শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ থেকে ‘চুরি’, কথা বলছে না বিমান

সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ থেকে ‘চুরি’, কথা বলছে না বিমান
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকার ও শামসুন্নাহার সিনিয়রের ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলের অন্যান্য সদস্যের লাগেজও পাওয়া গেছে ভাঙা অবস্থায়। এ অভিযোগ নিয়ে অবশ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ কোনো কথা বলছে না। তবে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে চুরির ঘটনা সত্য নয়।

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাফজয়ী নারী দলের সদস্য কৃষ্ণা রানি সরকারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার (প্রায় ৫২ হাজার টাকা) এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। সানজিদা আক্তারের ব্যাগ থেকে ৫০০ ডলার ও সামসুন্নাহার সিনিয়রের ব্যাগ থেকে হারিয়েছে ৪০০ ডলার (প্রায় ৪২ হাজার টাকা)। মেয়েদের ব্যাগ থেকে পোশাক, প্রসাধনীসহ উপহার সামগ্রীও খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাফজয়ী বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল গতকাল বুধবার দুপুরে বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৭২ তে করে শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ছাদ খোলা বাসে চড়িয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাফুফে দপ্তরে। হাতে পতাকা ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে শিরোপাজয়ী মেয়েদের স্বাগত জানায় হাজারো মানুষ। তার পরদিনই এল চুরির এই অভিযোগ।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। আবার নেপাল থেকে সাফজয়ী মেয়েরা দেশে এসেছে বিমানেরই একটি ফ্লাইটে। ফলে লাগেজ থেকে ডলার, টাকা ও প্রসাধনী চুরির অভিযোগের দায় বিমান কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে সকাল থেকেই রাজধানীর কুর্মিটোলার বলাকা ভবনের সামনে অবস্থান করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে লুকোছাপার আচরণ করছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘আমরা আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখতে বলেছি যে, অভিযোগটা ফরমালি এসেছে কিনা।’

এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ চুরির ঘটনা সত্য নয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধিরা গতকাল সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমানের কাছ থেকে সাফজয়ী মেয়েদের লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ফুটবল দলের দুই নারী সদস্যের ব্যাগ থেকে ডলার ও টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এ ঘটনার সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে।

দুপুর দুইটা ৮ মিনিটে শেষ ব্যাগেজ ড্রপ হয়। এরপর বাফুফে প্রটোকল প্রতিনিধি ও দলের দুজন অফিসিয়াল প্রতিনিধি লাগেজ ট্যাগ চেক করে সম্পূর্ণ অক্ষত ও তালাবদ্ধ অবস্থায় বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সংবাদপ্রাপ্তির পর স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে আসল ঘটনা কী?’


থাই মেয়েদের উড়িয়ে শুরু বাংলাদেশের

থাই মেয়েদের উড়িয়ে শুরু বাংলাদেশের
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ৯ উইকেটে জিতলেন জ্যোতি-সালমারা।
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

একে তো টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তার ওপর খেলা ঘরের মাঠে। দুই মিলিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপে ফেভারিট বাংলাদেশ। ফেভারিটের মতোই টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে জ্যোতি-সালমারা জিতলেন ৯ উইকেটে।

থাইল্যান্ডের মেয়েরা টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিল। কিন্তু ওই টস জেতা পর্যন্তই। বাকিটা সময় মাঠে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে ১৯.৪ ওভারেই ৮২ রানে অলআউট থাইল্যান্ড।

দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় থাইল্যান্ড। ১৬ রানে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ বোলাররা শুরুতে এতটাই প্রতিপক্ষকে ওপর চেপে বসে যে প্রথম ৮ ওভারে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি তারা। নবম ওভারে জাহানারাকে পর পর দুই চারে দুটি বাউন্ডারি মারেন থাই মেয়েরা। তখন উইকেটে ছিলেন নথকান চনথাম ও ফিনতা মায়া। তৃতীয় উইকেটে ৩৭ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু এই জুটি ছিন্ন হলে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। চনথাম ৩৮ বলে ২০ ও মায়া ২২ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। স্পিনার রুমানা আহমেদ ৯ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। সোহেলি আক্তার, সানজিদা আক্তার ও নাহিদা আক্তার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নিয়েছেন সালমা।

জয়ের জন্য ৮৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে এসে দলকে দারুণ একটা সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও ফারজানা হক। ব্যাটকে হাতের উইলো বানিয়ে ৩০ বলে ১০টি চারে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন শামিমা।

উদ্বোধনী জুটি ফারজানাকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। শামিমার আউট হয়ে যাওয়ার পর ফারজানা হক ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান। ২৯ বলে ২৬ ও ১১ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন ফারজানা ও বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।


বাংলাদেশের পথে বড় কাঁটা ভারতই

বাংলাদেশের পথে বড় কাঁটা ভারতই
ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া সাত দলের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নামছে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে। তবে কাজটা একেবারে সহজ হবে না। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আছে ফেভারিটের তালিকায়। আগের ৭ আসরের ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে তাদের হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

আগের সাত আসরে প্রথম চারবার রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা। পরের দুইইবার ফাইনালে ভারতের কাছে হারে পাকিস্তান। সে তুলনায় ভাগ্যবানই বলতে হবে বাংলাদেশকে। একবার ফাইনালে খেলেছে, সেবারই শিরোপা!

আরেকটি এশিয়া কাপ যখন শুরু হচ্ছে, তা-ও প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠেই, সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু? শিরোপার দৌড়ে বাকি তিন ফেভারিট ভারত, শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানের শক্তি-দুর্বলতাও কেমন?  

বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ জয়ের পর ভালো ছন্দেই আছে বাংলাদেশ। ২০১৮ এশিয়া কাপের পর থেকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে প্রায় ৬১ শতাংশ জয় সে কথাই বলে। সঙ্গে যোগ করে নিন দিন কয়েক আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে শেষ হওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২৩ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার আত্মবিশ্বাস। বাছাইপর্বে চোটের কারণে খেলতে না পারা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জাহানার আলমও ফিরেছেন এশিয়া কাপের দলে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ফর্ম আশা দেখাবে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ ৫টি টি-টোয়েন্টিতে দুই ফিফটিতে ১৮০ রান জ্যোতির। ওপেনিংয়ে ছন্দে আছেন ফারজানা হক পিংকিও।

ভারত

শিরোপার বড় দাবিদার ভারত সর্বশেষ ৫টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। বড় বড় দলের বিপক্ষে খেলার এই অভিজ্ঞতাই বাকিদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে ভারতের মেয়েদের। ২৬০২ রান নিয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আট নম্বরে আছেন অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর, এগারো নম্বরে সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা (২৩০৩)। চোটের কারণে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে না থাকা জেমিমা রদ্রিগেজ দলে ফেরায় ভারতের শক্তি আরও বেড়েছে।

পাকিস্তান

দুইবার হাতছোঁয়া দূরত্বে গিয়েও মেয়েদের এশিয়া কাপের শিরোপা এখনো পাকিস্তানের অধরা। এবার শিরোপা জিততে চাইবে ঠিকই, তবে সাম্প্রতিক ফর্ম পাকিস্তানের পক্ষে নেই। সর্বশেষ ১০ ম্যাচের ৬টিতেই হার। চোটের কারণে পেসার ফাতিমা সানাকেও এশিয়া কাপে পাচ্ছে না তারা। পাকিস্তান তাকিয়ে থাকবে তাদের অধিনায়ক মিসবাহ মারুফা ও অলরাউন্ডার নিদা দারের দিকে।

শ্রীলঙ্কা

এশিয়া কাপের প্রথম চার আসরের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা এই টুর্নামেন্টে তাদের জৌলুস হারিয়েছে ২০০৮ সালের পর। পাকিস্তানের মতো তারাও শিরোপাবঞ্চিত। কিন্তু পাকিস্তানের মতো তাদেরও ফর্ম ভালো যাচ্ছে না। সর্বশেষ ১০ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার মেয়েদের জয় মাত্র ৩টি। আজ শুরুতেই ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হচ্ছে লঙ্কান মেয়েদের। শ্রীলঙ্কার আস্থার প্রতীক অভিজ্ঞ চামিরা আতাপাথু। বোলিং বিভাগে ইনোকা রানাবিরা ও ওশাদি রানাসিংহে জ্বলে উঠলে তাদের শিরোপার আক্ষেপ ঘুচতে পারে।


শিরোপা ধরে রাখার লড়াই বাংলাদেশের

শিরোপা ধরে রাখার লড়াই বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • মেয়েদের এশিয়া কাপ

দেবাশীষ দেবু, সিলেট

মেয়েদের এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আর এবার মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্ট তারা খেলবে ঘরের মাঠে। চেনা মাঠ, চেনা আবহাওয়ার সঙ্গে থাকবে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সমর্থন। সব মিলিয়ে দলের লক্ষ্য একটাই-শিরোপা ধরে রাখা। এই লক্ষ্য নিয়েই আজ টুর্নামেন্ট শুরু করবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

আজ সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে মেয়েদের এশিয়া কাপ। বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড ছাড়াও টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর আগে শুক্রবার শেষবারের মতো নিজেদের ঝালাই করে নিয়েছেন জ্যোতি-সালমারা। দুপুরে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে দল।

অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। আগের দিন সালমা জানিয়েছিলেন নির্দিষ্ট কোনো টার্গেট নয়, ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো করতে চান তারা। তবে শুক্রবার কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন জ্যোতি। অধিনায়কের লক্ষ্য দুটি- ভালো খেলা আর ট্রফি ধরে রাখা। ‘আমরা ভালো খেলতে চাই।’ জ্যোতি বলে গেলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভালো খেলছিও। সেটা ধরে রাখতে চাই। এই ট্রফিটা আমাদের ছিল। সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। ভালো খেললেই সেটা সম্ভব।’

প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাবছেন না জ্যোতি, ‘অন্য টিম নিয়ে আমাদের ভাবনার কিছু নেই। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে চাই। প্ল্যান মতো কাজ করতে পারলে আমরা সফল হব।’

মেয়েদের সবচেয়ে বেশি খেলা হয় সিলেটের মাঠেই। অনুশীলন ক্যাম্পও হয় এখানে। ফলে সিলেটই তাদের ‘হোম গ্রাউন্ড’ জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘এখানে আমরা সবসময় খেলি। এই হোম ভেন্যুর সুবিধা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। আমরা যেহেতু এখানে বেশি খেলি তাই এখানকার সবকিছুই আমাদের পরিচিত।’

ঘরের মাঠে খেলায় সুবিধা যেমন আছে, তেমন আছে চাপও। থাকে দর্শকের প্রত্যাশার চাপও। তবে এসব চাপ একেবারেই আমলে নিতে চান না জ্যোতি, ‘নিজের ঘরে খেলার কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের টার্গেট ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা। আলাদা কোনো পরিকল্পনাও নেই আমাদের। যখন যে পরিস্থিতি আসে সে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। আমি ভালো ফর্মে আছি, সেটা ধরে রাখতে পারলে টিমের জন্য ভালো হবে। অন্যদেরও সেরাটা দিতে হবে।’

মাঠ চ্যালেঞ্জ নয়, প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাবনা নেই। তাহলে চ্যালেঞ্জ কী? জ্যোতির উত্তর, ‘চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরো টিম মিলে ভালো পারফর্ম করা। এটা না করতে পারলে সাফল্য আসবে না। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিনটি ক্ষেত্রেই ভালো করতে হবে এবং সবাইকে পারফর্ম করতে হবে।’

এই শরতেও সিলেটে প্রচণ্ড গরম। দিনভর কাঠফাটা রোদ। তবে আবহাওয়ার এই বৈরিতা তেমন সমস্যা হবে না জানিয়ে বলে জানিয়েছেন জ্যেতি, ‘আবহাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আবুধাবিতে আরও গরম ছিল। আমরা সেখানে কিছুদিন আগেই খেলে এসেছি। ওখানে কোনো সমস্যা হয়নি। কেউ চোটে পড়েনি। এখানেও আমরা চাইব সবাই যাতে পুরো ফিট থাকে।’ ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা পেসার জাহানারা আলমের দলে ফেরাও বাড়তি শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানালেন তিনি।

দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ এ কে এম মাহমুদ ইমনও। সেটি ধরে রাখতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘দল উন্নতি করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলছি। সব খেলোয়াড় ছন্দে আছে। ফলে এখানেও ভালো কিছু হবে বলে আশা করছি।’

কোচ মনে করেন বাংলাদেশ দল এখন যে অবস্থানে আছে তাতে অন্য টিমকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। বরং নিজেদের সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ।

 


ধাঁধিয়ে দিচ্ছে সূর্যের আলো

ধাঁধিয়ে দিচ্ছে সূর্যের আলো
সূর্যকুমার যাদব।
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

ভারত ঠিক কাঁপছিল এটা বলা যাচ্ছে না, তবে স্বস্তিতেও ছিল না। পরশু তিরুভানন্দতপুরমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৬ রানে আটকে দিয়ে ভারতের শুরুটাও ঠিক ভালো হয়নি। পাওয়ার প্লেতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের (১৭) রেকর্ড গড়েছিল ভারত। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে বিরাট কোহলিও ফিরে গেছেন। চাপ কিছুটা হলেও ছিল ভারতের ওপর।

সূর্যকুমার যাদব নামলেন আর নেমেই তিন বলের মধ্যে দুই ছক্কা। ব্যস, দক্ষিণ আফ্রিকার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ওখানেই শেষ। যাদব ওই দুই ছক্কাতেই থামেননি। পরে আরও একটি ছক্কার সঙ্গে পাঁচটি চারও মেরেছেন। তাতে মাঠ ছাড়ার সময় তার নামের পাশে ৩৩ বলে ৫০ রান। বছরে পঞ্চম ফিফটির ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট ১৫১.৫১।

এমন স্ট্রাইকরেটকেও বড্ড কম মনে হচ্ছে। কারণ ব্যাটসম্যানটির নাম সূর্যকুমার। পরশুর আগ পর্যন্ত এ বছর টি-টোয়েন্টিতে তার স্ট্রাইকরেট ১৮৩, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই সেটা ১৭৫-এর কাছাকাছি। এই তো গত ২৬ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ঝড় উঠেছিল তার ব্যাটে। বিরাট কোহলিকে এক পাশে রেখে ৩৬ বলে ৬৯ রান করেছিলেন। ছিল ৫ চার ও ৫ ছক্কা।  

গতকালের তিন ছক্কায় এক পঞ্জিকাবর্ষে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন। ২০২১ সালে রিজওয়ানের ৪২ ছক্কার রেকর্ডের সঙ্গে এখনই ব্যবধান তিন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের আরও দুই ম্যাচ বাকি। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও তিন ম্যাচের সিরিজ। বছরে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডটা এবার সবার নাগালের বাইরে নিয়েই হয়তো ছাড়বেন সূর্যকুমার।

ভারতের টপঅর্ডারে ব্যতিক্রমী ছন্দ যোগ করেন এই  ব্যাটসম্যান। রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল বা বিরাট কোহলিরা সবাই একই ঘরানার ব্যাটিং করেন। ওদিকে সূর্যকুমার মুহূর্তেই আগ্রাসী রূপ নিতে জানেন এবং সেটা বেশ বড় সময় ধরেই। এ কারণেই ৩২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১৭৩ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করার পরও তার ব্যাটিং গড় ওয়ানডের মতো, ৩৯।

আর দলের পড়তি তার নিবেদন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচেই দেখা গেছে। ৬৯ রানের দুর্দান্ত সে ইনিংসের আগে তার মাঠে নামা নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার চিন্তা কোনোভাবেই মাথায় নেননি মুম্বাইয়ের ছেলে, ‘সকালে পেটব্যথা ছিল, জ্বরও ছিল। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ এটা। আমি তাই চিকিৎসক ও ফিজিওকে বললাম, এটা যদি বিশ্বকাপ ফাইনাল হতো তাহলে কী করতাম? অসুস্থ বলে নিশ্চয় বসে থাকতাম না। পিল বা ইনজেকশন যা খুশি দিন, কিন্তু বিকেলের ম্যাচের জন্য আমাকে সুস্থ করুন।’

বিশ্বকাপের বছরে এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সূর্যকুমারি ভারতের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস।


ভালো কিছুর আশা সালমাদের

ভালো কিছুর আশা সালমাদের
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া মেয়েদের এশিয়া কাপ ক্রিকেট সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন। ছবি: দৈনিক বাংলা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • মেয়েদের এশিয়া কাপ

দেবাশীষ দেবু, সিলেট

ফুটবলে মেয়েদের সাফজয়ের রেশ এখনো কাটেনি। আজ এখানে সংবর্ধনা তো কাল ওখানে। এরই মধ্যেই এবার মাঠে নামছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মেয়েরা। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লড়াইয়ে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে মেয়েদের এশিয়া কাপ-২০২২। ৭ দেশের এই টুর্নামেন্টে প্রথম দিনই থাইল্যান্ডের মুখোমুখি স্বাগতিক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে গতকালই প্রথম অনুশীলনে নামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মঙ্গলবার দেশে ফেরা মেয়েরা।

তো টুর্নামেন্টে লক্ষ্য কী? ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দলের লক্ষ্যই থাকে শিরোপা ধরে রাখা। আর সেটা করতে হলে মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিতে হয়, সেরাটা দিয়ে খেলতে হয়। গতকাল দলের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই সেরাটাই দেয়ার প্রত্যয় দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সালমা খাতুনের, ‘একটা টুর্নামেন্টে ভালোভাবে শেষ করে এসেছি। খেলোয়াড়রাও ফর্মে আছে।  আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। এখানে ভালো কিছু আশা করছি।’

চেনা মাঠ, চেনা কন্ডিশনও কাজে দেবে বলে মনে করেন সালমা, ‘সিলেটে বলতে গেলে আমরা সব সময় থাকি। এখানে কিছুদিন আগেও খেলে গেছি। আমাদের বেশির ভাগ খেলা ও প্র্যাকটিস হয় এখানেই। ক্যাম্পও হয়। ফলে এখানকার উইকেট সম্পর্কে আমরা জানি। আবহাওয়া সম্পর্কেও জানি। মাঠে তা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।’‌ তবে সতীর্থদের তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে, আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।

কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামও। জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার জানান, ‘কোনো লক্ষ্য স্থির করে আমরা ক্রিকেটারদের চাপে ফেলতে চাই না। বরং ভালো দলগুলো ম্যাচ বাই ম্যাচ টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে। আমাদেরও লক্ষ্য সেটি। প্রতিটি ম্যাচে ভালো খেলা।’

‌বাংলাদেশ ছাড়াও গতকাল সিলেটের মাঠে সকালে অনুশীলন করেছে থাইল্যান্ড, মালেশিয়া ও আরব আমিরাত। আর বিকেলে অনুশীলন করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগের দিনই ৬টি দল এসে পৌঁছে সিলেটে। আর ভারত এসে পৌঁছেছে গতকাল।

টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।