রাজধানীর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুজনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিল পরিবার। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য জানিয়ে হারুন অর রশিদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হুকুম দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ও আব্বাস। তাদের পরিকল্পনাতেই ঘটনাগুলো ঘটে। পুলিশের করা মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে তাদের। আজ বিকেলেই তাদের আদালতে তোলা হবে।
আগামীকাল শনিবার ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। দলটি সমাবেশ করার অনুমতি পেলেও এখনো সমাবেশস্থল চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ‘আলোচনা’ চলছে। এর মধ্যে গত বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন দলটির নেতা-কর্মীরা। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় বিএনপির শীর্ষ পাঁচ শতাধিক নেতার নামোল্লেখসহ কয়েক হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। শুক্রবার শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইমন ইবনে মুমিন ওরফে ইমন মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এদিন দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিনব্যাপী পালিত হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামী ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এই আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন গতানুগতিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং তার ব্যক্তিত্বে নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। তার রাজনৈতিক পরিচালনায় যেমন ছিল ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা, তেমনি তার আচরণের মধ্যে ছিল মাতৃসুলভ শাসন ও স্নেহের এক অপূর্ব ভারসাম্য। এই দুই গুণের সংমিশ্রণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক। আলাল উল্লেখ করেন, চরম অসুস্থতা এবং নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েও বেগম জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সবসময় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এত অবহেলার পরেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা স্মরণ করে আলাল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে বেগম জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি অভিযোগ করেন, যারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, তারা অনেকেই যা করতে পারেননি, বেগম জিয়া তা করে দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সেই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়েই দেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু হয়, যা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছিল। সে সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ।
শাসনামলের সততা ও কঠোরতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আলাল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন আপসহীন নেত্রী, যিনি অনিয়মের অভিযোগে নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীদেরও ছাড় দেননি। দলের ভেতরে থেকেও কেউ অপরাধ করলে বা অনিয়মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।
নেত্রকোণা জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী তাদের দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে নেত্রকোণা-২ (সদর–বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নেত্রকোণা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠী বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারী অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সহসভাপতি শাজাহান মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ আরও অনেকে। এ সময় নবাগত নেতাকর্মীদের হাতে ফুল দিয়ে তাদের দলে উষ্ণভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা জানান, তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ এবং স্থানীয় নেতা অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপির হাত ধরেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোণা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তিনি ২৪-এর গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল কৌশলে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পায়তারা করছে। তবে বিএনপি তাদের সেই সুযোগ দেবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমতা বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যারা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবেই। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো দল যদি কৌশলে নির্বাচন বর্জন বা সরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে তাদের সেই সুযোগ দেবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থে তারা দলীয় কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপির এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিএনপির এই ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক হবে না, কারণ দলটি গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই এমন সহনশীল আচরণ করছে।
মায়ের ডাক ও আমরা বিএনপি পরিবার-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সভায় বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে হওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয় এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করে আর বিএনপিকে দমন করে রাখা যাবে না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ নামক দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তিনি বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাকে বহু বছর ধরে দেশ, স্বজন এবং দেশের সাধারণ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তবে ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও মানসিকভাবে তিনি সবসময় দেশের মানুষের পাশেই ছিলেন। তিনি জানান, দলের নেতাকর্মীদের বাইরেও সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা স্বজনহারা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ভুক্তভোগীদের জন্য তিনি কতটুকু করতে পেরেছেন বা পারেননি, সেই হিসাব ভিন্ন হতে পারে। তবে তার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেন।
বক্তৃতায় তারেক রহমান বিগত সরকারের আমলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের অনেকের পরিবার আজ এই সভায় উপস্থিত। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক মামলার বোঝা প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে বহন করতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার কারণে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে এবং অমানবিক জীবনযাপন করতে হয়েছে। তবুও বিএনপি সব বাধা উপেক্ষা করে জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম, খুন এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আর্তনাদ ও বঞ্চনার কথা শুনতেই মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যারা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পথ থেকে সরে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে বৈঠকে দলটি প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনা করার ওয়াদা করেছেন। তবে শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার উদ্দেশ্যই ইসলামী আন্দোলন কাজ করছে। ফলে এটা আমাদের সাথে সাংঘর্ষিক।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমির তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এর অর্থ, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করছি না।’
জোট ভাঙার নেপথ্যে ভোটব্যাংক ইস্যুতে জামায়াতের কটাক্ষও দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ৯ ডিসেম্বর জামায়াত আমির ও পীর সাহেব একান্তে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই আলোচনায় প্রথম আলোর জরিপের কথা টেনে বলা হয় ইসলামী আন্দোলনের ভোট জিরো দশমিক সামথিং। এটা পীর সাহেব এক প্রকার সরাসরি অপমান করা। এই ঘটনার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বিকল্প চিন্তা করা শুরু করে।’
এসময় ইসলামপন্থিদের কেউ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসতে চাইলে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না পুনরায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করার পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ. রাজ্জাক তালুকদার সজীব এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হার্ট অ্যাটাক করেছেন। পিজিতে (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে যাচ্ছি।’ মান্নার সুস্থতা কামনায় তাঁর দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মাহমুদুর রহমান মান্না ইতিপূর্বেও কয়েকবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন; সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রথমবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং সে সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছিল। বর্তমানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) রাখা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও যে কয়লা এবং গ্যাস রয়েছে সেগুলো কুক্ষিগত করার জন্য আঞ্চলিক মহাশক্তি ও বৈশ্বিক মহাশক্তি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা আয়োজন করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে সেই বিদ্যুৎ প্লান্টটি খোদ ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সময় প্রকল্পটি বাংলাদেশের রামপালেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ধরনের দেশবিরোধী প্রকল্প বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনোই করানো সম্ভব হয়নি বলেই তাকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজধানীতে গ্যাস সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কদমতলী থানা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জুরাইন এলাকায় মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, সারা দেশে যেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে এটি কৃত্রিম সংকট। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। সরকারের ভেতরে ও বাহিরে আওয়ামী দোসরদের কারণে সরকার অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বারবার সতর্ক করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে সরকারের ভেতরে এবং বাহিরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে। কিন্তু সরকার সেটি করতে পারেনি। আজকে কৃত্রিম গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি এসব কারা করছে?- ক্ষমতার মসনদে বসতে আওয়ামী দোসরদের রক্ষা করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভিনদেশী আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত থেকেও আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করায় আমরা তাকে ও বিএনপিকে নেতৃত্বে রেখে আন্দোলন করেছিলাম। সেসময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনে মিত্রদের সাথে নিয়ে নির্বাচন করবেন এবং একটি জাতীয় সরকার গঠন করবেন। ৩১দফা শুধু বিএনপির একার নয়, যুগপৎ আন্দোলনে সকল দলের সমর্থিত একটি দলিল, যার মধ্যে জুলাই সনদের অধিকাংশ কথা আছে। তাই আমরা ভেবেচিন্তে সিদ্বান্ত নিয়েছি যে, আগামীতে বিএনপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হবে এবং যুগপৎ
আন্দোলনকারী সকল দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন হবে।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আ. হাই পঞ্চায়েতের সভাপতিত্বে ও কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি আবুল বাশার এর সঞ্চালনায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত স্মরণ সভায় উপজেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, যুবদল, কেন্দ্রীয় গণফোরাম ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গণঅধিকার ও বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে সংসদে পাঠানোর দাবি জানান।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ বা এনপিএ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বিকেল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি ‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে এক বিশাল জনসমাগমে পরিণত হয়।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জনগণের সেবার পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত হয়ে পড়েছে। এনপিএ-র মূল লক্ষ্য হলো এই ক্ষমতা-কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করা।
সংগঠনটি তাদের লক্ষ্য অর্জনে আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পূর্ণ পৃথকীকরণসহ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তারা লুটপাট ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিতে ভর্তুকি, সহজ কৃষিঋণ এবং শিল্প শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় এনপিএ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পের কারণে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। নদী দখল ও দূষণ রোধ করে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে তারা। একই সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করে জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে সব প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নতুন এই রাজনৈতিক উদ্যোগটি।
এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত আলোচিত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমাজসেবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শেরপুর সদরের লছমনপুর রোজবার্গ অটো রাইস মিল মিলনায়তনে লছমনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজ সেবকসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ সময় শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন, সদর উপজেলা যুবদলের পারভেজ মিয়া, সদস্য সচিব আওয়াল সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, সুলতান আহমেদসহ আরো অনেকে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, কেউ অন্যায় করলে সে যে দলেরই হউক, রেহাই পাবে না। তবে বিনা অন্যায়ে কেউ জেলে যাবেনা, হয়রানির শিকার হবেনা। কারণ আমি যানি, একটা পরিবারের কেউ জ্বেলে গেলে সেই পরিবারের কি কষ্ট হয়। কারণ আমার বাবা মিথ্যা মামলায় তিন বছর জেলে ছিলেন। কাজেই আমি আপনাদের কাছে এটুকুই বলব আমি আপনাদের মেয়ে হিসেবে কাউকে আমি কষ্ট দিবো না৷ বিনা অপরাধে কাউকে হয়রানি হতে দেব না।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী বলেন, আমি নিজে জেলে ছিলাম, আমার চেয়ে কেউ আর এ কষ্টের কথা বেশি জানেনা। আমি আপনাদের ওয়াদা করতে পারি আমাদের দ্বারা কেউ হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তিনি বলেন, আমি কারোর কাছে কোনো অন্যায় তদবির করি নাই। অথচ আমাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধেও ভুয়া ভিডিও, অডিও বক্তব্য তৈরি করে প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এবিষয়ে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে উপস্থিত নেতাকর্মীরা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।