পরম্পরা তাহলে ধরে রাখল চেলসি! কোচ টমাস টুখেলকে মৌসুমে শুরু হতে না হতেই ছাঁটাই করে কি সে ইঙ্গিতই দেওয়া হলো?
গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চমকে দিয়েছে দিনামো জাগরেব। ঘরের মাঠে কাল গ্রুপের ফেবারিট চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব। রাত পেরিয়ে সকাল হতেই খবর চলে এসেছে, ছাঁটাই হয়েছেন চেলসি কোচ।
২০০৩ সালে চেলসির মালিকানা বুঝে পেয়েছিলেন রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার জেরে ক্লাব বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার আগে ১২ জন কোচকে ক্লাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। চটজলদি সাফল্য না পেলেই কোচ ছাঁটাই করায় বেশ নামডাক হয়ে গিয়েছিল তার।
গত মে মাসে আমেরিকান টড বোয়েলি চেলসি কিনে নিয়েছেন। চার মাস পূর্তিতেই একজন কোচ ছাঁটাই করে ফেললেন তিনিও!
এবারের দলবদলের বাজারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে চেলসি। ৩২ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। তাদের পছন্দের তিন খেলোয়াড় বার্সেলোনাকে বেছে নিয়েছেন, না হলে এই খরচ আরও বাড়ত নিঃসন্দেহে। এত খরচ করেও খুব একটা লাভ হয়নি। প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচ থেকে মাত্র ১০ পয়েন্ট পেয়েছেন টুখেল।
লিগে লিডস ও সাউদাম্পটনের কাছে হারা চেলসিকে কাল জাগরেবও হারিয়ে দিয়েছে। এতে ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে নতুন মালিকের। আজ এক বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, ‘চেলসির ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা টমাস ও তার স্টাফদের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। নতুন মালিকপক্ষ ক্লাবের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। ক্লাবকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন মালিকদের মনে হচ্ছে, এখনই সময় পরিবর্তন আনার।’
এই বিবৃতিতে টুখেলের চেলসি অধ্যায় ২০ মাসে শেষ হলো। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়ার ছয় মাসের মাথায় দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দিয়েছিলেন। এরপর উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপও জিতেছেন। কিন্তু এরপর থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিণতি তার।
বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ঐতিহাসিক এক ড্র আদায় করে নিয়েছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৪৮তম স্থানে থাকা ডিআর কঙ্গো। বুধবার (১৭ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে দুর্দান্ত সূচনা করলেও পরবর্তীতে কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ভিতিনাহরা। এই ড্রয়ের মাধ্যমে পর্তুগাল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও ডিআর কঙ্গো অর্জন করেছে তাদের ফুটবল ইতিহাসের এক গৌরবময় মাইলফলক।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য বজায় রাখে পর্তুগাল। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় তারা। বাম দিক থেকে পর্তুগিজ উইঙ্গার পেদ্রো নেতোর একটি নিখুঁত ক্রসে দারুণ হেডে বল কঙ্গোর জালে জড়িয়ে দেন তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। শুরুর এই গোলের পরও পর্তুগাল খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক চ্যান্সেল এমবেম্বার নেতৃত্বে কঙ্গোর রক্ষণভাগ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় এবং তাদের আক্রমণভাগের ফুটবলার ইয়োয়ান উইসা বেশ কয়েকটি পাল্টা আক্রমণ শানাতে শুরু করেন।
প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় কঙ্গো। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৪৫+৪ মিনিট) একটি কর্নার আদায় করে নেয় আফ্রিকার দলটি। ডান দিক থেকে উড়ে আসা ক্রসে ফার পোস্টে সম্পূর্ণ ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা উইসা দারুণভাবে উঁচুতে লাফিয়ে এক শক্তিশালী হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। এই গোলের মাধ্যমে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতা ফেরার পাশাপাশি রচিত হয়েছে নতুন এক ইতিহাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল। এর আগে একটি আসরে অংশ নিলেও কোনো গোল করতে পারেনি দলটি, উল্টো ১৪টি গোল হজম করতে হয়েছিল তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে সমতা ভাঙার জন্য আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে গোলমুখ উন্মুক্ত করতে পারছিল না ফেভারিটরা। বিপরীতে কঙ্গো তাদের রক্ষণভাগ জমাট রেখে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা আক্রমণের ওপর জোর দেয়। পর্তুগালের আক্রমণগুলো বারবার কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের প্রতিরোধে প্রতিহত হয়ে যায়। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কোনো দলই আর গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকেরা। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব করতে নামেন তাওহিদ হৃদয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
এদিন প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। ৩ ওভারের মাথায় তানজিদ হাসান তামিম আউট হওয়ার পর সাইফ হাসান ১৪ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও সৌম্য সরকার দ্রুত ফিরে গেলে ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। পাঁচে নামা পারভেজ হোসেন ১০ রান এবং শামীম হোসেন ১ রান করে আউট হলে ব্যাটিং লাইনআপ বেশ চাপের মুখে পড়ে। অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলায়েন ১০ রান করে আউট হলে এক শ পার করার আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। তবে শেষ জুটিতে মেহেদী হাসানের ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রানের সময়োপযোগী ইনিংসে ভর করে ১৩১ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে অজিরা কিছুটা চাপে পড়লেও তরুণ অলরাউন্ডার কুপার কনোলির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় তারা। দলীয় ১৩ রানে ওপেনার জস ইংলিশকে বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন শরীফুল ইসলাম। এরপর ১৩ রান করা অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে আগের ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা ২২ বছর বয়সী কুপার কনোলি টি-টুয়েন্টিতেও তাঁর আগ্রাসী ফর্ম বজায় রাখেন। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৪৭ রানের এক কার্যকর ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি।
শেষদিকে টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে দিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পেস বোলিং অলরাউন্ডার আবদুল গাফফার সাকলায়েন ৪৭ রান করা কনোলিসহ মোট ২টি উইকেট শিকার করে নজর কেড়েছেন। তবে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্য সত্ত্বেও অজিদের জয়ের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করা যায়নি। ১০ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে গাফফার ২টি এবং শরীফুল, মোস্তাফিজ ও শেখ মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন। এই হারের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পরের ম্যাচে কঠোর পরীক্ষা দিতে হবে তাওহিদ হৃদয়ের দলকে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও। তবে শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র নন, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।
মেসি-নেইমারদের পাশাপাশি পেলে-ম্যারাডোনাকে কেন্দ্র করে আঁকা দেয়ালচিত্র দুটি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনেছে ভিন্ন আমেজ। গ্রাফিতিগুলো দেখতে ও ছবি তুলতে প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে ভিড় করছেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।
পেলের গ্রাফিতি অঙ্কনকারী ব্রাজিল সমর্থক ফারাবি বলেন, 'আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যাঁর হাতে তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তিনি যে কীর্তি গড়েছেন, তা আজও অনন্য।'
প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি তৈরির সময় ও পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'পুরো কাজটি শেষ করতে আমার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত লেগেছে। প্রথম দিন স্কেচ করতেই কেটে যায়। পরের দুই দিন রঙের কাজ করেছি। এখানে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন আমার কাজ করতে হয়েছে।
এদিকে ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী আর্জেন্টিনা সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, 'প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে একটা উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে আরও বাড়াতেই আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিই।'
শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতিটি আঁকতে তার প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাকে সহযোগিতা করেছে। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নেই গ্রাফিতিটির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুধু শাহজালাল হলই নয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেয়ালেও শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের হরেক রঙ। তবে চলতি প্রজন্মের তারকাদের ভিড়ে পেলে ও ম্যারাডোনার এই গ্রাফিতি দুটি ক্যাম্পাসে এনেছে নস্টালজিক হাওয়া।
আঁকার পর থেকেই তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই দুই শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ঐতিহাসিক ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর আজ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে টাইগাররা। এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হলো তরুণ তুর্কি তাওহীদ হৃদয়ের।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস তৃতীয় ওয়ানডেতে পাওয়া চোটের কারণে আজকের ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তার অনুপস্থিতিতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলাবেন পারভেজ হোসেন। এদিকে আজকের ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ২৪ ম্যাচে ২৪ উইকেট নেওয়া এই ক্রিকেটার লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে সক্ষম। একাদশে আরও জায়গা করে নিয়েছেন একদিন আগে হুট করে দলে যুক্ত হওয়া অভিজ্ঞ ব্যাটার সৌম্য সরকার।
বাংলাদেশ দলে স্পিন আক্রমণে থাকছেন রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান এবং পেস বিভাগে মুস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলামের সাথে যোগ দেবেন নবাগত আব্দুল গাফফার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে আজ নতুন ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছে স্বাগতিকরা। ২০০৫ সালের পর এবারই প্রথম অজিদের বিপক্ষে কোনো সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যা দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে রেখেছে। চট্টগ্রামের উইকেটে বড় রান সংগ্রহ করে সফরকারীদের চাপে ফেলাই এখন অধিনায়ক হৃদয়ের প্রধান লক্ষ্য।
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রচলিত প্রথা ভেঙে ধর্মীয় অনুভূতি ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ফিফা। সৌদি আরবের পর এবার ইরাকের জাতীয় পতাকার ক্ষেত্রেও বিশেষ মর্যাদা নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সাধারণত বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিশালাকার পতাকা মাঠে নামিয়ে প্রদর্শন করার নিয়ম রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পতাকায় পবিত্র ‘কালিমা’ খচিত থাকায় ফিফা সেটি মাটি স্পর্শ করতে দেয়নি, যা নিয়ে আগেই ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। এবার ইরাকের পতাকার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করল ফিফা। ইরাকি পতাকায় পবিত্র ‘আল্লাহু আকবার’ বাণী লেখা থাকায় সেটিও মাটিতে না নামিয়ে উঁচিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে।
ফিফা শুরুতে ওজনজনিত কারণে মাঠের ঘাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এই অনুরোধটি বাতিল করার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠানে ইরাকের পতাকাটি সসম্মানে উঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে। তবে কেবল একটি দেশের পতাকাকে বিশেষ মর্যাদা দিলে অন্য দলের প্রতি বৈষম্য হতে পারে—এমন বিতর্ক এড়াতে ফিফা অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়। ইরাকের পাশাপাশি তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ের জাতীয় পতাকাটিও পুরো অনুষ্ঠান চলাকালীন সমান উচ্চতায় উঁচিয়ে রাখা হয়। এর ফলে মাঠে উভয় দেশের প্রতি সমান মর্যাদা ও এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের আবহ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব ও ইরাকের জাতীয় পতাকায় ধর্মীয় পবিত্র লিপি বা বাণী খচিত রয়েছে। ফিফার এই সময়োপযোগী ও সংবেদনশীল পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সমাদৃত হচ্ছে।
দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই রাজকীয় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ খেলা দলটি উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত জর্ডানকে ৩-১ গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার ম্যাচে অস্ট্রিয়ানদের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বাড়িয়ে দিল।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া জর্ডানের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল অস্ট্রিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ২১তম মিনিটে রোমানো শ্মিডের গোলে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধ এই ব্যবধানেই শেষ হয়। তবে বিরতির পর জর্ডান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় আলি ওলওয়ানের গোলে সমতায় ফিরে চমকে দেয় অস্ট্রিয়াকে।
জর্ডানের এই খুশির আমেজ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৭৬তম মিনিটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক আত্মঘাতী গোল করে আবারও পিছিয়ে পড়ে জর্ডান। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে অস্ট্রিয়া তাদের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নিলে জর্ডানের ফেরার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়া।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে শুভসূচনা করল অস্ট্রিয়া। তবে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, কারণ পরের ম্যাচেই তাদের লড়তে হবে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে জর্ডান।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের তিনটি গোলই করেছেন অধিনায়ক মেসি, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও রেকর্ডসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
ম্যাচের ফলাফল: কানসাস সিটিতে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৭, ৬০ ও ৭৬ মিনিটে গোল তিনটি করে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লিওনেল মেসি।
ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ: এই ৩ গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৬টি। এর ফলে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার করা বিশ্বকাপের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন।
ইতিহাসের প্রথম ৬টি বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০০৬-২০২৬) অংশ নেওয়ার একক রেকর্ড এখন মেসির দখলে।
২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক: আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আজ নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ পূর্ণ করলেন মেসি। ফুটবল ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার মোট গোলসংখ্যা ১২০টি।
বয়োজ্যেষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী ও গোলদাতা: ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড গড়লেন। একইসঙ্গে তিনি রজার মিলার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা প্রবীণতম খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
পাঁচ বিশ্বকাপে গোল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন মেসি।
ম্যাচসেরার নতুন উচ্চতা: আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে বিশ্বকাপে মোট ১২টি 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জেতার রেকর্ড গড়লেন তিনি, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রয়েছে ৭টি পুরস্কার।
বক্সের বাইরে থেকে গোল: আজকের ম্যাচে দূরপাল্লার শটে গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে মোট ৫টি গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন মেসি, যা ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনোর রেকর্ডের সমান।
আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বৈত রেকর্ড: আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার বিরল রেকর্ড এখন এককভাবে লিওনেল মেসির।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এমন রাজকীয় শুরু আর্জেন্টিনার ভক্তদের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। জাদুকরী এই হ্যাটট্রিকের রাতে মেসি কেবল আলজেরিয়াকেই হারাননি, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটিকে আরও উজ্জ্বলভাবে খোদাই করে নিয়েছেন।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেমেই দারুণ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দল আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে। পুরো ম্যাচে নিজের একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে প্রায় একাই ভেঙে দেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই মেসির এমন পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার জন্য দারুণ আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস পেয়ে প্রায় পঁচিশ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত দিয়ে চেষ্টা করেও তা ঠেকাতে পারেননি।
দ্বিতীয় গোলেও ছিল ভুলের বড় ভূমিকা। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন লুকা জিদান। বল সামনে চলে এলে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি মেসি। ঠান্ডা মাথায় আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দ্বিতীয়ার্ধে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক নিচু শটে গোল করে নিজের তৃতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন মেসি। এতে ম্যাচ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আরও একটি বড় রেকর্ড গড়েন মেসি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি তার শততমেরও বেশি গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ষোলোতে, যা জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান।
এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার কীর্তিও এখন মেসির দখলে। বয়স আটত্রিশ বছর তিনশো সাতান্ন দিনেই তিনি এই অসাধারণ অর্জন করেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও আর্জেন্টিনা ছিল এগিয়ে। বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে তারা ছিল অনেক বেশি কার্যকর। অন্যদিকে আলজেরিয়া কিছুটা বল নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের সামনে কার্যকর কিছুই করতে পারেনি।
সব মিলিয়ে মেসির জাদুকরী রাতেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করল আর্জেন্টিনা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ফরাসিদের কিছুটা ছন্দহীন দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ডময় পারফরম্যান্সে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। এই ম্যাচের মাধ্যমে একই জাতীয় দলকে টানা চারটি বিশ্বকাপে কোচিং করানোর ইতিহাসে বিশ্বের মাত্র ষষ্ঠ কোচ হিসেবে অনন্য কীর্তি গড়লেন ফরাসি মাস্টারমাইন্ড দেশম।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট তারকাখচিত ফ্রান্স দলের জন্য বেশ হতাশাজনক ছিল। এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের বোঝাপড়ার ঘাটতি স্পষ্ট থাকায় প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি ফরাসিরা। অন্যদিকে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল প্রথমার্ধে অপেক্ষাকৃত বেশ সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে। খেলার ২৫তম মিনিটে সেনেগালের নিকোলাস জ্যাকসনের জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় ফ্রান্স। এছাড়া প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে ইসমাইলা সারও গোল করার একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সে এমবাপ্পেকে সাদিও মানে ট্যাকল করলে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে ফ্রান্স, তবে ভিএআর (VAR) যাচাইয়ের পর তা নাকচ হয়। তবে বেশিক্ষণ গোলখরা কাটাতে হয়নি ফরাসিদের; ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ৭৯তম মিনিটে দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৮২তম মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা থ্রু-পাস ধরে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা।
খেলার অতিরিক্ত সময়ে যোগ করা ৫ম মিনিটে (৯৫ মিনিট) সেনেগালের হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ইব্রাহিমা এমবায়ে। তবে তার ঠিক এক মিনিট পরেই যোগ করা ৬ষ্ঠ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই ঐতিহাসিক জোড়া গোলের সুবাদে সাবেক তারকা অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের কীর্তি টপকে মোট ৫৮ গোল নিয়ে এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিলেন এমবাপ্পে। একই সাথে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই ফরাসি তারকা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট এবং ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে তারা। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বড় এক প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় লিখেছে। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবং একের পর এক ধারালো আক্রমণ চালিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণব্যুহ ও তাদের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অদম্য প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি স্প্যানিশরা।
ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্পেনের আক্রমণগুলোতে তেমন কোনো ধার ছিল না, প্রথমার্ধের প্রথম ভাগে তাদের অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি। তবে বিরতির ঠিক পূর্বে চড়াও হতে শুরু করে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়েনরা। ফেরান তোরেসের একটি জোরালো শট গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল এক চমৎকার হেড নিলেও তা অসামান্য দক্ষতায় লুফে নেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তোরেস ও ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি নিশ্চিত গোলের আক্রমণ রুখে দিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হন ভোজিনিয়া, যিনি ম্যাচজুড়ে মোট ৭টি অসামান্য সেভ করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের গোলের বন্ধ্যাত্ব না কাটায় ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে এই তরুণ বিস্ময়বালকের ওপর ভরসা রাখতে বাধ্য হন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে ইয়ামালের এই মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এক বিরল ও কালজয়ী রেকর্ডের সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার বয়স ছিল ৪০ বছর ২২ দিন এবং ইয়ামালের সাথে তাঁর বয়সের ব্যবধান ছিল ২১ বছর ৪৫ দিন। ফিফা বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধানের নতুন রেকর্ড।
ইয়ামালকে নামানোর পরও স্প্যানিশ আক্রমণের সমস্ত ঢেউ কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ডিফেন্সের সামনে এসে আছড়ে পড়ে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গোলশূন্য ড্রয়ের আনন্দে মেতে ওঠে কেপ ভার্দের পুরো শিবির। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে পাওয়া এই ১ পয়েন্ট তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, একচেটিয়া আধিপত্যের পরও গোল করতে না পারার এই ব্যর্থতা ও পয়েন্ট হারানো টুর্নামেন্টের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য স্পেনের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয়রথ শুরুতে হোঁচট খাওয়ার পর এবার দলটির প্রধান তারকা নেইমারকে নিয়ে চরম দুঃসংবাদ পেল ফুটবল বিশ্ব। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর জানা গেছে, কাফ মাংসপেশির চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় নেইমার গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও সেলেসাওদের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত ১৭ মে তার বর্তমান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত তিনি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। সোমবারও দলের নিয়মিত মহড়ায় তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। ব্রাজিলের মেডিকেল বিভাগের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে যে, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দুটিতে নেইমারকে ছাড়াই লড়াই করতে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।
চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য এখন নেইমারকে নকআউট পর্বের আগে পুরোপুরি ফিট করে তোলা। এ প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা চাই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরুক। তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব তরুণদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
নেইমারের এই অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে হোঁচট খাওয়ার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এখন ব্রাজিলের জন্য অপরিহার্য। সমর্থকদের এখন একটাই প্রার্থনা—দল নকআউট রাউন্ডে পৌঁছাক এবং সেখানে যেন তাদের প্রিয় ‘নাম্বার টেন’ মহাতারকা পুনরায় মাঠে ফিরে হেক্সা মিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন।
চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন ভ্রমণ জটিলতার মধ্য দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে বাসে করে এসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলে আবার রাতেই ফিরে যাওয়ার মতো অমানবিক নিয়মের মাঝেও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিফা ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ঘাঁটি গেড়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এই বৈরী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেছিলেন, তারা কোনো স্বাভাবিক উৎসবমুখর আমেজ অনুভব করতে পারছেন না।
মাঠের লড়াইয়েও শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইরান। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজাহ জাস্ট চমৎকার এক ভলিতে কিউইদের এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইরান এবং ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ানের এক শৈল্পিক চিপ শটে সমতায় ফেরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে আবারও ক্রিস উডের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে লিড এনে দেন এলিজাহ জাস্ট। এবারও ইরানের সমতায় ফিরতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ মিনিট; রেজাইয়ানের লম্বা পাস থেকে নিখুঁত এক হেডে গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন মোহেবি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গেলেও অভিজ্ঞতার অভাবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা কিউইদের জন্য এই ড্রও বড় এক অর্জন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ ও জার্সি বদলের দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা ইরানি কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং মাঠে হাজার হাজার প্রবাসী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পতাকা হাতে খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—সব মিলিয়ে ইরানের এই ড্র ফুটবলের চেয়েও যেন বড় এক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকল।
দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না মিশর। দারুণ লড়াই করা আফ্রিকার দলটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে অনেকটা সময় এগিয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের কারণে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মিশর। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সালাহ। তার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বেলজিয়াম। অন্যদিকে শুরুতে মাঠে ছিলেন না রোমেলু লুকাকু।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় মিশর। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে বেলজিয়ামের জালে বল জড়ান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ এগিয়ে থাকা।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বেলজিয়াম। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার নেওয়া ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে পোস্টে। অল্পের জন্য সমতা ফেরানো হয়নি ইউরোপের দলটির।
তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও এক ভুলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।