একদিকে নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, অন্যদিকে টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন। এর সঙ্গে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এমন বিস্তর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
দুদক জানায়, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগটি সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
ডিসি পদায়নেও টাকার খেলা
দুদক বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্ক হিসাবে সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। বিষয়টি অনুসন্ধানে যাচাই করবে দুদক।
এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগ
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
১০ কোটি ঘুসে ওয়াসার এমডি নিয়োগ
ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক। এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বিদেশে ১১ হাজার কোটি:
দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুদক। চার দেশে মোট অর্থপাচারের অভিযোগ ১১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।
বাবা-এপিএস-পিওর বিরুদ্ধেও অভিযোগ
অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়েই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
আগের অনুসন্ধানে যা ছিল
এর আগেও আসিফ মাহমুদসহ সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলা হয়। চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিমকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন বড় পরিসরে অনুসন্ধান
নতুন অভিযোগে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ-পদায়ন এবং চার দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় বিষয়টি বড় পরিসরে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য। বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০.৪০ মিনিটে একদল দুস্কৃতকারী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা করে।’
পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাসভবনটিতে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল অতর্কিত এসে হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হামলার সময় জি এম কাদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন এবং তিনি এখনও নিরাপদেই সেখানে রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ‘বৈষম্য বিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারের আড়ালে একদল লোক জি এম কাদেরের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছে। এ সময় তাদের ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ ও ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের হাতের ব্যানারে লেখা ছিল ‘শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ, জিএম কাদেরের গ্রেফতার চাই’। হামলার পর ওই এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এআইয়ের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, যা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও করেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির সরকারের বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও করেনি। এটি জামায়াতের অপরাজনীতি। চব্বিশের জুলাইয়ের পরে বাকস্বাধীনতার নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সভায় আধিপত্যবাদ থেকে জনগণকে মুক্ত করতে বিএনপির বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তি সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। দেশের জনগণকে তা রুখে দিতে হবে। এ সময় তিনি দেশের মানুষকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বিগত সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে শিক্ষাঙ্গনেও মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি রুদ্ধ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রহুল কবীর রিজভী। শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫-এর সমাপনী পর্বের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের শাসনামলে ফ্যাসিবাদের ব্যাপ্তি এতটা বিস্তৃত ছিল, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কথা বলার সুযোগ ছিল না।’
স্বৈরতান্ত্রিক আবহেও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কঠিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন কর্তৃত্ববাদী শাসনের চাপে ছিল, তখনও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরো সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।’
সমাজ ও রাষ্ট্রের বিদ্যমান বহুমুখী সংকট নিরসনে তরুণ প্রজন্মের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন রিজভী। তিনি শিক্ষার্থীদের অবাধে প্রশ্ন তোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, জানার কৌতূহল এবং যুক্তিবোধকে উৎসাহিত করা সম্ভব হলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেকোনো জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, ‘৭০০–৮০০ রিকশা তো দূরের কথা, আমার নামে একটি রিকশা আছে— প্রমাণ দিন।’এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজনৈতিক আদর্শের মোকাবিলায় আদর্শ, চরিত্র ও নৈতিকতা দিয়ে যারা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তারা যে কতটা বিকৃত রুচির, আদর্শহীন ও বিবেকবর্জিত হতে পারে, কথার শালীনতা কতটা নিম্নগামী হতে পারে, তা তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পায়। কয়েক দিন ধরে ভুয়া ফটোকার্ড এবং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রুপের পক্ষ থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ যার নিজের একটি রিকশাও নেই, তিনি নাকি ৭০০–৮০০ রিকশার মালিক! এ ধরনের প্রচারণা মানুষকে অবাক করেছে, বিস্মিত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আদর্শহীনতা, চরিত্রহীনতা, রাজনৈতিক অসহায়ত্ব ও দেউলিয়াপনার কতটা সংকটে পড়লে মানুষ এ ধরনের মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত হতে পারে, তা এই অপপ্রচার থেকেই কিছুটা উপলব্ধি করা যায়। আমি ভেবেছিলাম, আমার নামে বিভিন্ন মহলের এ ধরনের অহেতুক মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে কিছু বলবো না। কারণ এ বিষয়ে কথা বলা আমি নিজের রুচির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মনে করি না। বিষয়টি আমার রুচিতে আসে না, আমার রুচির সঙ্গে মেলে না।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অবশেষে ঢাকা সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশাসকও যখন এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে একই কথা বলতে থাকেন, তখন আর কী বলার থাকে। কিছু করার না থাকলে খই ভাজ, অবস্থা যেন এমনই! কোনও শিক্ষিত, ভদ্র ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কি এ ধরনের মিথ্যাচার করতে পারেন? তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা দেখে তাদের জন্য আমার খুব মায়া হয়। তাদের জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত।’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আবার এসব অসত্য তথ্য নিয়ে টকশোতে তথাকথিত কিছু সুশীল ব্যক্তি, যারা সরকারি দলের তেলবাজি ও চাটুকারিতার মাধ্যমে তাদের প্রিয়ভাজন হতে চান, বিভিন্ন পদ-পদবি কিংবা পদোন্নতি পাওয়ার আশায় টকশোর টেবিলে বসেন, তারাও এসব অসত্য তথ্য নিয়ে মিথ্যা গল্প ফাঁদছেন, যা মানুষের কাছে অরুচিকর ও হাস্যকর মনে হচ্ছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। সাহস থাকলে রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে, আদর্শকে আদর্শ দিয়ে এবং নৈতিকতাকে নৈতিকতা দিয়ে মোকাবিলা করুন। এত মিথ্যাচার, বক্তব্যের শালীনতার এত নিম্নগামিতা, এসব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সুন্দর রাজনীতির সম্ভাবনাকে কলঙ্কিত করা ছাড়া আর কোনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমার মনে হয় না।’
তিনি বলেন, ‘তাই যারা ফেইক আইডি ও ভুয়া ফটোকার্ড দিয়ে শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বরং অনেক সম্মানিত রাজনৈতিক নেতার নামেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মানুষের কাছে নিন্দিত হচ্ছেন এবং নিজেদের অরাজনৈতিক ও বিকৃত রুচির পরিচয় তুলে ধরছেন।’
তিনি বলেন, ‘৭০০–৮০০ রিকশার মালিক যদি আমাকে কেউ বানিয়ে দেন, তাহলে হাসি-রসিকতা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে। আমি তো বলেছি, ৭০০–৮০০টি রিকশা লাগবে না, সারা বাংলাদেশের যেকোনও জায়গায়, যেকোনও শহরে আমার নামে একটি রিকশা আছে, এমন প্রমাণও যদি কেউ দিতে পারেন, তা-ই যথেষ্ট। এত দিন ধরে এত গল্প বলা হচ্ছে, অথচ সরকারের এতগুলো সংস্থা ও বিভিন্ন বিভাগ থাকা সত্ত্বেও আমার নামে একটি রিকশারও সন্ধান দিতে পারলেন না! শুধু গল্পই বলে যাচ্ছেন। এত ভিত্তিহীন গল্প বলতে আপনাদের রুচিতে বাধে না?’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে ব্যস্ত, যারা হলুদ সাংবাদিকতা ও অসত্য প্রচারের বিরুদ্ধে সত্যনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করতে চান, তাদের এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণ গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নতুন সরকার আবারও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলে গেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কাউন্সিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সামনে স্থানীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে সরকারের বিরুদ্ধে মোক্ষম জবাব দিতে হবে। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার আহ্বানও জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক-মালিকের সুসম্পর্কের আদর্শ ইসলামে ছাড়া অন্যত্র নেই। তাই ইসলামী শাসনব্যবস্থা ছাড়া শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন। তাঁকে সচিব পদমর্যাদায় এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে গিয়াস উদ্দিন রিমনকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—গিয়াস উদ্দিন রিমন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁকে সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, তাঁরা ভারতবিরোধী নন, বরং আধিপত্যবাদের বিরোধী। বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ : দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ সভার আয়োজন করে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিভিন্ন নীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে ভারতের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তাঁরা দেখেছেন। এ কারণে তাঁদের অবস্থানকে ভারতবিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
ভারত নিয়ে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বুঝতে আবরার ফাহাদের চিন্তা ও তাঁর ‘আট স্তম্ভের’ ধারণাগুলো বোঝা প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েছিলেন। কাঠের অস্ত্রের পাশাপাশি তাইকোয়ান্দো, কারাতে ও অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তিনি। তিন বছরে ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের তুলনায় বড় কোনো কর্মসূচি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে কেউ কেউ নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পদ, মনোনয়ন বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার আশায় কোনো দেশের প্রতি অতিরিক্ত অনুগত অবস্থান তৈরি হলে তা একসময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সিকিমের উদাহরণ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, আধিপত্যবাদের কাছে রাজনৈতিকভাবে পরাজয় স্বীকার করলে এর প্রভাব রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হওয়া উচিত—বাংলাদেশ কী পাচ্ছে এবং অপর পক্ষ কী পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য চুক্তিটি লাভজনক হলে এবং বড় কোনো ঝুঁকি না থাকলে তাতে আপত্তির কারণ নেই।
ভারতের সঙ্গেও একই নীতিতে চুক্তি করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক ও দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য চুক্তি হলে তাতে আপত্তি থাকার কথা নয় বলে জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির পক্ষে তাঁরা নন, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য পক্ষকে সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও চুক্তির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এটি শুধু মুখের কথায় নয়, বাস্তব কাজেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষকসমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
মাহদী আমিন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া পড়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করে এসব বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার তা বাড়িয়ে শতাধিক করেছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে যেসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষকসমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত সরকার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে আন্তরিক থাকবে। সরকারের সক্ষমতা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। শিক্ষকসমাজই রাষ্ট্রের রূপান্তর ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষাক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তাঁর দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এমপিও ব্যবস্থা, এনটিআরসিএ, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবারের পক্ষ থেকে আবরার হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং বুয়েটে আবরারের নামে হল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা জানান, সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করতে সহযোগিতা চান তাঁর বাবা। প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তাঁর ছেলে হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি জানান, মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। পালিয়ে যাওয়া ও এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান ফাইয়াজ।
ফাইয়াজ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এর আগে আবরার ফাহাদের মতো বিভিন্ন সময়ে নিহতদেরও একটি তালিকা করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কাজ চলছে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন।
বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা কয়েকজন আসামির আপিল এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজনের লিভ টু আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে সাত বছর পরও রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। দুর্গোৎসব ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যাতে চক্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে যে, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, তাদের ১৬ বছরের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনাকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী ভারতকে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ভারতের সমর্থনে ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসব বক্তব্য রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ; সভায় এর পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়নি।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে, যাতে ভারতের কাছে এই বার্তা দেওয়া যায় যে বিএনপি সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করা হবে এবং প্রতিনিধিদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরও শুভেচ্ছা জানান। তিনি দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকা চাইলেও বিশেষ বিবেচনায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দের অর্থ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান সরকারকে শ্রমবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। বৈঠকে শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং শ্রম খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ ও শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানে এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইপিজেডের জন্য পৃথক আইনের পরিবর্তে দেশের সামগ্রিক শ্রম আইনের আওতায় এগুলোকে আনার বিষয়ে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, তাদের সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিল্পে শান্তি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই।
মাহদী আমিন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ অনুমোদন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রম প্রশাসনকে দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে সরকারের অঙ্গীকারগুলোর বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটানো হবে।
বৈঠকে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত কিংবা আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। কিন্তু এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই ছিল তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ৯০-এর রাকসু নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহ-সভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ যখন একজন বীর শহীদের বাবা নিজে থেকে এসে আমাকে ৯০-এর সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা বললেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রিজভী বলেন, আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়ন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।