আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর ১ শার্শা আসনে বাড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও আগ্রহ। এ আসনে বিএনপির চার জন মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাবেশ মিছিল মিটিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নির্বাচনী মাঠ বিএনপির দখলে আছে। এ আসনে বিএনপির একাধীক প্রার্থী থাকলেও সবাই এক কাতারে থেকে দলীয় প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় স্বার্থে এবারের নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে সবাই তারা প্রতিদিন শার্শার কোনো না কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন একই সঙ্গে। এদিকে জামায়াত ইসলামীর প্রকাশ্যে কোনো মিছিল মিটিং করতে দেখা না গেলেও বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসায় ঘরোয়াভাবে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। আর ঘর গোছাতে ফরম পূরণ করে বাড়াচ্ছেন সদস্য। এবারের নির্বাচনে যশোরের এ আসনে জামায়াত ইসলামীকে বিজয়ী করতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা।
যশোরের-১ শার্শা আসনের ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ১০২টি। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২৯৯২৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫০৪৪০ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১৪৮৮৮৩ জন।
বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ মফিকুল হাসান তৃপ্তি গত ১৭ বছরে নানাভাবে মামলা হামলার শিকার হওয়া ছাড়াও জেল খেটেছেন কয়েকবার। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসন দ্বারা নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হলেও দল ছেড়ে যাননি তিনি। মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবারও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ লক্ষ্যে শার্শার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল মিটিং ও পথ সভা করে যাচ্ছেন।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দল প্রিয় ও সুপরিচিত আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি এবার যশোর ১ শার্শা আসন থেকে এনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনিও গত সরকারের আমলে নানাভাবে মামলা হামলার স্বীকার হয়েছেন। তারপরও দল থেকে বিচ্যুত হননি। বিগত সরকারের আমলে নেতা কর্মীদের আগলে রেখেছেন তিনি। পাশে থেকেছেন সবসময়। এবারের নির্বাচনে বেনাপোলসহ শার্শাবাসীর দাবি নুরুজ্জামান লিটনই হবে বিএনপির প্রার্থী। এদিকে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমানে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ খাইরুজ্জামান মধু। ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হওয়া ত্যাগী নেতা খাইরুজ্জামান মধুর বিগত ১৭ বছর জেলখানায়ই ছিল বাড়ি। তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনী মাঠে পিছিয়ে নেই শার্শা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক্ ও বর্তমানের সভাপতি আবুল হাসান জহির। তিনি শার্শা আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বিগত সরকারের আমলে জেলখাটাসহ নানা হযরানির স্বীকার হওয়া ছাড়াও আবুল হাসান জহিরের বিরুদ্ধে হয়েছে অগণিত মামলা।
তবে এ আসনে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী থাকায় ফুরফুরে মেজাজে নেতাকর্মীরা। জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা প্রতিদিন সকালে দল বেধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফরম পূরণ করে সদস্য সংগ্রহ করছেন।
এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রতিদিন মিছিল ও জনসমাবেশ করে তাদের নির্বচনী মাঠ গরম করছেন। তবে যশোর ১ শার্শা আসনে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন আমাদেন রাজনৈতিক দলের প্রধান যেভাবে আমাদের নির্দেশ দেবেন আমরা সেভাবেই কাজ করব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই দলীয় ব্যানারে নির্বাচন করার টিকিট দেবেন। আমাদের মধ্যে দলীয় কোনো কোন্দল নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা সবাই তার পক্ষেই নির্বাচনী কাজ করব।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই, কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না। আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ ওটাই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে—তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন—এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।’
বিএনপি মহাসচিব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সবসময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যে সময় কোনো রাস্তা ছিল না ঘাট ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না সেই সময় আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যা করেছিলাম গত ১৫ বছরে তার সংস্কার পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসলে ধুলা-বালি খেতে হয়। আমি খেটে খাওয়া মানুষের এমপি ছিলাম আপনাদের সমর্থন আর ভালোবাসায় খেটে খাওয়া মানুষের এমপি হয়েই আপনাদের পাশে থেকে বাকি জীবন সেবা করে যেতে চাই।
বরগুনা - ২ (পাথরঘাটা- বামনা- বেতাগী) আসনের ৪নং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা- আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৫ বছরে কোন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি আমার মেধা-শ্রম দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি বরগুনা- ২ কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জাহাজ রিপেয়ারিং কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই। আমার মৎসজীবী ভাইদের পাশে আবারও দাঁড়াতে চাই ইনশাল্লাহ।
নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে আরো বলেন,যারা এখনো মানুষের হক মেরে খান যারা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত তারা ভালো হয়ে যান। আমি কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজকে কোনোরকম অন্যায় কাজ করতে দেব না। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট পতিত স্বৈরাচার। আমি যদি নির্বাচিত হই যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ইনশাল্লাহ আমি বাকি জীবন পূর্বে ও যেমন আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও আপনাদের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, যারা দেশ চায়নি, যাদেরকে আপনারা কখনো চোখে ও দেখেননি তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা আপনাদের অধিকার ভোট চায়।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আপনারা ঘরে ফিরবেন। একটি চক্র ভোট চাওয়ার নামে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের থেকে সাবধানে থাকবেন।
জনসভায় সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের ডামের মোড় এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের ব্যানারে গত রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে কে বা কারা ওই এলাকায় টানানো নির্বাচনী প্রচারণামূলক ব্যানারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার সকালে পোড়া ব্যানার দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠলেও এ ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক হয়েছে। সোমবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে সৈয়দপুর খেলার মাঠে এ বৈঠক হয়।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম খান তারেকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা ডা. সাফওয়াত বিনতে সালাম সাবা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইদ্রিস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল সরকারসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, পরাজিত শক্তি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী ফুলতল মোড়ে এনসিপির নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সামনে আছে। যে দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছিলাম।
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। এখন আমাদের রক্ত দিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যালেটে সীল দিতে হবে। গণ ভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে যা অর্জন করেছি তা রক্ষা করতে পারবো।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৭ বছর ধরে সংস্কার সংস্কার করে আসছিল। যখন সংস্কারের সময় আসলো তখন তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জুবায়ের হাসান আরিফ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বদরুল হক, বোয়ালখালী এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জি পাড়ায় শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দরা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ২১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বহিষ্কৃতরা হলেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকির, টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিম, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
উল্লিখিত নেতাদের দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শেরপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন দেশের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াতের নেতৃবৃন্দ গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সাথে বৈঠক করেছেন। এখন বৈঠক করবেন বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সঙ্গে। বৈঠক করেন কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু গোপনে কেন? এটা আমাদের চিন্তিত করেছে। নিশ্চয় এর মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গোপনীয়তা রাজনৈতিক মহলে নানা সন্দেহের উদ্রেক করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোট ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে রেজাউল করিম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে আমরা ইসলামের একটি বাক্স মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ জোট থেকে আমরা আলাদা হয়েছি, কারণ সেই ইসলামের বাক্সটি ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’ পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই ইসলামী নিয়ম-আদর্শ অনুযায়ী। কিন্তু তারা যে নিয়মনীতি চালু করতে চায়, তা আমেরিকার নিয়মনীতি। এসব নীতিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় না। এটি সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি। আমরা যে কারণে একসঙ্গে ছিলাম, সেই কারণেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তারা একা হয়ে যাননি বরং মহান আল্লাহ এবং দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।
উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি খন্দকার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মুফতি শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বহু নেতাকর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। চরমোনাই পীরের ভাষণ শেষে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশাল পথমিছিল বের করা হয়, যা শ্রীবরদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের মাধ্যমে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমেই সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার দুর্গম বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আবদুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি যাদের মধ্যে কখনোই কোনো রাজনৈতিক চরিত্র বিদ্যমান ছিল না।
আওয়ামী লীগের প্রতি এখনো যারা সহানুভূতি রাখেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন। কারণ, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং নিজেদের দেশ ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে।’
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন যে, শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও দলের সাধারণ কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তিনি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেনি। দেশে যারা রয়ে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তারা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাদের স্বাধীনতা। তবে আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন।’ তিনি প্রত্যাশা করেন যে সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভুল এখন ভেঙেছে এবং তারা এখন থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন।
একই সঙ্গে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাওয়া একটি দলের সমালোচনা করে তিনি জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটিকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি জামায়াত নেতার এই বক্তব্যকে ‘রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা’ এবং ‘পদ্ধতিগত নারীবিদ্বেষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নাছির উদ্দিন নাছির উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান নয়; বরং এটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতি ও উচ্চশিক্ষার ইতিহাসের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা জামায়াতের দেউলিয়া রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্রদল সম্পাদক অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্টতই নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ইতিহাস মিশে আছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি এই দলটি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তারা নারীদের গৃহবন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দাঁয় দেশ পরিচালনা করবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনায় যারা লম্বা বিবৃতি দেন, জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পর তাদের রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে বর্তমান ডাকসু এখন ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। তিনি একে ডাকসুর জন্য লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন। তিনি সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠদের লাঞ্ছিত করা এবং শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, সর্বমিত্র চাকমা ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এবং তার এসব স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ‘জুলুমবাজের’ ঠাঁই হতে পারে না উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমানের ধমনীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত প্রবাহিত। তাই দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবে।
সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র বা দেশপ্রেম ছিল না। তারা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেকে বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার সব কর্মী বা সমর্থক দেশ ছাড়ার সুযোগ পাননি। যারা দেশে রয়ে গেছেন, তাদের রাজনীতি করার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের ভুল পথ পরিহার করে স্বাধীনতাপন্থি শক্তির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি ভোটারদের এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যে নেতা নিজের কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, জনগণ আর এমন নেতা চায় না। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করত, শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিত এবং নৌকায় ভোট দিত, তাদের সবাইকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্বের পুনরাবৃত্তি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার জনগণকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকার চাইতে গিয়ে মানুষকে জেল খাটতে হয়েছে, মারধর ও গুলির শিকার হতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে টিকতে না পেরে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিগত দিনের সেই দুঃশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে মির্জা ফখরুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, আমরা আমানতের খেয়ানত করি না। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, চাকরি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্য বরদাস্ত করা হবে না। স্কুলের শিক্ষক কিংবা দপ্তরি নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চাকরির জন্য আমরা নিজেরা যেমন কোনো টাকা নেব না, তেমনি অন্য কাউকেও নিতে দেব না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে এবং এ দেশের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, তারা এখন আবার ভোট চাইতে আসছে। যে দল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ না করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। পথসভায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ অবশেষে নিজের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলমান নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা ‘ভাই ব্যবসা’ করতে নয়, বরং নিজের ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই তিনি রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত পথে ন্যায়বিচার পাওয়া ক্রমশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠছে। বিচার আদায়ের এই সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, মাত্র ২০ টাকার একটি ফরম পূরণ করে তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই কেবল হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো কার্যকরভাবে আদায় করা সম্ভব।
নিজের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে স্নিগ্ধ জানান, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ভাই মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করেছেন। তিনি স্মরণ করেন, পাবলিক বাসে চড়ে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ফাইলের পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁকে অনেক ধকল সইতে হয়েছে। এমনকি এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নিজের পেশাগত জায়গা অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং থেকেও নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও থমকে গিয়েছিল। তবু তিনি হাল ছাড়েননি, কারণ তাঁর কাছে ভাইয়ের হত্যার বিচার এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মুখ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে ওঠা ‘ভাই ব্যবসা’ বা ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন স্নিগ্ধ। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া কাউকে অসৎ বা সুবিধাবাদী বলা কতটা যৌক্তিক? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে এমন একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে যে দায়িত্ব পালন বা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানেই অসৎ উদ্দেশ্য থাকা। স্নিগ্ধ জোর দিয়ে বলেন, যদি তিনি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ বা আখের গোছানোর চিন্তা করতেন, তবে রাজনীতির এই কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নিতেন না। রাজনীতিকে যারা ব্যবসায় পরিণত করেছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায়ের মাধ্যম। তিনি মূলত সেই প্রচলিত ধারার বাইরে এসে ভাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করতেই এই পথে পা বাড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই শোক জানান এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
শোকবার্তায় তারেক রহমান উল্লেখ করেন, স্যার মার্ক টালির প্রয়াণের সংবাদে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত। তিনি মার্ক টালিকে বাংলাদেশের একজন ‘সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির প্রতিনিধি হিসেবে মার্ক টালির অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান লেখেন, মার্ক টালি তাঁর বলিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, ত্যাগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বিশ্ববাসীর কাছে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সাংবাদিকতা ছিল সততা, মানবিকতা এবং সত্যের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধায় গাঁথা, যা সাংবাদিকতা জগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় আরও বলেন, একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে মার্ক টালির সংহতি ও সাহসী ভূমিকা এ দেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। বাংলাদেশের প্রতি তাঁর এই ঐতিহাসিক ও নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য জাতি হিসেবে আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং বিবিসিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, বরেণ্য এই সাংবাদিক রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ভারতের দিল্লির সাকেত ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।