শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

এক দিন আগেই শুরু হবে কাতার বিশ্বকাপ

এক দিন আগেই শুরু হবে কাতার বিশ্বকাপ
কাতার বিশ্বকাপ
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

কিছুদিন আগেই শোনা যাচ্ছিল কাতারে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপের সূচি বদলে যাচ্ছে। এবার তা-ই হলো।কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি একদিন এগিয়ে নিয়ে এসেছে ফিফা।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এ ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার ফলে ২১ নভেম্বরের গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের পর্দা উঠছে ২০ নভেম্বর। ফিফার এ ঘোষণায় ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে ২৯ দিনে শেষ হবে এ বিশ্বকাপ।

আগের সূচি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচে সেনেগাল ও নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল।আর নতুন সূচি অনুসারে স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডর উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে।

বিবৃতিতে ফিফা জানায়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনকেন্দ্রিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে ফিফা। সাধারণ উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে থাকে স্বাগতিক বা শিরোপাধারীরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই এ পরিবর্তন এনেছে ফিফা।


জয়টা স্বস্তির, জয়ের ধরন নয়

জয়টা স্বস্তির, জয়ের ধরন নয়
ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

র‍্যাঙ্কিং নিয়ে খুব কথা হচ্ছিল ম্যাচের আগে। তবে মাত্র ১৮ ধাপ এগিয়ে থাকা কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য নিয়ে মাতামাতির তেমন কিছু কি ছিল? ২১১টি দেশের মধ্যে ১৭৪ আর ১৯২তম দুই দলের লড়াইয়ে র‍্যাঙ্কিং বড় কিছু বলতেই তো বাধো বাধো ঠেকে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছিলেন, ম্যাচটা ফিফটি-ফিফটি হবে। নমপেনে কাল প্রীতি ম্যাচটা সমানে-সমানই হয়েছে বলা যাবে না। সাদা চোখে দেখা পারফরম্যান্স কম্বোডিয়াকেই অনেক এগিয়ে রাখবে। তবে স্কোরলাইন এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশকে- এতটুকুই স্বস্তি কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। প্রথমার্ধে রাকিব হোসেনের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে দল- বাংলাদেশের ডাগআউটে সপ্তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেলেন হাভিয়ের কাবরেরা।

এর বাইরে পারফরম্যান্সে স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার উপকরণ তেমন ছিল না। এতটুকু বলা যায়, নিরপেক্ষ কোনো দর্শক কাল নমপেনের ম্যাচটি দেখলে দুই দলের মধ্যে কম্বোডিয়ারই খেলা আরও দেখতে চাইতেন। ত্রিভুজ গড়ে পাসিং, দ্রুতগতিতে ওঠানামা, উইং ধরে আক্রমণ- জাপানের সাবেক ফরোয়ার্ড কেইসুকে হোন্ডার সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব নিয়ে রিউ হিরোসে দলটাকে দারুণ ফুটবলই খেলাচ্ছেন।

তুলনায় বাংলাদেশ কী করেছে? রক্ষণে ভালো খেলেছে বটে, তবে ৪-২-৩-১ ছকে নামা বাংলাদেশের মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ছিল না। রক্ষণে ৫-৪-১ ছক থেকে দ্রুতই আক্রমণে ২-৩-৫ ছকে উঠে যাচ্ছিল কম্বোডিয়া। তাদের পাসিং ফুটবলের চাপে বারবার মাঠের ভেতরের দিকে ‘ন্যারো’ হয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ, সে সুযোগে টাচলাইন ধরে দৌড়ানো দুই উইঙ্গারকে দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠেছে কম্বোডিয়া।

কখনো উইং থেকে ক্রসে, কখনো মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা থ্রু-তে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেও অনেক। তবে কখনো শট ঠিকমতো না হওয়া, কখনো বাংলাদেশ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো দারুণ সেভ করায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

বরং ম্যাচে গোলের পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশই। ১৪ মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে বক্সে বল পেলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া শটটা পোস্টে রাখতে পারেননি। ২৩ মিনিটে হঠাৎ গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে পাস পেয়ে বল ধরে এগিয়ে যান মতিন মিয়া, তার থ্রো ধরে প্রথম স্পর্শেই শট রাকিব হোসেনের। কম্বোডিয়া গোলকিপারের পজিশনিং ঠিক ছিল না, লাফিয়ে আর বলের নাগাল পাওয়া হলো না তার। বাংলাদেশের জার্সিতে রাকিবের প্রথম গোলে ম্যাচে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

এর আগে ১৯ মিনিটে অবশ্য কম্বোডিয়ার সিন কাকাদার শট দারুণ ঝাঁপিয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। দ্বিতীয়ার্ধেও কম্বোডিয়ারই দাপট ছিল, তবে ৭৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটা পেয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশই। বক্সের বাইরে থেকে মতিন মিয়ার শট বার কাঁপিয়ে ফিরে আসায় বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধানটা আরও বড় হয়নি।

ম্যাচের পরিসংখ্যান অবশ্য খেলার ধরনের বিরুদ্ধেই কথা বলছে। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ম্যাচে বলের দখল বাংলাদেশের পায়েই ছিল ৫৫ শতাংশ সময়ে। পোস্টমুখী শটও বাংলাদেশের ৩টি, কম্বোডিয়ার দুটি। পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যাওয়া শট মিলিয়ে হিসেব করলে অবশ্য শটের সংখ্যায় কম্বোডিয়া ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে এসব পরিসংখ্যান ছাপিয়ে দিন শেষে যে পরিসংখ্যান বড় হয়ে উঠছে, তা হলো- কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচে এখনো অপরাজিত বাংলাদেশ টানা তিনটিসহ জিতেছে ৪ ম্যাচ। স্বস্তি খুঁজে নিতে চাইলে এসবেই খুঁজে নিতে পারেন। বাংলাদেশের খেলার ধরন কিন্তু স্বস্তি দিতে পারেনি। 


বড় বিব্রতকর !

বড় বিব্রতকর !
ছবি: ফেসবুক।
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

শাহরিয়ার ফিরোজ

চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিভিন্ন ইউরোপীয় লিগের ম্যাচ টিভিতে দেখতে বসলে আগে মাথার মধ্যে একটা প্রশ্ন খুব উঁকি দিত। আমাদের দেশ কিংবা এই উপমহাদেশের স্টেডিয়াম মানেই মাঠ আর গ্যালারির মাঝে গ্রিলের ফেন্সিং। ওদের মাঠে ফেন্সিং থাকে না কেন?

মাঠে এই ফেন্সিংয়ের উপযোগিতা যখন বুঝেছি, একটা হীনম্মন্যতাও কাজ করেছে– দর্শক গ্যালারিতেও আমরা সুশৃঙ্খল হতে শিখিনি। ‘গর্বের’ বিষয়, এই ‘আমরা’র মধ্যে উপমহাদেশের বাইরে এশিয়া, আফ্রিকার মানুষও আছে। খেলা দেখতে গিয়ে যাদের উথলে ওঠা আবেগ সামাল দেয়া কঠিন। তাদের আটকানোর জন্যই মাঠে লোহার গ্রিলের বেড়ার ‘সুব্যবস্থা।’

তাই আমরা ফেন্সিং দেয়া মাঠ দেখেই অভ্যস্ত। যেমন অভ্যস্ত ট্রফি জিতলে ‘চ্যাম্পিয়নস’ লেখা বোর্ডের সামনে খেলোয়াড়দের সংখ্যালঘু বানিয়ে কর্মকর্তাদের আধিক্য দেখতেও। যার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি আমাদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়া মেয়েদের বিজয় সংবর্ধনায়ও। সানজিদা-সাবিনাদের ট্রফি জয়ের পর বাফুফে যেসব ছবি পাঠিয়েছে, তার বেশির ভাগ ছবিতেই লাল জার্সি পরা মেয়েদের ঘিরে দাঁড়িয়ে কালো স্যুট পরা কর্মকর্তারা।

এটুকু বুকে হাত রেখেই বলা যেতে পারে, ফুটবলে বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা প্রেরিত কোনো ছবিতেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বহর দেখা যায় না। পেছনের দিকে কখনো কোচকে দেখা যায়, কখনো তাকেও দেখা যায় না।

তবু মাঠে ফেন্সিং থাকার মতো চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের ফটোশ্যুটে না হয় কর্মকর্তাদের বহরও মেনে নেয়া হলো, কিন্তু দেশে আসার পর চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের নিয়ে পদে পদে যা হলো, সেটা মেনে নেয়া তো কষ্টকর! বিমানবন্দরে চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের মিষ্টিমুখ করালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। টিভিতে দেখা গেল তিনি যখন মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন, সেখানে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের বাইরে চ্যাম্পিয়ন দলের আর কোনো মেয়েই নেই। গাট্টাগোট্টা শরীরের কর্মকর্তাদের দাপুটে উপস্থিতিতে খেলোয়াড়েরাই ‘সংখ্যালঘু।’ মনে হচ্ছিল যেন কর্মকর্তাদের জন্যই এই মিষ্টিমুখ-সংবর্ধনার আয়োজন!

ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রায়ও কখনো কখনো কর্মকর্তাদের মুখ দেখানোর প্রবণতা চোখে লেগেছে। বাসে ঐতিহাসিক এক ক্লাবের কর্মকর্তাকেও দেখা গেছে ঘটা করে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন, যিনি এত বছর তার ক্লাবে মেয়েদের দল চালুর আগ্রহই কখনো দেখাননি, বাংলাদেশের মেয়েদের দলের সঙ্গে যার কোনো সংশ্লিষ্টতা কখনো ছিল বলে দেখা, শোনা বা জানা যায়নি। পরিশ্রমে ভাগ না রেখেও সাফল্যের ভাগিদার হওয়ার কী নির্লজ্জ চেষ্টা!

রাস্তার দুধারে মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ইতিহাস রাঙানো মেয়েদের এক নজর দেখবেন বলে, কিন্তু মানুষ দেখলেন কখনো কখনো কর্মকর্তারাই সম্মুখভাগে। এই ব্যাপারটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে। কিন্তু শোভাযাত্রার শেষে বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে যা দেখা গেল, সেটা অবশ্য কারো দৃষ্টি এড়ায়নি।

আরামকেদারায় বসে সব কর্তারা। তাদের ঘিরে রেখেছেন আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। সামনে টিভি ক্যামেরা। সরাসরি দেখানো হচ্ছে সংবাদ সম্মেলন। সেখানে নিজেদের চেহারা দেখাতে কর্মকর্তারা এতটাই তৎপর যে, তাদের জায়গা করে দিতে একপর্যায়ে পেছনে সরে যেতে হলো চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে। কার জন্য সংবাদ সম্মেলন, তাতে সামনের সারিতে কারা!

এই উপমহাদেশেই অবশ্য এটা কমন চিত্র। খেলোয়াড়েরা শিরোপা জিতবেন, ক্যামেরার সামনে মুখ দেখাতে ব্যস্ত হয়ে থাকবেন কর্মকর্তারা। এই তো কিছুদিন আগে ভারতের ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে মুম্বাই সিটিকে হারিয়ে শিরোপা জিতল সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ট্রফিটা হাতে নিয়ে গেলেন ছেত্রী। সেখানে দেখা গেল, এক রাজনৈতিক নেতা ছেত্রীর কাঁধে হাত দিয়ে তাকে আরেকটু সরানোর চেষ্টা করছেন, যাতে ওই নেতার চেহারাটা ক্যামেরায় আরও ভালোভাবে দেখা যায়। সেই কর্মকর্তা আর কেউ নন– পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল লা গণেশান। যা নিয়ে নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধুয়ে দিয়েছেন রাজ্যপালকে।

বাফুফে ভবনে পরশু সংবাদ সম্মেলন শুরুর সময়ে অধিনায়ক সাবিনা ও কোচ ছোটন বসেছিলেন বটে চেয়ারে। বাফুফের এক সহসভাপতি আসায় প্রথমে চেয়ার ছেড়ে উঠতে হয় সাবিনাকে। পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও সংবাদ সম্মেলনে এলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে হয় ছোটনকেও। গতকাল রাত থেকেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকর্তাদের ধুয়ে দেয়া হচ্ছে। ওই সংবাদ সম্মেলনের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন একজন, যেখানে সাবিনাকে এক কোণে দেখা গেলেও ফ্রেমে নেই ছোটন। ছবিটি দিয়ে লিখেছেন, ‘কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে?’

চ্যাম্পিয়ন মেয়েরাই, শিরোপাটা তাদের, তবে উদ্‌যাপন সবার– তা নিয়ে সংশয় নেই। উদ্‌যাপন পুরো বাংলাদেশই করছে। এমন শিরোপার পথে মেয়েদের অনুশীলনসহ সব ব্যবস্থা করে দেয়া বাফুফের দায়িত্ব ছিল, সেটা তারা পালন করেছে– সেজন্য তাদেরও সাধুবাদ। তাই বলে উদ্‌যাপনে কিংবা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মেয়েদের আর তাদের কোচকেই পেছনে ঠেলে দিয়ে নিজেদের চেহারা দেখানোর চেষ্টা? নির্মোহ চোখে সে বড় বিব্রতকর লাগে! 

কোর্টে শেষবার ফেদেরার

কোর্টে শেষবার ফেদেরার
ফেদেরার শেষ ম্যাচের সঙ্গী নাদাল
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

রজার ফেদেরার আর রাফায়েল নাদাল, টেনিস কোর্টে যখনই মুখোমুখি হয়েছেন, ইতিহাস রচনা করেছেন। ২০০৮ উইম্বলডন ফাইনালে তাদের রেকর্ড ৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের মহাকাব্যিক দ্বৈরথকে তো টেনিস ইতিহাসেরই সেরা ম্যাচ বলা হয়। ফেদেরারের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও থাকছেন নাদাল; তবে প্রতিপক্ষ নয়, সতীর্থ হিসেবে। আজ লেভার কাপে দ্বৈতের ম্যাচ দিয়ে দুই যুগের বর্ণাঢ্য পেশাদার টেনিস ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ফেদেরার, তার ডাবলস সঙ্গী হবেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে এক টুইট বার্তায় পেশাদার টেনিসকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন ২০ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরার। জানান, লেভার কাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ এটিপি টুর্নামেন্ট হতো। গতকাল ফের এক টুইটের মাধ্যমে নিজের শেষ ম্যাচের কথা ভক্তদের জানান ফেদেরার, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) রাত। আমার শেষ ম্যাচ। দ্বৈতের সঙ্গী রাফায়েল নাদাল।’

ফেদেরারের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে তার সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত নাদাল, ‘আমার টেনিস ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন বিদায় নিচ্ছেন। আমি তার সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এবং ধন্য। তবে (ফেদেরারের) বিদায়ের মুহূর্তটি কঠিন হবে।’

ফেদেরার অবশ্য তার শেষ ম্যাচে বিদায়ের রাগিণী শুনতে চান না, বরং হেসে খেলে, নেচে গেয়েই টেনিসকে বিদায় বলতে চান এই সুইস কিংবদন্তি, ‘আমি চাই না আবহটা এখানে শেষকৃত্যের মতো হোক। আমি হাসিখুশি থাকতে চাই, থাকতে চাই উৎবের আমেজে।’

গত বছরের উইম্বলডনে সর্বশেষ কোর্টে নেমেছিলেন ফেদেরার। এরপর কেটে গেছে এক বছরেরও বেশি সময়। চোটাঘাত পিছু ঠেলে আর কোর্টে ফেরা হয়নি তার। দীর্ঘসময় খেলার বাইরে থাকায় লেভার কাপে নিজের শেষ ম্যাচের আগে কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছেন কিংবদন্তি। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজেই জানালেন সে কথা, ‘আমি স্নায়ুচাপে ভুগছি, কারণ আমি আমার দীর্ঘ সময় খেলা হয়নি। আশা করি, আমি কিছুটা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’

লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় আজ রাত ১২টায় লেভার কাপের দ্বৈতে জুটি বেঁধে কোর্টে নামবেন ফেদেরার এবং নাদাল, তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাক সক-ফ্রান্সেস তিয়াফো জুটি।


বাংলাদেশ জিতেছে – প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই

বাংলাদেশ জিতেছে –  প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই
রাকিবের গোলই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ছবি: বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধানটা খুব একটা গোনায় ধরার মতো নয়। কম্বোডিয়া কিছুটা এগিয়ে – বাংলাদেশ ১৯২, কম্বোডিয়া ১৮ ধাপ এগিয়ে। তবে ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলেছে। এর আগের চার ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৩টি, অন্যটি ড্র।

নমপেনে আজ ফিফা প্রীতি ম্যাচেও বাংলাদেশ জিতেই মাঠ ছেড়েছে। প্রথমার্ধে উইঙ্গার রাকিব হোসেনের গোলে জয়টা ১-০ ব্যবধানে, তাতে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে প্রথম জয়ও হলো। তবে দল যে জিতেছে, কম্বোডিয়ার দাপুটে ফুটবলের সামনে ছন্নছাড়া বাংলাদেশের এই ম্যাচে এটিই একমাত্র প্রাপ্তি!

পরিসংখ্যান কতটা ভুল বোঝাতে পারে, সেটির একটা উদাহরণ হতে পারে এই ম্যাচ। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বলের দখল বাংলাদেশের পায়েই ছিল ৫৫ শতাংশ সময়ে। গোলে শটও বাংলাদেশের ৩টি, কম্বোডিয়ার দুটি। সব মিলিয়ে শটের সংখ্যায় অবশ্য কম্বোডিয়া ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে কম্বোডিয়ার গতিময় পাসিং ফুটবলের সামনে বাংলাদেশকে যতটা অসহায় লেগেছে, তাতে পরিসংখ্যানগুলোকে আস্ত গাধাই মনে হতে পারে কারও। রক্ষণে ৫-৪-১ ছকে নেমে যাওয়া কম্বোডিয়া আক্রমণে গেলে ২-৩-৫ ছকে উঠে যাচ্ছিল। বাংলাদেশকে মাঠের মাঝের দিকে ‘ন্যারো’ রেখে নিজেদের দুই উইংকে টাচলাইনে পাঠিয়ে মাঠ বড় করে খেলছিল। কখনো উইং থেকে ক্রসে, কখনো মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা থ্রু-তে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেও অনেক। তবে কখনো শট ঠিকমতো না হওয়ায়, কখনো বাংলাদেশ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো দারুণ সেভ করায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

মতিন মিয়ার পাস থেকে এসেছে রাকিবের গোল। ছবিঃ বাফুফে 

বাংলাদেশ রক্ষণও ভালোই খেলেছে। তবে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ তেমন পায়ইনি ৪-২-৩-১ ছকে নামা কাবরেরার দল।

কিন্তু ১৪ মিনিটে প্রথম সুযোগটা বাংলাদেশই পেয়েছে! লম্বা থ্রো থেকে বক্সে জামাল ভুঁইয়া বল পেয়েছিলেন, তবে বলে পায়ের স্পর্শটা ঠিকঠাক না হওয়ায় শটটা পোস্টমুখী হয়নি। ১৯ মিনিটে কম্বোডিয়ার সিন কাকাদার শট দারুণ ঝাঁপিয়ে বারের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেন জিকো।

তখনই কম্বোডিয়ার দাপট স্পষ্ট, কিন্তু ২৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে গেল বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে হঠাৎ আক্রমণের শুরু, মতিন মিয়া বল পেয়ে পাস বাড়ান রাকিব হোসেনের দিকে। রাকিবের প্রথম স্পর্শের শট জালে।   

দ্বিতীয়ার্ধেও কম্বোডিয়ার দাপটের মধ্যে ৭৪ মিনিটে আরেক গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ! বক্সের বাইরে থেকে মতিন মিয়ার শট বার কাঁপিয়ে চলে যাওয়ায় জয়ের ব্যবধানটা আর বড় হয়নি।  


দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিমান বলছে, লাগেজ থেকে চুরির ঘটনার সত্যতা মেলেনি

দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিমান বলছে, লাগেজ থেকে চুরির ঘটনার সত্যতা মেলেনি
দিনভর অপেক্ষার পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগে বক্তব্য দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। ছবি: আহমেদ দীপ্ত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগ

সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্যদের ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। দলের অন্যান্য সদস্যের লাগেজও পাওয়া গেছে ভাঙা অবস্থায়। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে।

সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গতকাল বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিমানের বিজি-৩৭২ ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ছাদখোলা বাসে চড়িয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে দপ্তরে। হাতে পতাকা ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে শিরোপাজয়ী মেয়েদের স্বাগত জানায় হাজারও মানুষ। তার পরদিনই উঠে চুরির এই অভিযোগ।

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাফজয়ী নারী দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার (প্রায় ৫২ হাজার টাকা) এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। সানজিদা আক্তারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার ও সামসুন্নাহার সিনিয়রের ব্যাগ থেকে হারিয়েছে ৪০০ ডলার (প্রায় ৪২ হাজার টাকা)। মেয়েদের ব্যাগ থেকে পোশাক, প্রসাধনীসহ উপহার সামগ্রীও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের লাগেজ ‍চুরির বিষয়ে বিমানের বক্তব্য পেতে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় কুর্মিটোলার ফটকের সামনে বিমানের গাড়ি আটকে দেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ছবি: আহমেদ দীপ্ত 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওপর। আবার নেপাল থেকে সাফজয়ী মেয়েরা দেশে এসেছে বিমানেরই একটি ফ্লাইটে। ফলে লাগেজ থেকে ডলার, টাকা ও প্রসাধনী চুরির অভিযোগের দায় এসে পড়ে বিমান কর্তৃপক্ষের ওপর। বিমান কর্তৃপক্ষ শুরুতে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীরা রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার অনুরোধ করলেও বিমানের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিমানের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন বিমানের উপব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) দুলাল চন্দ্র দাশ। তিনি বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারের সই করা এক বিবৃতি পাঠ করেন। বিবৃতিতে বিমান জানায়, গতকাল বুধবার বিজি-৩৭২ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটির ব্যাগেজ ৮ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টের মাধ্যমে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা লাগেজগুলো সঠিক অবস্থায় বুঝে নেন। লাগেজগুলো বুঝে নেয়ার সময় লাগেজ থেকে কিছু খোয়া যাওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে তাহেরা খন্দকার বলেন, বাফুফের প্রতিনিধিরা লাগেজগুলো দুইটি কাভার্ড ভ্যানে উত্তোলন করে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ওই  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে চুরির ঘটনা সত্য নয়। বাফুফে প্রতিনিধিরা গতকাল সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমানের কাছ থেকে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ফুটবল দলের দুই নারী সদস্যের ব্যাগ থেকে ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এ ঘটনার সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে। দুপুর ২টা ৮ মিনিটে শেষ ব্যাগেজ ড্রপ হয়। এরপর বাফুফে প্রটোকল প্রতিনিধি ও দলের দুজন অফিসিয়াল প্রতিনিধি লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমান কর্তৃপপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সংবাদপ্রাপ্তির পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে।’