মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

টেন্ডুলকার ও ধোনিকে ছাড়িয়ে পন্ত

টেন্ডুলকার ও ধোনিকে ছাড়িয়ে পন্ত
সেঞ্চুরির পর ঋষভ পন্ত। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
  • একই দিনে শচীন টেন্ডুলকার ও মহেন্দ্র সিং ধোনির ভিন্ন দুটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন পন্ত

শুধু ভারত কেন, একটা সময় এই উপমহাদেশের প্রায় সব ব্যাটসম্যানেরই আদর্শ ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। আর কিপিংয়ের আদর্শ মহেন্দ্র সিং ধোনি! তো একই দিনে এই দুই ভারতীয় গ্রেটকে নাম রেকর্ড বইয়ের আলাদা দুটি পাতায় আড়াল করে দিলেন ঋষভ পন্ত!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল শুরু হওয়া এজবাস্টন টেস্টে দলের ভীষণ চাপের মুখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন পন্ত। আর তাতেই তিনি ভিন্ন দুটি রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন টেন্ডুলকার-ধোনিকে। ভারতের হয়ে দ্রুততম ১০০ ছক্কা মারার রেকর্ড এখন তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় উইকেটরক্ষকের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন ১১১ বলে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন পন্ত। এই ইনিংসটির মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেয় এই তথ্য- টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত ইনিংসের একপর্যায়ে ৯৮ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছিল ৫ উইকেট। সেখান থেকে অবশ্য সফরকারীরা উদ্ধার পেয়েছে পন্তের ইনিংসের কারণে। ৭ উইকেটে ৩৭১ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে ভারত।

দলকে উদ্ধার করতে বিরুদ্ধ স্রোতেই নিজের মতো করে খেলেছেন পন্ত। ৮৯ বলে করেছেন সেঞ্চুরি। ভারতীয় উইকেটরক্ষকদের মধ্যে এটাই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ধোনি সেঞ্চুরি করেছিলেন ৯৩ বলে।

যখন পন্ত উইকেটে খেলতে নামেন, তখন স্কোরবোর্ডে ভারত ৬৪/৩। এর কিছু সময় পরই ভারত হারিয়ে ফলে আরও দুই উইকেট। দলীয় স্কোর তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ভারত হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। সেখান থেকে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে দলে এগিয়ে নেন পন্ত। ২৩৯ বল খেলে ২২২ রানের জুটি গড়েন তারা। পন্ত আউট হলেও জাদেজা অপরাজিত আছেন। সেঞ্চুরি করেছেন তিনিও (১০০)।

১৯টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো পন্তের ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতদিন দ্রুততম ১০০ ছক্কার রেকর্ডটি ছিল শচীনের দখলে। সেটিকে ছাড়িয়ে গেছেন পন্ত।


মেয়েদের ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে

মেয়েদের ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে
নারী বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে বিভিন্ন দেশের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়করা। ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আইসিসির সভায় ২০২৪ মেয়েদের টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনে সিদ্ধান্ত হয়েছে

  • ২০২৬ সালে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে

আইসিসির বোর্ড সভায় ২০২৪-২০২৭ সময়কালে চারটি নারী ইভেন্টের আয়োজক দেশ চূড়ান্ত হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হবে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ, ২০২৬ সালে ইংল্যান্ড, ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত ও ২০২৭ সালে নারী টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন করবে শ্রীলঙ্কা। তবে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে বাছাই পর্ব উৎরে মূল পর্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সভাশেষে এক বিবৃতিতে আইসিসি সভাপতি গ্রেগ বার্কলে বলেন, ‘আমরা নারীদের সাদা বলের ইভেন্টের জন্য বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে আয়োজক করতে পেরে আনন্দিত। নারীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করা আইসিসির কৌশলগত অগ্রাধিকার।’

আরেকটি বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিসিবি।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘২০২৪ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে পারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দারুণ খবর। বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসিকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। আমাদের এমন সময় ইভেন্টটি উপহার দেয়া হচ্ছে যখন নারী ক্রিকেটের বিকাশ ও প্রসার ঘটছে।’

বিসিবির নির্বাহী প্রধান আরও বলেন, ‘ এটি বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে। ছোট ছোট মেয়েদের ও নারী ক্রিকেটারদের বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের নারী ক্রিকেট ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। আর এই ইভেন্টটি বড় দলের সঙ্গে আমরা লড়তে পারি সেটা দেখানোর দারুণ এক মঞ্চ। বড় বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার সুনাম আছে বাংলাদেশের। আমি আশা করছি ২০২৪ সালেও আমরা ভালো একটা টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারব।’

একইসঙ্গে আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময়ও নিশ্চিত হয়েছে এই সভায়। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচন।


আন্তর্জাতিক টি-২০কে তামিমের বিদায়

আন্তর্জাতিক টি-২০কে তামিমের বিদায়
তামিম ইকবাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত বিশ্বকাপ না খেলে টি-টোয়েন্টি আর না খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন

  • এবার ফেসবুকে পেজে জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলবেন না টি-২০

অনুজদের সুযোগ করে দিতে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই টুর্নামেন্ট না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তামিম ইকবাল। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, আর বুঝি টি-টোয়েন্টিতে দেখা যাবে না জাতীয় দলের পরীক্ষিত এই ওপেনারকে। তিনি যে আর টি-টোয়েন্টি খেলতে চান না সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আকার ইঙ্গিতে। তবে এ নিয়ে কখনোই সরাসরি কথা বলেননি। প্রশ্ন করলেও এড়িয়ে গেছেন।

এবার রাখ ঢাক না করেই সরাসরি জানিয়ে দিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছাড়ার কথা। রোববার রাতে নিজের স্বীকৃত ফেসবুকে এক পোষ্টে দিয়ে দিলেন অবসরের ঘোষণা।  সেই পোষ্টে তামিম লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আজকে থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

তামিম যে এই ঘোষণা দেবেন পরশু ওয়ানডে ম্যাচের আগে কিংবা পরেও কিছু জানা যায়নি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তামিম। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও টি-টোয়েন্টি ছাড়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পরই ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলবেন না টি-টোয়েন্টি।

২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক তামিমের। জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে তাকে দেখা যায় ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত সেটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে টি-টোয়েন্টিতে ৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন তামিম। ৭৮ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১ হাজার ৭৫৮ রান। গড় ২৪.০৪ ও স্ট্রাইক রেট ১১৬.৯৬। এই সংস্করণে বাংলাদেশের পক্ষে যে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে, সেটি তামিমেরই। ২০১৬ বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে তিনি খেলেছিলেন হার না মানা ১০৩ রানের ইনিংস।

ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়

ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়
নিজের শেষ টুর্নামেন্টে পাওয়া পদক মেয়ের হাতে তুলে দিলেন ফেলিক্স। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
  • ১৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন ফেলিক্স

  • বিদায়ী টুর্নামেন্টে ১০০ মিটার রিলেতে জিতলেন ব্রোঞ্জ

শুরু আছে যার, শেষ আছে তার। কিন্তু শুরু আর শেষের মাঝে সবাই নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলতে পারেন না! যেমনটা নিজেকে তুলেছেন অ্যালিসন ফেলিক্স। যুক্তরাষ্ট্রের এই ট্র্যাক তারকা অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে জিতেছেন ৩০টি পদক, যার ২০টিই সোনার। সেই অ্যালিসন ফেলিক্স পরশু বিদায় বলে দিলেন অ্যাথলেটিকসকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিনিতে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার রিলেতে দৌড়েছেন ফেলিক্স। আমেরিকার কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটের এটাই ছিল শেষ দৌড়। সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারের শেষটা সোনা দিয়ে শেষ হয়নি ৩৬ বছর বয়সী ফেলিক্সের। তাতে কী, ব্রোঞ্জ জিতে যখন বিজয় মঞ্চে উঠেছেন, তখন গ্যালারির দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে ঠিকই অভিবাদন জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটকে। করতালিরত ওই সব দর্শকের অভিব্যক্তিই বলছিল-বিদায় ফেলিক্স!

এবারের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এই একটি ইভেন্টেই দৌঁড়েছেন তিনি। আরও ভালো করে বললে শুরু রিলেতে দৌড়ানোর জন্যই নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট, শেষ দৌড়ও।

২০০৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার। আর পরশু যখন শেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটিতে দৌড়ালেন দুই টুর্নামেন্টের মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ১৮ বছরেরও বেশি সময়! গত শুক্রবারের দৌড় শেষে ফেলিক্স বললেন, এ দিন ভিন্ন অনুভূতি হয়েছিল আমার। এই প্রথমবারের মতো দৌড়ানোর সময় শুনতে পেয়েছি দর্শকদের। তারা আমার জন্য চিৎকার দিচ্ছে।

সবশেষ পদকটি নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১৯টি। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে এতগুলো পদক নেই আর কারোরই!

পরশু ট্র্যাকে যখন তিনি দৌড়েছেন, তখন দর্শক সারিতে ছিল তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ক্যামেরিনও। পদক জয়ের পর সেই পদক তিনি পরিয়ে দিয়েছেন মেয়ের গলায়। স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার আগে বললেন, ‘ঘরের দর্শকদের সামনে নিজের শেষ দৌড়টা দৌড়াতে পারা বিশেষ কিছু। আমার মেয়েও গ্যালারিতে ছিল। এই রাতটা আমি মনে রাখব। অসাধারণ এক অভিযাত্রা! অনেক উত্থান-পতন ছিল, কিন্তু খেলাটা সব সময় ভালোবেসেছি। ঘরের দর্শকদের সামনে শেষ করতে পারাটা অনেকটাই বৃত্তপূরণের মতো।’

এত দিন ট্র্যাকে থাকায় ইচ্ছেমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি। ইচ্ছে থাকলেও ক্যামেরিনের সঙ্গে একটা আইসক্রিম ভাগাভাগি করতে পারেননি। এবার করবেন। মেয়েকে সময় দেবেন। নিয়ম ধরে ফুটবল অনুশীলনে নিয়ে যাবেন ক্যামেরিনকে।

শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো

শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো
রাসেল ডমিঙ্গো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টি-টোয়েন্টি

  • ম্যাচ বাতিলের আগে ৮ উইকেটে ১০৫ রান তোলে বাংলাদেশ

প্রকৃতির বৈরিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতে পারেনি প্রথম টি-টোয়েন্টি। তবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি বাতিল হওয়ার আগে যথারীতি হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে যে পর্যন্ত খেলা হয়েছে, তাতে সাকিব আল হাসান আর নুরুল হাসান সোহান ছাড়া বলার মতো কেউ কিছু করতে পারেননি। প্রথমে ১৬ ওভার, পরে ১৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টি মাঠের দখল নিলে বাতিল হয়ে যায় ম্যাচ।

বাংলাদেশ দল সম্পর্কে একটা কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, টেস্টে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং করেন খেলোয়াড়রা, আর টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংটা হয় টেস্টের। তবে এদিন ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব-সোহানরা। ২টি চার ও ২টি ছয়ে ১৫ বলে ২৯ করেন সাকিব। আর ১ চার ও ২ ছয়ে ১৬ বলে ২৫ করেন সোহান। ব্যক্তিগত রানকে দুই অঙ্কে নিতে পারা বাকি ব্যাটসম্যান হলেন এনামুল হক বিজয়। ১০ বলে ১৬ রান করেছেন তিনি। রোমারিও শেফার্ড ৩টি ও হেইডেন ওয়ালশ ২টি উইকেট লাভ করেন।

ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য চাইলে তিনি ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণের ক্লান্তির অজুহাত দিতে পারতেন, অজুহাত দিতে পারতেন ডমিনিকায় এসে কোনো অনুশীলন না করেই ম্যাচে নেমে পড়ার। কিন্তু কোনো অজুহাতই এদিন দেখালেন না ডমিঙ্গো। উল্টো ম্যাচ বাতিল হওয়ার আগে ব্যাটাররা যে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন, এতেই স্বস্তি কোচের। রাসেল ডমিঙ্গোর ভাষায়, ‘লম্বা নৌ ভ্রমণ করে এখানে এসেছে ছেলেরা, আগের দিন (শুক্রবার) কোনো অনুশীলনও করা যায়নি। তবে কোনো অজুহাত নেই। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও একই অভিজ্ঞতা ছিল। ওরাও একই ফেরিতে ছিল, ওরাও অনুশীলন করতে পারেনি। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটারের একটু জড়তা ছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে খেলার মধ্যে না থাকায়। এদিন তাদের কিছুটা ম্যাচ অনুশীলন হয়েছে।’

লম্বা একটা সময় আফিফ-রিয়াদ ম্যাচে ছিলেন না। সেটি মনে আছে ডমিঙ্গোর। বললেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে রিয়াদ-আফিফের সবশেষ ম্যাচ ছিল সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেটা মাস দুয়েক আগে। সিরিজ যত এগোবে, তারা আরও ভালো হয়ে উঠবে। এদিন অন্তত কিছুটা খেলার সুযোগ পেয়েছি, ১২-১৩ ওভারের মতো অনুশীলন করতে পেরেছি এবং টি-টোয়েন্টির আবহে ফিরেছি। আমি নিশ্চিত, দ্বিতীয় ম্যাচে উন্নতি দেখবেন।’

ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না দলের। প্রথম ওভারেই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ফিরে গেলেও সাকিবের মারমুখী ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে ৩.২ ওভারেই বাংলাদেশ তুলে ফেলেছিল ৩৬ রান, ৫ ওভারে ৪৫! কিন্তু ভালোটা ধরে রাখতে না পারার সেই পুরোনো রোগ পেয়ে বসে দলকে। ৭ থেকে ১১ ওভারের মধ্যে ২১ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে পরের ম্যাচগুলোয় আরও ভালো ব্যাটিংয়ের আশা কোচ ডমিঙ্গোর, ‘আজকে (শনিবার) আগে বোলিং করতে পারলে ভালো হতো। তবে টস হেরে যাই আমরা। এটা খেলারই অংশ। ২ উইকেটে ৪৫ রান ছিল, শুরুটা ভালো করেছিলাম আমরা। এরপর সত্যিই বাজে ক্রিকেট খেলেছি। তবে আমি নিশ্চিত যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’


এক ওভারে ব্রডের ৩৫!

এক ওভারে ব্রডের ৩৫!
বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ছয় ছক্কা হজম করা বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড। ২০০৭ বিশ্বকাপে ডারবানে তার ৬ বলে ৬ ছক্কা মেরেছিলেন যুবরাজ সিং। সেই ঘটনার ১৫ বছর পর তার ছক্কা খাওয়ার স্মৃতি গতকাল ফিরে এসেছিল এজবাস্টনে! এদিন অবশ্য ছয় বলে ছয় ছক্কা হজম করতে না হলেও টেস্ট ক্রিকেটে এক ওভারে সর্বোচ্চ ৩৫ রান দেয়ার রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ পেসার।

আর ব্রডের এক ওভারে এই রান যিনি নিয়েছেন, তিনি স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নন। মূলত তিনি বোলার-যশপ্রীত বুমরা! এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ভারতের ইনিংসে ৮৪তম ওভারে অনাকাঙ্ক্ষিত এই রেকর্ডের জন্ম হলো বুমরার অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের সুবাদে। ওই ওভারে কী মনে করে যেন ব্রডের ওপর চড়াও বুমরা। অন্য প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ সিরাজকে আর স্ট্রাইক না দিয়েই বেধড়ক পিটিয়ে গেলেন। তাতে ব্রডের ওই এক ওভারে এল- ৪, ৫ (ওয়াইড), ৭ (নো বল), ৪, ৪, ৪, ৬ ও ১! সব মিলিয়ে রান উঠল ৩৫। টেস্টে এক ওভারে এটি সর্বোচ্চ রান নেয়ার রেকর্ড।

আগে এই রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার। ২০০৩ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার রবিন পিটারসনের এক ওভারে ২৮ রান নিয়েছিলেন লারা। অবশ্য লারার এই রেকর্ড কেড়ে নিতে ব্রডের অবদানও (!) ছিল।

নো বল করেছেন, বাউন্সার দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে ওয়াইড করেছেন, ইংল্যান্ডের উইকেট কিপার স্যাম বিলিংস লাফিয়েও ধরতে পারেননি, বল সোজা বাউন্ডারিতে। বাজে লেংথেও বল করেছেন। ১৬ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন বুমরা।  আর ৪১৬ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করেছে ভারত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংস শুরু করে ২ উইকেট হারিয়ে ৩১ রান তুলেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।