সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

নারী সমাবেশে ধানের শীষে ভোট চাইলেন ফখরুল পত্নী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:০৯

ঠাকুরগাঁও সদর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম এক নারী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়েছেন। মঙ্গলবার স্বামীর নির্বাচনী এলাকা সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ওই নারী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত হন।

সে সভায় ইউনিয়নের সকল ধর্মের প্রায় হাজারের বেশি নারী উপস্থিত হন এবং নতুন করে সনাতন ধর্মালম্বী শতাধিক নারী-পুরুষ বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় তিনি নারীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং সমাজের অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরণে নারীদের কেমন ভূমিকা থাকা দরকার সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

প্রতিমা রানী নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা এ অঞ্চলের নারীরা কী কী কাজে দক্ষতা বলেছি। তিনি ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে আহ্বান করেছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি গ্রহণ করেছি। আশা করি আমাদের উদ্যোক্তা হতে তারা সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন।’

রেহেনা পারভীন বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের নারীরা এই জেলার মতো অবহেলিত। আমরা চাই সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য কাজ হোক আমরা সমাজে অবদান রাখতে চাই।’

নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল পত্নী রাহাত আরা বেগম বলেন, ‘ভেবেছিলাম উঠান বৈঠক। কিন্তু এটি নারী সমাবেশে পরিণত করে ফেলেছেন আপনারা। সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, আপনারা এ জেলায় এমন একজন মানুষকে পেয়েছেন যিনি কোনো দিন আপনাদের ছেড়ে যাননি। তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) নিজ পরিবারের মতো আপনাদের সাথে মনে করেছেন। আপনাদের সময় দিয়েছেন। তার বয়স হয়েছে। এটা তার শেষ নির্বাচন। এবারে আপনারা তাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়ী করুন। আপনাদের হতাশ হতে হবে না ইনশাআল্লাহ ‘

এ সময় জেলা মহিলাদলের সভাপতি ফরাতুন নাহার প্যারিসের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে স্বাগত বক্তব্য দেন, আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আকচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সারওয়ার চৌধুরী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পরভীন, জেলা মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।


ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে শান্তি সম্ভব নয়: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেছেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর উপজেলা শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন সরকার।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে দেশের জনগণ রয়েছে। ২৭৮টি আসনে আমরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’ তিনি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। তারা ইসলামের লেবাস ধারণ করলেও প্রকৃত ইসলাম অনুসরণ করে না। তারা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলেনি। প্রচলিত আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করে কখনো শান্তি আসতে পারে না।’

তিনি নবীনগরবাসীকে ইসলামী আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজুকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম নজু। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নবীনগরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

এ ছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফ, মাওলানা হাবিবুর রহমান মির্জা, মাওলানা মেহেদী হাসান ও মাওলানা আব্দুল মতিনসহ অন্য নেতারা।


কুমিল্লা শহরে কোনো জেলখানা থাকবে না: মনিরুল হক চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লা শহরে আর কোনো জেলখানা থাকবে না। শহরের মধ্যে জেলখানা শোভা পায় না, তাই এটি শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে কুমিল্লায় যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি নির্বাচিত হলে কুমিল্লার উন্নয়নে একটি বৃহৎ ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা বিভাগ গঠন কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে অবিলম্বে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংসদে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে ইপিজেড, যেখানে নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত রয়েছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অচিরেই কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা তার অন্যতম পরিকল্পনার অংশ।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।


কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকায় সোমবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি ফ্রি হার্ট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে কড়াইল বস্তির আনসার ক্যাম্প মাঠে এই বিশেষ হেলথ ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও শারীরিক চেকআপ করানোর সুযোগ পান।

উদ্বোধনী পর্বে ডা. জুবাইদা রহমান নিজে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ১৯নং ওয়ার্ডের কমিশনার আব্দুল আলীম নকিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পের কার্যক্রম শেষে ডা. জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) কার্যালয়ে গিয়ে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা শোনেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু এবং বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্পের সমন্বয়ক ডা. জিয়াউল করিম। এ ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন এবং প্রফেসর ডা. খবির উদ্দিনসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ এই সেবামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মূলত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়, নারীদের আটকে রাখতে চায় ঘরে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় এবং তারা প্রগতির পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে বিএনপি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নিজের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের রক্ষণশীল মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দলটি নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার বিরোধী। তারা চায় নারীরা কেবল ঘরের ভেতরেই বন্দি থাকুক। এমনকি পোশাক কারখানায় কর্মরত নারীদের কাজের সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার মতো অযৌক্তিক কথাও তারা প্রচার করছে। অথচ দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য এবং বিএনপি তাদের সমান অধিকারে বিশ্বাসী।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবে তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সাহস ও নির্ভয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এখন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। বিএনপি সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন জনগণের হাতে। তাই ভোটের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল করা যাবে না। দেশকে আধুনিক ও প্রগতিশীল ধারায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


খুলনার জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চল জুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি জনসভাস্থলে পৌঁছান। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে সমবেত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক করতালির মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে উপস্থিত জনসমুদ্রের অভিবাদনের জবাব দেন।

জনসভার মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের মোট ১৪ জন প্রার্থী উপস্থিত রয়েছেন। এই মঞ্চ থেকেই তিনি এই অঞ্চলের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমীর এজাজ খান (খুলনা-১), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪), মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬); সাতক্ষীরা থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২), কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪); এবং বাগেরহাট জেলা থেকে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২), শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)। এক মঞ্চে এই তিন জেলার শীর্ষ প্রার্থীদের সমাগম স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল শিল্পনগরী খুলনায়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যান্ডের তালে তালে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ খুলনা সফর করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

খুলনার এই কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন উপশহর এলাকার বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের সেই জনসভা শেষ করে তিনি আকাশপথেই ঢাকায় ফিরে যাবেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী হাওয়া ধানের শীষের অনুকূলে নিয়ে আসবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনসভার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।


কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না: মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত রোববার রাজধানীর খিলগাঁও বাজার এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ পরিচালনা করেন। প্রচারণা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অপপ্রচার বা ধাপ্পা দিয়ে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল আগেভাগেই নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে আস্ফালন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনবিচ্ছিন্ন এই দলগুলো আসলে কোথা থেকে এমন শক্তি পাচ্ছে তা দেশবাসী জানতে চায়।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে নেই। নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে এককভাবে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কমিশন একচোখা নীতি অবলম্বন করে হাত গুটিয়ে বসে আছে, যা একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।

নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনের মোট ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটারের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল সংখ্যক ‘অদৃশ্য’ ভোটার কারা—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি এসব ভোটারদের অবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তবে স্বচ্ছ ফলাফলের স্বার্থে অবিলম্বে এই তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করলে কখনোই প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম ধর্মে কোথাও নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ধরণের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজর রাখতে তিনি সচেতন নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বিএনপি সরকারের সহনশীলতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম বিএনপির সমালোচনা করলেও দল তা মুখ বুজে সহ্য করেছে কারণ তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অথচ বর্তমান সময়ে একজন ‘অর্বাচীন বালক’ যেভাবে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে কথা বলছেন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেসের কণ্ঠরোধ করার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

খিলগাঁও বাজারের কর্মসূচি শেষে বিকেলে মির্জা আব্বাস আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস এবং নাভানা বিল্ডিং এলাকায় উঠান বৈঠক করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে রাতে তিনি পলওয়েল মার্কেটের পেছনে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারে গণসংযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে এক প্রীতি মিলন মেলায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। মূলত কারচুপি মুক্ত নির্বাচন ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান দাবি হিসেবে ফুটে উঠেছে।


আজ খুলনা-যশোরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার খুলনা ও যশোর সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা দুটিতে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই মঞ্চ থেকেই বৃহত্তর খুলনা জেলার মোট ১৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। জনসভাটি সফল করতে খুলনা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

খুলনার এই জনসভায় তারেক রহমান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। বিশেষ করে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় সচল করা, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তাঁর বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানা গেছে। এটি মূলত আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের আঞ্চলিক প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

খুলনার কর্মসূচি শেষ করে তারেক রহমান দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যশোর ক্রীড়া উদ্যানে (স্পোর্টস উদ্যান) আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশটি যশোরে তাঁর প্রথম সরাসরি কোনো রাজনৈতিক জনসভা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যশোর জেলা বিএনপি জানিয়েছে, সাধারণ জনগণের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে শহরের মূল কেন্দ্রের বাইরে এই খোলা মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশে যশোর অঞ্চলের প্রধান সংকট ‘ভবদহ’ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমানের এই দ্বৈত সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও যশোরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৎপর রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রহমানের এই সরাসরি উপস্থিতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনি সমীকরণে বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। মঞ্চ নির্মাণ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকা এখন নির্বাচনি স্লোগান ও তোরণে ছেয়ে গেছে। মূলত দক্ষিণ বাংলার মানুষের মন জয় করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত: সৈয়দ রেজাউল করিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে বসে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত। আমরা ভারত ও আমেরিকার ইনসাফ দেখেছি; ওই ইনসাফ বাংলার মানুষ, আমরা আর দেখতে চায় না। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় হাজিরহাট এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘যে ইনসাফ বা যে নীতিতে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে, যে নীতি-আদর্শে এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে বেগমপাড়া তৈরি হয়েছে; রাস্তায় মানুষ নামার পড়ে গুম হয়ে যেতো, ঘরে গেলে খুন হয়ে যেত— এ নীতিতে তারা দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে ৫৪ বছর দেশ চালানোর পর কি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে? এ নিয়মে আবার নতুন করে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে তারা? জামায়াত স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবে না। তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ চালাবে ক্ষমতায় গেলে। তাদের প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন, জামায়াত কোনো ইসলামী দল না। তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে কোন নীতি আদর্শে দেশ পরিচালনা করবে?’

এসময় তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের হাতপাখার প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. ইব্রাহিমের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের হাতপাখার প্রার্থীর খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজাউল করিম আবরার, ইসলামি চিন্তাবিদ হাবিবুর রহমান মেজবাহ ও ইসলামী আন্দোলন জেলা কমিটির সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।


স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে দেশ নিরাপদ নয়: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধী তাদের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। গত ২৪ বছরে তাদের কোনো দল ছিল না, এখন তাদের দল হয়েছে নতুন বাড়ি হয়েছে। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিরাপদে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। পুলিশ প্রশাসন, মিলিটারি আর্মি পাহারা দিবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদ পুর এলাকায় তোজামুলের চাতালে ভগিরথ বর্মনের সভাপতিত্বে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে হিন্দু মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। যারা ভেদাভেদ করতে চায় এরা দেশের ক্ষতি করতে চায়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি একসাথে এগিয়ে যায়, তাহলে আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। আর হিন্দু মুসলমানকে ভাগ করে দিলে আমরা এগোতে পারবো না।

তিনি বলেন, আমি জোর গলায় বলতে চাই। আপনাদের আমানত ভোটের যে দায়িত্ব আমি নেব তা কখনো খেয়ানত করব না। বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশে এক কোটির মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করবে। মায়েদের কৃষি কাঠ প্রদান করবে। কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করবে যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গললে গেলে যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, তা মাফ করা হবে। যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন সেই ঋণ শোধ করার আমরা ব্যবস্থা নেব।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার সময় তিনি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। উন্নত বাংলাদেশ সমান অধিকারের বাংলাদেশ যদি করতে চান তাহলে সকলেই ভোট দেবেন। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করবেন। তিনি আরো বলেন, আপনারা ভাববেন এ প্রতিশ্রুতি তো সবাই দেয় আমরা যতটুকু পারি কথা রাখার চেষ্টা করি।

এসময় আরো বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল বাড়ি রেজু, ইউনিয়ন সম্পাদক জালাল উদ্দিন।


নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকেই তারা বিএনপিবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে: আবদুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যাদের জনগণের মধ্যে কোনো অবস্থান নেই, অতীতেও যারা ভোট পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না, তারাই নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল বক্তব্য দিচ্ছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, ‘যখন নির্বাচন সামনে আসে এবং কেউ বুঝতে পারে যে ভরাডুবি নিশ্চিত, তখনই তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায় এবং তারা বিএনপিকে ও দলের নেতা তারেক রহমানকে ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। কেউ কেউ দাবি করছে ঢাকা শহরের সব আসন তারা দখল করে নিয়েছে এবং বিএনপি একটি আসনও পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অতীত ইতিহাসই বলে দেয় জনগণ কাকে ভোট দিয়েছে। যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল তারা জামানত রক্ষা করেছে, আর যারা বিএনপির বাইরে ছিল তারা জামানত হারিয়েছে।’

ঢাকা শহরে অতীতেও বিএনপি সব আসনে বিজয়ী হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, ‘নির্বাচনে দাঁড়িয়ে এমন প্রার্থীও দেখা যায় যারা শত ভোটও পায় না, অথচ তারা বিপুল ভোটে জয়ের দাবি করে। কিন্তু জনগণ জানে কে নির্বাচিত হবে?’

তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সংকটকালে সব সময় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে। দেশের ক্রাইসিসের সময় জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নেতা বানিয়েছিল। তিনি কোনোভাবেই জোর করে ক্ষমতায় আসেননি, বরং জনগণের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে যখন দেশে গণতন্ত্র ছিল না, তখন জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে এবং তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে নেই। এই অবস্থায় দেশের মানুষ মনে করছে আবারও একজন নেতা দরকার, আর সেই নেতা হিসেবে তারা তারেক রহমানকে ইতিমধ্যেই বেছে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে জনগণের ভিড় দেখা যাচ্ছে।’

ঢাকা–১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকার চিত্র তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ‘ভাষানটেক এলাকা ও কড়াইল এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে যে কেউ অবাক হবে। রাজধানী শহরে এমন অবস্থাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।’

তিনি বলেন, ‘এসব এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়— গ্যাস, রাস্তা, পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা চায়। তারা বিশ্বাস করে, একটি নির্বাচিত সরকার ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। সে কারণেই আগামী নির্বাচনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে চায়।’


যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‌‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে: খামেনির হুঁশিয়ারি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেন, আমেরিকা আক্রমণ করলে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। আমেরিকানদের জানা উচিত যে তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে।

এর আগে ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই তথ্য জানান।

আলী লারিজানি এক পোস্টে লিখেছেন, গণমাধ্যমের সৃষ্ট ‘মিথ্যা যুদ্ধাবস্থার’ বিপরীতে আলোচনার কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আলোচনার এই সম্ভাব্য ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সামরিক পদক্ষেপের মুখে না পড়ে চুক্তি করতে চায় বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, দেখি আমরা কিছু করতে পারি কি না; না পারলে যা হওয়ার হবে। আমাদের বিশাল নৌবহর সেখানে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, তারা (ইরান) আলোচনায় বসছে।

এদিকে শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই দিনের নৌমহড়া পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার বা বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি কোনো অনিরাপদ বা অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের উপকূলে কার্যরত মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের ভূখণ্ডে মহড়া চালাবে, সেই নির্দেশ দিতে চাইছে।

আরাগচি আরও লেখেন, একই মার্কিন সরকার আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেই সরকারই আবার সেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সামরিক মহড়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘পেশাদারিত্ব’ দাবি করছে!


ইসলামের পক্ষে একমাত্র বাক্স হাতপাখা: পীর সাহেব চরমোনাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম- ইসলামের পক্ষে একটাই বাক্স থাকবে, আর সেই বাক্স হলো হাতপাখা মার্কা। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় একমাত্র প্রতীক হাতপাখা। হাতপাখা ক্ষমতায় যেতে পারলে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করবে। দেশের পরিবর্তনের জন্য ইসলামের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, সৎ ও আদর্শের পক্ষে এবং মানবতার কল্যাণে ভোট দেওয়াই হবে প্রকৃত বিজয়। এ লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা সৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে হাতপাখার সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, যারা ইসলাম ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, তারা ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদেরকে ভোট দেওয়া ঠিক হবেনা। সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে পথ চলছিলাম এবং সমঝোতায় ছিলাম, একমাত্র ইসলামের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে। কিন্তু ইসলাম ও দেশের স্বার্থ যখন বিলীন হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের একা চলতে হচ্ছে। যারা মুখে এক কথা বলে, অন্তরে অন্যটা। দ্বিচারিতা আচরণ কোন ইসলামী দলের হতে পারে না। একটা দল ইসলামকে ব্যবহার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছে, মুখে ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে জামায়াত শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে চায় না।

চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বিজয় হলে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন রোদে ৩ হাজার ১ শ কোটি টাকার বরাদ্দ শতভাগ বাস্তবায়ন ও টেকসই বেঁড়ীবাঁধ নির্মাণ, সরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে ভূলুয়া নদী খনন করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলটির মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ পীর সাহেব কমলনগরের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মুফতী হাবিবুর রহমান মিসবাহ কুয়াকাটা, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি অনারারি ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহির উদ্দীন, জামিয়া মার্কাযুল উলুম মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা নোমান সিরাজী, একেএম আব্দুজ জাহের আরিফী, মুফতী হারুন অর রশিদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন তাহেরী ও মুফতী শরীফুল ইসলাম সহ দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতারা।


কাপাসিয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে মা-বোনদের নির্যাতনকারীদের কোনো স্থান নেই: শাহ রিয়াজুল হান্নান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও কুঁড়ের পাড় ঈদগাহ মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি এ জনসভায় কাপাসিয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে মা-বোনদের নির্যাতনকারীদের কোনো স্থান নেই বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা আজ নবরূপে ফিরে এসেছে, তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সেইসাথে তিনি ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৌহিদুজ্জামান তপন মেম্বার এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক প্রধানের পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন ভিপি ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাশেম। এসময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান মোল্লা, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা ইয়াসির আক্রাম পলাশ, বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মোক্তার প্রমুখ।

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রশীদ নয়ন, কড়িহাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ লুতফর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মতি, মহসীন আলম রিটন, সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ উদ্দিন বিএসসি, মঈনুল হক সারোয়ার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির প্রমুখ।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। উপস্থিত মা-বোনের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন।

পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।

মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্'র প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।


banner close