জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ডেজনারটাসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অষ্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক, সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সর্ব ইউরোপিয়ান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বায়জীদ মীর।
এ সময় বক্তব্য দেন অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সহ-সভাপতি রুহী দাস সাহা, মিজানুর রহমান শ্যামল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ কামাল, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আহমেদ ফিরুজ, সাইফুল ইসলাম জসিম, শফিকুর রহমান বাবুল, মনোয়ার পারভেজ, মাহাবুব খান শামীম, কাঞ্চন মোল্লা, জহিরুল ইসলাম তুহিন, অস্ট্রিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রবিন মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এম. নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে জানেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলেই দেশের মানুষ ভালো থেকেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে ইতিবাচক একটি দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জানেন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে। জানেন ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকেই জীবনের জয়গান গেয়ে মানুষকে প্রাণিত করতে। তাই তো মানুষকে নিয়ে তিনি চলছেন কল্যাণ ও অগ্রগতির পথে। তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
যশোরের শার্শা উপজেলার প্রবাসী যুবক সজিব হোসেন লিবিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে ২০২১ সালে এ যুবক লিবিয়া গমন করেন। ছেলের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে সুখের মাতম। ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশে লিবিয়ার বিমান বন্দরে রওনা হওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে মরদেহ না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় দিশেহারা সজিব হোসেনের পরিবার।
নিহত সজীব হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের আইনুদ্দিনের পুত্র।
তার পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর বিষয়টি মোবাইলের কলের মাধ্যমে জানানো হলেও, এখন পর্যন্ত মরদেহ কোথায় রয়েছে, কোনো হাসপাতালে রাখা হয়েছে, অথবা দাফন সম্পন্ন হয়েছে কি না? এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের লোকজন।
নিয়তের পিতা আইনুদ্দিন জানান, আমি আট দিন আগে জানতে পেরেছি ছেলে সজিব হোসেন দেশে ফিরে আসার জন্য লিবিয়া এয়ারপোর্টে আসছিল। এয়ারপোর্টে আসার পথে দুর্ঘটনায় নিয়ত হয়েছে। তারপর থেকে আমার ছেলের খবর পাচ্ছি না। তাই সরকারের কাছে আমার দাবি আমার ছেলের লাশ যেন ফেরত পায়।
মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে এক ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী। শুক্রবার ভোরে একটি নির্মাণাধীন সাইটের গেস্টহাউসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণে ওই ভবনের অভ্যন্তরে থাকা সাতজন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। বাকি দুইজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাঁরা সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে তাজ উদ্দিন ইসলাম নামের এক যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, যাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আলাদাদপুর গ্রামে। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ২৫ বছর বয়সী তাজ উদ্দিন চার বোনের মধ্যে ছিলেন একমাত্র ভাই। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে আট মাস আগে তিনি মালদ্বীপ পাড়ি দিয়েছিলেন। দেশে তাঁর চার মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাঁর বাবা বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম এই যুবকের আকস্মিক বিদায়ে তাঁর পুরো পরিবারটি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
এই ঘটনায় তাজ উদ্দিনের সাথে নিহত হওয়া অন্য চার বাংলাদেশি হলেন মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। অন্যদিকে দগ্ধ অবস্থায় আইসিইউ ও জরুরি বিভাগে বর্তমানে লড়াই করছেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রবাসীদের গেস্টহাউসটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। মালদ্বীপে থাকা সাধারণ বাংলাদেশিদের মধ্যে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরণের তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের স্বজনদের কাছে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার ও দূতাবাস এই সংকটের মুহূর্তে প্রবাসীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং আপসহীন নেতৃত্বকে স্মরণ করে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক শোকবই খোলা হয়েছে। এই শোকবইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও গভীরভাবে প্রোথিত।
গত ১ ও ২ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত কর্মসূচিতে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। তাঁরা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তাঁর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এই উপস্থিতি প্রয়াত নেত্রীর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কূটনীতিকদের পর গত ৩ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ দলে দলে বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হন। বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রবাসী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আবেগঘন পরিবেশে বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। শোকবইয়ে স্বাক্ষরকারীরা তাঁদের অনুভূতিতে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক’, ‘গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক’ এবং ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রবাসীদের অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত নানা দুঃখ-কষ্টের মাঝেও তিনি যেভাবে দৃঢ়চিত্তে এ দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই শোকবই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং পরবর্তীতে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা মনে করেন, প্রয়াত এই নেত্রীর স্মৃতি তাঁদের হৃদয়ে চিরদিন অমলিন থাকবে এবং প্রবাসে থেকেও তাঁর প্রতি এই ঐক্যবদ্ধ শ্রদ্ধা নিবেদন মাতৃভূমির প্রতি তাঁদের গভীর আবেগী বন্ধনেরই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সফলভাবে সম্পন্ন হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের সাথে সাথে প্রবাসীদের সমৃদ্ধি-প্রবৃদ্ধি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরস, ব্যবসায়ী এবং মিডিয়া প্রফেশনালসদের এর সমন্বয়ে এক জমকালো আয়োজন। প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় সোস্যাল কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা বাংলানেক্সট এর বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজনটি ছিল ‘মাটির টানে রঙের বৈশাখ’।
পহেলা বৈশাখ সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে ‘সেভেন সিস’ পাঁচ তারকা হোটেলে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরাব খান, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আকবর আশা, প্রতিষ্ঠাতা কার্যনির্বাহী সদস্যগণ, আগত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ৫০০ ও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণ করেন।
ইভেন্টে বৈশাখী খাবার, আন্তর্জাতিক বুফে, লোকনৃত্য ও সংগীত, সম্মাননা প্রদান, সরাসরি আলাপচারিতা, মিডিয়া সংযোগসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলো এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং পরে উপস্থিত গণ্যমান্য সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন। কমিউনিটির পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ ও গণ্যমান্য সকলের উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি আরব খান, সহ-সভাপতি শেখ রায়হান আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি বাঁধন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আলী একবার আশা, সহ- সাধারণ সম্পাদক মামুন ইসলাম, কোষাদক্ষ রাসেল রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আকন্দ, সি. সহ-সভাপতি ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান, নারী বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা আফরিন ঐশী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শুভ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম শাওন।
ব্রিটেনে ব্রিটিশ বাঙালী কবি-সাহিত্যিকদের প্রাচীণতম সংগঠন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্যের ২৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন পরিচালনা পর্ষদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৬টায় পূর্বলন্ডনের বাংলাটাউনের ৩৭/সি প্রিন্সলেট স্ট্রিটে সংগঠনের অস্থায়ী অফিসে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন হয়।
সম্মেলনে নতুন কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন লেখক গবেষক মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান। কমিটির নাম ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ফারুক আহমদ। সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী নির্বাচন কমিশনার ময়নুর রহমান বাবুল ও আতাউর রহমান মিলাদ।
এর আগে সংগঠনের সভাপতি কবি ময়নুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবি এ কে এম আব্দুল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়।
নতুন কমিটিতে কবি মোহাম্মদ ইকবালকে সভাপতি, উদয় শংকর দুর্জয়কে সেক্রেটারি ও কবি টিভি উপস্থাপিকা হেনা বেগমকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। এ ছাড়া তিনজন সহসভাপতি হলেন এ কে আজাদ ছোটন, কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাংবাদিক রহমত আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক কবি এম মোশাহিদ খান এবং কবি ও আবৃত্তিকার স্মৃতি আজাদ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ নূরুন নবী আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি শামীম আহমদ, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোহিদ, মিডিয়া সেক্রেটারি কবি-সাংবাদিক জুয়েল রাজ, সাহিত্য সম্পাদক কবি সৈয়দ হেলাল সাইফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি ও সাবেক কাউন্সিলার শাহ সুহেল আমিন।
১৩ সদস্য বিশিষ্ট এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যরা হলেন, কবি ময়নুর রহমান বাবুল, কবি এ এ এম আব্দুল্লাহ, গবেষক ফারুক আহমদ, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি আবু মকসুদ, নূরুল ইসলাম,কবি কাজল রশিদ, কবি আসমা মতিন, কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি, কবি সাংবাদিক ড. আজিজুল আম্বিয়া, ফয়েজুল ইসলাম ফয়েজনূর, শামসুল হক শাহ আলম ও নূরজাহান রহমান।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফিফটি অ্যাক্টিভ ক্লাব ইউকের আয়োজনে ৫০ অ্যাক্টিভ ক্লাব চ্যারিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (২০ নভেম্বর) লন্ডনে ডেভন্স রোড স্পোর্টস সেন্টারে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে প্রতিটি খেলা তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে।
হাউজিং প্রজেক্ট চ্যারিটি টুর্নামেন্টে মোট পাঁচটি টিম অংশগ্রহণ করে এবং প্রতিটি টিমে ১০ জন করে খেলোয়াড় ছিলেন।
ফিফটি অ্যাকটিভ ক্লাব ইউকের সাধারণ সম্পাদক আনফর আলীর পরিচালনায় খেলার শুরুতে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ সালিক সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই মহান কাজ আপনাদের সবার সর্বাত্মক সহযোগিতায় সফল হবে, ইনশাআল্লাহ।’
টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন দল ও খেলায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, ক্লাবের সহ-সভাপতি দৌলত খান বাবুল, ফাহিম বিলাল, ট্রেজারার কবির চৌধুরী, স্পোর্টিং ফাউন্ডেশনের সিইও আরোজ মিয়া, স্পোর্টিং ফাউন্ডেশন ইউকের চেয়ারম্যান জাকির খান, বিজি ব্যাডমিন্টন ক্লাবের মোহাম্মদ সাদিক, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, ফিফটি অ্যাকটিভ ক্লাবের সদস্য ও ওয়ার্ল্ড ক্যারাম ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রিংকু, ক্লাবের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ উন্নয়ন সংস্থা ইউকের সভাপতি আব্দুল লতিফ নিজাম, শ্যাডওয়েল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আশিক রহমান, মোহাম্মদ আজাদ, জামাল আহমেদ খান, জাকির হোসেন ময়নুল, শামীম আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, ছালেহ আহমদ, মোহাম্মদ মোমেন।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় ভুগছেন- এমন কোনো মানুষ যদি মারা যেতে ইচ্ছা করেন তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে নিজের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারবেন। স্বেচ্ছায় মৃত্যু নিশ্চিত করাকে আইনি বৈধতা দিতে ‘এসিস্টেড ডায়িং’ নামক একটি বিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে।
এই বিল আইনে পরিণত হলে অসুস্থ মানুষ ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মারা যেতে পারবেন- ইসলাম ধর্মে যা আত্মহত্যার শামিল। তাই মুসলিম নন-মুসলিম বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এই বিলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে বাঙালিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন ।
আগামী ২৯ নভেম্বর বিলটি পার্লামেন্টে সেকেন্ড রিডিংয়ের জন্য উত্থাপন করা হবে। এই বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সর্বস্তরের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদেরকে নিজ নিজ এলাকার এমপির কাছে চিঠি লিখে বিলের বিপক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে থার্টিন রিভার ট্রাস্ট ও মুসলিম বুরিয়াল ফান্ডের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইডেন কেয়ারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিরা হুদা, থার্টিন রিভার্স ট্রাস্টের পক্ষে আবু মুমিন, মুসলিম বুরিয়াল ফান্ড ম্যানেজার ইউসুফ খান ও এমবিএফ অ্যাম্বসেডর আমিনুর চৌধুরী।
আবু মুমিন বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী খুবই অবহেলিত। অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা মা-বাবাকে দেখাশোনা করতে চায় না। তাই একজন মা কিংবা বাবা যখন দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় ভুগবেন এবং পরিবারের সদস্যরা তার পাশে থাকবে না, তখন তিনি ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মৃত্যূবরণ করতে রাজি হতে পারেন।
তিনি বলেন, এই আইন বর্তমানে কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেখে চালু আছে। কানাডায় অভিবাসী, মুসলিম, সংখ্যালুঘু কমিউনিটির মানুষই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই আইনের সুবিধা নিচ্ছে। কারণ এই শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন কারণে স্বাস্থ্য বৈষম্যের শিকার হয়। নেদারল্যান্ডসের আইনটি এখন আরও সম্প্রসারণ হচ্ছে। আগে সেখানে শুধু দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মৃত্যুবরণে আগ্রহী করা হতো, এখন অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও একই আইন প্রয়োগ হচ্ছে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তারা এবং ১২ বছর বয়সীরাও নিজ ইচ্ছায় মারা যেতে পারবেন।
আবু মুমিন আরও বলেন, ‘খুবই ভয়াবহ একটা বিষয় হচ্ছে যে, চিকিৎসকরা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো করে দিতে ওষুধ খেতে দেবে। তাই ওষুধ সেবনের পর মারা যেতে অনেক সময় লাগবে। তাছাড়া, ওষুধ সেবনের পর অনেকে মারা নাও যেতে পারে। সুতরাং তাদেরকে জীবন-মৃত্যূর মাঝামাঝি তীব্র যন্ত্রনার মধ্যদিয়ে দিন কাটাতে হবে। তাই আমরা ইসলামবিরোধী, মানবতাবিরোধী এই বিল সংসদে পাস না করতে এমিপদের প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সর্বস্তুরের
ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের তাদের স্থানীয় এমপির বরাবরে চিঠি লিখতে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে এমপি বিলের পক্ষে ভোট প্রয়োগ থেকে বিরত থাকেন।’
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যেক সরকার সিলেটবাসীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে বিগত ২২ বছরেও সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়নি। এ ছাড়া এখানে বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্স অবতরণের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং সিলেট বিভাগের প্রবাসী যাত্রীদের জিম্মি করে বিমান অত্যধিক ভাড়া নিচ্ছে। এর ফলে অনেকে প্রবাসীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বাংলাদেশে যেতে পারছেন না। ২০২০ সালে ওসমানী বিমানবন্দরে শুরু করা নতুন টার্মিনাল ভবনের কাজ আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি।
বক্তারা অনতিবিলম্বে ওসমানী বিমানবন্দরে কাতার, তুরস্ক, সাউদিয়া ও ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য এয়ারলাইনের ফ্লাইট চালুর দাবি জানান। সিলেটবাসীর এ ন্যায়সংগত দাবি না মানলে বাংলাদেশ বিমান ও সোনালী ব্যাংক বয়কটসহ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলেও সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমীপে সরাসরি ডেলিগেশন প্রেরণ ও দেশে-বিদেশে আন্দোলন জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট পত্রিকার চেয়ারম্যান শেখ মো. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কমিউনিটি নেতা কে এম আবু তাহের চৌধুরী ও মোহাম্মদ আব্দুর রবের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট গণদাবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মোস্তফা, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খান জামাল নূরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য প্রবাসী অধিকার পরিষদের সভাপতি জামান সিদ্দিকী, সাবেক মেয়র কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী, সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলার ছয়ফুল আলম, গোল্ডেন ড্রিমসের সভাপতি মিসেস কামরুন্নেছা খানম শোভা মতিন, ব্রিকলেন ট্রাস্টের সভাপতি শাহ মুনিম, সময় সম্পাদকের সাংবাদিক সাঈদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির নেতা মো. আজম আলী, কমিউনিটি নেতা শেখ ফারুক আহমদ, গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার সাঈদুজজামান সুমন, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার পরিচালক শাহ শেরওয়ান কামালী, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ফ্রান্সের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ হাবিব, সুনামগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা হাজী ফারুক মিয়া, রেনেসাঁ সাহিত্য মজলিস ইউকের সাধারণ সম্পাদক কবি শিহাবুজ্জামান কামাল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার সাবেক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক ড.আজিজুল আম্বিয়া, কমিউনিটি সংগঠক ইউসুফ জাকারিয়া খান, সাংবাদিক আমিনুর রশীদ, গহরপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল মিয়া, আব্দুস শহিদ, জমির হোসেন, কমর আলী, অ্যাডভোকেট আরিফ আহমদ, শরিফ উদ্দিন, হরোফ খান, মো. জিতু মিয়া, সৈয়দ মামুন আহমদ প্রমুখ।
ব্রিটেনের জাঁকজমকপূর্ণভাবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে উদযাপন করা হয়েছে অনলাইন চ্যানেল ইউকে বিডি টিভির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুরের সভাপতিত্বে এবং ইউকে বিডি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলমের (লিংকন) পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনের নিউহ্যাম কাউন্সিলের চেয়ার রহিমা রহমান, লন্ডন বরো অব বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার মঈন কাদরি, কেমডেন কাউন্সিলের মেয়র সামাতা খাতুন ও হারো কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলার সেলিম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন টিভি পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, রাজনীতিবিদ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সাইদুর রহমান রেনু, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মাসুদ আহমেদ, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক মেয়র জুছনা ইসলাম, কাউন্সিলার মুজিবুর রহমান জসিম, কাউন্সিলার সাম ইসলাম, কাউন্সিলার আবু তালহা চৌধুরী, জেসমিন চৌধুরী, আনসার আহমেদ উল্লাহ, সায়েদুর রহমান, মোস্তফা কামাল মিলন, হারুনুর রশিদ, সত্যব্রত দাশ স্বপন, কবি মুজিবুল হক মনি, হেনা বেগম, ড. আনিছুর রহমান, সাংবাদিক শাহ বেলাল, এম আলিম উজ্জামান, সাংবাদিক মুহিব চৌধুরী, জামাল আহমেদ খান, কবি ও সাংবাদিক আজিজুল আম্বিয়া, শেখ নুরুল ইসলাম, শাহ শাফি কাদির, আব্দুর রুউফ তালুকদার,ও আব্দুল মালিক, গিয়াস আহমেদ, ও আব্দুল বাসিরসহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইউকে বিডি টিভির কালচারাল প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর হেলেন ইসলামের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আসা সংগীত শিল্পী পাপ্পু আহমদ, সৈয়দ সুহেল ইসলাম, ইফাত আরা খানম, অসিত রায়, ইভা আহমেদ, মতিউর রহমান তাঁজসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। এ ছাড়া নৃত্য পরিবেশন করেন সুমা গঙ্গা।
ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে বাংলাদেশের সঠিক, ইতিহাস ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাময় ইতিবাচক দিক তুলে ধরার লক্ষ্যে এবং সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের প্রত্যয়ে ও এখানকার কমিউনিটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার মাধ্যমে ইউকে বিডি বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। বিদেশে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরতে ইউকে বিডি টিভি আগামীতেও আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। ইউকে বিডি টিভির আগামী দিনের অগ্রযাত্রায় ও পথ চলায় সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউকে বিডি টিভির যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও ইউকে বিডি টিভির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশ ও প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা ইস্টহ্যান্ডস, গুড থিংস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গত শনিবার ৪০টি স্মার্ট ফোন বিতরণ করা হয়। যারা বেনিফিট ও ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে আছেন এমন মানুষদের স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট একসেস নেওয়ার জন্য ন্যাশনাল ডিভাইস ব্যাংকের কাছ থেকে গুড থিংস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফোনগুলো ইষ্টহ্যান্ডস চ্যারিটি বিতরণ করেছে।
উদ্যোগটি ইস্টহ্যান্ডসের পূর্ববর্তী ফ্রি সিম কার্ড বিতরণক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতা, যা ভার্জিন মোবাইল, থ্রি মোবাইল এবং ভোডা ফোনের সহযোগিতায় করা হয়েছিল এবং স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অনেক সাড়া পেয়েছিল।
স্মার্ট ফোন পেয়ে সাফিয়া খাতুন জানান, একটি স্মার্ট ফোন কেনার সামর্থ তার ছিল না। তিনি এক ছেলেকে নিয়ে কোনোরকম জীবনযাপন করছেন। তাই এই ফোন পেয়ে তিনি আনন্দিত।
‘স্মার্ট ফোন’ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ইস্টহ্যান্ডসের ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান সাংবাদিক নবাব উদ্দিন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, ট্রাস্টি বাবলুল হক, সিইও আ স ম মাসুম, সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, ভলান্টিয়ার কোর্ডিনেটর রুমানা রাখি, মোহাম্মদ কিনু, মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, বিশ্বদীপ দাশ, ইস্টহ্যান্ডস অ্যাম্বাসেডার সাংবাদিক পলি রহমান প্রমুখ।
নবাব উদ্দিল বলেন, ‘ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি ন্যাশনাল ডাটা ব্যাংক ও গুড থিংস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পার্টনারশিপে কাজ করছে। এই লটে আমরা ফ্রি ৪০টি স্মার্ট ফোন দিয়েছি। এর আগে আমরা ন্যাশনাল ডাটা ব্যাংকের সহায়তায় ৪০ জনকে ফ্রি ইন্টারনেটসহ সিম দিয়েছি। এবং তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।’
এ ছাড়া লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ইস্টহ্যান্ডস অসাধারণ ব্যাতিক্রমী প্রজেক্ট ডেলিভারি করে। আজকের স্মার্ট ফোন ডেলিভারি অনুষ্ঠান তারই একটি উদাহরণ। আজকে যারা এসেছিলেন তাদের সবাই কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের এই স্মার্ট ফোন খুব কাজে লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্য্যকরী কমিটির এক জরুরি সভা ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সহ সভাপতি এম ফজলুর রহমান এবং যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন যথাক্রমে দফতর সম্পাদক প্রকৌ: মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরান, গীতা ও বাইবেল থেকে পাঠ করে শোনানো হয় এবং পরে বাংলাদেশর অভ্যূদয়ের সকল গনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদান, ৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য, ৩রা নভেম্বর জেল প্রকষ্ঠে নিহত জাতীয় ৪ নেতা, ২০০৪ এর ২১শে আগষ্টে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভার শুরুতে সভার সভাপতি এম ফজলুর রহমান উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সামনে জরুরী কার্য্যকরী সভার প্রেক্ষাপট তূলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'ড. সিদ্দিকুর রহমান স্বৈরাচারী কায়দায় গত ১৩ বছর দল চালিয়েছেন। তিনি গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করেন না। অনবরত মিথ্যাচার তার হাতিয়ার। আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ভেঙ্গে বিলীন করেছেন। তার স্ত্রীসহ মাত্র হাতে গোনা ৫/৭ জন লোক তার সাথে আছে। এমতাবস্থায় তিনি বর্ধিত সভার নামে শূন্যপদ পূরণের জন্যে আবার আগামীকাল সভা আহবান করেছেন। কার্য্যকরী কমিটির মেজরিটি সদস্যের অনুমোদন ছাড়া কমিটিতে কোন পদ পূরণের কোন ক্ষমতা গঠনতন্ত্র তাকে দেয়নি।'
তার 'এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা' জানিয়ে তিনি বলেন, 'অতীতেও তার এহেন পদ-বানিজ্য বৈধতা পায়নি, এবারও পাবে না। আসুন সম্মিলিতভাবে কমিটির ৯৫% সদস্যের মতামত নিয়ে আমরা একটি রেজ্যুলেশন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রেরণ করি এবং সম্মেলনের মাধ্যমে একটি নতুন কমিটির দাবি জানাই।'
পরে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বক্তৃতায় তাদের স্ব স্ব মতামত ব্যাক্ত করেন।
সভায় অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ আতিক, আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন, শেখ হাসিনা মন্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুমানা আখতার, ছাত্রলীগ নেতা শেখ মো. জুয়েল, যুবলীগ নেতা খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা মো. জাহিদ মিয়া প্রমুখ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটন ভিসায় গিয়ে ভিক্ষা করার প্রবণতা বেড়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, রমজান মাসে ভিক্ষার জন্য অনেকে আমিরাতে আসেন। এসব ‘ভুয়া’ ভিক্ষুক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যেন সহানুভূতি আদায় করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
দুটি আলাদা ঘটনায় দুবাই পুলিশ এরই মধ্যে দুই নারীকে ৬০ হাজার ও ৩০ হাজার দিরহামসহ আটক করেছে, যারা পর্যটন ভিসায় সেখানে গিয়েছেন।
ওই নারীদের মধ্যে একজন সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তার শিশু সন্তানকে ব্যবহার করছিলেন। এভাবে হাজার হাজার দিরহাম ভিক্ষা করেছেন তারা। অথচ দুই নারীই আমিরাতে যান পর্যটন ভিসায়।
দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, তারা যেসব ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করেছে তার মধ্যে ৯৯ শতাংশই ভিক্ষাকে নিজেদের পেশা হিসেবে দেখেন।
রমজান মাস শুরু হলে ভিক্ষুকদের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই বাস্তবে ভিক্ষুক নন। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ উপার্জনের জন্য তারা ভিক্ষুক সাজেন।
আমিরাতের শারজাহর পুলিশ সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসকে বেতনভুক্ত ভিক্ষুকদের সম্পর্কে অবহিত করেছে। তারা জানিয়েছে, একটি চক্র বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষকে ভিক্ষার জন্য নিয়ে আসে এবং এ জন্য প্রতি মাসে বেতন দিয়ে থাকে।
গত চার বছরে ১ হাজার ৭০১ ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। যার মধ্যে ২০২৩ সালেই এই সংখ্যা ছিল পাঁচশরও বেশি। যার অর্থ, পর্যটন ভিসায় দুবাই গিয়ে ভিক্ষা করার প্রবণতা বাড়ছে।
গত বছর পুলিশ দুই ভাই, তাদের স্ত্রী এবং এক শিশুকে আটক করেছিল। ওই পুরো পুরিবারটি পর্যটন ভিসা নিয়ে দুবাই গিয়ে একটি মসজিদের সামনে ভিক্ষা করছিলেন।
আলাদা এক ঘটনায় দুবাই পুলিশ এক ব্যক্তির কৃত্রিম অঙ্গের ভেতর তিন লাখ দিরহাম পেয়েছিল। যার পুরোটাই তিনি ভিক্ষা করে জমিয়েছিলেন। এ ছাড়া এক নারীকে দেখা গিয়েছিল তিনি মসজিদের সামনে ভিক্ষা করছেন। কয়েক হাজার দিরহাম ভিক্ষা পাওয়ার পর তিনি দামি গাড়িতে করে সেই স্থান ত্যাগ করেন।
আরব আমিরাতে ভিক্ষা করা একটি অপরাধ। যদি কেউ ভিক্ষার সময় ধরা পড়েন তাহলে তাকে ৫ হাজার দিরহাম ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর যেসব চক্র এসব কাজ করে তাদের এক লাখ দিরহাম জরিমানা করার আইন রয়েছে।
যদি কোনো ভিক্ষুককে সন্দেহজনক মনে হয় তাহলে তার সম্পর্কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আমিরাত পুলিশ।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত জাতীয় প্রেসক্লাবের বার্ষিক অনুষ্ঠানে নতুন সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাবের বিদায়ী সভাপতি আইলিন ও’রিলি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এমিলি উইলকিনসের কাছে আনুষ্ঠানিভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য এ ক্লাবের সদস্য হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে মিনিস্টার (প্রেস) ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট এমিলি উইলকিন্সকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং ক্লাব পরিচালনায় তার সাফল্য কামনা করেন।
তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মিসেস আইলিন ও’রিলিকে তার মেয়াদে ক্লাবের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং প্রেস মিনিস্টার এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন প্রেসক্লাবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মিস আইলিন ও’রিলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।