বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফেদেরাররা জানেন, কীভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়

'বিগ থ্রি'-র আধিপত্য তো রজার ফেদেরারের হাত ধরেই শুরু হয়েছে। ছবি : টুইটার
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত
নিশাত আহমেদ
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২৩:২৩

“দেখো, ঠিক এই শটটা মেরেই আমি উইম্বলডন জিতব!”

অনুশীলন করতে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে ছোট্ট ছেলেটা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল। কথাটা দূর থেকেই শুনলেন ম্যাডালেন বেয়ারলকার। বাসেল ওল্ড বয়েজ ফুটবল ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে মনে খুশি হলেন, একটা অজানা আতঙ্কও গ্রাস করল তাঁকে। ছেলেটা যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী!

এতটাই যে, কখনও হেরে গেলে, বা বাজেভাবে পয়েন্ট হারালে ছেলেটা প্রায়ই মেজাজ হারায়। র‍্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা, চিৎকার করা, ঝগড়াঝাঁটি, হাউমাউ করে কান্নাকাটি - এগুলো তো নিত্যদিনের অভ্যাস। আবেগ নিয়ন্ত্রণ? সেটা যেন জানেই না এই ছেলে। মেজাজী ছেলেকে সামলাতে বেয়ারলকার থেকে শুরু করে কোচ পিটার কার্টার - সবাইকে নিয়মিত বেগ পেতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে শুধু জয়ই নয়, হারের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফল হওয়ার যে যাত্রাপথ, সে পথকে চিনে রাখতে হয় - সেটা কে বোঝাবে একে?

বেয়ারলকার-কার্টাররা কম চেষ্টা করেননি। কোর্টে যখনই ছেলেটা এমন কোনো কাণ্ড ঘটাত, কার্টার একপাশে টেনে নিয়ে যেতেন তাঁকে। বোঝাতেন, প্রকৃত চ্যাম্পিয়নদের এমন করতে নেই। নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। আবেগ যেন মন-মননে বাসা না বাঁধে, পেশাদারত্বের বাতাবরণে সেটা নিশ্চিত করতে হয়। আবেগ যে বড্ড বেয়াড়া, প্রশ্রয় দিলে মানুষকে লক্ষ্যচ্যুত করবেই!

কার্টারদের সে চেষ্টায় লাভ হতো সামান্যই। কখনও কখনও সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন ছেলেটার বাবা রবার্ট ও মা লিনেট। রবার্ট আর দশজন সুইসের মতো বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। রাগারাগি তাঁর ধাতেই নেই, সেই রবার্টও কখনও কখনও বিদ্রোহী ছেলের কার্যক্রম দেখলে বিরক্ত হতেন। একবার এক টুর্নামেন্টে বাজে খেলে ছেলেটা বাদ পড়ল। ক্ষোভে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বাবা রবার্ট গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পুরো রাস্তায় ছেলে এত বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল, শেষমেশ গাড়ি থামিয়ে ঘাড় ধরে ছেলেকে বের করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বরফের চাঁইয়ের মধ্যে মাথাটা ঘষে দিলেন কিছুক্ষণ। অন্তত বরফের স্পর্শ পেয়ে যেন ছেলের ভেতরের আগুন একটু নেভে!

মা লিনেটও একদিন ছেলেকে ধরে-বেঁধে কাছে বসালেন। ভালোমন্দ দুটো কথা বলে যদি লাইনে আনা যায় আর কি! “দেখো বাবা, তুমি যখনই রেগে যাবে, এর অর্থ হলো তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে বার্তা দিচ্ছ, সে তোমাকে হারানোর জন্য যা যা করছে - ঠিক করছে। তোমার আবেগের বহিঃপ্রকাশ তাকে জয়ের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তুমি কি সেটা চাও?”, সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন লিনেট।

এত আবেগ, এত বদরাগ - সব যে আসলে অদম্য জিগীষারই বহিঃপ্রকাশ - সেটা বুঝতে কারওর বাকি থাকার কথা না এতক্ষণে। কিন্তু ওই যে, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যে চ্যাম্পিয়নদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে যুগ যুগ ধরে। খেয়ালি ম্যারাডোনা তা না হলে মেরেকেটে দুবার লিগ জেতেন না, ছিয়াশিতে একবার বিশ্বজয় করে চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ভক্তদের মনে অনন্ত আক্ষেপ জাগিয়ে থেমে যান না। লাগামহীন চিত্তচাঞ্চল্যর পায়ে বেড়ি পরালে হয়তো জন ম্যাকেনরোর ঘরেও সাতটার বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শোভা পায়।

বেয়ারলকার-কার্টাররা সে ভয়ই পেতেন - হয়তো ছেলেটা নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বদরাগের কারণে। এমনিতেই সুইজারল্যান্ডের ছেলেমেয়েরা টেনিস খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যে দুই-একজন প্রতিভাবান শিশু-কিশোর টেনিসের জন্য এসেছে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঝরে পড়েছে। বেয়ারলকার চান না, এই ছেলেরও সেই নিয়তি হোক। এই ছেলে যে লাখে একটা!

জীবনের প্রথম জুনিয়র উইম্বলডন খেলতে গিয়ে শিরোপার নেশায় বিভোর ছেলেটা দুম করে হেরে বসল সেমিফাইনালে। ততদিনে এই ছেলেকে সুইসরা নিজেদের টেনিস-ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা শুরু করেছে, ভাবা শুরু করেছে মার্টিনা হিঙ্গিস আর প্যাটি স্নাইডারদের যোগ্য উত্তরসূরি। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই রেডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য হাজিরা দিতে চলে যায় সেই ছেলে। উপস্থাপক মার্কো মোর্দাসিনি ব্যস্ত ছিলেন একটু, ছেলেটাকে বললেন, খানিক অপেক্ষা করতে। কাজ করতে করতেই মোর্দাসিনির কানে এলো, ছেলেটা পাশের ঘরে বসে কাঁদছে। সে কান্নায় ম্যাচ হারের যন্ত্রণা যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল এত বড় একটা সুযোগ হারানোর বেদনা। এমন সুযোগ হারানোর দোষটা তো নিজেরই। এভাবে চলতে থাকলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সেই প্রতিশ্রুতি জীবনেও পূরণ করা যাবে না!

সমাধান একটাই, বদলাতে হবে নিজেকে। মানুষ হিসেবে, প্রতিযোগী হিসেবে।

সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই তো বদলায়। ছেলেটাও শিখে যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে। এতটাই যে, একটা সময় কোর্টে ছেলেটার খেলা, চলন-বলন দেখলে ধ্যানমগ্ন ঋষি ছাড়া কিছুই মনে হতো না। জঘন্য এক শট খেলে পয়েন্ট হারালো, বা বিখ্যাত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটটা ঠিক যুতসই হলো না - চুপচাপ বেসলাইনে চলে যেত, পরের পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে।

যে আগে নিজেকেই সামলাতে পারত না, এক সময় পুরো খেলারই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল। হয়ে উঠল অদ্বিতীয় শুভেচ্ছাদূত। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এমন মানুষ খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যারা টেনিস খেলার নিয়ম-কানুন অতটা না জানলেও, ছেলেটাকে এক লহমায় চিনতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলেটার সঙ্গী হলো মুচকি একটা হাসি, যে হাসিতে মিশে নেই কোনো প্রতিহিংসা, দ্বেষ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান। টেনিসে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাপকাঠি ছেলেটা এত উঁচুতে নিয়ে গেল, যা অতিক্রম করার জন্য রাফায়েল নাদাল-নোভাক জোকোভিচদের অতিমানব হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।

ছেলেটার নাম রজার ফেদেরার।

বলা বাহুল্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেদেরার শিখে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেও। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের এক অনুশীলনে একদিন উইম্বলডন জেতার ঘোষণা দেওয়া সেই ফেদেরার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রাজত্ব করেছেন একবার নয়, আট-আটবার। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন বিশবার। এর চেয়ে ভালোভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কী আসলেও যেত? সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরাই তো এভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন!

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত রাতে জীবনের শেষ ম্যাচটা খেলতে নেমেছিলেন। শেষ ম্যাচে ফেদেরার জিতবেন, তাতে ভাগ্য বিধাতার সায় ছিল না হয়তো। কিংবা কে জানে, বিশ্বজয়ী অ্যাথলেটদের আখ্যানের শেষ পর্বে একটু অপ্রাপ্তির ছোঁয়া থাকবে, সেটাই হয়তো নিয়তি। যে কারণে উসাইন বোল্ট জীবনের শেষ রেসে দৌড়াতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের কাছে হেরে যান, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের হয়ে ম্যারাডোনা আর জিদানের শেষ ম্যাচটা মোড়ানো থাকে অপ্রাপ্তিতে। মোহাম্মদ আলীকেও রিং থেকে নেমে যেতে হয় অধোবদনে। রজার ফেদেরারই -বা সে ধারার ব্যতিক্রম হবেন কেন!

জ্যাক সক-ফ্রান্সিস তিয়াফোর জুটির বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের মুখ দেখা হয়নি ফেদেরারের। তবে এমন দিনে ম্যাচের ফলাফল কি আসলেই কোনো অর্থ বহন করে? বেদনার চাদরে মোড়া লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল আর জোকোভিচের বাঁধনহারা কান্নাই বুঝিয়েছে, গত দেড় দশকে একজন ফেদেরার না থাকলে তাঁদের মনে জয়ের নেশাটা হয়তো এভাবে জেগে উঠত না। হয়তো অবিশ্বাস্য সাফল্যে মোড়া ক্যারিয়ারও পেতেন না দুজন।

বিশ গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি তাই রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বড় অর্জন টেনিসকে রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের মতো দুজন হার-না-মানা মানসিকতার অ্যাথলেটকে শ্রেষ্ঠত্বের ওই রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়া, তাদের আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা। টেনিসকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা।

সকল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রেষারেষি ছাপিয়ে যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তো ওখানেই!


নির্বাচিত

সপ্তাহে ৪ কোটি বেতনে আর্সেনালে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৫
ক্রীড়া ডেস্ক

ট্রান্সফার উইন্ডোর বড় এক চমক দেখিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ব্রুনো গিমারেসকে দলে ভেড়াচ্ছে ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ১,১৭৫ কোটি টাকার বিনিময়ে দুই ক্লাব এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রাক-সিজন ক্যাম্প ছেড়ে ইতোমধ্যেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গানারদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তিনি।

উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে বেশ নজরকাড়া বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান আন্তর্জাতিক। আর্সেনালে তাঁর সাপ্তাহিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বোনাসসহ সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি বিশাল অঙ্কের চুক্তি উপভোগ করবেন এই তারকা খেলোয়াড়।

শুরুতে গিমারেসের জন্য আর্সেনালের দেওয়া ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রথম প্রস্তাব এবং নিউক্যাসলের চাওয়া ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের কারণে সমঝোতা আটকে ছিল। পরবর্তীতে আর্সেনালের ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে নিউক্যাসল। তবে গিমারেস নিজে আর্সেনালে যোগ দিতে দারুণ উন্মুখ থাকায় শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হয়।


নির্বাচিত

সালাহর নতুন গন্তব্য তুরস্কের ট্রাবজোনস্পর ক্লাব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অ্যানফিল্ডের ‘ইজিপশিয়ান কিং’ মোহাম্মদ সালাহ দীর্ঘ নয় বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে লিভারপুল থেকে রাজকীয় বিদায় নিয়েছেন। এই মিশরীয় সুপারস্টার এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরে যোগ দিচ্ছেন। তুর্কি ক্লাবটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সালাহর সাথে তাদের চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারই তাঁর ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি ট্রাবজোন শহরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

ইউরোপীয় ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দুই বছরের জন্য ট্রাবজোনস্পরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি হয়েছেন। লিভারপুলের সাথে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে তাঁকে নিজেদের দলে ভেড়াচ্ছে তুর্কি ক্লাবটি। ২০১৭ সালে রোমা থেকে লিভারপুলে আসার পর সালাহ হয়ে উঠেছিলেন অ্যানফিল্ডের প্রাণভোমরা। ৯টি মৌসুমে ৪৪২টি ম্যাচে ২৫৭টি গোল করে তিনি নিজেকে ক্লাবের কিংবদন্তিদের কাতারে শামিল করেছেন।

লিভারপুলের জার্সিতে সালাহ প্রায় সব প্রধান শিরোপাই জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড চারবার প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। লিভারপুল ছাড়ার পর সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্রের লিগ থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব থাকলেও সালাহ ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত ট্রাবজোনস্পর আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সালাহ ক্লাবটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিভারপুলের হয়ে শেষ মৌসুমটি সালাহর জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না, ফর্মের কারণে তাঁকে অনেক ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নামতে হয়েছে। তবে ক্লাব ফুটবলের এই চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সম্প্রতি তিনি জাতীয় দল মিশরের হয়ে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। সালাহর নেতৃত্বেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মিশর। এখন তুরস্কের ক্লাব ফুটবলে এই কিংবদন্তি নতুন করে কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত-অনুরাগী।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় দফায় বিসিবির কোচ হতে আবেদন ৩৭৩, ভাইভাতে ১০৬ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় দফায় যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফার হতাশাজনক ফলাফলের পর নতুন করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩৭৩ জন প্রার্থী কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এই বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে গত ২ এবং ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৩৩ জন প্রার্থী। খাতা মূল্যায়নের পর এই পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০৬ জনকে মনোনীত করেছে বিসিবি।

নির্বাচিত এই ১০৬ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা আজ এবং আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ভাইভা পর্ব শেষ হওয়ার পরই কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বাকি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে এবার বিসিবির নিয়োগ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শূন্যপদের চেয়ে কিছুটা বেশি সংখ্যক বা অতিরিক্ত কোচকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি প্রয়োজন বা শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয়।

বিসিবির এই দ্বিতীয় দফার নিয়োগ প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে প্রথম দফার এক চরম হতাশাজনক ফলাফল। এর আগে জেলা পর্যায়ে ৫৯টি এবং ঢাকা মহানগরের দুটিসহ মোট ৬১টি কোচ পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বিসিবি। সেই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে প্রথম দফায় মোট ২১৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গত ২৩ ও ২৪ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় দিন তাদের ব্যবহারিক বা প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্রার্থীই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২১৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৭০ জনেরও বেশি প্রার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ফলে ৬১টি পদের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে পাস করতে পেরেছিলেন মাত্র ৩৯ জন, যা ছিল চাহিদার তুলনায় বেশ নগণ্য। পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য কোচ না পাওয়ায় শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য বাধ্য হয়েই বিসিবিকে জুলাই মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন করে দ্বিতীয় দফার এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করতে হয়েছিল।


নির্বাচিত

রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে প্রথমবার যোগ দিলেন পর্তুগিজ তারকা বার্নার্দো সিলভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দলের অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার বার্নার্দো সিলভা। বিশ্বকাপ পরবর্তী দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত ক্লাবের বিখ্যাত ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবাসে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরপরই এই তারকা মিডফিল্ডার ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম অনুশীলনে মাঠে নেমে পড়েন। কেবল বার্নার্দো সিলভা একাই নন; একই সাথে নিজেদের ছুটি কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন দলের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র এবং ব্রাহিম দিয়াস।

নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির চতুর্থ সপ্তাহ চলছে। মূলত স্বদেশি কোচ জোসে মরিনহোর বিশেষ অনুরোধেই স্প্যানিশ এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে যোগ দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিলভা জানান যে, মরিনহোর মতো একজন কিংবদন্তি কোচের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা একটি ক্লাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই প্রায় অসম্ভব। ইতোমধ্যে নতুন মৌসুমে মাঠে নামার আগেই লা লিগার জন্য বার্নার্দো সিলভার অফিশিয়াল নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ।

চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ চমকপ্রদ কিছু চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই নতুন চুক্তিতে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে বার্নার্দো সিলভার পাশাপাশি ডেনজেল ডামফ্রিস এবং কার্লোস এস্পি ইতোমধ্যে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া খুব শিগগিরই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির এই ক্যাম্পে দলের সঙ্গে দেখা মিলবে ইব্রাহিমা কোনাতে এবং মার্ক কুকুরেয়ার মতো আরও দুই নতুন তারকার। সব মিলিয়ে নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে কোচ জোসে মরিনহো নিজের স্কোয়াডকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ছুটি কাটিয়ে দলে ফেরার প্রথম দিনেই অনুশীলনে চমৎকার একটি গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ও অবস্থানের কথা নতুন করে জানান দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র। দলের আক্রমণভাগের এই অন্যতম প্রধান অস্ত্র বর্তমানে তার চুক্তির একেবারে শেষ বছরে অবস্থান করছেন। এই অবস্থায় তাকে দীর্ঘমেয়াদে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ধরে রাখতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিউস জুনিয়র এবং তার প্রতিনিধিদের মধ্যে খুব শিগগিরই নতুন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

কিউরেটরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিসিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিদেশি কিউরেটরদের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্থানীয় পিচ কিউরেটর তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী পিচ কিউরেটরদের এই লেভেল-১ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পিচ তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের এই মহতী উদ্যোগের সার্বিক পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিসিবির বর্তমান হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে উইকেট তৈরির দর্শনে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। একসময় ঘরের মাঠে যেকোনো সিরিজের জন্য কেবল স্পিনবান্ধব উইকেট তৈরির যে চিরাচরিত প্রথা ছিল, সেই চিন্তাধারা থেকে এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এর সুফলও ইতোমধ্যে বেশ ভালোভাবে পেতে শুরু করেছে দল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করেই দারুণ সব সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। আর উইকেট তৈরির মানসিকতায় এই আমূল পরিবর্তন এবং স্পোর্টিং উইকেটের মাধ্যমে সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন বিসিবির হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং।

টনি হেমিংয়ের এই নতুন দর্শনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অভিজ্ঞ স্থানীয় কিউরেটররা। তাদের মধ্যে জাহিদ রেজা বাবু, বদিউল আলম খোকন এবং শফিউল আলম বেলালের মতো প্রবীণ ও দক্ষ কিউরেটররা অন্যতম। এই স্থানীয় মাঠকর্মী ও কিউরেটরদের আধুনিক টার্ফ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি যুগোপযোগী করে তুলতেই মূলত এই লেভেল-১ কর্মশালার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্সে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামের মতো প্রধান ভেন্যুগুলো থেকে বাছাই করা মোট ৩০ জন কিউরেটর ও মাঠকর্মী অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন।

কিউরেটরদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের বিষয়ে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের কিউরেটর এবং মাঠকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতেই প্রথমবারের মতো প্রথম ধাপের এই সনদ কোর্স বা সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। টার্ফ ব্যবস্থাপনা প্রধান টনি হেমিংয়ের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত এই কোর্সটি কেবল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের জন্য কঠোর পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে। মাজহার উদ্দিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই প্রথম ধাপের এই স্বীকৃতি বা সনদ লাভ করবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট পিচ তৈরিতে এক নতুন পেশাদারি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বোর্ড।


নির্বাচিত

বাংলাদেশকে ‘নিজের বাড়ি’ বলে আখ্যায়িত করলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তারকা রবার্তো কার্লোস লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশকে নিজের 'বাড়ি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি ব্রাজিল তারকা নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ব্রাজিল প্রবাসী বাংলাদেশি রবিন মিয়ার ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় কার্লোস বাংলাদেশের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের মতো বাংলাদেশেও এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়েই তিনি বাংলাদেশকে নিজের আপন ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা এ দেশের আপামর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল আনন্দ ও গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় রবার্তো কার্লোস স্পেনে অতিবাহিত করেছেন। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ মাতিয়েছেন, যে কারণে নিজের মাতৃভূমি ব্রাজিলের পর স্পেনের প্রতি তার এক বিশেষ আবেগ ও দুর্বলতা কাজ করে। তবে রবিন মিয়ার সেই ভিডিও বার্তায় তিনি প্রথমে পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলার পর ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে বলেন, 'বাংলাদেশ ইজ মাই হাউজ, ব্রাজিল-স্পেন-বাংলাদেশ'। অর্থাৎ, নিজের জন্মভূমি ব্রাজিল এবং ক্যারিয়ারের সোনালি সময় কাটানো স্পেনের ঠিক পরপরই তিনি বাংলাদেশকে নিজের হৃদয়ের কাছাকাছি স্থান দিয়েছেন। তার এমন আবেগঘন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি উন্মাদনা তার হৃদয় ছুঁয়েছে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রতি সমর্থন ও উন্মাদনা দীর্ঘদিনের পুরোনো। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই এই দেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে যে অভাবনীয় উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তা ইতোমধ্যেই বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছিল। সে সময় ফিফাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা এবং বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি এমন নিখাদ ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিল।

শুধু সাবেক কিংবদন্তিরাই নন, বর্তমান প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররাও বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা খুব ভালোভাবে জানেন এবং এর মূল্যায়ন করেন। এর আগে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের বর্তমান তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নিজ দেশের পর বাংলাদেশের সমর্থকদের এই অভাবনীয় ভালোবাসার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া সমর্থকদের বিভিন্ন উন্মাদনা ও উদযাপনের ভিডিওগুলো ব্রাজিল দলের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত দেখেন এবং উপভোগ করেন। রবার্তো কার্লোস থেকে শুরু করে ব্রুনো গুইমারেস—ব্রাজিলিয়ান তারকাদের এমন ধারাবাহিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি।


নির্বাচিত

টের স্টেগেনকে ছেড়ে দিলো বার্সেলোনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং তাদের অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের চলমান এক জটিল সংকটের অবশেষে অবসান ঘটেছে। অনেক দিন ধরেই এই গোলরক্ষককে দল থেকে বাদ দেওয়া বা ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল কাতালান ক্লাবটি। অবশেষে সেই প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। আগামী এক মৌসুমের জন্য ধারে নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ ক্লাব আয়াক্সের কাছে তাকে ছেড়ে দিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়াক্সের সঙ্গে টের স্টেগেনকে ধারে পাঠানোর বিষয়ে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।

একসময় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি কারণে বার্সেলোনার স্কোয়াডে তিনি অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ও বোঝায় পরিণত হয়েছিলেন। একদিকে এই জার্মান তারকার আকাশচুম্বী বেতন ক্লাবের আর্থিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছিল, অন্যদিকে ফর্মহীনতার কারণে তিনি দলের মূল একাদশেও নিজের জায়গা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছিলেন। স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া এবং বিশাল আর্থিক বোঝার কারণে বার্সেলোনা তাকে দলে ধরে রাখতে আর ইচ্ছুক ছিল না। মূলত ক্লাবের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং স্কোয়াড পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই তাকে দল থেকে বিদায় করার এই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কাতালান ক্লাবটির ম্যানেজমেন্ট।

আয়াক্সে যোগ দেওয়ার আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী দলবদলে তাকে আরেক স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় ধারে পাঠিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সেখানেও নিজের ভাগ্য ফেরাতে চরমভাবে ব্যর্থ হন এই জার্মান তারকা। জিরোনার জার্সিতে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এরপরই দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক বড় ধরনের চোটে পড়ে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান এই গোলরক্ষক। চোটের কারণে জিরোনার হয়ে ওই মৌসুমের বাকি সময় আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি তার, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল।

সম্প্রতি শেষ হওয়া সেই মৌসুমে লা লিগা থেকে জিরোনা অবনমিত হয়ে যায়, যা টের স্টেগেনের ক্যারিয়ারে এক অদ্ভুত ও বিরল রেকর্ডের জন্ম দেয়। মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনার স্কোয়াডে থাকার কারণে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে একটি দলের হয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি, আবার ধারে জিরোনায় খেলতে গিয়ে সেই একই মৌসুমে দলটির অবনমনের চরম তিক্ত স্বাদও পান। স্প্যানিশ ফুটবলে এমন দ্বৈত ও বৈপরীত্যময় অভিজ্ঞতার পর এখন আয়াক্সের হয়ে নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার ও ফর্ম পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন বার্সেলোনার একসময়ের এই নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক।


নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন নাহিদ রানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ ও গতিশীল পেসার নাহিদ রানা উন্নত চিকিৎসা শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। গতকাল রাতে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের দলে ইনজুরির কারণে জায়গা পাননি এই সম্ভাবনাময় ফাস্ট বোলার। মূলত নিজের পায়ের একটি পুরনো ও জটিল চোটের উন্নত চিকিৎসার জন্যই তিনি কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি এখন দেশে ফিরে এসেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ জাতীয় দল ইতোমধ্যেই দেশটিতে পৌঁছে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তবে চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যাওয়ায় দলের সঙ্গে যেতে পারেননি দুই নির্ভরযোগ্য পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় স্কোয়াডে থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ মুহূর্তে দলে জায়গা করে নিয়েছেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ও ব্যাটার লিটন দাস। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ফিটনেস টেস্টে ভালো ফলাফল করলে তবেই তিনি মূল একাদশে সুযোগ পাবেন। অন্যথায়, টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য প্রস্তুত করার চিন্তাভাবনা করছে।

নাহিদ রানার এই অস্ট্রেলিয়া সফর ও ইনজুরি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অনেকেই ধারণা করছিলেন যে তিনি হয়তো সাইড স্ট্রেইনের চোট সারাতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন, তবে বিষয়টি তা নয়। এই তরুণ গতি তারকার দুই পায়েই ক্রনিক শিনবোনের জটিলতা রয়েছে। এই সমস্যার কারণে তিনি পায়ের শিনবোন বা টিবিয়ার ভেতরের অংশে সব সময়ই এক ধরনের অস্বস্তিকর ব্যথা অনুভব করে থাকেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি পুরনো সমস্যা। মূলত দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় রানার এই ইনজুরির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দেশেই চালিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। তবে চোটের ধরন ও তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনের চিকিৎসা পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা এই পেসার এখন আগের চেয়ে বেশ ভালো ও ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছেন।


নির্বাচিত

স্থানীয় টুর্নামেন্টে অভিষেক শর্মার তাণ্ডব: ৯১ বলে ২৩৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন ধরে চরম বাজে সময় পার করছেন ভারতের তরুণ ও বাঁহাতি ব্যাটিং তারকা অভিষেক শর্মা। তবে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার মাঝেই তিনি একটি স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজের চেনা বিধ্বংসী রূপে ফিরেছেন এবং ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। পাঞ্জাব আন্তঃজেলা ওয়ানডে টুর্নামেন্টে নিজের দল অমৃতসর সিনিয়রসের হয়ে তরন তারানের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন তিনি। ওই ম্যাচে মাত্র ৯১ বল মোকাবিলা করে ২৫৬.০৪ স্ট্রাইক রেটে ২৩৩ রানের এক বিশাল ও বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন এই ব্যাটার। তার এই চোখধাঁধানো ইনিংসটিতে ১৫টি দৃষ্টিনন্দন চার এবং ২৫টি বিশাল ছক্কার মার ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে তার এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের ভিডিও এবং স্কোরকার্ডের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিষেক শর্মার এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে তার দল অমৃতসর সিনিয়রস নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৩৩ রানের এক পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে বছরটি এক নম্বরে থেকে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি তিন নম্বরে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে তিনি চরম হতাশা নিয়ে ফিরেছেন, যেখানে তিনটি ইনিংসে মাত্র ৩.৬৬ গড়ে সর্বসাকুল্যে ১১ রান করতে সক্ষম হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার এক অন্ধকার বৃত্তে দৃশ্যত আটকে আছেন এই সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটার।

তার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর দিকে নজর দিলে এই ব্যর্থতার চিত্র আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি ২৬.২ গড়ে মাত্র ১৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজেও তার ব্যাট হাসেনি; সেখানে ২৪.৫ গড়ে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪৯ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের খেলা শেষ ১০টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তিনি মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যেখানে অভিষেকের ব্যাটিং গড় ছিল ৩৭.০৫ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৫-এর কাছাকাছি, সেখানে বর্তমানে তার গড় নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯.৪ এবং স্ট্রাইক রেট কমে ১৬৫-এ এসে ঠেকেছে, যা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি চিন্তার বিষয়।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রান খরায় ভোগার চেয়েও তার আউটের ধরন বর্তমানে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা তিনটি ম্যাচেই তিনি পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। প্রতিটি আউটের ক্ষেত্রে তিনি তিনটি ভিন্ন শট খেলার চেষ্টা করলেও মূলত একই ধরনের ভুল করে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। অফস্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে আসা গতির বলগুলোকে তিনি কোনোভাবেই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি, যা তার টেকনিক্যাল দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় টুর্নামেন্টের এই রেকর্ডগড়া ২৩৩ রানের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে অভিষেক শর্মা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের হারানো ছন্দ ও ফর্ম কতটা দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারেন।


নির্বাচিত

হামজার জন্য সাফের সূচিতে বদল!

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে রাজধানী ঢাকায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টের মাঝে ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে ফিফা উইন্ডো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, এই ফিফা উইন্ডোর আগে কোনো ফুটবলারকে ছাড়তে বাধ্য নয় ক্লাবগুলো। ফলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীকে ৯ নভেম্বরের আগে দলে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে পেতে মরিয়া বাংলাদেশ। আর এই কারণেই বাংলাদেশ দল ও আয়োজকদের সুবিধার্থে সাফের সূচিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

শনিবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। এই ড্র অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এ’-তে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’-তে লড়বে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর নিজেদের আঙিনায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের এই সুবর্ণ সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না বাংলাদেশ। তাই টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে অন্য গ্রুপের খেলাগুলো আগে দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কিছুটা দেরিতে আয়োজনের আলোচনা চলছে। এছাড়া নেপালের অংশগ্রহণের ওপরও সাফের এই সূচি অনেকটাই নির্ভর করছে। বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকা নেপাল যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে পারে, তবে তারা বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত হবে এবং টুর্নামেন্টটি সাত দলের হবে। এতে করে ফিফা উইন্ডোর সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি মেলানো আরও সহজ হবে।

এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ও মূল আকর্ষণ হলেন এই হামজা চৌধুরী। তাই শুধুমাত্র বাংলাদেশ দলই নয়, বরং টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটি এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোও চায় না যে এই তারকা ফুটবলার একটি ম্যাচও মিস করুন। হামজাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা আয়ের যে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইছেন না সাফের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা। এমনকি টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানেও এই তারকা ফুটবলারকে মধ্যমণি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সাউথ এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাই সূচি নিয়ে কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছে। প্রয়োজনে হামজাকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পাওয়ার জন্য তার ক্লাব লেস্টার সিটির সঙ্গেও সরাসরি আলোচনায় বসতে পুরোপুরি রাজি রয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কারণ তারা জানে, মাঠে হামজার উপস্থিতি মানেই টিকিটের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া।

নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই মহারণে নামার আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এ লক্ষ্যে তারা আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের উইন্ডোটিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাফুফের লক্ষ্য হলো, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাল-সবুজের দলটিকে দিয়ে অন্তত একটি বা দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলানো। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শক্তিশালী কিরগিজস্তানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া কোনো একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়েও বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি এবং হামজা চৌধুরীর অংশগ্রহণ নিয়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে এখন বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও বিপুল প্রত্যাশা।


নির্বাচিত

এক দিনেই জিদানের অভিষেক ম্যাচের সব টিকিট শেষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফরাসি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি তারকা জিনেদিন জিদান। ডাগআউটে তার এই নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই এক অভাবনীয় উন্মাদনার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। কোচ হিসেবে নিজের দেশের মাটিতে প্রথমবার মাঠে নামার আগেই বিশাল এক চমক দেখিয়েছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ইতালির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। আর এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে এতটাই আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে, টিকিট ছাড়ার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে সবগুলো টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে।

ফ্রান্স এবং ইতালির মধ্যকার এই মহারণটি অনুষ্ঠিত হবে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ও সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ভেন্যু ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ হাজার। ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, জিদানের অভিষেক ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করার জন্য দর্শকদের ব্যাপক চাহিদার কারণে বর্তমানে এই বিশাল স্টেডিয়ামের আর একটি টিকিটও অবশিষ্ট নেই। কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা উসমান দেম্বেলের মতো বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা তারকাদের খেলা দেখার আকর্ষণ তো রয়েছেই, তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকদের এই উপচে পড়া ভিড় ও উন্মাদনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বয়ং কোচ জিনেদিন জিদান।

ইতালির বিপক্ষে ঘরের মাঠের এই মহারণের মাত্র তিন দিন পর উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আরেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বেলজিয়ামের মাটিতে। তবে ফরাসি গণমাধ্যম আরএমসি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, কেবল ঘরের মাঠেই নয়, প্রতিপক্ষের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই ম্যাচটিকে ঘিরেও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সমান উত্তেজনা ও উন্মাদনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া বাকি সব টিকিট সম্পূর্ণরূপে বিক্রি হয়ে গেছে।

খেলোয়াড় হিসেবে জিনেদিন জিদান যেমন ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ও ইউরোর মতো অমর সব শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন, তেমনি ক্লাব ফুটবলে কোচ হিসেবেও তিনি ট্রেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। এবার জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে তার এই নতুন পথচলাকে ঘিরে ফরাসি সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ আকাশ ছুঁয়েছে। এক দিনেরও কম সময়ে অভিষেক ম্যাচের ৮০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার এই বিরল ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ তাদের প্রিয় কিংবদন্তির ওপর কতটা অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা রাখেন। নতুন এই দায়িত্বে জিদান তার জাদুকরী কৌশল দিয়ে ভক্তদের এই ভালোবাসার কতটা প্রতিদান দিতে পারেন, পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে।


নির্বাচিত

‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’-এর সমাপনীতে এমবাপ্পেকে আনার পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এক বিশাল ও চমকপ্রদ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রতিযোগিতার জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার বিশেষ পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত স্টিয়ারিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজস্ব ফুটবল দল গঠনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, কোনো উচ্চবিদ্যালয়, সাধারণ কলেজ, কারিগরি কলেজ বা মাদ্রাসা যদি ফুটবল দল গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের মান্থলি পে-অর্ডার বা এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি উল্লেখ করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি ১১ বা ১৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দলও গঠন করতে না পারে, তবে ধরে নিতে হবে সেখানে শিক্ষার্থীর চরম সংকট রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তবে শিক্ষার্থী কম থাকলেও যেকোনো বিকল্প উপায়ে দল গঠন নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

ফুটবল উৎসবের এই আমেজ সারা দেশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এবং বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে উপজেলা পর্যায়ে একটির পরিবর্তে অন্তত চার থেকে পাঁচটি মাঠে একযোগে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে আর্থিক সংকুলান নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) ইতোমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের বরাদ্দ থেকে অথবা প্রয়োজনে রাজস্ব খাত থেকে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের খেলার জন্য জেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে চিঠি দেওয়া হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের আয়োজনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠগুলো সংস্কারের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে প্রতিটি ভেন্যুতে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ভেন্যু কমিটি গঠন করা হবে, যারা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও স্থানীয় অন্যান্য ব্যয়ের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী ফুটবলের একটি নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। আর এই আয়োজনের চূড়ান্ত উন্মাদনা হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বনন্দিত একজন তারকা উপস্থিত থাকলে তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

৫ সন্তানের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো-জর্জিনা!

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

কদিন আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ের একটি ভুয়া আমন্ত্রণপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করলেও, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বলছে তাদের বিয়ের অপেক্ষার পালা এবার সত্যিই শেষ হতে চলেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা। রোনালদো তার জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার দ্বীপ মাদেইরাতেই দীর্ঘদিনের বাগদত্তা জর্জিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, দ্বীপটির রাজধানী ফুনচালে অবস্থিত ঐতিহাসিক ক্যাথিড্রালটি আগামী শনিবার একটি জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বুক করা হয়েছে, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৩টায় বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

ফুনচালে জন্ম নেওয়া ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফুটবল কিংবদন্তি এবং ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনা তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্যও বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছেন। জানা গেছে, অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য ক্যাথিড্রালের কাছাকাছি অবস্থিত পাঁচ তারকা বিশিষ্ট বিলাসবহুল ‘সাভয় প্যালেস’ হোটেলটি বুক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই হোটেলের সাধারণ অতিথিদের ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি নির্দিষ্ট তলা এবং বেশ কয়েকটি বার এলাকা সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, যা এই হাই-প্রোফাইল বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর পর গত বছরের আগস্ট মাসে রোনালদো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন বলে জানা যায়। এই যুগলের বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো হয় গত সপ্তাহে, যখন স্পেনের মায়োর্কায় একটি বিলাসবহুল ইয়টে ওঠার সময় তাদের দুজনের হাতেই নজরকাড়া হীরার আংটি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রেম ও বোঝাপড়ার পর অবশেষে এই জুটি তাদের সম্পর্ককে আইনি ও সামাজিক পূর্ণতা দেওয়ার চূড়ান্ত ধাপে এসে পৌঁছেছেন বলে ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিতভাবে ধরে নিয়েছে।

এর আগে রোনালদো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপ ফুটবলের পরপরই জর্জিনার সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। গত মাসে শেষ হওয়া সেই বিশ্বকাপে তার দল পর্তুগাল চূড়ান্ত বিজয়ী স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। প্রখ্যাত সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো তার বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, তিনি চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি হাতে নিয়েই নিজের বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, জর্জিনাই একমাত্র নারী যাকে ডেট করার পর তিনি স্থায়ীভাবে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কেবল তার সন্তানের মা হওয়ার জন্যই নয়, বরং তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন বলেই এটি বিয়ের জন্য সঠিক সময় বলে তিনি মনে করেন। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ট্রফি হাতে না পেলেও, স্বপ্নের নারীর সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে যাচ্ছেন এই মহাতারকা।


নির্বাচিত

banner close