সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে: মায়া

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে চাঁদপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওসমান গনি পাটওয়ারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

তিনি বলেন, আমরা ১০ ডিসেম্বর পাড়া মহল্লায় পাহারা দেব। কারণ, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভ্যাস খারাপ। তাদের হাত দুটো পকেটে থাকে না, বাইরে থাকে। তারা কোন জায়গায় কোন আকাম করে বসে, কোন জায়গায় মানুষের দোকানপাটে হাত দেয়, সেজন্য আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ১০ তারিখ সারা দিন আমরা রাজপথে থাকব, মানুষের পাশে থাকব, জনগণের পাশে থাকব। জনগণের জান-মাল রক্ষার্থে তাদের পাশে থাকব। এতে কোনো অপরাধ নেই।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওসমান গনি পাটওয়ারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপিকে সমাবেশ করতে হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যেতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাস্তাঘাটে মিটিং করে মানুষের জান-মালের ক্ষতি করলে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে, আমরা হাতে চুড়ি পরে বসে থাকব না।

মায়া বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ প্রায় ৫০ বছর। এর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল মাত্র সাড়ে ২২ বছর। বাকি ২৮-২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। এরা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। এই ২৯ বছর অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে, জেলে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের রক্তে ভেজা পতাকা নিচে নামিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের গাড়িতে, বাড়িতে তারা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছে। এখন যত সন্ত্রাসী আছে, তাদের হাতে বাঁশের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব সরকারকে রক্ষা করা। সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা। সরকারের ওপর যদি কোনো আঘাত আসে, তাহলে কর্মীদের সবার আগে রাস্তায় নামতে হবে সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। আরও বলেছে, তারেক রহমান শিশু মুক্তিযোদ্ধা। এত বড় রাজনৈতিক দলের নেতা এভাবে যদি ইতিহাস বিকৃত করে, তাহলে এ দেশের অবস্থা কী হবে? তাদের হাতে যদি ক্ষমতা যায়, তারা কী করবে বলতে পারেন? এটা বাঁদরের হাতে খুন্তি দেয়া না? এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে, ইতিহাস রক্ষা করতে হবে।

ইতিহাস রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ইতিহাস বিকৃত করে, তাহলে সে যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই আপনারা সজাগ থাকবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র দায়িত্ব দেশ রক্ষা করা, মানুষের জান-মাল রক্ষা করা।

ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মো. জাহাঙ্গীল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের উপদেষ্টা মো. মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. তাহের হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।


‘শান্তি সমাবেশ’ সফলে ৪০ জেলায় যাচ্ছেন আ. লীগের ৫৩ নেতা

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:২২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘শান্তি সমাবেশ’ কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নতুন কর্মসূচির দিনে সারা দেশে ‘শান্তি সমাবেশ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এ উপলক্ষে দেশের ৪০ জেলায় যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা।

গত রোববার আওয়ামী লীড়ের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের প্রতিটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে একযোগে ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে’ শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। দেশের ৪০টি জেলায় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে।

শান্তি সমাবেশ উপলক্ষে লালমনিরহাটের দায়িত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি। রংপুর যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।

জয়পুরহাটে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

বগুড়ায় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা। নওগাঁয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শফিক।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান।

সিরাজগঞ্জে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান, পাবনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ঝিনাইদহে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভিন জামান কল্পনা, যশোরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মাগুরায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জী।

নড়াইলের আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি-বিন-মর্তুজা, বাগেরহাটে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম মিলন, খুলনায় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা।

বরগুনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান, পটুয়াখালীতে সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, বরিশালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান।

পিরোজপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম কবির রব্বানী চিনু, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, মানিকগঞ্জে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, গাজীপুরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, নরসিংদীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম।

রাজবাড়ীতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান।

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফারুক খান এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম।

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং শাহাবুদ্দিন ফরাজী।

শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জামালপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শেরপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও কেন্দ্রীয় সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং যাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরুকে। কুমিল্লা উত্তরে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সবুর, চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মনি এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছেন কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

চট্টগ্রাম উত্তরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

কক্সবাজারে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, রাঙ্গামাটিতে কেন্দ্রীয় সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এবং বান্দরবানে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব জেলার নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোতে স্থানীয় নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন পর্যায়ের শান্তি সমাবেশ আয়োজন করতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহী নই, প্রস্তাবও পাইনি: কাদের

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দল ও মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ বাকি থাকায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর কেউ তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদের জন্য প্রস্তাবও দেয়নি বলে জানান তিনি।

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ এই পদটিতে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের নামও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আমার মতামত আগেই বলে ফেলেছি। এটা বার বার বলতে ভালো লাগে না। আমার যদি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকত আমি প্রকাশ্যে বলতাম। এখানে হাইড অ্যান্ড সিকের কী প্রয়োজন?’

কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদের যে যোগ্যতা দরকার, এ যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে হয় না। এ পদে বসার যোগ্যতা আমার নেই, এ কথা আমি বলেছি। আলোচনা হয়তো হতে পারে। কিন্তু আমি আগ্রহী নই বা আমাকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাবও কেউ দেননি। আমি নিজে কাজের মানুষ। দৌড়াদৌড়ি, ছুটাছুটি করি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক (আওয়ামী লীগের) হয়েছি, দলের অনেক কাজ আমার বাকি আছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়েও অনেক কাজ বাকি আছে। দায়িত্ব অসম্পূর্ণ রেখে এত বড় পদে যেতে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো আগ্রহ নেই।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেগুলো পালন করাই আমার কর্তব্য। এটাই আমার কমিটমেন্ট, নতুন করে কোনো কমিটমেন্ট দিতে চাই না।’

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোড়জোড় নেই কেন?’— এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কখনো তোড়জোড় হয় নাকি? তোড়জোড়ের ব্যাপার নয়, সময়মতো আমরা আমাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করব। এটা নিয়ম অনুযায়ী হবে। সংসদীয় দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন, তিনিই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। সময়মতো জানতে পারবেন।’

রাজনীতিবিদদের মধ্যে থেকে, নাকি অরাজনৈতিক কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে? প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘বাইরে না, পলিটিশিয়ান— সেটা তো আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। এটা কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’


বগুড়ায় বিএনপির উদ্দেশ্য সফল হয়নি: কাদের

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে মতবিনিময় করেন ওবায়দুল কা‌দের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বগুড়ায় উপনির্বাচনে বিএনপির উদ্দেশ্য সফল হয়নি ব‌লে মন্তব্য করে‌ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি পথ হারিয়ে এখন নীরব পদযাত্রা কর্মসূচিতে নেমেছে।

সমসাময়িক বিষ‌য়ে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে মতবিনিময়কা‌লে এসব কথা ব‌লেন ওবায়দুল কা‌দের।

বগুড়ায় উপনির্বাচনের প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হি‌রো আলম বিষয়ে এক প্র‌শ্নের জবাবে কা‌দের ব‌লেন, ‘যার কথা বলছেন, এ নাম নিয়ে অহেতুক আমি আর বিতর্কে যেতে চাই না। বিএনপি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যা করেছে, সে উদ্দেশ্যটা সফল হয়নি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই উপনির্বাচনে মানুষের আগ্রহ কম থাকে। কেননা এটা দিয়ে তো সরকারের বা এটা দিয়ে খুব বেশি লাভ-ক্ষতি কেউ খুঁজে পায় না।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুটি আসনে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ করেন হিরো আলম। এই প্রার্থীকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’ ব্যবহার করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

বিএন‌পি‌কে উদ্দেশ ক‌রে কা‌দের ব‌লেন, ‘তাদের বলব নির্বাচন ছাড়া কোনো দল বড়, আর কোনো দল ছোট সেটি নিরূপণ করা যাবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের টার্গেট ফেল করেছে। তারা ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সরকার পতনের টার্গেট নিয়ে নেমেছিল। কত কিছু দেখলাম, লাল কার্ড, গণ-অভ্যুত্থান। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ, এরপর ১১ জানুয়ারি, সবশেষে আমরা ৪ ফেব্রুয়ারিও দেখলাম।’

‘তারা (বিএনপি) যে টার্গেট নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন, গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া গণ-বিস্ফোরণ কী করে হয়, যেখানে জনগণই নেই। যে আন্দোলন সেটা তাদের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা ঘটেনি বলে তারা পথ হারিয়ে নীরব পদযাত্রায় নেমে এসেছে।’

কা‌দের ব‌লেন, ‘এ দেশে আন্দোলনে হেরে গেলে নির্বাচনে তাদের জেতার সম্ভাবনা থাকে না। আমাদের দেশে যে দল আন্দোলনে বিজয়ী হয়, নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হয়। এখন আন্দোলনে তাদের পরাজয় ঘটেছে। কাজেই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায়, যাতে অনির্বাচিত সরকার আসে। আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন আসে।’

‘হাসিনাকে হটাতে অন্য যে কেউ ক্ষমতায় আসুক তাতে বিএনপির আপত্তি নেই, এটা হলো তাদের মনোভাব। তাদের আজকের গোপন অভিসন্ধি, তাদের গোপন কর্মকাণ্ডের ধরন, তা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’

নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে জা‌নি‌য়ে দল‌টির সাধারণ সম্পাদক ব‌লেন, ‘এটা আমাদের কর্মসূচি, আমাদের এজেন্ডা। আমরা এটা থেকে সরে দাঁড়াব না। কারণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।’


উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ফখরুল মিথ্যাচার করছেন: কাদের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

উপনির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের কোনো বিষয় থাকে না বিধায় জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এটা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং মানুষ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দেবে।’

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন বলে বিবৃতিতে দাবি করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তার বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। কাদের বলেন, ‘বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির এক হিসাব তুলে ধরে বলেন, উপনির্বাচনগুলোয় ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি হয়নি, তথ্যটি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। প্রচণ্ড শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোট দিতে এসেছিলেন। সব আসনেরই উপনির্বাচনে ২৫ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এমনকি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৫ শতাংশের মতো। উপনির্বাচনে যেহেতু সরকার পরিবর্তনের কোনো বিষয় থাকে না সেহেতু জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এটা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম থাকে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বদা দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে দুর্নীতি বিএনপির মজ্জাগত বিষয়। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, সেটা বিবেচনায় না নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অর্বাচীনের মতো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় সরকারের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।’

কাদের বলেন, ‘মানবাধিকার হরণ, সংখ্যালঘু হত্যা, বিরোধী মত দমন বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র, মিথ্যাচার তাদের একমাত্র হাতিয়ার। আন্দোলনে জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্রের নীল নকশা সাজাচ্ছে। দেশের জনগণ সেটা বুঝতে পেরেই তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি।’

শেখ হাসিনা একটি মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে কাদের আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দুর্নীতি ও জবাবদিহিহীনতার চৌহদ্দি ডিঙ্গিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান সময়কে ধারণ করেই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। একই সঙ্গে এই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে জাতির সামনে তিনি রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তিনি স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ।’


রাজশাহীতে জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে দলের জনসভা মঞ্চে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩৯
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আওয়ামী লীগের জনসভাস্থলে পৌঁছেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকেল সোয়া ৩টায় জনসভাস্থলে পৌঁছালে মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এরপর তিনি মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। তার সঙ্গে মঞ্চে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও।

রাজশাহীর জনসভা থেকে ২৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৬টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে— রাজশাহী তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ, রাজশাহী আঞ্চলিক পিএসসি ভবন নির্মাণ কাজ, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ তলাবিশিষ্ট একাডেমি ভবন নির্মাণ, রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ষষ্ঠ থেকে দশম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত নির্মাণ কাজ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের হেড কোয়ার্টার নির্মাণ, জেলা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ভবন উদ্বোধন, মোহনপুর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন, রাজশাহী সরকারি শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উদ্বোধন।

এ ছাড়া রয়েছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক, মোহনপুর রেলক্রসিং ফ্লাইওভার, নগরীর বন্ধগেট-সিটি বাইপাস পর্যন্ত অযান্ত্রিক যানবাহন লেনসহ চার লেন সড়ক নির্মাণ কাজ, নগরীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী সড়ক প্রশস্তকরণ ও সম্প্রসারণ কাজ, ভদ্রা রেলক্রসিং থেকে পারিজাত লেক হয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত চার লেন সড়ক উদ্বোধন, হাইটেক পার্ক থেকে ঢালুর মোড় পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ, পুঠিয়া-বাগমারা মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ, রাজশাহী সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ, চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাল্টিপারপাস ভবন, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের ৬ তলাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, রাজশাহী সদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন, বাগমারার ভবানীগঞ্জ-কেশরহাট সড়ক, পদ্মা নদীর ড্রেজিং প্রকল্প, রাজশাহী পিটিআইয়ের বহুমুখী অডিটোরিয়াম নির্মাণ, চারঘাট ও বাঘায় পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প।

এর আগে দুপুর ১২টায় চারটি ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বক্তব্য দিতে শুরু করেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে ও জনসভায় অংশ নিতে ভোর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে জনসভাস্থল অভিমুখে। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, ভটভটি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আসেন তারা। পায়ে হেঁটেও দলে দলে জনসভাস্থলে যোগ দেন মানুষ।


প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশ নিতে শত শত বাস-ট্রাকে যাত্রা আ.লীগকর্মীদের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১৩
প্রতিনিধি, নওগাঁ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দিতে বাস-ট্রাক নিয়ে রাজশাহীর পথে যাত্রা করেছেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। রোববার ভোরেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তারা রওনা দিয়েছেন জনসভার উদ্দেশ্যে।

রোববার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষের জনসমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এরই মধ্যে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এই জনসভা থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন।

নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ২৫০ বাস ও ১৫০ ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলোতে করেই জেলার ৯৯ ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা জনসভায় যাচ্ছেন। নেতা-কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট টি-শার্ট ও ক্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জানান, নওগাঁ থেকেই ৭০ হাজারের মতো লোক অংশ নেবেন জনসভায়। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে দেয়া বাস-ট্রাক ছাড়াও ব্যক্তিগত যানবাহনে হাজার হাজার মানুষ যাচ্ছেন রাজশাহীতে। প্রধানমন্ত্রী জনসভায় যে দিকনির্দেশনা দেবেন, সেগুলো অনুসরণ করে আরও গতিশীল হবে জেলা আওয়ামী লীগ।


বিএনপির আন্দোলন চলে অদৃশ্য নির্দেশে: কাদের

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জোটের আন্দোলন চলে রিমোট কন্ট্রোলে অদৃশ্য নির্দেশে। বিএনপি ও তার দোসররা দেশে আজগুবি খবর ছড়াচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি জোট বিদেশীদের দিকে তাকিয়ে আছে, লবিং করছে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে। আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল শক্তি এবং বেশ কিছু অপশক্তি আওয়ামী লীগ বিরোধী জোট গঠন করেছে বিএনপির নেতৃত্বে।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পাঠক, ঘোষক নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ’৭৫ সালে হত্যাকাণ্ড ঘটানোই হয়েছে আওয়ামী লীগকে ও মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করার জন্য।

কাদের বলেন, বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কর্মসূচিতে কোনো সংঘাতের উসকানি না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি জানান, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিদিন কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, সহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা।


বিএনপির লোকেরাও শেখ হাসিনার জনসভায় আসবে: দাবি নানকের

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের জনসভার মাঠ পরিদর্শনের আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৭
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশাপাশি বিএনপির সমর্থকরাও যোগ দেবে বলে দাবি করেছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আসতে গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষ অধীর আগ্রহে বসে আছেন। ২৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে উন্নয়নের বার্তা শুনতে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বিএনপির লোকেরাও এই সভায় উপস্থিত হবেন। কারণ, যারা বিএনপি করেন তারা বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপের নাগরিক নয়।’

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মাঠ পরিদর্শনের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

নানক বলেন, ‘রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভাও হবে ঐতিহাসিক। রাজশাহীর এ জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন। এজন্য শুধু নেতাকর্মীই নয়, সারা দেশের মানুষই অপেক্ষা করছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীর নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে; বিএনপির এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নানক বলেন, ‘বিএনপি মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করছে। এখানে বিএনপি আমাদের কাছে সাবজেক্ট নয়।’

অনুষ্ঠানে দলের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘ সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ কোনো নির্বাচনে বিএনপি মানুষের ভোটে নির্বাচিত হবে না। সুতরাং আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করতেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি অসাংবিধানিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু বিএনপির এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে এই দেশের মানুষ পাত্তা দিচ্ছে না। তাই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে।’

বিএনপি কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল উল্লেখ করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি কোনদিনও নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে সুক্ষ্ম কার্চুপির মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছিল। ২০০১ সালেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্যাস রপ্তানির কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। তবে সে গ্যাসও তারা দিতে পারে নাই। পরে তারা সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতাও হস্তান্তর করতে পারে নাই।’

বিএনপির উদ্দেশে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, ‘বিএনপি একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দল, নেতৃত্বহীন দল। বেগম খালেদা জিয়া-তারেক জিয়া দুজনই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সুতরাং নেতাকর্মীদের মাঝে-মধ্যে একটু উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়ার জন্যই বিএনপি নেতারা নানা উল্টা-পাল্টা কথা বলেন।’


আ.লীগ ৩০০ আসনেই ইভিএম চায়, সম্ভব কি না ইসির ব্যাপার

মঙ্গলবার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর বকশীবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগ আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চায় জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এটা সম্ভব কি না নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।’

মঙ্গলবার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বকশীবাজারে নবকুমার ইনস্টিটিউটশন ও ডক্টর শহীদুল্লাহ্ কলেজ প্রাঙ্গণে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মতিউর রহমান মল্লিকের বেদিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কাদের এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান নয়, গণআন্দোলনেরও ঢেউ তুলতে পারেনি বিএনপি। তাদের আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই। তাদের আন্দোলন নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপি স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো দিবস পালন করে না, মানেও না।’

‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত মাইলফলক। বিএনপি ৭ মার্চ, ৭ জুন, ১৪ এপ্রিল, ১০ জানুয়ারি, ২৪ জানুয়ারি মানে না, পালন করে না।’

কাদের এ সময় আরও বলেন, ‘একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার একমাত্র বৈধ অধিকার ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, অন্যরা পাঠকমাত্র।’

আরও পড়ুন: ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট হচ্ছে না

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, শাজাহান খান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সংসদ সদস্য হাজী সেলিম প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএমে করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রকল্পে ইভিএম মেশিন কেনার কথা ছিল। কিন্তু গত রোববার পরিকল্পনা কমিশন এক চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইভিএম কেনার প্রকল্প আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরে সোমবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রকল্প স্থগিত হওয়ায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ দেড় শ আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল সেটি আর হচ্ছে না। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতি এবং বিদায়ী নুরুল হুদা কমিশনের রেখে যাওয়া ইভিএমের ওপর ভরসা রাখতে হবে বর্তমান কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনের। বর্তমান কমিশনের হাতে থাকা ইভিএম দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০টি সংসদীয় আসনে ভোট করা সম্ভব।


বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্য দেখছেন ক্ষমতাসীনরা 

আওয়ামী লীগের দলীয় লোগো।
আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৮
আমানউল্লাহ আমান

সরকার পতনের ডাক দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন বিরোধীরা। জোটবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি একই দিনে একই ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো। বিরোধীদের এসব কর্মসূচির মাঝে অনৈক্য আছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

তারা বলছেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা থেকেই যুগপৎ নামে জগাখিচুড়ি পাকাচ্ছে বিএনপি ও তার সঙ্গীরা। আদর্শহীন ও লক্ষ্যহীনভাবে কোনো আন্দোলন এগোতে পারে না। বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ এ আন্দোলনে কোনো ঐক্য দেখছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা।

বিএনপি ও তার সঙ্গীদের সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনকে লক্ষ্যহীন ও আদর্শহীন দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দৈনিক বাংলাকে বলেন, কিছু লক্ষ্যহীন, আদর্শহীন ডান-বাম মিলে যে কর্মকাণ্ড করছে তা কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। যারাই আজকে আদর্শহীনভাবে কথা বলছেন, তারা আসলে লক্ষ্যভ্রষ্ট-আদর্শহীন। তারা কার্যকরভাবে জনগণের জন্য কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিরোধীরা যত আন্দোলন করুক তাতে সরকারের কোনো কিছুই হবে না। ওনাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি নেতৃত্ব। কার নেতৃত্বে তারা ঐক্যবদ্ধ, সেটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাজাপ্রাপ্ত। একজন নির্বাহী আদেশে বাসায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। আরেকজন লন্ডনে পালিয়ে আছেন। এই নেতৃত্ব দিয়ে বিরোধীরা যুগপৎ বা যে নামেই আন্দোলন করুক না কেন, ঐক্য সৃষ্টি করতে পারবে না। ঐক্য সৃষ্টি করতে না পারলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো কিছুই করতে পারবে না।

গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘৫৪ দল ৫৪ মতে বিভক্ত। হতাশায় বিএনপির বাজার ভেঙে যাচ্ছে, বিএনপির জোটের বাজার ভেঙে যাচ্ছে, এ হতাশার জোট দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার হটানো দুরাশার বাণী।’

গত ১৬ জানুয়ারি সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৪ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়নি মঞ্চের শরিক দল নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ-অধিকার পরিষদের কেউ।

গণ-অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘বিরোধী ৫৪ দল আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা, আমাদের মাঝে ফাটল ধরাতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আমাদের মাঝে সন্দেহ তৈরি করছে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন দমন করার জন্য নানা অপকৌশল হাতে নিয়েছে, তাই সবাইকে বলব সরকারের ফাঁদে পা দেবেন না। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পুরোনো জোটের সঙ্গীদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত আন্দোলনে নাও থাকতে পারে। নতুন করে আন্দোলনে যুক্ত হওয়া অনেক দলেরই সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সবকিছু মিলিয়ে বিরোধীদের অবস্থা অনেকটাই হ-য-ব-র-ল। বিরোধীদের যুগপৎ আন্দোলনে শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি, দানা বাঁধতে পারেনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ছাড়েন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তার পর থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতিতেই সরব ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এই নেতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন দল মিলে জোট গঠন করে। ওই জোট নির্বাচনকে ভোটারবিহীন দাবি করে বয়কটের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ অন্যান্য দল নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই জোটে সরব ভূমিকা পালন করেন কাদের সিদ্দিকী। টাঙ্গাইলের আসন থেকে তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী বিএনপির দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব ছিলেন তিনি।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। নতুন করে আলোচনায় আসেন এই নেতা।

গত ৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোট শরিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি জেপির সম্মেলনে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। ওই সভায় তিনি বলেন, ‘কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, ৫৪টি দল শুধু সংখ্যাই বাড়িয়েছে। তার ওপর নেই নেতৃত্ব। এভাবে এলোমেলো বিরোধী শক্তির আন্দোলনে সংগঠিত সরকারের পতন হয় না। বিরোধীরা আন্দোলনে হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনেই অংশ নেবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।


শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমা পেলেন গাজীপুরের জাহাঙ্গীর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিতর্কিত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শর্ত সাপেক্ষে দলের কাছ থেকে ক্ষমা পেয়েছেন ।

গত ১ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ক্ষমার বিষয়টি জানানো হয়। ওই চিঠি বিষয়টি শনিবার গণমাধ্যমে আসে। দলীয় ওই চিঠিটি জাহাঙ্গীর বরাবর পাঠানো।

চিঠিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরের আবেদনের পরিপেক্ষিতে আবেদন পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে তার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা হলো। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে, তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন।

ওই বছরের ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ক্ষমা পেলেও জাহাঙ্গীর দলের সদস্যপদ ফিরে পেয়েছেন কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।


বিএনপি অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া: কাদের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:০৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নির্বাচনে জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি এখন অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাংবিধানিক পন্থায় একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের’ অভিযোগ তুলে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কাদের।

‘সরকার পালানোর পথ পাবে না’ বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে দলের নেতৃত্ব মুচলেকা দিয়ে রাজনীতিকে চিরবিদায় জানিয়ে দেশ ত্যাগ করে, আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে বিদেশে পালিয়ে বেড়ায়, সে দলের নেতাদের মুখে এ ধরনের বক্তব্য শোভা পায় না।’

কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি এখন হত্যা-ক্যু-যড়যন্ত্রের মাধ্যমে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে বিদেশি প্রভুদের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে স্যাংকশন আরোপের ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করছে।’

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব বিদেশে বসে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালায়। তাদের নেতাকর্মীদের নাশকতার উসকানি দেয়। কিন্তু বিশ্ববাসী ও দেশের জনগণের কাছে গুজব রটনাকারীদের ষড়যন্ত্র আজ ধরা পড়েছে, সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে। তাই বিএনপি নেতারা দিশেহারা।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি-যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত দেশের মানুষের কোনো মঙ্গল চায় না। তাই দেশের গণতন্ত্র উন্নয়ন-অগ্রগতি তাদের চোখে পড়ে না। অথচ আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আন্তইনেত মনসিও সায়েহ বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতার কথা উল্লেখ করে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’

ইউরোপে যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘এ কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে পৌনে তিন গুণ। বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ইউনিটপ্রতি তিন টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। পিডিবি বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণের কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সরকার নিরুপায় হয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আমরা বিএনপির কাছ থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক ফয়দা লোটার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব না ছড়িয়ে তাদের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাই। সাংবিধানিক পন্থায় একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে।’


বিএনপির নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না: কাদের

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রকে নষ্টকারী বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের বুলি শোভা পায় না। আমাদের গণতন্ত্র আমরাই চালাব। বিদেশি কারও ফরমায়েশে চলবে না। শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও শেখ হাসিনা গণতন্ত্র বিকাশে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন কাদের।

মন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশীদারত্বমূলক। সরকার শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় তিনি বিএনপিকে নির্বাচনের অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের সাত দশকের ইতিহাস, এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে না, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়, আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না কিন্তু বারবার হত্যা রাজনীতির শিকার হয়। এটাই বাস্তবতা। আজকে বিএনপি কখন যে কী বলে! তাদের ভেতরে গণতন্ত্র নেই। সম্মেলন হয় না কতদিন তাদের। নিজেরাই কমিটি দেয়। তারা কীভাবে গণতন্ত্র শেখাবে আওয়ামী লীগ কে?

বিএনপির আমলে ভোটচুরির হয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদের (বিএনপি) আমলে ভোটচুরির রেকর্ড হয়েছে, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করেছিল, ওয়ান ইলেভেনের জন্য এটা অন্যতম কারণ। তারা গণতন্ত্রের বস্ত্রহরণ করেছে। তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না। এ দেশে গণতন্ত্রের যত অর্জন ৭৫ পরবর্তী গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে তার অগ্রভাগে ছিলেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বেই গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দলের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা।


banner close