মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

চারদিকে একটাই স্লোগান- বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

চারদিকে একটাই স্লোগান- বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন
চ্যাম্পিয়ন শব্দটা এখন বাংলাদেশের। ছবি: দৈনিক বাংলা
রাজ শুভ নারায়ন চৌধুরী
প্রকাশিত

ক্লান্তি? সে আবার কী? ক্লান্তির সাধ্য কি এমন দিনে উৎসব মাটি করে!

কৃষ্ণা রানী সরকারও তা-ই বলছিলেন। নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোলে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারার সঙ্গে দেখা বাফুফে ভবনে। ততক্ষণে বাফুফেতে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ মিলেছে ইতিহাস রাঙানো মেয়েদের। কৃষ্ণার দেখা হয়েছে তার ভাই পলাশের সঙ্গেও। যে ভাইয়ের সঙ্গে বিমানবন্দরে ছাদখোলা বাসে থাকা অবস্থায় একবার দেখা হয়েছিল রাস্তায়।

বিমানবন্দরে পৌনে দুইটায় নেমেছেন, সাড়ে তিনটার দিকে শুরু তাদের বাসযাত্রা। বাফুফেতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। এতক্ষণে ক্লান্তি ঘিরে ধরারই কথা। কৃষ্ণা বলছিলেনও, ‘একটু ক্লান্ত তো লাগছেই!’ কিন্তু তার হাসির দ্যুতি সে ক্লান্তিকে বড় কিছু মনে করাতে দিলই না!

করাবে কী করে, এমন স্বপ্নের মতো দিন যে বাংলাদেশের মেয়েদের খেলার ইতিহাসেই আর আসেনি! সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাবিনা যেটিকে বলছিলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সেরা দিন।’

সাফ জয়ী মেয়েরা

সানজিদাকে একটা ধন্যবাদ দিতে পারেন মেয়েরা, তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেই তো সবকিছুর শুরু! ছাদখোলা বাসে উদ্‌যাপন না হলেও চলবে বলেছিলেন সানজিদা, কিন্তু সেটিই যে মেয়েদের মনের গোপন চাওয়া- তা বুঝে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের পরিকল্পনায় এক দিনের মধ্যেই সবকিছুর ব্যবস্থা হলো।

তড়িঘড়ির ব্যবস্থাপনায় যা হয়, কিছু গোলমাল থেকেছেই। ওভারপাসে ঝুলতে থাকা ব্যানারের ধাক্কায় ঋতুপর্না কপালে আঘাত পেয়েছেন, যেটির জন্য তিন সেলাই লেগেছে বলেও জানা গেছে। সব শেষে অতি উৎসাহী দর্শক নিয়ন্ত্রণেই সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরেছে সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু এমন দিনে হয়তো সবই মেনে নেয়া যায়। যে ফুটবল বাংলাদেশে এসে দর্শকখরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সেখানে এই অতি উৎসাহ হয়তো আরেকবার বুঝিয়ে দেয়, এ দেশের মানুষ আসলে ফুটবলের পাগলই! শুধু তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের মতো ফুটবল দরকার।