বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক তিনি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপ বদলে যাওয়াও তার নেতৃত্বে। দুই বছর আগে সর্বশেষ জাতীয় দলে খেললেও মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনো দেশের ক্রিকেটের অদ্বিতীয় চরিত্র। দৈনিক বাংলার নতুন করে শুরুর দিনে দেশের ক্রিকেট নিয়ে সাবেক অধিনায়কের ভাবনা জানতে চেয়েছেন তরিকুল ইসলাম সজল।
প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দল ভালো না করার কারণ কী হতে পারে?
মাশরাফি: এ ফরম্যাটে আমার খুব বেশি প্রত্যাশা নেই। আমার মনে হয় সবারই প্রত্যাশা কম থাকা উচিত। না হলে টিমের ওপর বাড়তি চাপ হয়। যদি দল ভালো করে, তাহলে খুব ভালো। কিন্তু এই ফরম্যাটে আমরা এখনো পর্যন্ত তেমন গুরুত্ব দিইনি।
প্রশ্ন : এবারের এশিয়া কাপও ভালো যায়নি। কিন্তু ২০১৮ সালে ফাইনালে হারের পর আপনি বলেছিলেন, এশিয়া কাপ একসময় মামুলি ব্যাপার হবে বাংলাদেশের জন্য। সেই সময়টা কবে আসবে বলে মনে করেন?
মাশরাফি: ফরম্যাটের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ভারত-পাকিস্তান এ মুহূর্তে এই ফরম্যাটে সেরা ৩ দলের ২টি। তারা কিন্তু এমনিতে এই জায়গায় আসেনি, বিশ্বব্যাপী ভালো খেলে এসেছে। যেখানে খেলা হচ্ছে, সেটা বলতে গেলে পাকিস্তানের হোম গ্রাউন্ড। ভারত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই কঠিন দল। আফগানিস্তান ওখানে অনেকদিন ধরে খেলছে। ওখানে খেলা সহজ নয়।
প্রশ্ন : তাহলে কি ওয়ানডে হলে মামুলি হতো?
মাশরাফি : মামুলি না হলেও সাহসটা আরও তিন গুণ থাকত। আত্মবিশ্বাস অন্যরকম হতো। পৃথিবীতে এখন কজন ক্রিকেটার আছে যে তিন ফরম্যাটেই খেলে? আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার সব ফরম্যাটে খেললেও এখনো এত বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেনি। ভালো খেলোয়াড় মানেই যে সব ফরম্যাটে ভালো হবে- এমন নয়।
প্রশ্ন : এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে হেড কোচকে সরিয়ে দেয়া হলো। টুর্নামেন্টের আগে এমন পরিবর্তন দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন?
মাশরাফি : যিনি (রাসেল ডমিঙ্গো) ছিলেন তিনিও তেমন কিছু করেননি। আমার মনে হয়েছে বোর্ড এবার একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডকে সাধুবাদ জানাব, কারণ সাকিবকে আবার ফেরাতে পেরেছে। সাকিবকে ফেরানো সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত এবং কঠিন সিদ্ধান্ত। কঠিন বলতে ওকে রাজি করানোটা কঠিন। কারণ ও অধিনায়কত্ব করতে চায় কি না...।
কোচের ব্যাপারেও বলি, এটা ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ নির্দিষ্ট একটা ফরম্যাট যেকোনো একজনের কাছে থাকা ভালো। যে ছিল তার তো কোনো উন্নতি নেই। শুনেছি দাবি করেছেন, অধিকাংশ ম্যাচ জিতেছেন। সেটা মানি। তবে কোন দলের বিপক্ষে, কোন মাঠে- এগুলোও দেখা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে টি-ঠে -টোয়েন্টির জন্য নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় খুঁজে বের করা দরকার। সেটার জন্য যদি আলাদা একজন কোচ থাকে, যে এই খেলোয়াড়গুলো খুঁজবে, শুধু টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাববে বা দেশের আনাচ-কানাচে যে ক্রিকেটাররা আছে, তাদের এনে ট্রেনিং করাবে বা তৈরি করবে।
প্রশ্ন : সাকিব কিছুদিন আগে বলেছেন, এখন তার প্রায়োরিটি লিস্টে ক্রিকেট নেই। এমন একজনকে অধিনায়ক বানানো বোর্ডের সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন?
মাশরাফি : তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কথা বলব না। মাঠের কথা বললে, সাকিবের বিকল্প কি তৈরি হয়েছে? আপনি যদি বিশ্বে দেখেন, সে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। সেখানে সাকিবকে অগ্রাধিকার না দেয়ার কোনো কারণ দেখি না। যদি তার মতো তিন-চারজন থাকত, তাহলে একটা কথা ছিল। তামিম টি-টোয়েন্টি খেলছে না, মুশফিক আসবে না। রিয়াদকে সরানো হয়েছে। অন্য কোনো বিকল্প নেই। সাকিব বিসিবির জন্য যেমন সেরা পছন্দ, আমি মনে করি আমজনতার জন্যও সেরা পছন্দ।
প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে সাকিবের ওপর অধিনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন?
মাশরাফি : বোর্ড এপ্রোচ করেছে, সে নিয়েছে। সে নিতে চায়নি এটা বলার সুযোগ নেই। বোর্ড চেয়েছে এবং সেও নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে যে কৌশলে আগাচ্ছে সেটা ঠিক আছে। আমি আগেও বলেছি অধিনায়ককে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। সে যেই হোক। হ্যাঁ, সাকিবকে হয়তো সুযোগ বেশি দেয়া হচ্ছে, অন্যদের হলে এতটা দেয়া হতো না। তামিমকেও একই সুবিধা দেয়া উচিত যেমনটা সাকিবকে দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন : তবুও তো প্রশ্ন থেকে যায়। বেটউইনার কাণ্ডের পরও বিসিবি তাকে নেতৃত্বে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কী মন্দের ভালো?
মাশরাফি : আমার মনে হয় এখানে কিছুটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সাকিবকে কিন্তু নতুন করে দায়িত্বে আনা হয়নি। আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আগেই আনা হয়েছিল। সাকিব থাকলে সে-ই এতদিন টেনে নিয়ে আসত।
প্রশ্ন : এর আগে-পরে বেশ কয়েকবার নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাকিব। সে তুলনায় স্মিথ-ওয়ার্নারদের তো লঘু পাপ ছিল। সাকিবের ক্ষেত্রে একটু বেশিই নমনীয় বোর্ড?
মাশরাফি : স্মিথ-ওয়ার্নার ছাড়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যেভাবে খেলেছে আমরা কি সেভাবে খেলতে পারব? সাকিব না থাকা অবস্থায় আমরা হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জিতেছি। কারণ উইকেট পক্ষে ছিল। এবার জিম্বাবুয়েতে দেখেন। সাকিবকে ছাড়া টিম কম্বিনেশন তৈরি করা কঠিন হয়ে গেছে। যখন একটু চাপ এসেছে তখনই আমরা অনুভব করেছি সাকিবের প্রয়োজনীয়তা।
সাকিব নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, তার বিকল্প নিয়ে ভাবার সুযোগ আসলে নেই। পরে কেউ এলে ভিন্ন হিসাব। আমাকে দিয়েই উদাহরণ দিই। ২০১৯ পর্যন্ত কোনো বিকল্প ছিল না, এ জন্যই আমি টিকে ছিলাম। এখন অপশন এসেছে বলেই আমি নেই। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার।
প্রশ্ন: এখন টানা খেলার মধ্যে থাকতে হয়। আগামী চার বছরে বিশ্রামের খুব বেশি সুযোগ নেই। খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে কথা বলা হলেও কার্যত অগ্রগতি নেই। কিন্তু তিন ফরম্যাটে খেলা ক্রিকেটাররা তো ধকল সামলাতে পারছেন না...
মাশরাফি : এখানে শুধু বিসিবি বা খেলোয়াড়েদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিলে হবে না। এখানে ফিজিও, ট্রেনার কতটা যোগ্যতাসম্পন্ন দেখতে হবে।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসতে হবে। বিসিবিকে ঠিক করতে হবে কোন ফরম্যাটে কোন বোলারকে চায় তারা। বোলার যদি খেলতে না চায়, তখন ব্যবস্থা নিতে হবে সেই বোলারের বিপক্ষে। যদি কেউ সেটা চায়, তাহলে তাকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বিসিবির। কোনো বোলার যদি বলে আমি টেস্ট খেলব না, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলব- সেক্ষেত্রে তো বিসিবি ছেড়ে কথা বলবে না।
আবার বোলারের সক্ষমতাও দেখতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে তার দক্ষতা কতটুকু, ও কতটা কার্যকরী হবে। এই ব্যাপারগুলো আলোচনা করে বুঝিয়ে দিতে হবে। আগে থেকে বুঝিয়ে দিতে হবে, আমি তোমার কাছে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি চাই। ওয়ানডে নিয়ে ভাবছি না।
এই কথাগুলো যদি ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে নেয়, তাহলে হবে না। ২০১৭ সালে কোচ আমাকে বলল, টি-টোয়েন্টিতে তোমাকে দিয়ে হচ্ছে না। আমি বুঝেছি, সরে গেছি। ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে। এখানে অভিমান বা অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই।
প্রশ্ন : ডমিঙ্গো অভিযোগ করেছেন, ২০১৯ সালে যখন আসেন, তখন ড্রেসিংরুমে তরুণদের দমিয়ে রাখার সংস্কৃতি ছিল। সে সময় তো দলের সঙ্গে আপনিও ছিলেন। এমন অভিযোগ কীভাবে দেখেন?
মাশরাফি : আমি আসলে তার সঙ্গে কাজ করিনি। আমি যাওয়ার পরই তো নতুন অধিনায়ক এসেছে। যখন অধিনায়কত্ব পরিবর্তন হয় তখন নতুন কারও এসে গুছিয়ে নিতে সময় লাগে। আমার সময়ে জুনিয়ররা সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে খেলেছে। আমি যে তিন ম্যাচ তার (ডমিঙ্গো) অধীনে খেলেছি, এমন না যে, অনুশীলনেও গিয়েছি। খেলে চলে এসেছি। আমার সঙ্গে যেহেতু কাজের অভিজ্ঞতা নেই, সেহেতু বলতে পারব না।
প্রশ্ন: ডমিঙ্গোর গুরুতর অভিযোগ, বোর্ডের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়রা স্বাধীন নয়। বিসিবি মনে করে কড়া হেডমাস্টার দরকার, অনেকটা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মতো। জাতীয় দলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আপনার কী মনে হয়?
মাশরাফি : এখানে কড়া হেডমাস্টারের কোনো ব্যাপার না। বিষয়টা হচ্ছে আপনি সঠিক পথে আছেন, না কি নেই। হাথুরুর সঙ্গে ডমিঙ্গোর পার্থক্য বোঝাতে গেলে আমাকে দুজনের সঙ্গে কাজ করতে হতো। কিন্তু আমার সঙ্গে ডমিঙ্গোর অভিজ্ঞতা শূন্য। হাথুরুসিংহেকে দেখেছি, যেখানে কথা বলা দরকার সেখানে বলেছেন। আমাদের ইয়ার্কিগুলো বা একটু স্পেস চাইলে সেগুলো মেনে নেননি, তা তো না। তার যেটা মনে হয়েছে অন্যায়, সে সাকিবকেও বলেছেন, আমাকেও বলেছেন।
হাথুরুসিংহে অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করেছেন, প্রফেশনালি ওভাবেই কাজ করে অভ্যস্ত। আমরা এ ধরনের পেশাদারি মনোভাব নিয়ে বড় হইনি। ফলে একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়, ওনারা মনে করেছেন, রাগারাগি করলেই জিনিসটা ভালো হয়ে যাবে, আসলে তা না।
এটাই তো বোঝাপড়া, কোচ যা বলছে সেটা মেনে নেওয়া, যতই খারাপ লাগুক না কেন! খারাপ হয়তো লেগেছে, কারণ আমি এর সঙ্গে অভ্যস্ত না। কিন্তু আমার সেটা করতে হচ্ছে। একটা ভালো অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। আমরা সবকিছুতে নেগেটিভ-পজিটিভ খুঁজি!
প্রশ্ন : সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অধিনায়ক তামিমের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
মাশরাফি : পরামর্শ দেয়ার কিছু নেই। তামিম ভালো এগোচ্ছে এটাই সত্য কথা। নিউজিল্যান্ডে আমরা সিরিজ জয়ের মতো অবস্থায় ছিলাম। দুইটা ম্যাচ খুব ক্লোজ হেরে গেছি ক্যাচ পড়ার কারণে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা ভালো করেছি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি। আফগানিস্তানের সঙ্গে জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয়।
আপনি যদি উন্নতি দেখেন, আমরা হেরেছি শুধু নিউজিল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের কাছে। নিউজিল্যান্ডে সাকিব না থাকা সত্ত্বেও দারুণ ক্রিকেট খেলেছে । যদি গ্রাফ দেখেন, ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আর এই ফরম্যাটে দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে পারফরম্যান্স রেট ৬০ শতাংশের নিচে কখনো আসেনি। তামিম খুব ভালো করছে।
প্রশ্ন : ওয়ানডেতে আমরা বেশ ভালো দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। ২০২৩ বিশ্বকাপ ভারতে। কন্ডিশন অনেকটা একইরকম চেনাজানা থাকবে। কেমন ফল আশা করছেন?
মাশরাফি : আমি ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই এক কনফারেন্সে বলছিলাম, আমার বিশ্বাস ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কে যাবে কে যাবে না এটা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ভালো কিছু হবে।
প্রশ্ন : মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আবার জাতীয় দলে দেখা যাবে?
মাশরাফি : জাতীয় দলে আর ফেরা হবে না। একেবারে মাইনাস একশ।
প্রশ্ন : জাতীয় দলে ফিরবেন না, তাহলে ঘরোয়া ক্রিকেট কতদিন চালিয়ে যাবেন?
মাশরাফি: ক্লাব ক্রিকেটে তো আর বয়সের ব্যাপার নেই। আর বয়স ক্লাব ক্রিকেট খেলার মতো নেই, সেটাও তো না। চল্লিশ এখনো হয়নি।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে তো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেয়ার চল নেই। আপনি কি ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেট ছাড়বেন?
মাশরাফি : এটার একটা সুযোগ আছে। ক্লাব থেকে বলে অফিশিয়ালি যাওয়ার ইচ্ছা আছে। (জাতীয় দলে) আমি ফিরতে চাইলেও তো আমাকে আর ফেরানো হবে না।
প্রশ্ন : হঠাৎ করে রাজনীতিতে। একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন নিশ্চয়ই। নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
মাশরাফি : আবার রাজনীতিতে চলে গেলেন! তিন বছরের দুই বছরই তো করোনায় চলে গেল। কাজ করতে পারলাম কোথায়! মানুষকে খুশি করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। দিনের পর দিন আপনি শ্রম দিয়ে যাবেন কিন্তু দেখবেন কিছু মানুষ আপনার ওপরে খুশিই না। কিন্তু যখন আপনি চলে যাবেন, তখন দেখা যাবে, আগে যারা খুশি ছিল, তারাই বলবে- ও গেছে, বেঁচে গেছি। আবার যারা অখুশি ছিল, তারা বলবে- ও থাকলেই ভালো ছিল। মানুষের জীবন তো এ রকমই।