহমুদুল হাসান কয়েক দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১২ সালের উপ-নির্বাচনেও তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান যখন অন্য দল থেকে আসা নেতাদের জন্য তাঁর দলের দরজা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই সেই পথ ধরে দল ছাড়লেন তাঁরই নিজ দলের সহসভাপতি সাধনা মহল। গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে আলোচিত সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম আমজনতার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পরপরই পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন তিনি। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি দল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে সাধনা মহল সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও মন্তব্যের ঘরে ভক্ত ও অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, হিরো আলমের অর্জন, কর্মজীবন কিংবা তাঁর সস্তা জনপ্রিয়তার সাথে সাধনা মহলের রাজনৈতিক আদর্শের কোনো মিল নেই। তিনি মনে করেন না যে, হিরো আলমের মতো কেউ মজলুম বা সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে তিনি দলের একটি ‘রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, বড় ধরনের ক্ষতির আগেই দলটি তাদের এই সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ পাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে হিরো আলমকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য উঠলে সাধনা মহল স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরণের সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হিরো আলমের মতো ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানোর প্রচেষ্টাকে তিনি অবাস্তব ও নীতিবিবর্জিত বলে মনে করেন। তাঁর মতে, রাজনীতির মাঠ ও সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা এক নয়, এবং জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য যে পরিপক্কতা প্রয়োজন তা হিরো আলমের মাঝে অনুপস্থিত।
উল্লেখ্য, হিরো আলম গত রবিবার সন্ধ্যায় তারেক রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আমজনতার দলে যোগ দেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই দল থেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নারী নেত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধনা মহলের প্রস্থান আমজনতার দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নিয়ে এক ধরণের অস্বস্তি বিরাজ করছে। মূলত নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটিতে শুরুতেই এমন বিভক্তি এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের মানবিক ও ব্যক্তিগত দিকগুলো তুলে ধরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক অভিভাবকই ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর সহযোদ্ধা ও নেতাকর্মীদের গভীর মাতৃস্নেহে আগলে রাখতেন। ডা. জাহিদ স্মরণ করেন যে, বেগম জিয়ার আতিথেয়তা ছিল কিংবদন্তিতুল্য; তাঁর বাসভবনে গিয়ে কোনো কিছু না খেয়ে কেউ ফিরে এসেছেন—এমন ঘটনা কখনোই ঘটত না।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডা. জাহিদ আরও বলেন, বেগম জিয়া সবসময় দেশ, দেশের মানুষ এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা করতেন। তিনি অত্যন্ত জনবান্ধব নেত্রী ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয় এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দিতেন না। একজন সচেতন রোগী হিসেবে চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থার কথা উল্লেখ করে ডা. জাহিদ জানান, শারীরিক অবস্থা যতোই জটিল হোক না কেন, তিনি সবসময় চিকিৎসকদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করতেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর এই ধৈর্য ও সহযোগিতা চিকিৎসকদের মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যাসহ লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৮০ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেত্রী। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তাঁর এই চিরবিদায়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন একটি যুগের অবসান ঘটল, তেমনি শোকাতুর হয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশ। বর্তমানে তাঁর মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতালেই রাখা হয়েছে এবং আগামীর দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে তাঁর পরিবার ও দল।