গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সরকার চায় না আমরা মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই। তাই তরুণদের এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। মৌলিক অধিকার সম্পর্কে তরুণদের পড়াতে হবে। যে যেখানেই থাকুক, মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যেখানেই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সেখানেই যেন তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত ‘সংবিধানের ৫০ বছর এবং নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। টাকা-পয়সা বা অন্য রকম প্রভাব বিস্তার করে যদি জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, নির্বাচন পদ্ধতিকে যদি নষ্ট করা হয় তাহলে এটি দেশের জন্য ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে। এটি যেন না হয় সে ব্যাপারে সচেতনভাবে সবাইকে লেগে থাকতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাইদ খান, সাবেক সংসদ সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য খায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বৈঠকগুলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোও এই সৌজন্য সাক্ষাতের আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিএনপির যোগাযোগ ও তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের দলের শতভাগ আস্থা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের বিদায়ের পর দেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, বিগত সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করার শপথ তারা গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় হয়তো কিছু ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে, তবে কমিশন তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, এই কমিশনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন যে কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে সফল হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার সমাধি প্রাঙ্গণ নেতাকর্মীদের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকেই প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী জিয়া উদ্যান এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং এক উৎসবমুখর অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সেখানে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও হাজারো কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় এতটাই বৃদ্ধি পায় যে বিজয় সরণি মোড় থেকে বেইল ব্রিজের দুই পাশ এবং জিয়া উদ্যানের ভেতরের পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাধি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সেবামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। মাজারের পাশেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত কর্মসূচি চলছে। এছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসকরা মাজার এলাকায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করেছেন, যেখান থেকে আগত মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও জিয়া পরিষদসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। বিকেল পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের এই ঢল অব্যাহত ছিল। রাজধানী ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদেই মূলত এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা সোয়া ১১টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
ছাত্রদল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। প্রথমত, তাদের অভিযোগ হলো পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ, যা আসন্ন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয়ত, সংগঠনটি দাবি করছে যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে কমিশন তাদের দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কমিশনের হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।
তৃতীয় অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রদলের দাবি, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে ইসি ওই নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। একে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন ছাত্রনেতারা। এসব অভিযোগের সুরাহা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রদল। এর আগে গতকালও একই দাবিতে তারা নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আলেম-ওলামাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রবিবার বিকেলে সালথা উপজেলা সদরের সালথা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বক্তৃতায় শামা ওবায়েদ তার প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি তার বাবার মতোই এলাকার মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রসারে আলেম সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় অসংখ্য মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার আলেম-ওলামারা সমাজ গঠনে ও নৈতিকতা শিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সম্মান বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি সবসময় আন্তরিক এবং সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু আলেম সমাজই নয়, সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নেও বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারের মায়েদের ক্ষমতায়ন ও সহায়তার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এছাড়া দেশের কৃষকদের কৃষি কাজে সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এসব কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ফরিদপুর জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। সভার শেষ পর্যায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের বা রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এমন নজিরবিহীন দাবি তোলা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রবিবার রাতে ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অশোভন আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া তিনি উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। সংগঠনের নেতাদের মতে, ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তার মানসিক স্বাস্থ্যের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মনোসামাজিক সহায়তা বা চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ও অনুষদের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম। ছাত্রদলের এমন কর্মসূচির ঘোষণা ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেশ কিছু কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হতে পারে। তবে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করলে এই কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে ইসিতে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটারদের কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যালট তৈরি করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে প্রতীক সংবলিত সঠিক ব্যালট পেপার সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এর উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আচরণবিধি ভঙ্গ করে একতরফা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। কারা এবং কেন এই স্থান পরিবর্তন করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছি আমরা।
কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি এই কমিশন দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তবে এর জন্য কমিশনকে তাদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশে চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের জন্য আদৌ কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা সবার আগে খতিয়ে দেখা উচিত।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ কেবল রাজনীতির মাঠে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং দেশের মূল অর্থনীতির স্রোতধারায় তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। কর্মসংস্থানে নারীদের উপস্থিতি বাড়াতে হলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি নারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও দলটি অত্যন্ত বাস্তববাদী এবং সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা করেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার নারীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বা কাজের মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ও ডিজাইন সাপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার চিত্র পাল্টে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রামের নারীদের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিএনপি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নারীদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই খাতগুলোতে বিএনপি বিনিয়োগ করবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং দীর্ঘ বছরের গবেষণার ফসল। আগামীতে দল ক্ষমতায় গেলে এই পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, সিপিডি পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ এবং বার্জার পেইন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পুরোদমে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিজয় নিশ্চিত করেই তারা ঘরে ফিরবেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, গত দেড় বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত ছিল এবং তারা ক্ষমতার চর্চা করেছে। বর্তমানে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। জোট গঠনের সমীকরণ বা ইকুয়েশন যখন মেলেনি, তখন তারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানা ফন্দিফিকির ও ফাঁকফোকর খুঁজছে। রাকিব হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নস্যাৎ করতে চায়, তবে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি সারা দেশের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে আসবে বা অপ্রকাশ্য রাজনীতির পথ বেছে নেবে, প্রতিটি সংসদীয় আসনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করা হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সংগঠনটি দাবি করে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে কমিশন দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক আচরণের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তৃতীয়ত, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসি যে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা বাইরের কোনো দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপের ফল বলে মনে করে ছাত্রদল।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব কমিশনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো যদি অবিলম্বে মেনে নেওয়া না হয়, তবে তারা নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও করে রাখবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনবে। নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা ছিল এবং রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান প্রথমবারের মতো জনপরিসরে বক্তব্য প্রদান করেছেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং নারী উন্নয়ন নিয়ে তার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে সবার আন্তরিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ভিন্ন এক আবেগ ও অনুভূতি নিয়ে তিনি সেখানে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণী বা পলিসি লেভেলে এটিই তার প্রথম বক্তব্য। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি এমন কেউ নন যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর বা সব সমস্যার সমাধান আছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের ছোট জায়গা থেকেও সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা সবার মধ্যে থাকা উচিত। তিনি জানান, মূলত সবার কথা শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়েই তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই একরকম নন এবং সবার আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। এই ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করছেন, কারণ দিনশেষে সবাই দেশের এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের কথাই ভাবছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ভিন্নতা নিয়ে একসঙ্গে কথা বলা এবং একে অপরের কথা শোনার এই চর্চাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও জাইমা রহমান জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ অর্থাৎ নারীদের একপাশে রেখে বাংলাদেশ বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবে না। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই নারীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আলোচনা সভায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন নারীদের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অর্থের জোগান বা একসেস টু ফাইন্যান্স। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারের নীতিনির্ধারকদের এই বিষয়টিতে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে যাওয়ার পর নারীরা নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন, যা মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিভাগ চালু করবে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের ভুক্তভোগী পরিবার ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও আহতদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের দেখভালের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষায়িত বিভাগ খোলার পরিকল্পনা তার দলের রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাই একাত্তর যদি হয় স্বাধীনতা অর্জনের বছর, তবে চব্বিশ হলো সেই স্বাধীনতা রক্ষার বছর।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন। স্বজন হারানো বেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র দুইভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে। প্রথমত, আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাষ্ট্র বহন করবে এবং দ্বিতীয়ত, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য পরিবার আজ সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই ১৪শ'র বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন তাদের এক বা উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞকে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান আগামীর নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেশবাসী একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এমন শোক সমাবেশ আর আহাজারি চলতেই থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীতে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি ও নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে ও সন্ধায় তারা গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসেন। তারা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হয় সারাহ কুকের। বৈঠকে সারাহ কুক জানিয়েছেন- তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে দুই দেশের উন্নয়ন ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য।
তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন নিয়েও ব্রিটিশ হাইকমিশনার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি।
এরআগে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত।
বিকেল ৪টায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি গুলশান কার্যালয়ে আসেন। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যান ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে উন্নয়ন করা যায় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও একটি দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনোরকমের সুযোগ আমরা দেব না। কোনো রকমের ষড়যন্ত্র করবেন না। আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না; দেশে গণতন্ত্র অবশ্যই ফিরে আসবে।
তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শান্তির জন্য আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। নির্বাচন কমিশন এবং একটি রাজনৈতিক দল মনে করেছে এটা আমাদের দুর্বলতা। নাহ্… এটা আমাদের ভদ্রতা। তারপর থেকে নির্বাচন কমিশন এবং একটি রাজনৈতিক দল যেভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় এবং পারতপক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চায় বিভিন্ন কৌশলে।’
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।