আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের’ ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে’ এমন বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘তার (প্রধান উপদেষ্টার) বক্তব্যে আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই।’
আজ বুধবার মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে বের হওয়ার পর তিনি এ হতাশা ব্যক্ত করেন। বিএনপির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে একটি চিঠিও দেয়া হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট করে নির্বাচনের ডেটলাইন দেননি। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে তিনি নির্বাচন শেষ করতে চান। উনি ডিসেম্বর থেকে জুন বলেছেন, উনি বলেননি এটা ডিসেম্বরে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কাটঅফ টাইম ইজ ডিসেম্বর। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন যদি না হয়, তাহলে দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক পরিস্থিতি, সেটা আরও খারাপের দিকে যাবে। সেটা তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।এ সময় ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে বিএনপি কী করবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব বলেন, দলের মধ্যে এবং মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে। সে বিষয়ে কথা বলেছি। আর বলেছি যে, যে পরিস্থিতি আছে এবং দেশের যে অবস্থা, তাতে করে আমরা বিশ্বাস করি এখানে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যে সংস্কার কমিশনগুলো করা হয়েছে, সেগুলোতে আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি। কয়েকদিন আগে সংস্কার কমিশনের কাছে আমাদের মতামতগুলো দিয়েছি। আগামীকালও আমাদের সঙ্গে বৈঠক আছে। সবগুলো দল যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো নিয়ে আমরা একটা চার্টার করতে রাজি আছি। তারপরে আমরা নির্বাচনের দিকে চলে যেতে পারি। বাকি যেসব সংস্কারে আমরা একমত হব, সেটা আমরা অবশ্যই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা সেগুলো বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেবেন। এটাই ছিল আমাদের (বিএনপির) মূল কথা।
এ বৈঠকের জন্য বেলা সোয় ১২টায় ‘যমুনা’য় পৌঁছায় বিএনপি মহাসচিবসহ দলের স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্য। পৌনে দুই ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনী রোডম্যাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সরকারের পক্ষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ছিলেন উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে
চিঠিতে বিএনপি উল্লেখ করে, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও মানবিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি লড়াইয়ের নেতৃত্বদানকারী কিংবা গর্বিত সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিএনপি তার অবস্থান থেকে প্রতিটি লড়াইয়ের সুফল জনগণের জন্য কার্যকর করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে এবং করছে। সেই লক্ষ্যেই এবারও জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের সুফল জনগণের কল্যাণে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিবেদিত করার টেকসই ক্ষেত্র প্রস্তুতের লক্ষ্যে দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপরিচালনার ভার আপনার নেতৃত্বে অন্তর্র্বতী সরকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সমর্থন জানিয়েছি এবং দায়িত্ব পালনে আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। আপনার ও আপনার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে প্রায় দেড় যুগ ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারহীন জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যাসিবাদী দল, তাদের দলীয় সরকার ও তার দোসরদের আইনের আওতায় এনে তাদের গণবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, দুর্নীতি-অনাচারের মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিচার ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে নিহত ও আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পতিত সরকারের সব অপচক্র ও সিন্ডিকেট ধ্বংস করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে তারা সম্মিলিতভাবে দেশে সুষ্ঠু রাজনীতি, উন্নত অর্থনীতি এবং জনগণের মানবিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বিএনপি মনে করে যে জনগণের স্বার্থরক্ষা ও স্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গণতান্ত্রিক শাসনের বিকল্প নেই। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংস্কার একটি সদা চলমান অনিবার্য প্রক্রিয়া। বিগত ফ্যাসিবাদী পতিত সরকারের মতো “আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র” যেমন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপকৌশল ছিল, এখনো কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর “আগে সংস্কার পরে গণতন্ত্র” তেমনই ভ্রান্ত কূটতর্ক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমেই সবার জন্য উন্নয়ন সম্ভব এবং এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইন, নীতি, বিধানের সংস্কার অপরিহার্য। এর সবগুলো পরস্পরের পরিপূরক, কোনোটাই কোনোটার বিকল্প নয়; পরস্পর সাংঘর্ষিকও নয়।’
এতে আরও বলা হয়, আজ যারা সংস্কারের কথা বেশি বেশি বলে এবং বিএনপিকে সংস্কারের বিপক্ষের শক্তি বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করছে, তাদের ভিশন-২০৩০ এবং রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচিতে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে ও যেসব পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গোষ্ঠীস্বার্থে এবং রাজনীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে হেয় ও অপ্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় অযথা সময়ক্ষেপণ করে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার তথা রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার কৌশলকে বিএনপি সমর্থন করে না। দেশ ও জনগণের স্বার্থে জনগণের সম্মতি নিয়ে ৩১ দফায় বর্ণিত এবং ঐকমত্যে গৃহীত সব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। চিঠিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী ও তার সরকারের বক্তব্য ও মতামতে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি এর কিছু ব্যতিক্রম আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। আপনার সরকারের কিছু ব্যক্তি এবং আপনাকে সমর্থনকারী বলে দাবিদার কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রকাশ্য বক্তব্য ও অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আশা করি আপনি এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
বিএনপি বলে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যেসব আইন, বিধি, বিধান সংস্কারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেসব পরিবর্তন জরুরি, তা সম্পন্ন করার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভব বলে আমরা মনে করি। সে লক্ষ্যে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা আপনার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এনআইডি প্রকল্প নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার এবং নির্বাচনি এলাকা পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনেরও প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে পতিত ফ্যাসিবাদী দল ও সেই দলীয় সরকারের সঙ্গে যারাই যুক্ত ছিল, তাদের বিচার দ্রুত করে রাজনীতির ময়দানকে জঞ্জালমুক্ত করার; জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার অধিকতর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ১/১১-এর অবৈধ সরকার এবং পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে করা সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করছি।
জয়পুরহাটে জুলাই বিপ্লবে সংগঠিত বিস্ফোরক ও হত্যা মামলায় কালাইয়ের আওয়ামী লীগের তিন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জয়পুরহাট আমলি আদালত (সদর) এর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র পাল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ওই সাত নেতা হলেন- কালাই উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান (৭০), সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ফকির (৫৬), জিন্দারপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম (৫৫), কালাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান (৪৮), আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আকবর আলী (৫৮), কালাই উপজেলা আ.লীগের সদস্য এনামুল হোসেন ফকির (৫৪) এবং সাবেক ছাত্রনেতা পুনট পাঁচপাইকা গ্রামের মৃত. মাহফুজার রহমানের ছেলে মিনহাজুর রহমান মিথুন (৪০)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা জুলাই বিপ্লবে সংগঠিত বিস্ফোরক ও হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা একসঙ্গে আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কড়া পুলিশি পাহারায় দ্রুত তাদের জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাড. শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তথা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ক্রমান্বয়ে আরোগ্য লাভ করছেন এবং স্বাভাবিক প্রাত্যহিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি সংক্রান্ত কিছু গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে নেতা-কর্মীদের মাঝে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়। তবে এসকল প্রচারণাকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে আফরোজা আব্বাস বলেন, "আগের চেয়ে তিনি অনেকটাই সুস্থ। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই তাকে নিয়ে দেশে ফিরব।"
এর আগে গত ১০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তাঁর একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল চিকিৎসার ইতিবাচক অগ্রগতির খবর জানিয়েছিলেন। সে সময় তাঁর বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছিল, "তিনি এখন অনেকটা সুস্থ। নিয়মিত থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে বেডে উঠে বসতে পেরেছেন, পরে চিকিৎসকরা তাকে চেয়ারেও বসান। তিনি অল্পস্বল্প কথা বলতে পারছেন, যা ইতিবাচক লক্ষণ।" সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার সন্তোষজনক উন্নতি ঘটলে গত ১৪ এপ্রিল নিবিড় ফিজিওথেরাপির জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
মির্জা আব্বাসের একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল জানান, বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। তবে শারীরিক কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁর এখন নিবিড় ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন, যার সুব্যবস্থা মালয়েশিয়ায় করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর নিকট দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। দ্রুত তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মজীবনে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতা গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। সেই নির্বাচনে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পরাজিত করেন। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর আরোগ্য লাভের সংবাদটি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। খুব শীঘ্রই তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যাবলিতে ফিরতে পারবেন বলে পরিবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
আদালতে নেওয়ার পথে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে বহনকারী প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে পলকসহ ভ্যানে থাকা কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে তাকে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল মঙ্গলবার পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভ্যানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে পলকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আগামী ২১ মে তারিখ ধার্য করেন। এদিন এ মামলার আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক এমপি সাদেক খানকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত থেকে নামানোর সময় পলক তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখির কাছে অভিযোগ করেন যে তিনি প্রিজনভ্যানে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিষয়টি আদালতের নজরে আনার উদ্দেশ্যে তিনি আইনজীবীকে আবেদন করার অনুরোধ জানান।
শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াত আন্দোলন করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য আন্দোলন। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তখনকার জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে আন্দোলন করেছিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা যে দেশপ্রেমিক জাতি এবারের নির্বাচনে সেটা স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে জামায়াত স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে। মেহেরবানি করে, দয়া করে অতীত ইতিহাস টেনে বর্তমান জামায়াতকে দোষারোপ করবেন না।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাদ আসর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রোববার বাদ জোহর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তার নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস কেবল একজন চিকিৎসকই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক এবং সাবেক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজ কল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
তারা বলেন, চিকিৎসা ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অধ্যাপক কুদ্দুসের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় সামাজিক অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদানের পরিকল্পনা করা হয় এবং তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করা হতে পারে। এই লক্ষ্য পূরণে বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ পদত্যাগ করবেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মামলার শিকার হওয়া ইসহাক সরকার সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন।
এই অনুষ্ঠানে যোগদানকারী মহিউদ্দিন রনি রেলওয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন এবং নুরুজ্জামান কাফি সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ ও তরুণ এই মুখগুলোর অন্তর্ভুক্তি এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও চাঙা করে তুলবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। দলের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে শুনা যাচ্ছে।
এনসিপিতে নতুন নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নেতা ইসহাক সরকার ২ হাজার নেতা- কর্মী নিয়ে এনসিপিতে যোগ দেবেন। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি থেকে ইসহাক সরকারকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ইসহাক সরকার।
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও এনসিপিতে যোগ দেবেন বলে শোনা গিয়েছিল।
তিনি এনসিপি থেকে নির্বাচন করবেন, এমন কথাও বলা হয়েছিল। সে সময় শুধু আলাপ-আলোচনার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার ফেরসামিন হক এনসিপির অংশ হতে যাচ্ছেন। তাঁদের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিও শুক্রবার এনসিপিতে যোগ দেবেন। তবে তাঁকে কোন পর্যায়ের পদ দেওয়া হবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দেবেন বলে আলোচনা চলছে। তবে তাঁর যোগদানের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক নেতা।
এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ওবায়দুল কাদের প্রতি মাসে নিয়ম করে কক্সবাজার যেতেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির কাছ থেকে বস্তা ভরে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহের জন্য।
অলি আহমদ প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী কেন বারবার রাজশাহী বা দিনাজপুরে না গিয়ে শুধু কক্সবাজারেই যেতেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ তখন একে কঠোর পরিশ্রম হিসেবে দেখলেও এর পেছনে মূলত ছিল মাদকের উদ্দেশ্য ।
বর্তমান সময়ের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলডিপি সভাপতি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাদকের প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও এখন জনপ্রতিনিধিরাই এই কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, রাতারাতি কোটি কোটি টাকা আয়ের নেশায় ইয়াবা ব্যবসাকে তারা সহজ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এসময় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করছে না পুলিশ।
দেশের সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তার অভিযোগ, সংসদে তিন ভাগের একভাগ ব্যবসায়ী; আরেক ভাগ অশিক্ষিত, যারা পার্লামেন্ট বানানও উচ্চারণ করতে পারে না। স্বশিক্ষিত মানে কি, অশিক্ষিত। অশিক্ষিত না লিখে ভদ্র ভাষায় লিখে স্বশিক্ষিত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর তিনি এই আবেদনপত্র জমা দেন।
যদিও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নুসরাত সশরীরে উপস্থিত ছিলেন, তবে এই বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া রিসিভ কপিতে ১৯ মিনিট বিলম্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মূলত সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমকে বেছে নিয়েছে দলটি। মনিরা শারমিন বর্তমানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকলেও তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।
তিনি ২০২৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি বা সামরিক কর্মকর্তা পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না।
মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পূর্ণ না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপি সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরলেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।’ এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে অগ্রযাত্রার পথে হাঁটার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার।
এ সময় সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো-
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। ৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০,০০০ (দশ হাজার) মেগাওযাট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড-এর পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। ৯. সরকারের একটি অগ্রাধিকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনো অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ১১. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি ১২,০০০ টাকা এ বছরেই কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মত দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, এমপ্লয়েমেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০. গত প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা প্রদান করে নিশ্চিত করা হয়েছে, সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে। ২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশগুলো হলো-সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া। ২৩. দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব প্রদান করে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ‘হাব’ বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫. পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৬. দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে মোট কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী থেকে নেওয়া হবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন।
২৭. সঠিক ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২৮. প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, অর্থাৎ পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হবার পর নতুন করে আর ভর্তি ফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকল স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
২৯. বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
৩১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
৩২. আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
৩৩. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩৪. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৫. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
৩৬. ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, বনায়ন সৃজনের জন্য এরই মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত চারাগুলো চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।
৩৭. রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
৩৮. প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন, ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন এনেছেন, তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।
৩৯. দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যেই-নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং পরিচালনা করছে। চালু হয়েছে ২৪/৭ হটলাইন। ৪০. পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।
৪১. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমছে। ৪২. পাটজাত পণ্যে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বেসরকারি শিল্প খাতকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪৪. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে সারাদেশে প্রদান।
৪৫. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৬. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪৭. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, এর ফলে নদী দখল ও দূষণ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে; এই আইনের অধীনে নদী দখলদারদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
৪৮. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছিল। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
৪৯. প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষার মেধাভিত্তিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে। ৫০. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে। ৫১. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
৫২. বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে বাস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের লক্ষ্য একটি উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করা, যেখানে কোনো মত, বিশ্বাস বা পরিচয় অবমূল্যায়িত হবে না। মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই মাসে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
৫৩. বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫৪. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫৫. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।
৫৬. সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যেখানে প্রবাসীদের জনকল্যাণ, দূতাবাস এবং মিশনগুলাকে বাণিজ্যের প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি অন্যতম অগ্রাধিকার। ৫৭. পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী এবং স্বাভাবিক করা হচ্ছে। জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক, পানি কটন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দুয়ার খোলা হচ্ছে।
৫৮. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। ৫৯. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
৬০. মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিএনপির ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। গত দুই মাসে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় যে রেকর্ড তৈরি করেছে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। দেশটির সঙ্গে যেসব দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্কও স্থাপন করতে পারবে না। এতে এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ ধরনের বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমাদের ওপর এমন অনেক পণ্য আমদানির চাপ তৈরি হবে, যেগুলো বাস্তবে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি যেসব পণ্য আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে সংগ্রহ করতে পারি, সেগুলোও বেশি দামে নির্দিষ্ট উৎস থেকে আমদানি করতে বাধ্য করা হবে। এর কারণে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ের চাপে পড়বে এবং বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে।
তিনি বলেন, এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবো, কোথা থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কিনবো, এসব সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের যে সক্ষমতা গড়ে উঠেছে তা মূলত তুলনামূলক নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে এমন কিছু মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে যেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না।
গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পকে ধসিয়ে দেবে ও তিল তিল করে গড়ে তোলা পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংস করবে। গরিব মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন করবে। জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এ ধরনের চুক্তি মূলত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে। মার্কিন তাবেদারি করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ৮টি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির বুকলেট কপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কপিটি তুলে দিয়েছেন তিনি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদেরও দেওয়া হয়েছে কপি। চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে এটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
তথ্যপ্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার ও বিএনপি গ্রাসরুটস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এ বুকলেট কপি প্রকাশিত হয়। এতে দলের নির্বাচনি প্রচারণায় ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট নেতাদের কল্যাণ—এই সব খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও অর্জনের বিস্তারিত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।
বিএনপি প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনা পার্কের জারুল চত্বরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলেছিলেন কোনো প্রতিশোধ নয়। কোনো প্রতিহিংসা নয়। আমরা প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বিশ্বাস করি না।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বিশ্বাস করেন না। আমরা অন্তর্ভুক্তমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ চাই। যে সমাজে মত পার্থক্য থাকবে। গণতন্ত্র থাকবে। সবার আগে বাংলাদেশ। এই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি জানান, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। নববর্ষ উপলক্ষে সারা শহর আনন্দমুখর হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।