দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে শাস্তিপ্রাপ্ত জয়পুরহাট ও নেত্রকোনার ২ নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার এবং নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে দল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের ওপর থেকে পূর্বের শাস্তিমূলক আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ভাষ্যমতে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জয়পুরহাট জেলাধীন আক্কেলপুর পৌরসভার বিএনপি নেতা মো. রেজাউল করিম সরদার, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) পৃথক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করে দল। সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ‘ইতোপূর্বে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য রংপুর জেলাধীন তারাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ৩নং ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত বুধবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ মূলত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এসব নেতাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাদের অনুতপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে হাইকমান্ড থেকে পুনরায় তাদের স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধা সফরে আসছেন। এ উপলক্ষে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনসভায় প্রায় দুই লাল মানুষের সমাগম হতে পারে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে নির্বাচনী জনসভা ও আমীরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমির, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জহুরুল হক সরকার, জেলা সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মো. খায়রুল আমীন, গাইবান্ধা পৌরসভা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জোবায়ের আলী, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ফেরদৌস সরকার রুম্মানসহ অন্যান্য নেতা।
নেতারা জানান, পলাশবাড়ি এস. এম. পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখবেন, গাইবান্ধা জেলার সাবেক আমির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতা। আর সভায় সভাপতিত্ব করবেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম।
নেতারা আরও জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। থাকবে নিরাপত্তাবেষ্টনি, মেটাল ডিটেক্টরসহ বিশেষ সিকিউরিটি টিম।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে নেতারা অভিযোগ করেন, দাড়িয়াপুর এলাকায় তাদের নির্বাচনী পোস্টার ও পোস্টার টানানো খুঁটি উপড়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে আসছিলেন শফিকুর রহমান।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম মন্তব্য করেছেন যে, কেবল সংস্কার বা জোড়াতালির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের দুই দিনব্যাপী প্রথম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না।’ তিনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৮ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সারাদেশে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফয়জুল হাকিম উল্লেখ করেন যে, সংগঠন ব্যতিরেকে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন সফল হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ‘শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রাম বিকশিত করার একমাত্র পথ সংগঠন গড়ে তোলা।’ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
উদ্বোধনী পর্বের শেষে একটি র্যালি বিএমএ ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত অধিবেশনে মিলিত হয়। অধিবেশনে ফয়জুল হাকিম, সজীব রায় ও ভুলন ভৌমিককে নিয়ে তিন সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়। ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম, লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শফী রহমান এবং ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও অধিবেশনে ড. আকমল হোসেনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাস। জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার লড়াই জোরদার করতে সর্বত্র সংগঠন ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্পের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম এগিয়ে চলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অনেকেই যুবক বেকারদের বেকারভাতা দিতে চাইছেন, আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাইনা, আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। কাজ করার জন্য শুধু তিনটা শর্ত মেনে নিতে হবে। দূর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোন দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দিবেননা। গরীব ধনী, নারী পুরুষ সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিৎ করা হবে। সে বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। ৫৪ বছরের বস্তা পঁচা রাজনীতি, যেটা দুর্নীতি আর দু:শাসনে দেশকে ডুবায় ফেলা হয়েছে এসব কিছু বদলাতে হবে। বৈষম্য বদলাতে হবে।
উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
এ সময় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে জামায়াত মনোনিত প্রার্থীদের জন্য জনগণের কাছে সমর্থন আশা করেন।
"চলো এক সাথে গড়ি বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোনাইমুড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে গণ সংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের মধ্যমে শহীদদের বদলা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসন হতে দাঁড়িপাল্লার মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় সোনাইমুড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর্নীতি, চাঁদাবাজ, ফ্যাসিবাদ, ইনসাফ ভিত্তিক, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তাদের রায় ঘোষণা করবেন। ঐ দিন তারা হ্যাঁ ভোট প্রদানের কথা জানান।
নোয়াখালী-১ আসন হতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আজকের এই গণসংযোগের মাধ্যমে প্রমান হয়েছে এই দেশবাসী আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও লুটতরাজদের চায়না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে শহীদদের বদলা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, বিগত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেউ কোনো চাঁদাবাজি করেনি। সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়নি। কোনো মামলা বানিজ্য করেনি। এই জাতি ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা জামায়াতে আমির হানিফ মোল্লা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সেক্রেটারী মুজাহিদুল ইসলাম সহ পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা।
দীর্ঘ ২ দশক পর চট্টগ্রাম আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় মহা-সমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণাও চালাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এ মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্মরণকালের মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। সমাবেশে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর সফল করতে মঞ্চ স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন স্থানীয় নেতারা।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে সার্বিক বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতা-কর্মীদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌছাবেন এবং রাতে নগরে অবস্থান করবেন। কাল রোববার বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন এ মহাসমাবেশে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার সন্তান তারেক রহমান বক্তব্য দিবেন।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, আজ শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির জন্য বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসার পর মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের মহাসমাবেশকে ঘিরে। শুধু চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ নগর বিএনপি না, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখার জন্য, বক্তব্য শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তারা ধারণা করছেন।
এ দিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি সভাসহ নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ জানান, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান আসছেন, এতেই নেতা–কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১ লাখের বেশি নেতা–কর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন। তারেক রহমানের মহাসমাবেশের জন্য ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রস্থ মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজ শনিবারের মধ্যে মঞ্চ তৈরি সম্পন্ন হবে। সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে রাজপথে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বংশালে নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা যদি ঘোষণা দেই, তাহলে ঢাকা শহরে জামায়াতের প্রার্থী রাস্তায় নামতে পারবে না। সেটা জামায়াত হোক বা অন্য কেউ।’ নিজের দলের সক্ষমতা ও ত্যাগের প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি; আমরা ভেসে আসি নাই। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে, আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে।’
জামায়াতের জনৈক প্রার্থীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন একে রাজনৈতিক হাস্যরস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এ ধরনের একটা মন্তব্য ঢাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ আসনের একজন প্রার্থী করেছেন। আমি বলবো যে, এই কথাগুলো এখন একটা হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। এই কথাগুলো তারা বলছে শুধু তাদের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য।’ আন্দোলনের সময় জামায়াতের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ৫ আগস্টের পর। ২৪-এর আগস্টের পর এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে।’
ইশরাক হোসেন রাজপথের লড়াইয়ের বাস্তবতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে, ‘আমরা দেখেছি, ভোরবেলায় যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকতো না, তখন তারা চুপ করে অন্ধকারে বের হতো এবং মিছিল করে চলে যেতো এই ছিল তাদের আন্দোলন। আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, আমরা গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি।’ আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সকল আসনে জামানত হারাবে বলে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারাও জানে যে ঢাকা শহরের সব আসনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা শুধু তাদের নেতাকর্মীদের সাহস জোগানোর জন্য তারা করছে। আর যদি তাদের অন্য কোনো চিন্তাভাবনা থেকে থাকে, তাহলে বলে দিতে চাই, ইলেকশনের অনেক আগেই আমরা তাদের ঢাকা থেকে বিতাড়িত করে দেবো।’ উক্ত গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ২ যুগ বছর পর কুমিল্লা সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক জনসভা করছেন। এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লায় এই সফর। এই সফরকে ঘিরে জেলা ও উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফর একদিকে যেমন দলীয় সাংগঠনিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে, অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী এলাকায় ধানী জমিতে চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। একই চিত্র চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দিতে। বিএনপির দলীয়সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম মাঝে সদর দক্ষিণ পরে দাউদকান্দিতে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলার জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং দলীয় নিরাপত্তা টিম দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে দলীয় প্রধানের সফরকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। তারেক রহমানকে চোখের সামনে এক নজর দেখা এবং হাত মেলানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
বিএনপির অন্তত ১০ জন তৃণমূলের কর্মী জানান, কুমিল্লায় তারেক রহমানকে তারা সরাসরি দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, ২০০২ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য এখনও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। দীর্ঘ বিরতির পর তার সরাসরি উপস্থিতি নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন তিনি।
চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ৬টি সংসদীয় আসনের বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন জানান, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আসন্ন নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বরুড়া আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন জানান, তারেক রহমানের এই সফর শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি দলীয় প্রধানের উপস্থিতি দলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। সফরটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিএনপিই একমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। যারা ভারতের পক্ষে, তারা ভারতে পালিয়েছে। দেশে যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুরে এক গণসংযোগকালে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। তাঁর মতে, বিএনপি শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
দলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা জানান যে, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে দেশের কোনো মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে না হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপি একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে যার আওতায় নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ‘স্বাস্থ্য কার্ড’-এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। নির্বাচনী প্রচারণার এই কার্যক্রমে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য ছয়জন আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য ট্রাইব্যুনাল এর আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত বা স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরে। বিশেষ করে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন দমনে আসামিরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারা আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানিতে দাবি করেন যে তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো শক্ত ভিত্তি বা তথ্যপ্রমাণ নেই। তারা আসামিদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে দেন এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষকে যারা বিভ্রান্ত করতে চায় তাদেরকে রুখে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি দল বিএনপিকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে, এরা বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। এরা নতুন করে বলতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে তৈরি করবে। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লড়াইয়ে জয় লাভ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক সুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল, আমরা পেছনের দিকে তাকাই না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম হয়েছেন। কিন্তু মাথা নত করেনি। তারেক রহমানের আজকের যাত্রা নতুন বাংলাদেশের যাত্রা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই পাঁচটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের নীতিনির্ধারণে দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন। সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। এই প্রচারের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের মতামত ও পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন’ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় সারাদেশে পোস্টার ও ড্যাংলারে মাধ্যমে একটি কিউআর কোড ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে যে কেউ নিজের মতামত, চিন্তা ও পরামর্শ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পাঠাতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় কর্মসূচি ‘লেটার টু তারেক রহমান’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকেরা চিঠি, ই–মেইল ও অনলাইনে মতামত পাঠিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন। চিঠি পাঠানোর জন্য গুলশান–২–এর একটি নির্ধারিত ঠিকানা, ই–মেইল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ নামে একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপের কথা। তিনি জানান, সহজ ও ব্যবহারবান্ধব এই অ্যাপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিএনপির বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। নতুন বাংলাদেশে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নীতিভিত্তিক আলোচনাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ কর্মসূচি ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’। এ কর্মসূচির আওতায় সিলেটে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২৭ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে মাহদী আমিন বিএনপির আটটি লিফলেটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে বিএনপির নীতি ও তারেক রহমানের ভিশন তুলে ধরে এসব লিফলেট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কূটনৈতিক মহলেও আলোচিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, পরে ২৭ দফা ও সর্বশেষ ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে। আন্দোলন–সংগ্রামের পাশাপাশি নীতিনির্ভর রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বিএনপি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।’
সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। কিন্তু নির্বাচনের আগে একটি দল আল্লাহর নামে বেহেস্ত ও দোজখের টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। তারা ক্ষমতায় আসার আগেই মানুষকে ঠকানো শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাইবোনেরা, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’
বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মাঠভর্তি মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘কাবা শরিফের মালিক কে? এই দিনদুনিয়া, আমরা যে পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? এই সূর্য–নক্ষত্র যা দেখি, এর মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? দোজখের মালিক কে?’ তারেক রহমানের প্রশ্নের উত্তরে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সমস্বরে উচ্চারণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা শিরক করা হচ্ছে না? যেটার মালিক আল্লাহ একমাত্র। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকানো ঠকাবে, আপনারা বুঝেন এবার।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি–ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান আসেন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এবং প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন। তিনি আসার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল।
তারেক রহমান জনসভায় আসার পর নেতা-কর্মীরা ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’—স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন। মঞ্চে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রায় শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার সংসদীয় আসনের বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় অনেক নেতা বক্তব্য দেন।
এর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। তারা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকে মাথায় ধানের শীষের ছবিসংবলিত টুপি আর কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সভায় হাজির হন। বাইরে থাকা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ধানের শীষ কিনেও অনেকে সভায় আসেন।
ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গও এসেছে: আজকের জনসভায় ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগানে বারবার উঠে এসেছে ‘গুম হওয়া’ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নাম। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ঢাকার বনানী থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ‘গুম’ হন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্যে ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।
এদিকে মাঠের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারিত জায়গাও রাখা ছিল।
আরও ছয় স্থানে জনসভা: সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন ছয় জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেন।
পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।