দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আরও এক বছর। এর মধ্যেই বড় দলগুলোকে ঘিরে জোটবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে ছোট দলগুলো। আবার ছোট ছোট দল মিলে গঠন হচ্ছে জোট। তবে এই জোটগুলো আবার বড় দলগুলোর সঙ্গে মিশে যেতে চাইছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাধারণত প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে জোটের রাজনীতি জমে ওঠে। এর বাইরে বাম ঘরানার রাজনৈতিক দল, ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিও জোট করেছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একেকটি জোটে নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের সংখ্যাই বেশি। ভোটের বা রাজনীতির মাঠে এসব দলের তেমন কোনো প্রভাবও থাকে না।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। এই দলগুলোই কেবল নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এর বাইরে আরও প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক দল আছে যারা দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারে না। অন্য কোনো নিবন্ধিত দলের প্রতীকে অথবা স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন এই দলগুলোর প্রার্থীরা। এই দলগুলোর অনেকেই জোটবদ্ধ হচ্ছেন।
নামসর্বস্ব হোক আর যাই হোক আগামী নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূলত আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে কি না তাই নিয়েই এই প্রধান দুই দলের কাছে অন্য দলগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নিক। আর বিএনপি যদি ভোটে নাও আসে সে ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বেশির ভাগ দলকে ভোটে এনে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে। অন্যদিকে বিএনপির চাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বেশির ভাগ দলকে আন্দোলনে আনা। আর যদি এই দাবি পূরণ না হয় সে ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা, যেন নির্বাচনকে ‘একতরফা’ হিসেবে দেখানো যায়।
প্রয়াত অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান বলতেন, জোটের ক্ষেত্রে ছোট দল বা বড় দল বিষয় না। এটা সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক একটা ব্যাপার। সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ বা যারা তৃণমূল ভোটার তাদের কাছে এই সংখ্যাটা গুরুত্ব পায়। কোন জোটে কতগুলো দল আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা সাধারণ মানুষের ভাবনায় স্থান পায়। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নিজের পাল্লা ভারী করে। বড় জোট করার চেষ্টা করে।
গেল বছরের ডিসেম্বর মাসজুড়েই জোট গড়া, জোট ভেঙে আরেক জোটে যাওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের নামে বলয় তৈরির মধ্যেই রাজনীতির মাঠে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও জোট সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। দুই বড় দলের আগ্রহের মধ্যে সুযোগ বুঝে পাল্টা কৌশল নিচ্ছে ছোট দলগুলোও। কিছুদিন ধরেই ছোট দলগুলোর মধ্যে চলছে আলাদা আলাদা জোট গঠনের তোড়জোড়।
আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। জোটের বাইরে সমমনা ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা কথা বলেছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও।
বিএনপির নেতৃত্বে এই মুহূর্তে কোনো জোট নেই। তাদের ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যজোট বিলুপ্ত হয়েছে। এর পরিবর্তে দলটি যুগপৎ কর্মসূচির মাধ্যমে সমমনাদের নিয়ে অঘোষিত একটি জোট করার পথে রয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি জোটে না থাকতে জোট ভেঙে দেয়ার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জামায়াতের কারণে অন্য কয়েকটি দলের যেন যুগপতে আসতে সমস্যা না হয়। বিএনপি এজন্য ১০ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কাজ করছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ও সমমনা
ক্ষমতাসীনদের নেতৃত্বাধীন জোট ১৪-দলীয় জোট নামে পরিচিত। ১৪-দলীয় জোট বলা হলেও এই জোটে দল আছে ১২টি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত আটটি। এগুলো হলো আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মোজাফফর), জাতীয় পার্টি-জেপি ও তরীকত ফেডারেশন। বাকি চারটি গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং বাসদ (রেজাউর) নিবন্ধিত নয়।
এই জোটের বাইরে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সমমনা দল হিসেবে পরিচিত। নিবন্ধিত দল বিকল্পধারা ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং দুটি নিবন্ধিত ইসলামী দলেরও সমর্থন পাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দৈনিক বাংলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ ১৪-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সমমনা অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের সঙ্গে একমত। আবার অনেক দল আছে যাদের নীতি-আদর্শ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যায়। ফলে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো বড় অবস্থান নিয়েই আছে। তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন থাকায় অনেক জোট হচ্ছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। তবে যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে না।’
নানক বলেন, ‘আগামীতে জোট বড় হবে কি না, মহাজোট হবে কি না সেটা সময়ই বলে দেবে। এটা বলার সময় এখনো আসেনি।’
অবশ্য দলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ শক্তিও জরুরি।’ তার মতে, এ লক্ষ্যে দলীয় সভানেত্রী কাজ শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।
বিএনপি একা, তবে যুগপতে অনেকে
রাজনীতির মাঠে এই মুহূর্তে কোনো জোটে নেই বিএনপি বা বিএনপি কোনো জোটও করছে না। তবে দলটি এবার যুগপৎ আন্দোলন ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকার গঠন করতে পারলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার করার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি জোট না করলেও এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনীতিতে দলটির সঙ্গী বাড়ানোর ঘোষণা স্পষ্ট। এর ফলে বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘বদনাম’ ঘুচবে। জামায়াত থাকার কারণে যারা বিএনপির সঙ্গে আসার ব্যাপারে দোদুল্যমামনতায় ভুগত তাদের সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে থাকা সহজ হবে।
ইতিমধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ নামে ৭-দলীয় একটি জোট গঠন করা হয়েছে। অবশ্য সেখানে নিবন্ধিত দল আছে মাত্র দুটি। বাকি ৫টির নিবন্ধন নেই। সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ জোটটি এরই মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। অনিবন্ধিত ৫টি দল হলো নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ভেঙে ১২-দলীয় জোট নামে একটি জোট হয়েছে। এরাও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে। এ জোটের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) নিবন্ধন আছে। বাকি ১০টি অনিবন্ধিত।
কোনো জোটে না থাকলেও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি আগে বিএনপির জোটে থাকলেও এবার দলটি নিজের অবস্থান এখনো পরিষ্কার করেনি।
১১ দল নিয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্যজোট গঠন হয়েছে, যারা বিএনপির সঙ্গে যুগপতে থাকছে। তবে এই জোটের কোনো দলই নিবন্ধিত না।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তবে এই দলটি বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে যুগপৎ থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপির ১০ দফা দাবি ও রূপরেখার সঙ্গে ইতিমধ্যে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ৩৩টি রাজনৈতিক দল। দাবি আদায়ে তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি সব দলকেই আহ্বান জানাচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনে আসার জন্য। অনেক দল সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন করছে। তারাও যুগপতে আসুক সেটা চাই। ’
বাম ‘বিকল্প শক্তি’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বলয়ের বাইরের সমমনা দলগুলো নিয়ে আরও কয়েকটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। ৫টি দল নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি নিজেই দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, এটি এখনো আলোচনা পর্যায়ে আছে। এই জোটের তিনটি দলের নিবন্ধন আছে। এগুলো হলো গণফোরাম, সিপিবি ও বাসদ (খালেকুজ্জামান)।
ধর্মভিত্তিক দলের জোট
২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্য জোট কোনো জোটে নেই। এ দুটি দল নিবন্ধিত। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস (ইসহাক) কোনো জোটে নেই।
চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদের নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করছে।
যারা কোনো জোটে নেই
নিবন্ধিত কয়েকটি দল এখনো কোনো জোটে নেই। এগুলো হলো পিডিবি, মুসলিম লীগ, জাকের পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাপ ও এডিএম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি ৩১ দফাতেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এদেশের গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে সেটা বিএনপির ইশতেহারেও বলা আছে। গণমাধ্যমের জন্য আলাদা সংস্কার কমিশন করে সেই সমস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
ইতিমধ্যেই একটা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলোও বিএনপি পর্যালোচনা করবে।
তিনি বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) চকরিয়ায় রয়েল প্যালেস কমিউনিটি সেন্টারে চকরিয়া পেকুয়ায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে সে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। পৃথিবী এখন ডিজিটাইজ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, এই পৃথিবীতে এখন তথ্য আদানপ্রদান এতো সহজ হয়েছে মুহুর্তের মধ্যেই তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী , সুতারং সবাইকে অত্যান্ত সাবধানতার সঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে করে দেশের সম্মান সারা বিশ্বে সমুন্নত রাখা যায়।
তিনি আরো বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ করার জন্য গণমাধ্যমের ভুমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের উম্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিলো ৯১ সাল থেকে বেগম জিয়ার হাত ধরে। তখন থেকে দেশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ধারা অবারিত হয়েছে গণমাধ্যমের জন্য অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিলো গণমাধ্যম বিকশিত হয়েছিলো। কিন্তু বিগত ১৬/১৭ বছরে এদেশের গণমাধ্যম দলীয়করণ হয়েছিলো তার কারনে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হোঁচট খেয়েছিলো।
তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করা দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, আমি যেটা সাংবাদিক বন্ধুদের সমাবেশ কিংবা গণমাধ্যমের মালিকদের সমাবেশে বলে থাকি সেটা হলো সাংবাদিক বন্ধুগণ যেনো মালিকের চাকুরী না করে বিবেকের চাকুরী করে।
এতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুব উর রহমানসহ চকরিয়া পেকুয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নারগুন ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ফখরুল দলটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কেউ রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু রাজনীতির নামে দয়া করে মিথ্যা বলবেন না এবং অন্য কারো সম্পর্কে মিথ্যা কুৎসা বা গীবত গাইবেন না। বিএনপি সবসময় কাজে বিশ্বাসী এবং কারো ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় সমালোচনা করে রাজনীতি করা তাদের নীতি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত সাধারণ মা-বোনদের ভুল বোঝাচ্ছে যে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, যা কোনোভাবেই একজন প্রকৃত মুসলমানের বিশ্বাস হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়া জান্নাত পাওয়ার চাবিকাঠি হতে পারে না; জান্নাত পাওয়া নির্ভর করে মানুষের নিজ আমলের ওপর, যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। এসময় তিনি দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা এবং চরমোনাই পীর সাহেবের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে, অনেক বিশিষ্ট আলেমও মনে করেন জামায়াত কোনো প্রকৃত ইসলামী দল নয় বরং তারা ইসলামের কথা বলে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত আমিরের করা একটি বিতর্কিত পোস্টের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মা-বোনদের নিয়ে যারা অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইসলামে নারীর মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে এবং মায়ের পায়ের নিচে বেহেশত রাখা হয়েছে। যে দল অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারী সমাজকে যথাযথ সম্মান দিতে পারে না, তারা সমাজ বা দেশের কোনো কল্যাণ করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমিরের এমন আচরণে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ভোটারদের এই বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ সম্ভবত একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাতের বেলা ভোট সম্পন্ন করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার তার অবসান ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে ঠাকুরগাঁও সদর আসনের কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি এবং বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যদি ভোটাররা এবার তাকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করেন, তবে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। নিজের শেষ নির্বাচনী লড়াই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কাছে আন্তরিক সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন। মূলত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বুধবার দুপুর ১২টায় ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের বিশাল ঢল নামতে শুরু করেছে। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে সড়ক ও নৌপথে হাজার হাজার মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হচ্ছেন। ব্যানার, ফেস্টুন, রঙিন বেলুন আর ধানের শীষের প্রতীকে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ, যা সমাবেশস্থলে এক সাজ সাজ রবের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই মাঠে বড় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। লঞ্চ, ট্রলার ও বাসে করে আসা মানুষের ভিড়ে শহর ও মাঠের আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নারী কর্মীদের বসার জন্য আলাদা গ্যালারি ও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান এবং পিরোজপুর থেকে আসা মজিবর মোল্লার মতো হাজারো কর্মী গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় এই জনসভায় শামিল হয়েছেন। চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম জানান, একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা পেতেই তারা এই বিশাল জমায়েতে যোগ দিয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জনসভায় বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সমাবেশে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের বিশেষ বার্তা দেবেন তারেক রহমান। উল্লেখ্য যে, এই বিভাগের পটুয়াখালী-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পিরোজপুর ও পটুয়াখালীর কয়েকটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় জোটের শক্তি প্রদর্শনে এই সমাবেশটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার মনে করেন, তারেক রহমানের এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশের পর দীর্ঘ ১৬ বছর এই মাঠে আর কোনো বড় জনসভা হয়নি। স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন, আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে মানুষ দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে পেতে কতটা উন্মুখ হয়ে আছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সফর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের ভোটের সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে পুরো বরিশাল শহর স্লোগান আর মিছিলে মুখরিত হয়ে আছে।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে তারা সর্বসম্মত ঐকমত্য পোষণ করেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার একটি সভাস্থলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য কাজী শাহ আরেফিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য আ. এরশাদ আলম, হারুনুর রশিদ, রবিউল আলম, জসিম আহমদ, আব্দুল কাদের, আব্দুর রউফ, জাহের আলী, সার্জেন্ট জামাল, রেজাউল করিম, আলমগীর হোসেন, আলী আকবর, জাহাঙ্গীর আলম, আক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনের পরও তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবসময় সোচ্চার। এসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মকাণ্ডে। তাই তাকে তারা একজন যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব প্রার্থী হিসেবে মনে করেন।
বক্তারা আরও বলেন, অভিজ্ঞ ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বই মুরাদনগরের টেকসই উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তারা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে মাঠে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী শাহ আরেফিন বলেন, “মুরাদনগরের সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। একজন সেনা কর্মকর্তা প্রকৃত অর্থে কখনও অবসর নেন না— শৃঙ্খলা, সাহস ও দেশপ্রেম আজীবন তার সঙ্গী হয়ে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের ইতিবাচক মানসিকতা, দায়িত্ববোধ ও ঐক্য আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তারা সকলেই জনাব কায়কোবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধ মুরাদনগর গড়তে তাদের এই অবস্থান প্রশংসনীয়।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী মি. রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার।’
বিশ্লেষণে বলা হয়, এই নির্বাচন হবে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম নির্বাচন, যখন ‘জেনারেশন জেড’র আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের হত্যাযজ্ঞ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামত শুরু করবে।’
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের বিশ্লেষণের পর।
সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে লিখেছে, বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রাস্তায় ছুটে আসেন এবং বাসটি ‘কয়েক মাইল ধীর গতিতে চলছিল, যেন অপেক্ষমাণ সমর্থকেরা তাকে ভালোভাবে দেখতে পারেন।’
দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএস-এর শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না’। তিনি আরও বলেন, এখন রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার শোভা পাচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে ‘অধিকাংশ মানুষ একমত যে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্র্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে- যেমন একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বলা হয়, দলটি নির্বাচিত হলে ‘সব বাংলাদেশির জন্য সংযতভাবে শাসন করবে’ বলে দাবি করলেও, তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষণে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, দলটি নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া, এটাও স্পষ্ট নয় যে, যে দলটি আগে কখনও সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি, তারা দেশ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই সবকিছুই রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে,’ কারণ তার বিএনপি ‘জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।’
দ্য ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, বহু বছর ধরে দলটি পরিচালিত হয়েছে তার প্রয়াত মা খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এবং তার আগে এটি পরিচালনা করেছিলেন তার বাবা-বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিনবার ক্ষমতায় আসে।
সাময়িকীটি লিখেছে, তারেক রহমান বিস্তারিত না দিলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-নির্বাচিত হলে তার দল বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং আরও বেশি তরুণ বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে, যাতে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেতে পারে।
‘তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নিতে পারবেন: ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বেশ দক্ষ, বেশ বাস্তববাদী-তিনি একজন ব্যবসায়ী,’-প্রতিবেদনে বলা হয়।
দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, রহমান বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো’- তার সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি করবেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রহমানের যুক্তি-২০২৪ সালের বিপ্লব দেখিয়েছে, যেসব সরকার ‘জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি রাখে না,’ তাদের কী পরিণতি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না।’
দেশে ফেরার পর থেকে রহমান মানুষের চাওয়া অনুযায়ী অনেক কথাই বলেছেন, ‘যদিও এখনো অনেকেই ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে পছন্দ করেন-যদি অন্য পক্ষ জিতে যায়, সেই আশঙ্কায়।’
‘পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই মানুষটিকে আগের চেয়ে ভিন্ন মনে হচ্ছে,’-প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: বাসস
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর -৪ (কাপাসিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মোঃ মনির হোসেন। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সমর্থনের কথা জানান।
এনপিপি প্রার্থীকে তাদের দল থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কোন প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেইসাথে তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের উপস্থিতিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী ও ইতিহাস বিকৃত কারী একটি দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তারা তামাশা ও মুনাফিকি করছে মানুষের সাথে। তাই তিনি বিএনপির প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। কারো প্ররোচনায় নয় তিনি তার সজ্ঞানে ও সইচ্ছায় এ সমর্থন জানিয়েছেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং স্বাধীনতার সপক্ষের দল। দেশের এই ক্রান্তিকালে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশকে বাঁচাতে হলে স্বাধীনতার পক্ষের দল বিএনপিকে ভোট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই এনপিপির প্রার্থী মো. মনির হোসেন আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কাপাসিয়াবাসীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, নির্বাচন প্রচারণা কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, নির্বাচন প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, হাবিবুর রহমান প্রিন্স, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন মেম্বার, শ্রমিক দল নেতা জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি'র) কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১ নং সদস্য মানিকগঞ্জ-১ ( দৌলতপুর-ঘিওর- শিবালয়) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস.এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিন । মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ধানের শীষ। স্বাধীনতা বিরোধী জামাত নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরও বলেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্ত ও তিন লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী এ দেশীয় রাজাকার জামায়াতে ইসলামী দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
স্বাধীনতা বিরোধী জামাতে ইসলামী প্রতারণা করে মিথ্যা কথা বলে ভোট দেওয়ার পায়তারা করছে। স্বাধীনতা বিরোধী মিথ্যাবাদী জামাতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশ বিরোধী জামাতে ইসলাম ষড়যন্ত্র করছে। দেশ বিরোধীদের সাথে দলের কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছে । বিএনপির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারী জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ২ টায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়ন ও ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে কলিয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী বিশাল শোডাউন বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী জিন্নাহ কবির বক্তব্যে কথাগুলো বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো। রাস্তা ঘাট, বীজ,কালভার্ট,স্কুল কলেজ,স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি'র সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইতে হবে । আমরা সবাই ধানের শীষের কর্মী সকল বেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
কলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি এডভোকেট বুলবুল আহমেদ গোলাপ ও ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট আলেক মিয়ার যৌথ সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি গোলাম মোস্তফা মাস্টার, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপি'র কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটির সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, উপজেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন, জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা বিএনপি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান দুলাল, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস , ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উপজেলা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুল্লাহ নোমানী, উপজেলা বিএনপির নেতা আজাহারুল ইসলাম,উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবু সাঈদ মুসা, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ বেগম, কলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, ধামসুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পিন্টু, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদল সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম সালাউদ্দিন সেলিম, সদস্য সচিব আব্দুস সালাম,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার রবি উজ্জ্বল রবি, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের মোহাম্মদ রাজিব হোসেন , মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট হুমায়ুন কোভিদ এলিট, মানিকগঞ্জ কামিল মাদরাসা ছাত্রদলের সভাপতি সিনবাদ খান,সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ কলেজ ছাএদল নেতা অনিক হাসান প্রমুখ।
বরিশালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস্ পার্ক ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভাকে ঘিরে নগরজুড়ে চলছে সাজসাজ রব।
বিএনপি নেতা খন্দকার আবুল হাসান লিমন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জনসভার জন্য সুবিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বেলস্ পার্ক ময়দানে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া জানান, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান জনতার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করবেন।
তিনি আরও বলেন,দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আমাদের নেতা বরিশালে আসছেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগমন সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দলীয় সূত্র জানায়, জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক টিমও বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে। অনুষ্ঠানস্থলের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। তাই তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের বরিশাল সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা, যা জনসভাকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ভাষণ দেবেন এবং ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিভি-কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের পাঠানো এক চিঠি থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চিঠিতে কমিশন উল্লেখ করেছে যে, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বিটিভিতে প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা নির্বাচনী পরিবেশে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের জন্য স্লট বরাদ্দের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান)-এর উপবিধি (গ)-এর অনুসরণে আবেদনের ক্রম অনুযায়ী স্লট নির্ধারণ এবং প্রচারণার রেকর্ডিংয়ের সময় বিটিভি সংশ্লিষ্ট দলের সাথে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করবে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে আবেদন পাওয়া যায়নি, যার প্রেক্ষিতে বিএনপির দলীয় প্রধানকে তাদের চাহিত ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ স্লটে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছে কমিশন।
উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালানোর সুযোগ পাবেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে সারাদেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং সেই ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না।’ জামায়াত নেতাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, ‘কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।’ জামায়াতের আমিরের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, ‘পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তখন সেই অত্যাচারকে আপনারা অত্যাচার বলেননি। সেই নির্যাতনকে আপনারা নির্যাতন হিসেবেও স্বীকার করেননি। বরং তাদেরকে আপনারা সমর্থন করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন?’
রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে রিজভী বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও শেখ হাসিনা ও জামায়াত উভয় পক্ষই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে যাননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘সে সময় বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে যাননি। তিনি নয় বছর সংগ্রাম করেছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাকে বন্দি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গৃহবন্দী করা হয়েছে তারপরও তিনি তার কথার বরখেলাফ করেননি।’ রিজভী আরও বলেন যে, সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়ে এবং বর্তমানে নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই জামায়াতের আসল চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, ‘প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি তখন একজন মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, জামায়াতের আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অলি আহমেদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, অথচ অলি আহমেদ নিজেও সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো এমন দাবি করেননি এবং সবসময় নিজেকে জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
শবে বরাতের পবিত্রতা ও ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন যে, এই পবিত্র রজনী মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি সৃষ্টি করে, কিন্তু বর্তমানে একদল লোক ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ফায়দা লুটতে চাইছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রকৃত মুসলমান কখনো মিথ্যা বলতে পারে না, মুনাফেকি করতে পারে না।’ আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব ইসলামের প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হলেও ধর্মের নামে মুনাফেকি সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা বাড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন যে, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা নিয়ে সারাদেশে ‘ছি ছি’ পড়ে গেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের প্রতি অবমাননামূলক বক্তব্যের দায় এড়াতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে, কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে আসবে না। দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং ও মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তাঁর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও নব্য প্রার্থীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, কেবল মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে বা মিথ্যাচার করে প্রকৃত নেতৃত্ব অর্জন করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও কঠিন পথ অতিক্রম করে তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন, তাই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।
বক্তব্য চলাকালে মির্জা আব্বাস তাঁর সমালোচকদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, যদি কারও সাহস থাকে তবে তারা যেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে তাঁর বিরুদ্ধে জনসম্মুখে শালিস বসায়। তিনি নিজের সততা ও সাহসের ওপর দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন যে, তাঁর কলিজা ও বুকে সেই শক্তি আছে যা দিয়ে তিনি যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৫ বছর এবং তিনি কোনো চুরি-ডাকাত বা অবৈধ উপায়ে বড় হননি। ১৯৭৪ সালে একজন সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন এবং নিজে হাতে ইলেকট্রিশিয়ান ও বিল্ডিং তৈরির কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। নিজের শ্রম ও ঘাম দিয়ে তিনি তিল তিল করে আজকের এই সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো প্রার্থীদের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস একটি রূপক উদাহরণ টেনে বলেন, চুলার মুখ দিয়ে যেমন সবসময় ছাই বের হয় এবং সেখান থেকে কখনো সোনা পাওয়া সম্ভব নয়, তেমনি তাঁর বিরোধীদের মুখ থেকেও কেবল বিষোদগারই বের হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে অনেকের কাছে আলোচনায় থাকার বা গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার সহজ রাস্তা হলো মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলা। যারা প্রচারের আলোয় থাকতে চান, তাদের অন্য পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে তাঁর চরিত্র হনন করে কোনো লাভ হবে না।
ঢাকার রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, একজন মানুষও তাঁর সম্পর্কে কোনো খারাপ কথা বলতে পারবে না কারণ তিনি সবসময় নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করেছেন। নির্বাচনী মাঠে নবাগত প্রার্থীদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনসেবা ও কাজের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করতে হয়, অপপ্রচার চালিয়ে নয়। জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যারা মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মূলত নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে মির্জা আব্বাসের এই ঝাঁঝালো বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে বা কার্যত ‘ভাড়া’ করার মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানাধীন কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াত মূলত একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অতীত ইতিহাস আড়াল করতে চাইছে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এই ভণ্ডামি কখনোই মেনে নেবেন না এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাবেন।
নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বর্তমানে দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার এক নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন ইতিহাসের পাঠ দিতে চাইছে। জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা দাবি করছে যে কর্নেল অলি আহমদ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপি নেতা মন্তব্য করেন যে, যারা একাত্তরে দেশের বিরোধিতা করেছে, তাদের কাছ থেকে এমন ইতিহাস বিকৃতি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি মূলত জনগণের সঙ্গে এক ধরণের প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ নারী সমাজ নিয়ে জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থানেরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারীদের প্রতি অমর্যাদাকর মন্তব্য এবং তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব মূলত নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি গভীর পরিকল্পনা। তিনি মনে করেন, এই ধরণের নারীবিদ্বেষী বক্তব্য থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই জামায়াত এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে। দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে দৃঢ় প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে সকল অপশক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার শপথ গ্রহণ করেন। মূলত জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের কাউন্টার হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ আইনিভাবে নিষ্কণ্টক হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তার প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. কাইয়ুমের অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা রইল না বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ২ ফেব্রুয়ারি এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ড. এমএ কাইয়ুমের বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তিনি নির্বাচনী হলফনামায় সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য গোপন করেছেন। এই যুক্তিতে তার প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছিল। নাহিদ ইসলামের পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। তবে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের পূর্বের সিদ্ধান্তই বহাল রইল।
এর আগে প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১১ আসনের জন্য নাহিদ ইসলাম এবং ড. এমএ কাইয়ুম—উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছিল। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এখন আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর নির্বাচনী এলাকায় ড. কাইয়ুমের প্রচারণায় আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এই আদেশকে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী আমেজ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত।