বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক তিনি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপ বদলে যাওয়াও তার নেতৃত্বে। দুই বছর আগে সর্বশেষ জাতীয় দলে খেললেও মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনো দেশের ক্রিকেটের অদ্বিতীয় চরিত্র। দৈনিক বাংলার নতুন করে শুরুর দিনে দেশের ক্রিকেট নিয়ে সাবেক অধিনায়কের ভাবনা জানতে চেয়েছেন তরিকুল ইসলাম সজল।
প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দল ভালো না করার কারণ কী হতে পারে?
মাশরাফি: এ ফরম্যাটে আমার খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। আমার মনে হয় সবারই প্রত্যাশা কম থাকা উচিত। না হলে টিমের ওপর বাড়তি চাপ হয়। যদি দল ভালো করে, তাহলে খুব ভালো। কিন্তু এই ফরম্যাটে আমরা এখনো পর্যন্ত তেমন গুরুত্ব দিইনি।
প্রশ্ন : এবারের এশিয়া কাপও ভালো যায়নি। কিন্তু ২০১৮ সালে ফাইনালে হারের পর আপনি বলেছিলেন, এশিয়া কাপ একসময় মামুলি ব্যাপার হবে বাংলাদেশের জন্য। সেই সময়টা কবে আসবে বলে মনে করেন?
মাশরাফি: ফরম্যাটের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ভারত-পাকিস্তান এ মুহূর্তে এই ফরম্যাটে সেরা ৩ দলের ২টি। তারা কিন্তু এমনিতে এই জায়গায় আসেনি, বিশ্বব্যাপী ভালো খেলে এসেছে। যেখানে খেলা হচ্ছে, সেটা বলতে গেলে পাকিস্তানের হোম গ্রাউন্ড। ভারত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই কঠিন দল। আফগানিস্তান ওখানে অনেকদিন ধরে খেলছে। ওখানে খেলা সহজ নয়।
প্রশ্ন : তাহলে কি ওয়ানডে হলে মামুলি হতো?
মাশরাফি : মামুলি না হলেও সাহসটা আরও তিন গুণ থাকত। আত্মবিশ্বাস অন্যরকম হতো। পৃথিবীতে এখন কজন ক্রিকেটার আছে যে তিন ফরম্যাটেই খেলে? আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার সব ফরম্যাটে খেললেও এখনো এত বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেনি। ভালো খেলোয়াড় মানেই যে সব ফরম্যাটে ভালো হবে- এমন নয়।
প্রশ্ন : এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে হেড কোচকে সরিয়ে দেয়া হলো। টুর্নামেন্টের আগে এমন পরিবর্তন দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন?
মাশরাফি : যিনি (রাসেল ডমিঙ্গো) ছিলেন তিনিও তেমন কিছু করেননি। আমার মনে হয়েছে বোর্ড এবার একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডকে সাধুবাদ জানাব, কারণ সাকিবকে আবার ফেরাতে পেরেছে। সাকিবকে ফেরানো সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত এবং কঠিন সিদ্ধান্ত। কঠিন বলতে ওকে রাজি করানোটা কঠিন। কারণ ও অধিনায়কত্ব করতে চায় কি না...।
কোচের ব্যাপারেও বলি, এটা ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ নির্দিষ্ট একটা ফরম্যাট যেকোনো একজনের কাছে থাকা ভালো। যে ছিল তার তো কোনো উন্নতি নেই। শুনেছি দাবি করেছেন, অধিকাংশ ম্যাচ জিতেছেন। সেটা মানি। তবে কোন দলের বিপক্ষে, কোন মাঠে- এগুলোও দেখা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে টি-ঠে -টোয়েন্টির জন্য নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় খুঁজে বের করা দরকার। সেটার জন্য যদি আলাদা একজন কোচ থাকে, যে এই খেলোয়াড়গুলো খুঁজবে, শুধু টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাববে বা দেশের আনাচ-কানাচে যে ক্রিকেটাররা আছে, তাদের এনে ট্রেনিং করাবে বা তৈরি করবে।
প্রশ্ন : সাকিব কিছুদিন আগে বলেছেন, এখন তার প্রায়োরিটি লিস্টে ক্রিকেট নেই। এমন একজনকে অধিনায়ক বানানো বোর্ডের সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন?
মাশরাফি : তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কথা বলব না। মাঠের কথা বললে, সাকিবের বিকল্প কি তৈরি হয়েছে? আপনি যদি বিশ্বে দেখেন, সে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। সেখানে সাকিবকে অগ্রাধিকার না দেয়ার কোনো কারণ দেখি না। যদি তার মতো তিন-চারজন থাকত, তাহলে একটা কথা ছিল। তামিম টি-টোয়েন্টি খেলছে না, মুশফিক আসবে না। রিয়াদকে সরানো হয়েছে। অন্য কোনো বিকল্প নেই। সাকিব বিসিবির জন্য যেমন সেরা পছন্দ, আমি মনে করি আমজনতার জন্যও সেরা পছন্দ।
প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে সাকিবের ওপর অধিনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন?
মাশরাফি : বোর্ড এপ্রোচ করেছে, সে নিয়েছে। সে নিতে চায়নি এটা বলার সুযোগ নেই। বোর্ড চেয়েছে এবং সেও নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে যে কৌশলে আগাচ্ছে সেটা ঠিক আছে। আমি আগেও বলেছি অধিনায়ককে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। সে যেই হোক। হ্যাঁ, সাকিবকে হয়তো সুযোগ বেশি দেয়া হচ্ছে, অন্যদের হলে এতটা দেয়া হতো না। তামিমকেও একই সুবিধা দেয়া উচিত যেমনটা সাকিবকে দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন : তবুও তো প্রশ্ন থেকে যায়। বেটউইনার কাণ্ডের পরও বিসিবি তাকে নেতৃত্বে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কী মন্দের ভালো?
মাশরাফি : আমার মনে হয় এখানে কিছুটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সাকিবকে কিন্তু নতুন করে দায়িত্বে আনা হয়নি। আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আগেই আনা হয়েছিল। সাকিব থাকলে সে-ই এতদিন টেনে নিয়ে আসত।
প্রশ্ন : এর আগে-পরে বেশ কয়েকবার নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাকিব। সে তুলনায় স্মিথ-ওয়ার্নারদের তো লঘু পাপ ছিল। সাকিবের ক্ষেত্রে একটু বেশিই নমনীয় বোর্ড?
মাশরাফি : স্মিথ-ওয়ার্নার ছাড়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যেভাবে খেলেছে আমরা কি সেভাবে খেলতে পারব? সাকিব না থাকা অবস্থায় আমরা হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জিতেছি। কারণ উইকেট পক্ষে ছিল। এবার জিম্বাবুয়েতে দেখেন। সাকিবকে ছাড়া টিম কম্বিনেশন তৈরি করা কঠিন হয়ে গেছে। যখন একটু চাপ এসেছে তখনই আমরা অনুভব করেছি সাকিবের প্রয়োজনীয়তা।
সাকিব নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, তার বিকল্প নিয়ে ভাবার সুযোগ আসলে নেই। পরে কেউ এলে ভিন্ন হিসাব। আমাকে দিয়েই উদাহরণ দিই। ২০১৯ পর্যন্ত কোনো বিকল্প ছিল না, এ জন্যই আমি টিকে ছিলাম। এখন অপশন এসেছে বলেই আমি নেই। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার।
প্রশ্ন: এখন টানা খেলার মধ্যে থাকতে হয়। আগামী চার বছরে বিশ্রামের খুব বেশি সুযোগ নেই। খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে কথা বলা হলেও কার্যত অগ্রগতি নেই। কিন্তু তিন ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটাররা তো ধকল সামলাতে পারছেন না...
মাশরাফি : এখানে শুধু বিসিবি বা খেলোয়াড়েদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিলে হবে না। এখানে ফিজিও, ট্রেনার কতটা যোগ্যতাসম্পন্ন দেখতে হবে।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসতে হবে। বিসিবিকে ঠিক করতে হবে কোন ফরম্যাটে কোন বোলারকে চায় তারা। বোলার যদি খেলতে না চায়, তখন ব্যবস্থা নিতে হবে সেই বোলারের বিপক্ষে। যদি কেউ সেটা চায়, তাহলে তাকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বিসিবির। কোনো বোলার যদি বলে আমি টেস্ট খেলব না, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলব- সেক্ষেত্রে তো বিসিবি ছেড়ে কথা বলবে না।
আবার বোলারের সক্ষমতাও দেখতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে তার দক্ষতা কতটুকু, ও কতটা কার্যকরী হবে। এই ব্যাপারগুলো আলোচনা করে বুঝিয়ে দিতে হবে। আগে থেকে বুঝিয়ে দিতে হবে, আমি তোমার কাছে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি চাই। ওয়ানডে নিয়ে ভাবছি না।
এই কথাগুলো যদি ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে নেয়, তাহলে হবে না। ২০১৭ সালে কোচ আমাকে বলল, টি-টোয়েন্টিতে তোমাকে দিয়ে হচ্ছে না। আমি বুঝেছি, সরে গেছি। ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে। এখানে অভিমান বা অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই।
প্রশ্ন : ডমিঙ্গো অভিযোগ করেছেন, ২০১৯ সালে যখন আসেন, তখন ড্রেসিংরুমে তরুণদের দমিয়ে রাখার সংস্কৃতি ছিল। সে সময় তো দলের সঙ্গে আপনিও ছিলেন। এমন অভিযোগ কীভাবে দেখেন?
মাশরাফি : আমি আসলে তার সঙ্গে কাজ করিনি। আমি যাওয়ার পরই তো নতুন অধিনায়ক এসেছে। যখন অধিনায়কত্ব পরিবর্তন হয় তখন নতুন কারও এসে গুছিয়ে নিতে সময় লাগে। আমার সময়ে জুনিয়ররা সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে খেলেছে। আমি যে তিন ম্যাচ তার (ডমিঙ্গো) অধীনে খেলেছি, এমন না যে, অনুশীলনেও গিয়েছি। খেলে চলে এসেছি। আমার সঙ্গে যেহেতু কাজের অভিজ্ঞতা নেই, সেহেতু বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ডমিঙ্গোর গুরুতর অভিযোগ, বোর্ডের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়রা স্বাধীন নয়। বিসিবি মনে করে কড়া হেডমাস্টার দরকার, অনেকটা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মতো। জাতীয় দলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আপনার কী মনে হয়?
মাশরাফি : এখানে কড়া হেডমাস্টারের কোনো ব্যাপার না। বিষয়টা হচ্ছে আপনি সঠিক পথে আছেন, না কি নেই। হাথুরুর সঙ্গে ডমিঙ্গোর পার্থক্য বোঝাতে গেলে আমাকে দুজনের সঙ্গে কাজ করতে হতো। কিন্তু আমার সঙ্গে ডমিঙ্গোর অভিজ্ঞতা শূন্য। হাথুরুসিংহেকে দেখেছি, যেখানে কথা বলা দরকার সেখানে বলেছেন। আমাদের ইয়ার্কিগুলো বা একটু স্পেস চাইলে সেগুলো মেনে নেননি, তা তো না। তার যেটা মনে হয়েছে অন্যায়, সে সাকিবকেও বলেছেন, আমাকেও বলেছেন।
হাথুরুসিংহে অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করেছেন, প্রফেশনালি ওভাবেই কাজ করে অভ্যস্ত। আমরা এ ধরনের পেশাদারি মনোভাব নিয়ে বড় হইনি। ফলে একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়, ওনারা মনে করেছেন, রাগারাগি করলেই জিনিসটা ভালো হয়ে যাবে, আসলে তা না।
এটাই তো বোঝাপড়া, কোচ যা বলছে সেটা মেনে নেওয়া, যতই খারাপ লাগুক না কেন! খারাপ হয়তো লেগেছে, কারণ আমি এর সঙ্গে অভ্যস্ত না। কিন্তু আমার সেটা করতে হচ্ছে। একটা ভালো অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। আমরা সবকিছুতে নেগেটিভ-পজিটিভ খুঁজি!
প্রশ্ন : সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অধিনায়ক তামিমের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
মাশরাফি : পরামর্শ দেয়ার কিছু নেই। তামিম ভালো এগোচ্ছে এটাই সত্য কথা। নিউজিল্যান্ডে আমরা সিরিজ জয়ের মতো অবস্থায় ছিলাম। দুইটা ম্যাচ খুব ক্লোজ হেরে গেছি ক্যাচ পড়ার কারণে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা ভালো করেছি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি। আফগানিস্তানের সঙ্গে জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয়।
আপনি যদি উন্নতি দেখেন, আমরা হেরেছি শুধু নিউজিল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের কাছে। নিউজিল্যান্ডে সাকিব না থাকা সত্ত্বেও দারুণ ক্রিকেট খেলেছে । যদি গ্রাফ দেখেন, ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আর এই ফরম্যাটে দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে পারফরম্যান্স রেট ৬০ শতাংশের নিচে কখনো আসেনি। তামিম খুব ভালো করছে।
প্রশ্ন : ওয়ানডেতে আমরা বেশ ভালো দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। ২০২৩ বিশ্বকাপ ভারতে। কন্ডিশন অনেকটা একইরকম চেনাজানা থাকবে। কেমন ফল আশা করছেন?
মাশরাফি : আমি ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই এক কনফারেন্সে বলছিলাম, আমার বিশ্বাস ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কে যাবে কে যাবে না এটা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভালো কিছু হবে।
প্রশ্ন : মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আবার জাতীয় দলে দেখা যাবে?
মাশরাফি : জাতীয় দলে আর ফেরা হবে না। একেবারে মাইনাস একশ।
প্রশ্ন : জাতীয় দলে ফিরবেন না, তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেট কতদিন চালিয়ে যাবেন?
মাশরাফি: ক্লাব ক্রিকেটে তো আর বয়সের ব্যাপার নেই। আর বয়স ক্লাব ক্রিকেট খেলার মতো নেই, সেটাও তো না। চল্লিশ এখনো হয়নি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে তো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেয়ার চল নেই। আপনি কি ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেট ছাড়বেন?
মাশরাফি : এটার একটা সুযোগ আছে। ক্লাব থেকে বলে অফিশিয়ালি যাওয়ার ইচ্ছা আছে। (জাতীয় দলে) আমি ফিরতে চাইলেও তো আমাকে আর ফেরানো হবে না।
প্রশ্ন : হঠাৎ করে রাজনীতিতে। একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন নিশ্চয়ই। নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
মাশরাফি : আবার রাজনীতিতে চলে গেলেন! তিন বছরের দুই বছরই তো করোনায় চলে গেল। কাজ করতে পারলাম কোথায়! মানুষকে খুশি করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। দিনের পর দিন আপনি শ্রম দিয়ে যাবেন কিন্তু দেখবেন কিছু মানুষ আপনার ওপরে খুশিই না। কিন্তু যখন আপনি চলে যাবেন, তখন দেখা যাবে, আগে যারা খুশি ছিল, তারাই বলবে- ও গেছে, বেঁচে গেছি। আবার যারা অখুশি ছিল, তারা বলবে- ও থাকলেই ভালো ছিল। মানুষের জীবন তো এ রকমই।
প্রশ্ন : ক্রিকেটের মতো রাজনীতিতেও উত্থান-পতন আছে। আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দৈর্ঘ্য নয়। তবুও সম্প্রতি বেশ কঠিন পরিস্থিতি (সাম্প্রদায়িক হামলা) পার করলেন। অভিজ্ঞতা থেকে কোনটাকে বেশি শক্ত মনে হয়, ক্রিকেট না-কি রাজনীতি?
মাশরাফি : ক্রিটিক্যাল! দুইটা দুইরকম। যারা ঘটাইছে, তারা তো আর বলে ঘটায় না। আর ধরেন, এটা ঘটে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে সাপোর্ট দেয়া। তখন যে বিষয় ছিল পুনর্বাসনটা গুরুত্বপূর্ণ না, মানসিক যে পুনর্বাসন দরকার সেটা তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া। ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে হয়তো একটা দাগ কেটে আছে। আমরা খুব কঠিনভাবে চাচ্ছি, এর বিচার সঠিকভাবে হোক। আমি খুব শক্ত অবস্থানে আছি আমার জায়গা থেকে।
তারা প্রত্যেকেই শাস্তি পাক। হামলা হয়েছে, হামলার পেছনে কারণটা কী! সবকিছু ঠিকঠাকভাবে বের হয়ে আসুক। যে স্ট্যাটাস এসেছে, সেই স্ট্যাটাসের সূত্রপাত কোথায়; আইন কোন আওতায় এনে কীভাবে বিচার করবে। সঠিক বিচার হবে। এটাই দাবি।
ওইখানে যে কাজগুলো ছিল আমরা যথাসাধ্যভাবে চেষ্টা করছি, ওইখানে যারা পলিটিক্যালি আছেন, ননপলিটিক্যালি; গ্রামে তো অনেক মাতব্বর থাকেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জিনিসটাকে আমরা একটা জায়গায় আনতে পেরেছি। সময় লেগেছে, কিন্তু আনতে পেরেছি।
আসলে এগুলো তো আনসারটেন। আমি তো নড়াইল শহরে বড় হয়েছি, কোনোদিন এসব নিয়ে কোনো বিবাদ দেখিনি। সাম্প্রদায়িকতা ছিল না! আমার মাথায় একেবারেই এ নিয়ে চিন্তা ছিল না। ভেবেছি, আর যাই হোক নড়াইলে সাম্প্রদায়িক হামলা হবে না।
ওই মানসিকতার জায়গা থেকে আমি বের হয়ে আসছি। আমি বরং প্রস্তুত, এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে। কারণ মানুষের দ্বারা সবই সম্ভব। এখন আমার যে জিনিসটা মাথায় আছে, খারাপ যেকোনো কিছু হতে পারে। সেভাবে প্রস্তুত থাকা।
ক্রিকেটের সঙ্গে একে আপনি কখনোই মেলাতে পারবেন না। এখানে হচ্ছে সবকিছু সরাসরি, যা দেখছেন সরাসরি। অনুশীলন করছেন, লাইভ দেখছেন। এখানে লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। এখানে আপনি কেমন পারফর্মার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সবাই জেনে যাবে। আর রাজনৈতিকভাবে আপনি কেমন পারফর্মার সেটা বের করতে বছরের পর বছর চলে যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে চলমান টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সিরিজের নিজেদের সবশেষ ম্যাচে হোবার্ট হ্যারিকেন্স একাডেমিকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। ডারউইনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ এইচপির অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়ার দলটি। জবাবে খেলতে নেমে ২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে রোমাঞ্চকর এক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এইচপি দল।
প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পেয়ে শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি হোবার্ট হ্যারিকেন্স একাডেমি। বাংলাদেশি বোলারদের তোপে পড়ে তারা দ্রুতই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। জ্যাক ডোরেন ৬ এবং রাধাকৃষ্ণা ৭ রান করে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ব্র্যাডলি হোপ ১৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই দলের ইনিংস টানতে থাকেন ত্যাগ উইলি। দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর তিনি ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া অধিনায়ক টিম ওয়ার্ড ১৫ ও রাফ ম্যাকমিলান ১১ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ রুবেল। পাশাপাশি রিপন মণ্ডল দুটি এবং আবু হায়দার রনি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট তুলে নেন।
১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ এইচপি দলের শুরুটাও মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। রান তাড়া করতে নেমে দ্রুতই ফিরে যান দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান (৪) এবং জিসান আলম (৯)। এরপর আরিফুল হক এবং অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও ৪ রান করে আউট হয়ে গেলে বেশ চাপে পড়ে যায় দল। তবে একপ্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্তে আপনতালে খেলতে থাকেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সাব্বির রহমান রুম্মন। পঞ্চম উইকেটে শামীম পাটোয়ারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ৪৬ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যা মূলত দলের জয়ের শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। শামীম ২৪ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও সাব্বির তার দারুণ ফর্ম বজায় রেখে ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন এবং আউট হওয়ার আগে খেলেন ৫৯ রানের একটি অনবদ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস।
সাব্বির রহমানের বিদায়ের পর দলের হয়ে ১৩ রানের একটি ছোট তবে কার্যকরী ইনিংস খেলেন এস এম মেহরাব। শেষের দিকে খেলা কিছুটা জমে উঠলেও মাথা ঠান্ডা রেখে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন আব্দুল গাফফার সাকলাইন এবং আবু হায়দার রনি। ১৯ রানে সাকলাইন এবং ৮ রানে রনি অপরাজিত থেকে দলের জয়সূচক রানটি তুলে নেন। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় দুর্দান্ত এই জয়টি তুলে নিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ এইচপি দল, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই সিরিজে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পর্তুগালের ফুটবল অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার কুয়েভিন কাস্ত্রো একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালে আকস্মিকভাবে মাঠেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। মালভেইরার এস্তাদিও দাস সেইজাসে অনুষ্ঠিত এস্ত্রেলা দা আমাদোরার বিপক্ষের ম্যাচটিতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ২৫ বছর বয়সী এই পেশাদার ফুটবলার পর্তুগালের চতুর্থ বিভাগের দল রিয়াল এসসির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ম্যাচ শুরু হওয়ার পর মাত্র দশ মিনিট পার হয়েছিল। সে সময় কারও কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে মাঠে লুটিয়ে পড়েন কুয়েভিন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই ক্লাবের চিকিৎসকরাই দ্রুত দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং তাকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন। মাঠে থাকা অবস্থাতেই তাকে ডেফিব্রিলেটর ব্যবহার করে জ্ঞান ফেরানোর সব রকম চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কুয়েভিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
তরুণ এই ফুটবলারের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার সাবেক ক্লাব ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ব্রমউইচ আলবিয়ন। ক্লাবটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, তাদের সাবেক খেলোয়াড় কুয়েভিনের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তারা মানসিকভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। প্রিয় খেলোয়াড়কে সম্মান জানাতে শোকাহত ক্লাবটি নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে বিশেষ এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ওয়েস্ট ব্রমউইচ আলবিয়ন জানিয়েছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বার্নলির বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচে এই তরুণ ফুটবলারের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। যেহেতু কুয়েভিনের বয়স ২৫ বছর ছিল, তাই সেই ম্যাচের ঠিক ২৫তম মিনিটে পুরো স্টেডিয়াম করতালি দিয়ে তাকে স্মরণ করবে। এছাড়া শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে দলের সকল খেলোয়াড় সেদিন কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিভাবান এই ফুটবলারের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পুরো ক্রীড়াবিশ্বকেই নাড়া দিয়ে গেছে।
ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে এসে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল বাংলাদেশ। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় দ্বিতীয় টেস্টে দুই দিন শেষ হওয়ার আগেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা উড়িয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অসিরা। ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা থেমে যায় মাত্র ৯৫ রানে, যা গত ২১ বছরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো দলের দুই ইনিংসেই একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার প্রথম ঘটনা।
দলের এমন চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝেও বল হাতে একাই আলো ছড়িয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তিনি ৪৮ রান খরচায় ৭টি উইকেট শিকার করেন, যা টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিং ফিগার। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করতে মূল ভূমিকা রাখেন শরিফুল। দিনের শুরুতেই সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে দুর্দান্ত এক ইনসুইং ইয়র্কারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকলেও জশ হ্যাজেলউডকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ, তবে ততক্ষণে অসিরা ১৪৬ রানের বড় লিড পেয়ে যায়।
পাহাড়সম লিড তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও অসি পেসার মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তৃতীয় ওভারেই সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন স্টার্ক। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আক্রমণাত্মক খেলে ২৩ রান করলেও তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নেমে মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চূড়ান্ত ধসের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজরা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৮২ রানেই ৮ উইকেট হারায় দলটি। শেষদিকে মুশফিকুর রহিম ২৯ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলের ইনিংস হার এড়াতে তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না।
চা বিরতির পর খেলা শুরু হতেই মাত্র তিন বলের ব্যবধানে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন স্পিনার নাথান লায়ন। এই ম্যাচটি রেকর্ড বইয়েও জায়গা করে নিয়েছে; মাত্র ৭৫০ বল খেলা হওয়া এই ম্যাচটি ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়া সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম টেস্ট এবং ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ত টেস্ট। বল হাতে পুরো সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মিচেল স্টার্ক দুই ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ম্যাকাই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন এই অসি গতিতারকা।
চলতি মৌসুমে দারুণ শুরুর পর হঠাৎ করেই যেন ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে গেছে ইন্টার মায়ামি। ঘরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির দারুণ এক গোলের পরও টরন্টো এফসির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে দলটি। এই হারের মাধ্যমে নিজেদের সর্বশেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল মায়ামি। লিগস কাপের প্রথম পর্বেই বিদায় নেওয়ার পর এবার মেজর লিগ সকারেও (এমএলএস) তাদের এই ছন্দপতন কোচ ও সমর্থকদের জন্য রীতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচে ঘরের মাঠে বল দখল ও আক্রমণে সবদিক থেকে দাপট দেখালেও স্বাগতিক মায়ামিকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮২ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র আট মিনিট আগে রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো চমৎকার থ্রু বল থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এটি ছিল চলতি মৌসুমে তার ১৪তম গোল। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর এই মরিয়া চেষ্টা মায়ামিকে ঘরের মাঠে হারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি।
মায়ামির এই হারের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে দ্বিতীয়ার্ধে টরন্টোর আক্রমণভাগের আকস্মিক ঝলক। বিরতির পর মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার জশ সার্জেন্ট ও ডেরিক এতিয়েন জুনিয়রের কল্যাণে দুই গোল করে টরন্টোকে অনায়াসে এগিয়ে দেন তারা। এই জয়টি ছিল চলতি মৌসুমে ২১টি এমএলএস ম্যাচে টরন্টোর মাত্র পঞ্চম জয়। অন্যদিকে, এক সপ্তাহ আগেই ন্যাশভিলে এসসির কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল মায়ামি। মাঝে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে টানা হারের ধারা সাময়িকভাবে থামালেও গত প্রায় এক মাস ধরে তারা এমএলএসে কোনো জয়ের দেখা পায়নি।
টরন্টোর কাছে অপ্রত্যাশিত এই হারের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলে এখন মায়ামির চেয়ে পাকাপোক্তভাবে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গেছে। ইন্টার মায়ামি এখনো ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ঠিকই, তবে গত মৌসুমের এমএলএস কাপজয়ীদের জন্য এখন শীর্ষ চার নিশ্চিত করা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা ধরে রাখতে হলে এখন পয়েন্ট টেবিলের পেছনের দিকে থাকা দলগুলোর পারফরম্যান্সের দিকেও তাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক ও ভারতের সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ লেগ-স্পিনার কারান শর্মা। দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি সম্প্রতি শেষ হওয়া ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগের একটি ম্যাচ শেষে ভক্ত ও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তার এই বিদায়ী ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত এক মুখের মাঠের লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটল।
ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে কারান শর্মার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০১৪ সালে ভারতের জার্সিতে তার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয়। দেশের হয়ে তিনি সব মিলিয়ে ১টি টেস্ট, ২টি ওয়ানডে এবং ১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টেই তিনি বল হাতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে সবার নজর কেড়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক আঙিনার চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কারান শর্মার পরিসংখ্যান বেশ উজ্জ্বল। আইপিএলের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টানা তিন বছর তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে শিরোপা জেতার এক অনন্য ও ঈর্ষণীয় রেকর্ড রয়েছে এই ডানহাতি স্পিনারের নামের পাশে। ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ২০১৭ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং ২০১৮ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তিনি শিরোপা জয়ের স্বাদ পান। সব মিলিয়ে মোট ৪টি আইপিএল শিরোপা জেতা কারান ৯০টি আইপিএল ম্যাচে শিকার করেছেন ৮৩টি উইকেট। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯৭ ম্যাচে ২৭০টি উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুটি সেঞ্চুরিসহ করেছেন ২ হাজার ৮৬৬ রান।
দীর্ঘ পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানলেও প্রিয় খেলা ক্রিকেটের সঙ্গেই যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কারান শর্মা। মাঠের লড়াই থেকে খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নেওয়ার পর এবার তিনি ক্রিকেট কোচিং এবং অন্যান্য নতুন ও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করার গভীর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের ঘোষণায় সতীর্থ ও ভক্তরা তাকে আগামী দিনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
ডারউইনের সেই দাপুটে বাংলাদেশ আর ম্যাকাই টেস্টের বাংলাদেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য ফুটে উঠল। মাত্র কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়া দলটি গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল। দুই দিন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচের ঐতিহাসিক এই টেস্ট সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ এবং তাইজুল ইসলাম—সবাই দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। লিটন দাস তো টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লেখালেন। বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৯৫ রান। শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে ইনিংস হার এড়ানো সম্ভব হয়নি টাইগারদের পক্ষে।
অজি পেসার মিচেল স্টার্ক আবারও বাংলাদেশের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ান। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন, যার ফলে ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টি। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং স্পিনার নাথান লায়নও বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে মুশফিকুর রহিম ২৯ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তা পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এর আগে, প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি একাই ৭ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামেরন গ্রিন সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন এবং নাথান লায়ন অপরাজিত ৩২ রান করে দলকে লিড এনে দিতে সাহায্য করেন। তবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই উইকেট পতনের মিছিল শুরু হয়। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে দ্রুত ফিরিয়ে স্টার্কের সেই তোপ ম্যাচের ভাগ্য কার্যত দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই নির্ধারণ করে দেয়। ডারউইনের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখলেও ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনে পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে শেষ পর্যন্ত সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে শান্ত বাহিনীকে।
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ মৌসুমের শুরুতেই আরও একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে শুরু করে প্রতিটি লিগ মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে গোল করার বিরল ধারা ধরে রেখেছেন তিনি। সৌদি প্রো লিগে আল রিয়াদের বিপক্ষে আল নাসরের ৪-০ ব্যবধানের জয়ে একটি চমৎকার গোল করার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ২৫টি লিগ মৌসুমে গোল করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
৪১ বছর বয়সী এই তারকা চলতি মৌসুমে দলের দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না। তবে ম্যাচের ৬২তম মিনিটে আবদুল্লাহ আল হামদানের বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর গোলের খাতা খুলতে তার মাত্র ২১ মিনিট সময় লাগে। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আইমান ইয়াহিয়ার বাড়ানো বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে, যিনি ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুমের মধ্যে টানা ২৪টি মৌসুমে গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন।
চারটি ভিন্ন দেশের পাঁচটি শীর্ষ ক্লাবের হয়ে রোনালদো তার এই অনন্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে গোলের খাতা খোলার পর তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রথম মেয়াদে প্রতিটি মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদে নয়টি মৌসুমে এবং জুভেন্টাসে তিনটি মৌসুমে গোল করেন। এরপর পুনরায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে ২০২২-২৩ মৌসুমের মাঝামাঝিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর সেখানেও তিনি তার এই গোল করার ধারা সফলভাবে অব্যাহত রেখেছেন।
এটি রোনালদোর অফিশিয়াল সিনিয়র ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম গোল, যার ফলে স্বপ্নের এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২৩টি গোল। ক্লাবের হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে ৪৫০টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১৪৫টি, জুভেন্টাসে ১০১টি, স্পোর্টিংয়ে ৫টি এবং আল নাসরে ১৩০টি গোলের পাশাপাশি জাতীয় দল পর্তুগালের হয়ে তিনি করেছেন ১৪৬টি গোল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ২০২৬-২৭ মৌসুমই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে চার অঙ্কের এই জাদুকরী সংখ্যার দিকে তার ছুটে চলার লড়াই আরও বেশি রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারির ঘটনায় অবশেষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ঘটনাটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা কিছুটা স্তিমিত থাকলেও ফিফার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পর বিষয়টি আবারও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ফিফা আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারকে বিভিন্ন মেয়াদে সর্বমোট ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে বড় ধরনের ধাক্কা খেল আলবিসেলেস্তেরা।
শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফাইনাল ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভিকে আছাড় মেরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তাকে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং সমপরিমাণ ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। তরুণ ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। শুধু খেলোয়াড়ই নন, দলটির সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও ফিফার শাস্তির আওতায় এসেছেন; তাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধের পাশাপাশি ৩০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে।
ফিফার এই ঘোষণার পরপরই স্পেনের গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’ তাদের প্রচ্ছদে গাভির ওপর পারেদেস ও আলমাদার চড়াও হওয়ার ছবি যুক্ত করে একটি স্পষ্ট উসকানিমূলক শিরোনাম প্রকাশ করেছে। প্রচ্ছদে তারা বড় করে লিখেছে, ‘হার মেনে নিতে না পারার জন্য কঠোর শাস্তি’। স্প্যানিশ এই সংবাদমাধ্যমটি আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এমন আচরণকে চরম অপেশাদার ও পরাজয় মেনে নিতে না পারার মানসিকতা হিসেবে তুলে ধরেছে।
মার্কার প্রকাশিত ওই আর্টিকেলে বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহুল আলোচিত ‘ফকল্যান্ডস ব্যানার’ প্রদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এটিকে মাঠে থাকা সমর্থকদের দ্বারা অপমান ও বস্তু নিক্ষেপের সমতুল্য বলে দাবি করা হয়। এছাড়া আর্টিকেলের লেখক মিগেল সাঞ্জ কোনো রাখঢাক না রেখেই পারেদেসকে উদ্দেশ করে লেখেন, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই ছিলেন ‘সবার চেয়ে বেশি বর্বর’। সব মিলিয়ে ফিফার এই শাস্তির পর দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যকার উত্তেজনা আবারও চরম আকার ধারণ করেছে।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের পর এবার ম্যাকাই টেস্টে বল হাতে দ্যুতি ছড়ালেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজে বল হাতে পেসারদের এমন পারফরম্যান্স স্মরণীয় হয়ে থাকলেও ম্যাকাইয়ে ব্যাট ও বলের যুগলবন্দীতে বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন শরিফুল। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকারের বিরল কীর্তি গড়েছেন।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডারের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। ব্যাটারদের এমন ভরাডুবির দিনে শেষ ব্যাটার হিসেবে ১১ নম্বরে ক্রিজে নেমে ১৯ বলে ৩টি চারের সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রানের ইনিংস খেলেন শরিফুল ইসলাম। টেস্ট ইতিহাসে ১১ নম্বরে নেমে কোনো দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ১৩তম ব্যাটার। এর আগে ১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার ফ্রেডেরিক স্পোফোর্থ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে টম ম্যাককিবিন, বার্ট ভোগলার, তালহা জুবায়ের, নাথান লায়ন, অ্যাস্টন অ্যাগার ও সাকিব মাহমুদসহ মোট ১২ জন এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন।
তবে ইতিহাসের আগের ১২ ব্যাটার যা করতে পারেননি, শরিফুল বল হাতে ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে নেমে অস্ট্রেলীয় ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন তিনি। টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে শরিফুলই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ১১ নম্বরে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর সেই ম্যাচেই ফাইফার বা ৫ উইকেট অর্জনের অনন্য রেকর্ড গড়লেন। প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই তিনি শিকার করেন মোট ৬টি উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতেই নিজের প্রথম ওভারে ট্র্যাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন এই বাঁহাতি পেসার। পরবর্তীতে শেষ সেশনে দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে সেট ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর দুর্দান্ত বোলিং করে পাঁচ বলের ব্যবধানে তুলে নেন আরও তিনটি উইকেট। বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে সাজঘরে পাঠিয়ে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এবং দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে মিচেল স্টার্ককেও আউট করে নিজের উইকেটের সংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই বোলারদের অবিশ্বাস্য দাপট দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথম দিনের খেলায় দুই দল মিলিয়ে মোট ১৮টি উইকেটের পতন হয়েছে, যার ফলে দিন শেষে আলোচনার মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যাকাইয়ের উইকেট। এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ইনিংসে দ্রুতই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। তবে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা, যার ফলে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও তাদের ৮টি উইকেট হারিয়ে বসেছে।
অস্ট্রেলীয় কন্ডিশনে পেসারদের চিরচেনা আধিপত্যের দিনে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। একাই তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। উইকেটের আচরণ এবং নিজের বোলিং কৌশল নিয়ে তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পেস বোলাররা সবসময়ই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। তিনি মূলত অভিজ্ঞ অসি পেসার মিচেল স্টার্কের বোলিং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। স্টার্ক কোন লেংথে বল করে সাফল্য পাচ্ছেন, সেটি দেখেই তিনি নিজের বোলিং লেংথ ঠিক করে সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রথম টেস্ট জয়ের দিনে মূল একাদশে না থাকলেও উদযাপনের ছবিতে শরিফুলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ম্যাচে নিজের ফাইফার বা ৫ উইকেট পাওয়ার বিষয়ে এই তরুণ পেসার জানান, সাধারণত টসের আগেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত এই অর্জনে তিনি খুশি হলেও নিজেকে বেশ স্বাভাবিক রাখছেন। শরিফুলের মতে, ৫ উইকেট পাওয়ার চেয়ে দল যদি ম্যাচটি জিততে পারে, তবেই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হবেন। সতীর্থদের নিয়ে দলগতভাবে খেলে ম্যাচটি নিজেদের পক্ষে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রথম দিন শেষে সার্বিক ম্যাচ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী শরিফুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি খেলার ভেতরেই টিকে আছে। দ্বিতীয় ইনিংসে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই পেসার জানান, দলের সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে তার বিস্তারিত কথা হয়েছে। ব্যাটসম্যানরা যেহেতু পিচে সময় কাটিয়েছেন, তাই কোন লেংথের বল খেলা সত্যিই কঠিন, সে বিষয়ে তারা ভালো ধারণা দিতে পারবেন, যা দলের পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে।
মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ, ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে দল অলআউট হয়েছে মাত্র ৬৪ রানে। ম্যাচের শুরুতেই মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সফরকারীরা। ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে এক পর্যায়ে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোরের শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে স্টার্কের গতির সামনে শুরু থেকেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টাইগার ব্যাটাররা। দলের প্রথম তিন ব্যাটার সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান। মুমিনুল হক ব্যক্তিগত ৯ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও লিটন দাস আউট হন শূন্য রানেই।
স্টার্ক তাঁর অবিশ্বাস্য স্পেলে মাত্র ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত নাড়িয়ে দেন। প্রথম ৪ ওভারে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচ করে ৫ উইকেট (ফাইফার) পূর্ণ করেন এই অজি বাঁহাতি পেসার। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ৪২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৫ রান করে আউট হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হয়।
২১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে প্রথম সেশন পার করেন। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্যাট কামিন্স আক্রমণে ফিরে ১১ রান করা মিরাজকে বিদায় করলে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের বলে ১০ রান করে ফিরে যান হাসান মাহমুদ।
স্কোরবোর্ডে ৩৯ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে যখন ৪৩ রানের সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ড স্পর্শ করার উপক্রম, তখন তাইজুল ইসলামের একটি বাউন্ডারি দলকে সেই লজ্জা থেকে রক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ৬৪ রানে। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে ইনজুরি কাটিয়ে ইবাদত হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ একাদশ:
সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
ট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।
জার্মান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের জাদুকরী স্পর্শে টানা দুই মৌসুম লা লিগার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। এবার স্প্যানিশ এই পরাশক্তির সামনে লক্ষ্য একটাই—শিরোপার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা। এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল করতে কাতালানরা ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার রদ্রিসহ বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে শিবিরে ভিড়িয়েছে। তবে ক্লাবের অভ্যন্তরে হওয়া বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানো এখন ফ্লিকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী রোববার (২৩ আগস্ট) এলচের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে বার্সেলোনা তাদের লা লিগা অভিযান শুরু করবে। এর ঠিক একদিন আগে ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত হোসে মরিনহোর কোচিংয়ে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে এস্পানিওলের বিপক্ষে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শেষ দিকে কোচ হ্যান্সি ফ্লিক অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে গণমাধ্যমকে জানান যে, তিনি "সব শিরোপা জেতার জন্য প্রস্তুত"।
এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেস বার্সেলোনা ত্যাগ করেছেন। তবে রদ্রির মতো একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আসায় দলটির মাঝমাঠের দুর্বলতা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বার্সা কর্তৃপক্ষ আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে দলে টানার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো স্ট্রাইকার না পাওয়া যায়, তবে দানি ওলমো, রাফিনহা কিংবা করিম আদেইয়েমিকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলিয়ে অভাব পূরণের বিকল্প পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন জার্মান এই মাস্টারমাইন্ড।
এদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদও বার্সার একাধিপত্য চূর্ণ করতে মরিয়া। তারা অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোকে পুনরায় ডাগআউটে ফিরিয়ে এনেছে এবং দলে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের সেই চিরচেনা উত্তেজনাকর দ্বৈরথ এবারও ফুটবল বিশ্বে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
বার্সেলোনার এই মৌসুমের সাফল্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি হতে পারেন উঠতি তারকা লামিনে ইয়ামাল। গত মৌসুমে চোটের কারণে অনিয়মিত থাকলেও এবার তিনি পূর্ণ ছন্দে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন। আক্রমণভাগে ইয়ামালের ক্ষিপ্রতা এবং মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রিত ফুটবল যদি ক্লিক করে, তবে মরিনহোর রিয়ালকে পেছনে ফেলে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা বার্সার জন্য অসম্ভব কিছু হবে না।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে অসাধারণ এক ফিফটি উদযাপনের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় নতুন এক কীর্তি গড়লেন ইংলিশ ব্যাটার জো রুট। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক অর্ধশতকের বিশ্বরেকর্ডে তিনি এখন ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
চলতি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১১২ বলে ৬৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন রুট। ১০টি মনোমুগ্ধকর চারের সাহায্যে সাজানো এই ইনিংসটি ছিল তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬৮তম ফিফটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে শচীন টেন্ডুলকারও তাঁর ২০০ টেস্টের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সমান ৬৮টি অর্ধশতক করার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
তবে শচীনকে স্পর্শ করার ক্ষেত্রে জো রুট অনেক বেশি ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছেন। ভারতীয় লিটল মাস্টারের তুলনায় ৩৩টি টেস্ট ম্যাচ কম খেলেই এই চূড়ায় আরোহণ করলেন তিনি। মাত্র ১৬৭তম টেস্টেই রুট এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্টে সর্বাধিক ফিফটির লড়াইয়ে রুট ও শচীনের পরেই রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারাইন চন্দরপল, যাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৬৬টি ফিফটি। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে আছেন অ্যালান বোর্ডার ও রাহুল দ্রাবিড় (৬৩টি করে) এবং অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (৬২টি)।
বৃষ্টির কারণে বারবার বিঘ্নিত হওয়া দ্বিতীয় দিনে ব্যক্তিগত ৩৭ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন রুট। অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়ে ৯৫ বলে তিনি নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে জর্ডান কক্সকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৫০ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার মাধ্যমে তাঁর এই লড়াকু ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এই ইনিংসটির পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে রুটের মোট রান দাঁড়িয়েছে ১৪,১৮০। বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় রুটের সামনে এখন কেবল একজনই অবস্থান করছেন—১৫,৯২১ রান নিয়ে শীর্ষে থাকা শচীন টেন্ডুলকার। রুটের ধারাবাহিক ব্যাটিং প্রদর্শন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতে শচীনের রানের রেকর্ডকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেন।