বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ফেদেরাররা জানেন, কীভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়

'বিগ থ্রি'-র আধিপত্য তো রজার ফেদেরারের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। ছবি : টুইটার
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২৩:২৩

“দেখো, ঠিক এই শটটা মেরেই আমি উইম্বলডন জিতব!”

অনুশীলন করতে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে ছোট্ট ছেলেটা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল। কথাটা দূর থেকেই শুনলেন ম্যাডালেন বেয়ারলকার। বাসেল ওল্ড বয়েজ ফুটবল ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে মনে খুশি হলেন, একটা অজানা আতঙ্কও গ্রাস করল তাঁকে। ছেলেটা যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী!

এতটাই যে, কখনও হেরে গেলে, বা বাজেভাবে পয়েন্ট হারালে ছেলেটা প্রায়ই মেজাজ হারায়। র‍্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা, চিৎকার করা, ঝগড়াঝাঁটি, হাউমাউ করে কান্নাকাটি - এগুলো তো নিত্যদিনের অভ্যাস। আবেগ নিয়ন্ত্রণ? সেটা যেন জানেই না এই ছেলে। মেজাজী ছেলেকে সামলাতে বেয়ারলকার থেকে শুরু করে কোচ পিটার কার্টার - সবাইকে নিয়মিত বেগ পেতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে শুধু জয়ই নয়, হারের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফল হওয়ার যে যাত্রাপথ, সে পথকে চিনে রাখতে হয় - সেটা কে বোঝাবে একে?

বেয়ারলকার-কার্টাররা কম চেষ্টা করেননি। কোর্টে যখনই ছেলেটা এমন কোনো কাণ্ড ঘটাত, কার্টার একপাশে টেনে নিয়ে যেতেন তাঁকে। বোঝাতেন, প্রকৃত চ্যাম্পিয়নদের এমন করতে নেই। নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। আবেগ যেন মন-মননে বাসা না বাঁধে, পেশাদারত্বের বাতাবরণে সেটা নিশ্চিত করতে হয়। আবেগ যে বড্ড বেয়াড়া, প্রশ্রয় দিলে মানুষকে লক্ষ্যচ্যুত করবেই!

কার্টারদের সে চেষ্টায় লাভ হতো সামান্যই। কখনও কখনও সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন ছেলেটার বাবা রবার্ট ও মা লিনেট। রবার্ট আর দশজন সুইসের মতো বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। রাগারাগি তাঁর ধাতেই নেই, সেই রবার্টও কখনও কখনও বিদ্রোহী ছেলের কার্যক্রম দেখলে বিরক্ত হতেন। একবার এক টুর্নামেন্টে বাজে খেলে ছেলেটা বাদ পড়ল। ক্ষোভে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বাবা রবার্ট গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পুরো রাস্তায় ছেলে এত বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল, শেষমেশ গাড়ি থামিয়ে ঘাড় ধরে ছেলেকে বের করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বরফের চাঁইয়ের মধ্যে মাথাটা ঘষে দিলেন কিছুক্ষণ। অন্তত বরফের স্পর্শ পেয়ে যেন ছেলের ভেতরের আগুন একটু নেভে!

মা লিনেটও একদিন ছেলেকে ধরে-বেঁধে কাছে বসালেন। ভালোমন্দ দুটো কথা বলে যদি লাইনে আনা যায় আর কি! “দেখো বাবা, তুমি যখনই রেগে যাবে, এর অর্থ হলো তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে বার্তা দিচ্ছ, সে তোমাকে হারানোর জন্য যা যা করছে - ঠিক করছে। তোমার আবেগের বহিঃপ্রকাশ তাকে জয়ের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তুমি কি সেটা চাও?”, সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন লিনেট।

এত আবেগ, এত বদরাগ - সব যে আসলে অদম্য জিগীষারই বহিঃপ্রকাশ - সেটা বুঝতে কারওর বাকি থাকার কথা না এতক্ষণে। কিন্তু ওই যে, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যে চ্যাম্পিয়নদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে যুগ যুগ ধরে। খেয়ালি ম্যারাডোনা তা না হলে মেরেকেটে দুবার লিগ জেতেন না, ছিয়াশিতে একবার বিশ্বজয় করে চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ভক্তদের মনে অনন্ত আক্ষেপ জাগিয়ে থেমে যান না। লাগামহীন চিত্তচাঞ্চল্যর পায়ে বেড়ি পরালে হয়তো জন ম্যাকেনরোর ঘরেও সাতটার বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শোভা পায়।

বেয়ারলকার-কার্টাররা সে ভয়ই পেতেন - হয়তো ছেলেটা নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বদরাগের কারণে। এমনিতেই সুইজারল্যান্ডের ছেলেমেয়েরা টেনিস খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যে দুই-একজন প্রতিভাবান শিশু-কিশোর টেনিসের জন্য এসেছে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঝরে পড়েছে। বেয়ারলকার চান না, এই ছেলেরও সেই নিয়তি হোক। এই ছেলে যে লাখে একটা!

জীবনের প্রথম জুনিয়র উইম্বলডন খেলতে গিয়ে শিরোপার নেশায় বিভোর ছেলেটা দুম করে হেরে বসল সেমিফাইনালে। ততদিনে এই ছেলেকে সুইসরা নিজেদের টেনিস-ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা শুরু করেছে, ভাবা শুরু করেছে মার্টিনা হিঙ্গিস আর প্যাটি স্নাইডারদের যোগ্য উত্তরসূরি। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই রেডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য হাজিরা দিতে চলে যায় সেই ছেলে। উপস্থাপক মার্কো মোর্দাসিনি ব্যস্ত ছিলেন একটু, ছেলেটাকে বললেন, খানিক অপেক্ষা করতে। কাজ করতে করতেই মোর্দাসিনির কানে এলো, ছেলেটা পাশের ঘরে বসে কাঁদছে। সে কান্নায় ম্যাচ হারের যন্ত্রণা যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল এত বড় একটা সুযোগ হারানোর বেদনা। এমন সুযোগ হারানোর দোষটা তো নিজেরই। এভাবে চলতে থাকলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সেই প্রতিশ্রুতি জীবনেও পূরণ করা যাবে না!

সমাধান একটাই, বদলাতে হবে নিজেকে। মানুষ হিসেবে, প্রতিযোগী হিসেবে।

সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই তো বদলায়। ছেলেটাও শিখে যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে। এতটাই যে, একটা সময় কোর্টে ছেলেটার খেলা, চলন-বলন দেখলে ধ্যানমগ্ন ঋষি ছাড়া কিছুই মনে হতো না। জঘন্য এক শট খেলে পয়েন্ট হারালো, বা বিখ্যাত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটটা ঠিক যুতসই হলো না - চুপচাপ বেসলাইনে চলে যেত, পরের পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে।

যে আগে নিজেকেই সামলাতে পারত না, এক সময় পুরো খেলারই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল। হয়ে উঠল অদ্বিতীয় শুভেচ্ছাদূত। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এমন মানুষ খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যারা টেনিস খেলার নিয়ম-কানুন অতটা না জানলেও, ছেলেটাকে এক লহমায় চিনতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলেটার সঙ্গী হলো মুচকি একটা হাসি, যে হাসিতে মিশে নেই কোনো প্রতিহিংসা, দ্বেষ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান। টেনিসে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাপকাঠি ছেলেটা এত উঁচুতে নিয়ে গেল, যা অতিক্রম করার জন্য রাফায়েল নাদাল-নোভাক জোকোভিচদের অতিমানব হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।

ছেলেটার নাম রজার ফেদেরার।

বলা বাহুল্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেদেরার শিখে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেও। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের এক অনুশীলনে একদিন উইম্বলডন জেতার ঘোষণা দেওয়া সেই ফেদেরার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রাজত্ব করেছেন একবার নয়, আট-আটবার। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন বিশবার। এর চেয়ে ভালোভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কী আসলেও যেত? সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরাই তো এভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন!

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত রাতে জীবনের শেষ ম্যাচটা খেলতে নেমেছিলেন। শেষ ম্যাচে ফেদেরার জিতবেন, তাতে ভাগ্য বিধাতার সায় ছিল না হয়তো। কিংবা কে জানে, বিশ্বজয়ী অ্যাথলেটদের আখ্যানের শেষ পর্বে একটু অপ্রাপ্তির ছোঁয়া থাকবে, সেটাই হয়তো নিয়তি। যে কারণে উসাইন বোল্ট জীবনের শেষ রেসে দৌড়াতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের কাছে হেরে যান, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের হয়ে ম্যারাডোনা আর জিদানের শেষ ম্যাচটা মোড়ানো থাকে অপ্রাপ্তিতে। মোহাম্মদ আলীকেও রিং থেকে নেমে যেতে হয় অধোবদনে। রজার ফেদেরারই -বা সে ধারার ব্যতিক্রম হবেন কেন!

জ্যাক সক-ফ্রান্সিস তিয়াফোর জুটির বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের মুখ দেখা হয়নি ফেদেরারের। তবে এমন দিনে ম্যাচের ফলাফল কি আসলেই কোনো অর্থ বহন করে? বেদনার চাদরে মোড়া লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল আর জোকোভিচের বাঁধনহারা কান্নাই বুঝিয়েছে, গত দেড় দশকে একজন ফেদেরার না থাকলে তাঁদের মনে জয়ের নেশাটা হয়তো এভাবে জেগে উঠত না। হয়তো অবিশ্বাস্য সাফল্যে মোড়া ক্যারিয়ারও পেতেন না দুজন।

বিশ গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি তাই রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বড় অর্জন টেনিসকে রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের মতো দুজন হার-না-মানা মানসিকতার অ্যাথলেটকে শ্রেষ্ঠত্বের ওই রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়া, তাদের আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা। টেনিসকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা।

সকল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রেষারেষি ছাপিয়ে যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তো ওখানেই!


নির্বাচিত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত বাবর আজম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০৬
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম। আঙুলের চোট থেকে তিনি এখনো পুরোপুরি সেরে না ওঠায় প্রথম ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি শঙ্কার মুখে পড়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার শান মাসুদের চোট নিয়ে বেশ ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সময় হাতে আঘাত পেয়েছিলেন বাবর। এরপর বেকেনহামে কাউন্টি ক্লাবের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে নেমে আবারও একই জায়গায় আঘাত পান তিনি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ব্যাটার। লিডসের হেডিংলিতে প্রথম দিনের অনুশীলনে তাঁকে অল্প কিছু সময় নেটে থ্রো-ডাউন ও ব্যাটিং করতে দেখা গেলেও, তিনি যে ক্রিজে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল।

যদি প্রথম টেস্টে বাবর আজম শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারেন, তবে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে পরিবর্তন আসাটা প্রায় নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে সৌদ শাকিল ও আওয়াইস জাফর—উভয়েরই একসঙ্গে মূল একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আঙুলে ফ্র্যাকচার হওয়ায় দ্বিতীয় টেস্ট ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ মিস করেছিলেন শান মাসুদ। তবে হেডিংলিতে পুরো সেশনজুড়েই তাঁকে বেশ ভালো ছন্দে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা গেছে এবং মেডিকেল টিমও তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজটি আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় মাঠে গড়াবে। এরপর ঐতিহাসিক লর্ডস স্টেডিয়ামে আগামী ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর।


নির্বাচিত

ফিফার সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হলো ঢাকা আবাহনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ঢাকা আবাহনী অবশেষে ফিফার সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েছে। আজ তাদের ওপর থাকা সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ফিফার রেজিস্ট্রেশন ব্যান পোর্টালে বাংলাদেশের এই শীর্ষ ক্লাবটির নাম এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

গত মৌসুমের শুরুতে বিদেশি ফুটবলারদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় আবাহনীর ওপর মোট তিনটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ফিফা, যার কারণে তারা গত লিগের মধ্যবর্তী দলবদলে কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারেনি। নতুন মৌসুমের শুরুতে দুটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও ব্যাংকিং জটিলতায় শেষটি আটকে ছিল। এক সপ্তাহ আগে চুক্তি অনুযায়ী এক সিরীয় ফুটবলারকে অর্থ পাঠানো হলেও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগে। অবশেষে সেই ব্যাংকিং সংকট কেটে যাওয়ায় ক্লাবটি স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

আজ ছিল বাফুফের ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শেষ দিন এবং রাত ১২টার আগে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ায় লাইসেন্স পেতে আবাহনীর আর কোনো বাধা রইল না। আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে তারা নতুন খেলোয়াড়ও নিবন্ধন করতে পারবে, যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ক্লাবের নীতিনির্ধারকরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিকে এতটা মনোযোগ দিয়েছিলেন যে, নতুন মৌসুমের জন্য দল গঠনে তারা সেভাবে নজর দিতে পারেননি। এই অনিশ্চয়তার কারণে আবাহনীর অনেক ফুটবলার ইতোমধ্যে মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

আবাহনী মুক্ত হলেও ফিফার রেজিস্ট্রেশন ব্যান পোর্টালে বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের ওপর এখনো ১৫টি নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংসের একারই রয়েছে ১০টি এবং বাকিগুলোর মধ্যে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ও শেখ জামাল ধানমন্ডির দুটি করে এবং সকার ক্লাব ফেনীর একটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিজেদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে বসুন্ধরা কিংস বাফুফে সভাপতির কাছে আরও সাত দিনের সময় চেয়েছে। উল্লেখ্য, শীর্ষ ক্লাবগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে আরামবাগ, ওয়ান্ডারার্স ও ফকিরেরপুল প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পেলেও, ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় ফকিরেরপুল এখনো দলবদলে অংশ নিতে পারছে না।


নির্বাচিত

কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে আর্সেনালের শিরোপা জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নতুন মৌসুম শুরুর আগে আয়োজিত বাৎসরিক প্রতিযোগিতা কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগ পেয়েছিল, যেখানে ম্যানচেস্টার সিটিকে একেবারেই ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এত বড় ব্যবধানে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারাল গানাররা। সেবারও কমিউনিটি শিল্ডেই একই ব্যবধানে জিতেছিল তারা। পাশাপাশি ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর কোনো ইংলিশ ক্লাবের কাছে এটি সিটির সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে। খেলা শুরুর মাত্র ২৩ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম গোল করে দলকে লিড এনে দেয় তারা। এরপর ম্যানচেস্টার সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে গানাররা। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আসে। আর্সেনালের হয়ে এই তিনটি গোল করেন রিকার্ডো কালাফিওরি, কাই হ্যাভার্টজ এবং মার্টিন ওডেগার্ড। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল মাত্র চার মাসের ব্যবধানে নিজেদের দ্বিতীয় ট্রফি ঘরে তুলল।

দলের এমন দাপুটে জয়ে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা নিজেও কিছুটা অবাক হয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান যে, দলের খেলার ধরন ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও এই জয়কে মৌসুম শুরুর দারুণ উপায় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং নতুন মৌসুমের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ এনজো মারেস্কা এই হারকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি স্বীকার করেন যে এই ফলাফল তাদের কষ্ট দিয়েছে, তবে এটি কেবল মাত্র মৌসুমের শুরু।

সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কেউন ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রাণহীন উল্লেখ করে আর্সেনালের এমন পারফরম্যান্সকে লিগের অন্যান্য দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে কমিউনিটি শিল্ডের মতো তুলনামূলক ছোট প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্স মূল লিগে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ভিন্ন মত রয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ২০১১ সালে জানিয়েছিলেন, তিনি এই ম্যাচটিকে সবসময় নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি বা 'সিঁড়ি' হিসেবেই বিবেচনা করেন। পরিসংখ্যানও সে কথারই প্রমাণ দেয়; ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকে গত ৩৪ বছরে কমিউনিটি শিল্ডের চ্যাম্পিয়নরা মাত্র আটবার মূল লিগের শিরোপা জিততে পেরেছে।


নির্বাচিত

সেইফার্টের দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যানচেস্টারের প্রথম হানড্রেড শিরোপা জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টিম সেইফার্টের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ হানড্রেড শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। ঐতিহাসিক লর্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসকে দুই বল হাতে রেখে হারিয়েছে তারা। ট্রেন্ট রকেটসের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সেইফার্ট মাত্র ৩৮ বলে সাতটি ছক্কার সাহায্যে ৭২ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন, যা ম্যানচেস্টারের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে।

টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টারের এই শিরোপা জয়ের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল দলটি। তবে ব্যক্তিগত কারণে এইডেন মার্করাম দেশে ফিরে যাওয়ার পর জস বাটলার দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করলে ম্যানচেস্টারের খেলায় পরিবর্তন আসে এবং তারা টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দলের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সেইফার্ট চারটি হাফ সেঞ্চুরি করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় শীর্ষ রান সংগ্রাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

মার্করামের অনুপস্থিতিতে দলে সুযোগ পাওয়া এসেক্সের পল ওয়াল্টারের অন্তর্ভুক্তিও ম্যানচেস্টারের জয়ের পথ সহজ করেছে। ফাইনালে মাত্র ১৪ বলে ২২ রান করার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে পাঁচ ইনিংসে ২৪৭ রান নিয়ে তিনি মৌসুম শেষ করেছেন। রোববার রাতের ফাইনালে সেইফার্টের সঙ্গে ওয়াল্টার মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ২২ বলে যখন দলের ২৩ রান প্রয়োজন, তখন সেইফার্ট আউট হলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল; তবে লিয়াম ডওসন ৯৮তম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় পুরোপুরি নিশ্চিত করেন।

এই ফাইনাল জয়ের মাধ্যমে ম্যানচেস্টারের পুরুষ কিংবা নারী দলের মধ্যে প্রথমবারের মতো কেউ হানড্রেড টুর্নামেন্টের ট্রফি ঘরে তুলল। এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে বল হাতেও ম্যানচেস্টার নিয়ন্ত্রিত পারফর্ম করেছিল। ট্রেন্ট রকেটসের ইনিংসে বোলার নুর আহমেদ একাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তার এই বোলিং নৈপুণ্যের ফলেই প্রতিপক্ষ দলটি নির্ধারিত ১০০ বলে ১৫৮ রানে আটকে যায়, যা ম্যানচেস্টারের জন্য রান তাড়া করে জেতার পথ তৈরি করে দেয়।


নির্বাচিত

ফরাসি সুপার কাপে বড় অঘটন: লেন্সের কাছে শিরোপা হারাল পিএসজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও সুপার কাপ জয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ফরাসি সুপার কাপের ফাইনালে বড় ধরনের অঘটনের শিকার হয়েছে। লিগ ওয়ানের ট্রফিজয়ী পিএসজি এবং ফরাসি কাপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন লেন্সের মধ্যে স্তাদে বোল্লায়ের্ত-দেলেলিসে এই ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই লাল কার্ডের এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে লেন্স ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই হারের মাধ্যমে টানা চারবারের ফরাসি সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজির আধিপত্যের অপ্রত্যাশিত অবসান ঘটল।

ম্যাচের ৩২তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে দারুণ এক গোল করে লেন্সকে এগিয়ে দেন দলটির অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান থাউভিন। তবে বিরতির ৬ মিনিট আগে মাঘনেস অকলিউশেকে ফাউল করার কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন লেন্সের কিলিয়ান অ্যান্তোনিও। ফলে প্রায় এক ঘণ্টা একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে অর্থাৎ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় লেন্স। কিন্তু প্রতিপক্ষের এই বড় ঘাটতির সুযোগ পেয়েও শক্তিশালী পিএসজি পুরো ম্যাচে কোনো গোল শোধ করতে পারেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে এসে ইউরোপ সেরা পিএসজি সমতায় ফেরার একটি সুযোগ পেয়েছিল। ফ্যাবিয়ান রুইজ বল জালে জড়ালেও তিনি অফসাইডে থাকায় রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে মাইকেল স্কোরাসকে আঘাত করার অপরাধে পিএসজির নুনো মেন্দেস লাল কার্ড দেখেন। ফলে গত বুধবার রাতে সলজবুর্গে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জেতা পিএসজিকেও ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয়েছে।

ফরাসি সুপার কাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের স্কোয়াডে পিএসজির দুই তারকা ফুটবলার ব্রাডলি বারকোলা ও ইব্রাহিম এমবায়ে ছিলেন না। দলে তাদের এই আকস্মিক অনুপস্থিতি ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, এই দুই তারকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলে পাড়ি জমাতে পারেন এবং সে কারণেই তাদের এই ম্যাচের স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সমীকরণ কী?

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের পূর্ণ শক্তির দলকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই অবিস্মরণীয় জয়ের ফলে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট অর্জন করলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি শান্তদের। তবে জয়ের কারণে শতকরা পয়েন্ট হার বা পিসিটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে চলমান ২০২৫-২৭ চক্রের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দারুণভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বর স্থানে অবস্থান করছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চতুর্থ চক্রে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৩টি জয় এবং ১টি করে ড্র ও হারের স্বাদ পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়ের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ৫৮.৩৩ থেকে বেড়ে ৬৬.৬৭-এ দাঁড়িয়েছে। ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য বর্তমান ৪০ পয়েন্টের সঙ্গে আরও অন্তত ৪৭ পয়েন্ট যোগ করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ ম্যাচসহ এই চক্রে বাংলাদেশের আরও ৭টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪টি ম্যাচে জিততে পারলেই ফাইনালের সমীকরণে শক্তভাবে টিকে থাকবে বাংলাদেশ। কারণ, তিনটি জয় ও দুটি ড্র নিয়ে ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করলে তা হয়তো ফাইনালের জন্য যথেষ্ট হবে না।

চলমান এই চক্রের শুরুতে শ্রীলঙ্কার গলে ড্র করলেও কলম্বোতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর এবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তারা। সামনের পথটুকু অবশ্য বেশ চ্যালেঞ্জিং; অস্ট্রেলিয়ার কেয়ার্নসে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অ্যাওয়ে সিরিজ এবং ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১০ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মিরপুরে ইংল্যান্ডকে এবং ২০২৪ সালে কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর দারুণ স্মৃতি থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা ১৬ টেস্টের কোনোটিতেই এখনো জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের এই জয়ের ফলে শীর্ষ দলগুলোর সমীকরণেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। চলমান চক্রে দ্বিতীয় হারের পরও ৭৭.৭৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই হারের কারণে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার (৭৫.০০ শতাংশ) সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, যাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭২.২২। শীর্ষ তিন দলের ঠিক পরেই ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে শক্তিশালী ভারত।


নির্বাচিত

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হতে চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে। এই টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে। আসন্ন এই সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইনে ইতোমধ্যে নিজেদের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন দলের খেলোয়াড়রা।

অনুশীলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এইচপি দলের অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। আগের আসরগুলোতে একবার রানার্সআপ এবং আরেকবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের, তবে এবার তারা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।

এবারও টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করাটাই দলের মূল লক্ষ্য বলে নিশ্চিত করেছেন ইরফান শুক্কুর। তবে পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে এখনই অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে তারা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে ধাপে ধাপে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অধিনায়কের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিয়ে ম্যাচভিত্তিক এই কৌশল অবলম্বন করলে দলের জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ হবে।

অন্যদিকে, এবারের সফরে বাংলাদেশ এইচপি দলের কোচিং প্যানেলে যুক্ত রয়েছেন দেশের সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং ইমরুল কায়েস। এই দুজনের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অধিনায়ক শুক্কুর জানান, তারা এখনো পুরোপুরি ক্রিকেট ছাড়েননি এবং নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলছেন। ফলে মাঠের ক্রিকেটে তাদের এই বাস্তব ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভাগাভাগি করলে তা এইচপি দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন।


নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

নাজমুল হোসেন শান্ত চেয়েছিলেন ডারউইনে তার দলের খেলোয়াড়রা পাঁচ দিন ভালো খেলুক। তার চাওয়াকে ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশ। মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। একেবারে ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে দেখাল টাইগাররা। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। রোববার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতেই ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিল বাংলাদেশ।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়ার ডেরায় টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চারজনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। এই জয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। ২ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ আর হারছে না টাইগাররা।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গেল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গেল।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের জন্য ভিত গড়ে দিলেন।

এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয় প্রথম ইনিংসে। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।

প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি করে দলকে লিড এনে দেন গ্রিন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ আজ কিছু করতে পারলেন না। তবে বিপদ বাড়তে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সহজেই সেরে নিলেন তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের কিছুটা মনোবল দিয়েছিল হয়তো, কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে চেজ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।

জয়টাও এলো নায়কোচিতভাবে। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। সাদমানের সঙ্গে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩০ রানে। সাদমান টিকে ছিলেন ২৫ রানে।

দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ।

শ্রীলঙ্কা যা পারেনি, পাকিস্তান করেছে ৩০ বছর আগে– সেটাই দেখাল বাংলাদেশ

১৯৮৮ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে সবমিলিয়ে সাতবার সফর করে ১৫টি টেস্ট খেললেও অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও কুমার সাঙ্গাকারার দল জয়ের স্বাদ পায়নি। আর পাকিস্তান চারবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট জিতলেও সর্বশেষ জয় ১৯৯৫ সালে। তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার মাঝে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে জিতল তাসমান পাড়ের দেশটিতে।

২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইন ও কেয়ার্নসে খেলা দুটি ম্যাচেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। ২৩ বছর পর বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিলো।

শ্রীলঙ্কার ৩৯ বছরের অপেক্ষার মাঝে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সফরে গিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল। যা বিদেশের মাটিতে তাদের দশম জয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের টেস্ট জেতা ষষ্ঠ দেশ অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দাপটের পর তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত’র ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজের ফাইফার ও হাসানের ৩ উইকেট মিলিয়েই বাংলাদেশ অবিস্মরণীয় এই অধ্যায় রচনা করল।

এশিয়ান দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। দু’বারই তারা ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। তাসমান সাগর পাড়ের দেশটিতে আরেকবার টেস্টের জন্য আমন্ত্রণ পেতে ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। যেখানে মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই বাংলাদেশ দ্রুততম জয়ের রেকর্ড গড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। যেখানে শান্ত-হাসানরা প্রথমবার জিতলেন তৃতীয় টেস্টে। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে এটিই দ্রুততম। পরাশক্তি দলটির বিপক্ষে প্রথম জয় পেতে পাকিস্তানের লেগেছিল ৭ টেস্ট এবং ভারতের ১২ টেস্ট। শ্রীলঙ্কা ১৫ বার চেষ্টা করেও এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি।

৩১ বছর পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে ভারত ছাড়া অন্য কোনো এশীয় দলের কাছে টেস্ট হারল। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে এমন পরাজয় এসেছিল (প্রতিপক্ষ পাকিস্তান)। ওই বছরের পর পাকিস্তান আর টেস্ট জেতেনি অজি ভূমিতে।

এদিকে, ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে উইকেটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেনা (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশগুলোতেও বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় টেস্ট জয়। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও তারা জয়ের স্বাদ পেল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। প্রথমটি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে। যেখানে তারা ঘরের মাঠের সুবিধা পুরোপুরি নিয়েছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই বাংলাদেশ এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে জিতবে এমন প্রত্যাশা হয়তো নিরপেক্ষ কেউ করেননি!

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ম্যাচ খেলেই প্রথম টেস্ট জয় পেল বাংলাদেশ। এটি ভিন দেশের মাটিতে টাইগার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয় হিসেবেই লেখা থাকবে। ২৩ বছর আগে ডারউইন টেস্ট দিয়েই বাংলাদেশ সফর শুরু করেছিল, এবার সেই ভেন্যুটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। উভয় দল দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লড়বে ম্যাকাইতে, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হবে ম্যাচটি।

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় জয়ের দেখা পাওয়া গেল। রোববার চার দিনেই ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল। হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং ও তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে তারা। এই ম্যাচে কী কী কীর্তি হলো, পরিসংখ্যানে দেখে নেওয়া যাক-

অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতল। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয় পেয়েছে তারা। এর আগে দুইবার, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ম্যাচে এটি দ্বিতীয় জয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে অজিদের বিপক্ষে প্রথম জয় এসেছিল।

সফরকারী দলের মধ্যে কেবল ইংল্যান্ড (২) বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টেস্ট জিতেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাও তিনবারের প্রচেষ্টায় প্রথম জয় পেয়েছিল।

গত ১৫ বছরে তৃতীয়বার টস জেতার পর ঘরের মাঠে টেস্টে হারল অস্ট্রেলিয়া। অন্য দুটি ছিল ভারতের বিপক্ষে, ২০২০-২১ এ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও গ্যাবায়।

২০২৩ সালে ওভালে অনুষ্ঠিত অ্যশেজ টেস্টের পর প্রথমবার টস জিতে হার দেখল অস্ট্রেলিয়া। এর মাঝে তারা ৯ বার টস জিতে প্রত্যেকবার জিতেছে।

১০

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার ১০ উইকেট নেন। এক টেস্টের ইনিংসে দ্বিতীয়বার তাদের পেসার ১০ উইকেটের সবগুলো নিয়েছে।

ডারউইনে দুই ইনিংস মিলে ১৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা। এক টেস্টে তাদের যৌথ সর্বোচ্চ।

৯/১১১

ডারউইনে হাসান মাহমুদের বোলিং ফিগার। এক টেস্ট ম্যাচে এটি বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারের জন্য দ্বিতীয় সেরা। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন, টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের জন্য যা তৃতীয় সেরা।

অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সফরকারী বোলারের অভিষেকেই এটি তৃতীয় সেরা ম্যাচ ফিগার। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম মেলবোর্নে এবং ১৯২৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন, দুজনে যথাক্রমে ১৬০ ও ২২৮ রান দেন।

১৯৮

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং করে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের সর্বনিম্ন স্কোর। টেস্টে এটা বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ।

২০১৯

অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষ টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৯ সালে ভারতের কুলদীপ যাদবের পর প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

২০১৩ সালের পর থেকে কেবল এই দুজনই সফরকারী স্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ২০০০ সালের পর মিরাজ ছাড়া কেবল একজন সফরকারী অফস্পিনার অস্ট্রেলিয়ায় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন—২০১০ সালে অ্যাডিলেডে যে কীর্তি গড়েন ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ান।

ডারউইনে হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন মিরাজ। একই টেস্টে চতুর্থবার তিনি পঞ্চাশের বেশি রান ও ফাইফার পেলেন। এর মধ্যে দুটি ছিল অ্যাওয়ে টেস্টে।

৩৩

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে ক্যামেরন গ্রিনকে ঘরের মাঠে ৩৩ ইনিংস খেলতে হলো। অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেক টেস্ট পেতে তার চেয়ে বেশি ইনিংস খেলেছেন কেবল ইয়ান হিলি (৪১) ও বব সিম্পসন (৩৬)।

জশ হ্যাজলউড নবম বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মালিক হয়েছেন। আগের আটজনের মধ্যে তিনজনই ছিলেন ডারউইন টেস্টের একাদশে—নাথান লায়ন, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। প্রথমবার একই একাদশে তিনশর বেশি উইকেট পাওয়া চার বোলারের খেলার নজির তৈরি হলো।

অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে তৃতীয়বার টেস্ট জিতলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, কোনো বাংলাদেশি অধিনায়কের এটিই সর্বোচ্চ। তার আগের দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট জয় ছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। অবশ্য ৯ জয় নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কের মর্যাদা পেয়েছেন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবে কামিন্স আটটি দলের মধ্যে ছয়টির বিপক্ষেই টেস্ট হেরেছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম। এর আগে ছয়জন অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট অধিনায়ক পাঁচটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হয়েছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কামিন্স অপরাজিত।

ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে বাংলাদেশের উন্নতি

ডারউইনে কল্পনাতীত জয় পেল বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ভেন্যুতে টেস্ট শুরু করেছিল, সেখানে পূর্ণ শক্তির দলকে ৯ উইকেটে হারাল। রোববার ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে পরিবর্তন এসেছে।

এই জয়ে বাংলাদেশ তালিকার চার নম্বরে উঠেছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট হার (পিসিটি) ৫৮.৩৩ থেকে বেড়ে ৬৬.৬৭ হয়েছে। ২০২৫-২৭ চক্রে দ্বিতীয় হারের পরও অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি ৭৭.৭৭, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫.০০।

নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পিসিটি নিয়ে তিনে। বাংলাদেশ তাদের পরে অবস্থান করছে। ভারত ৪৮.১৫ পিসিটি নিয়ে পঞ্চম স্থানে। বাংলাদেশের সামনে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিতলে শতকরা পয়েন্ট হার বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।


নির্বাচিত

ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড স্পেনের: অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে টানা ২১ ম্যাচে অপরাজিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবলের পরাশক্তি স্পেন এবার ক্রিকেটের আঙিনাতেও এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছে। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপ সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ইউরোপের দেশটি। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ফিনল্যান্ড ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান সংগ্রহ করলে, জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্পেন মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলে সহজে জয় নিশ্চিত করে।

ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ছাপিয়ে স্পেনের টানা অপরাজিত থাকার দীর্ঘ জয়যাত্রাই এখন ক্রিকেট বিশ্বের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আইল অব ম্যানকে হারিয়ে তাদের যে অপরাজেয় যাত্রা শুরু হয়েছিল, ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে তা টানা ২১ ম্যাচে রূপ নিল। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে স্পেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে জার্সি, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং গ্রিসের মতো দলগুলোকেও ধারাবাহিকভাবে পরাজিত করেছে।

স্পেনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক একটি রেকর্ড ভেঙে গেল। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া টানা ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছিল, যার মধ্যে ছিল টানা ১৭টি ওয়ানডে এবং বিশ্বকাপ পরবর্তী টানা তিনটি টেস্ট ম্যাচ। এবার সেই অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যেকোনো সংস্করণে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন বিশ্বরেকর্ড নিজেদের দখলে নিল স্পেন।

শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামগ্রিকভাবে অপরাজিত থাকার রেকর্ডই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টানা সর্বাধিক ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটিও এককভাবে স্পেনের দখলে। এর আগে ২০২৪ সালে গ্রিসকে হারিয়ে টানা ১৪টি টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১-এ। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম সফল দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলা ৫০টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে তারা ৪১টিতেই জয়লাভ করেছে এবং হেরেছে মাত্র ৮টি ম্যাচে।


নির্বাচিত

থাইল্যান্ডে রেকর্ড গড়ে সাঁতারে স্বর্ণ জিতলেন বাংলাদেশের রাফি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রতিভাবান সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য বড় ধরনের সম্মান বয়ে এনেছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওপেন সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে তিনি এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতায় চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি একটি স্বর্ণ এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

প্রতিযোগিতার ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ইভেন্টে রাফি দুর্দান্ত পারফর্ম করে স্বর্ণপদকটি নিজের করে নেন। এই ইভেন্টে তিনি মাত্র ২৪.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতার শেষ করেন, যা ব্যাংককের এই আসরে একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে এই ইভেন্টের আগের সেরা টাইমিং ছিল ২৪.৪০ সেকেন্ড, যা রাফি এই প্রতিযোগিতায় সহজেই অতিক্রম করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

ব্যাকস্ট্রোকের পাশাপাশি বাটারফ্লাই ইভেন্টেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন এই বাংলাদেশি সাঁতারু। সেখানে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তিনি ব্রোঞ্জ পদক জয় করতে সক্ষম হন। থাইল্যান্ডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানের এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দেশের প্রায় ৬০টি দল বা ক্লাব অংশগ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে কেবল স্বাগতিক থাইল্যান্ডেরই ৪৪টি ক্লাব বা দল অংশ নিয়েছিল।

এমন একটি বড় ও প্রতিযোগিতামূলক আসরে রাফির এই অর্জন নিঃসন্দেহে দেশের সাঁতারের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার ফলেই সামিউল ইসলাম রাফি এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তাদের এই সমর্থন এবং রাফির ব্যক্তিগত অধ্যবসায় একত্রিত হয়েই মূলত এই আন্তর্জাতিক সাফল্যটি সম্ভব হয়েছে।


নির্বাচিত

কিংসের ফিফা নিষেধাজ্ঞা কমলেও নতুন সংকটে আবাহনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের শীর্ষ দুই ফুটবল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে। তবে বসুন্ধরা কিংসের ওপর থাকা মোট ১৪টি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সম্প্রতি কয়েকটি প্রত্যাহার হওয়ায় তাদের বর্তমান নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা দশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ঢাকা আবাহনীর ওপর থাকা একমাত্র নিষেধাজ্ঞাটি এখনো বহাল রয়েছে, যা আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে ক্লাবটির জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা আবাহনী তাদের ওপর থাকা এই নিষেধাজ্ঞা খুব দ্রুত কাটার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। সাবেক একজন সিরীয় ফুটবলারের পাওনা পরিশোধের চুক্তি অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইতোমধ্যে অর্থ প্রেরণ করেছে ক্লাবটি। কিন্তু আবাহনীর দিক থেকে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হলেও খেলোয়াড় দাবি করছেন যে তার অ্যাকাউন্টে এখনো কোনো অর্থ জমা হয়নি। এ বিষয়ে আবাহনীর কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাশ রুপু জানিয়েছেন, তারা ওই খেলোয়াড় ও তার আইনজীবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দ্রুত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাংকিং জটিলতার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সময়সীমা আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে সপ্তাহান্তের ছুটিতে ফিফা ও আন্তর্জাতিক দপ্তরগুলো বন্ধ থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং সমস্যার সমাধান করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা বেশ কঠিন একটি কাজ। এর পাশাপাশি ১৯ আগস্ট খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা কিংস নিজেদের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাকিব ও তপু বর্মণসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেললেও ঢাকা আবাহনী নতুন করে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেনি, যা তাদের জন্য দল গঠনে আরেকটি বড় সংকট তৈরি করেছে।

আগামী ২১ আগস্ট ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার চ্যালেঞ্জ কাপ ম্যাচ দিয়ে ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু হাতে মাত্র কয়েক দিন সময় বাকি থাকলেও আবাহনী এখনো তাদের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করতে পারেনি এবং বসুন্ধরা কিংসেরও প্রায় একই অবস্থা। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে চ্যালেঞ্জ কাপের ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, হয়তো আগামী ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপের ম্যাচ দিয়েই এবারের ফুটবল মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে।


নির্বাচিত

শচীনের পাশে জয়সওয়াল: ভিন্ন ভেন্যুতে টানা ৩০ টেস্ট খেলার অনন্য রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতীয় ব্যাটার যশস্বী জয়সওয়াল। ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিল টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে সাদা পোশাকের লম্বা সংস্করণে নিজের ক্যারিয়ারের ৩০তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন তিনি। আর এই ম্যাচ খেলতে নেমেই একটি বিশেষ টেস্ট ক্রিকেট ক্লাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন জয়সওয়াল।

কাকতালীয়ভাবে, নিজের খেলা প্রথম ৩০টি টেস্ট ম্যাচের সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে খেলেছেন জয়সওয়াল। এই অনন্য রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি ভারতের সাবেক দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি টানা ৩৩টি ভিন্ন ভেন্যুতে খেলার রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন মাঞ্জরেকার। অন্যদিকে, মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৩২টি ম্যাচ খেলেছিলেন আলাদা আলাদা ভেন্যুতে।

তবে এমন একটি দারুণ মাইলফলকে পৌঁছানোর দিনটিতে ব্যাট হাতে সমর্থকদের বেশ হতাশ করেছেন জয়সওয়াল। ব্যক্তিগত ৩২ রানের মাথায় ইনিংসের ১১তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। মূলত আরেক ব্যাটার লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তালগোল পাকিয়ে রান আউটের শিকার হন এই তারকা। এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো রান আউটের ফাঁদে পড়লেন তিনি।

জয়সওয়ালের আক্ষেপের দিনে অবশ্য শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর রীতিমতো দাপট দেখিয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা। মূলত দেবদূত পাডিক্কালের দুর্দান্ত এক অভিষেক সেঞ্চুরি এবং লোকেশ রাহুলের ৭৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে প্রথম দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। দিন শেষে ১৩১ রানে পাডিক্কাল এবং ২৭ রানে রিশাভ পান্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন, যা ম্যাচে ভারতের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।


নির্বাচিত

মেসির পেনাল্টি মিসের দিনে ন্যাশভিলের কাছে বিধ্বস্ত ইন্টার মায়ামি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তার পেনাল্টি মিস এবং দলের সার্বিক ব্যর্থতায় ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দুই দলের এই লড়াইয়ে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ন্যাশভিলে। এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন জোড়া গোল করা ন্যাশভিলের তারকা ফুটবলার হানি মুখতার।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা ন্যাশভিলে ১৬তম মিনিটেই লিড পেয়ে যায়। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা এলিয়াস সাদের পাসে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম গোলটি করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন অ্যান্ডি নাহার। এরপর ২৩তম মিনিটে মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে তার শটটি ঠেকিয়ে দেন; ফিরতি বল সার্জিও রেগিলন জালে জড়ালেও তিনি শট নেওয়ার আগেই বক্সে ঢুকে পড়ায় রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মায়ামি। ৪৮তম মিনিটে দারুণ এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তেলাসকো সেগোভিয়া। তবে তাদের এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; ওই একই মিনিটে এলিয়াস সাদের পাস থেকে গোল করে ন্যাশভিলেকে ফের এগিয়ে দেন হানি মুখতার। এর ঠিক আট মিনিট পর ব্যাকহিলের মাধ্যমে বল জালে জড়িয়ে দলের লিড ৩-১ করেন স্যাম সারিজ, যা চলতি মৌসুমে তার ১২তম গোল।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে ইন্টার মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস-নোভোর একটি মারাত্মক ভুলের খেসারত দিতে হয় দলকে, যা কার্যত ন্যাশভিলের বড় জয় নিশ্চিত করে ফেলে। গোলকিক নিতে গিয়ে বলের গতিপথ ভুল বুঝে রিওস-নোভো মাটিতে পড়ে গেলে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ব্যবধান ৪-১ করেন মুখতার। লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলটির বিপক্ষে এটি ন্যাশভিলের মাত্র দ্বিতীয় জয়।


নির্বাচিত

banner close