মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

নগদ অর্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি পাবেন সাফজয়ী মেয়েরা

নগদ অর্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি পাবেন সাফজয়ী মেয়েরা
সাফ জয়ের পর বাংলাদেশ নারী দলের শিরোপা নিয়ে উল্লাস। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার ঘোষণার পর এবার দলের যে খেলোয়াড়ের বাড়ি প্রয়োজন হবে, তাকে তা তৈরি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

প্রত্যেক নারী ফুটবলারের বাড়িঘরের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। ৪ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন সরকারপ্রধান। দেশে ফিরেই সেই পুরস্কার দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

এর আগে বুধবার নারী ফুটবল দলের গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। রূপনার নিজ জেলা রাঙ্গামাটিতেই বাড়িটি তৈরি করে দেয়া হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী গোলকিপার রূপনার বাড়ি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়।

গ্লাভস হাতে দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামাল দিলেও তার নিজের বাড়ির অবস্থা জরাজীর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীর্ণ বাড়ির ছবি ভাইরাল হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী দেখেন সেই ছবি। সেখান থেকেই রূপনার পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরির নির্দেশনা দেন তিনি।

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠতম আসরে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের নারীরা।


ভারত-ইংল্যান্ডে কাদা ছোড়াছুড়ি

ভারত-ইংল্যান্ডে কাদা ছোড়াছুড়ি
ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

আইন বনাম খেলোয়াড়ি চেতনা– মানকাডিং প্রতিবারই বিতর্কটা তুলে দেয়। গত শনিবার লর্ডসে ভারত ও ইংল্যান্ডের মেয়েদের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মানকাডিং ঘিরেও চিত্রটা একই।

৩৯ বলে ১৭ রান দরকার, হাতে ১ উইকেট– এমন যখন ছিল ইংল্যান্ডের মেয়েদের জয়ের সমীকরণ, ভারতের দীপ্তি শর্মা বল ছোড়ার আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ইংলিশ ব্যাটার চার্লি ডিনকে রানআউট করে দেন, যিনি ইনিংস-সর্বোচ্চ ৪৭ রানে ব্যাট করছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক চলছে এ নিয়ে। এর মধ্যে চলছে ইংল্যান্ড আর ভারতের ক্রিকেটারদের কাদা ছোড়াছুড়ি।

সিরিজ শেষে ভারতে ফেরার পর কাল ওই আউট নিয়ে প্রশ্নে দীপ্তি শর্মার দাবি, ‘আমাদের পরিকল্পনাই ছিল এমন কিছু করার, কারণ সে অনেকবারই (ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়েছে)... আমরা ওকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছি। আমরা যা করেছি, নিয়ম মেনেই করেছি। আম্পায়ারকেও জানিয়েছিলাম আমরা।’

কিন্তু সিরিজে না খেলা ইংলিশ অলরাউন্ডার হিদার নাইট বলছেন, দীপ্তিরা মিথ্যাচার করছেন! তার খোঁচা, ‘এখানে কেউ কাউকে সতর্ক করার ঘটনা ঘটেনি। এভাবে রানআউট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ওদের মনে যদি কোনো অস্বস্তি না থাকে, তাহলে সতর্ক করার ব্যাপারে মিথ্যা বলে আউটটাকে বৈধতা দিতে চাওয়ার তো কোনো দরকার নেই।’

খোঁচাখুঁচির সেখানেই শেষ নয়। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষে গত পরশুই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া র‍্যাচেল হেইহো-ফ্লিন্ট ট্রফির ফাইনালে নেমেছিলেন মানকাডিংয়ের শিকার ডিন। বোলিং করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে আগেভাগেই ক্রিজ ছাড়তে দেখে ডিন মানকাড করার ভঙ্গিতে স্টাম্পের দিকে এগিয়ে যান, তবে বেল উপড়াননি। দীপ্তিকে খোঁচা আর কী!

এদিকে মানকাডিংয়ের ক্ষেত্রে আইনের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কদিন আগে মানকাডিংকে রানআউটের স্বীকৃতি দিয়েছে, যদিও সে আইন কার্যকর হবে ১ অক্টোবর থেকে। তবে এই আইনের ভাষায় ফাঁক আছে জানিয়ে ডেইলি মেইলে কলামে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড লয়েডের কথা, ‘আইনটা স্পষ্ট হলে প্রতিবার এমন আউটের পর এই মাতামাতি এড়ানো যেত।’

আইনে দুটি বদল আনতেন বলে জানাচ্ছেন লয়েড। এক, আউট করার আগে অন্তত একবার বোলার যাতে ব্যাটারকে সতর্ক করেন। দুই, ব্যাটার কখন ক্রিজ ছাড়তে পারবেন, সেটি আরও স্পষ্ট করা। ‘এখনকার আইন অনুযায়ী, বোলার যখন বল ছাড়বেন বলে ধরে নেয়া হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটারকে ক্রিজে থাকতে হবে। আমার কাছে সেটিকে অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। যেটা দরকার তা হচ্ছে (ব্যাটার ক্রিজ ছাড়ার অনুমতির) মুহূর্তটায় (বোলারের) শারীরিক ভঙ্গি কী থাকবে, সেটি স্পষ্ট করা। হতে পারে বোলারের পেছনের পা ক্রিজে পড়ার মুহূর্ত, বা বোলারের হাত যখন সর্বোচ্চ পয়েন্টে পৌঁছাবে সেই মুহূর্ত। যা-ই হোক, এখন আইনে যা আছে, তার চেয়ে আরও নির্দিষ্ট কিছু দরকার।’


সর্বোচ্চ ৮০ লাখ, সর্বনিম্ন ৫ লাখ

সর্বোচ্চ ৮০ লাখ, সর্বনিম্ন ৫ লাখ
বিপিএল। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
  • বিপিএলে দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নানা তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ হচ্ছে। পরশু নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নাম ঘোষণার পর কাল খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের তথ্যও জানিয়েছে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। বিপিএলে দেশি খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বিসিবি। বিদেশি খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৮০ হাজার ডলার। যা গতকালের মূল্যমানে প্রায় ৮১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

সোমবার মিরপুরে বিপিএল নিয়ে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানিয়েছেন বিপিএল-সংক্রান্ত নানা তথ্য।

বিদেশি ২ বা...

গত পরশু কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল বলেছিলেন একাদশে ২ জন এবং দলে ৪ জন বিদেশি রাখতে পারবে দলগুলো। কিন্তু কাল মল্লিক দেশি বা বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা কত হবে, তা নির্দিষ্ট নয় বলেই জানিয়েছেন, ‘আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে বসব। বসার পরে সরাসরি সাইনিং স্থানীয় কয়টা, বিদেশি কয়টা এগুলো নিয়ে আলোচনা করব। যদিও আমরা একটা ঠিক করে রেখেছি।’

খেলোয়াড়দের ৭ ক্যাটাগরি

খেলোয়াড়দের ৭টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ড্রাফটে তোলা হবে। ‘এ’ গ্রেডে থাকা খেলোয়াড়েরা পাবেন ৮০ লাখ টাকা। এভাবে ক্রমান্বয়ে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা পাবেন ৫০ লাখ, ৩০ লাখ ও ২০ লাখ করে। পরের তিন ধাপে ‘ই’, ‘এফ’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরিতে পাবেন ১৫ লাখ, ১০ লাখ ও ৫ লাখ টাকা।

আইকন থাকবে?

আইকন খেলোয়াড় বলে কিছু থাকছে না। বরং ড্রাফটের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা একজন দেশি খেলোয়াড়কে সরাসরি দলে ভিড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের কোনো সীমা নির্ধারণ করবে না বিসিবি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

খরচ কমাতে বাদ পড়ছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

ভেন্যু তিনটি– ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট

ম্যাচ: ৪৬টি

চলবে: ৭ দল নিয়ে ৪২ দিনে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় বিসিবি।

বিদেশি খেলোয়াড়ের জন্য ‘ভিন্ন’ পরিকল্পনা

বিপিএলের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে আরও চারটি লিগ চলবে বিশ্বজুড়ে। ফলে বিদেশি খেলোয়াড় সংকটে পড়তে পারে বিপিএল। বিসিবির ভাবনায়ও রয়েছে বিষয়টি, ‘বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সংযুক্ত আরব আমিরাতের লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার লিগে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধনে বাধ্যবাধকতা থাকবে না। কেউ তিন দিনের জন্য এসে খেলে গেল, পরবর্তীতে তার বদলি হিসেবে আরেকজন আনতে পারবে।’

সাধ আছে, নেই সাধ্য

বিপিএল নিয়ে অনেক সাধ থাকলেও নাকি আপাতত সাধ্য নেই। অর্থের হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম শক্তিশালী বোর্ড নাকি আর্থিক এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে আইপিএল, পিএসএলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারছে না। মল্লিক বলেছেন, ‘আমরা অন্যতম সেরা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাই। আইপিএল বা পিএসএলের যে মান, সেটা আমাদের জন্য করা এই মুহূর্তে কঠিন। অনেক খরচের ব্যাপার। একেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি অনেক টাকায় বিক্রি করতে হবে। (পর্যাপ্ত) ভেন্যু প্রস্তুত না থাকায় এখন পর্যন্ত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতেই যেতে পারি না।’

চূড়ান্ত হয়নি কিছুই

সব সিদ্ধান্তের পরই সদস্য সচিব ফুটনোট হিসেবে যোগ করেছেন, ‘কোনোটাই আসলে চূড়ান্ত না।’


বিপিএলে কমছে বিদেশি

বিপিএলে কমছে বিদেশি
ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে অনিশ্চয়তা আপাতত উবে গেছে। কাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৭টি ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম প্রকাশ করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন বিপিএলে (৯ম, ১০ম ও ১১তম) এই সাত দলই অংশ নেবে।

ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ঘোষণায় দেরি হলেও পূর্বনির্ধারিত সময়ে বিপিএল আয়োজন করবে বলে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছিলেন, ৫ জানুয়ারিই শুরু হবে বিপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্তের পর একই বার্তা সোহেলের, ‘পরিবর্তনের কোনো সুযোগই নেই। ৫ জানুয়ারিই বিপিএল শুরু হবে।’ চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বিপিএলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একই সময়ে আরও ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলবে। বিগ ব্যাশ ৪ ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। পিএসএল শুরু ৯ ফেব্রুয়ারি। আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত না করলেও ২০২৩ সালের জানুয়ারিতেই শুরুর পরিকল্পনা তাদের। কিছুটা চ্যালেঞ্জ বোধ করলেও সফলভাবেই বিপিএল শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সোহেল।

এ কারণেই ১১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে পুরোনোদের ওপরই আস্থা রেখেছে বিসিবি। শুরুতে অনাগ্রহ দেখানো কুমিল্লা সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে গভর্নিং কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছিল। তাদের নিরাশ হতে হয়নি। এদিকে আলোচনায় থাকা সাকিব আল হাসানের মোনার্ক মার্ট আবেদন করলেও তাদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি বিসিবি।

বিপিএলের ৭ দল

দল        মালিকানা

বরিশাল   ফরচুন বরিশাল স্পোর্টস লিমিটেড

খুলনা      মাইন্ডট্রি লিমিটেড

ঢাকা       প্রগতি অটো রাইস মিল লিমিটেড

সিলেট     ফিউচার স্পোর্টস লিমিটেড

রংপুর      টগি স্পোর্টস লিমিটেড (বসুন্ধরা গ্রুপ)

চট্টগ্রাম    ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড

কুমিল্লা     কুমিল্লা লেজেন্ডস লিমিটেড

নতুন কে 

৭টি দলের মধ্যে ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপিএলে অংশ নেয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। শুধু ফিউচার স্পোর্টস লিমিটেডই নতুন। তারা সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করবে। দলটির মেন্টর ও আইকন ক্রিকেটার হিসেবে থাকবেন মাশরাফি। তার নেতৃত্বেই দল গোছাবে সিলেট। হেড কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরকে। সহকারী কোচ রাজিন সালেহ।

মোনার্ক মার্ট নেই কেন

বিপিএলে অংশ নিতে চেয়েছিল সাকিবের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মোনার্ক মার্ট। তবে সম্প্রতি বেশকিছু বিষয়ে নেতিবাচক আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। সে কারণেই তাদের প্রতি আস্থা হারিয়েছে বিসিবি। সোহেল বলেছেন, বিভিন্ন এজেন্সি ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ায় তারা বিবেচ্য হয়নি।

ড্রাফট কবে

ড্রাফটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বিসিবি। আজ গভর্নিং কাউন্সিলের একটি বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে ড্রাফটের দিনক্ষণ। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ড্রাফটের প্রক্রিয়া শেষ হবে। সম্ভাব্য তারিখ ৮ বা ১০ অক্টোবর।

আইকন

বিপিএলের অষ্টম আসরে আইকন ক্রিকেটার বলে কিছু ছিল না। সরাসরি দলগুলো যেকোনো ক্যাটাগরি থেকে একজন খেলোয়াড় বেছে নিয়েছিল। এবার আইকন পদ্ধতি ফিরতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সোহেল, ‘আইকনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে আইকন রাখা হবে। লোকাল ক্রিকেটার থাকবে।’

কমছে বিদেশি

২০১২, ২০১৩ ও ২০১৭ সালে বিপিএলের প্রতি দলে সর্বোচ্চ ৫ বিদেশি খেলানোর নিয়ম ছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালে একাদশে সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি খেলেছেন। এবার প্রতিটি দল একাদশে দুইজনের বেশি বিদেশি খেলাতে পারবে না। দলে সর্বোচ্চ বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যাবে ৪ জন।

ফ্র্যাঞ্চাইজির মেয়াদ

কাল চূড়ান্ত হওয়া ৭ ফ্র্যাঞ্চাইজির  মেয়াদ থাকবে আগামী তিন মৌসুম। এই তিন বছরে চাইলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সোহেল স্পষ্ট করে বলেন, ‘এ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তিন বছরের জন্য। এর মধ্যে চাইলেও নতুন কেউ আসতে পারবে না, কেউ বের হতে পারবে না। সেই সুযোগ আমরা রাখছি না। যে ১০ কোটি টাকা সিকিউরিটি মানি নেয়া হচ্ছে, সেটা তিন বছরের কথা ভেবে।’ সেক্ষেত্রে এবার অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করা বেক্সিমকো গ্রুপ কিংবা জেমকন গ্রুপকে আগামী তিন বছর বিপিএলে দেখা যাবে না।

কুমিল্লা কেন আছে

৩০ আগস্ট ছিল বিপিএলের ‘এক্সপ্রেশন্স অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) জমা দেয়ার শেষ সময়। শুরুতে আগ্রহ না দেখানো কুমিল্লা ৩১ আগস্ট ইওআই দেয়। তবু তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি  পাওয়ার ব্যাপারে শেখ সোহেলের ব্যাখ্যা, ‘কুমিল্লা তো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সব সময় আমাদের পাশে ছিল। বিপিএলে সব সময় তারা আমাদের সমর্থন করে আসছে। আমাদেরও উচিত তাদের সমর্থন করা।’


বন্ধুর পথে বন্ধু হয়ে...

বন্ধুর পথে বন্ধু হয়ে...
ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার ফিরোজ
প্রকাশিত

শাহরিয়ার ফিরোজ

রজার ফেদেরারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন কী? মিরকা ভাব্রিনেচ!

উত্তরটা শুনে অনেকেই হয়তো ভ্রু কুচকাবেন- এটা কোনো উত্তর হলো! কোর্টের সাফল্য হিসেবে তো আর সহধর্মিণীকে পাননি ফেদেরার। তবে এটাও তো অস্বীকারের কোনো জো নেই, টেনিসে না এলে হয়তো জীবনসঙ্গী হিসেবে মিরকা ভাব্রিনেচকে পাওয়াই হতো না ফেদেরারের। আর মিরকা পাশে না থাকলে যে ফেদেরারেরও ‘ফেদেরার’ হওয়া হয়ে ওঠে না!

মোটা দাগে মনে হতে পারে, এটা অতিসরলীকরণ। কিন্তু ফেদেরারের পূর্বাপর যারা জানেন, তাদের কাছে এটাই সত্যি! গত শনিবার ফেদেরারের বিদায়ী বক্তব্যে অবশ্য তার জীবনের ‘কোহিনুর’ হিসেবে আসেননি মিরকা, যা এসেছে সেটা ধন্যবাদসূচক বাণী মাত্র। কিন্তু দিন কয়েক আগেই মিরকা তার জীবনের কতখানি সেটি এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি জানিয়েছেন ফেদেরার। টেনিস ওয়ার্ল্ড সাময়িকীকে দেয়া সে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ওর গুরুত্ব বলে বোঝানো যাবে না। এটা শুধু টেনিসেই নয়, সব ক্ষেত্রেই। আমার দিকটা বোঝা, কী করলে আমার ভালো হয়, সেসব চিন্তা করাই যেন ওর জীবনের একমাত্র ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মিথ্যা বলেননি ফেদেরার।

সিডনি অলিম্পিক গেমস টেনিসে অংশ নিতে গিয়ে প্রথম দেখা। গেমস ভিলেজে থাকার সময়ে পরস্পরকে জানা, অভিসারের শুরু। হ্যাঁ, ওই অলিম্পিক গেমস ভিলেজেই ১৮ বছর বয়সী ফেদেরার প্রথম চুমু খেয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী মিরকাকে! এমন ‘সাহসী’ হয়ে ওঠার প্রেরণা পেয়েছিলেন সুইস অলিম্পিক দলের সদস্যদের কাছ থেকেই।

সে ঘটনা নিয়ে পরে সিএনএনে এক সাক্ষাৎকারে ফেদেরারের স্মৃতিচারণা, ‘গেমস ভিলেজের ডরমেটরিতে আমরা সপ্তাহ দুয়েক ছিলাম। রেসলার থেকে শুরু করে অন্য সব দুর্দান্ত অ্যাথলেটদের সঙ্গেই ছিলাম। আমার ধারণা, ওই দুই সপ্তাহে আমাদের সম্পর্কটা অনেক জমে উঠেছিল। এক দিন এক রেসলার বলল, “আরে এখন কাছে গিয়ে ওকে চুমু দাও। তখন আমার মনে হচ্ছিল, ‘না...মানে...কী করব বুঝতে পারছি না...।’ যা-ই হোক, আমি শেষ পর্যন্ত চুমু খেলাম। ও আমাকে বলছিল, ও আমাকে যখন চুমু খেয়েছিল তখন আমি খুবই তরুণ ছিলাম। আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে, আমার বয়স সাড়ে আঠারো।”

এরপর? অলিম্পিক থেকে দেশে ফেরা, পরস্পরকে আরও ভালোভাবে জানা, সম্পর্কটা আরও গাঢ় হওয়া। বছরখানেক যেতেই কোর্টে জুটি বেঁধে খেলতেও শুরু করেছিলেন তারা। ২০০২ সালে মিশ্র দ্বৈতের টুর্নামেন্ট হপম্যান কাপেও সুইজারল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন। ওই বছরই পায়ের চোটে পড়েন মিরকা। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, এই চোট সহজে ভালো হওয়ার নয়। অগত্যা টেনিসকেই বিদায় বলে দিলেন মিরকা।

এরপর মিরকার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে উঠলেন ফেদেরার। সেটা আক্ষরিক অর্থেই। প্রেমিকপ্রবরের সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য হয়ে গেলেন ফেদেরার জনসংযোগ কর্মকর্তা। আর সেই সুবাদে ফেদেরারের বিশ্বভ্রমণের সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

তবে নিজেকে জাহির করার ইচ্ছা কখনোই ছিল না মিরকার। ফেদেরারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থেকেছেন বটে কিন্তু কখনোই ঈগলের চোখ নিয়ে লেগে থাকা পাপারাজ্জিদের খোরাক হননি। মারিয়া শারাপোভার সঙ্গে গ্রিগর দিমিত্রভের দুই দিনের সম্পর্ক কিংবা লেইটন হিউইটের সঙ্গে বেক ক্যাটরাইটের লম্বা সময়ের প্রেম যেভাবে সংবাদমাধ্যমের খোরাক হয়েছে, তেমনটা কখনোই দেখা যায়নি ফেদেরার-মিরকার ক্ষেত্রে। তবে লোকের চোখের আড়ালে মনের দেয়া-নেয়া থেমে থাকেনি।

২০০৯ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তারা। ততদিনে রজারের নামের পাশে ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম। চারদিকে নাম-যশ। প্রাইজমানি আর এনডোর্সমেন্ট মিলে ফুলে-ফাঁপা বিত্তবৈভব। কিন্তু সেটা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি ফেদেরারের জীবনে। প্রভাব ফেলতে দেননি মিরকা।

মধ্যবিত্তের আটপৌরে জীবনের সঙ্গে হয়তো পরিচিত নন মিরকা, কিন্তু ফেদেরারের জীবনটাকে তিনি যে ছকে সাজিয়েছেন, সে ছকের সঙ্গে যেন আটপৌরে জীবনের অনেক মিল! ‘বাইরে খেয়ে পয়সা ধ্বংস করা যাবে না’, ‘মাছ হলে আর মাংসের বিলাসিতা নয়’- এমন অনুশাসনের সঙ্গে ফেদেরারকে নিয়ে মিরকার অনুশাসনের কত মিল! ‘বেশি রাত করা যাবে না আগে আগে ঘুমোতে যাবে’, ‘কাল তুমি জিমে আধা ঘণ্টা কম কাটিয়েছ, এটা ঠিক হয়নি’... আপনজনের অধিকার তো এমনই হয়।

পেশাদার সার্কিটে খেললেও নিজে নাম-যশ কামাতে পারেননি মিরকা। সর্বোচ্চ ক্যারিয়ার র‌্যাঙ্কিং ছিল ২১৪। চোটের কারণে আগেভাগে টেনিসকে বিদায় বলে দেয়ায় তার যে অতৃপ্তি ছিল, ফেদেরারের মধ্যেই সে অতৃপ্তির পূর্ণতা খুঁজেছেন। নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর ভালোবাসার মানুষের পূর্ণতার খোঁজ যখন মিলে যায়, এর চেয়ে বড় প্রেরণা হয়তো ফেদেরারের আর হতে পারত না।

সেই মিরকা ফেদেরারের ক্যারিয়ারের ‘কোহিনুর’ নয় তো কে? অবশ্য শুধু ক্যারিয়ারের কথাই বলা হচ্ছে কেন!


রোমাঞ্চ ছড়ানো জয়ে শিরোপা বাংলাদেশের মেয়েদের

রোমাঞ্চ ছড়ানো জয়ে শিরোপা বাংলাদেশের মেয়েদের
ব্যাটিংয়ে পিংকি আর রুমানা ছাড়া তেমন কেউ রান না পেলেও বোলাররা জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। ছবিঃ টুইটার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

আর্লিন কেলি ও ক্যারা মারে ম্যাচটা বেশ জমিয়ে তুলেছিলেন। নবম উইকেটে দুজনের ২৩ বলে ৩৪ রানের জুটিতে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল আয়ারল্যান্ড। শেষ ওভারে সমীকরণটা দাঁড়ায়, ৬ বলে আইরিশ মেয়েদের লাগবে ১৫ রান, হাতে ২ উইকেট। কেলি-মারে ক্রিজে।

তবে নাহিদা আক্তারের দারুণ বোলিংয়ে তা আর হলো না। ওভারে ৭ রানই নিতে পেরেছে আয়ারল্যান্ড, মারের উইকেটও হারিয়েছে। ৭ রানের রোমাঞ্চ ছড়ানো জয়ে মেয়েদের টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শিরোপা বাংলাদেশের মেয়েদের।

শিরোপা অবশ্য বলতে গেলে বাড়তি অর্জন। বাছাইপর্বের মূল যে লক্ষ্য, বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়া, সেটি ফাইনালে উঠেই পূরণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড দুই দলেরই। তবু শিরোপা তো শিরোপাই, সেটির আবেদনই অন্য।

সে পথে বাংলাদেশের কাজটা অবশ্য সহজ ছিল না। বাংলাদেশের রান যে খুব বেশি ছিল না। ফারজানা হকের ফিফটিতে বাংলাদেশ মাত্র ১২১ রানেরই লক্ষ্য দিতে পেরেছে আইরিশদের। তবে বোলিংয়ে শুরু থেকেই আয়ারল্যান্ডকে চেপে ধরেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, রুমানা আহমেদরা।

রুমানা ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন, তবে রান দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কিপ্টে ছিলেন মেঘলা। ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তার! বাংলাদেশের পাঁচ বোলারের মধ্যে সালমা খাতুন (৪ ওভারে ২১ রান) ছাড়া উইকেট পেয়েছেন বাকি চারজনই। সোহেলি ২ উইকেট নিয়েছেন ২০ রান দিয়ে, শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করা নাহিদা অবশ্য সবচেয়ে খরুচে - ২ উইকেট পেয়েছেন ৩১ রান দিয়ে।

তবে প্রায় সবারই ইকোনমি রেট কিছুটা বেড়েছে শেষ ৬ ওভারে। বোলিংয়ে শুরুটা তো দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানো আইরিশদের হয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে এসেছে ২৩ রান - আইরিশ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ৫৮ রানে যখন সপ্তম উইকেট পড়ে আয়ারল্যান্ডের, বাংলাদেশের সহজ জয়ই ম্যাচের ফল হবে বলে মনে হচ্ছিল অনেকের।


কিন্তু ১৪তম ওভার শেষেও আয়ারল্যান্ডের রান ছিল ৬৪, এরপর থেকে রানের গতি বাড়তে থাকে। ১৬তম ওভারে সোহেলির বলে ওয়ালড্রন (১৭ বলে ১৯)  ফিরলেও গতি কমেনি। কেলি ও মারের পালটা আক্রমণের যে সে-ই শুরু!

কেলি শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ ওভারে নাহিদার ওয়াইড বলে মারে স্টাম্পড হলেন, সেখানেই কার্যত শেষ আয়ারল্যান্ডের জয়ের আশা।

এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসকে বর্ণনা করা যায় এভাবে - ফারজানা হক পিংকির পাশাপাশি রুমানা আহমেদের ব্যাটিং আর বাকিটা হতাশা। দলের রানের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে পিংকির ব্যাট থেকে (৫৫ বলে ৬১), দলের মোট ১১ বাউন্ডারির ৭টিও।

মুরশিদার (৬) বিদায়ে চতুর্থ ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ২৩ রানে, এক প্রান্তে পিংকি মাঝে মাঝে চার মেরে গেলেও বাংলাদেশের রানের গতি তেমন ছিল না। অধিনায়ক নিগার সুলতানার (৬) সঙ্গে ৩৬ বলের জুটিতে ২৪ রান তোলেন পিংকি। দশম ওভারের পঞ্চম বলে সুলতানাও যখন আউট, দলের রান তখনো ফিফটি পেরোয়নি (৪৭/২)।

এরপর তৃতীয় উইকেটে রুমানার সঙ্গে পিংকির জুটিই যা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিক। রুমানা ছাড়া আর কেউই পিংকিকে সঙ্গ দিতে পারেননি। সঙ্গ দেওয়া কি, বাংলাদেশের যে ৯ ব্যাটার ক্রিজে নেমেছেন, তাদের মধ্যে দুই অঙ্কে যেতে পেরেছেন শুধু এ দুজনই। 

তৃতীয় উইকেটে রুমানা-পিংকির ৪৯ রানের জুটির ওপর ভর করে শেষ দিকে আরও ঝোড়ো গতিতে রান তোলার পরিকল্পনাই বাংলাদেশের ছিল, নিশ্চিত। তবে বৃষ্টিটা রানের নয়, হলো উইকেটের।

১৬তম ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রুমানার (২০ বলে ২ চারে ২১) বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ইনিংসে মড়ক লাগে। এর চেয়েও বড় ধাক্কা বাংলাদেশ খেয়েছে পাঁচ বল পর। স্টাম্পড হয়ে গেলেন পিংকিই! দুই সেট ব্যাটার আউট পাঁচ বলের ব্যবধানে, ইনিংসে বলও তখন বাকি ১৯টি – ক্রিজে থিতু হবেন নাকি রান তুলবেন নতুন ব্যাটাররা, এ ছিল সংশয়। দুইয়ের কোনোটিই করতে পারেননি কেউ।

রুমানা আউট থেকে শুরু করে ২৫ বলের মধ্যে বাংলাদেশ রান পেয়েছে ২৪টি, উইকেট হারিয়েছে ৬টি!

শেষ পর্যন্ত বোলিংয়ে সেটি পুষিয়ে নিয়েই শিরোপার আনন্দ রুমানাদের।