রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৫ বৈশাখ ১৪৩৩
জনগণের আস্থা অর্জনে বিএনপি সরকারের দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ

প্রতিবন্ধকতা দূর করে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:১৩

বিএনপি সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরলেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।’ এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে অগ্রযাত্রার পথে হাঁটার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সরকার।

এ সময় সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো-

১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা।

৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। ৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।

৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০,০০০ (দশ হাজার) মেগাওযাট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড-এর পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। ৯. সরকারের একটি অগ্রাধিকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনো অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ১১. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিট প্রতি ১২,০০০ টাকা এ বছরেই কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মত দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।

১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।

১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর।

১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, এমপ্লয়েমেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০. গত প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা প্রদান করে নিশ্চিত করা হয়েছে, সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে। ২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।

২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশগুলো হলো-সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া। ২৩. দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব প্রদান করে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

২৪. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ‘হাব’ বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫. পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৬. দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে মোট কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী থেকে নেওয়া হবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন।

২৭. সঠিক ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২৮. প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, অর্থাৎ পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হবার পর নতুন করে আর ভর্তি ফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকল স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২৯. বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদসমূহে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

৩১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

৩২. আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

৩৩. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩৪. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৫. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

৩৬. ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, বনায়ন সৃজনের জন্য এরই মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত চারাগুলো চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

৩৭. রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

৩৮. প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন, ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন এনেছেন, তার রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

৩৯. দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যেই-নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধ করতে সরকার এখন ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং পরিচালনা করছে। চালু হয়েছে ২৪/৭ হটলাইন। ৪০. পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।

৪১. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমছে। ৪২. পাটজাত পণ্যে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বেসরকারি শিল্প খাতকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪৪. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে সারাদেশে প্রদান।

৪৫. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৬. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪৭. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, এর ফলে নদী দখল ও দূষণ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে; এই আইনের অধীনে নদী দখলদারদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

৪৮. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছিল। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪৯. প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে পরীক্ষার মেধাভিত্তিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে। ৫০. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে। ৫১. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫২. বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে বাস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের লক্ষ্য একটি উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করা, যেখানে কোনো মত, বিশ্বাস বা পরিচয় অবমূল্যায়িত হবে না। মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই মাসে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

৫৩. বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫৪. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫৫. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

৫৬. সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যেখানে প্রবাসীদের জনকল্যাণ, দূতাবাস এবং মিশনগুলাকে বাণিজ্যের প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি অন্যতম অগ্রাধিকার। ৫৭. পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী এবং স্বাভাবিক করা হচ্ছে। জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক, পানি কটন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দুয়ার খোলা হচ্ছে।

৫৮. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। ৫৯. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

৬০. মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিএনপির ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। গত দুই মাসে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় যে রেকর্ড তৈরি করেছে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।


কনকচাঁপার সঙ্গে খারাপ আচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। পরে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা দিতে গেলে বগুড়ার কিছু নারী নেত্রী হট্টগোলের সৃষ্টি করেন । কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্য করে তারা বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন। পরে অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।

কনকচাঁপার সঙ্গে করা এমন আচরণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা এই কর্মকান্ড ঘটিয়েছে এবং তাতে লিপ্ত হয়েছে তাদের আচরনে সাংস্কৃতিক ঘাটতি আছে। তাদের আচরন অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। রিজভী বলেন, সেলিব্রেটিরা আসবে না কেন? পৃথিবির অন্য কোন দেশে দৃষ্টান্ত নেই?

সবারই কি মাঠ পর্যায়ের ভুমিকা থাকে? একজন বড় শিল্পির যদি বিএনপির আন্দোলন, সংগ্রাম অবজেক্টিভ, এবং গনতন্ত্র ফেরানোই ভূমিকা থাকে এটাতেও অনেক কাজ হয়।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এমাজ উদ্দিন স্যার কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করতেন? তা তো করতেন না, কিন্তু উনি বিএনপিকে সমর্থন করতেন এটা দেশবাসী জানে, এটা আমাদের অনেক কাজ হতো।

একজন বড় কন্ঠশিল্পি তিনি বিএনপিকে সমর্থন করেন, এতাই তো অনেক বড় বিষয়, সবাইকে কে কি রাস্তায় নেমে রিক্সার পাম্প ছাড়তে হবে নাকি? এটা কি ধরনের কথা যে পার্টি অফিসে একজন সন্মানিত শিল্পি আসবে তার সাথে এরকম ব্যাবহার করবে! তিনি আরো বলেন, যারাই এধরনের বাজে আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি অন্যায় হয়েছে দাবি করে তার বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন কনকচাঁপা। দীর্ঘ এই পোস্টে দলের প্রতি আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন তিনি, যা দৈনিক বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো— কনকচাঁপা ফেসবুক পোস্টে বলেন,

আমি বিশ্বাস করি, সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ রহমানুর রহীম। আর যেকোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের। তাদের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থা এবং সম্মান রাখি। আপনারা জানেন অথবা কেউ কেউ জানেন না যে আমি আজীবন মানুষের পাশে থেকেছি আমার সাধ্যমতো।

আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখন তিনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবু্ও আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।

যার ফলে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান দুঁদে রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পাই। বলা বাহুল্য, সেই যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপৎসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন, আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনের মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই।

যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।

তারপর দীর্ঘ অনেক বছর বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণনাতীত। বিগত আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে বলুন? বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুলও লতা-পাতার ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি।

আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি, কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করি। বছরজুড়ে নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি; কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। সে জন্য কে কী ভাবলো তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। দলের প্রতি আমার আনুগত্য ১০০ পার্সেন্ট।

কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীনপ্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধি। আমার মনে হয়, যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো এই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

দলের যে কারো অধিকার আছে নমিনেশন চাওয়ার এবং যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে। আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়ার। অতএব, নমিনেশন ফরম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য।

যাই হোক, আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় তা খুবই দুঃখজনক।


এনসিপির ঢাকা জেলার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির আত্মপ্রকাশ ও ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়।

এতে ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির একটি অংশের নেতা-সমর্থকদের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই ধামরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা জুলাইকে পুঁজি করে ব্যবসা করে আসছিলেন, কমিটিতে পদ না পেয়ে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এনিসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘কমিটি আত্মপ্রকাশের কারণে অনেকের জুলাই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে সেই ক্ষোভ থেকে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জুলাই ব্যবসায়ীদের এনসিপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে আজকে (শুক্রবার) সাধারণ মানুষের ওপর এবং যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে জুলাই শহীদদের পরিবারের ওপর, তাদের এনসিপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না।’ এ ছাড়া এ ঘটনায় নবগঠিত কমিটির ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

অপরপক্ষ ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ধামরাইয়ের কালামপুরে ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে বলে জানতে পারেন ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন উপজেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৪টার দিকে কালামপুরের এনসিপি ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনিসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে চাইতে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ধামরাই উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের সময় এনিসিপির সাভার উপজেলা, আশুলিয়া থানা ও ধামরাই উপজেলা শাখার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটি গঠন করা হয়। এতে ওই সময়েই ক্ষিপ্ত হন এ তিন শাখার নেতা-কর্মীদের অনেকে।

তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ধামরাইয়ের কালামপুরে ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে বলে জানতে পারেন ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। প্রায় ১৬ মাস ধরে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও নতুন কার্যালয় কেন করা হচ্ছে সেটি জানতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।’

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘এনসিপি ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে সে অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সিঙ্গপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি বর্তমানে ডাক্তারদের পূর্ণ নজরদারিতে রয়েছেন।

মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বৃহস্পতিবার বলেছেন, কেবিনে স্যারের চিকিৎসা চলছে। আগের তুলনায় উনার অবস্থা অনেকটাই ভালো। প্রতিদিন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে এবং ডাক্তাররা ফুল কেয়ারে রেখেছেন।

এইদিন দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসার জন্য মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অবস্থান করছেন।

প্রসঙ্গত, মির্জা আব্বাস ১১ মার্চ রমজান মাসের ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারানোর পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশের প্রখ্যাত নিউরো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দ্রুত মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ১৫ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।


শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে ধানের শীষের মাহমুদুল হক রুবেল জয়ী

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মাত্র ৪৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। পোস্টাল ভোটসহ ১২৯টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‌‘সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্থানে জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

তবে ভোট চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ তোলে জামায়াত প্রার্থী। বিকাল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং অভিযোগ করেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি জাল ভোট ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে আজ উপনির্বাচনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।


নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

* দলটির নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে * শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাতিল   * পাস হওয়া আরো পাঁচ বিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর আইন, ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ আইন’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে নতুন আইনগত পদক্ষেপ। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞা আইনগত ভিত্তি পেল। এদিন আরো ছয়টি বিল সংসদে পাস হয়েছে। সেগুলো হলো-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং

‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’।

‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত কবার শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ অন্য সুবিধাও বাতিল হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৫ মে এই আইনের অধীনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধাদি প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। এই বৈষম্য দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি রহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশটিই এখন স্থায়ী বিল আকারে সংসদে পাস করা হলো।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এ আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা এবং তাদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিলটি পাসের মাধ্যমে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা ও সুবিধা বিলুপ্ত হলো।

২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার নতুন এই বিলের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিল। ফলে দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকল।

বুধবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তিনি বিলটি অবিলম্বে বিবেচনা এবং পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

অন্য বিলগুলোর মধ্যে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো সরাসরি পাসের প্রক্রিয়ায় যায়।

বিলে বলা হয়েছে, বর্তমান আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় আইনটি সময়োপযোগী করতে ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন প্রয়োজন হয়েছে। সেই যুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে নতুন আইন আনা হচ্ছে।

এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় ‘সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে’ শব্দগুলোর পর ‘বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে’ শব্দগুলো যুক্ত হয়েছে। আর ২০ ধারার সংশোধনে বলা হয়েছে, ধারা ১৮ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকার তাদের অর্থ, সম্পদ বা লেনদেন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণাও বন্ধ করতে পারবে।

বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে ‘যে কোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান’ নিষিদ্ধ করা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিল উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, এতদসম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হবে।

এ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করার নিমিত্ত আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে উক্ত প্রতিরোধকর্ম এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করিবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

সুতরাং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষার জন্য এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য বিল আকারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত একটি বিল সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ এই মহান সংসদে উত্থাপন করছি।

পরে অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তুলে তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ মহান সংসদ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক।

স্পিকার কণ্ঠভোটে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। বিলটির ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী ছিল না। এরপর দফা ২, ৩ ও ৪, পরে ১ নম্বর দফা, বলবৎকরণ দফা, প্রস্তাবনা, প্রবর্তন ও শিরোনাম কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

বিল পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার সুযোগ নিয়ে বলেন, বিলটির তুলনামূলক বিবরণী তারা মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। আইনটি ‘স্পর্শকাতর’ হওয়ায় তিনি এটি পাসের আগে কিছুটা সময় দিয়ে বিরোধী দলকে বিষয়টি দেখার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

জবাবে স্পিকার বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় ছিল, সেই পর্যায়ে আপত্তি এলে তা বিবেচনা করা যেত। এখন বিলের এই স্টেজে আর আপত্তি করার সুযোগ নাই।

এরপর বিলটির পক্ষে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা হল একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটা অ্যামেন্ডমেন্ট।

তিনি বলেন, আগের আইনে সংশোধনের পেছনে একটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল এবং সেই প্রেক্ষিতে এটা মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল।

স্পিকারও এ সময় বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তাদের নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে। পরে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব তুললে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ ও শাস্তির বিধান রাখতে ২০০৯ সালের আইনটি করা হলেও কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত কারণ পেলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তালিকাভুক্ত করতে পারত, কিন্তু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না।

যেভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির নেতা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। তার তিন দিনের মাথায় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা হতে থাকে।

আওয়ামী লীগের সময়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, সেই একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভ্যুত্থান দমাতে গিয়ে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে পরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের। ওই দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

ওই আন্দোলনের মধ্যে ১০ মে রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের গেজেট জারি হয়।

আইনের দুটি ধারায় ওই সংশোধনের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল বা সংগঠন, তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীর বিচারের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালকে।

সেখানে বলা হয়, কোনো সংগঠন যেমন রাজনৈতিক দল বা তার সহযোগী কোনো সত্তা যদি এ আইনের আওতাভুক্ত কোনো অপরাধে জড়িত থাকে বলে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকবে।

সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আর আইনজীবীরা মনে করছেন, বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা সতর্কভাবে আইন প্রয়োগ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তিকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দণ্ডনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর-শিবালয়) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী নিজাম উদ্দিন।

আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি আনোয়ারুল হক স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৪৯ সালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামে আনোয়ারুল হকের জন্ম। ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

আনোয়ারুল হক ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।


সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা দিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের আগে ঢাকা শহরে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন, তাদেরই এখানকার ভোটার হতে হবে। অন্য জায়গা থেকে ভোটের সময় ঢাকায় এসে ভোট দেওয়া চলবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় সেখানে ১৫০টি ভোট হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকও জানেন না এসব ভোটার কারা বা কোথা থেকে এলো। আমরা চাই, আপনি যেখানে থাকেন সেখানকারই ভোটার হোন। ঢাকা শহরে থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, অথচ ভোটের সময় নাম রাখবেন—এটা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তা মোকাবিলা করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ বিরোধীরা দেশটাকে সংকটে ফেলতে চায়।

আবদুস সালাম আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের সমালোচকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর মানুষ গণতন্ত্রের মুখ দেখছে। এক-দুই মাসে সব ঠিক করা সম্ভব নয়। তাই হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আবদুস সালাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরেও ইতিহাস নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিল, তারা মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধ চায়নি বলেই প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।


দলীয় প্রধানের পদ ছাড়লেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ও রাজনৈতিক দলকে আলাদা রাখার লক্ষ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তার পরিবর্তে দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই এ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাকি বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে পৃথক রাখার স্বার্থেই আমি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

এ সময় তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, এই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চললেও এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের একটি নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন আফজাল হোসেন খান পলাশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুই নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আফজাল হোসেন খান পলাশ ।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূলে আমাকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে পাথেয় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মেনে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। ফরিদপুর জেলার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমাদের গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম শুরু করলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্নীতিকে জিরোটর্লারেস্ন ও মানবকল্যাণমুখী এবং সকলের সহযোগিতায় স্বচ্ছ ও সুন্দর জেলা গড়ার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা মো:শামীম হোসেন, খন্দকার শামসুল আরেফিন সাগর, জাকির হোসেন নিশাত, আসিব আক্তার টনি, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম জাফর, বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ বাবু, মুক্তার খান, জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহরুল ইসলাম সেন্টু,মহানগর জাসাসের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ কামাল হোসেন, মাহে আলম গোগা, সেলিম মাতুব্বর, মোহাম্মদ আলেব,মোহাম্মদ সুমন, শহিদুল ইসলাম সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি পদ ছাড়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হলেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।

গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে দলটির প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয় তাকে।


শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান। তিনি বলেন, "বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"

এর আগে সর্বশেষ ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


মির্জা আব্বাসের শারীরিক উন্নতি, সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস/ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতির দিকে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বর্তমানে সীমিতভাবে সবার সঙ্গে কথা বলছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে গেছেন। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তার চিকিৎসা নেওয়ার কথা রয়েছে।

দলের সিনিয়র এই দুই নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।


জামায়াতও হাঁটছে আ.লীগের পথে: আবদুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগের অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, ১৭ বছরে দেশটাকে আধিপত্যবাদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে জামায়াতও সেই পথে হাঁটছে। কিন্তু তারেক রহমানের কারণে পারেনি। রাজনীতি দিয়ে আমরা আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করেছি, জামায়াতকেও মোকাবিলা করব।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে এবং এ লক্ষ্য পূরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আত্মত্যাগ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করেছেন এবং আপস করেননি। তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আব্দুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও জনগণ তাকে বরণ করা প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালবাসে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে তারেক রহমানকে ছোট করার জন্য। আরেকটি দলও (জামায়াত) একই চেষ্টা করেছ। দুটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি টিকে রয়েছে। সংসদ ও সরকারকে তারা অসহযোগিতা করছে। দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংস। সংসদে জাতীয় সঙ্গীত যখন বাজল, তখন তাদের ভূমিকা কী ছিল তা আমরা দেখেছি। তাদের মনে পাকিস্তান। দুটি দলই পাকিস্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে। একজন শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন আর জামায়াত পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন টাকা কোনো ব্যাপার না, শুধু দুর্নীতিটা বন্ধ করতে হবে। তারেক রহমানও সেই একই পথে হাঁটছেন। নতুন সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খেলোয়াড়দের সম্মাননা দিচ্ছে।


banner close