মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফেদেরাররা জানেন, কীভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়

'বিগ থ্রি'-র আধিপত্য তো রজার ফেদেরারের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। ছবি : টুইটার
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২৩:২৩

“দেখো, ঠিক এই শটটা মেরেই আমি উইম্বলডন জিতব!”

অনুশীলন করতে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে ছোট্ট ছেলেটা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল। কথাটা দূর থেকেই শুনলেন ম্যাডালেন বেয়ারলকার। বাসেল ওল্ড বয়েজ ফুটবল ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে মনে খুশি হলেন, একটা অজানা আতঙ্কও গ্রাস করল তাঁকে। ছেলেটা যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী!

এতটাই যে, কখনও হেরে গেলে, বা বাজেভাবে পয়েন্ট হারালে ছেলেটা প্রায়ই মেজাজ হারায়। র‍্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা, চিৎকার করা, ঝগড়াঝাঁটি, হাউমাউ করে কান্নাকাটি - এগুলো তো নিত্যদিনের অভ্যাস। আবেগ নিয়ন্ত্রণ? সেটা যেন জানেই না এই ছেলে। মেজাজী ছেলেকে সামলাতে বেয়ারলকার থেকে শুরু করে কোচ পিটার কার্টার - সবাইকে নিয়মিত বেগ পেতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে শুধু জয়ই নয়, হারের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফল হওয়ার যে যাত্রাপথ, সে পথকে চিনে রাখতে হয় - সেটা কে বোঝাবে একে?

বেয়ারলকার-কার্টাররা কম চেষ্টা করেননি। কোর্টে যখনই ছেলেটা এমন কোনো কাণ্ড ঘটাত, কার্টার একপাশে টেনে নিয়ে যেতেন তাঁকে। বোঝাতেন, প্রকৃত চ্যাম্পিয়নদের এমন করতে নেই। নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। আবেগ যেন মন-মননে বাসা না বাঁধে, পেশাদারত্বের বাতাবরণে সেটা নিশ্চিত করতে হয়। আবেগ যে বড্ড বেয়াড়া, প্রশ্রয় দিলে মানুষকে লক্ষ্যচ্যুত করবেই!

কার্টারদের সে চেষ্টায় লাভ হতো সামান্যই। কখনও কখনও সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন ছেলেটার বাবা রবার্ট ও মা লিনেট। রবার্ট আর দশজন সুইসের মতো বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। রাগারাগি তাঁর ধাতেই নেই, সেই রবার্টও কখনও কখনও বিদ্রোহী ছেলের কার্যক্রম দেখলে বিরক্ত হতেন। একবার এক টুর্নামেন্টে বাজে খেলে ছেলেটা বাদ পড়ল। ক্ষোভে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বাবা রবার্ট গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পুরো রাস্তায় ছেলে এত বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল, শেষমেশ গাড়ি থামিয়ে ঘাড় ধরে ছেলেকে বের করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বরফের চাঁইয়ের মধ্যে মাথাটা ঘষে দিলেন কিছুক্ষণ। অন্তত বরফের স্পর্শ পেয়ে যেন ছেলের ভেতরের আগুন একটু নেভে!

মা লিনেটও একদিন ছেলেকে ধরে-বেঁধে কাছে বসালেন। ভালোমন্দ দুটো কথা বলে যদি লাইনে আনা যায় আর কি! “দেখো বাবা, তুমি যখনই রেগে যাবে, এর অর্থ হলো তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে বার্তা দিচ্ছ, সে তোমাকে হারানোর জন্য যা যা করছে - ঠিক করছে। তোমার আবেগের বহিঃপ্রকাশ তাকে জয়ের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তুমি কি সেটা চাও?”, সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন লিনেট।

এত আবেগ, এত বদরাগ - সব যে আসলে অদম্য জিগীষারই বহিঃপ্রকাশ - সেটা বুঝতে কারওর বাকি থাকার কথা না এতক্ষণে। কিন্তু ওই যে, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যে চ্যাম্পিয়নদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে যুগ যুগ ধরে। খেয়ালি ম্যারাডোনা তা না হলে মেরেকেটে দুবার লিগ জেতেন না, ছিয়াশিতে একবার বিশ্বজয় করে চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ভক্তদের মনে অনন্ত আক্ষেপ জাগিয়ে থেমে যান না। লাগামহীন চিত্তচাঞ্চল্যর পায়ে বেড়ি পরালে হয়তো জন ম্যাকেনরোর ঘরেও সাতটার বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শোভা পায়।

বেয়ারলকার-কার্টাররা সে ভয়ই পেতেন - হয়তো ছেলেটা নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বদরাগের কারণে। এমনিতেই সুইজারল্যান্ডের ছেলেমেয়েরা টেনিস খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যে দুই-একজন প্রতিভাবান শিশু-কিশোর টেনিসের জন্য এসেছে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঝরে পড়েছে। বেয়ারলকার চান না, এই ছেলেরও সেই নিয়তি হোক। এই ছেলে যে লাখে একটা!

জীবনের প্রথম জুনিয়র উইম্বলডন খেলতে গিয়ে শিরোপার নেশায় বিভোর ছেলেটা দুম করে হেরে বসল সেমিফাইনালে। ততদিনে এই ছেলেকে সুইসরা নিজেদের টেনিস-ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা শুরু করেছে, ভাবা শুরু করেছে মার্টিনা হিঙ্গিস আর প্যাটি স্নাইডারদের যোগ্য উত্তরসূরি। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই রেডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য হাজিরা দিতে চলে যায় সেই ছেলে। উপস্থাপক মার্কো মোর্দাসিনি ব্যস্ত ছিলেন একটু, ছেলেটাকে বললেন, খানিক অপেক্ষা করতে। কাজ করতে করতেই মোর্দাসিনির কানে এলো, ছেলেটা পাশের ঘরে বসে কাঁদছে। সে কান্নায় ম্যাচ হারের যন্ত্রণা যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল এত বড় একটা সুযোগ হারানোর বেদনা। এমন সুযোগ হারানোর দোষটা তো নিজেরই। এভাবে চলতে থাকলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সেই প্রতিশ্রুতি জীবনেও পূরণ করা যাবে না!

সমাধান একটাই, বদলাতে হবে নিজেকে। মানুষ হিসেবে, প্রতিযোগী হিসেবে।

সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই তো বদলায়। ছেলেটাও শিখে যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে। এতটাই যে, একটা সময় কোর্টে ছেলেটার খেলা, চলন-বলন দেখলে ধ্যানমগ্ন ঋষি ছাড়া কিছুই মনে হতো না। জঘন্য এক শট খেলে পয়েন্ট হারালো, বা বিখ্যাত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটটা ঠিক যুতসই হলো না - চুপচাপ বেসলাইনে চলে যেত, পরের পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে।

যে আগে নিজেকেই সামলাতে পারত না, এক সময় পুরো খেলারই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল। হয়ে উঠল অদ্বিতীয় শুভেচ্ছাদূত। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এমন মানুষ খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যারা টেনিস খেলার নিয়ম-কানুন অতটা না জানলেও, ছেলেটাকে এক লহমায় চিনতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলেটার সঙ্গী হলো মুচকি একটা হাসি, যে হাসিতে মিশে নেই কোনো প্রতিহিংসা, দ্বেষ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান। টেনিসে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাপকাঠি ছেলেটা এত উঁচুতে নিয়ে গেল, যা অতিক্রম করার জন্য রাফায়েল নাদাল-নোভাক জোকোভিচদের অতিমানব হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।

ছেলেটার নাম রজার ফেদেরার।

বলা বাহুল্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেদেরার শিখে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেও। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের এক অনুশীলনে একদিন উইম্বলডন জেতার ঘোষণা দেওয়া সেই ফেদেরার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রাজত্ব করেছেন একবার নয়, আট-আটবার। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন বিশবার। এর চেয়ে ভালোভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কী আসলেও যেত? সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরাই তো এভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন!

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত রাতে জীবনের শেষ ম্যাচটা খেলতে নেমেছিলেন। শেষ ম্যাচে ফেদেরার জিতবেন, তাতে ভাগ্য বিধাতার সায় ছিল না হয়তো। কিংবা কে জানে, বিশ্বজয়ী অ্যাথলেটদের আখ্যানের শেষ পর্বে একটু অপ্রাপ্তির ছোঁয়া থাকবে, সেটাই হয়তো নিয়তি। যে কারণে উসাইন বোল্ট জীবনের শেষ রেসে দৌড়াতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের কাছে হেরে যান, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের হয়ে ম্যারাডোনা আর জিদানের শেষ ম্যাচটা মোড়ানো থাকে অপ্রাপ্তিতে। মোহাম্মদ আলীকেও রিং থেকে নেমে যেতে হয় অধোবদনে। রজার ফেদেরারই -বা সে ধারার ব্যতিক্রম হবেন কেন!

জ্যাক সক-ফ্রান্সিস তিয়াফোর জুটির বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের মুখ দেখা হয়নি ফেদেরারের। তবে এমন দিনে ম্যাচের ফলাফল কি আসলেই কোনো অর্থ বহন করে? বেদনার চাদরে মোড়া লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল আর জোকোভিচের বাঁধনহারা কান্নাই বুঝিয়েছে, গত দেড় দশকে একজন ফেদেরার না থাকলে তাঁদের মনে জয়ের নেশাটা হয়তো এভাবে জেগে উঠত না। হয়তো অবিশ্বাস্য সাফল্যে মোড়া ক্যারিয়ারও পেতেন না দুজন।

বিশ গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি তাই রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বড় অর্জন টেনিসকে রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের মতো দুজন হার-না-মানা মানসিকতার অ্যাথলেটকে শ্রেষ্ঠত্বের ওই রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়া, তাদের আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা। টেনিসকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা।

সকল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রেষারেষি ছাপিয়ে যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তো ওখানেই!


নির্বাচিত

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে রেফারিং সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্ক নিরসনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। আগামী মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি ব্যবহারের জোর প্রস্তুতি চলছে। সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এই আসরের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রযুক্তির এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হতে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে সন্দেহজনক অফসাইড, ফাউল কিংবা বিতর্কিত পেনাল্টিকে কেন্দ্র করে দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঘটনা নিয়মিত দেখা যায়। বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন এই অঞ্চলের কোনো প্রতিযোগিতায় ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তবে মাঠের ফুটবলে পূর্ণ স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর সর্বাত্মক প্রয়াস চালাচ্ছে আঞ্চলিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

আসন্ন টুর্নামেন্টকে ঘিরে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেছে সাফ কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে খবর রটেছিল যে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত হয়তো এবারের আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তবে সাফের সাধারণ সম্পাদক এই ধরনের দাবি পুরোপুরি নাকচ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো প্রকার অনিশ্চয়তা ছাড়াই ভারত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে এবং এ সংক্রান্ত প্রচারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে পর্দা উঠবে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এ’-তে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে লড়বে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। আধুনিক ভিএআর প্রযুক্তির সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি এবং দলগুলোর শক্তিমত্তা মিলিয়ে এবারের আসরটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ক্যাম্প ছাড়ার শাস্তি পেলেন রোনালদো, দিতে হবে জরিমানাও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তি দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। তদন্ত শেষে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ডকে ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। গত মাসে ডেনমার্ক ম্যাচের আগে তাঁর আকস্মিক ক্যাম্প ত্যাগের ঘটনার পর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সময়, যখন পুরো ৯০ মিনিট সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল রোনালদোকে। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা অভিযোগ করেন, দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামানোর জন্য ওয়ার্মআপ করতে বলা হলেও জেসুস কথা রাখেননি। এরপর ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও মাঠে নামা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কোচের বিরুদ্ধে ‘চরম বিশ্বাসভঙ্গ’ ও দুই দফা প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ তুলে ম্যাচ শুরুর ঠিক একদিন আগে ক্ষোভে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড।

তবে এফপিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোনালদোর এই ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ মূলত সেই ডেনমার্ক ম্যাচের দিন থেকেই কার্যকর হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যে শাস্তির ১৯ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় পর্তুগাল জাতীয় দলের কোনো ম্যাচ থেকেই ছিটকে যেতে হচ্ছে না তাঁকে। আগামী ১৪ নভেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল এবং এর তিন দিন পর তারা ওয়েলসের মুখোমুখি হবে; নির্ধারিত সময়ের আগেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন এই ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলার পথ উন্মুক্তই থাকছে।

শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এফপিএফ-এর শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, তারা রোনালদোর পক্ষ থেকে আসা আনুষ্ঠানিক অনুশোচনা এবং ফুটবলে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান ও ক্রীড়ানৈপুণ্যকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে রোনালদো নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা অর্জন ও পুরস্কারসংবলিত জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে জাতীয় দলের সতীর্থ ও বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চান এবং যেকোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে কোচ জেসুস কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা অস্বীকার করলেও অভিজ্ঞ এই তারকার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলাই রেখেছেন। এছাড়া পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘রেকর্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনকা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হলেই রোনালদোকে পুনরায় জাতীয় দলে ফেরানোর ব্যাপারে তাঁদের আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করেছেন এবং তাঁর অধিনায়কত্বেই দলটি ২০১৬ সালে ঐতিহাসিক ইউরো ও দুবার নেশনস লিগের শিরোপা ঘরে তোলে।


নির্বাচিত

ফিফা সভাপতিকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল উয়েফা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এবং এ সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের জন্য এই চরমপত্র দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য ইনফান্তিনো দুঃখ প্রকাশ করলেও কীভাবে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার মহাসচিব থিওদোর থিওদোরিদিস ফিফাকে আট পৃষ্ঠার একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ফিফা এখনো মৌলিক কিছু প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত নথিপত্রও সরবরাহ করেনি। ওই চিঠিতে মূলত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার পরিকল্পনা, ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।

এফএফই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হলেও কীভাবে এই স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল এবং কেন যথাসময়ে ফিফা কাউন্সিলকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দাবি করছে উয়েফা।

উয়েফা মহাসচিব চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো নথি বা তথ্য প্রকাশে অপারগতা থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ আলাদাভাবে জানাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। এ ঘটনায় ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট। তিনি মন্তব্য করেন, ইনফান্তিনো যদি এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, তবে তিনি আর ফিফা সভাপতি পদে থাকার যোগ্য নন।

আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে ফিফা এই চিঠির জবাব দিতে ব্যর্থ হলে উয়েফা ঠিক কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নথিপত্র ও স্বচ্ছতার দাবিকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ দুই সংস্থার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও তীব্র রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


নির্বাচিত

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনালে চোখ আফগানিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত শতক এবং লেগস্পিনার রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পর্যুদস্ত হয়েছে জিম্বাবুয়ানরা। এই বড় জয়ের মধ্য দিয়ে আফগানরা যেমন আসর শুরু করল, তেমনি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে নেট রান রেটের সমীকরণকে আরও কঠিন করে তুলল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ব্যাকফুটে থাকা তাওহীদ হৃদয়ের বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে হলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানদের বড় ব্যবধানে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং চালায় আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের সাবলীল ব্যাটে মাত্র সপ্তম ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করে তারা। দলীয় ৫০ রানে গুরবাজ ব্যক্তিগত ২৫ রানে ফিরলে ক্রিজে আসেন আতাল। দ্বিতীয় উইকেটে জাদরান ও আতাল ১৪০ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলের বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। জাদরান ৯৬ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯০ রান করে ব্র্যাড ইভান্সের বলে আউট হয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো নব্বইয়ের ঘরে থামেন।

জাদরানের বিদায়ের পরও দৃঢ়তা দেখিয়ে ব্যক্তিগত শতক তুলে নেন সেদিকুল্লাহ আতাল। দলীয় ২৫৯ রানে ব্যক্তিগত ১০২ রান করে তিনি আউট হওয়ার পরই অবশ্য নাটকীয় ব্যাটিং ধসে পড়ে আফগানিস্তান। শেষ ৫ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ৩৫ রান যোগ করতেই শেষ ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে ৪৯ দশমিক ৪ ওভারে ২৯৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে আর্নেস্ট মাসুকু ৪৪ রানে এবং ব্র্যাড ইভান্স ৪৭ রানে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ২৯৫ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আফগান বোলিং তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। দলীয় মাত্র ৪৩ রানেই টপ অর্ডারের চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে তারা। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ৬৪ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ৩২তম ওভারে ব্যক্তিগত ৩১ রানে বার্লের বিদায়ে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন রাজাও।

এরপর জিম্বাবুয়ের লোয়ার অর্ডারে একাই ধস নামান আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খান। মাত্র ২৯ রানের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ে তাদের শেষ ৬টি উইকেট হারিয়ে ৩৮ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। রশিদ খান ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪টি উইকেট লাভ করেন এবং পেসার ফজলহক ফারুকী ১৫ রানে নেন দুটি উইকেট। ম্যাচে অন্তত ১৯৬ রান তুলতে পারলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হতো জিম্বাবুয়ের; কিন্তু তা না হওয়ায় তিন দলের জন্যই টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথ এখনো উন্মুক্ত রইল।


নির্বাচিত

টটেনহ্যামের প্রথম জয়, ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য জানালেন দি জারবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। সোমবার রাতে কোভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙেছে দলটি। ম্যাচ শেষে এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন দলটির ইতালিয়ান কোচ রবার্তো দি জারবি। তাঁর মতে, পয়েন্ট তালিকার তলানিতে নেমে যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের নিজেদের ভুল স্বীকার করে দায় নেওয়ার মানসিকতা, খোলামেলা অভ্যন্তরীণ বৈঠক এবং স্পেনের মারবেলায় আয়োজিত বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্পই মূলত দলের সামগ্রিক পরিবেশ আমূল বদলে দিয়েছে।

কোভেন্ট্রির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চরম আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছিল স্পার্সরা। পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার ঠিক আগের দিন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন দি জারবি। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার আগে প্রত্যেকে খোলাখুলিভাবে দলের সংকট ও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন। দি জারবির ভাষায়, দলের প্রত্যেকে ব্যক্তিগত দায়িত্ব স্বীকার না করলে সামনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল; সেই আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমেই খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাস ফিরে আসে যে প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর মতো তারাও ম্যাচ জয়ের পূর্ণ সামর্থ্য রাখে।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন মজবুত করতে গত সপ্তাহে খেলোয়াড়দের নিয়ে স্পেনের মারবেলায় একটি নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প করেন টটেনহ্যাম কোচ। দি জারবি উল্লেখ করেন, দলের ভেতর ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানোই ছিল এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে মাঠে শুধু এগারোজন রোবটের মতো খেললে কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না; বরং সতীর্থদের পাশে ভাইয়ের মতো দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং মাঠের বাইরেও একসঙ্গে পারিবারিক আবহে সময় কাটানো দলটির ইতিবাচক রূপান্তরে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

দলের এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা দুই নির্ভরযোগ্য তারকা জেমস ম্যাডিসন এবং দেজান কুলুসেভস্কি। দীর্ঘ ৫৩৬ দিন পর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই দারুণ এক দর্শনীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ম্যাডিসন। অন্যদিকে ২০২৫ সালের মে মাসে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে এই ম্যাচ দিয়েই প্রথম মাঠে ফেরেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড কুলুসেভস্কি। এই দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারের উপস্থিতি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দলের আক্রমণভাগে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেন কোচ।

কোভেন্ট্রি সিটিকে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নেওয়ায় প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম স্থানে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম। তবে জয়ের স্বস্তি কাটতে না কাটতেই দলটির সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী শনিবার ঐতিহ্যবাহী লন্ডন ডার্বিতে চেলসির মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে খেলতে নামবে স্পার্সরা। নতুন করে ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ও দলীয় ঐক্য ধরে রেখে চেলসির বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়াই এখন দি জারবির দলের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।


নির্বাচিত

সাফের স্কোয়াড চূড়ান্ত করলেন বাংলাদেশের কোচ ডুলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ২৮ সদস্যের দল জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাফের কাছে খেলোয়াড়দের এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠিয়ে দেন তিনি। আসন্ন এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে এবার মোট ছয়টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। নির্ধারিত ডেডলাইন রোববার থাকলেও কয়েকটি দলের বাড়তি সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে তালিকা জমার সময়সীমা আরও দুদিন বাড়িয়েছে সাফ কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত যেকোনো আন্তর্জাতিক কিংবা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় দলগুলো শুরুতে ৩৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা দেয় এবং টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। তবে এবার সাফের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি দেশকে শুরুতে ৫০ জন ফুটবলারকে প্রাথমিক নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হলেও সেখান থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যেই নাম কমিয়ে ২৮ জনে চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।

টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ আগেই এমন তালিকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের হেড কোচ থমাস ডুলি। সাফের নিয়ম মেনেই দল দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা সাফের আইন। এখানে আমাদের করার মতো কিছু নেই। আমাকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে তালিকা দিতে বলা হয়েছিল, আমি নিয়ম অনুযায়ী তা দিয়েছি।’

এদিকে টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়দের ফর্ম ও চোটের ঝুঁকি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামীকালই মাঠে গড়াবে ঘরোয়া ফেডারেশন কাপের ম্যাচ এবং আগামী শুক্র ও শনিবার লিগে আরও ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব ম্যাচে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে কিংবা কেউ ইনজুরির শিকার হলেও জমা দেওয়া ওই ২৮ জনের বাইরে থেকে নতুন কাউকে দলে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।


নির্বাচিত

এল ক্লাসিকোর আগে রিয়ালের বড় জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্প্যানিশ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মহারণ ‘এল ক্লাসিকো’র ঠিক আগেই বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ভর করে সেভিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে হোসে মরিনিওর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের ম্যাচে রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের পর ঘরোয়া লিগের এই দাপুটে জয় ক্লাসিকোর আগে লস ব্লাঙ্কোসদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে স্বাগতিক রিয়াল। খেলার আধঘণ্টার মাথায় ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে দলকে প্রথম লিড এনে দেন তরুণ তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলার। এর ঠিক সাত মিনিট পর চমৎকার দলগত প্রচেষ্টার সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপে। ফলে ২-০ ব্যবধানের স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজেদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সে ফাউল থেকে পেনাল্টি পেলে দর্শনীয় পানেনকা শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় ও নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। পরবর্তীতে সেভিয়ার মানু বুয়েনো একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ করলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ দিকে তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করলে ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

গত সপ্তাহে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনে লাল কার্ড দেখার দায়ে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দলের মূল এই ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে আনল মরিনিওর শিষ্যরা। আগামী রবিবার ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে আগামী বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাদ্রিদের দলটি।

এই জয়ে চলতি লা লিগায় ৯ ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল বেতিসকে পেছনে ফেলে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে লিগের ৯ ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে শীর্ষে একক আধিপত্য ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ফলে কাতালানদের সঙ্গে বর্তমানে পয়েন্টের ব্যবধান ছয়ে নামিয়ে এনে শীর্ষ লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখল রিয়াল।


নির্বাচিত

লিডসের সঙ্গে ড্র, ম্যানইউর জয়খরা বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বহুল প্রতীক্ষিত জয়ের খোঁজে মাঠে নেমেও হতাশাজনক ড্র নিয়ে ফিরতে হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। রোববার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ এল্যান্ড রোডে স্বাগতিক লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। এর ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেড ডেভিলদের জয়হীন থাকার খরা বেড়ে ৪৯ দিনে পৌঁছাল। সব মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ এবং ঘরোয়া লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়বঞ্চিত রইল তারা।

ম্যাচটিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে শুরুর একাদশেই সুযোগ দেন কোচ ক্যারিক। খেলার শুরুর দিকে লিডসের আও তানাকার প্রচেষ্টা ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স রুখে দেওয়ার পর ডমিনিক কালভার্ট-লেভিনের একটি হেড পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। শুরুতে একটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর ইউরি তিয়েলেমান্সের নিখুঁত নিচু ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন ব্রায়ান এমবেউমো। চলতি লিগ মৌসুমে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল এবং এবারের আসরে এই প্রথমবারের মতো বিরতির আগেই ম্যাচে লিড নিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় ইউনাইটেড।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় স্বাগতিক লিডস ইউনাইটেড। খেলার ৫১তম মিনিটে একটি কর্নার কিক থেকে সতীর্থ মুহারেমোভিচের হেডে বক্সের প্রান্তে বল পান ডমিনিক কালভার্ট-লেভিন। সেখানে এমবেউমোর শারীরিক বাধা অতিক্রম করে এক জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। গোল হজমের পর ব্যাকফুটে চলে যায় ইউনাইটেড এবং গ্যালারির বাড়তি সমর্থনে চাঙ্গা হয়ে আক্রমণ বাড়ায় লিডস।

এরপর তানাকা ও নোয়া ওকাফোরের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বেঁচে যায় ক্যারিকের দল। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ঘরের মাঠে ইউনাইটেডের বিপক্ষে দীর্ঘ ২৪ বছর পর জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিডস। কিন্তু গোলমুখের জটলার ভেতর থেকে স্টাচের নেওয়া নিচু শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক লামেন্স, যার ফলে স্বাগতিকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান আর ঘটেনি।

এই ড্রয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সাতটি লিগ ম্যাচে মাত্র একটি জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৩ নম্বরে নেমে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে লিডস ইউনাইটেড।


নির্বাচিত

সালমানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। রোববার স্বাগতিকদের করা ৩০৫ রানের জবাবে পাভান রত্নায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগের পাল্টা আক্রমণে লঙ্কানরা জয়ের পথে থাকলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় ধসে ২৬৮ রানে অলআউট হয়। চাপের মুখে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সম্প্রতি দল ও নেতৃত্ব হারানো ব্যাটার সালমান আলী আগা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান; ষষ্ঠ ওভারের মধ্যেই দলীয় মাত্র ৩২ রানে তাদের দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন। এরপর ২২তম ওভারের মধ্যে দলীয় স্কোরে ১০০ রান ওঠার আগেই চার উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছিল, তখন ত্রাতা হয়ে ওঠেন সালমান। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া এবং টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব হারানো এই ক্রিকেটার ওয়ানডেতে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। মিডল অর্ডারে তরুণ হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্যকর দুটি জুটি গড়ে তোলেন এবং মাত্র ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন।

ইনিংসের ৪৭তম ওভারে সালমান বিদায় নেওয়ার পর শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদির ক্যামিও ১৩ রানের ওপর ভর করে এক বল বাকি থাকতে ৩০৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে পেসার ইশান মালিঙ্গা একাই চারটি এবং আসিথা ফার্নান্ডো তিনটি উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৯১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা, যেখানে কামিন্দু মেন্ডিস করেন ৪৪ রান। তবে পঞ্চম উইকেটে পাভান রত্নায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগে ১১৯ রানের লড়াকু পার্টনারশিপ গড়ে সফরকারীদের জয়ের স্বপ্ন দেখান। দলীয় সর্বোচ্চ ৭৯ রান করে পাভান বিদায় নিলেও দাসুন শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবধান দ্রুত কমাতে থাকেন জানিথ। শেষ সাত ওভারে লঙ্কানদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫৫ রান এবং হাতে ছিল ৬টি উইকেট।

তবে ম্যাচের ৪৪তম ওভারে ব্যক্তিগত ৬০ রানে জানিথ আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডার। ৪ উইকেটে ২৫৩ রান তোলা শ্রীলঙ্কা পরবর্তী মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৫টি উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রানে গুটিয়ে যায়। পাকিস্তানের পেসারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি সর্বোচ্চ তিনটি এবং নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট নিয়ে দলের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করেন।


নির্বাচিত

মাদুয়েকের একমাত্র গোলে আর্সেনালের কষ্টার্জিত জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল। রোববার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ সিটি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক নটিংহ্যামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে গানার্সরা। কাই হ্যাভার্জ, মার্টিন ওডেগার্ড ও বুকায়ো সাকার মতো তারকাদের নিয়ে সাজানো পূর্ণ শক্তির আক্রমণভাগ লম্বা সময় পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে নেমে দলকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ননি মাদুয়েকে।

ম্যাচজুড়ে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও নটিংহ্যামের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ছুটে যায় আর্সেনালের। বল দখলে নিরঙ্কুশ এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে স্বাগতিকদের গোলপোস্টে কেবল একটিমাত্র শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল তারা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সেই একমাত্র অন-টার্গেট শটটিকেই গোলে পরিণত করে কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে নেয় লন্ডনের ক্লাবটি।

প্রথমার্ধের অচলাবস্থা কাটাতে বিরতির পরই মাঠে নামানো হয় ননি মাদুয়েকেকে, যিনি সম্প্রতি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার হতাশায় ছিলেন। তবে মাঠে নেমে নিজের জাত চিনিয়ে খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে আর্সেনালকে উল্লাসে ভাসান এই উইঙ্গার। ডেকলান রাইসের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি এবং তাঁর নেওয়া জোরালো শট নটিংহ্যাম ডিফেন্ডার জেয়ার কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।

মাদুয়েকের এই জয়সূচক গোলটিই পুরো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়। এই সাফল্যের সুবাদে চলতি প্রিমিয়ার লিগে সাত ম্যাচের মধ্যে নিজেদের ষষ্ঠ জয় তুলে নিল আর্সেনাল। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে গানার্সরা এবং শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখন মাত্র তিনে নেমে এসেছে।


নির্বাচিত

হালান্ডের জোড়া গোলে ম্যানসিটির ইতিহাস গড়া জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্লিং হালান্ডের অনবদ্য জোড়া গোলে ভর করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইপসউইচ টাউনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর সিটি সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের চোটের শঙ্কা। ম্যাচ শেষ হতেই কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে টানেলের দিকে যেতে দেখা যায় এই গোলমেশিনকে। তবে মাঠ ছাড়ার আগে দলের এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে নিজের জাত ঠিকই চিনিয়েছেন তিনি।

এই জয়ের সুবাদে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন দলটির বর্তমান কোচ এনজো মারেস্কা। সিটির সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘদিনের সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন মারেস্কা। ক্লাবটির ইতিহাসে এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের নজির গড়ল সিটিজেনরা। সামগ্রিকভাবে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা; এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে চেলসি এবং ২০১৯-২০ মৌসুমে লিভারপুল আসরের শুরুর টানা সাত ম্যাচে জয়ের এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। খেলার ১৯তম মিনিটে ফিল ফোডেনের দারুণ ফিনিশিংয়ে প্রথম লিড পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; স্তব্ধ ইতিহাদকে কাঁপিয়ে দিয়ে মাত্র দুই মিনিট পরই (২১তম মিনিটে) ইপসউইচকে সমতায় ফেরান ডাইজেন মায়েদা। বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩৪তম মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে সিটিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হালান্ড। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯তম মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দেন তিনি।

খেলার শেষভাগে অবশ্য নাটকীয়তার চরম রূপ দেখে ইতিহাদ। নির্ধারিত ৯০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনে ইপসউইচ টাউন। এরপর অফিশিয়াল ইনজুরি টাইম হিসেবে ১২ মিনিট যোগ করা হলে পয়েন্ট হারানোর গভীর আতঙ্ক ভর করে সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় এক গোলের লিড সফলভাবে ধরে রেখে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মারেস্কার দল।

টানা সাত ম্যাচে শতভাগ জয় তুলে নিয়ে ২১ পয়েন্টের পূর্ণ সংগ্রহসহ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল ম্যানচেস্টার সিটি। টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনাল ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে আগামীকাল নটিংহ্যাম ফরেস্টের মাঠে খেলতে নামবে গানার্সরা। আপাতত শীর্ষ দুই দলের মাঝে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে পরিষ্কার ছয় পয়েন্টের।


নির্বাচিত

জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের করা ৮ উইকেটে ২৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলরের সম্মিলিত রানের (১৭৪) সমান স্কোরও তুলতে পারেনি পুরো বাংলাদেশ দল। এই জয়ে জিম্বাবুয়ের পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। আগামী বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দলীয় মাত্র ২৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর ১৫০ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। আরভিন ৯৩ এবং টেলর ৮১ রান করে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন, যার সুবাদে নির্ধারিত ওভারে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ১৭ বলে ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অপর ওপেনার সৌম্য সরকার। তানজিদ ব্যক্তিগত ফিফটির খুব কাছে গিয়েও নিয়ামহুরির বলে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করেন তিনি, যা ছিল ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৬৬ রান তোলা বাংলাদেশ দ্রুতই তৃতীয় উইকেট হারায়, যখন নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ বলে মাত্র চার রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

দলীয় ৬৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা; আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে ২১ বলে ১৩ রান করা হৃদয়কে বিদায় করেন তিনি। এরপরই ঘটে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার টানা দুই ওভারে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান। ১২৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলে ব্র্যাড ইভান্সের জোড়া আঘাত, যাতে উইকেট হারান নুরুল হাসান সোহান ও শরিফুল ইসলাম।

অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে নিয়ামহুরির এক ওভারে চারটি চার হাঁকিয়ে গ্যালারি মাতান রিশাদ। তবে ৩৩ বলে ২৩ রান করা রিশাদকে ফিরিয়ে নিজের শততম ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সিকান্দার রাজা। শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি ছক্কা ও তাসকিনের চারে স্কোর কিছুটা বাড়লেও ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে ৬ দশমিক ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট লাভ করেন পেসার ব্র্যাড ইভান্স।


নির্বাচিত

মেসির জোড়া গোল ও রেকর্ডের রাতে মায়ামির জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পরও ক্লাব ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য ফর্ম বজায় রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তাঁর জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আটালান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। আটালান্টার মাঠ মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেসের দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই মায়ামিকে এগিয়ে দিতে একটি গোলে সরাসরি সহায়তা করেন মেসি, যার সুবাদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন এই মহাতারকা। ম্যাচের ৫৬ ও ৬০তম মিনিটে তিনি চলতি লিগে নিজের ২৪তম ও ২৫তম গোলটি করেন। এই দুটি গোলেই বলের জোগান দেন জেরেমি বার্তেরামে এবং দ্বিতীয় গোলের আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে আটালান্টা কেবল নিজেদের হারের ব্যবধানই কমাতে সক্ষম হয়।

আটালান্টার বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়ে এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিন মৌসুমে কমপক্ষে ১৫টি অ্যাসিস্ট করার নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন মেসি। এর মাধ্যমে পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৯৩৬-এ। চলতি লিগ মৌসুমে ২৫টি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এককভাবে সবার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে যৌথভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিনের সঙ্গে শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ফরোয়ার্ড।

গত মৌসুমে ২৯টি গোল করে এমএলএসের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মায়ামি দলপতি। লিগের ইতিহাসে ভেনেজুয়েলার জোসেফ মার্টিনেজের পর মেসিই দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পৃথক দুই মৌসুমে ন্যূনতম ২৫টি করে গোল করার কীর্তি অর্জন করলেন। চলতি আসরে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৪০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে মেক্সিকান তারকা কার্লোস ভেলার গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৯ গোলে অবদানের ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে মেসি আর মাত্র ৯টি অবদান দূরে রয়েছেন, যেখানে মায়ামির হাতে এখনো চারটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

বয়সকে তুড়ি মেরে মাঠের ফুটবলে নিয়মিত এমন প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স ইন্টার মায়ামিকে পয়েন্ট তালিকায় দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। অধিনায়ক মেসির নেতৃত্বে আক্রমণভাগের এমন ধারাবাহিকতা ক্লাবটিকে চলতি মৌসুমে শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।


নির্বাচিত

banner close