শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

সেপ্টেম্বরে নেপাল, কম্বোডিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বরে নেপাল, কম্বোডিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ফুটবল দল। ছবি: বাফুফে
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দুই দল নেপাল ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা।

কম্বোডিয়ার সঙ্গে তাদের ঘরের মাঠে ২২ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেখান থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা হবেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচটি হবে ২৭ সেপ্টেম্বর।

এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখে আগস্টের শেষের দিকে আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে বলে জানিয়েছে বাফুফে।

দুই দেশের মধ্যে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত ২৩ বার নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। জয়ের পাল্লাটাও বাংলাদেশের দিকে। ১৩ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে হেরেছে সাতটিতে। ড্র করেছে ৩ ম্যাচ।

অন্যদিকে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে তেমন একটা ম্যাচ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। চারবারের সাক্ষাতে ৩ জয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। ড্র ১টি।

জয়ের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার র‌্যাঙ্কিংয়ে নেপাল-কম্বোডিয়ার চেয়ে বেশ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ২১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯২তম। অন্যদিকে কম্বোডিয়া ও নেপালের অবস্থান যথাক্রমে ১৭৪ ও ১৭৬-এ।

র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই ফিফা উইন্ডো কাজে লাগিয়ে দুটি ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।


বাংলাদেশ জিতেছে – প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই

বাংলাদেশ জিতেছে –  প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই
রাকিবের গোলই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ছবি: বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধানটা খুব একটা গোনায় ধরার মতো নয়। কম্বোডিয়া কিছুটা এগিয়ে – বাংলাদেশ ১৯২, কম্বোডিয়া ১৮ ধাপ এগিয়ে। তবে ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলেছে। এর আগের চার ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৩টি, অন্যটি ড্র।

নমপেনে আজ ফিফা প্রীতি ম্যাচেও বাংলাদেশ জিতেই মাঠ ছেড়েছে। প্রথমার্ধে উইঙ্গার রাকিব হোসেনের গোলে জয়টা ১-০ ব্যবধানে, তাতে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে প্রথম জয়ও হলো। তবে দল যে জিতেছে, কম্বোডিয়ার দাপুটে ফুটবলের সামনে ছন্নছাড়া বাংলাদেশের এই ম্যাচে এটিই একমাত্র প্রাপ্তি!

পরিসংখ্যান কতটা ভুল বোঝাতে পারে, সেটির একটা উদাহরণ হতে পারে এই ম্যাচ। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বলের দখল বাংলাদেশের পায়েই ছিল ৫৫ শতাংশ সময়ে। গোলে শটও বাংলাদেশের ৩টি, কম্বোডিয়ার দুটি। সব মিলিয়ে শটের সংখ্যায় অবশ্য কম্বোডিয়া ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে কম্বোডিয়ার গতিময় পাসিং ফুটবলের সামনে বাংলাদেশকে যতটা অসহায় লেগেছে, তাতে পরিসংখ্যানগুলোকে আস্ত গাধাই মনে হতে পারে কারও। রক্ষণে ৫-৪-১ ছকে নেমে যাওয়া কম্বোডিয়া আক্রমণে গেলে ২-৩-৫ ছকে উঠে যাচ্ছিল। বাংলাদেশকে মাঠের মাঝের দিকে ‘ন্যারো’ রেখে নিজেদের দুই উইংকে টাচলাইনে পাঠিয়ে মাঠ বড় করে খেলছিল। কখনো উইং থেকে ক্রসে, কখনো মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা থ্রু-তে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেও অনেক। তবে কখনো শট ঠিকমতো না হওয়ায়, কখনো বাংলাদেশ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো দারুণ সেভ করায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

মতিন মিয়ার পাস থেকে এসেছে রাকিবের গোল। ছবিঃ বাফুফে 

বাংলাদেশ রক্ষণও ভালোই খেলেছে। তবে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ তেমন পায়ইনি ৪-২-৩-১ ছকে নামা কাবরেরার দল।

কিন্তু ১৪ মিনিটে প্রথম সুযোগটা বাংলাদেশই পেয়েছে! লম্বা থ্রো থেকে বক্সে জামাল ভুঁইয়া বল পেয়েছিলেন, তবে বলে পায়ের স্পর্শটা ঠিকঠাক না হওয়ায় শটটা পোস্টমুখী হয়নি। ১৯ মিনিটে কম্বোডিয়ার সিন কাকাদার শট দারুণ ঝাঁপিয়ে বারের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেন জিকো।

তখনই কম্বোডিয়ার দাপট স্পষ্ট, কিন্তু ২৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে গেল বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে হঠাৎ আক্রমণের শুরু, মতিন মিয়া বল পেয়ে পাস বাড়ান রাকিব হোসেনের দিকে। রাকিবের প্রথম স্পর্শের শট জালে।   

দ্বিতীয়ার্ধেও কম্বোডিয়ার দাপটের মধ্যে ৭৪ মিনিটে আরেক গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ! বক্সের বাইরে থেকে মতিন মিয়ার শট বার কাঁপিয়ে চলে যাওয়ায় জয়ের ব্যবধানটা আর বড় হয়নি।  


দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিমান বলছে, লাগেজ থেকে চুরির ঘটনার সত্যতা মেলেনি

দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিমান বলছে, লাগেজ থেকে চুরির ঘটনার সত্যতা মেলেনি
দিনভর অপেক্ষার পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগে বক্তব্য দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। ছবি: আহমেদ দীপ্ত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগ

সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্যদের ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। দলের অন্যান্য সদস্যের লাগেজও পাওয়া গেছে ভাঙা অবস্থায়। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে।

সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গতকাল বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিমানের বিজি-৩৭২ ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ছাদখোলা বাসে চড়িয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে দপ্তরে। হাতে পতাকা ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে শিরোপাজয়ী মেয়েদের স্বাগত জানায় হাজারও মানুষ। তার পরদিনই উঠে চুরির এই অভিযোগ।

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাফজয়ী নারী দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার (প্রায় ৫২ হাজার টাকা) এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। সানজিদা আক্তারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার ও সামসুন্নাহার সিনিয়রের ব্যাগ থেকে হারিয়েছে ৪০০ ডলার (প্রায় ৪২ হাজার টাকা)। মেয়েদের ব্যাগ থেকে পোশাক, প্রসাধনীসহ উপহার সামগ্রীও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের লাগেজ ‍চুরির বিষয়ে বিমানের বক্তব্য পেতে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় কুর্মিটোলার ফটকের সামনে বিমানের গাড়ি আটকে দেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ছবি: আহমেদ দীপ্ত 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওপর। আবার নেপাল থেকে সাফজয়ী মেয়েরা দেশে এসেছে বিমানেরই একটি ফ্লাইটে। ফলে লাগেজ থেকে ডলার, টাকা ও প্রসাধনী চুরির অভিযোগের দায় এসে পড়ে বিমান কর্তৃপক্ষের ওপর। বিমান কর্তৃপক্ষ শুরুতে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীরা রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার অনুরোধ করলেও বিমানের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিমানের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন বিমানের উপব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) দুলাল চন্দ্র দাশ। তিনি বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকারের সই করা এক বিবৃতি পাঠ করেন। বিবৃতিতে বিমান জানায়, গতকাল বুধবার বিজি-৩৭২ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটির ব্যাগেজ ৮ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টের মাধ্যমে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা লাগেজগুলো সঠিক অবস্থায় বুঝে নেন। লাগেজগুলো বুঝে নেয়ার সময় লাগেজ থেকে কিছু খোয়া যাওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে তাহেরা খন্দকার বলেন, বাফুফের প্রতিনিধিরা লাগেজগুলো দুইটি কাভার্ড ভ্যানে উত্তোলন করে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ওই  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের লাগেজ চুরির অভিযোগের বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে চুরির ঘটনা সত্য নয়। বাফুফে প্রতিনিধিরা গতকাল সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমানের কাছ থেকে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ফুটবল দলের দুই নারী সদস্যের ব্যাগ থেকে ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এ ঘটনার সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে। দুপুর ২টা ৮ মিনিটে শেষ ব্যাগেজ ড্রপ হয়। এরপর বাফুফে প্রটোকল প্রতিনিধি ও দলের দুজন অফিসিয়াল প্রতিনিধি লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমান কর্তৃপপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সংবাদপ্রাপ্তির পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে।’


সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ থেকে ‘চুরি’, কথা বলছে না বিমান

সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ থেকে ‘চুরি’, কথা বলছে না বিমান
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকার ও শামসুন্নাহার সিনিয়রের ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলের অন্যান্য সদস্যের লাগেজও পাওয়া গেছে ভাঙা অবস্থায়। এ অভিযোগ নিয়ে অবশ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ কোনো কথা বলছে না। তবে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে চুরির ঘটনা সত্য নয়।

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাফজয়ী নারী দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার (প্রায় ৫২ হাজার টাকা) এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। সানজিদা আক্তারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার ও সামসুন্নাহার সিনিয়রের ব্যাগ থেকে হারিয়েছে ৪০০ ডলার (প্রায় ৪২ হাজার টাকা)। মেয়েদের ব্যাগ থেকে পোশাক, প্রসাধনীসহ উপহার সামগ্রীও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাফজয়ী বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল গতকাল বুধবার দুপুরে বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৭২ তে করে শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ছাদ খোলা বাসে চড়িয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে দপ্তরে। হাতে পতাকা ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে শিরোপাজয়ী মেয়েদের স্বাগত জানায় হাজারো মানুষ। তার পরদিনই এল চুরির এই অভিযোগ।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। আবার নেপাল থেকে সাফজয়ী মেয়েরা দেশে এসেছে বিমানেরই একটি ফ্লাইটে। ফলে লাগেজ থেকে ডলার, টাকা ও প্রসাধনী চুরির অভিযোগের দায় বিমান কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে সকাল থেকেই রাজধানীর কুর্মিটোলার বলাকা ভবনের সামনে অবস্থান করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে লুকোছাপার আচরণ করছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘আমরা আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখতে বলেছি যে, অভিযোগটা ফরমালি এসেছে কিনা।’

এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ চুরির ঘটনা সত্য নয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধিরা গতকাল সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমানের কাছ থেকে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ফুটবল দলের দুই নারী সদস্যের ব্যাগ থেকে ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এ ঘটনার সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে।

দুপুর দুইটা ৮ মিনিটে শেষ ব্যাগেজ ড্রপ হয়। এরপর বাফুফে প্রটোকল প্রতিনিধি ও দলের দুজন অফিসিয়াল প্রতিনিধি লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সংবাদপ্রাপ্তির পর স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে আসল ঘটনা কী?’


নগদ অর্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি পাবেন সাফজয়ী মেয়েরা

নগদ অর্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি পাবেন সাফজয়ী মেয়েরা
সাফ জয়ের পর বাংলাদেশ নারী দলের শিরোপা নিয়ে উল্লাস। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার ঘোষণার পর এবার দলের যে খেলোয়াড়ের বাড়ি প্রয়োজন হবে, তাকে তা তৈরি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

প্রত্যেক নারী ফুটবলারের বাড়িঘরের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন সরকারপ্রধান। দেশে ফিরেই সেই পুরস্কার দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

এর আগে বুধবার নারী ফুটবল দলের গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। রূপনার নিজ জেলা রাঙ্গামাটিতেই বাড়িটি তৈরি করে দেয়া হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী গোলকিপার রূপনার বাড়ি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়।

গ্লাভস হাতে দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামাল দিলেও তার নিজের বাড়ির অবস্থা জরাজীর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীর্ণ বাড়ির ছবি ভাইরাল হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী দেখেন সেই ছবি। সেখান থেকেই রূপনার পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরির নির্দেশনা দেন তিনি।

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠতম আসরে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের নারীরা।


বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ফেভারিটের তকমা গায়ে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার জন্যই বাছাইপর্ব উতরানোর চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের এক পরতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রকে ৫৫ রানে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

আবুধাবিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে স্নিগ্ধা পলের বলে বোল্ড হন ওপেনার শামীমা সুলতানা। ১৯ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ৭ রান করা এই ব্যাটার গতকাল ফেরেন ১৭ বলে ১০ রানে। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান মোর্শেদা খাতুন ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুজনই পেয়েছেন অর্ধশতকের স্বাদ। টুর্নামেন্টে আগের দুই ম্যাচে ৩১ রান করা মোর্শেদা গতকাল অপরাজিত ছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ৭৭ রানে। ৬৪ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চারের মার। জ্যোতি তুলে নেন টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। ৬ চার ও ১ ছয়ে ৪০ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাদের অবিচ্ছেদ্য ১৩৮ রানের পার্টিনারশিপে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে বাংলাদেশ।

জবাবে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার স্নিগ্ধাকে শূন্য রানে ফেরান সালমা খাতুন। চতুর্থ ওভারে রান আউটের শিকার হন আরেক ওপেনার দিশা ধিংড়া। পরের ওভারে ১ রানে থাকা আনিকা কোলানকে বোল্ড করে দ্রুত ম্যাচ শেষ করার ইঙ্গিত দেন নাহিদ আকতার।

১৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক সিন্ধু শ্রীহর্ষ ও লিসা রামজিত। দুজন ইনিংসের বাকিটা সময় নির্বিঘ্নে পার করলেও চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রান তুলতে পারেননি। সিন্ধুর ৭১ বলে ৭৪ ও লিসার ৪১ বলে ৪৬ রানের ইনিংস তাই পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে। ১০৩ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ৫৫ রানে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে গেছে সেমিফাইনালে।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১৯ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী হয়েছে আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা। সেমিফাইনালে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যেতে পারবে বাংলাদেশ দল।