রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র ১৪৩৩

ভোটের আগে জোট রাজনীতি

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:০২
তানভীর সোহেল
প্রকাশিত
তানভীর সোহেল
প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:০২

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আরও এক বছর। এর মধ্যেই বড় দলগুলোকে ঘিরে জোটবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে ছোট দলগুলো। আবার ছোট ছোট দল মিলে গঠন হচ্ছে জোট। তবে এই জোটগুলো আবার বড় দলগুলোর সঙ্গে মিশে যেতে চাইছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাধারণত প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে জোটের রাজনীতি জমে ওঠে। এর বাইরে বাম ঘরানার রাজনৈতিক দল, ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিও জোট করেছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একেকটি জোটে নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের সংখ্যাই বেশি। ভোটের বা রাজনীতির মাঠে এসব দলের তেমন কোনো প্রভাবও থাকে না।

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। এই দলগুলোই কেবল নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এর বাইরে আরও প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক দল আছে যারা দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারে না। অন্য কোনো নিবন্ধিত দলের প্রতীকে অথবা স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন এই দলগুলোর প্রার্থীরা। এই দলগুলোর অনেকেই জোটবদ্ধ হচ্ছেন।

নামসর্বস্ব হোক আর যাই হোক আগামী নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূলত আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে কি না তাই নিয়েই এই প্রধান দুই দলের কাছে অন্য দলগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নিক। আর বিএনপি যদি ভোটে নাও আসে সে ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বেশির ভাগ দলকে ভোটে এনে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে। অন্যদিকে বিএনপির চাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বেশির ভাগ দলকে আন্দোলনে আনা। আর যদি এই দাবি পূরণ না হয় সে ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা, যেন নির্বাচনকে ‘একতরফা’ হিসেবে দেখানো যায়।

প্রয়াত অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান বলতেন, জোটের ক্ষেত্রে ছোট দল বা বড় দল বিষয় না। এটা সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক একটা ব্যাপার। সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ বা যারা তৃণমূল ভোটার তাদের কাছে এই সংখ্যাটা গুরুত্ব পায়। কোন জোটে কতগুলো দল আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা সাধারণ মানুষের ভাবনায় স্থান পায়। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নিজের পাল্লা ভারী করে। বড় জোট করার চেষ্টা করে।

গেল বছরের ডিসেম্বর মাসজুড়েই জোট গড়া, জোট ভেঙে আরেক জোটে যাওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের নামে বলয় তৈরির মধ্যেই রাজনীতির মাঠে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও জোট সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। দুই বড় দলের আগ্রহের মধ্যে সুযোগ বুঝে পাল্টা কৌশল নিচ্ছে ছোট দলগুলোও। কিছুদিন ধরেই ছোট দলগুলোর মধ্যে চলছে আলাদা আলাদা জোট গঠনের তোড়জোড়।

আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। জোটের বাইরে সমমনা ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা কথা বলেছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও।

বিএনপির নেতৃত্বে এই মুহূর্তে কোনো জোট নেই। তাদের ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যজোট বিলুপ্ত হয়েছে। এর পরিবর্তে দলটি যুগপৎ কর্মসূচির মাধ্যমে সমমনাদের নিয়ে অঘোষিত একটি জোট করার পথে রয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি জোটে না থাকতে জোট ভেঙে দেয়ার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জামায়াতের কারণে অন্য কয়েকটি দলের যেন যুগপতে আসতে সমস্যা না হয়। বিএনপি এজন্য ১০ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ও সমমনা

ক্ষমতাসীনদের নেতৃত্বাধীন জোট ১৪-দলীয় জোট নামে পরিচিত। ১৪-দলীয় জোট বলা হলেও এই জোটে দল আছে ১২টি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত আটটি। এগুলো হলো আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মোজাফফর), জাতীয় পার্টি-জেপি ও তরীকত ফেডারেশন। বাকি চারটি গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং বাসদ (রেজাউর) নিবন্ধিত নয়।

এই জোটের বাইরে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সমমনা দল হিসেবে পরিচিত। নিবন্ধিত দল বিকল্পধারা ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং দুটি নিবন্ধিত ইসলামী দলেরও সমর্থন পাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দৈনিক বাংলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ ১৪-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সমমনা অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের সঙ্গে একমত। আবার অনেক দল আছে যাদের নীতি-আদর্শ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যায়। ফলে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো বড় অবস্থান নিয়েই আছে। তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন থাকায় অনেক জোট হচ্ছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। তবে যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে না।’

নানক বলেন, ‘আগামীতে জোট বড় হবে কি না, মহাজোট হবে কি না সেটা সময়ই বলে দেবে। এটা বলার সময় এখনো আসেনি।’

অবশ্য দলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ শক্তিও জরুরি।’ তার মতে, এ লক্ষ্যে দলীয় সভানেত্রী কাজ শুরু করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।

বিএনপি একা, তবে যুগপতে অনেকে

রাজনীতির মাঠে এই মুহূর্তে কোনো জোটে নেই বিএনপি বা বিএনপি কোনো জোটও করছে না। তবে দলটি এবার যুগপৎ আন্দোলন ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকার গঠন করতে পারলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার করার ঘোষণা দিয়েছে।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি জোট না করলেও এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনীতিতে দলটির সঙ্গী বাড়ানোর ঘোষণা স্পষ্ট। এর ফলে বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘বদনাম’ ঘুচবে। জামায়াত থাকার কারণে যারা বিএনপির সঙ্গে আসার ব্যাপারে দোদুল্যমামনতায় ভুগত তাদের সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে থাকা সহজ হবে।

ইতিমধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ নামে ৭-দলীয় একটি জোট গঠন করা হয়েছে। অবশ্য সেখানে নিবন্ধিত দল আছে মাত্র দুটি। বাকি ৫টির নিবন্ধন নেই। সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ জোটটি এরই মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। অনিবন্ধিত ৫টি দল হলো নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ভেঙে ১২-দলীয় জোট নামে একটি জোট হয়েছে। এরাও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে। এ জোটের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) নিবন্ধন আছে। বাকি ১০টি অনিবন্ধিত।

কোনো জোটে না থাকলেও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি আগে বিএনপির জোটে থাকলেও এবার দলটি নিজের অবস্থান এখনো পরিষ্কার করেনি।

১১ দল নিয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্যজোট গঠন হয়েছে, যারা বিএনপির সঙ্গে যুগপতে থাকছে। তবে এই জোটের কোনো দলই নিবন্ধিত না।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তবে এই দলটি বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে যুগপৎ থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপির ১০ দফা দাবি ও রূপরেখার সঙ্গে ইতিমধ্যে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ৩৩টি রাজনৈতিক দল। দাবি আদায়ে তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি সব দলকেই আহ্বান জানাচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনে আসার জন্য। অনেক দল সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন করছে। তারাও যুগপতে আসুক সেটা চাই। ’

বাম ‘বিকল্প শক্তি’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বলয়ের বাইরের সমমনা দলগুলো নিয়ে আরও কয়েকটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। ৫টি দল নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি নিজেই দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, এটি এখনো আলোচনা পর্যায়ে আছে। এই জোটের তিনটি দলের নিবন্ধন আছে। এগুলো হলো গণফোরাম, সিপিবি ও বাসদ (খালেকুজ্জামান)।

ধর্মভিত্তিক দলের জোট

২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্য জোট কোনো জোটে নেই। এ দুটি দল নিবন্ধিত। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস (ইসহাক) কোনো জোটে নেই।

চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদের নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

যারা কোনো জোটে নেই

নিবন্ধিত কয়েকটি দল এখনো কোনো জোটে নেই। এগুলো হলো পিডিবি, মুসলিম লীগ, জাকের পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাপ ও এডিএম।


নির্বাচিত

খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে সবসময় পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন। এই দিনে সেই নেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশকে বারবার তাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে অবস্থান তৈরি করেছে, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা সেই পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।’

বিএনপিকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ আজকের এই দিনে আমরা সবাই এই শপথ নেব, বিএনপিকে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, প্রতিটি মানুষের আশা, এই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে নীতি ছিল, তিনি যে ‘ভিশন ২০৩০’ দিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তারই দলের কর্মসূচি হিসেবে ৩১ দফা, তাকে বাস্তবায়িত করবার জন্য আগামী দিনগুলোতে কাজ করে যাবে। দলকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ্ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব এবং তার আত্মাকে শান্তি দান করেন। একইসঙ্গে আমরা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্যও দোয়া করি, মহান আল্লাহ্ তাআলা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আব্দুল মঈন খান।

মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা আবুল হোসেইন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।


নির্বাচিত

আমরা প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম: হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন— "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।"

এক. চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার ছিল যে সমাধান ইতিমধ্যেই টেবিলে আছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬–১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন।

অন্যদিকে আমি ধাপে ধাপে দেখিয়েছি কোন সিদ্ধান্তটি কোথায় ভুল হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধানধর্মী বক্তব্য রেখেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যারা। মতামত এসেছে নাগরিক সমাজ ও গবেষনা প্রতিষ্ঠান থেকেও। এসব ছাপা হয়েছে জাতীয় দৈনিকে, আলোচিত হয়েছে সেমিনারে। প্রধানমন্ত্রীর ডাউস সাইজের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও এই তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায়নি, এটি লজ্জার কথা।

দুই. মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ। এর একজনও নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি, গণতান্ত্রিক চর্চায় এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ কম আছে। প্রশ্নটা আর নীতির নয়, প্রশ্নটা এখন এই টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতার।

এনসিপির দেওয়া ৩০ দিনের জন্য ৫টি, মধ্যমেয়াদি (৬-১৮ মাস) ৬টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ৪টি সুস্পষ্ট সমাধান প্রস্তাব পড়ে নিন প্লিজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আলোচনা করতে বিরোধীদল থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার অনুরোধেও সাড়া দিন। আমরা সরকারের এমন ইগ্নোরেন্সকে খুবই হতাশার চোখে দেখি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশালাকার টিমের সক্ষমতা যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।

তিন. ছয় মাসে প্রশাসনে যে হারে দলীয় পদায়ন হয়েছে, তাতে ইনস্টিটিউশনাল মেমরি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। ফলে ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই, ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নেই। ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নতুন, অনভিজ্ঞ, এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন। মহেশখালী FSRU-তে আগুন লাগার পর রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, সেই স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনটি আজও প্রকাশিত হয়নি। নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না।

চার. আজ আমরা একটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানাচ্ছি। সরকার বলছে ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ ভারী শিল্প বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ এখনো বাস্তবায়ন করছেন না কেন? এই কাঠামোয় বেসরকারি উৎপাদক সরাসরি বড় শিল্প ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে, দর দুই পক্ষ ঠিক করে, বিইআরসি কেবল অবহিত থাকে, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে যায়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক টাকাও লাগে না। বাকি কাজ কেবল SLA ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, রকেট সায়েন্স নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি লাগে, সেটি আর নীতির প্রশ্ন থাকবে না, সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।

পুনরাবৃত্তি করছি- প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রী ও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে না। এটা হচ্ছে ‘আই হ্যাভ নো প্ল্যান’ এর টেস্টিং।

একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেয়না বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।

এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা যে, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায়, আর দেশ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে কেন পড়লো! এই রাষ্ট্র কেনো অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো?

সবশেষে, সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।


নির্বাচিত

হাসিনার জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না: আমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, যারা হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যা করে এ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, সেই ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী খুনি হাসিনার জায়গা বাংলার মাটিতে আর কোনোদিন হবে না। পলায়নকারী ফ্যাসিস্টরা কোনোদিন ফিরে আসতে পারে না। এ ধরনের নজির ইতিহাসে আর নেই। যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষিদ্ধ করেছিলেন, আগামী পার্লামেন্টে তাদের কর্মকাণ্ড আবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে। তাই এই ফ্যাসিস্টরা, খুনিরা ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যাকারীরা যেন বাংলার মাটিতে কোনোদিন ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে কেরানীগঞ্জের শিকারিটোলায় মডেল উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমান আরও বলেন, এ দেশের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান আমাদের কোনোদিন ভুলবার নয়। তার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের জন্য আপসহীনভাবে লড়াই করে গেছেন। এজন্য তাকে ‘গণতন্ত্রের মা’ বলা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মডেল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক মনির, মডেল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ রানা, জানে আলম সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়ালী উল্লাহ সেলিম, মডেল উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, আমান উল্লাহ আমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে: নুরুল হক নুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন, কুষ্টিয়ায় তার দলের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‘রগকাটা জামায়াত-শিবির তার স্বরূপে ফিরেছে!’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে নুরুল হক নুর দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলায় কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

নুরুল হক নুর পোস্টে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “জামায়াত-শিবিরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গত দেড় দশক যেভাবে গুপ্ত ছিলেন, বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা হবে।”

পোস্টে তিনি আহত এক নেতার এবং একজনের রক্তাক্ত পায়ের ছবি সংযুক্ত করেন।

তবে নুরুল হক নুরের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুস্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজা। ফাইল ছবি

আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজেকে কুষ্টিয়া সদর আসনের প্রধানমন্ত্রী বলে জাহির করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুষ্টিয়া সদর আসনের জনসাধারণের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় এভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে আমির হামজা নিজের সংসদীয় আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমিই প্রধানমন্ত্রী। বাজেটগুলো সরকার দেবে, ওটা দেবে আমির হামজার হাতে। এটা কি কোনও ফেরেশতার হাতে দেবে?

এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ফেরেশতারা কি বলে? আর মানুষ নাচে, যে উন্নয়ন কাজ করে দিয়েছে। সে কি তার বাবার টাকা নিয়ে এসে করবে? এই পাগলামিগুলো আর বিশ্বাস করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া ৩ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদারিত্ব নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে সংসদ সদস্য আমির হামজার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। তার প্রেক্ষিতেই সংসদ সদস্য আমির হামজা এমন মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক সক্ষমতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম তথা জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন চারজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নব মনোনীত সদস্যরা হলেন—দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে মনোনীত এই চার নেতা তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মেধা ও বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবেন বলে দল আশা প্রকাশ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন মনোনয়নের মাধ্যমে বিএনপির শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো, যা আগামী দিনে দল ও জনগণের পক্ষে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।


নির্বাচিত

খালেদা জিয়াই বিএনপির মূল কারিগর: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় মোনাজাত করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়াকে দলের বর্তমান ভিত্তির প্রধান রূপকার হিসেবে উল্লেখ করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা অ্যাডভোকেট আবুল হোসেইন। এসময় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত থেকে দলীয় প্রধানের কল্যাণ ও আত্মিক প্রশান্তি কামনায় অংশ নেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "খালেদা জিয়া ছিলেন অকুতোভয় গণতান্ত্রিক নেতা, যিনি তার সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন।" বেগম জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন লড়াই চালিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "দীর্ঘদিন সংগ্রাম-লড়াই করা, কোনো বিষয়ে আপস না করা, দলকে আগলে রাখা এবং নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিএনপিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বিএনপি আজ যে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক গণদল, তার মূল কারিগরই আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার আদর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের সবসময় পথ দেখায়।"

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া ও মাগফিরাত প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য, বেগম জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মসজিদে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিএনপি।


নির্বাচিত

বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে গণমুখী পরিকল্পনা জরুরি: সিপিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা এবং কার্যকর সিটি গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য, মানবিক ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘সবার জন্য বাসযোগ্য, মানবিক ও নিরাপদ ঢাকা চাই’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিবি নেতারা বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দখল-দূষণ, যানজট ও বৈষম্যের কারণে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। নগর উন্নয়নের পরিকল্পনায় মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণপরিবহন, আবাসন ও নাগরিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া ফারজানা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত নেভি কমোডর বিপন কুমার সাহা, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ এবং সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাজেদুল হক রুবেল।

বক্তারা বলেন, ‘ঢাকা শুধু প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়, কোটি মানুষের আবাসস্থল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, বায়ু ও শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট এবং খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান কমে যাওয়ায় নগরবাসীর জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিও রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।’

তারা আরও বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা তার বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা নগরের সেবা ও অবকাঠামো নিয়ে কাজ করলেও তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। ফলে একই সড়ক বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থের অপচয় ও নাগরিক ভোগান্তি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শক্তিশালী ও সমন্বিত সিটি গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে নগর পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকার বৈষম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘একদিকে গুলশান-বনানী-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় আধুনিক নাগরিক সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে বস্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসনের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। একই শহরের মানুষের জীবনযাত্রায় এমন বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। নগর উন্নয়ন সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য সমান ও ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে।’

নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালুসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণের শিকার। দখল ও ভরাটের কারণে খাল-জলাশয় সংকুচিত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।’ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী, খাল, জলাশয়, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান উদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।

গণপরিবহন বিষয়ে বক্তারা বলেন, ‘সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও নৈরাজ্যের কারণে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী হয়রানি ও বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।’ গণপরিবহনকে সিন্ডিকেটমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, অতিরিক্ত হর্ন ও উন্মুক্ত বর্জ্যের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশদূষণ বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নগর বনায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান সেমিনারের বক্তারা।


নির্বাচিত

মাঠের ‘ক্লান্তিহীন সেনাপতি’ থেকে বঙ্গভবনের পথে

* বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে প্রার্থিতা চূড়ান্ত * ছাড়লেন দলীয় মহাসচিবের পদ * ইসিতে মনোনয়ন দাখিল
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক স্রোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরে রাখা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১৬
বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক স্রোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরে রাখা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দলের প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়েছে। বেলা আড়াইটার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে, বঙ্গভবনের এই সর্বোচ্চ পদের জন্য মনোনীত হওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার নাম প্রস্তাব করলে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। নির্বাচনে তার পক্ষে প্রস্তাবক হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করায় এই পদটি শূন্য হয়, যার পর থেকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর (১৯৯১ সালের পর) আগামী ২০ আগস্ট ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে যাচ্ছে দেশ।

একযোগে শূন্য ৩ পদ: উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ঐতিহাসিক উত্তরণের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। তার প্রস্থানে একযোগে শূন্য হচ্ছে দলের মহাসচিবের পদ, সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দপ্তর এবং ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। রাজনৈতিক মহলে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কে হচ্ছেন এই তিন হেভিওয়েট পদের সম্ভাব্য উত্তরসূরি?

বিএনপির মহাসচিব পদ: ২০১১ সাল থেকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে বিএনপির চালিকাশক্তি ছিলেন মির্জা ফখরুল। তার শূন্যস্থানে দলের মহাসচিবের গুরুদায়িত্ব কে পাবেন, তা এই মুহূর্তের সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন। দীর্ঘ রাজপথের লড়াই আর ত্যাগী ভূমিকার কারণে এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জাতীয় কাউন্সিলের আগে তার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কিংবা হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও বিকল্প হিসেবে মূল আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে রদবদল: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দেশের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর এই প্রভাবশালী দপ্তরের দায়িত্ব কার কাঁধে অর্পিত হবে, তা নিয়ে সচিবালয়ের করিডোরে নানামুখী গুঞ্জন। ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে এই দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর পদের নতুন মুখ হিসেবে বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম রাজনীতিতে বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন: সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলে তার সংসদীয় আসনটি পদাধিকারবলে শূন্য হয়ে যায়। উত্তরাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী আসনে উপনির্বাচনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কে হবেন, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের সুযোগ্য কন্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও সমাজসেবক ড. শামারুহ মির্জার নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের নামও রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।

এদিকে, জাতীয় সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নাটকীয় বিপর্যয় না ঘটলে মির্জা ফখরুলই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ১৯তম ব্যক্তি এবং মেয়াদ ও সময়ক্রমের বিচারে ২৩তম রাষ্ট্রপতি। মাঠের রাজনীতির একজন ক্লান্তিহীন সেনাপতি থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার এই উত্তরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করছে।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনীতির প্রাক-কথন

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের এক সম্ভ্রান্ত এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ধমনীতে রাজনীতির রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রেই। তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন দেশভাগের আগে ও পরে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

কেবল পিতাই নন, মির্জা ফখরুলের পারিবারিক পরিমণ্ডল ছিল দেশের ইতিহাসের নানা বাঁকের সাথে যুক্ত। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দেশের একজন প্রখ্যাত আইনবিদ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ভূমিমন্ত্রী, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে স্পিকার এবং পরবর্তীতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অপর চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের ‘ডাইরেক্টোরেট অব ইয়ুথ ক্যাম্প’-এর পরিচালক হিসেবে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শিক্ষা, ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতার সোনালী দিনগুলো

পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে মির্জা ফখরুল পড়াশোনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তার ভেতরে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ষাটের দশকের সেই উত্তাল সময়ে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) সক্রিয় সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মেধা ও নেতৃত্বের কারণে তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন।

তবে ছাত্র রাজনীতি শেষে তিনি সরাসরি মূলধারার রাজনীতিতে না গিয়ে বেছে নেন আলো ছড়ানোর পেশা। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিজের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে সুনামের সাথে অধ্যাপনা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দক্ষতার সাথে কাজ করেন।

১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মির্জা ফখরুল তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করলে এবং উপপ্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে, ফখরুল পুনরায় তার প্রিয় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তরুণদের আলো ছড়াতে থাকেন।

শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজপথ: মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ

শৈশব ও কৈশোরের রাজনৈতিক চেতনা মির্জা ফখরুলকে বেশিদিন চার দেয়ালের শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখতে পারেনি। ১৯৮৬ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে চিরদিনের মতো ইস্তফা দিয়ে সরাসরি নামেন জনমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। ১৯৮৮ সালের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং তৃণমূলের মানুষের মন জয় করেন।

পরবর্তীতে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একই সাথে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান।

সংসদীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা

সংসদীয় রাজনীতির শুরুর পথটা মির্জা ফখরুলের জন্য মসৃণ ছিল না। ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবে দমে না গিয়ে তিনি মাঠের সংযোগ ধরে রাখেন। যার সুফল মেলে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তার প্রশাসনিক দক্ষতা মূল্যায়িত হয়। তিনি প্রথমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়াতে তিনি পরাজিত হলেও, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই সাথে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান এবং বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সে সময় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

সংকটে দলের কাণ্ডারি: মহাসচিব পদে আরোহন

২০০৮ সালের পর বিএনপির রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয়। আর ঠিক এই সময়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি দলের ও বিরোধী জোটের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে অত্যন্ত মার্জিত, যুক্তিপূর্ণ ও জোরালো বক্তব্য দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমাদর পান।

২০১১ সালের ২০ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুর পর এক রাজনৈতিক শূন্যতার তৈরি হয়। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া তখন মির্জা ফখরুলকে দলের ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে ঘোষণা করেন। শুরুতে এই পদায়ন নিয়ে দলে কিছুটা আলোচনা-বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, ২০১১ সালের ২১ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে পুনরায় তার ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করলে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে। দীর্ঘ পাঁচ বছর দক্ষতার সাথে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনগের পর, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

মামলা, কারাজীবন ও সহনশীলতার জীবন্ত প্রতীক

বিগত দেড়-দুই দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হয়ে উঠেছেন এক ক্লান্তিহীন লড়াকু এবং চরম সহনশীলতার প্রতীক। বিরোধী দলের শীর্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি ক্রমাগত রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের এক বিশাল অংশ কেটেছে আদালতের বারান্দায় অথবা কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে।

গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা বোমাবাজির মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ১০০টিরও বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে তার নামে। রাজপথের লড়াই পরিচালনা করতে গিয়ে তাকে অন্তত ১১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে এবং জীবনের মূল্যবান প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় কাটাতে হয়েছে কারান্তরালে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের আন্দোলনের সময় যেমন তাকে মাসের পর মাস বন্দি রাখা হয়েছে, তেমনি ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার ঠিক পরদিনই একটি পুরোনো মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়েছিল।

এমনকি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নয়াপল্টনের সমাবেশের আগে গভীর রাতে উত্তরার বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক তাকে তুলে নেওয়া কিংবা ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পরদিন ভোরে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস কারাগারে থাকার ঘটনাগুলো তার ওপর নেমে আসা ধারাবাহিক নিগ্রহেরই প্রমাণ। বয়স ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, হৃদ্‌রোগের জটিলতা এবং নানা শারীরিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও তাকে দিনের পর দিন স্যাঁতসেঁতে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। রাজপথে বহুবার টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং তার গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সকল নির্যাতন, উসকানি আর কারাবাসের পরও রাজনীতি থেকে পিছিয়ে না গিয়ে ধীরস্থির, মার্জিত ও অহিংস নীতি অবলম্বন করে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

রাজনৈতিক ঝড়-ঝাপটার মাঝে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জীবন শান্ত ও ছিমছাম। তিনি রাহাত আরা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এই দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ-ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকার একটি নামি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন।

শ্রেণিকক্ষের অর্থনীতি পড়ানোর অধ্যাপক থেকে রাজপথের তপ্ত রোদে স্লোগান দেওয়া, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে কোটি মানুষের দলের নেতৃত্ব দেওয়া—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন যেন এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান। এবার দলীয় রাজনীতি এবং মহাসচিবের পদ ছেড়ে তিনি পদার্পণ করতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে, দেশের এক নম্বর নাগরিক হিসেবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন সর্বজনগ্রাহ্য, অভিজ্ঞ এবং সহনশীল অভিভাবক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের।


নির্বাচিত

ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চায়: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ওপর দিল্লির যে আগ্রাসী আকাঙ্ক্ষা সেটা পূরণ করার জন্যই তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।’

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমান সরকার ন্যায় নিষ্ঠার উপর দাঁড়ানো সরকার। আমরা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাই তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য।’

বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ভারত শেখ হাসিনাকে আত্মীয় মনে করে। কারণ শেখ হাসিনা ভারতের মন মতো সব করতেন। এদেশের সার্বভৌমত্বকে বিক্রি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফেরাউন, নমরুদের ইতিহাস পড়েননি। তিনি নিজেকে ক্ষমতাশালী মনে করেছেন। তিনি আল্লাহর শক্তি, জনগণের শক্তিকে ভয় পাননি। সবশেষ তিনি সবশক্তির কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার ন্যায় নিষ্ঠার উপর দাঁড়ানো সরকার। বিগত দিনে যারা গুম করেছে, খুন করেছে, তাদের বিচার জনগণ দেখতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার বিচার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যিনি এত মানুষ হত্যা করেছেন, তিনি আবার প্রেস কনফারেন্স করে বলছেন ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন। রাজনীতি করবেন এটা যেন মামার বাড়ির আবদার।’

রিজভী বলেন, ‘যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, তারা তাকে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। শেখ হাসিনা জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছে।’


নির্বাচিত

আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিনে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ বুধবার (১২ আগস্ট)। দিবসটি পালন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে বনানী কবরস্থানে কোকোর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ মোনাজাত করেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। এর পাশাপাশি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁর স্মরণে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত থাকা কোকোর স্মরণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) দোয়া মাহফিলের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে।

আরাফাত রহমান কোকো ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।


নির্বাচিত

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না : রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, এ দেশের সচেতন জনগণ আর কখনোই কোনো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেবে না। বুধবার সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দেশপ্রেমকে কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারেননি বিগত সরকারের প্রধান। তাঁর মতে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শহীদ জিয়ার উত্তরসূরিদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো।” রিজভী অভিযোগ করেন যে, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হেন কোনো হীন পদক্ষেপ নেই যা গ্রহণ করেননি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, জনরোষের মুখে অগণতান্ত্রিক শক্তির পতন অনিবার্য এবং “এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।”


নির্বাচিত

ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করছে: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঙ্গা–হাঙ্গামা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঙ্গা–হাঙ্গামা শুরু করেছে। ৭১–এ পাকিস্তানিদের সাথে আঁতাত এবং পরবর্তীতর এরশাদের সাথে মিল দেশের ক্ষতি করেছে জামায়াতে ইসলামী।

৭১–এর চেতনা বুকে ছিল বলেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে এ দেশের সন্তানরা তাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনের পর থেকে একই পন্থায় ক্ষমতা ধরে রেখেছে একটি বড় দল। বর্তমানে তারা পার্শ্ববর্তী দেশেকে আকড়ে ধরে দেশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াতের উদ্দেশে করে তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে দেশের গেরিলা যুদ্ধের আস্তানা খুঁজে দিতো দলটি। তাদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, আছে শুধু দালালির ইতিহাস।


নির্বাচিত

banner close