নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নিয়োগ, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং নারীদের জন্য ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন পদ্ধতি— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ইস্যুতে একমত হতে পারছে না জাতীয় ঐক্য কমিশন।
এই তিনটি বিষয়ে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত প্রায় অভিন্ন প্রস্তাব দিলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দলের ভিন্নমতের কারণে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিশন।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ১৯টি মূল সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলে একটি জাতীয় সনদ (রিফর্ম চার্টার) চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন। কিন্তু দ্বিতীয় দফা সংলাপ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। ওই তিনটি বিষয়ে দলগুলোর মতপার্থক্যই এর বড় কারণ।
অচলাবস্থা কাটাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংসদের উচ্চকক্ষের কাঠামো নিয়ে একাধিক সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
এর আগে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং এর মেয়াদসহ অন্যান্য বিষয়ে একমত হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত দেখা দেয়।
বিএনপি প্রথমে পাঁচটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। জামায়াত দিয়েছিল তিনটি। তবে সম্প্রতি তারা সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে যাতে মূল পার্থক্য খুব একটা নেই।
গত সোমবার কমিশনে জমা দেওয়া সংশোধিত প্রস্তাবে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথা বলেছে, যার সদস্য হবেন— প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলীয়)। এই কমিটি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল থেকে পাঁচজন করে মোট ১০ জনের মধ্য থেকে আলোচনার মাধ্যমে একজনকে বাছাই করবে। মতৈক্য না হলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার ধারাটি বাদ রাখা হবে।
অন্যদিকে, জামায়াত তাদের চূড়ান্ত প্রস্তাবে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি চেয়েছে, যেখানে বিএনপি প্রস্তাবিত চারজনের সঙ্গে জাতীয় সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
তাদের প্রস্তাব, ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দল থেকে তিনজন করে, তৃতীয় বৃহত্তম দল থেকে দুইজন এবং অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্ররা একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। মতৈক্য না হলে তারাও রাষ্ট্রপতি ব্যতীত ত্রয়োদশ সংশোধনীর পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব দিয়েছে।
উভয় দলই মনে করে, অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের সম্মতির ওপর ভিত্তি করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নির্বাচন করা উচিত।
জামায়াতের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট প্রস্তাবের প্রতি নমনীয়তা দেখিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অনুসন্ধান কমিটিতে সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি থাকলে সমস্যা নেই।
তবে এনসিপিসহ কয়েকটি দল ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বিকল্প উপায় রাখার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নিয়োগে র্যাংকড চয়েস ভোটিং পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া যায়।
এনসিপির প্রস্তাব ছিল— তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নির্বাচন পদ্ধতিতে র্যাংকড চয়েস ভোটিং চালু করা হোক।
জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মঙ্গলবার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান নির্বাচন হবে সম্মতির ভিত্তিতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন অবিশ্বাস তৈরি না হয়, সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব
জামায়াতের কাঠামোর অনুরূপ পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একজন করে উপযুক্ত প্রার্থীর নাম দিতে বলা হবে। এরপর যদি সম্মতিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দল তিনজন করে, আর তৃতীয় বৃহত্তম দল দুইজনকে মনোনয়ন দেবে।
এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের তালিকা থেকে একজন এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেবে। বিরোধী দলও তাই করবে। তৃতীয় বৃহত্তম দল ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ের তালিকা থেকে একজন করে বেছে নেবে। যদি এসব প্রার্থীর মধ্যে কারো ওপর ঐকমত্য হয়, তবে তাকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে; অন্যথায় র্যাংকড চয়েস ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
র্যাংকড চয়েস ভোটিং এমন একটি নির্বাচন পদ্ধতি, যেখানে ভোটাররা একাধিক প্রার্থীকে তাদের পছন্দের ক্রমানুসারে (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি) ভোট দেন।
গত মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিসির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘অনেক দলই বিচার বিভাগের সদস্যদের (বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের) অন্তর্ভুক্তির বিপক্ষে। এর পরিবর্তে আবার অনেকে র্যাংকড চয়েস ভোটিংও চায়। সেই সঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীর পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার বিরোধিতাও আছে।’
তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা কিছুটা অচলাবস্থায় আছি— অনুসন্ধান কমিটি সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবে, অচলাবস্থা কীভাবে কাটাবে তা নিয়ে। আমরা দলগুলোকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি।’
উচ্চকক্ষ গঠন ও সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে, যেখানে উচ্চকক্ষে ১০০টি এবং নিম্নকক্ষে ৪০০টি আসন থাকবে। পাশাপাশি, সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাবও প্রায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
তবে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জামায়াত প্রস্তাব করেছে, উচ্চকক্ষ এবং সংরক্ষিত নারী আসন উভয় ক্ষেত্রেই ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক। অন্যদিকে বিএনপি চায়, এই নির্বাচন নিম্নকক্ষের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে হোক।
সূত্র: ইউএনবি
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজের পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আসেন। কিন্তু শুরুতেই গেটে তাকে কলেজের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে অনেক ধস্তাধস্তি হয় সেখানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে একের পর ডিম নিক্ষেপ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে আপত্তিকর ও বেফাঁস মন্তব্যের জেরে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনের সদস্য বা রুকন পদ থেকেও তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলায় আয়োজিত এক জনসভায় বক্তৃতাকালে শামীম আহসান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার ওই বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দলের নীতি ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর ফলে জনমনে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা কর্মপরিষদের জরুরি সিদ্ধান্তে তাকে সহকারী সেক্রেটারিসহ দলের সব ধরণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার হৃদয়ের স্পন্দন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কখনোই কাম্য নয়। শামীম আহসানের বক্তব্যে দল বিব্রত এবং আমরা এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে দলের অন্য কোনো নেতা বা কর্মী যাতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না করেন, সে ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং রাজধানীর উত্তরায় দিনব্যাপী গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেবেন। আজ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সফর শুরু হবে। দিনের প্রথম কর্মসূচিতে তিনি ময়মনসিংহে যাবেন। সেখানে দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। ময়মনসিংহের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকার পথে রওয়ানা হবেন এবং পথিমধ্যে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে যোগ দেবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টায় গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। এরপর সেখান থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ উত্তরায় আসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সন্ধ্যা সাতটায় উত্তরা আজমপুর ঈদগাহ মাঠে দিনের সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। টানা কর্মসূচি শেষে রাত আটটার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরবেন বলে দলীয় শিডিউলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে তারেক রহমান ক্লান্তিহীনভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আজকের এই তিন জনসভাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই, কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না। আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ ওটাই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে—তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন—এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।’
বিএনপি মহাসচিব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সবসময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যে সময় কোনো রাস্তা ছিল না ঘাট ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না সেই সময় আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যা করেছিলাম গত ১৫ বছরে তার সংস্কার পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসলে ধুলা-বালি খেতে হয়। আমি খেটে খাওয়া মানুষের এমপি ছিলাম আপনাদের সমর্থন আর ভালোবাসায় খেটে খাওয়া মানুষের এমপি হয়েই আপনাদের পাশে থেকে বাকি জীবন সেবা করে যেতে চাই।
বরগুনা - ২ (পাথরঘাটা- বামনা- বেতাগী) আসনের ৪নং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা- আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৫ বছরে কোন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি আমার মেধা-শ্রম দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি বরগুনা- ২ কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জাহাজ রিপেয়ারিং কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই। আমার মৎসজীবী ভাইদের পাশে আবারও দাঁড়াতে চাই ইনশাল্লাহ।
নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে আরো বলেন,যারা এখনো মানুষের হক মেরে খান যারা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত তারা ভালো হয়ে যান। আমি কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজকে কোনোরকম অন্যায় কাজ করতে দেব না। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট পতিত স্বৈরাচার। আমি যদি নির্বাচিত হই যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ইনশাল্লাহ আমি বাকি জীবন পূর্বে ও যেমন আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও আপনাদের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, যারা দেশ চায়নি, যাদেরকে আপনারা কখনো চোখে ও দেখেননি তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা আপনাদের অধিকার ভোট চায়।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আপনারা ঘরে ফিরবেন। একটি চক্র ভোট চাওয়ার নামে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের থেকে সাবধানে থাকবেন।
জনসভায় সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের ডামের মোড় এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের ব্যানারে গত রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে কে বা কারা ওই এলাকায় টানানো নির্বাচনী প্রচারণামূলক ব্যানারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার সকালে পোড়া ব্যানার দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠলেও এ ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক হয়েছে। সোমবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে সৈয়দপুর খেলার মাঠে এ বৈঠক হয়।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম খান তারেকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা ডা. সাফওয়াত বিনতে সালাম সাবা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইদ্রিস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল সরকারসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, পরাজিত শক্তি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী ফুলতল মোড়ে এনসিপির নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সামনে আছে। যে দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছিলাম।
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। এখন আমাদের রক্ত দিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যালেটে সীল দিতে হবে। গণ ভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে যা অর্জন করেছি তা রক্ষা করতে পারবো।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৭ বছর ধরে সংস্কার সংস্কার করে আসছিল। যখন সংস্কারের সময় আসলো তখন তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জুবায়ের হাসান আরিফ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বদরুল হক, বোয়ালখালী এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জি পাড়ায় শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দরা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ২১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বহিষ্কৃতরা হলেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকির, টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিম, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
উল্লিখিত নেতাদের দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শেরপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন দেশের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াতের নেতৃবৃন্দ গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সাথে বৈঠক করেছেন। এখন বৈঠক করবেন বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সঙ্গে। বৈঠক করেন কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু গোপনে কেন? এটা আমাদের চিন্তিত করেছে। নিশ্চয় এর মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গোপনীয়তা রাজনৈতিক মহলে নানা সন্দেহের উদ্রেক করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোট ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে রেজাউল করিম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে আমরা ইসলামের একটি বাক্স মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ জোট থেকে আমরা আলাদা হয়েছি, কারণ সেই ইসলামের বাক্সটি ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’ পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই ইসলামী নিয়ম-আদর্শ অনুযায়ী। কিন্তু তারা যে নিয়মনীতি চালু করতে চায়, তা আমেরিকার নিয়মনীতি। এসব নীতিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় না। এটি সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি। আমরা যে কারণে একসঙ্গে ছিলাম, সেই কারণেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তারা একা হয়ে যাননি বরং মহান আল্লাহ এবং দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।
উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি খন্দকার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মুফতি শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বহু নেতাকর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। চরমোনাই পীরের ভাষণ শেষে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশাল পথমিছিল বের করা হয়, যা শ্রীবরদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের মাধ্যমে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমেই সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার দুর্গম বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আবদুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি যাদের মধ্যে কখনোই কোনো রাজনৈতিক চরিত্র বিদ্যমান ছিল না।
আওয়ামী লীগের প্রতি এখনো যারা সহানুভূতি রাখেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন। কারণ, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং নিজেদের দেশ ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে।’
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন যে, শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও দলের সাধারণ কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তিনি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেনি। দেশে যারা রয়ে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তারা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাদের স্বাধীনতা। তবে আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন।’ তিনি প্রত্যাশা করেন যে সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভুল এখন ভেঙেছে এবং তারা এখন থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন।
একই সঙ্গে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাওয়া একটি দলের সমালোচনা করে তিনি জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটিকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি জামায়াত নেতার এই বক্তব্যকে ‘রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা’ এবং ‘পদ্ধতিগত নারীবিদ্বেষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নাছির উদ্দিন নাছির উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান নয়; বরং এটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতি ও উচ্চশিক্ষার ইতিহাসের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা জামায়াতের দেউলিয়া রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্রদল সম্পাদক অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্টতই নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ইতিহাস মিশে আছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি এই দলটি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তারা নারীদের গৃহবন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দাঁয় দেশ পরিচালনা করবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনায় যারা লম্বা বিবৃতি দেন, জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পর তাদের রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে বর্তমান ডাকসু এখন ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। তিনি একে ডাকসুর জন্য লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন। তিনি সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠদের লাঞ্ছিত করা এবং শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, সর্বমিত্র চাকমা ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এবং তার এসব স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ‘জুলুমবাজের’ ঠাঁই হতে পারে না উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমানের ধমনীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত প্রবাহিত। তাই দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবে।
সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র বা দেশপ্রেম ছিল না। তারা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেকে বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার সব কর্মী বা সমর্থক দেশ ছাড়ার সুযোগ পাননি। যারা দেশে রয়ে গেছেন, তাদের রাজনীতি করার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের ভুল পথ পরিহার করে স্বাধীনতাপন্থি শক্তির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি ভোটারদের এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।