“দেখো, ঠিক এই শটটা মেরেই আমি উইম্বলডন জিতব!”
অনুশীলন করতে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে ছোট্ট ছেলেটা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল। কথাটা দূর থেকেই শুনলেন ম্যাডালেন বেয়ারলকার। বাসেল ওল্ড বয়েজ ফুটবল ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে মনে খুশি হলেন, একটা অজানা আতঙ্কও গ্রাস করল তাঁকে। ছেলেটা যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী!
এতটাই যে, কখনও হেরে গেলে, বা বাজেভাবে পয়েন্ট হারালে ছেলেটা প্রায়ই মেজাজ হারায়। র্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা, চিৎকার করা, ঝগড়াঝাঁটি, হাউমাউ করে কান্নাকাটি - এগুলো তো নিত্যদিনের অভ্যাস। আবেগ নিয়ন্ত্রণ? সেটা যেন জানেই না এই ছেলে। মেজাজী ছেলেকে সামলাতে বেয়ারলকার থেকে শুরু করে কোচ পিটার কার্টার - সবাইকে নিয়মিত বেগ পেতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে শুধু জয়ই নয়, হারের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফল হওয়ার যে যাত্রাপথ, সে পথকে চিনে রাখতে হয় - সেটা কে বোঝাবে একে?
বেয়ারলকার-কার্টাররা কম চেষ্টা করেননি। কোর্টে যখনই ছেলেটা এমন কোনো কাণ্ড ঘটাত, কার্টার একপাশে টেনে নিয়ে যেতেন তাঁকে। বোঝাতেন, প্রকৃত চ্যাম্পিয়নদের এমন করতে নেই। নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। আবেগ যেন মন-মননে বাসা না বাঁধে, পেশাদারত্বের বাতাবরণে সেটা নিশ্চিত করতে হয়। আবেগ যে বড্ড বেয়াড়া, প্রশ্রয় দিলে মানুষকে লক্ষ্যচ্যুত করবেই!
কার্টারদের সে চেষ্টায় লাভ হতো সামান্যই। কখনও কখনও সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন ছেলেটার বাবা রবার্ট ও মা লিনেট। রবার্ট আর দশজন সুইসের মতো বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। রাগারাগি তাঁর ধাতেই নেই, সেই রবার্টও কখনও কখনও বিদ্রোহী ছেলের কার্যক্রম দেখলে বিরক্ত হতেন। একবার এক টুর্নামেন্টে বাজে খেলে ছেলেটা বাদ পড়ল। ক্ষোভে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বাবা রবার্ট গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পুরো রাস্তায় ছেলে এত বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল, শেষমেশ গাড়ি থামিয়ে ঘাড় ধরে ছেলেকে বের করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বরফের চাঁইয়ের মধ্যে মাথাটা ঘষে দিলেন কিছুক্ষণ। অন্তত বরফের স্পর্শ পেয়ে যেন ছেলের ভেতরের আগুন একটু নেভে!
মা লিনেটও একদিন ছেলেকে ধরে-বেঁধে কাছে বসালেন। ভালোমন্দ দুটো কথা বলে যদি লাইনে আনা যায় আর কি! “দেখো বাবা, তুমি যখনই রেগে যাবে, এর অর্থ হলো তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে বার্তা দিচ্ছ, সে তোমাকে হারানোর জন্য যা যা করছে - ঠিক করছে। তোমার আবেগের বহিঃপ্রকাশ তাকে জয়ের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তুমি কি সেটা চাও?”, সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন লিনেট।
এত আবেগ, এত বদরাগ - সব যে আসলে অদম্য জিগীষারই বহিঃপ্রকাশ - সেটা বুঝতে কারওর বাকি থাকার কথা না এতক্ষণে। কিন্তু ওই যে, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যে চ্যাম্পিয়নদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে যুগ যুগ ধরে। খেয়ালি ম্যারাডোনা তা না হলে মেরেকেটে দুবার লিগ জেতেন না, ছিয়াশিতে একবার বিশ্বজয় করে চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ভক্তদের মনে অনন্ত আক্ষেপ জাগিয়ে থেমে যান না। লাগামহীন চিত্তচাঞ্চল্যর পায়ে বেড়ি পরালে হয়তো জন ম্যাকেনরোর ঘরেও সাতটার বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শোভা পায়।
বেয়ারলকার-কার্টাররা সে ভয়ই পেতেন - হয়তো ছেলেটা নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বদরাগের কারণে। এমনিতেই সুইজারল্যান্ডের ছেলেমেয়েরা টেনিস খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যে দুই-একজন প্রতিভাবান শিশু-কিশোর টেনিসের জন্য এসেছে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঝরে পড়েছে। বেয়ারলকার চান না, এই ছেলেরও সেই নিয়তি হোক। এই ছেলে যে লাখে একটা!
জীবনের প্রথম জুনিয়র উইম্বলডন খেলতে গিয়ে শিরোপার নেশায় বিভোর ছেলেটা দুম করে হেরে বসল সেমিফাইনালে। ততদিনে এই ছেলেকে সুইসরা নিজেদের টেনিস-ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা শুরু করেছে, ভাবা শুরু করেছে মার্টিনা হিঙ্গিস আর প্যাটি স্নাইডারদের যোগ্য উত্তরসূরি। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই রেডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য হাজিরা দিতে চলে যায় সেই ছেলে। উপস্থাপক মার্কো মোর্দাসিনি ব্যস্ত ছিলেন একটু, ছেলেটাকে বললেন, খানিক অপেক্ষা করতে। কাজ করতে করতেই মোর্দাসিনির কানে এলো, ছেলেটা পাশের ঘরে বসে কাঁদছে। সে কান্নায় ম্যাচ হারের যন্ত্রণা যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল এত বড় একটা সুযোগ হারানোর বেদনা। এমন সুযোগ হারানোর দোষটা তো নিজেরই। এভাবে চলতে থাকলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সেই প্রতিশ্রুতি জীবনেও পূরণ করা যাবে না!
সমাধান একটাই, বদলাতে হবে নিজেকে। মানুষ হিসেবে, প্রতিযোগী হিসেবে।
সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই তো বদলায়। ছেলেটাও শিখে যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে। এতটাই যে, একটা সময় কোর্টে ছেলেটার খেলা, চলন-বলন দেখলে ধ্যানমগ্ন ঋষি ছাড়া কিছুই মনে হতো না। জঘন্য এক শট খেলে পয়েন্ট হারালো, বা বিখ্যাত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটটা ঠিক যুতসই হলো না - চুপচাপ বেসলাইনে চলে যেত, পরের পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে।
যে আগে নিজেকেই সামলাতে পারত না, এক সময় পুরো খেলারই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল। হয়ে উঠল অদ্বিতীয় শুভেচ্ছাদূত। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এমন মানুষ খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যারা টেনিস খেলার নিয়ম-কানুন অতটা না জানলেও, ছেলেটাকে এক লহমায় চিনতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলেটার সঙ্গী হলো মুচকি একটা হাসি, যে হাসিতে মিশে নেই কোনো প্রতিহিংসা, দ্বেষ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান। টেনিসে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাপকাঠি ছেলেটা এত উঁচুতে নিয়ে গেল, যা অতিক্রম করার জন্য রাফায়েল নাদাল-নোভাক জোকোভিচদের অতিমানব হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।
ছেলেটার নাম রজার ফেদেরার।
বলা বাহুল্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেদেরার শিখে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেও। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের এক অনুশীলনে একদিন উইম্বলডন জেতার ঘোষণা দেওয়া সেই ফেদেরার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রাজত্ব করেছেন একবার নয়, আট-আটবার। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন বিশবার। এর চেয়ে ভালোভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কী আসলেও যেত? সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরাই তো এভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন!
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত রাতে জীবনের শেষ ম্যাচটা খেলতে নেমেছিলেন। শেষ ম্যাচে ফেদেরার জিতবেন, তাতে ভাগ্য বিধাতার সায় ছিল না হয়তো। কিংবা কে জানে, বিশ্বজয়ী অ্যাথলেটদের আখ্যানের শেষ পর্বে একটু অপ্রাপ্তির ছোঁয়া থাকবে, সেটাই হয়তো নিয়তি। যে কারণে উসাইন বোল্ট জীবনের শেষ রেসে দৌড়াতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের কাছে হেরে যান, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের হয়ে ম্যারাডোনা আর জিদানের শেষ ম্যাচটা মোড়ানো থাকে অপ্রাপ্তিতে। মোহাম্মদ আলীকেও রিং থেকে নেমে যেতে হয় অধোবদনে। রজার ফেদেরারই -বা সে ধারার ব্যতিক্রম হবেন কেন!
জ্যাক সক-ফ্রান্সিস তিয়াফোর জুটির বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের মুখ দেখা হয়নি ফেদেরারের। তবে এমন দিনে ম্যাচের ফলাফল কি আসলেই কোনো অর্থ বহন করে? বেদনার চাদরে মোড়া লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল আর জোকোভিচের বাঁধনহারা কান্নাই বুঝিয়েছে, গত দেড় দশকে একজন ফেদেরার না থাকলে তাঁদের মনে জয়ের নেশাটা হয়তো এভাবে জেগে উঠত না। হয়তো অবিশ্বাস্য সাফল্যে মোড়া ক্যারিয়ারও পেতেন না দুজন।
বিশ গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি তাই রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বড় অর্জন টেনিসকে রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের মতো দুজন হার-না-মানা মানসিকতার অ্যাথলেটকে শ্রেষ্ঠত্বের ওই রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়া, তাদের আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা। টেনিসকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা।
সকল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রেষারেষি ছাপিয়ে যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তো ওখানেই!
ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উত্তেজনা ও উন্মাদনা বিরাজ করছে। দুই দলের এই মহানাটকীয় লড়াই কেবল দলগত আধিপত্য বিস্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি পরিণত হতে যাচ্ছে এক অনন্য ফুটবলীয় সৌন্দর্যের প্রদর্শনীতে।
এই সেমিফাইনালের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দলের দুই মহাতারকার চমকপ্রদ এক ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। একদিকে রয়েছেন ফরাসিদের আক্রমণের মূল অস্ত্র এবং ‘গতির রাজা’ হিসেবে খ্যাত ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে স্প্যানিশদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তরুণ ‘ড্রিবলিংয়ের জাদুকর’ লামিন ইয়ামাল। গতির সঙ্গে শৈল্পিক ফুটবলের এই অসাধারণ লড়াই দেখতে পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।
ম্যাচটিতে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে রয়েছে এক অনন্য ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়লাভ করতে পারলেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফুর পাশে নাম লেখাবেন তিনি। কাফুর পর ফুটবল ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে সরাসরি মাঠে নামার অবিস্মরণীয় এক রেকর্ড স্পর্শ করবেন এই ফরাসি সুপারস্টার, যা তাকে নিয়ে যাবে অন্য এক উচ্চতায়।
তবে এমবাপ্পের ইতিহাস গড়ার এই অভাবনীয় যাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। বয়সে তরুণ হলেও মাঠের খেলায় তার জাদুকরী ড্রিবলিং ও অসামান্য সৃজনশীলতা ইতোমধ্যে পুরো ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। তার পায়ের জাদুকরী স্কিল যেকোনো শক্তিশালী রক্ষণভাগকেই মুহূর্তের মধ্যে বোকা বানাতে পুরোপুরি সক্ষম, যা স্পেনের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নকে যেমন জোরালো করেছে, তেমনি ফরাসিদের জন্য তৈরি করেছে বড় এক দুশ্চিন্তা।
সেমিফাইনালের আগে আলোচনায় বেঞ্চে থাকা কান্তে
টানা ৩য় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল কৌশল, একাদশ কিংবা প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা। কিন্তু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম এনগোলো কান্তে, যিনি এখনও এই বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্লোজড-ডোর অনুশীলনে মাঝমাঠে দারুণ পারফর্ম করেছেন কান্তে। আর এতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমর্থকদের বড় একটি অংশের দাবি, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে অন্তত সুযোগ দেওয়া উচিত।
নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হয়েও এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের ছয় ম্যাচের একটিতেও খেলার সুযোগ পাননি কান্তে। দিদিয়ে দেশম বরাবরের মতোই মাঝমাঠে ভরসা রেখেছেন কুয়াদিও কোনে ও আদ্রিয়েন রাবিওর ওপর। সেই জুটিকে নিয়েই ফরাসিরা অনায়াসে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে।
তবে অনেকের মতে, বড় ম্যাচের জন্য কান্তের মতো ফুটবলারের মূল্য আলাদা। বয়সের ভারে আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াতে না পারলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এখনো বিশ্বমানের।
বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে এই গুণগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বলের দখল ধরে রেখে দ্রুত পাসিং ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে স্প্যানিশদের জুড়ি নেই। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কান্তের ট্যাকল, বল পুনরুদ্ধার এবং ট্রানজিশন ফুটবল ফ্রান্সের জন্য বাড়তি অস্ত্র হতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, নকআউট পর্বের ম্যাচে কখনও কখনও একটি ট্যাকল, একটি ইন্টারসেপশন কিংবা একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। আর ঠিক সেই ধরনের মুহূর্ত তৈরির জন্য বেশ পরিচিত কান্তে।
বর্তমানে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচেতে খেললেও তার অর্জনের তালিকা এখনো ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ—ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই রয়েছে তার শোকেসে। ফলে অভিজ্ঞতার বিচারে বর্তমান ফরাসি দলে সেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জায়গা পেতেই পারেন কান্তে।
ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া- লামিন ইয়ামাল
১৬ বছর পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তারা মুখোমুখি হচ্ছে গত দুই আসরে টানা দুটি ফাইনাল খেলা ফ্রান্সের। এই দলকে গত দুই বছরে ইউরো ও নেশনস লিগ সেমিফাইনালে হারিয়েছিল লা রোজারা। শেষ চার নিশ্চিত করে তাদের তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া।
ইয়ামালের এই হুঙ্কারের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। তাদের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ফ্রান্স বিন্দুমাত্র ভীত নয়। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও তাদের প্রায় নিখুঁত রক্ষণভাগ সম্পর্কে তারা বেশ সচেতন।
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের রেফারি কে এই ইভান বার্টন?
টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথম ফাইনালে চোখ স্পেনের। ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্তের নজর কাড়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব কার ওপর পড়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ফিফা।
ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার এই ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন এল সালভাদরের ৪৪ বছর বয়সি অভিজ্ঞ রেফারি ইভান বার্টন। কনকাকাফ অঞ্চলের নেশনস লিগ এবং গোল্ড কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম রেফারি হিসেবে অভিষেক হওয়া বার্টনের এটি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৩টি ম্যাচ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবারের সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে এই বিশ্বকাপে তার চতুর্থ অ্যাসাইনমেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) দীর্ঘদিন পর ব্যাটে-বলে নিজের চেনা ছন্দে ফিরেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে তার এই নৈপুণ্যের দিনে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের কাছে হেরে গেছে তার দল এমআই নিউইয়র্ক। এই ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেলেও লিগ পর্বে নিজেদের ১০ ম্যাচে ৫টি জয় ও ৫টি হারের মাধ্যমে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক।
এদিন এমআই নিউইয়র্কের হয়ে শেষদিকে দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখান সাকিব। ইনিংসের ১৭তম ওভারে ক্রিজে এসেই রাচিন রবীন্দ্রকে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১৩ বল মোকাবিলা করে দুটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৮ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরবর্তীতে বোলিংয়ে এসেও শুরুতেই সাফল্য পান তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই অজি ব্যাটার মিচেল ওয়েনকে সাজঘরে ফেরান সাকিব। তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ওয়েন। সব মিলিয়ে ৩ ওভার বোলিং করে ২৪ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন এই তারকা।
এমআই নিউইয়র্কের দেওয়া ১৮৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন ফ্রিডম শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে রাচিন রবীন্দ্র ও আন্দ্রেস গুসের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৮ বলে ১১৬ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন এই দুজন। মাত্র ৩০ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রাচিন। অন্যদিকে, ৫৪ বলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৯৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন গুস। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৫ বল খেলে অপরাজিত ১২ রান করলে ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়াশিংটন।
চলমান এই আসরে এটি ছিল সাকিব আল হাসানের তৃতীয় ম্যাচ। এর আগের দুই ম্যাচে সিয়াটল ওর্কাস ও সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছিল যথাক্রমে ১৫ ও ১ রান। এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে কেবল সিয়াটলের বিপক্ষেই প্রথম ও একমাত্র জয়ের দেখা পেয়েছিল সাকিবের দল এমআই নিউইয়র্ক।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম সফল দল চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটালেন স্টিফেন ফ্লেমিং। দলটির প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়ক। তার দীর্ঘ এই কোচিং মেয়াদে চেন্নাই সুপার কিংস পাঁচটি আইপিএল শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘ এবং সফল একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই মূলত ফ্লেমিংয়ের বিদায়ঘণ্টা বেজেছে। টানা তিন মৌসুম শিরোপা ছাড়াই শেষ করতে হয়েছে চেন্নাইকে। সবশেষ আইপিএলের আসরে দলটি অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল এবং ঠিক তার আগের আসরে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লেমিং এবং সুপার কিংস কর্তৃপক্ষের মধ্যে হওয়া ধারাবাহিক, খোলামেলা ও সততাপূর্ণ আলোচনার ভিত্তিতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
এই বিদায় প্রসঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের এই অবসান ঘটল। দলটির দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পেছনে ফ্লেমিংয়ের যে অসামান্য অবদান রয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি সেটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এবং বিদায়বেলায় তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।
নিজের পদত্যাগের বিষয়ে স্টিফেন ফ্লেমিংও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, খেলাধুলার জগতে আঠারো বছর একটি আজীবন সময়ের মতো এবং তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে এই বিদায় নিচ্ছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, একসঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় সব জয় উদযাপন করেছেন এবং অনেক কঠিন মুহূর্ত কাটিয়ে উঠেছেন। চেন্নাই সুপার কিংস সবসময় তার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে জানিয়ে আগামী দিনগুলোতেও দলটির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি কোচ।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা অনেক সময় মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সম্প্রতি কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাসের ঘটনাটি এর একটি নতুন উদাহরণ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর থেকে এই ২৬ বছর বয়সী ফুটবলারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে গেছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায় এবং সেখানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড, যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। মূলত এই একটি সুযোগ মিস করার কারণেই তাকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, যদিও এবারের আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি কাম্পাস এবং এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে রহস্য তৈরি হয়। আত্মগোপনে যাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানো, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বকাপে গোল করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সমর্থকদের কাঙ্ক্ষিত আনন্দ এনে দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি তার নিবেদন ও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না এবং মাঠে তিনি তার সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন।
কাম্পাসের এই ঘটনাটি কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। সেবার বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। কাম্পাসের এমন হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন হুমকিদাতাদের কঠোর সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই এমন হুমকির মুখে পড়া উচিত নয়। পাশাপাশি তারা কাম্পাস ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।
প্যারিসের হতাশা পেছনে ফেলে উইম্বলডন জেতাকে যেন অভ্যাসে পরিণত করছেন টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনার। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ঘাসের কোর্টে রোববার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে জার্মান তারকা আলেক্সান্দার জভেরেভকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন তিনি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে জভেরেভকে ৬-৭ (৭), ৭-৬ (২), ৬-৩, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বর্তমান র্যাংকিংয়ের শীর্ষ এই খেলোয়াড়। ফ্রেঞ্চ ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর প্রথম টুর্নামেন্টেই কোর্টে ফিরে এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্লাম জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই তারকার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। প্রথম সেটে টাইব্রেকারে জভেরেভ জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরান সিনার। তবে ম্যাচের আসল চিত্র বদলে যায় তৃতীয় সেটে গিয়ে। কোর্টে হঠাৎ পা পিছলে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পান জভেরেভ। এরপর তিনি আর সেভাবে কোনো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। প্রতিপক্ষের এই চোটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিনার দাপটের সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ সেট জিতে নিয়ে নিজের শিরোপা নিশ্চিত করেন।
লন্ডনের উত্তপ্ত আবহাওয়ার প্রতিকূলতা জয় করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইয়ানিক সিনার। এই অর্জনকে নিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্যারিসের পর উইম্বলডনের এই মঞ্চে ফেরাটা তার জন্য একটি কঠিন লড়াই ছিল। এমন একটি দারুণ জয়ে তিনি নিজের এবং তার দলের জন্য ভীষণ গর্বিত বলে জানান। কারণ, দলের সদস্যরাই তাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে ক্রমাগত সঠিক পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
অন্যদিকে, সদ্যই ফ্রেঞ্চ ওপেনে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে আসা আলেক্সান্দার জভেরেভের জন্য এই হার ছিল বেশ হতাশাজনক। উইম্বলডনের মঞ্চে এতদিন তিনবার চতুর্থ রাউন্ডে ওঠাই ছিল এই জার্মান তারকার সেরা সাফল্য। এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না তার। সেই সঙ্গে এই জয়ের মধ্য দিয়ে জভেরেভের বিপক্ষে টানা দশম ম্যাচে জয় পাওয়ার অনন্য রেকর্ডও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ইয়ানিক সিনার।
চলতি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন মার্সেলো বিয়েলসা। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলটির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ফোরলান। উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এইউএফ) সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ফোরলান এই দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী মার্চের পর উরুগুয়ের ডাগআউটে ফোরলানের ওপরেই আস্থা রাখা হবে, নাকি নতুন কোনো কোচের সন্ধান করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। মূলত চলতি বছরের শেষের দিকে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণেই ফেডারেশন এই মুহূর্তে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনায় না গিয়ে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে পরিচিত ও আস্থাশীল মুখ ফোরলানকে বেছে নিয়েছে।
ফোরলানের নিয়োগের বিষয়ে এইউএফ সভাপতি জানান, ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি দিয়েগো ফোরলানকেই এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করেছে। ২০২২ সালেও এই প্রকল্পের জন্য তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি এই দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত উৎসাহী। কোচিং পেশায় ফোরলান একেবারেই নতুন নন; এর আগে ২০২০ সালে উরুগুয়ের শীর্ষ ক্লাব পেনারোলে ১১টি ম্যাচ এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল আতেনাস দে সান কার্লোসের হয়ে ১২টি ম্যাচে প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
৪৭ বছর বয়সী ফোরলান উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে একজন অন্যতম কিংবদন্তি খেলোয়াড়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ‘গোল্ডেন বল’ এনে দিয়েছিল। জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন দারুণ সফল। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ এবং স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপা লিগ জয়ের মতো গৌরবময় অর্জন রয়েছে এই সাবেক ফরোয়ার্ডের ঝুলিতে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। প্রায় চার দশক পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
ইংল্যান্ড শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে ৩-২ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে কঠিন লড়াইয়ের পর মিসরকে হারিয়ে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর আবারও শেষ চারে খেলছে ইংল্যান্ড। সেবার ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে তাদের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বিশ্বাস করেন, তার দল এখনো নিজেদের সেরা খেলাটি খেলতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালের পর কোচ টমাস টুখেল প্রকাশ্যে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলটি ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে, অনেক টেকনিক্যাল ভুল করেছে এবং প্রত্যাশামতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে কেইনের মতে, অনুশীলনে যে মানের ফুটবল তারা খেলছে, সেটি ম্যাচে পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারলে ইংল্যান্ড আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।
চলতি বিশ্বকাপে ছয় গোল করে জুড বেলিংহামের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন কেইন। তিনি বলেন, "আমরা জানি আমাদের আরও ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, অথচ এখনো উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।"
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: চিরন্তন এক দ্বৈরথ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এর আগে পাঁচবারের লড়াইয়ে তিনবার জিতেছে ইংল্যান্ড, একবার জিতেছে আর্জেন্টিনা এবং একটি ম্যাচ টাইব্রেকারে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপে আগের পাঁচ সাক্ষাৎ
পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই ম্যাচে (১৯৮৬ ও ১৯৯৮) জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনাই।
ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে 'হ্যান্ড অব গড'
এই দ্বৈরথ শুধু ফুটবলীয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও রাজনীতির গভীর সম্পর্কও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে প্রতীকী প্রতিশোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। একই ম্যাচে তার একক নৈপুণ্যে করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি।
প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকের ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ২০০৫ সালে অভিষেকের পর কখনোই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে ওই বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচও খেলতে পারেননি। ফলে প্রায় ২১ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।
দুই দলের সামনে ইতিহাস
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং দ্বিতীয় শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো সেমিফাইনালে পরাজিত হয়নি। সেই দুর্দান্ত রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে চায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ফুটবল ইতিহাস, রাজনৈতিক আবেগ, ম্যারাডোনার উত্তরাধিকার, মেসির প্রথম ইংল্যান্ড-পরীক্ষা এবং কেইনের শিরোপা স্বপ্ন, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতীক্ষিত এক মহারণ হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টার এই সেমিফাইনালটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি ফুটবল আভিজাত্য ও ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্বের এক বিশাল লড়াই হতে যাচ্ছে। লিওনেল মেসির সামনে যেমন রয়েছে ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ, তেমনি হ্যারি কেইনদের সামনে রয়েছে ৬০ বছরের খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ।
নীরবেই ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। নিজের অবসরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন ক্যারিবীয়দের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ নামক একটি অনুষ্ঠানে হোল্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এই তথ্য জানান তিনি। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা এই অলরাউন্ডার জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যেতে চান।
হোল্ডারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোচ ড্যারেন স্যামি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়ানডে থেকে অবসর নিলেও হোল্ডার এখনো ক্যারিবীয়দের টেস্ট দলের পরিকল্পনায় রয়েছেন। যেহেতু তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেন, তাই তাকে কখন জাতীয় দলে পাওয়া যাবে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে হোল্ডার কোচকে নিশ্চিত করেছেন যে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিয়মিত খেলার পাশাপাশি তিনি টেস্ট ক্রিকেটও চালিয়ে যেতে চান।
জেসন হোল্ডার তার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাই মাসে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই ম্যাচে হারের মধ্য দিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০২৩ সালের মূল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এরপর আর এই ফরম্যাটে মাঠে নামেননি তিনি এবং একপর্যায়ে গোপনেই ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর লাল বলের ক্রিকেটেও তাকে আর দেখা যায়নি, বরং এই সময়ে তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
দীর্ঘ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৩৮টি ম্যাচ খেলে ১৫৯টি উইকেট শিকার করেছেন হোল্ডার, যেখানে দুবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে তার। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১২টি অর্ধশতকের সাহায্যে ২২৩৭ রান করেছেন তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও দীর্ঘ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বে ২০১৫ ও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপসহ ক্যারিবীয়রা মোট ৮৬টি ওয়ানডে খেলেছে, যার মধ্যে ২৪টিতে জয় এবং ৫৪টিতে হার দেখেছে দলটি। এছাড়া দুটি ম্যাচ টাই এবং ছয়টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আফ্রিকা মহাদেশের দলের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে ফুটবল বিশ্বে কম বিতর্ক হয়নি। ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো তো আফ্রিকার এতগুলো দলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে উত্তর আমেরিকার ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ শেষে দেখা গেছে, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে আফ্রিকান দলগুলো। এবারের আসরে আফ্রিকা থেকে সরাসরি ৯টি এবং প্লে-অফ জিতে ডিআর কঙ্গোসহ মোট ১০টি দল অংশ নেয়, যার মধ্যে কেবল তিউনিসিয়া বাদে বাকি ৯টি দলই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর এই ৯০ শতাংশ সাফল্যের হার ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার সাফল্যের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ইউরোপের ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
নকআউট পর্বে ইউরোপ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখালেও আফ্রিকার দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। আসরে আফ্রিকার দল হিসেবে সবচেয়ে দূর এগিয়েছে মরক্কো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়। এছাড়া মিসর পৌঁছেছিল শেষ ষোলোতে। তবে কোনো ম্যাচ না জিতেও এবারের আসরে কোটি দর্শকের মন জয় করেছে মাত্র ৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে। উদ্বোধনী ম্যাচেই তারা শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় এবং পরে শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেয়। দলটির ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং সিদনি লোপেস কাব্রালের দৃষ্টিনন্দন গোল বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
সাফল্যের পাশাপাশি আসরে আফ্রিকার দলগুলোর বিদায়ের গল্পগুলোতে একটি সাধারণ আক্ষেপের চিত্র ফুটে উঠেছে, আর তা হলো শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ হাতছাড়া করা। শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিসর। একইভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঙ্গো এবং নরওয়ের বিপক্ষে আইভরি কোস্ট হেরে বিদায় নেয়। এমনকি বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পরও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় সেনেগাল। বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকান দলগুলোর এই বিদায়ের পেছনে প্রতিভার কোনো ঘাটতি ছিল না, বরং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যর্থতাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে কাজ করেছে।
আফ্রিকার দলগুলোর এই দুর্বলতা প্রসঙ্গে সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেছেন, ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর অনেক আফ্রিকান দলই তাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতে, এটি কোনো দুর্ভাগ্য নয়, বরং দুর্বল ম্যাচ ব্যবস্থাপনার কারণেই এমনটা ঘটেছে। তবে সার্বিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার জন্য বাড়তি কোটা বরাদ্দের সিদ্ধান্তটি শুধু দলের সংখ্যাই বাড়ায়নি, বরং প্রতিযোগিতার মানকেও দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলগুলোর যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, মাঠের চমৎকার ফুটবল দিয়েই তারা তার সবচেয়ে শক্তিশালী ও যৌক্তিক উত্তর প্রদান করেছে।
শনিবার সেন্টার কোর্টে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্বদেশি ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের নতুন রানি হয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের লিন্ডা নসকোভা। ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ গেমে জয় নিশ্চিত করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের স্বাদ নেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয় চেক নারী হিসেবে উইম্বলডনের ‘ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ’ নিজের করে নিলেন নসকোভা। এর আগে ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুসোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভা এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জিতেছিলেন।
ফাইনালে নসকোভাকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথম সেটটি ৬-২ ব্যবধানে সহজেই জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও তিনি জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। কিন্তু মুচোভার সার্ভিসে একে একে চারটি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া করেন। এরপর নিজের সার্ভে পঞ্চম ম্যাচ পয়েন্টটিও ডাবল ফল্ট ও ভুলের কারণে নষ্ট হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়। দ্বিতীয় সেটটি ৭-৫ গেমে জিতে দশম বাছাই মুচোভা সমতায় ফিরলে নসকোভা কোর্ট ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যান। সেখান থেকে ফিরে তৃতীয় সেটের শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ব্রেক করে নিখুঁত টেনিস খেলার মাধ্যমে শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।
এই গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের মধ্য দিয়ে ২১ বছর বয়সী নসকোভা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নারী খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন জয়ের দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন। কাকতালীয়ভাবে ২০১১ সালে ঠিক এই ২১ বছর বয়সেই নিজের প্রথম উইম্বলডন জিতেছিলেন পেত্রা কভিতোভা, যাঁকে দেখেই নসকোভার টেনিস শুরু। এদিন রয়্যাল বক্সে বসেই কভিতোভা এই জয় উপভোগ করেন। এছাড়া এবারের আসরের তৃতীয় রাউন্ডে সোরানা কিসরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ডও গড়েন নসকোভা। উইম্বলডনের ইতিহাসে ভেনাস উইলিয়ামস (২০০৫) ও সেরেনা উইলিয়ামসের (২০০৯) পর মাত্র তৃতীয় নারী হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
নসকোভার এই অনন্য অর্জনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন স্মৃতি। ২০২৪ সালের উইম্বলডনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যুর ঠিক পরপরই, যা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাবিধুর এক সময়। সেই কঠিন অধ্যায় পার করার ঠিক দুই বছর পর অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেই চেনা ঘাসের কোর্টেই তিনি পেলেন তাঁর জীবনের অন্যতম মধুর ও শ্রেষ্ঠ অর্জনের দেখা।
টানা তিনবার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেদের ফুটবল পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালির ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। ব্যর্থতার এই চোরাবালি থেকে দলকে টেনে তুলতে কিংবদন্তি ফুটবলারদের ওপর ভরসা রাখছে সংস্থাটি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাওলো মালদিনি। তাঁর পাশাপাশি দলের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার লিওনার্দো আরাউহো। মূলত ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী চার বছরের মেয়াদে এই জুটিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মালদিনি ও লিওনার্দোর নিয়োগ ছিল তাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি এই দুজনকে একই মুদ্রার দুই পিঠ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আগামী চার বছর তারা ২০৩০ বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন। এই জুটির অন্যতম প্রধান কাজ হবে জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রধান কোচ খুঁজে বের করা। উল্লেখ্য, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেন্নারো গাত্তুসো। এখন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজবেন মালদিনি ও লিওনার্দো।
নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে ইতালির দুই সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। মানচিনির অধীনে ২০২১ সালে ইতালি উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছেড়ে সৌদি আরব এবং পরবর্তীতে কাতারের ক্লাব আল সাদের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আল সাদের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, ২০১৬ ইউরোতে ইতালির কোচের দায়িত্ব পালন করা আন্তোনিও কন্তেও কিছুদিন আগে নাপোলির কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
মজার বিষয় হলো, মালদিনি এবং লিওনার্দো ৩২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন, যেখানে ইতালিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। কাকতালীয়ভাবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চললেও সেখানে ইতালির জায়গা হয়নি। অন্যদিকে ব্রাজিল অংশ নিলেও নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতা সেলেসাওদের হেক্সা জয়ের অপেক্ষা তাই আরও দীর্ঘ হলো। আর ইতালি সবশেষ ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০১০ ও ২০১৪ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর দারুণ জমে উঠেছে। যোগ্য দল হিসেবেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশ বিরল একটি ঘটনা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, শেষ চারে ওঠা এই চারটি দলই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এবারের ২৩তম আসরে সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে সবচেয়ে ফেভারিট তকমা পেয়েছে ফ্রান্স এবং তাদের ঠিক পরেই রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি স্পেন ও ইংল্যান্ডও শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এই চার দলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রুপ পর্বে প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রুপে সেরা হয়ে রাউন্ড অব বত্রিশে জায়গা করে নেয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। আসরে এখন পর্যন্ত এই চারটি দলই অপরাজিত রয়েছে। তবে গ্রুপ পর্বের একটি করে ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকতে হয়েছিল ইংল্যান্ড ও স্পেনকে। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য রুখে দেয় ঘানা এবং স্পেনের বিপক্ষে ড্র করে কেপ ভার্দে। এই একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ে জিতেছে স্পেন।
অন্যদিকে, আসরে এখন পর্যন্ত নিজেদের প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই জিতে নিয়েছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেরা আটের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে তাদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে, ঘানার সঙ্গে ড্র করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারাতে ইংল্যান্ডকেও অতিরিক্ত সময়ের সাহায্য নিতে হয়েছে।
ঠিক এখানেই অন্য তিন সেমিফাইনালিস্টের চেয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ আলাদাভাবে প্রমাণ করেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। এবারের আসরটি ফরাসিদের জন্য যেন স্বপ্নের মতো কাটছে। একের পর এক দাপুটে পারফরম্যান্সে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে আসরের একমাত্র দল হিসেবে তারা প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফ্রান্সের এই সবগুলো জয়ই এসেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে। কোনো ম্যাচেই তাদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট কিংবা টাইব্রেকারের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়নি।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ১২০ মিনিটের এই ম্যারাথন লড়াইয়ে জোড়া গোল করে ইংলিশদের জয়ের নায়ক হয়েছেন তরুণ তারকা জুড বেলিংহাম। তবে ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরানো গোলটি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়লেও ৩৬তম মিনিটে প্রথম লিড পায় নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ড সমতায় ফেরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার পাস থেকে গোল করেন জুড বেলিংহাম। তবে নরওয়ের খেলোয়াড়দের অভিযোগ, এই আক্রমণের সূচনালগ্নে গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ডের নেওয়া কিকটি স্টেডিয়ামের উপরে থাকা ‘স্কাইক্যামের’ তারে লেগে নিচে পড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও রেফারি তা এড়িয়ে যান এবং ইংল্যান্ড সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে। নরওয়ের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও রেফারি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং গোলটি বহাল রাখেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই (৯৩ মিনিটে) ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন বেলিংহাম। মর্গান রজার্সের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলটি জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহাম। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের এই ঘামঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে ‘থ্রি লায়ন্স’রা এখন সেমিফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।