বিএনপি বরাবরই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সব সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে। কখনোই অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করবে না। আরেকজনের মতের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।’
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি অতীতে যে নির্যাতন ও নিপীড়ন হয়েছে, আপনাদের আইন কানুনে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেওয়া হয়েছে, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি। আমরা লড়াই করে চলেছি। এখনো করছি। খুব স্পষ্ট ভাষায় দৃঢ়ভাবে আবারও বলতে চাই, আমরা কখনোই অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করব না।’
বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি নতুন নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছি, সেই ষাটের দশক থেকে এই বিষয়টি সব সময় সামনে এসেছে। পাকিস্তান শাসকদের বিরুদ্ধে সেই সময়েও আমরা কথা বলেছি, আন্দোলন করেছি, কাজ করেছি। তখন সংবাদমাধ্যমের একটি নিজস্ব স্বকীয়তা ছিল। যেখানে তাদের কোনও গোষ্ঠীভুক্ত করা অতটা সহজ হতো না। তাদের দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ ছিল অনেক উঁচু দরের।
বর্তমানে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত থাকেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা আতঙ্কিত থাকি সম্প্রতি প্রেসের সামনে কথা বলতে গিয়ে। মনে হচ্ছে, কোন প্রেস আমার কথাগুলো কীভাবে নেবে। তারপর তারা কীভাবে ছাপবে। অথবা সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে এটা উপস্থাপন করবে। এটা আমাদের জন্য, যারা আমরা রাজনীতি করি। এটা আমাদের জন্য সত্যি একটা চিন্তার বিষয়। কারণ, সম্প্রতি চরিত্র হরণ করার যে প্রবণতা বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা দিয়েছে, এটাতে চিন্তিত না হয়ে উপায় নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রায় ১৬ ভাগ বেড়েছে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দেখি কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠী আরেকটি গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে। কোনও কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীও সেটার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক কর্মসূচিও দেন। একটি গণতান্ত্রিক মুক্ত সমাজে এটা কতটুকু গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এটি আমার বোধগম্য নয়।
সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বিপক্ষে প্রচার চালানো হয় যে আমরা সংস্কারের বিপক্ষে। প্রায়ই বলা হয়, সংস্কার নয় আমরা নির্বাচন চাই। অথচ সংস্কারের বিষয়টি শুরু করেছে বিএনপি। দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনেক আপত্তি সত্ত্বেও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংবিধানে যুক্ত করেছে। এগুলো বাস্তবতা। ওই বাস্তবতা থেকে অযথা নানা ইস্যুতে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটি ট্রানজেকশন পিরিয়ডে আছি। অনেক রকমের ঘটনা, টানা- হেঁচড়া চলছে। গণতন্ত্রই নেই বলে সংকট হচ্ছে। গত ১৫ বছর ধরে লড়াই করলাম গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রেজিমকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসময়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের কাছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি বিশাল ব্যাপার। এটাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় আমাদের চিন্তা। এজন্য, আমরা সেটার জন্য লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি, প্রাণ দিয়েছি। দীর্ঘ ৯ মাস অবিশ্বাস্য রকমের কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করেছি। সেই জায়গায় আমরা কোনও আপস করতে চাই না। এটাকে অনেকে পছন্দ করতে পারেন, নাও করতে পারেন। তাতে ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছু মনে করি না। কারণ ‘দ্যাট ইজ মাই বেসিস’, ওটাই আমার মূল ভিত্তি।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম। আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সম্পাদকদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্য নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে দেশে বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা সহিংসতা–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহ্ফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, গণহারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ (মামলা) স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি এবং এটি ভয়ের ব্যাপার।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামল এত জনধিকৃত হয়েছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং আরও অনেক আইনের শিকার হয়েছিলাম। তবে বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা সহিংসতা–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ২০০ বা কিছু বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ২৬৬ জন সাংবাদিক আজকে খুনের মামলা অথবা সহিংসতা সংক্রান্ত অপরাধের মামলার আসামি। এটা আমাদের জন্য অসম্মানের।’
সরকারের উদ্দেশে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘এটার অর্থ এই নয় যে কেউ দোষ করেননি। দোষ করে থাকলে সঠিকভাবে মামলা করে শাস্তি দেন এবং আমরা কোনোভাবেই তার পাশে দাঁড়াব না, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে সমাজের বিরুদ্ধে বা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সে রকম থাকে। কিন্তু আজকে ছয় থেকে সাত মাস হয়েছে, তারা এসব মামলায় পড়েছেন। একটি কদমও এগোয়নি তদন্তের ব্যাপারে।’
যাদের নামে মামলা হয়েছে, সেসব সাংবাদিক একটা ভয়ের মধ্যে থাকেন উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, তাঁরা ‘মব আক্রমণের’ (দলবদ্ধভাবে আক্রমণ) ভয়ে থাকেন। এ রকম দু-একটা ঘটনা ঘটেছে।
১৩ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার আছেন উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘তারা যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আজকে সাত মাস, আট মাস ধরে কারাগারে, তারা জামিন পাচ্ছেন না। তাঁদের আইনি কোনো প্রক্রিয়া চলছে না। বিচার হচ্ছে না। তাহলে এটা কি চলতে থাকবে?’
মামলার প্রবণতার কথা বলতে গিয়ে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, এখন মামলার যে প্রবণতা, তাতে ১০০ জন, ৫০ জন, ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তার মধ্যে একজন সাংবাদিকের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।
সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আমার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে, সরকারের হয়তো অনেক ব্যস্ততার জন্য এই ২৬৬ জন সাংবাদিকের মামলা দেখতে পাচ্ছে না। কিন্তু তারা দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০-১৫টি মামলা দেখুক না, যেখানে ২০-২৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে একজন-দুজন সাংবাদিক আছেন। তারা যদি একটা, দুইটা, ৫টা দৃষ্টান্ত পায় যে সাংবাদিকদের নামে হওয়া মামলা মিথ্যা মামলা, তাহলে কেন পদক্ষেপ নেবে না? বারবার বলা আমাদের কিছু করণীয় নাই, আমি মনে করি যারা এই মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা করছেন, এতে তাদের আরও বলিষ্ঠ করা হয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি দাবি করছি, সরকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াক।’
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘যে সাংবাদিক দোষী, যে সাংবাদিকের শাস্তি হওয়া উচিত, আমরা সরকারের পক্ষে থাকব। কিন্তু খামোখা একেবারে গণআকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ আমি মনে করি এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বিরাট একটা পরিপন্থি ব্যাপার ও এটা ভয়ের ব্যাপার।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার পরিবর্তনের সরকার, এই সরকার সংস্কারের সরকার। আশা করি, এই সরকার গণতন্ত্রকে বলিষ্ঠ করার সরকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দৃঢ় করার সরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন হচ্ছে এবং এটাও শুনেছি হত্যা মামলা দেওয়া হয় কেন, হত্যা মামলায় জামিন পেতে অসুবিধা হয়। সুতরাং যিনি মামলা দিচ্ছেন পরিকল্পিতভাবে, যাতে জামিন না পান। এগুলো তো প্রতীয়মান। সরকারের কাছে কি প্রতীয়মান হবে না?’
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আইন, স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য যারা আছেন, তারা উদ্যোগী হয়ে যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এটা শুধু আমাদের মনঃক্ষুণ্ন করছে না, বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
আলোচনা সভায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘যে দেশে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকের চাকরি যায়, সে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি আমরা। অবাক লাগে, আমি বিস্মিত হই, জানি না, আমি কাকে দায়ী করব? আমি কি সরকারকে দায়ী করব, না, আমি কি মালিককে দায়ী করব, না করব না, সাংবাদিক ইউনিয়ন কী করছে বা আমাদের সম্পাদক পরিষদ, যেটিতে আমি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত আছি, আমি মনে করি আমরাও ব্যর্থ হয়েছি।’
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘যা-ই হোক আত্মসমালোচনা আমাদের দরকার, আমরা আসলে কতটুকু করতে পেরেছি। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেকখানি। এক বছর আগে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থা এখন আর নেই। অনেকখানি বদলেছে।’
গণমাধ্যমে অনৈক্য ও বিভাজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি আশা করব, পত্রিকায় পত্রিকায়, ইদানীং আবার টেলিভিশনে টেলিভিশনের মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকের দিনে যখন মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছেন, ঠিক তার এক বছর আগেও সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে এই দিবসটি পালন করেছিলেন। কিন্তু এই দুদিবসের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য সূচিত হয়েছে। কিংবা পার্থক্য সূচিত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিয়েছে।’
নূরুল কবীর বলেন, ‘সেটা আমরা কতটা ইতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারি, এটা কেবল গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্ভর করে না, সেটা নির্ভর করে প্রধানত রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, যারা আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন করেন, তাদের ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে।’
আলোচনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে অনেক গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে, তারাও অনেক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, সেগুলো আর ভবিষ্যতে চাইবেন না। জনগণের সমর্থন নিয়ে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে, তারা মুক্ত গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম প্রমুখ।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফফরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট না করে সময় দেওয়া উচিত ভবিষ্যতের জন্য। সময় দেওয়া উচিত আমরা কত দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব, দেশকে কী করে সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে পারব, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে শক্তিশালী করতে পারব। সেই বিষয়গুলো আমাদের নজর দেওয়া উচিত। যার যেটা কাজ তারা সেটা করবে। যারা দুর্নীতি করবে তাদের দেখার জন্য দুদক আছে। আমরা দুর্নীতিকে কখনোই প্রশ্রয় দেইনি, দেবো না।’
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার সরকারি দপ্তরের প্রধানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে জোর দিচ্ছি মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য।
আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের কর্মসূচি চালু করা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে।’
এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রাণের দাবি একটি মেডিকেল কলেজ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিদর্শন টিম ইতোমধ্যে পরিদর্শন করে বলেছেন ২৭ সালে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হবে।’
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফাজানার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার সকল দপ্তরের প্রধানরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন। এ সময় দাওয়াত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমাদের এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামীদিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তাআলা দিবেন।’
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংসদে বিরোধী দলটির আমন্ত্রণে তিনি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে আছে—বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকলে এখানে একত্রিত হয়েছি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।’
তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা- যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে—সেটির সুযোগ পেয়েছি। এই ত্যাগের মাধ্যমেই, এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে, হাজারো মানুষের অত্যাচার, লক্ষ মানুষের নির্যাতনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ আমরা ফিরে পেয়েছি। সেজন্যই প্রথমেই আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।’
ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।
ইফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ম্ঈন খান, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দিয়েছেন।
খুলনার দিঘলিয়ায় দোকানে ঢুকে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা খান মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুরাদ হাজী গ্রামের বাসিন্দা খান মুনসুর আহমেদের ছেলে। তিনি উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ড্রেজার (খনন) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত হন। তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুলনা শহর থেকে নিজ বাড়ি হাজিগ্রামে ফেরার পথে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনহাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক খান মুরাদের গতি রোধ করেন। সেসময় মুরাদ দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন খান মুরাদকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউএনও কার্যালয়ে একটি কাজের দরপত্র নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের দুপক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পিঠ ও ঊরুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি যুবদল নেতা এবং হামলাকারী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সপ্তাহখানেক আগে একটি টেন্ডার নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা ও কথা-কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জেরেই আজ রাস্তার মধ্যে পেয়ে যুবদল নেতাকে ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই হবে দ্বিতীয় বড় রাজনৈতিক লড়াই, তাই মাঠে কোনো জায়গা ফাঁকা রাখা যাবে না।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে ছিলেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের বাছাই করে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দিতে চায় দল। এ ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তাদের ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা তাকে জানিয়েছেন, জামায়াত পরাজিত হয়নি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই দল সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে দাবি করে তিনি তিনটি দিক তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পেয়েছে। তৃতীয়ত, ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হয়েছে দলকে।
টিআইবি ও সুজনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শুধু জামায়াত নয়, আরও অনেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।
ঢাকার বস্তি এলাকাগুলোতে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও টাকা, ওয়াদা কিংবা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। তার বক্তব্য, এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, তারা থামবেন না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
পরে নগরের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের ক্ষতি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে না চাইলেও জানান, বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, সরকারি দলের কেউ যেন অপরাধীদের পক্ষ না নেন। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অপরাধ দমন সম্ভব, আর জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জামায়াত সহযোগিতা করবে বলেও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আকস্মিক মিছিল বের করার সময় মহিলা আওয়ামী লীগের সাতজন নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস জব্দ করার পাশাপাশি সেটির চালককেও আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর সোয়া ৬টার দিকে ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়কের স্টার কাবাব রেস্তোঁরার সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ২০-২৫ জনের একটি নারী দল "মুজিব প্রেমিক বাংলার নারীরা" লেখা সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল শুরু করে ২ নম্বর সড়ক থেকে ৩ নম্বর সড়কের দিকে এগোতে থাকে। এসময় ধানমন্ডি মডেল থানার একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে, তবে বাকিরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মুস্তফা তারিকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, মিছিলকারীদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শায়রুল কবির খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হলো।
বরিশালে আদালত বর্জন, এজলাসে হট্টগোল এবং বিচারকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ ২০ জন বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জনসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।’
নামধারী আসামিরা হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসিরউদ্দিন সবুজ।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার আসামির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওইদিন আসামিরা বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে অতর্কিত প্রবেশ করেন। তারা সেখানে শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন এজলাসে উপস্থিত সব আইনজীবীকে তাৎক্ষণিক বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি এক আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন।
এ সময় আইনজীবী মিজানুর রহমান অত্যন্ত অশোভনভাবে বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আসামিরা সেখানে দায়িত্বরত জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকেও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেন।
উত্তেজিত আইনজীবীরা একপর্যায়ে আদালতের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ এজলাসের বেঞ্চ ও টেবিল ভেঙে ফেলেন।
এ ছাড়া আদালতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কজলিস্ট এবং মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতা ছিঁড়ে ফেলে বিচারিক কাজে চরম বিঘ্ন ঘটান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঘোষণা করেছেন, তিনি তাঁর আমৃত্যু আর কখনও মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না। মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, মন্ত্রী না হওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত জেনেই তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মহলে প্রচলিত গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। তিনি উল্লেখ করেন, শপথ অনুষ্ঠান থেকে তাঁর দ্রুত প্রস্থান নিয়ে অনেকে ধারণা করেছিলেন তিনি হয়তো মন্ত্রী না হতে পেরে রাগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছাতেই মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আমৃত্যু এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই তাঁর কাছে এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবেই মানুষের অধিকার আদায় এবং সমাজে নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান।
মতবিনিময় সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিয়মের কথা বলা এবং শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। তিনি নিজেকে মন্ত্রিত্বের মোহ থেকে দূরে রেখে সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক মান-অভিমান নেই বরং এটি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দর্শনের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। এছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় তার অফিস খুলছে, গণহত্যাকারীরা দেশে ফিরছে-এই ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসা নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুস্পমাল্য অপর্ণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে। ১৯৭১ এর সেই কালো রাতে যেদিন পাক হানাদার বাহিনী হায়নার মত এই দেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেদিন প্রতিবাদের ঝাণ্ডা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমরা সেই আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি একদলীয় বাকশাল শাসন যেটা বাংলাদেশের ওপরে জগৎদল পাথরের মতো আওয়ামী লীগ চাপিয়ে দিয়েছিল সেই ধারণায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই যে বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। সবাইকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করি, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এটা আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমরা বারবার ফিরিয়ে এনেছি। আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে ছাত্র জনতার বিপ্লব হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। এই গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব।’
নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ ড.আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে আসেন - নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য মন্ত্রী), নরসিংদী-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আবদুল মঈন খান আরো বলেন, ‘আমরা তাদের সমাধিস্থলে এসেছি। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এখানে দোয়া করেছি। সর্বশেষ সেই স্বাধীনতার ঝাণ্ডা যিনি উঁচু করে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান, যিনি বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী স্বৈর শাসনের পরে বাংলাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশে আবার একটি গণতান্ত্রিক সরকারগণ করেছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তার নেতৃত্বে আমরা এই দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে যোগ দিয়েছি।’
তিনি বলেন, যে নরসিংদীতে ব্রিটিশ আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল এবং উপনিবেশিক ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে যে নরসিংদীর গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাকামী মানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মানুষ আজকে নরসিংদীর পাঁচজন বিএনপির সেবককে তারা প্রতিনিধি করে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে, আমরা তাই এখানে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণকৃত গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করার লক্ষ্যে তিনি এ কাজ করেছেন, যা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন রোধে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সভাপতির বাড়িতে যেতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে সমস্যার কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছ কেটে ধাপে ধাপে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (সদ্য পদ স্থগিত হওয়া) জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দাবি, তিনি একটি গাছও কাটেননি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিঠামইন থানার ওসি সরকারি নাম্বারে কল করা হলে কলটি রিসিভ করেন উপপরিদর্শক আল মোমেন। তিনি জানান, বেরিবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফয়েজুর রাজ্জাক বাদী হয়ে আঙ্গুর মিয়া নামে একজনের নামউল্লেখ করে আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীর মাদকবিরোধী কঠোর ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। বিশেষ অভিযানে ইয়াবা সেবনের সময় হাতেনাতে ৭ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চৌধুরীকান্দি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান।
সূত্র জানায়, চৌধুরীকান্দি এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা বেচাকেনা ও সেবন চলছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে এসআই আলমগীর, এসআই নুরুল ইসলাম, এসআই রুহুল, এএসআই শামিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের সময় ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় নবীপুর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৭), মো. জুলহাস আহমেদ (৫৫), রামধনীমুড়া এলাকার মো. মশিউর রহমান (৪৫), মো. ইয়াসিন (৩০), মো. সবুর মিয়া, নিমাইকান্দি এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫) ও মো. সোহেল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। শুনানি শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত ৭ জনকে মোট ১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা এবং প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান জানান, মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়েকোবাদ নিজ এলাকায় প্রথম সফরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়।
যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, তাদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন (কায়কোবাদ)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইসলামী বইমেলা-২০২৬ এর উদবোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর হুকুম পালন ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। তার হুকুম পালন ছাড়া পৃথিবীতে শান্তি আসবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যে ভূমিকা রাখছে, আমরা তাতে অভিভূত। তাদের ভূমিকার কারণে ফাউন্ডেশন থেকে যেসব ইসলামিক বই বের হচ্ছে, সেগুলো পড়ে আমরা ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবো।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায় অবিচার করেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অত্যাচারকারী, জুলুমবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ইসলামের নাম নিয়ে ধর্ম ব্যবসা করতে চায়, তাদেরকে কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছালাম খান প্রমুখ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ইশরাক হোসেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়াজ শুরু হওয়ায় এখানে মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এই ঘোষণা দেন।
এর আগে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেয়। দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে প্রশাসক করা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে ২০২০ সালে শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন। তখন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশিত হয়। তবে তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরোধিতার কারণে ইশরাকের আর মেয়রের চেয়ারে বসা হয়নি।