মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

পারিশ্রমিক জটিলতায় এইচপি ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন না হেড কোচ

পারিশ্রমিক জটিলতায় এইচপি ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন না হেড কোচ
ছবি: অনুশীলনে উঠতি ক্রিকেটাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • পেইস বোলিং ক্যাম্প চলছে কক্সবাজারে

  • শ্রীলঙ্কান বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকের অধীনে কাজ করছেন উঠতি ক্রিকেটাররা

বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) টিমের পেইস বোলিং ক্যাম্প চলছে কক্সবাজারে। সেখানে শ্রীলঙ্কান বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকের অধীনে কাজ করছেন উঠতি ক্রিকেটাররা।

তবে, এইচপি ও বিসিবির জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে হেড কোচ টোবি রেডফোর্ডের ক্যাম্পে যোগ দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা। ১ জুন থেকে ক্যাম্পে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতায় নির্ধারিত তারিখে আসছেন না তিনি। এমনকি তার সঙ্গে চুক্তিও ছিন্ন করতে পারে বিসিবি।

মূলত পারিশ্রমিকের পুরো অর্থ ডলারে চাওয়ার কারণে তৈরি হয়েছে এমন জটিলতা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এইচপি ম্যানেজার জামাল উদ্দিন বাবু।

তিনি বলেন, ‘রেডফোর্ড আসার কথা ছিল। কিন্তু সে এখন নতুন করে দাবি তুলেছে। তার দাবি হল চুক্তির অর্থ পুরোটা ডলারে দেওয়ার জন্য। আমরা সেটা করতে পারছি না। কারণ বাংলাদেশ সরকার এটার অনুমোদন দেয় না।

‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার পারিশ্রমিকের ৮০ শতাংশ বিদেশি অ্যাকাউন্টে দেয়া যাবে৷ বাকি ২০ শতাংশ বাংলাদেশের কোনো অ্যাকাউন্টে দিতে হবে। রেডফোর্ড সেটা মানছেন না। উনি পুরোটা ওর বিদেশি অ্যাকাউন্টে চাচ্ছেন । তাকে বোঝানোও যাচ্ছে না।’

প্রথমবার তার পারিশ্রমিক বিদেশি অ্যাকাউন্টে দেয়া হয়েছিল বলে জানান বাবু। কিন্তু সেটা সরকারের বিশেষ ব্যবস্থায়। এবার তেমনটা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি যোগ করেন, ‘আবারও আগের মতো করতে হলে সরকারের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।’ রেডফোর্ড যোগ না দিলে হেড কোচের দায়িত্বে কে থাকবেন সে বিষয়ে এখনও কিছু নিশ্চিত করেনি বিসিবি।

মেয়েদের ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে

মেয়েদের ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে
নারী বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে বিভিন্ন দেশের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়করা। ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আইসিসির সভায় ২০২৪ মেয়েদের টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনে সিদ্ধান্ত হয়েছে

  • ২০২৬ সালে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে

আইসিসির বোর্ড সভায় ২০২৪-২০২৭ সময়কালে চারটি নারী ইভেন্টের আয়োজক দেশ চূড়ান্ত হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হবে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ, ২০২৬ সালে ইংল্যান্ড, ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত ও ২০২৭ সালে নারী টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা। তবে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে বাছাই পর্ব উৎরে মূল পর্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সভাশেষে এক বিবৃতিতে আইসিসি সভাপতি গ্রেগ বার্কলে বলেন, ‘আমরা নারীদের সাদা বলের ইভেন্টের জন্য বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে আয়োজক করতে পেরে আনন্দিত। নারীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করা আইসিসির কৌশলগত অগ্রাধিকার।’

আরেকটি বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিসিবি।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘২০২৪ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে পারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দারুণ খবর। বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসিকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। আমাদের এমন সময় ইভেন্টটি উপহার দেয়া হচ্ছে যখন নারী ক্রিকেটের বিকাশ ও প্রসার ঘটছে।’

বিসিবির নির্বাহী প্রধান আরও বলেন, ‘ এটি বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে। ছোট ছোট মেয়েদের ও নারী ক্রিকেটারদের বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের নারী ক্রিকেট ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। আর এই ইভেন্টটি বড় দলের সঙ্গে আমরা লড়তে পারি সেটা দেখানোর দারুণ এক মঞ্চ। বড় বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার সুনাম আছে বাংলাদেশের। আমি আশা করছি ২০২৪ সালেও আমরা ভালো একটা টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারব।’

একইসঙ্গে আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময়ও নিশ্চিত হয়েছে এই সভায়। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচন।


আন্তর্জাতিক টি-২০কে তামিমের বিদায়

আন্তর্জাতিক টি-২০কে তামিমের বিদায়
তামিম ইকবাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত বিশ্বকাপ না খেলে টি-টোয়েন্টি আর না খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন

  • এবার ফেসবুকে পেজে জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলবেন না টি-২০

অনুজদের সুযোগ করে দিতে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই টুর্নামেন্ট না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তামিম ইকবাল। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, আর বুঝি টি-টোয়েন্টিতে দেখা যাবে না জাতীয় দলের পরীক্ষিত এই ওপেনারকে। তিনি যে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে চান না সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আকার ইঙ্গিতে। তবে এ নিয়ে কখনোই সরাসরি কথা বলেননি। প্রশ্ন করলেও এড়িয়ে গেছেন।

এবার রাখ ঢাক না করেই সরাসরি জানিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছাড়ার কথা। রোববার রাতে নিজের স্বীকৃত ফেসবুকে এক পোষ্টে দিয়ে দিলেন অবসরের ঘোষণা।  সেই পোষ্টে তামিম লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

তামিম যে এই ঘোষণা দেবেন পরশু ওয়ানডে ম্যাচের আগে কিংবা পরেও কিছু জানা যায়নি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তামিম। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও টি-টোয়েন্টি ছাড়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পরই ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলবেন না টি-টোয়েন্টি।

২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক তামিমের। জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে তাকে দেখা যায় ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত সেটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে টি-টোয়েন্টিতে ৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন তামিম। ৭৮ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১ হাজার ৭৫৮ রান। গড় ২৪.০৪ ও স্ট্রাইক রেট ১১৬.৯৬। এই সংস্করণে বাংলাদেশের পক্ষে যে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে, সেটি তামিমেরই। ২০১৬ বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে তিনি খেলেছিলেন হার না মানা ১০৩ রানের ইনিংস।

ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়

ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়
নিজের শেষ টুর্নামেন্টে পাওয়া পদক মেয়ের হাতে তুলে দিলেন ফেলিক্স। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
  • ১৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন ফেলিক্স

  • বিদায়ী টুর্নামেন্টে ১০০ মিটার রিলেতে জিতলেন ব্রোঞ্জ

শুরু আছে যার, শেষ আছে তার। কিন্তু শুরু আর শেষের মাঝে সবাই নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলতে পারেন না! যেমনটা নিজেকে তুলেছেন অ্যালিসন ফেলিক্স। যুক্তরাষ্ট্রের এই ট্র্যাক তারকা অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে জিতেছেন ৩০টি পদক, যার ২০টিই সোনার। সেই অ্যালিসন ফেলিক্স পরশু বিদায় বলে দিলেন অ্যাথলেটিকসকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিনিতে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার রিলেতে দৌড়েছেন ফেলিক্স। আমেরিকার কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটের এটাই ছিল শেষ দৌড়। সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারের শেষটা সোনা দিয়ে শেষ হয়নি ৩৬ বছর বয়সী ফেলিক্সের। তাতে কী, ব্রোঞ্জ জিতে যখন বিজয় মঞ্চে উঠেছেন, তখন গ্যালারির দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে ঠিকই অভিবাদন জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটকে। করতালিরত ওই সব দর্শকের অভিব্যক্তিই বলছিল-বিদায় ফেলিক্স!

এবারের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এই একটি ইভেন্টেই দৌঁড়েছেন তিনি। আরও ভালো করে বললে শুরু রিলেতে দৌড়ানোর জন্যই নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট, শেষ দৌড়ও।

২০০৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার। আর পরশু যখন শেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটিতে দৌড়ালেন দুই টুর্নামেন্টের মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ১৮ বছরেরও বেশি সময়! গত শুক্রবারের দৌড় শেষে ফেলিক্স বললেন, এ দিন ভিন্ন অনুভূতি হয়েছিল আমার। এই প্রথমবারের মতো দৌড়ানোর সময় শুনতে পেয়েছি দর্শকদের। তারা আমার জন্য চিৎকার দিচ্ছে।

সবশেষ পদকটি নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১৯টি। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে এতগুলো পদক নেই আর কারোরই!

পরশু ট্র্যাকে যখন তিনি দৌড়েছেন, তখন দর্শক সারিতে ছিল তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ক্যামেরিনও। পদক জয়ের পর সেই পদক তিনি পরিয়ে দিয়েছেন মেয়ের গলায়। স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার আগে বললেন, ‘ঘরের দর্শকদের সামনে নিজের শেষ দৌড়টা দৌড়াতে পারা বিশেষ কিছু। আমার মেয়েও গ্যালারিতে ছিল। এই রাতটা আমি মনে রাখব। অসাধারণ এক অভিযাত্রা! অনেক উত্থান-পতন ছিল, কিন্তু খেলাটা সব সময় ভালোবেসেছি। ঘরের দর্শকদের সামনে শেষ করতে পারাটা অনেকটাই বৃত্তপূরণের মতো।’

এত দিন ট্র্যাকে থাকায় ইচ্ছেমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি। ইচ্ছে থাকলেও ক্যামেরিনের সঙ্গে একটা আইসক্রিম ভাগাভাগি করতে পারেননি। এবার করবেন। মেয়েকে সময় দেবেন। নিয়ম ধরে ফুটবল অনুশীলনে নিয়ে যাবেন ক্যামেরিনকে।

শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো

শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো
রাসেল ডমিঙ্গো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টি-টোয়েন্টি

  • ম্যাচ বাতিলের আগে ৮ উইকেটে ১০৫ রান তোলে বাংলাদেশ

প্রকৃতির বৈরিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতে পারেনি প্রথম টি-টোয়েন্টি। তবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি বাতিল হওয়ার আগে যথারীতি হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে যে পর্যন্ত খেলা হয়েছে, তাতে সাকিব আল হাসান আর নুরুল হাসান সোহান ছাড়া বলার মতো কেউ কিছু করতে পারেননি। প্রথমে ১৬ ওভার, পরে ১৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টি মাঠের দখল নিলে বাতিল হয়ে যায় ম্যাচ।

বাংলাদেশ দল সম্পর্কে একটা কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, টেস্টে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং করেন খেলোয়াড়রা, আর টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংটা হয় টেস্টের। তবে এদিন ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব-সোহানরা। ২টি চার ও ২টি ছয়ে ১৫ বলে ২৯ করেন সাকিব। আর ১ চার ও ২ ছয়ে ১৬ বলে ২৫ করেন সোহান। ব্যক্তিগত রানকে দুই অঙ্কে নিতে পারা বাকি ব্যাটসম্যান হলেন এনামুল হক বিজয়। ১০ বলে ১৬ রান করেছেন তিনি। রোমারিও শেফার্ড ৩টি ও হেইডেন ওয়ালশ ২টি উইকেট লাভ করেন।

ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য চাইলে তিনি ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণের ক্লান্তির অজুহাত দিতে পারতেন, অজুহাত দিতে পারতেন ডমিনিকায় এসে কোনো অনুশীলন না করেই ম্যাচে নেমে পড়ার। কিন্তু কোনো অজুহাতই এদিন দেখালেন না ডমিঙ্গো। উল্টো ম্যাচ বাতিল হওয়ার আগে ব্যাটাররা যে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন, এতেই স্বস্তি কোচের। রাসেল ডমিঙ্গোর ভাষায়, ‘লম্বা নৌ ভ্রমণ করে এখানে এসেছে ছেলেরা, আগের দিন (শুক্রবার) কোনো অনুশীলনও করা যায়নি। তবে কোনো অজুহাত নেই। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও একই অভিজ্ঞতা ছিল। ওরাও একই ফেরিতে ছিল, ওরাও অনুশীলন করতে পারেনি। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটারের একটু জড়তা ছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে খেলার মধ্যে না থাকায়। এদিন তাদের কিছুটা ম্যাচ অনুশীলন হয়েছে।’

লম্বা একটা সময় আফিফ-রিয়াদ ম্যাচে ছিলেন না। সেটি মনে আছে ডমিঙ্গোর। বললেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে রিয়াদ-আফিফের সবশেষ ম্যাচ ছিল সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেটা মাস দুয়েক আগে। সিরিজ যত এগোবে, তারা আরও ভালো হয়ে উঠবে। এদিন অন্তত কিছুটা খেলার সুযোগ পেয়েছি, ১২-১৩ ওভারের মতো অনুশীলন করতে পেরেছি এবং টি-টোয়েন্টির আবহে ফিরেছি। আমি নিশ্চিত, দ্বিতীয় ম্যাচে উন্নতি দেখবেন।’

ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না দলের। প্রথম ওভারেই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ফিরে গেলেও সাকিবের মারমুখী ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে ৩.২ ওভারেই বাংলাদেশ তুলে ফেলেছিল ৩৬ রান, ৫ ওভারে ৪৫! কিন্তু ভালোটা ধরে রাখতে না পারার সেই পুরোনো রোগ পেয়ে বসে দলকে। ৭ থেকে ১১ ওভারের মধ্যে ২১ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে পরের ম্যাচগুলোয় আরও ভালো ব্যাটিংয়ের আশা কোচ ডমিঙ্গোর, ‘আজকে (শনিবার) আগে বোলিং করতে পারলে ভালো হতো। তবে টস হেরে যাই আমরা। এটা খেলারই অংশ। ২ উইকেটে ৪৫ রান ছিল, শুরুটা ভালো করেছিলাম আমরা। এরপর সত্যিই বাজে ক্রিকেট খেলেছি। তবে আমি নিশ্চিত যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’


টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা
সমুদ্রে অসুস্থ হয়ে পড়া নুরুল হাসান সোহানের শুশ্রূষায় মেহেদি হাসান মিরাজ। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • সমুদ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এমনই ভয়াবহ যে টি-২০ সিরিজ শুরুর আগে কেউ অসুস্থ, কারও মাঝে কাজ করছে আতঙ্ক!

  • সমুদ্র ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়েন মাহমুদউল্লাহ, শরিফুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান

সিরিজ শুরুর আগে দলকে খোশ মেজাজে রাখতে বিভিন্ন বোর্ড কত কী করে! ভেন্যু শহরের সাফারি পার্ক, জাতীয় উদ্যান কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো দেখিয়ে নিয়ে আসে ক্রিকেটারদের। মন ভালো না থাকলে ক্রিকেটাররা তাদের সেরাটা দেবেন কী করে!

কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্ষেত্রে দেখা গেল উল্টোটা! আজ শনিবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মুখোমুখি হলেন ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার! সেটা এমনই যে, সিরিজ শুরুর আগে কেউ অসুস্থ, কারও মাঝে কাজ করছে আতঙ্ক!

সেন্ট লুসিয়া থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ভেন্যু ডমিনিকায় আসতে লম্বা সময় ধরে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। ফেরি করে এত দীর্ঘ সময় সমুদ্র ভবনের অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারেরই। তাই সমুদ্র যাত্রা শুরুর ঘণ্টা দেড়েক পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। পেসার শরীফুল ইসলাম, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে পড়ে। তাদের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সফরের অন্যরাও।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় খুব ভোরে ক্রিকেটারদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেরি। সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার পথে বিরতি ছিল মার্টিনেক দ্বীপে। যাত্রার শুরুতে ক্রিকেটারা আনন্দেই ছিলেন। অনেকেরই যে এটাই প্রথম সমুদ্র ভ্রমণ! কিন্তু ফেরি মূল সমুদ্র প্রবেশ করলে বড় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলতে থাকে ফেরি। মধ্য সমুদ্রে এমনিতেই ঢেউ বেশি। এদিন ঢেউয়ের তোড় আরও বেশি ছিল দুই দিন আগের সাইক্লোনের কারণে। তাই ফেরি ঢেউয়ে বেশি দোল খাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। আতঙ্ক থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। অসুস্থ হয়ে পড়াদের মধ্য ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, পেসার শরিফুল ইসলাম, উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এবং সাপোর্ট স্টাফের এক সদস্য। সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনেক- এই দেড় ঘণ্টার যাত্রাতেই একাধিকবার বমিও করেন কেউ কেউ। ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া এক ভিডিওতে ক্রিকেটারদের বমি করতে দেখা যায়। দেখা যায় অসুস্থ হয়ে ফেরির মেঝেতে শুরু আছেন তারা।

৪০ মিনিটের যাত্রা বিরতি ছিল মার্টিনেকে। ওই বিরতিতে মাটির দেখা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পান ক্রিকেটাররা। তাদের অবস্থা যাতে আরও খারাপ না হয়ে উঠে সে জন্য তারা মার্টিনেক থেকে বিমানে যাওয়ার দাবি তোলেন। দলের পক্ষ থেকে টিম ম্যানেজের নাফিস ইকবাল যোগাযোগ করেন বিসিবির সঙ্গে। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। সুযোগ ছিল না ফ্রেঞ্চ কলোনি মার্টিনেকের তাৎক্ষণিক ভিসা পাওয়াটাও, যাতে তারা মার্টিনেকে থেকে যেতে পারেন। অগত্যা ডমিনিকার উদ্দেশ্য আবার ফেরিতে ওঠা। আবার দুলতে থাকা ফেরিতে উত্থাল পাথাল ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেয়া! সাত সকালে শুরু হওয়া সমুদ্রযাত্রা শেষমেশ স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে শেষ হয়। আতঙ্ক নিয়ে ফেরি থেকে নামেন ক্রিকেটাররা।

আজ প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে মাঠে নামার আগে সেই আতঙ্ক ক্রিকেটাররা কাটিয়ে উঠতে পারেন কি না এখন এটাই দেখার!

তবে ক্রিকেটারদের এই ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণ বিসিবি দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দলীয় ক্রিকেটারদের যেখানে সমুদ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার পথে কেন ফেরিতে তুলে দেয়া হলো ক্রিকেটারদের?

স্বাগতিক দলের ক্রিকেট বোর্ডই সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সফর পরিকল্পনা করে থাকে। সফরকারী অনুমোদন দিলেই তা চূড়ান্ত হয়। তো ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা আর সাচ্ছন্দের কথা ভেবে  বিসিবির উচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের ফেরিযাত্রার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিমানে ডমিনিকা যাওয়ার প্রস্তাব দেয়ার। তখন কী ব্যাপারটা মাথায় ছিল না বিসিবির? থাকলে অন্তত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে বিমানে যাওয়ার প্রস্তাব দিত তারা। ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড সে প্রস্তাবে রাজি না হলে খবর হতো সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা মাথাতেই আসেনি বিসিবির। আর লম্বা সমুদ্রযাত্রা যে ক্রিকেটারদের অসুস্থতার কারণ হতে পারে সেটা তো নয়ই!

আজ থেকে শুরু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল কী করবে, সেটি এখন গৌন বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দলের সব সদস্যের সুস্থ হওয়া আর ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণের আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠা।