রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা দরকার: তারেক রহমান

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কথা বলছেন। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০৯

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও খেলাধুলা একটি বড় বিষয়। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা যাতে বাধ্যতামূলকভাবে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ সব অ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকে। এর ফলে শিশুদের যেমন মানসিক বিকাশ ঘটবে তেমনই তাদের শারীরিক বিকাশও ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, পত্র-পত্রিকা খুললেই সংস্কার আর সংস্কার। সংস্কার কিন্তু শুরু করেছে বিএনপি। শহীদ জিয়া প্রথম সংস্কার শুরু করেছেন খাল খননের মধ্য দিয়ে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলাদেশের সব খাল খনন করে জীবিত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ হবে খাল খনন কর্মসূচি। নদীগুলোও খনন করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটির আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার শেষ বেলায় বিকেলে ভার্চুয়ালি যোগ দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ যদিও ল্যান্ড ওয়াইজ (আয়তনের ক্ষেত্রে) বড় দেশ না, তবুও জনসংখ্যার ভিত্তিতে অনেক বড়। লালমনিরহাটের যেমন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কিছু বৈশিষ্ট্য আছে তেমনই কুড়িগ্রামের আছে, চট্টগ্রামের আছে, কুষ্টিয়ার ওইদিকেও আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কৃষ্টিকালচার সংস্কৃতি আছে। সে রকম আলাদা আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্যও আছে। আর এই বৈশিষ্ট্যটাই হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে দেশীয় কৃষ্টি-কালচারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। আমরা জানি গত ১৭ বছর বহু সংস্কৃতিকর্মী কষ্টে জীবনযাপন করেছেন। চিকিৎসার অভাবে কষ্টে দিনযাপন করেছেন। যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে সুযোগ ছিল এমন অনেক সংস্কৃতিকর্মীকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। আমাদের সামগ্রিক চিন্তার মধ্যে যেটি রয়েছে তা হচ্ছে আমাদের এই কালচারকে এগিয়ে নিয়ে যাব। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও কালচারাল একটি বিষয় থাকবে। খেলাধুলার বিষয় থাকবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা যেন বাধ্যতামূলকভাবে সব অ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকে। এর ফলে তাদের যেমন মানসিক বিকাশ ঘটবে তেমনই শারীরিক বিকাশও ঘটবে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে দেশের জনগণের স্বার্থে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, নেওয়াজ হালিমা আরলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন শ্যামল। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লালমনিহাট জেলার পাঁচ উপজেলার দুই শতাধিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসবে, সব সেক্টর দুর্নীতিমুক্ত হবে, দেশে থাকবে না একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা।

এর আগে কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন হবে। একদলীয় শাসনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আর জিম্মি থাকবে না। ৩১ দফার মাধ্যমেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন, পাশ্ববর্তী দেশ ভারত বাংলাদেশের মানুষকে মানুষ মনে করেনি, তারা তাদের মনঃপুত একটি দলকে প্রাধান্য দিয়েছে। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা বাইরের প্রভুত্ব মানে না।


কাপাসিয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী কড়িহাতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পাকিয়াব গ্রামের অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোবারক হোসেনের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খোঁজখবর নিতে আসেন গাজীপুর জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহ রিয়াজুর হান্নান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সবার কথা শুনেন এবং সবাইকে আন্তরিক ভাবে শান্তনা দেন। পাশাপাশি দোষীদের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহার এবং যে কোনো উস্কানিতে যথেষ্ট ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে সবাইকে সতর্ক করে দেন।

এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কড়িহাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ লুতফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।


সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাদের সহযোগীতা থাকবে: জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশটাতো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে আরেকটা বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না মিনিমাম দুই চাকা লাগে। সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাদের সহযোগীতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরাতো জনগণের পক্ষে অবস্থান নিব। এবং আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ারকার্ড।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না বুকের কথা। তিন শর্ত আমরা চাইবো সবাই মানোক। নাম্বার ওয়ান এই সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুই নাম্বার হচ্ছে বিচার বিভাগ বিচার বলতে কিছুই নাই। দেখেন না, এতগুলো ঋণ খেলাপি কিভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়। এদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ হবে, হবে নাতো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে। এই জায়গাটাই (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার যে নিজের স্বার্থ দেখবে না ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউর ঋণ খেলাপি হয় না। ঋণ খেলাপি হলে আবার কি হবে নেতা হতে চায়। লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে আমি দিতে পারছি না। কারো উপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করব। এমনকি সরকারি দলের কারো উপরও অবিচার হলেও আমরা প্রতিবাদ করব। অবিচার আমরা মেনে নেব না কোন অবস্থাতেই।

সন্ধ্যায় তারেক রহমানের দেখা করা নিয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আরেক সাহেব কি নিয়ে আলাপ করবে এটা উনার মনের ব্যাপার। আমি তো উনার মনের ব্যাপার বলতে পারব না। উনি আসলে আমার সাথে আলাপ করলে দেশ এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা আলাপ করব।

শক্তিশালী বিরোধীদল নিয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ চলতে হলেতো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবেই। সরকারি দল বিরোধীদল হাতে হাত রেখেই চলবে যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে তাহলে ওই চাকা চালাবো না।

জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, জাতীয় পার্টিতো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে এরাতো এখন ভূগোলে নাই। কেন নয় তারা (জাতীয় পার্টি) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এখন তারা শুধু ভোটের জগত থেকে যান নাই, জনগণের মন থেকে উঠে গেছেন। এটা ওই কারণেই কারণ তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন নাই। জামাত ইসলামি ওই ভুল করবেন না।

এর আগে তিনি জামায়াতের কর্মী আব্দুস ছালাম ও শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন ।

উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন।

এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।


ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত চেয়ে ইসিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট জালিয়াতি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই নির্বাচনী আসনের ফলাফল বাতিল ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আবেদনটি জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এই অভিযোগপত্রটি গত শনিবার লিখেছিলেন পাটওয়ারী।

আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্দিষ্টভাবে ১২টি ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নানা অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন।

এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, সুপরিকল্পিত কারচুপি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে জয়ী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনটি শুরু থেকেই সবার নজরে ছিল। নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। এই ফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এখন আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ে নেমেছে এনসিপি।


৩০ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে ইসিতে ১১ দলীয় ঐক্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশনে গেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। তারা ৩০টি নির্বাচনী আসনে ফলাফল শিটে ঘষামাজা ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে ভোট পুনরায় গণনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আজ রবিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এই প্রতিনিধি দলটি উপস্থিত হন।

১১ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, বেশ কিছু আসনে পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে যে ৩০টি আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসনগুলো হলো— ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্ধারিত এই বিশেষ বৈঠক শেষ করে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং সেখানে তাদের অভিযোগের সপক্ষে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই আসনগুলোতে পুনরায় ভোট গণনা অত্যন্ত জরুরি।


এ বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্রকামী মানুষের: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। এ সময় তিনি আরও বলেছেন, যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ পাওয়া দলটির চেয়ারম্যান। বিজয়ের পর এটা তারেক রহমান প্রথম সংবাদ সম্মেলন। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাপনী বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
এ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বে-আইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক—কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
তারেক রহমান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। সরকারি দল বা বিরোধী দল—সকলের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে কেউ যেন সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতামূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারাদেশে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব।’ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের। এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন। স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপস করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল অবিচল। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে—এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শত নির্যাতন নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি আমি আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদ্‌যাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মানবিক দেশ গড়তে ভিন্নমতসহ সবার সহযোগিতা চাই:
তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনমনে সৃষ্ট সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।
বিএনপিকে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেতে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্রয় নিতে হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আমরা সফল হয়েছি
চীন-ভারত সম্পর্কে যা বললেন তারেক রহমান :
চীন-ভারত-পাকিস্তান সবার সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে বিএনপি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আপনার পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।
সরকার-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূলত কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আপনাকে- এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অর্থনীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নয়ন কেমন হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবো। যদি এমন কিছু থাকে, যা বাংলাদেশের পক্ষে হবে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা করতে পারি না। আমি নিশ্চিত, পারস্পরিক স্বার্থই প্রথম অগ্রাধিকার, যা আমরা অনুসরণ করব। চীন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার মতো জায়গা আমরা অবশ্যই তৈরি করবো। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তা বাংলাদেশের উপকারে আসে, অর্থনীতির সহায়ক হয়, আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেব। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপির সরকার কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আপনি জানেন, সার্ক প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিল। আমরা চাই এটি সচল হোক। আমরা আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব, আমরা চেষ্টা করব সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে।
শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ চাইবে কিনা বিএনপি এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।


নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদার গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ইতিহাসে পরিবর্তনের শুভ সূচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। যারা পরিবর্তন চান, তারা ব্যালটের মাধ্যমে রায় দিয়েছেন। এই নির্বাচনে উদার গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে নেতার হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।


বিএনপির বিজয় পরবর্তী ড্যাব নেতৃবৃন্দের বিএমইউতে মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর ভূমিধস বিজয় পরবর্তী ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ড্যাব নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা মতবিনিময় করেন।

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে নেতৃবৃন্দ বিএনপির এই বিজয়কে বাংলাদেশের বিজয়, বাংলাদেশের জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বিজয় ধরে রাখা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়া, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা, স্বাস্থ্যখাতে জনগণ ও রোগীদের জন্য কল্যাণমূলক পরিবর্তন আনা, অতি উৎসাহী হয়ে কিছু না করা, ধৈর্য ধারণ, সততা, স্বচ্ছতার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা, মানবিক, অধিকার ও জবাবদিহিমূলক বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নসহ বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ বিগত সময়ে যারা অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বিএনপির বিরাট বিজয়ে তিনশত সংসদীয় আসনে ড্যাব নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই বিজয়ে যে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারর্সন জননেতা জনাব তারেক রহমান এর ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিএমইউ ড্যাবের সম্মানিত মহাসচিব ও বিএমউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ড্যাবের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিএমইউর ড্যাবের সভাপতি ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. শাহিদুল হাসান বাবুল, ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ মেহেদী হাসান, বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, নিউরোলজি সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম, বিএমইউর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ দেলোয়ার হোসেন টিটু, চীফ এ্যাস্টেট অফিসার ডা. মোঃ এহতাশামুল হক (তুহিন), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ হাসনুল আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছের, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. শরীফ মোঃ আরিফুল হক, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি ইয়াহিয়া খাঁন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, সহকারী রেজিস্ট্রার মোশাররফ হোসেন, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক শামীম আহম্মদ, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক শারমিন আক্তার প্রমুখসহ ড্যাবের কেন্দ্রীয় ও বিএমইউ ড্যাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমইউর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যাবেন তারেক রহমান

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসায় যাবেন এবং পরবর্তীতে রাত ৮টায় তিনি নাহিদ ইসলামের বাসভবনে উপস্থিত হবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, তারেক রহমান মূলত নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ে জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। এই সফরের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌজন্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করলেন নবনির্বাচিত এমপি

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫২
চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নিজ দলের পাঁচ কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন, যাদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে পাঁচ কর্মীকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুর শহরের বাজার এলাকার নাহিদুল ইসলাম জনি, মোবারক হোসেন বেপারী, জনি গাজী এবং ওয়্যারলেস বাজার এলাকার মনির ও ফাহিম।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন চলাকালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এর পরদিন শুক্রবার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার পরপরই ওই পাঁচজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দলের নেতাকর্মী হলেও অন্যায়ের সাথে আপস না করার ঘোষণা দিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক তার ছাড় নেই। সে যদি আমাদের দলের হয়, তাহলে আমি আরও বেশি কঠোর হবো।’ মূলত এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিশ্চিত করতেই সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।


এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের: তারেক রহমান

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই ঐতিহাসিক বিজয়কে তিনি দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল ও সাধারণ মানুষের বিজয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার আগামীর চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।’ এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে প্রতিটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক।’

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবেনা। দলমত ধর্ম বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হ বেনা। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।’ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে সৃষ্ট কোনো ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে যেন প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি সকলকে সতর্ক থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ এছাড়া বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদেরকে ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন।’

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনের কৌশল সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে কনভেন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে কনভেন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল। এটাতে আমরা সফল।’ তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসলে আইনের শাসন নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবেন এবং কোনো বিশেষ মহলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। পরিশেষে, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বিশাল বিজয়, খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। এই বিশাল বিজয়কে স্থানীয় ভোটাররা তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরপরই সমগ্র দৌলতপুর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বিজয় উদযাপন করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে কুষ্টিয়া-১ আসনের এই বিজয় দলটিকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে একজন পরীক্ষিত ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠিত হলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী তাদের প্রিয় প্রয়াত নেতা মরহুম আহসানুল হক পঁচা মোল্লার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই তাকে বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মরহুম পঁচা মোল্লা শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনবার সংসদ সদস্য এবং ২০০১ সালে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দৌলতপুরের উন্নয়নে অসামান্য কীর্তি রেখে গেছেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার কাছে দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন বহুমাত্রিক। সাধারণ মানুষ আশা করেন, তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। জাতীয় সংসদে দৌলতপুরের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করে তিনি আধুনিক দৌলতপুর বিনির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। জনগণের এই বিপুল রায়কে সম্মান জানিয়ে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক হবে না: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উক্ত বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি ও কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক হবে না। সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’ সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বিএনপি।’ নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জানানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি এসেছে।’

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের মতো এবারো বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে।’ জনগণের এই রায়কে তিনি গভীর আস্থা হিসেবে বর্ণনা করে জানান যে, যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতর ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এটি বজায় থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে।’ উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম-১১ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ শফিউল আলম ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট পেলেও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশাল ব্যবধানে নিজের জয় নিশ্চিত করেছেন।


ভোটারদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে নুরুল হক নুরের ফ্রি লঞ্চ সার্ভিস

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ সংসদীয় এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের ভোটারদের রাজধানীর কর্মস্থলে ফেরার পথ সুগম করতে বিশেষ ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই জনহিতকর উদ্যোগের ঘোষণা প্রদান করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কর্মরত গলাচিপা-দশমিনার সম্মানিত ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে তার পক্ষ থেকে ‘রয়েল ক্রুজ-২’ নামক একটি লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লঞ্চটি আজ বিকেল ৪টায় চরকাজল লঞ্চঘাট থেকে যাত্রা শুরু করবে। রুট হিসেবে এটি চর শিবা, আউলিয়াপুর, দশমিনা ও বাশবাড়িয়া হয়ে চাঁদপুর অভিমুখে যাবে এবং পরিশেষে ঢাকায় পৌঁছাবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের এমন সময়োচিত পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


banner close