রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

বাংলাদেশ জিতেছে – প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই

বাংলাদেশ জিতেছে –  প্রাপ্তি বলতে এতটুকুই
রাকিবের গোলই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ছবি: বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধানটা খুব একটা গোনায় ধরার মতো নয়। কম্বোডিয়া কিছুটা এগিয়ে – বাংলাদেশ ১৯২, কম্বোডিয়া ১৮ ধাপ এগিয়ে। তবে ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলেছে। এর আগের চার ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৩টি, অন্যটি ড্র।

নমপেনে আজ ফিফা প্রীতি ম্যাচেও বাংলাদেশ জিতেই মাঠ ছেড়েছে। প্রথমার্ধে উইঙ্গার রাকিব হোসেনের গোলে জয়টা ১-০ ব্যবধানে, তাতে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে প্রথম জয়ও হলো। তবে দল যে জিতেছে, কম্বোডিয়ার দাপুটে ফুটবলের সামনে ছন্নছাড়া বাংলাদেশের এই ম্যাচে এটিই একমাত্র প্রাপ্তি!

পরিসংখ্যান কতটা ভুল বোঝাতে পারে, সেটির একটা উদাহরণ হতে পারে এই ম্যাচ। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বলের দখল বাংলাদেশের পায়েই ছিল ৫৫ শতাংশ সময়ে। গোলে শটও বাংলাদেশের ৩টি, কম্বোডিয়ার দুটি। সব মিলিয়ে শটের সংখ্যায় অবশ্য কম্বোডিয়া ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে কম্বোডিয়ার গতিময় পাসিং ফুটবলের সামনে বাংলাদেশকে যতটা অসহায় লেগেছে, তাতে পরিসংখ্যানগুলোকে আস্ত গাধাই মনে হতে পারে কারও। রক্ষণে ৫-৪-১ ছকে নেমে যাওয়া কম্বোডিয়া আক্রমণে গেলে ২-৩-৫ ছকে উঠে যাচ্ছিল। বাংলাদেশকে মাঠের মাঝের দিকে ‘ন্যারো’ রেখে নিজেদের দুই উইংকে টাচলাইনে পাঠিয়ে মাঠ বড় করে খেলছিল। কখনো উইং থেকে ক্রসে, কখনো মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা থ্রু-তে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেও অনেক। তবে কখনো শট ঠিকমতো না হওয়ায়, কখনো বাংলাদেশ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো দারুণ সেভ করায় আর গোল পাওয়া হয়নি তাদের।

মতিন মিয়ার পাস থেকে এসেছে রাকিবের গোল। ছবিঃ বাফুফে 

বাংলাদেশ রক্ষণও ভালোই খেলেছে। তবে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ তেমন পায়ইনি ৪-২-৩-১ ছকে নামা কাবরেরার দল।

কিন্তু ১৪ মিনিটে প্রথম সুযোগটা বাংলাদেশই পেয়েছে! লম্বা থ্রো থেকে বক্সে জামাল ভুঁইয়া বল পেয়েছিলেন, তবে বলে পায়ের স্পর্শটা ঠিকঠাক না হওয়ায় শটটা পোস্টমুখী হয়নি। ১৯ মিনিটে কম্বোডিয়ার সিন কাকাদার শট দারুণ ঝাঁপিয়ে বারের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেন জিকো।

তখনই কম্বোডিয়ার দাপট স্পষ্ট, কিন্তু ২৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে গেল বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে হঠাৎ আক্রমণের শুরু, মতিন মিয়া বল পেয়ে পাস বাড়ান রাকিব হোসেনের দিকে। রাকিবের প্রথম স্পর্শের শট জালে।   

দ্বিতীয়ার্ধেও কম্বোডিয়ার দাপটের মধ্যে ৭৪ মিনিটে আরেক গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ! বক্সের বাইরে থেকে মতিন মিয়ার শট বার কাঁপিয়ে চলে যাওয়ায় জয়ের ব্যবধানটা আর বড় হয়নি।  


৬ গোলে নীল ইউনাইটেড, ইতিহাদে হলান্ডের ইতিহাস

৬ গোলে নীল ইউনাইটেড, ইতিহাদে হলান্ডের ইতিহাস
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গোলের পর আর্লিং হলান্ডের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দাবি করতে পারে, ম্যানচেস্টার ডার্বি তো সমতায়ই শেষ হয়েছে!

প্রথমার্ধটা ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে, দ্বিতীয়ার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সিটি একটু বেশি গোলের ব্যবধানেই জিতেছে, এ-ই যা! প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল সিটি, দ্বিতীয়ার্ধে সিটির দুই গোলের বিপরীতে ইউনাইটেড গোল করেছে তিনটি।

কিন্তু ইউনাইটেডের ভাগ্য খারাপ, ফুটবল ম্যাচের ফল দুই অর্ধ মিলিয়েই হয়। তাতে অমন অসহায় প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের তিন গোল পাত্তাই পায়নি। গোলগুলো সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীতার ছাপ রাখলেও হতো। ইউনাইটেডের শেষ দুই গোল যে এসেছে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে, ততক্ষণে সব শেষ।

ততক্ষণে ইতিহাদে ইউনাইটেড লজ্জায় লাল। ততক্ষণেই ৬-১ গোলে এগিয়ে সিটি, শেষ মুহূর্তে ইউনাইটেডের দুই গোলে ম্যাচটা শেষ হয়েছে সিটির ৬-৩ গোলের জয়ে। 

আর সিটির এমন ইংল্যান্ড কাঁপিয়ে দেওয়া জয়ের নায়ক? গত আগস্টে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর ইংল্যান্ড মাতিয়ে রাখা আর্লিং হলান্ডই! আবারও হ্যাটট্রিক তার, তাতে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক পাওয়া প্রথম খেলোয়াড়ও বনে গেছেন। তবে আজ অবশ্য আলোটা শুধু হলান্ডের ওপরই নয়, হ্যাটট্রিক যে ফিল ফোডেনও পেয়েছেন। 

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, হলান্ডের হ্যাটট্রিকও হয়তো কদিন পরে আর ‘ব্রেকিং নিউজ’ থাকবে না। প্রতিদিনই বিরিয়ানি খেতে থাকলে এক সময় বিরিয়ানির কথা আর আলাদা করে বলতে হয় নাকি!

নিজেদের মাঠে আগের দুই ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেস আর নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। লিগে নিজেদের সর্বশেষ চার ম্যাচ জিতে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া ম্যান ইউনাইটেডকেও আজ প্যালেস-ফরেস্টের সারিতে নামিয়ে এনেছেন হলান্ড!

বিরতির ১০ মিনিট আগেও মনে হচ্ছিল, বিরতিতে বুঝি গার্দিওলা মাথা চুলকাবেন! দারুণ দাপুটে ফুটবলের পরও ৮ মিনিটে ফোডেনের গোলের বাইরে তখনো যে আর গোল পায়নি সিটি। এরপর? দৃশ্যপটে আগমন হলান্ডের! ৩৪ থেকে ৩৭- চার মিনিটে দুই গোল! ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’য় সমতা ফেরাতে ৪৪ মিনিটে গোল ফোডেনেরও।

সিটি ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলা না হলেও খুব বেশি ক্ষতি বৃদ্ধি হয়তো হতো না। প্রথমার্ধ শেষেই ‘মৃত’ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে প্রাণ বলতে পাঁচটা গোলই। ৫৬ মিনিটে আন্তনির গোলটা অবশ্য হয়েছে দেখার মতো, বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে। তবে সেটিতেও ইউনাইটেডের প্রত্যাবর্তনের আশা কারও সম্ভবত জাগেনি। ইউনাইটেড প্রত্যাবর্তন তো দূরের কথা, প্রতিদ্বন্দ্বীতাও করতে পারেনি। উল্টো ৬৪ মিনিটে হলান্ডের হ্যাটট্রিক পূর্ণ হলো, ৮ মিনিট পর ফোডেনেরও।

এরপর শেষদিকে মার্শিয়ালের দুই গোল শুধু মনে করিয়েছে, স্কোরলাইনটা বুঝি ইউনাইটেডের পক্ষেই একটু বেশি বাড়িয়ে বলছে!


লালে রাঙা উত্তর লন্ডন

লালে রাঙা উত্তর লন্ডন
ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

মৌসুমের শুরুতে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আর্সেনালে যাওয়ার পর বেশ আলো ছড়ালেও ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই প্রীতি ম্যাচের দলে ডাক পাননি গাব্রিয়েল জেসুস। আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রথম ম্যাচে তিনি জবাবটা দিয়েছেন এক গোল করে – লিগে মৌসুমে তার পঞ্চম গোল।

জেসুসের বদলে যিনি ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই ম্যাচের দলে ডাক পেয়েছেন, সেই রিচার্লিসন গোলটোল করতে পারেননি। তবে উপস্থিত বুদ্ধির দারুণ প্রয়োগে পেনাল্টি আদায় করেছেন, যা থেকে গোল করেছেন টটেনহাম অধিনায়ক হ্যারি কেইন। পেনাল্টিটা কার ফাউল থেকে পেয়েছেন রিচার্লিসন? আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালিয়েস। 

এমারসন রয়াল ব্রাজিলের দলে জায়গা হারিয়েছেন অনেক দিন হলো, গত জানুয়ারির পর আর হলুদ জার্সিটা গায়ে ওঠেনি। বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে ডাক পেতে দারুণ কিছু করতে হবে ২৩ বছর বয়সী রাইটব্যাককে, কাল আর্সেনাল-টটেনহাম ডার্বিতে তিনি ‘বড় ভূমিকা’ রেখেছেন লাল কার্ড দেখে! 

ব্রাজিলিয়ানদের ছোট ছোট প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ম্যাচটাতে উত্তর লন্ডন রঙিন আর্সেনালের লালে। জেসুসের পাশাপাশি থমাস পার্তে আর এই মৌসুমে দারুণ ছন্দে ফেরা গ্রানিত জাকার গোলে আর্সেনালের জয় ৩-১ ব্যবধানে।

ম্যাচে জয়-পরাজয় দেখা মানে কারও রেকর্ডের অবসান – ম্যাচের আগের আবহ ছিল এমনই। টটেনহাম এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে হারেনি, আর আর্সেনালের নিজেদের মাঠে টটেনহামের কাছে হারে না সেই ২০১০ সাল থেকে! আর্সেনালের রেকর্ডই অটুট থাকল। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাদৌড়ে আর্সেনালকে এবার আসলেই যে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, এই ম্যাচ সেটিও বুঝিয়ে দিয়ে গেছে আরেকবার।

উত্তর লন্ডন ডার্বিতে কাল আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছে, আজ প্রিমিয়ার লিগে সাড়া জাগানো আরেক ডার্বিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা ম্যানচেস্টার সিটি যে দলই জিতুক, সপ্তাহটা আর্সেনালই শেষ করছে তালিকার শীর্ষে থেকে।

টটেনহাম কোচ আন্তোনিও কন্তে নিশ্চিত তার খেলোয়াড়দের পিন্ডি চটকাচ্ছেন! তিন গোলের দুটিতেই তার মিডফিল্ডাররা বল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা না করে আর্সেনালকে বক্সের দিকে ঢোকার অনেক জায়গা দিয়ে বসেছেন। ২০ মিনিটে আর্সেনালের প্রথম গোলটি বক্সের সামনে বাধাহীন তিন-চার পাসের পর বক্সের বাইরে থেকে পার্তের শটে, ৬৭ মিনিটে তৃতীয়টির পথেও গ্রানিত জাকা শট নেওয়ার আগে টটেনহামের মাঝমাঠ তেমন বাধার মুখে ফেলেনি আর্সেনালকে।

আর ৪৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি? সে দায় টটেনহামের ‘কখনো নির্ভরতার, কখনো মাখনগলা’ হাতের গোলকিপার উগো লরিসের। শট আটকাতে গিয়েছিলেন, হাঁচোড়পাঁচোড়ে বলটা তার হাতের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। গোলের বলুন আর ব্রাজিল দলে জায়গার – সুযোগের সন্ধানে থাকা জেসুসের গোল করতে ভুল হলো না।

মাঝে যে ৩১ মিনিটে কেইনের গোলে টটেনহাম সমতায় ফিরেছিল, সে-ই বরং আশ্চর্যের। এত ভুলের ম্যাচে আর্সেনালের চেয়ে বলের দখলে (৩৫-৬৫), শটে (৭-২২) সবদিকে পিছিয়ে থাকা টটেনহামের জয়টা প্রাপ্যও ছিল না!


আধিপত্য দেখিয়ে শুরু চ্যাম্পিয়নদের

আধিপত্য দেখিয়ে শুরু চ্যাম্পিয়নদের
প্রথম ওভার করতে এসেই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন সোহেলি আখতার। ছবি: বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত

৫১ বলে দরকার ১ রান। স্ট্রেইকে নিগার সুলতানা জ্যোতি। থাইল্যান্ডের লেগ স্পিনার সুলিপন লাওমির করা বলটি লং অন দিয়ে উড়িয়ে ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। মেয়েদের এশিয়া কাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ঘরের মাঠে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের।

জয়ের পর স্বস্তি জ্যোতির কণ্ঠে, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো টুর্নামেন্টে আপনি কী করতে যাচ্ছেন, সেটার একটা ছন্দ এনে দেয়। আমি মনে করি থাইল্যান্ড যেমন দল, তাদের সঙ্গে আমাদের আধিপত্য বিস্তার করে জেতাই উচিত।’

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ড অধিনায়ক নারুয়েমল চাইওয়াই যখন আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখনই ম্যাচের ভাগ্য দেখে ফেলেছেন অনেকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যান্টে এর আগে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয় বাংলাদেশের। তবে সর্বশেষ দেখায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল থাইল্যান্ড। সেদিন মাত্র ১১ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

গতকাল অবশ্য অধিনায়কের ইচ্ছাপূরণ করে আধিপত্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশ, আরও নির্দিষ্ট করে বললে স্পিনাররা। প্রতিপক্ষের সব উইকেট স্পিনারদের দখলে। ফনিট্রা মায়ার ২২ বলে ২৬ ও নথকাম চনথামের ২০ রানে ১৯.৪ ওভারে থাইল্যান্ডের ইনিংস থামে ৮২ রানে।

লেগ স্পিনার রুমানা আহমেদ ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুই বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আকতার ও সানজিদা আকতারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি অব স্পিনার সোহেলি আখতার। বাকি উইকেট অভিজ্ঞ সালমা খাতুনের।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জ্যোতি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বোলারদের, ‘বোলাররা সবসময় ভালো করে। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, তাদের এক শর নিচে রাখতে চেয়েছি। সে ক্ষেত্রে বোলাররা আরও ভালো করেছে। যেমন পাওয়ার প্লেতে আমরা বাউন্ডারি হতে দেইনি।’ নবম ওভারে গিয়ে প্রথম চারের দেখা মিলেছে ম্যাচে।

৮৩ রানের মামুলি লক্ষ্য পেয়ে যতটা দাপুটে জয় তুলে নেয়া যায়, ঠিক সেভাবেই ব্যাটিং করেছেন দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও ফারজানা হক পিংকি। বিশ্বকাপ বাছাপর্বের শেষ ম্যাচে আয়াল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা ফারজানা গতকাল বেশ দেখেশুনে ব্যাটিং করেছেন। অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ছিলেন শামীমা। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই উইকেটকিপার ৩০ বলে মেরেছেন ১০টি চার।

মাত্র ১ রানের জন্য ফিফটি না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়েছেন শামীমা। ফারজানার ২৯ বলে ২৬ রানের সঙ্গে জ্যোতির ১১ বলে ১০ রানে ১১.৪ ওভারেই ৯ উইকেটের দাপুটে জয় বাংলাদেশের। বোলারদের পর দুই ওপেনারকেও প্রাপ্ত কৃতিত্ব দিলেন জ্যোতি, ‘শামীমা আপু খুব অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। পাশাপাশি পিংকি খুব ভালো সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু এটাই চাই। আমার কাছে মনে হয় ভালো শুরু।’

এমন শুরু নিশ্চয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।


উড়ন্ত সূচনায় খুশি জ্যোতি

উড়ন্ত সূচনায় খুশি জ্যোতি
এভাবেই লং অন দিয়ে ৬ মেরে দলকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ছবি: ফোকাস বাংলা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

দেবাশীষ দেবু, সিলেট

চ্যাম্পিয়নদের মতোই এশিয়া কাপ শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ডকে। ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

গতকাল শনিবার সিলেটে উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে এমন উড়ন্ত সূচনা করতে পেরে খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

মেয়েদের পারফরম্যান্সে খুশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। ফাইনালই তার লক্ষ্য বলে জানালেন। গতকাল সকালে সিলেটে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করে পরে পুরো ম্যাচ দেখেন বিসিবি প্রধান।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো লেগেছে। আমরা যদি বিশ্ব র‍্যাংকিং দেখি বাংলাদেশ বোধ হয় ৯ নম্বরে। এরপর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে। এই দলগুলো কাছাকাছি মানের।’

‘যেহেতু কাছাকাছি মানের দল আর গতবার তারা বিশ্বকাপ খেলেছে সেহেতু তারা খুব শক্তিশালী একটা প্রতিপক্ষ আমাদের জন্য। সে জন্য একটা ভয় পাচ্ছিলাম, একটা টাইট ম্যাচ হবে কি না। কিন্তু যেভাবে তারা খেলেছে, যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা খেলেছে খুবই ভালো লাগছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক দিন ধরেই ভালো খেলছে। কিন্তু আমরা সে দিকে তাকাচ্ছি না। এই দলটা তো এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না। এর আগেও কোয়ালিফাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সাফ গেমসে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। তারা তো ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে।

এভাবে ভালো খেলতে থাকলে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম টার্গেট সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল। ফাইনালেও ভালো খেলার আশা করছি। এই পথে ভারতই বড় বাধা হতে পারে জানিয়ে পাপন বলেন, ‘ভারত দল গত এক বছরে অনেক ইম্প্রুভ করেছে। তারা ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারাচ্ছে ইদানীং, একই সঙ্গে বাংলাদেশও অনেক ইম্প্রুভ করে গত কয়েক দিনে। তাই ম্যাচটা টাইট হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

এদিকে টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করতে পেরে খুশি টাইগ্রেস দলপতি নিগার সুলতানা জ্যোতি। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যাচসেরা হওয়া শামীমারও প্রশংসা করলেন জ্যোতি। তিনি বলেন, আমাদের সব সময় পরিকল্পনা থাকে আমরা যেন পাওয়ার প্লেটা ইউজ করতে পারি। শামীমা আপু খুব অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। পাশাপাশি পিংকি খুব ভালো সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু এটাই চাই। আমার কাছে মনে হয় ভালো একটা স্টার্ট। বোলারদের প্রশংসাও ঝরলো জ্যোতির কণ্ঠে। বলেন, বোলাররা কিন্তু সবসময় ভালো করে। আমরা যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম তাদেরকে একশর নিচে রাখতে পারি। সেই ক্ষেত্রে বোলাররা আরও বেশি ভালো করেছে। যেমন পাওয়ার প্লেতে আমরা কিন্তু বাউন্ডারি যেতে দেইনি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেটের উইকেটে বল লো হচ্ছে জানিয়ে টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেন, উইকেট ভালো তবে একটু লো হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয় ডে বাই ডে আরও উন্নতি হবে। আমরা যেহেতু এখানে খেলে গেছি, তাই আমাদের কাছে এত আনকমফোরট্যাবল ছিল না। শুরুটা ভালো হওয়ার প্রভাব টুনার্মেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, একটা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো টুর্নামেন্ট আপনি কি করতে যাচ্ছেন, সেটার একটা টোন সেট করে। এ ছাড়া টিমটাকেও এই জয় চাঙা করে তুলবে।


থাই মেয়েদের উড়িয়ে শুরু বাংলাদেশের

থাই মেয়েদের উড়িয়ে শুরু বাংলাদেশের
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ৯ উইকেটে জিতলেন জ্যোতি-সালমারা।
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত

একে তো টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তার ওপর খেলা ঘরের মাঠে। দুই মিলিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপে ফেভারিট বাংলাদেশ। ফেভারিটের মতোই টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে জ্যোতি-সালমারা জিতলেন ৯ উইকেটে।

থাইল্যান্ডের মেয়েরা টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিল। কিন্তু ওই টস জেতা পর্যন্তই। বাকিটা সময় মাঠে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে ১৯.৪ ওভারেই ৮২ রানে অলআউট থাইল্যান্ড।

দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় থাইল্যান্ড। ১৬ রানে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ বোলাররা শুরুতে এতটাই প্রতিপক্ষকে ওপর চেপে বসে যে প্রথম ৮ ওভারে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি তারা। নবম ওভারে জাহানারাকে পর পর দুই চারে দুটি বাউন্ডারি মারেন থাই মেয়েরা। তখন উইকেটে ছিলেন নথকান চনথাম ও ফিনতা মায়া। তৃতীয় উইকেটে ৩৭ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু এই জুটি ছিন্ন হলে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। চনথাম ৩৮ বলে ২০ ও মায়া ২২ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। স্পিনার রুমানা আহমেদ ৯ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। সোহেলি আক্তার, সানজিদা আক্তার ও নাহিদা আক্তার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নিয়েছেন সালমা।

জয়ের জন্য ৮৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে এসে দলকে দারুণ একটা সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও ফারজানা হক। ব্যাটকে হাতের উইলো বানিয়ে ৩০ বলে ১০টি চারে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন শামিমা।

উদ্বোধনী জুটি ফারজানাকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। শামিমার আউট হয়ে যাওয়ার পর ফারজানা হক ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান। ২৯ বলে ২৬ ও ১১ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন ফারজানা ও বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।