সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আমিরাতকে উড়িয়ে দিয়েও বিদায় বাংলাদেশের

নেট রানরেটের মারপ্যাঁচে বিদায় বাংলাদেশের। ছবি: আইসিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নেট রানরেটের সঙ্গে পার্থক্য এতটাই বিশাল ছিল যে, সেমিফাইনালের দেখা পেতে হলে বাংলাদেশকে আগে ব্যাট করে অন্তত ১৫৮ রান করতে হত। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৪ রানে জেতার। প্রোটিয়ারা পারেনি, জিতেছে মাত্র ১ রানে। পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরাও, ‘অসম্ভব’ সমীকরণ মেলানোর চেষ্টায় আরব আমিরাতের বিপক্ষে সুপার সিক্সের ম্যাচ শুরুর আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদশের মেয়েরা।

রান তাড়া করে কোনোভাবেই নেট রানরেটের সমীকরণ মেলানো যাবে না, করতে হবে আগে ব্যাট। অথচ টস হেরে আগে ফিল্ডিং করতে হলো দিশা বিশ্বাসের দলকে। স্বপ্নযাত্রার শেষ ওখানেই।

তবু বাংলাদেশের মেয়েরা শেষটা স্মরণীয় করে রেখেছে। আরব আমিরাতকে ৬৯ রানে আটকে রেখে ৬৫ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নেট রানরেটের মারপ্যাঁচে বিদায়, তাতে অর্জনের খাতা ধুলো জমেনি মোটেও। তাই তো জয়ের পর মাঠে উপস্থিত দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেয় মেয়েরা।

অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ‘ডার্ক হর্স’ তকমা পেয়েছিল বাংলাদেশ। সুযোগ পেয়েছিল মেয়েদের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলার। সে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে শুরু হয়েছিল দিশা-প্রত্যাশাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর শ্রীলঙ্কা-যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে অপরাজিত গ্রুপ সেরা হয়ে পৌঁছে যায় সুপার সিক্সে।

তবে এই পর্বে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বড় ধাক্কা খায় দিশা বিশ্বাসের দল। নেট রানরেটের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে হলে আজ ভাগ্যের সহায়তা আর অসম্ভব সমীকরণ মেলানোর তাড়া ছিল। তবে আমিরাতের বিপক্ষে দাপুটে জয়েও শেষরক্ষা হলো না বাংলাদেশের।


মুশফিকদের হারিয়ে বিপিএল জমিয়ে দিয়েছেন সোহানরা

রনির দারুণ ইনিংসে সহজ জয় পেয়েছে রংপুর। ছবি: সৌজন্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এবারের মৌসুমের শুরুতে পয়েন্ট টেবিলে রাজত্ব ছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স ও ফরচুন বরিশালের। শীর্ষ দুইয়ে থাকা দলটির লড়াই জমেছিল চূড়ায় ওঠার। মাঝে দুই দলের ছন্দপতনে টানা ৭ জয়ে বরিশালের সমান ১৪ পয়েন্ট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সিলেটকে আজ ৮ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে রংপুর। এতে তাদেরও ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট। কোয়ালিফায়ারের দৌড়ে সিলেট এগিয়ে থাকলেও তারা এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

মিরপুরে আগে ব্যাট করে এবারের মৌসুমে তৌহিদ হৃদয়ের পঞ্চম ও মুশফিকের দ্বিতীয় অর্ধশতকে ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭০ করে সিলেট। রান তাড়ায় নেমে রনি তালুকদারের ঝোড়ো ফিফটিতে ১২ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছে রংপুর। তাদের জয়ে জমে উঠেছে কোয়ালিফায়ারের লড়াই।

দারুণ শুরু পায় রংপুর। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫৯ রান তোলে তারা। নাঈম শেখ একপ্রান্ত ধরে খেলেন, অন্য দিকে আগ্রাসী রনি। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি তুলে রনি ফেরেন ৬৬ রানে। ভাঙে ৫৯ বলে ১০০ রানের জুটি। ৩৫ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ৩টি ছয় মারেন তিনি।

রনির আউটের পর রান বাড়ানোর চেষ্টায় নাঈম ফেরেন ৩২ বলে ৪৫ করে। দুই ওপেনার আউট হলেও বেগ পেতে হয়নি রংপুরকে। শোয়েব মালিকের ২৩ বলে অপরাজিত ৩৫ ও সোহানের ১০০ স্ট্রাইকরেটের ১৭ রানের ইনিংসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও হৃদয়। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও শেখ মেহেদীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তোলেন ২৬ রান। ইনিংসের নবম ওভারে সিলেটের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ডানহাতি এই পেসারের গুড লেংথ ডেলিভারিতে ২২ বলে ১৫ করে ফেরেন শান্ত। ভাঙে ৫০ বলে ৪৩ রানের জুটি।

চলতি বিপিএলে ছন্দে থাকলেও আজ সুবিধা করতে পারেননি জাকির হাসান। মেহেদীর লেংথ ডেলিভারিতে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে অ্যারন জোন্সের হাতে ক্যাচ দেন ৭ রানে। ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৫ রান তোলা সিলেটকে এগিয়ে নেন হৃদয় ও মুশফিক। অবিচ্ছেদ্য তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৬ বলে যোগ করেন ১১১ রান।

শুরুতে দেখেশুনে খেলা হৃদয় অর্ধশতক করেন ৪৩ বলে। এরপর রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন। সেই সঙ্গে ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। শেষ ৫ ওভারে দুজন তোলেন ৬০ রান। সেঞ্চুরির কাছে যাওয়া হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৮৫ রানে। ৫৭ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। মুশফিলের ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৫ বলের ইনিংসে ৭ চার ১ ছয়।


শাহিনের হাতে মেয়েকে তুলে দিয়ে আবেগাপ্লুত শহীদ আফ্রিদি

স্ত্রী আনশার সঙ্গে শাহিন আফ্রিদি। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৪০
ক্রীড়া ডেস্ক

দুজনেরই হালকা গোঁফ-দাঁড়ি। এক ফ্রেমে দুজনকে দেখলে বয়সের বেশ তফাৎটা খুব একটা চোখে পড়ে না! ছোট ভাই-বড় ভাই হিসেবে অনায়াসেই চালিয়ে দেয়া যায়! একজন শহীদ আফ্রিদি, আরেকজন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

২৩ বছরের ব্যবধান দুজনের মধ্যে। ১৯৯৬ শহীদ আফ্রিদির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের চার বছর পর জন্ম শাহিনের। দুই আফ্রিদিকে নিয়ে হঠাৎ করেই এসব তথ্যের অবতারণার কারন-তারা কাগজে-কলমে তারা এখন শশুর জামাই।

২২ বছর বয়সী শাহিন আফ্রিদি গতকাল বিয়ের পীঁড়িতে বসেছেন আফ্রিদি তনয়া আনশার সঙ্গে। আফ্রিদির দ্বিতীয় মেয়ে আনশা। পাকিস্তানি সাবেক অলরাউন্ডারের অন্য চার মেয়ে হলেন-আকসা আফ্রিদি, আজওয়া আফ্রিদি, আরওয়া আফ্রিদি ও আসমারা আফ্রিদি।

করাচির জাকারিয়া মসজিদে বিয়ে পড়ানো হয় আনশা-শাহিনের। এরপর ডিএইচএ গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় নব দম্পতির। পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অনেক সাবেক এবং বর্তমান তারকাই উপস্থিত ছিলেন তাদের বিয়েতে।

বাবা আফ্রিদির পরিচয় ছাপিয়ে একজন সমাজ কর্মী হিসেবেও পাকিস্তানের মানুষের কাছে পরিচিতি পেতে শুরু করেছিলেন আনশা। শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন নামে বাবার যে এনজিও আছে, সেটির কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার।

দুজনের বিয়েটা আগেই ঠিক হয়ে ছিল। গতকাল হলো সেটির বাস্তবায়ন। আরেক আফ্রিদির হাতে মেয়েকে তুলে দেয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিনিয়র আফিদি।

লিখেছেন, ‘কন্যা হলো আপনার বাগানের সুন্দরতম ফুল, কারণ তারা ফোটে মহান আশীর্বাদ নিয়ে। কন্যা হচ্ছে এমন একজন, যে আপনার সাথে হাসবে, স্বপ্ন দেখবে এবং হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে আপনাকে ভালোবাসবে। বাবা হিসেবে আমি আমার মেয়েকে শাহিন আফ্রিদির সাথে বিয়ে দিলাম। তাদের দুজনকেই অভিনন্দন।’


সাকিবদের কাছে হেরে বিপিএল থেকে তামিমদের বিদায়

খুলনাকে বিদায় করে দিল কুমিল্লা। ছবি: সৌজন্য
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫৭
ক্রীড়া প্রতিবেদক

কাগজ-কলমে যে সূক্ষ্ম সম্ভাবনাটুকু ছিল, সেটিও আর রইল না খুলনা টাইগার্সের। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের কাছে ৩৭ রানে হেরে প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে গেছে তামিম ইকবালদের। ১০ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে খুলনা। এক ম্যাচ কম খেলে তলানিতে আছে চট্টগ্রাম। আর এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ারের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে রইল বরিশাল।

মিরপুরে আগে ব্যাট করে ইফতেখার আহমেদের ফিফটি ও সাকিব আল হাসান, ফজলে মাহমুদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯৪ রান তোলে বরিশাল। রান তাড়ায় নেমে ইয়াসির আলী রাব্বির ফিফটিও এড়াতে পারেনি খুলনার হার। ১৫৭ রানে থামে তামিমদের ইনিংস।

তামিম নিজেও ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। বিশাল লক্ষ্য টপকাতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওয়াসিম জুনিয়রের বলে বোল্ড হন ১ রানে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে খুলনাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ওপেনার অ্যান্ড্রু বালবার্নি ও অধিনায়ক শাই হোপ। ১২ রানে থাকা বালবার্নিকে ফিরিয়ে ৪৪ রানের জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। পরের ওভারে সাকিবের শিকার হয়ে শূন্য রানে আউট মাহমুদুল হাসান জয়।

খুলনার সর্বশেষ ম্যাচে ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা হোপ আজ থামেন ২৪ বলে ৩৭ রানে। ৫৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে খুলনা। সেখানেই ফিকে হয়ে যায় তাদের জয়ের আশা। তবুও পঞ্চম উইকেট জুটিতে নাহিদুলকে নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন ইয়াসির। তাদের ৮১ রানের জুটি ভাঙে ২৪ করে নাহিদুল আউট হলে। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে খেলে ৩৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেন ইয়াসির।

৫টি চার ও ৩টি ছয়ে ইয়াসিরের ৩৮ বলে ৬০ রান খুলনার পরাজয়ের ব্যবধান কমায় শুধু। শেষদিকে আর কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারলে খুলনার ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানে। বরিশালের হয়ে করিম জানাত নেন ৪ উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বরিশালকে ঝড়ো শুরু এনে দিন দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও ফজলে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বিজয় ৭ বলে ১২ রান করে আউট হলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনে নামা ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখে ফজলে। তিনি ২৯ বলে ৩৯ করে আউট হলে খানিক পর ইব্রাহিম ফেরেন ২৩ বলে ২৩ করে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে অধিনায়ক সাকিব ও ইফতেখার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে খুলনার বোলারদের শাসন করেন। এই জুটিতে আসে ৩৬ বলে ৫২ রান। চলতি বিপিএলে দারুণ ব্যাট করা সাকিব ৪টি ছয় ও ১টি চারে ২১ বলে করেন ৩৬ রান। সাকিব ফিফটি না পেলেও এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন ইফতেখার। তার ৩১ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সঙ্গে করিম জানাতের ৮ বলে ১৬ রানে ৫ উইকেটে ১৯৪ করে বরিশাল।

খুলনার হয়ে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন পেসার পল ফন ম্যাকেরেন।


শেষের হিসাব নিয়ে ঢাকায় বিপিএলের শেষ পর্ব

মুশফিক-রাজিনদের সঙ্গে ইরফান। ছবি: বিসিবি
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:১০
ক্রীড়া ডেস্ক

‘না না এভাবে না, স্বাভাবিকভাবে!’ সতীর্থ মোহাম্মদ ইরফান হাঁটু গেড়ে বসতে চাইলে তাতে বাদ সাধলেন মুশফিকুর রহিম। হাসির রোল পড়ে গেল সিলেট স্ট্রাইকার্স দলে। প্রসঙ্গ যখন একই ফ্রেমে ছবি তোলা, সেখানে মজার ছলে হাঁটু গেড়ে মুশফিকের সমান হতে চাইলেন ইরফান। মুশফিক চাচ্ছিলেন উচ্চতায় দুজনের পার্থক্য পরিষ্কার করতে। পরে একই ফ্রেমে জায়গা নিলেন জাকির হাসান ও সিলেটের হেড কোচ রাজিন সালেহ। ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার ইরফানকে পেয়ে কাল মিরপুরে হামলে পড়লেন ছবি শিকারিরা।

সিলেট দলে এমন মজার উপলক্ষ স্বাভাবিক। বিপিএল পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় আছে তারা। চূড়ান্ত হয়ে গেছে প্লে-অফে খেলা। পাশাপাশি প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। তবে বাকি এখনো একটি জায়গা। এর পাশাপাশি কোন দুই দল কোয়ালিফায়ারে খেলবে আর কারা এলিমিনেটর, সেটিও নিশ্চিত হবে আজ থেকে আবার শুরু হতে যাওয়া ঢাকা পর্বে।

পয়েন্ট টেবিলে কে কোথায়

১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে সিলেট। পরের দুই ম্যাচ জিতলে কোয়ালিফায়ার খেলবে তারা। বরিশাল ও কুমিল্লা ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। তাদেরও সুযোগ আছে কোয়ালিফায়ার খেলার। আজ সন্ধ্যায় ঢাকার বিপক্ষে জিতলে প্লে-অফ নিশ্চিত হবে রংপুরের। ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া রংপুরেরও শীর্ষ দুইয়ে থেকে কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ আছে।

মাশরাফি-মিরাজের চোট

গত ৩০ জানুয়ারি খুলনার বিপক্ষে বোলিংয়ের সময় কুঁচকিতে চোট পান মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই চোট পুরোপুরি সারেনি। এ জন্য ঝুঁকি এড়াতে প্লে-অফে নিজেদের বাকি দুই ম্যাচে বিশ্রামে থাকতে পারেন সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক। এদিকে বরিশালের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাইড স্ট্রেইনের চোটে ভোগা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে আগের দুই ম্যাচের মতো আজও একাদশে দেখা যাবে না।

চলে যাচ্ছেন পাকিস্তানিরা

পিসিবির চাওয়া মেনে পিএসএলের উদ্দেশে একে একে বিপিএল ছাড়ছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। কাল গেছেন সিলেটের মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিম আর খুলনার আজম খান ও ইমাদ বাট। বরিশালে হায়দার আলী গেছেন, আজ রাতে যাবেন মোহাম্মদ ইফতেখার। ওয়াসিম জুনিয়রের যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

কুমিল্লার নাসিম শাহ ও খুশদিল শাহ পাকিস্তান গেছেন ৫ ফেব্রুয়ারি একটি চ্যারিটি ম্যাচে অংশ নিতে। ৬ ফেব্রুয়ারি ফিরে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ান, হাসান আলী ও আবরার আহমেদ একবারে বিদায় নেবেন। রংপুরের শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ নেওয়াজ, হারিস রউফদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিষয়:

বাংলাদেশে আসার আগে আগুনে-গরম আর্চার

পরশু ৬ উইকেট নিয়েছেন আর্চার। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৯
ক্রীড়া ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বার্লি হীরার খনির জন্য বিখ্যাত। শহরটার হীরা খননের ইতিহাসও শতবর্ষ পুরোনো। হীরার শহরেই নিজেদের পুরোনো হীরার ঝলক নতুন করে দেখতে পেল ইংল্যান্ড।

প্রায় দুই বছর পর চোট-জরামুক্ত হয়ে মাঠে ফিরেছেন জফরা আর্চার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ছিল তার ফেরার মঞ্চ। কী রাজকীয় হলো বার্বাডোজে জন্ম নেয়া ইংল্যান্ডের ২৭ বছর বয়সী ফাস্ট বোলারের। সিরিজের শেষ ম্যাচে পরশু ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন আর্চার- মাত্র ৪০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ম্যালান-বাটলারের সেঞ্চুরির পর আর্চারের এমন আগুনে গরম বোলিংয়ে পরশু স্বাগতিকদের ৫৯ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড, বেঁচেছে ধবলধোলাই হওয়ার হাত থেকে।

চোট কাটিয়ে ফেরার পর ছন্দ পেতে পেসারদের কিছুটা সময় লাগে, এটা সর্বজনবিদিত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আর্চার যখন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে বোলিং করলেন (১০-০-৮১-১), তখন মনে হচ্ছিল, সময় আরও লাগবে। এক দিনের ব্যবধানে আবার মাঠে নামিয়ে তাকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত হবে না, দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে খেলানোই হলো না।

তৃতীয় ম্যাচে ফিরলেন আর্চার, ইংল্যান্ড এর মধ্যে সিরিজ হেরে গেছে। তার বোলিং অ্যাকশন, গতি আর পিচে পড়ার পর বলের ‘ক্যারি’ মিলিয়ে আর্চারের বোলিং সময়ের ক্রিকেটে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি। ধবলধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বল হাতে শুরু থেকে ত্রাসও ছড়িয়েছেন আর্চার। ১২তম ওভারে রাসি ফন দার দুসেনকে ফিরিয়ে শুরু, এরপর একে একে তার গতির সামনে অসহায় বিদায় মার্করাম, মিলার, ক্লাসেন, পারনেল এবং শামসির।

দীর্ঘ সময় চোট নিয়ে মাঠের বাইরে থাকলেও আর্চারের গতি বা লাইন-লেংথে কোনো হেরফের হয়নি। সিরিজের দুই ম্যাচেই নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটার গতির আশপাশে বোলিং করেছেন, তার নিখুঁত লাইন-লেংথ নাভিশ্বাস তুলেছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের।

তা আর্চারের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনুভূতি এখন কেমন হবে, সেটা অবশ্য সরলভাবে বলা যাচ্ছে না। ইংল্যান্ডের পরের সিরিজ যে বাংলাদেশে, আর গতকাল ঘোষিত সে সিরিজের দলে আর্চার আছেন।

এই প্রথম

ওয়ানডেতে প্রথমবার ৫ বা তার বেশি উইকেট পেলেন জফরা আর্চার।

সামনে দুজন

আর্চারের ৬/৪০ ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় সেরা বোলিং। এর চেয়ে ভালো বোলিং ফিগার আছে শুধু রিস টপলি (৬/২৪) আর পল কলিংউডের (৬/৩১)।

ছয়ে ছয়

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে ম্যাচে ৬ উইকেট পাওয়া ষষ্ঠ বোলার আর্চার।

আকরামকে ছাড়িয়ে…

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডেতে কোনো সফরকারী বোলারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান এখন আর্চারের। এতদিন রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াসিম আকরামের, ১৯৯৩ সালে তিনি ১৬ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।

তারা খুশি

‘জফরা (আর্চার) অসাধারণ বোলিং করেছে। যখনই ওর হাতে বল তুলে দিই উইকেটের জন্য, ও উইকেট এনে দেয়’ - জস বাটলার, ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

‘আর্চারকে আবারও খেলতে এবং দারুণ বোলিং করতে দেখে ভালো লাগছে’ - গ্যারি লিনেকার, সাবেক ইংলিশ ফুটবলার।

‘ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটা দেখতে পারিনি। তবে যত প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে ফিরেছে আর্চার সে জন্য আমি খুশি। ৬-৪০’ - ইয়ান বিশপ, ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার।


বাটলার-মঈনদের নিয়ে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড

আর্চার, বাটলারদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দল নিয়েই বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৩
ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে ইংল্যান্ড। তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে তাদের ঢাকায় আসার কথা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। ১ মার্চ প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু মাঠের লড়াই। বাংলাদেশ সফরে আসার আগে আজ দুই ফরম্যাটের জন্য ১৫ সদস্যের আলাদা দুটি দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

দল ঘোষণার আগে গুঞ্জন ছিল, পাকিস্তান সুপার লিগের কারণে একাধিক তারকা ক্রিকেটারকে পাবে না ইংল্যান্ড। তবে আজ জস বাটলারের নেতৃত্ব ঘোষিত দলে তারকা ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই-ই আছেন। অ্যালেক্স হেলস, স্যাম বিলিংসরা না থাকলেও বাংলাদেশে আসছেন মঈন আলী, ডাভিড ম্যালান, জফরা আর্চার, স্যাম কারেন, আদিল রশিদ, ক্রিস ওকস, মার্ক উডের মতো অভিজ্ঞরা।

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দল

জস বাটলার (অধিনায়ক), টম অ্যাবেল, রেহান আহমেদ, মঈন আলী, জফরা আর্চার, স্যাম কারেন, সাকিব মাহমুদ, ডাভিড ম্যালান, আদিল রশিদ, জেসন রয়, ফিল সল্ট, রিস টপলি, জেমস ভিনস, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।

ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দল

জস বাটলার (অধিনায়ক), টম অ্যাবেল, রেহান আহমেদ, মঈন আলী, জফরা আর্চার, স্যাম কারেন, বেন ডাকেট, উইল জ্যাকস, ক্রিস জর্ডান, ডাভিড ম্যালান, আদিল রশিদ, ফিল সল্ট, রিস টপলি, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।


বিপিএল প্লে অফে পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস থাকবে তো?

সৌম্য আউট কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল ৭ জানুয়ারি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০২
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আবার ঢাকায় ফিরছে আগামীকাল। মিরপুরেই হবে টুর্নামেন্টের বাকি ১৪ ম্যাচ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে প্লে অফ পর্ব। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্লে অফ পর্বের চার ম্যাচে বিপিএলে দেখা যাবে পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। আসলেই কি তাই?

প্লে অফ পর্বে পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস থাকবে, জানতে চাওয়া হয়েছিল বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেলের সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি দৈনিক বাংলাকে যা জানালেন, তার অর্থ প্লে অফেও হয়তো থাকবে না পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস।

শেখ সোহেল বলেন, ‘এখন তো অল্পকিছু খেলাই বাকি আছে। যেহেতু কোনো সমস্যা হচ্ছে না আর নিয়ে আসা সম্ভব না- এজন্য যা আছে সেটাই আমরা ব্যবহার করতে চাই।’

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক অবশ্য সরাসরি ‘না’ বললেন না, ‘প্লে অফে ডিআরএস আসার কথা। এখন পর্যন্ত আমাদের যে কথাবার্তা তাতে ডিআরএস আসবে। আমরা প্লে অফ শুরুর আগে সিদ্ধান্ত নেব।’

ওদিকে শেখ সোহেল বলছেন এডিআরএসের সাফল্যই ডিআরএসের থাকা না থাকা নিয়ে অতটা চিন্তিত করছে না তাকে, ‘ডিআরএসের বিকল্প যেটা আছে সেটা নিয়ে এখনো কোনো বিতর্ক হয়নি। এডিআরএস নিয়ে আমরা সফলভাবে খেলা পরিচালনা করছি। আমরা যা চিন্তা করেছিলাম এবার বিপিএল তার থেকে জনপ্রিয়।’

২০২২ সালের মতো এবারও পূর্ণাঙ্গ ডিআরএসের পরিবর্তে বিকল্প ডিআরএস অর্থাৎ এডিআরএস নিয়ে বিপিএল শুরু কেরেছে বিসিবি। গতবার প্লে অফ পর্বে পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস আনলেও এবার সেটাও না হওয়ার সম্ভাবনা কেন- এর ব্যাখায় শেখ সোহেল বলেন, ‘এই মৌসুমে আর কয়েকটা দিনই তো আছে। খেলা তো চলে যাচ্ছে। এটা কিন্তু কোনো বিতর্ক তৈরি করছে না।’

বিতর্ক হয়নি?

৭ জানুয়ারি ঢাকা ডমিনেটর্সের সৌম্যকে নটআউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার। এ নিয়ে তর্ক করেন খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক ইয়াসির আলী ও ওপেনার তামিম ইকবাল।

১০ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে তৃতীয় আম্পায়ার আউট দিলে সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি এনামুল হক বিজয়।

১৪ জানুয়ারি লেগ স্টাম্পের প্রায় বাইরে পড়া বলে জাকের আলীকে এলবিডব্লিউ দেয়া হলেও তৃতীয় আম্পায়ার সে সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

সংশ্লিষ্টরা কে কী বলেছেন

৭ জানুয়ারি: ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নিশ্চিত নই এটি আসলে রিভিউ সিস্টেম কিনা। কারণ এতে হক আই বা অন্যান্য পরিপূর্ণ প্রযুক্তি নেই। এখন বিষয়টি এমনই। যেভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে এটি স্বচ্ছতার চেয়ে সংশয় বেশি আনবে’ – পল ফন ম্যাকেরেন, খুলনা টাইগার্স পেসার

১০ জানুয়ারি: ‘ডিআরএস না থাকাই ভালো। আম্পায়াররাও মাঠে অনেক বেশি চাপে পড়ে যাচ্ছে। সঠিক উপায়ে থাকলে তাদের জন্যও সুবিধা হয়’ – নুরুল হাসান সোহান, রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক

১৪ জানুয়ারি: ‘ডিআরএস থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। আম্পায়ার যা দেবে, সেটা দিয়ে দেয়াই ভালো’ – মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, কুমিল্লা ভিক্টোরিনাস কোচ

১৫ জানুয়ারি: ‘সত্যি কথা বলতে এডিআরএস সমস্যা তৈরি করছে। যদি আমার পছন্দের কথা বলেন, এডিআরএস না রেখে আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে দেব। এটা আসলে ব্যাটার ও বোলার দুজনের ক্ষেত্রেই সংশয় তৈরি করে। আম্পায়ারদেরই বিচার করতে দেয়া দরকার’ – ওয়াহাব রিয়াজ, খুলনা টাইগার্স পেসার

প্লে অফে ডিআরএস নিয়ে বোর্ডের পূর্ব বক্তব্য

৩১ ডিসেম্বর: ‘এই সময় সারা বিশ্বে খেলা হচ্ছে, হক-আই এভেইএবল না। দুটা কোম্পানি এভেইলএবল থাকে। হক আই যেহেতু দ্বিপক্ষীয় সিরিজে আগে কমিটমেন্ট থাকে, সে কারণে আমরা ফুল ডিআরএস এলিমিনেটর ও ফাইনালে পাব’ - ইসমাইল হায়দার মল্লিক, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব

৫ জানুয়ারি: ‘এখানে টাকার বিষয় ছিল না। আমাদের মাথায় যখন এসেছে, আমরা সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইসিসির কমার্শিয়াল হেডের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, তার সঙ্গে ডিআরএসের ভালো সম্পর্ক। আমি অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা এ সময় বুক অ্যান্ড লক। যেটা আমাদের সীমাবদ্ধতার বাইরে চলে গেছে’ – নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, বিসিবির প্রধান নির্বাহী

ডিআরএস প্রাপ্তির বাস্তবতা

বিপিএল শুরুর আগেই আলোচনায় ছিল ডিআরএস। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকে পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস রাখতে না পারার দায় স্বীকার করে বিসিবি ব্যাখ্যায় একই সময় একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলার যুক্তি দেখিয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাহী বলেছিলেন, ‘এখানে যন্ত্র আছে, কিন্তু পরিচালনার লোক নেই। যে কোম্পানি এ প্রযুক্তির সাপোর্ট দেবে, সে কোম্পানির যথেষ্ট জনবল দেয়ার মতো নেই।’

এদিকে বিপিএলের প্লে অফ শুরু ১২ ফেব্রুয়ারি, ফাইনাল হবে ১৬ ফব্রুয়ারি। এই সময় দুটি আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আছে। ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এসএ২০’, ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি২০। পাকিস্তান সুপার লিগ ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। এই সূচি জটের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল ঢাকায় পা রাখতে পারবেন তো!

বিষয়:

কেন হাথুরুকেই ফিরিয়ে আনল বাংলাদেশ?

হাথুরুসিংহে আবার বাংলাদেশের কোচ। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ কে হবেন– এ নিয়ে আগ্রহটা বাড়ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। কাল তার সুরাহা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশে ফিরছেন তিনি।

৫৪ বছর বয়সী এই লঙ্কান তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব নিতে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসবেন। কাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির আগেই অবশ্য প্রধান কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের নাম জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তিনি ছাড়া উপায় ছিল না

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব ছাড়েন ডমিঙ্গো। এরপর নতুন কোচের তালিকায় শোনা গেছে ল্যান্স ক্লুজনার, মাইক হাসি, গ্যারি কারস্টেনের নাম। ক্লুজনার-হাসি দুজনই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে নিজের একাডেমি নিয়ে আছেন কারস্টেন। তাদের পূর্ণকালীন না পাওয়ায় হাথুরুসিংহে ছাড়া উপায় ছিল না বিসিবির।

পাপন বলেন, ‘উঁচুমানের কোচ যাদের চাচ্ছি, এমনকি মধ্য পর্যায়েরও যদি খুঁজতে যাই; তারা এতদিন একটানা থাকতে পারবে না, ওরা দিনের হিসাব খোঁজে। দেড় শ দিন, ২০০ দিন, ২০০-এর ওপরে যায় না কেউ। হাথুরুসিংহের এসব কিছু নেই।

কবে পাকা হলো কথা

ডমিঙ্গো হেড কোচের দায়িত্ব ছাড়ার আগেই হাথুরুসিংহের সঙ্গে পাকা কথা সেরে ফেলে বিসিবি। গত নভেম্বরে যখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ চলে, তখইন চূড়ান্ত হয়েছে বিসিবি-হাথুরুর চুক্তি। পাপন কাল জানালেন, আমরা যখন অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপে যাই, তখন তার সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে।

শ্রীরামের কী হবে

আলোচনা চলছিল জাতীয় দলের জন্য দুজন কোচ নেবে বিসিবি। একজন সামলাবেন টেস্ট ও ওয়ানডে দল, আরেকজন টি-টোয়েন্টি। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে শ্রীধরন শ্রীরামের নাম বেশ জোরেশোরেই উচ্চারণ হচ্ছিল। তবে হাথুরুকে দেয়া হয়েছে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব। তাহলে শ্রীরাম?

পাপন এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি, ‘শ্রীরামের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হাথুরুসিংহের আগে থেকে আমরা আরও ২ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাইকে যে একই দায়িত্বে তা না। ২৪-২৫ তারিখের দিকে আরেকজনের নাম জানাতে পারব। আমরা মূলত অপারেশন্স ম্যানেজার হিসেবে কাউকে খুঁজছি।’

শ্রীরাম যা বলেন

বিপিএল চলাকালীন বাংলাদেশে এসেছিলেন শ্রীধরন শ্রীরাম। তখন শোনা গিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের সফলতার বিচারে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পাচ্ছেন এই ভারতীয়। কাল দৈনিক বাংলার সঙ্গে আলাপকালে শ্রীরাম অবশ্য জানিয়েছেন, ‘এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। সব ঠিক থাকলে আসব।’ তবে কি অপারেশন্স ম্যানেজার হিসেবেই দেখা যাবে শ্রীরামকে?

সাকিবদের সম্মতিতেই

প্রধান কোচের নিয়োগের ব্যাপারে ক্রিকেটাররা জানতেন না বলে জানিয়েছেন পাপন। তবে ব্যতিক্রম মাশফারি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। তাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাপন, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলিনি।... তবে মাশরাফির সঙ্গে দেড় বছর আগে কথা হয়েছিল। তামিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। সাকিবের সঙ্গেও বোধহয় বলেছিলাম। তিনজনই বলেছে, ও এলেই সবচেয়ে ভালো হয়।’

সামনে কী আছে

আগামী দুই বছরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

- জুলাই ২০২৩ এশিয়া কাপ (ওয়ানডে)

- অক্টোবর-নভেম্বর ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ

- জুন ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

যত চ্যালেঞ্জ অপেক্ষায়

> তার প্রথম মেয়াদে অধিনায়ক মাশরাফি আগলে রেখেছিলেন দলকে, এবার তিন ফরম্যাটে দুই ভিন্ন অধিনায়কের চ্যালেঞ্জ।

> অভিজ্ঞরা ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছেন, তাই তরুণ একটা দল পাচ্ছেন হাথুরুসিংহে।

> হাথুরুর আগের মেয়াদেই সর্বশেষ ভালো একটি পেস আক্রমণ দেখেছিল বাংলাদেশ। বর্তমান পেস আক্রমণও আশাজাগানিয়া, তবে এখনো অনভিজ্ঞ।

> তার আগের মেয়াদের তুলনায় এখন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অবনতি চোখে পড়ার মতো।

> স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশের আশানুরূপ উন্নতি নেই। স্পিন আক্রমণ বলতে এখনো সাকিব-মিরাজ-তাইজুল।

হাথুরুর লিংকডইন ঘুরে

২০১৩–২০১৪ হেড কোচ, সিডনি থান্ডার

০৬/২০১১–০৬/২০১৪ সহকারী কোচ, ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস

০৬/২০১৪–১০/২০১৭ হেড কোচ, বাংলাদেশ জাতীয় দল

০১/২০১৮–০৮/২০১৯ হেড কোচ, শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল

০৩/২০১১–০৭/২০২০ হেড কোচ, একাডেমি (তার নিজের একাডেমি)

১১/২০২০–০১/২০২৩ সহকারী কোচ (ব্যাটিং), সিডনি থান্ডার

০৭/২০২০–০১/২০২৩ সহকারী কোচ (ব্যাটিং), নিউ সাউথ ওয়েলস

০২/২০২৩- হেড কোচ, বাংলাদেশ জাতীয় দল

তার অধীনে বাংলাদেশ

ম্যাচ জয় হার জয়ের হার

টেস্ট ২১ ৬ ১১ ২৮.৫৭%

ওয়ানডে ৫১ ২৫ ২৩ ৪৯.০১%

টি-টোয়েন্টি ২৯ ১০ ১৯ ৩৪.৪৮%

দলের সাফল্য-ব্যর্থতা

- ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল

- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সব ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্বে বাদ

- এশিয়া কাপ ফাইনাল

- চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বাংলাদেশের প্রথম সেমিফাইনাল

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ

সিরিজ ৩১

জয় ৮

ড্র ৭

তার প্রথম দফায় ছাত্ররা

ব্যাটিং

টেস্ট

রান ব্যাটসম্যান গড়

১৬১৭ তামিম ৪৩.৭০

১৩৪৩ মুশফিক ৪০.৬৯

১৩১৬ সাকিব ৪৫.৩৭

ওয়ানডে

রান ব্যাটসম্যান গড়

২০৬৪ তামিম ৪৫.৮৬

১৭৯৬ মুশফিক ৪৪.৯০

১৩৫৩ মাহমুদউল্লাহ ৩৮.৬৫

টি-টোয়েন্টি

রান ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকরেট

৬৯৫ সাব্বির ১২৫.২২

৫৩৪ সৌম্য ১২৮.০৫

৫১১ তামিম ১৩০.৩৫

বোলিং

টেস্ট

উইকেট বোলার গড়

৬৬ সাকিব ৩০.৪৮

৫৪ তাইজুল ৩৬.৭৭

৪৩ মিরাজ ৩৭.০৯

ওয়ানডে

উইকেট বোলার গড়

৬৭ মাশরাফি ৩০.৮২

৬১ সাকিব ৩০.৯১

৪৫ তাসকিন ৩১.১৩

টি-টোয়েন্টি

উইকেট বোলার ইকোনমি

২৯ সাকিব ৭.২২

২৭ আল-আমিন ৭.৫০

২৭ মোস্তাফিজ ৬.১৬

তখন কেন চলে গিয়েছিলেন...

বাংলাদেশের সঙ্গে তার চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত, কিন্তু ২০১৭ সালের নভেম্বরেই হাথুরুসিংহে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের দায়িত্বে আর থাকতে চান না।

কেন, সে নিয়ে তখন অনেক কথাই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ছিল বাতাসে ভাসা গুঞ্জন বা বলা যায় গুঞ্জন ছাপিয়ে ‘আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়া’ বাস্তব, আর কিছু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

যে গুঞ্জন বাস্তব হলেও কখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার নয়, তেমন গুঞ্জন ছিল মাশরাফি-সাকিবসহ দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেকের সঙ্গে হাথুরুর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এমনই যে, হাথুরুর ‘সর্বশেষ অ্যাসাইনমেন্ট’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যে বাংলাদেশের ভরাডুবি হয়েছিল, সে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিবের না যাওয়ার একটা বড় কারণ- হয়তো একমাত্র কারণও- ছিল হাথুরুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে, টেস্ট-ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সিরিজে তো বাজেভাবে হেরেছেই, এমনকি টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র করলেও ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ।

এসবের বাইরে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে তখন জানা গিয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথেই বিসিবি সভাপতির কাছে তখন পদত্যাগপত্র দিয়ে রেখেছিলেন হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার প্রস্তাবও তার এক বছর আগে থেকেই হাথুরুর হাতে ছিল বলে তখন জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি।


তামিম-হোপের ঝড়ের পর রিজওয়ান-চার্লসের তাণ্ডব

চার্লসের সেঞ্চুরিতে জয় কুমিল্লার। ছবি: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সি্লেট পর্বের শেষ দিনের শেষ ম্যাচে আজ ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন খুলনা টাইগার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ব্যাটসম্যানরা। শতকের খুব কাছে কাছে গিয়েও পারেননি তামিম ইকবাল ও শাই হোপ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে আক্ষেপে পোড়েননি জনসর্ন চালস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৫৬ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থেকে কুমিল্লাকে ম্যাচ জেতান তিনি।

তামিম-হোপের ব্যাটে ২১০ রান করেও ম্যাচ জিততে পারল না খুলনা। ৭ উইকেট ও ১০ বল হাতে রেখেই জয় পায় কুমিল্লা। এই জয়ে ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট কুমিল্লার। সমান ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট খুলনার। প্লে-অফের সম্ভাবনা প্রায় শেষ দলটির। রংপুর রাইডার্স নিজেদের বাকি ৪ ম্যাচের একটি জিতলেই বাদ খুলনা।

পাহাড়সম রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই হাতে চোট পেয়ে উঠে যান কুমিল্লার ওপেনার লিটন দাস। শফিকুল ইসলামের বাড়তি বাউন্সে চোট পাওয়া লিটন ফেরেন ৪ রানে। অধিনায়ক ইমরুল কায়েস শফিকুলের বলেই আউট হন ৫ রান করে। এরপর চার্লসকে নিয়ে তাণ্ডব চালান রিজয়ান, গড়েন ১২২ রানের জুটি। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। ৩৯ বলে ৭৩ রানে রিজওয়ান ফিরলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর হাত খোলেন চার্লস। অর্ধশতক করতে ৩৫ বল খেললেও পরের ফিফটি করতে লেগেছে মাত্র ১৮ বল। চার্লসের এই তাণ্ডবে ম্যাচের মাঝপথেই ছিটকে যায় খুলনা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে হারায় খুলনা। ১ রানে থামেন এই তরুণ। ইয়াসির আলীর চাপ কমাতে আজ অধিনায়কত্ব করেছেন শাই হোপ। তিনে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেন নতুন অধিনায়ক। মাত্র ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

তামিমের হাফ সেঞ্চুরি পেতে খেলতে হয়েছে ৪৫ বল। তানভীর ইসলামকে ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তানভীরের সেই ওভার থেকে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৭ রান নেন তামিম। যদিও সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তামিমের। ইনিংসের শেষ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৯৫ রানে আউট হন তামিম। ৬১ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছয় মারেন। এতে ভাঙে ১৮৪ রানের জুটি।

শতক পাননি হোপও। ৫৫ বলে ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সঙ্গে আজম খানের ৪ বলে ১২ রানের নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান তোলে খুলনা।


‘পুরোনো’ হাথুরুসিংহেই সাকিবদের নতুন কোচ

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে ফিরছেন। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:০৫
ক্রীড়া ডেস্ক

চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হচ্ছেন, সেটা ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিয়েছে, হাথুরুসিংহেই হচ্ছেন ছেলেদের ক্রিকেটের নতুন কোচ।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান কোচের ভূমিকায় থাকা শ্রীলঙ্কান এই কোচকে দুই বছর মেয়াদের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছে বিসিবি। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচের মেয়াদ শুরু হবে আগামীকাল থেকে।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবির প্রধান নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে চণ্ডিকার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান, তার নিজের ও খেলোয়াড়দের কাজে লাগবে। সে একজন পরীক্ষিত টেকটিশিয়ান এবং জাতীয় দলে প্রথম মেয়াদেই তার প্রভাব দেখেছি আমরা।’

আজই সিডনি থান্ডার থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেয়া হাথুরুসিংহেও খুশি ফিরতে পেরে, ‘যখনই গিয়েছি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে আমাকে, এটা বরাবরই আমার ভালো লাগে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবার কাজ করতে এবং তাদের সাফল্য উপভোগ করতে মুখিয়ে আছি।’


পাকিস্তানে টাকা বেশি, তাই বাংলাদেশে আসছেন না হেলস

অ্যালেক্স হেলস। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫১
ক্রীড়া ডেস্ক

ছয় বছর পর বাংলাদেশ সফর করছে ইংল্যান্ড। তিন ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টির দুটি সিরিজ খেলতে ইংলিশদের এই সফর। তবে আসন্ন এই সফরে দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসছেন না স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দাপুটে ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। একই সময়ে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে পিএসএল। এই টুর্নামেন্টে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা হেলসের। পিএসএলের এবারের মৌসুমে খেলার জন্য ইসলামাবাদের সঙ্গে ১ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ডের (১ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে দলে টেনেছিল ইসলামাবাদ। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ জানাচ্ছে, এই ‘চুক্তির প্রতি সম্মান’ জানাতেই ইংল্যান্ডের হয়ে বাংলাদেশ সফর করতে চান না এই ব্যাটসম্যান।

কয়েক বছর ইংল্যান্ড দল থেকে নির্বাসিত থাকার পর গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে দলে ফিরেছিলেন হেলস। ৪২.৪০ গড়ে ২১২ রান করে অবদান রেখেছেন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে।

টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে, ইসলামাবাদের সঙ্গে হেলসের চুক্তির বিষয়টি ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড আমলে নিচ্ছে। তাকে বাংলাদেশ সফরের জন্য চাপ দেবে না বোর্ড।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখবে ইংল্যান্ড। ১ মার্চ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংলিশরা।


সাকিবের বরিশাল হেরে গেল মিঠুনের ফিফটির কাছে  

ফিফটি করেছেন মিঠুন। ছবি: বিসিবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাকিব আল হাসানে দলের লড়াইটা মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সঙ্গে। সিলেট স্ট্রাইকার্সের সঙ্গে ফরচুন বরিশালের এই লড়াই বিপিএল পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ওঠার। যেখানে ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় মাশরাফির সিলেট। আজ ঢাকা ডমিনেটর্সের বিপক্ষে নিজেদের নবম ম্যাচটি খেলতে নামার আগে বরিশাল ৮ ম্যাচে তুলেছিল ১২ পয়েন্ট। জিতলে মাশরাফির সিলেটের সঙ্গে লড়াইটা টিকে থাকত, কিন্তু ঢাকার সঙ্গে আজ আর পেরে ওঠেনি সাকিবের বরিশাল, হেরেছে ৫ উইকেটে।

আগে ব্যাট করে ১৫৬ রান তুলেছিল বরিশাল। রান তাড়ায় নেমে মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটিতে ৫ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা। এই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে তারা।

সিলেটে উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় ঢাকা। সৌম্য সরকার ও মিঠুন ইনিংস উদ্বোধনে এসে অবিচ্ছিন্ন থাকেন ৭৪ রান পর্যন্ত। ২২ বলে ৩৭ করে সৌম্য ফিরলে ভাঙে এই জুটি। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মিঠুন যখন আউট হন, তার নামের পাশে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৩৬ বলে ৫৪ রান। সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ২৬ ও অধিনায়ক নাসির হোসেনের অপরাজিত ২০ রানে ম্যাচ জেতে ঢাকা।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় বরিশাল। দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও সাইফ হাসানের জুটিতে পাওয়ার প্লে-তে তোলে ৪১ রান। ১৫ রান করা সাইফকে ফিরিয়ে সপ্তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন আমির হামজা।

চলতি বিপিএলে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা সাকিব আজ একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি। মুক্তার আলীর গুড লেংথ ডেলিভারিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৫ রানে। বিজয় এক প্রান্ত ধরে খেললেও আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন ইব্রাহিম জাদরান, ইফতিখার আহমেদ। দেখেশুনে খেলতে থাকা বিজয় ফেরেন ৪২ রানে। সৌম্যর বলে শেষ তার ইনিংসের স্থায়িত্ব ৩৫ বল, তাতে চার ৫টি, ছক্কা ১টি।

শেষ দিকে ৪২ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সালমান হোসেন। চলতি বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা শরীফুল ইসলামের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে ৩৯ রান করা মাহমুদউল্লাহ ফিরলে ভাঙে এই জুটি। যদিও শরিফুলের সেই ওভার থেকে আসে ২০ রান।

পরে সালমান ১৪ করে ফিরলে করিম জানাতের ৫ বলে ১৭ রানের তাণ্ডবে বরিশাল থামে ৮ উইকেটে ১৫৬ রানে। ঢাকার হয়ে হামজা সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন।


দুর্দান্ত মেহেদীতে আবার হারলেন তাসকিনরা

দারুণ ইনিংসে দল জেতালেন শেখ মেহেদী। ছবি: রংপুর রাইডার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সিলেটের উইকেটে দেড় শ পেরোনো স্কোরও কঠিন কোনো লক্ষ্য নয় এবারের বিপিএলে। সেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ডমিনেটরস করেছে মোটে ১৪৪ রান। অবশ্য ঢাকায় নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে ১০৮ রানে গুটিয়েও ২৪ রানের জয় পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ-নাসির হোসেনরা।

আজও বোলারদের দিকেই ম্যাচ জেতানোর দায়টা ঠেলে দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ওভারেই এক উইকেট হারিয়েও বসে রংপুর রাইডার্স। কিন্তু ঢাকার ম্যাচ জেতার আশা চুরমার করে দিয়েছেন শেখ মেহেদী হাসান। দুর্দান্ত ৭২ রানের ইনিংসে দলকে এনে দিয়েছেন ৫ উইকেটের জয়। সে সঙ্গে শীর্ষ চারে রংপুরের অবস্থানও দৃঢ় করেছেন।

দ্বিতীয় ওভারে সালমান ইরশাদের বলে লাইন মিস করে এলবিডাব্লিউ হন মোহাম্মদ নাঈম। ৫ বলে শূন্য রান করা এই ওপেনারের সঙ্গী রনি তালুকদারও এগিয়েছেন ওয়ানডে ছন্দে। তবু ঢাকা চেপে বসতে পারেনি রংপুরের ওপর।

পাওয়ার প্লেতেই ৪৮ রান পেয়েছে রংপুর। এর মধ্যে মেহেদীর রান ২৬। পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। এর মধ্যে লং অফ দিয়ে আল আমিন হোসেনকে মারা ছক্কাটি চোখে লেগে থাকার মতো।

নবম ওভারে রনি ফিরে যাওয়ার পর মেহেদীর অন্য প্রান্তে কোনো ব্যাটসম্যান দুই অংকও ছুঁতে পারছিলেন না। কিন্তু মেহেদী একে পাত্তা না দিয়েই ৩১তম বলেই পেয়ে গেছেন ফিফটি।

১৭তম ওভারে ফিরেছেন মেহেদী। ৪৩ বলে ৭২ রানের ইনিংসে ৬ চার ও ৫ ছক্কা ছিল তার। জয় থেকে ২২ রান দূরে ছিল রংপুর। আজমাতুল্লাহ ওমরজাই (১২*) ও মোহাম্মদ নওয়াজ (১৭*) এক ওভার আগেই জয় এনে দিয়েছেন।

এর আগে ঢাকার ইনিংসও একক লড়াইয়ের। ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন এনে উসমান গনিকে তিনে নামানো হয়েছিল। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নামতে হয়েছে তাকে। ইনিংসের শেষ ২ বলে হারিস রউফকে টানা ছক্কা মেরে অপরাজিত ৭৩ রান করে তবে ফিরেছেন। ৫৫ বলে তার ৭ চার ও ৩ ছক্কাও অবশ্য ঢাকাকে দেড় রান এনে দিতে পারেনি।

প্রথম পাঁচে অন্য কেউই ২০ রান করতে পারেননি, উল্টো ১০০ এর নিচের স্ট্রাইকরেটে বল নষ্ট করেছেন। ১২তম ওভারে নামা অধিনায়ক নাসির হোসেনই শুধু ২২ বলে ২৯ রান করেছেন। ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন মেহেদী। শেষ দিকে উসমানের তোপের মুখে পড়ে ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন হারিস রউফ।


banner close