শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

করুণারত্নের জোড়া ফিফটির পরও ইনিংস হারের শঙ্কায় শ্রীলঙ্কা

আপডেটেড
১৯ মার্চ, ২০২৩ ১৫:৪৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৩ ১৫:২৭

মুখ থুবড়ে পড়া শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে করেছিলেন ৮৯ রান। ওয়েলিংটন টেস্টে ফলোঅনে পড়া সফরকারীদের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে লড়াই করলেন করুণারত্নে। ৮৩ বলে খেললেন ৫১ রানের ইনিংস। তবু ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। ২ উইকেট খুইয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান তোলা সফরকারীদের ইনিংস হার এড়াতে এখনো দরকার ৩০৩ রান।

ওয়েলিংটনে লঙ্কানরা আসলে চাপা পড়েছে নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড়ের নিচে। ৪ উইকেটে কিউইদের তোলা ৫৮০ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা আগের দিনই ২ উইকেট খুইয়ে তুলেছিল ২৬ রান। খোয়ানোর মিছিল ছিল আজ দিনের শুরুতেও।

তৃতীয় ওভারেই নাইটওয়াচম্যান প্রবথ জয়াসুরিয়াকে আউট করেন টিম সাউদি। কিছু সময় পর ম্যাট হেনরির ফিরিয়ে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে। ৩৪ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে ফেলা দলের হয়ে এরপর উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন করুণারত্নে ও চান্দিমাল। আর কোনো উইকেট না হারিয়েই লাঞ্চে যান তারা।

কিন্তু লাঞ্চের পরই সেই নড়বড়ে শ্রীলঙ্কা। ব্রেসওয়েলকে ডাউন দ্য উইকেটে মারতে চান্দিমাল আউট হন ৩৭ রানে। তখনো লড়াই করে যাচ্ছিলেন করুণারত্নে। কিন্তু এক প্রান্তে তিনি কতক্ষণ লড়াই করবেন! একে একে সতীর্থদের বিদায় দেখে দলীয় ১৬৩ রানে বিদায় নিলেন তিনিও। ৬৬.৫ ওভারেই শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ ১৬৪ রানে। পেসার হেনরি ও স্পিনার ব্রেসওয়েল নেন তিনটি করে উইকেট।

৪১৬ রানে পিছিয়ে থাকা লঙ্কানদের ফলোঅন করায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৬ রানে আউট হওয়া ওপেনার ওসাদা ফার্নান্দো আবার ব্যর্থ, বিদায় নেন ৫ রান করে। তার বিদায়ের পর অবশ্য লড়াই করেছেন করুণারত্নে। সঙ্গী হিসেবে পান কুশল মেন্ডিসকে। তবে ব্যক্তিগত ফিফটির পর অধিনায়ক আউট হয়ে গেলে ভাঙে তাদের ৭১ রানের জুটি। ৫০ রান নিয়ে দিন শেষে অপরাজিত মেন্ডিস। সঙ্গী ম্যাথুস অপরাজিত ১ রানে। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ ম্যাথুস (১) দ্বিতীয় ইনিংসে এতটাই সাবধানী ব্যাটিং করেছেন যে, এই রানটি করতে খেলেছেন ৪০ বল!


নেইমারের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল সান্তোস

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৩
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলীয় ক্লাব ফুটবলে ভাস্কো দা গামাকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে সান্তোস। ২-১ ব্যবধানে জেতা এই ম্যাচে নেইমারের একক নৈপুণ্য ছিল নজরকাড়া। ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লড়াইটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেকে ফিরে পেতে লড়াই করছিলেন নেইমার। সিরি’আতে ফিরেই জোড়া গোল করার মাধ্যমে নিজের চিরাচরিত ছন্দে ফেরার জানান দিলেন এই ফরোয়ার্ড। খেলার ২৪তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত এক শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে সান্তোসকে লিড এনে দেন তিনি।

গোলের পর ভাস্কো সমর্থকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে চুপ থাকার সংকেত দেন এই ব্রাজিলীয় তারকা। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঢঙে নেচে গোলটি উদযাপন করেন নেইমার। মাঠের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় থিয়াগো মেন্দেসের সঙ্গে নেইমারের পুরোনো দ্বৈরথের কারণে।

২০২০ সালের এক তিক্ত স্মৃতি নিয়ে প্রথমার্ধেই মেন্দেসের সাথে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায় নেইমারকে। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে বারোসের গোলে সমতায় ফেরে ভাস্কো দা গামা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারো দৃশ্যপটে আসেন নেইমার। উইলিয়ান আরঁর চমৎকার একটি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক লিও জারডিমের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।

এই পরাজয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই পড়ে থাকল ভাস্কো দা গামা, যারা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের মুখ দেখেনি। অন্যদিকে, টানা হারের বৃত্ত ভেঙে এই জয়ে টেবিলের ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে সান্তোস।


ক্রিকেট খেলার মাঠে তর্ক, যুবকের জীবন শেষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক তারেক রহমান (২২) নিহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ঘরগাঁও এলাকায়। নিহত তারেক ওই গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত আতিক, তারেকের সমবয়সি ও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘরগাঁও গ্রামের একটি মাঠে স্থানীয় যুবকরা ক্রিকেট খেলছিলেন। খেলার সময় জোরে বল করার কারণে তারেক ও আতিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে আতিক তারেককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকরা জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


অলরাউন্ডারদের ‘সিংহাসন’ ফিরে পেলেন রাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব চলাকালীন আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে অলরাউন্ডারদের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছেন। অন্যদিকে, ব্যাটার ও বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের দুই তারকা অভিষেক শর্মা ও বরুন চক্রবর্তী। বিশ্বকাপের লড়াই যত জমে উঠছে, র‍্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সুপার এইটে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন সিকান্দার রাজা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিনি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে টপকে আবারও বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার হয়েছেন। বর্তমানে ২৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে রাজা শীর্ষে রয়েছেন, যেখানে সাইম ২৮১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছেন। এছাড়া অলরাউন্ডারদের তালিকায় ভারতের শিবম দুবে এবং আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীও নিজেদের অবস্থানের উন্নতি ঘটিয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ভারতের অভিষেক শর্মা তাঁর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে, যদিও চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাটে বড় কোনো রান নেই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান এখন ৬১ পয়েন্টের। পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান টুর্নামেন্টের অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা ডেভাল্ড ব্রেভিস এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বড় ধরনের উন্নতি করে র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ব্রুক ১৮তম অবস্থানে উঠে এসেছেন।

বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরুন চক্রবর্তী শীর্ষস্থানে থাকলেও বেশ কয়েকজন বোলার অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ এগিয়ে এক লাফে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, যা টুর্নামেন্টে তাঁর বোলিং প্রভাবের প্রমাণ দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাথু ফোর্ড এবং ভারতের যশপ্রীত বুমরা যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম স্থানে জায়গা পেয়েছেন। স্পিন বিভাগে গুড়াকেশ মোতিও বড় ধরনের উন্নতি করে শীর্ষ বিশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটের ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় ব্যাপক ওলটপালট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে ইংলিশ ক্লাবে যোগ দিলেন কিউবা মিচেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশী তরুণ ফুটবলার কিউবা মিচেল আবারও ইংল্যান্ডের চিরচেনা ফুটবল আঙিনায় ফিরে গেছেন। গত বছর বড় আশা নিয়ে তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে দেশের শীর্ষ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিলেও, শেষ পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে মাত্র ৬ মাসের মাথায় ক্লাব ছাড়েন এই ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। গত ৩ জানুয়ারি পারস্পরিক সমঝোতায় বসুন্ধরার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং সম্প্রতি দেশটির সপ্তম স্তরের দল গ্লুস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

সান্ডারল্যান্ড ও বার্মিংহাম সিটির মতো নামী ক্লাবের বয়সভিত্তিক একাডেমি থেকে উঠে আসা কিউবা মিচেল তাঁর এই নতুন পদক্ষেপকে ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। গ্লুস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং দলের সাফল্যে সর্বোচ্চ অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে গ্লুস্টার সিটি দক্ষিণ প্রিমিয়ার বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এবং পরবর্তী স্তরে উন্নীত হওয়ার দৌড়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কিউবা আশা করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে মৌসুমের বাকি সময়ে ক্লাবের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

বাংলাদেশে কাটানো সংক্ষিপ্ত সময়টি কিউবা মিচেলের ক্যারিয়ারে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে খেলেই তিনি প্রথমবারের মতো কোনো দেশের প্রথম সারির লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং জাতীয় দলে অভিষেকের সুযোগ পান। গত নভেম্বরে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হয়। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়েও তিনি মাঠে ছিলেন, যা ছিল দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। কিউবা জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করেছে, যা ইংল্যান্ডের ফুটবলে তাঁকে আরও ভালো করতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আবারও বিলেতের মাঠে নিজের মেধা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার।


মোনাকোর বিপক্ষে নাটকীয় ড্র, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত আসরের শিরোপাজয়ী পিএসজি এবার বেশ ঘাম ঝরিয়েই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল। প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে আরেক ফরাসি ক্লাব মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করলেও, প্রথম লেগের ৩-২ ব্যবধানের জয়টি লুইস এনরিকের দলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দিয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে প্যারিসিয়ানরা। তবে পিএসজির এই অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে মোনাকো মিডফিল্ডার মামাদু কুলিবালির দেখা লাল কার্ড, যা পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সারা ম্যাচজুড়ে পিএসজির আধিপত্য থাকলেও মাঠের লড়াই ছিল সমানে সমান। প্যারিসের দলটির দখলে ৬৮ শতাংশ বল থাকলেও প্রথমার্ধে মাঘনেশ অ্যাকলিউশের গোলে লিড নিয়ে এনরিকের শিষ্যদের চাপে ফেলে দিয়েছিল মোনাকো। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কাভারৎস্খেলিয়াকে ফাউল করে কুলিবালি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মোনাকো। এর আগপর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মোনাকোর হাতেই ছিল। তবে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার সুযোগ নিতে দেরি করেনি পিএসজি। লাল কার্ডের ঠিক পরের মিনিটেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। এর ৬ মিনিট পর খিচা কাভারৎস্খেলিয়া গোল করে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে মোনাকোর জর্ডান তেজে গোল করে ম্যাচ ড্র করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।

মোনাকোর কোচ সেভাস্তিয়েন পোকোগনলি ম্যাচ শেষে তাঁর ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তাঁর মতে, কুলিবালির লাল কার্ডই ছিল ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট। তিনি দাবি করেন, মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো ছিল একটি কঠোর এবং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। যদিও ১০ জন নিয়ে পিএসজির মতো দলের বিপক্ষে ড্র করতে পারায় তিনি খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, তারকাবহুল পিএসজির দুর্বলতাগুলো তাঁরা ঠিকই খুঁজে বের করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না।

অন্যদিকে, পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে স্বীকার করেছেন যে ম্যাচটি তাঁদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রথমার্ধে মোনাকোর দাপটের সামনে তাঁর দল কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। তবে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতায় তিনি সন্তুষ্ট। গত মৌসুমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতা পিএসজি এবার প্লে-অফ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে সক্ষম হলো। এখন নকআউট পর্বে নিজেদের পুরনো দাপট ফিরিয়ে আনাই হবে এনরিকের মূল লক্ষ্য।


বেনফিকাকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় লেগে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নকআউট পর্বের টিকিট কাটল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এর আগে প্রথম লেগে বেনফিকার মাঠে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা। ঘরের মাঠে ড্র করলেই চলত রিয়ালের, কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয় দিয়েই পরের রাউন্ডে পা রাখল তারা।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বুধবার রাতের এই ম্যাচে বল দখল এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই আধিপত্য বজায় রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ১৬টি শট নেয় তারা। অন্যদিকে বেনফিকা ৩৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে রিয়ালের গোলবার লক্ষ্য করে ১২টি আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। যদিও ম্যাচের প্রথম গোলটি হজম করতে হয়েছিল স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদকেই। ১৪তম মিনিটে রুই সিলভার গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বার্নাব্যু গ্যালারি, ১-০ তে এগিয়ে যায় বেনফিকা।

তবে ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেয়নি লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। মাত্র দুই মিনিট পরেই ১৬তম মিনিটে উরুগুইয়ান তারকা ফেডরিকো ভালভার্দের বাড়ানো পাসে নিখুঁত এক শটে চুয়োমেনি বল জালে জড়ালে সমতায় ফেরে রিয়াল। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুদল। দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের নেশায় মরিয়া হয়ে খেলতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। যদিও ফিনিশিংয়ের অভাবে বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল, তবে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ত্রাতা হয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি করেন ফেডরিকো ভালভার্দে। তাঁর বাড়ানো বল থেকে সহজ এক ফিনিশিংয়ে বেনফিকার জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস। ফলে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় রিয়াল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আরবেলোয়ার দল। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা আরও একবার প্রমাণ করল কেন তাদের এই টুর্নামেন্টের রাজা বলা হয়। বেনফিকার বিদায়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের সমীকরণ এখন আরও জমে উঠেছে।


শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে নিউজিল্যান্ড, বিশ্বকাপ থেকে লঙ্কানদের বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা। কলম্বোর মাঠে লঙ্কানদের জন্য ম্যাচটি ছিল টিকে থাকার লড়াই, কিন্তু মিচেল স্যান্টনারের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং রাচিন রবীন্দ্রর স্পিন জাদুতে ৬১ রানের বিশাল জয় পায় নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কিউইরা, যা তাদের সেমিফাইনালের পথে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হেরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই থেমে গেল।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। কিউই ওপেনার ফিল অ্যালেন ২৩ রান করে ঝোড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও মাঝপথে শ্রীলঙ্কার বোলাররা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ১২তম থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৫ রান তুলতে সক্ষম হয়, ফলে এক সময় তাদের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে। তবে শেষ দিকে চিত্র বদলে দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। এই দুই ব্যাটার মাত্র চার ওভারে ৮৪ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়েন। স্যান্টনার মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন, আর ম্যাককঞ্চি অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।

১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পেসার ম্যাট হেনরির তোপে দলীয় শূন্য রানেই বিদায় নেন পাথুম নিশাঙ্কা। পাওয়ার প্লের চাপ সামলে ওঠার আগেই কিউই স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। রাচিন একে একে কুশল মেন্ডিস ও অধিনায়ক দাসুন শানাকাসহ চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা শেষ করে দেন। কামিন্দু মেন্ডিসের ৩১ এবং দুনিথ ভেল্লালাগের ২৯ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা।

বল হাতে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করা রাচিন রবীন্দ্র একাই নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া ম্যাট হেনরি পান ২ উইকেট। এই জয়ের পর সুপার এইটের এই গ্রুপে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান তিনে থাকলেও তলানিতে থাকা শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিউইদের এই দাপুটে পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তাদের শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।


অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের দুটি টেস্টের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে দুই ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দেশ। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের অংশ হিসেবে এই সিরিজটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূচি অনুযায়ী, সিরিজের প্রথম টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে। এরপর ২২ থেকে ২৬ আগস্ট কুইন্সল্যান্ডের ম্যাককেতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি আয়োজিত হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩ সালে টাইগাররা প্রথমবারের মতো দেশটিতে টেস্ট সফরে গিয়েছিল। যদিও ২০২০ সালে এই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। দুই দেশ সর্বশেষ ২০১৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। এবার ডারউইন ও ম্যাককেতে লাল বলের ক্রিকেট ফিরছে দীর্ঘ বিরতির পর। বিশেষ করে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ২০০৪ সালের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে এই ভেন্যুটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেছিল।

ডারউইন ও ম্যাককে উভয় ভেন্যুই গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের 'টপ এন্ড' সিরিজের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও সেই চেনা প্রাঙ্গণে টেস্টের আমেজ ফিরছে। বাংলাদেশ সিরিজ শেষ করেই অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে তিনটি টেস্ট খেলতে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে অজিরা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের হাই-ভোল্টেজ টেস্ট সিরিজ খেলবে। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট ম্যাচ আয়োজনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই সফরটি অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত ক্রিকেট মৌসুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে।


সোরলোথের হ্যাটট্রিকে ক্লাব ব্রুগকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সোরলোথের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে ৩-৩ গোলে ড্র করায়, দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে (অ্যাগ্রিগেট) এই জয় তুলে নেয় তারা। পুরো ম্যাচে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কার্যকর আক্রমণ দিয়ে ঠিকই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য অ্যাতলেটিকোকে বেশ কঠিন পরীক্ষাতেই ফেলেছিল ক্লাব ব্রুগ। ৪৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় অ্যাতলেটিকো। অন্যদিকে, বল দখলে এগিয়ে থাকা ব্রুগ ৭টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখে। ম্যাচের ২৩ মিনিটেই সোরলোথের গোলে লিড পেয়ে যায় মাদ্রিদের দলটি। ব্রুগের গোলরক্ষক সিমোন মিগনোলেতের গায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৬ মিনিটে সেট পিস থেকে সতীর্থের পাস পাওয়া বলে হেড করে ক্লাব ব্রুগকে সমতায় ফেরান একুয়েডরের ডিফেন্ডার হোয়েল ওরদোনিয়েস। ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অ্যাতলেটিকো। ৪৬ মিনিটে সফরকারী ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে দলকে ফের এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড জনি কারদোসো। এরপরের গল্পটা শুধুই সোরলোথের। ৭৬ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। আর ৮৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি দলের ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ান দলটিকে আর কোনো সুযোগই দেয়নি স্বাগতিকরা। দাপুটে এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পা রাখল সিমিওনের শিষ্যরা।


হ্যারি ব্রুকের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দুর্দান্ত জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সবার আগে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে ইংলিশরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের অতিমানবীয় সেঞ্চুরিতে ৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানো ইংল্যান্ড এই জয়ে ২ ম্যাচে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল।

১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তারা টপ অর্ডারের তিন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায়। ফিল সল্ট শূন্য, জস বাটলার ৩ এবং জ্যাকব বেথেল মাত্র ৮ রানে সাজঘরে ফিরলে চরম চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। টম ব্যান্টনও মাত্র ২ রান করে বিদায় নিলে দলের বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি স্যাম কারান (১৬) এবং উইল জ্যাকসকে (২৮) সাথে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ব্রুক মাত্র ৫০ বলে তাঁর সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। যদিও জয় নিশ্চিত করার ঠিক আগ মুহূর্তে ১০০ রানে তিনি আউট হয়ে যান, তবুও তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসই ইংল্যান্ডের জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে তাদের শুরুটাও খুব একটা ভালো ছিল না। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ওপেনার সাইম আইয়ুব (৭) এবং পরবর্তীতে অধিনায়ক সালমান আলি আগা (৫) সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে যায় দলটি। এরপর তৃতীয় উইকেটে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। বাবর ২৪ বলে ২৫ রান করে আউট হলেও ফারহান ৪৫ বলে ৬৩ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন। এরপর ফখর জামানের ১৬ বলে ২৫ এবং শাদাব খানের ২৩ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তান ১৬৪ রানের সম্মানজনক স্কোর গড়ে তোলে। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লিয়াম ডুসন ৩টি এবং জোফরা আর্চার ও জেমি ওভারটন ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

ইংল্যান্ডের এই জয়ে ২ নম্বর গ্রুপের সেমিফাইনালের সমীকরণ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেছে। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করায় তাদের সেমিফাইনাল থেকে বঞ্চিত করা এখন বাকি দলগুলোর পক্ষে গাণিতিকভাবে অসম্ভব। পাকিস্তান দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ায় তারা শেষ ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড (১ পয়েন্ট) এবং শ্রীলঙ্কা (০ পয়েন্ট) পরস্পরের বিপক্ষে খেললেও কেউ ইংল্যান্ডকে টপকাতে পারবে না। ফলে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে রাজকীয় ঢঙেই শেষ চারের মঞ্চে পা রাখল গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।


চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বোদো/গ্লিমটের রূপকথার রাত: ইন্টার মিলানকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ের ছোট ক্লাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নরওয়ের ছোট ক্লাব বোদো/গ্লিমট। মঙ্গলবার রাতে সান সিরোতে ইতালিয়ান জায়ান্ট এবং গত আসরের ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে তারা। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলের জয়ের পর দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথম নরওয়েজিয়ান ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বোদো/গ্লিমট। ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এটি তাদের প্রথম অংশগ্রহণ হলেও, ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মতো বাঘা বাঘা দলকে হারিয়ে তারা আগেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত বোদোর কোচ কেতিল নাটসেন এই জয়কে ‘অবিশ্বাস্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নরওয়ের উত্তরের ছোট্ট একটি শহরের দলের এমন সাফল্য ফুটবল বিশ্বে নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছে। সান সিরোতে দ্বিতীয়ার্ধে জেনস পিটার হগ ও হাকোন এভজেনের গোলে স্বাগতিক দর্শকরা স্তব্ধ হয়ে যায়। ইন্টারের পক্ষে আলেসান্দ্রো বাসতোনি একটি গোল শোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে। ইন্টার মিডফিল্ডার নিকোলো বারেল্লা হতাশ কণ্ঠে স্বীকার করেছেন যে বোদো তাদের চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছে। আগামী পর্বে ম্যানসিটি অথবা স্পোর্টিং সিপির মুখোমুখি হবে এই চমক জাগানো দলটি।

শীতকালীন বিরতির কারণে গত নভেম্বরের পর থেকে বোদো কোনো ঘরোয়া লিগের ম্যাচ খেলেনি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা অব্যাহত ছিল। জানুয়ারি মাসের আগে এই প্রতিযোগিতায় কোনো জয়ের দেখা না পাওয়া দলটি একে একে ম্যানসিটি, অ্যাটলেটিকো এবং সর্বশেষ ইন্টারকে দুই লেগেই হারিয়ে টানা চার জয়ের রেকর্ড গড়েছে। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে আয়াক্সের পর ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরের কোনো দল হিসেবে এমন কীর্তি এই প্রথম। পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপটার মতে, এক মাস আগেও বোদোর শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.৩ শতাংশ। সিরি আ-তে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ইন্টারকে হারিয়ে তারা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইন্টার মিলান আধিপত্য দেখালেও ৫৮তম মিনিটে মানুয়েল আকাঞ্জির ভুলে বল পেয়ে যায় বোদো। গোলরক্ষক ইয়ান সমার প্রথম শটটি ফেরালেও ফিরতি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন হগ। এটি ছিল এবারের টুর্নামেন্টে তাঁর ষষ্ঠ গোল, যা কোনো নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়ের জন্য এক মৌসুমে সর্বোচ্চ। এরপর ৭২তম মিনিটে ইভজেন দলের দ্বিতীয় গোলটি করলে ইন্টারের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের পরিসংখ্যানে ইন্টার ৩০টি শট নিলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। ইন্টার ডিফেন্ডার ইয়ান বিসেক আক্ষেপ করে জানান, ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। অন্যদিকে বোদো তাদের সুযোগের শতভাগ ব্যবহার করে ঐতিহাসিক এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।


ভেস্তে গেল ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবার স্বপ্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের বহু প্রতীক্ষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত ও পাকিস্তানের ধ্রুপদী লড়াই দেখার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর টুর্নামেন্টের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসায় শেষ চারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে দুই দলই যদি নিজেদের গ্রুপ থেকে বাধা টপকে ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবেই কেবল আবারও এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ উপভোগ করা সম্ভব হবে।

টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্বের বর্তমান ফরম্যাট অনুযায়ী এক নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সেমিফাইনালে লড়বে দুই নম্বর গ্রুপের রানার্সআপ দলের সঙ্গে। একইভাবে দুই নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল মুখোমুখি হবে এক নম্বর গ্রুপের রানার্সআপের। মঙ্গলবার পাকিস্তানকে হারিয়ে ইংল্যান্ড দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দুই নম্বর গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং তাদের সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে পাকিস্তান তিন ম্যাচ খেলে বৃষ্টির বিড়ম্বনা ও হারের কারণে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের হাতে আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি থাকায় তারা জিতলেও সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট পাবে। ফলে তাদের পক্ষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব, সেমিফাইনালে উঠলে তাদের রানার্সআপ হয়েই উঠতে হবে।

অপরদিকে এক নম্বর গ্রুপে ভারতের অবস্থানও বেশ নড়বড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে শোচনীয় হারের পর ভারত বর্তমানে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের ওপরে অবস্থান করছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে ভারতকে এখন জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করতে হবে। ভারতের বর্তমান নেট রান রেট ঋণাত্মক (-৩.৮০০) হওয়ায় তাদের পক্ষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় অসম্ভব। ভারত যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তবে তাদেরও গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

যেহেতু টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল একে অপরের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে পারে না, তাই ভারত ও পাকিস্তানের শেষ চারে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ হয়ে গেছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে দুই দলের দেখায় ভারত দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের একমাত্র আশা, যদি দুই দলই নানা সমীকরণ মিলিয়ে ফাইনালে ওঠে, তবেই শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে আবারও দেখা যাবে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির লড়াই।


দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে টাইগাররা: পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সময় ও ভেন্যু চূড়ান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

এ বছরের শেষ দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস জুড়ে চলা এই সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টাইগাররা দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। জোহানেসবার্গের বিখ্যাত ওয়াউন্ডারার্স স্টেডিয়ামে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরুর মধ্য দিয়ে এই রোমাঞ্চকর সফরের পর্দা উঠবে। দ্বিতীয় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে সেঞ্চুরিয়নে ২৩ নভেম্বর থেকে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেঞ্চুরিয়নের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে লড়াই করতে নামবে বাংলাদেশ দল।

টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে সাদা বলের ক্রিকেটের লড়াই। ১ ডিসেম্বর ইস্ট লন্ডনে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। এরপর ৪ ও ৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে গবেরহা ও কেপটাউনে অনুষ্ঠিত হবে বাকি দুটি ওয়ানডে ম্যাচ। সীমিত ওভারের এই সিরিজে দুই দলের শক্তি ও কৌশলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। ওয়ানডে সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের উত্তেজনা শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর থেকে। কিম্বার্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি আয়োজনের পর ১২ ডিসেম্বর বেনোনিতে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ১৩ ডিসেম্বর সেঞ্চুরিয়নে শেষ টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ সফরের সমাপ্তি ঘটবে।

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এই সফরের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বিশেষ করে সুপার এইটে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বিশাল জয় প্রোটিয়াদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সফরের সূচি প্রকাশের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড তাদের ২০২৬-২৭ মৌসুমের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারও ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করার পরপরই তারা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। টাইগারদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিকূল কন্ডিশনে নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করাই হবে এই সফরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


banner close