“দেখো, ঠিক এই শটটা মেরেই আমি উইম্বলডন জিতব!”
অনুশীলন করতে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে ছোট্ট ছেলেটা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল। কথাটা দূর থেকেই শুনলেন ম্যাডালেন বেয়ারলকার। বাসেল ওল্ড বয়েজ ফুটবল ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে মনে খুশি হলেন, একটা অজানা আতঙ্কও গ্রাস করল তাঁকে। ছেলেটা যে নিজের সামর্থ্য নিয়ে অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী!
এতটাই যে, কখনও হেরে গেলে, বা বাজেভাবে পয়েন্ট হারালে ছেলেটা প্রায়ই মেজাজ হারায়। র্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা, চিৎকার করা, ঝগড়াঝাঁটি, হাউমাউ করে কান্নাকাটি - এগুলো তো নিত্যদিনের অভ্যাস। আবেগ নিয়ন্ত্রণ? সেটা যেন জানেই না এই ছেলে। মেজাজী ছেলেকে সামলাতে বেয়ারলকার থেকে শুরু করে কোচ পিটার কার্টার - সবাইকে নিয়মিত বেগ পেতে হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যে শুধু জয়ই নয়, হারের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সফল হওয়ার যে যাত্রাপথ, সে পথকে চিনে রাখতে হয় - সেটা কে বোঝাবে একে?
বেয়ারলকার-কার্টাররা কম চেষ্টা করেননি। কোর্টে যখনই ছেলেটা এমন কোনো কাণ্ড ঘটাত, কার্টার একপাশে টেনে নিয়ে যেতেন তাঁকে। বোঝাতেন, প্রকৃত চ্যাম্পিয়নদের এমন করতে নেই। নিজ লক্ষ্যে স্থির থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। আবেগ যেন মন-মননে বাসা না বাঁধে, পেশাদারত্বের বাতাবরণে সেটা নিশ্চিত করতে হয়। আবেগ যে বড্ড বেয়াড়া, প্রশ্রয় দিলে মানুষকে লক্ষ্যচ্যুত করবেই!
কার্টারদের সে চেষ্টায় লাভ হতো সামান্যই। কখনও কখনও সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেন ছেলেটার বাবা রবার্ট ও মা লিনেট। রবার্ট আর দশজন সুইসের মতো বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। রাগারাগি তাঁর ধাতেই নেই, সেই রবার্টও কখনও কখনও বিদ্রোহী ছেলের কার্যক্রম দেখলে বিরক্ত হতেন। একবার এক টুর্নামেন্টে বাজে খেলে ছেলেটা বাদ পড়ল। ক্ষোভে ফোঁস ফোঁস করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বাবা রবার্ট গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পুরো রাস্তায় ছেলে এত বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল, শেষমেশ গাড়ি থামিয়ে ঘাড় ধরে ছেলেকে বের করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বরফের চাঁইয়ের মধ্যে মাথাটা ঘষে দিলেন কিছুক্ষণ। অন্তত বরফের স্পর্শ পেয়ে যেন ছেলের ভেতরের আগুন একটু নেভে!
মা লিনেটও একদিন ছেলেকে ধরে-বেঁধে কাছে বসালেন। ভালোমন্দ দুটো কথা বলে যদি লাইনে আনা যায় আর কি! “দেখো বাবা, তুমি যখনই রেগে যাবে, এর অর্থ হলো তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে বার্তা দিচ্ছ, সে তোমাকে হারানোর জন্য যা যা করছে - ঠিক করছে। তোমার আবেগের বহিঃপ্রকাশ তাকে জয়ের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তুমি কি সেটা চাও?”, সোজাসাপ্টাই বলেছিলেন লিনেট।
এত আবেগ, এত বদরাগ - সব যে আসলে অদম্য জিগীষারই বহিঃপ্রকাশ - সেটা বুঝতে কারওর বাকি থাকার কথা না এতক্ষণে। কিন্তু ওই যে, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যে চ্যাম্পিয়নদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে যুগ যুগ ধরে। খেয়ালি ম্যারাডোনা তা না হলে মেরেকেটে দুবার লিগ জেতেন না, ছিয়াশিতে একবার বিশ্বজয় করে চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে ভক্তদের মনে অনন্ত আক্ষেপ জাগিয়ে থেমে যান না। লাগামহীন চিত্তচাঞ্চল্যর পায়ে বেড়ি পরালে হয়তো জন ম্যাকেনরোর ঘরেও সাতটার বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শোভা পায়।
বেয়ারলকার-কার্টাররা সে ভয়ই পেতেন - হয়তো ছেলেটা নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না বদরাগের কারণে। এমনিতেই সুইজারল্যান্ডের ছেলেমেয়েরা টেনিস খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবে যে দুই-একজন প্রতিভাবান শিশু-কিশোর টেনিসের জন্য এসেছে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে ঝরে পড়েছে। বেয়ারলকার চান না, এই ছেলেরও সেই নিয়তি হোক। এই ছেলে যে লাখে একটা!
জীবনের প্রথম জুনিয়র উইম্বলডন খেলতে গিয়ে শিরোপার নেশায় বিভোর ছেলেটা দুম করে হেরে বসল সেমিফাইনালে। ততদিনে এই ছেলেকে সুইসরা নিজেদের টেনিস-ভবিষ্যৎ হিসেবে ভাবা শুরু করেছে, ভাবা শুরু করেছে মার্টিনা হিঙ্গিস আর প্যাটি স্নাইডারদের যোগ্য উত্তরসূরি। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই রেডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য হাজিরা দিতে চলে যায় সেই ছেলে। উপস্থাপক মার্কো মোর্দাসিনি ব্যস্ত ছিলেন একটু, ছেলেটাকে বললেন, খানিক অপেক্ষা করতে। কাজ করতে করতেই মোর্দাসিনির কানে এলো, ছেলেটা পাশের ঘরে বসে কাঁদছে। সে কান্নায় ম্যাচ হারের যন্ত্রণা যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল এত বড় একটা সুযোগ হারানোর বেদনা। এমন সুযোগ হারানোর দোষটা তো নিজেরই। এভাবে চলতে থাকলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সেই প্রতিশ্রুতি জীবনেও পূরণ করা যাবে না!
সমাধান একটাই, বদলাতে হবে নিজেকে। মানুষ হিসেবে, প্রতিযোগী হিসেবে।
সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই তো বদলায়। ছেলেটাও শিখে যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে। এতটাই যে, একটা সময় কোর্টে ছেলেটার খেলা, চলন-বলন দেখলে ধ্যানমগ্ন ঋষি ছাড়া কিছুই মনে হতো না। জঘন্য এক শট খেলে পয়েন্ট হারালো, বা বিখ্যাত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটটা ঠিক যুতসই হলো না - চুপচাপ বেসলাইনে চলে যেত, পরের পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে।
যে আগে নিজেকেই সামলাতে পারত না, এক সময় পুরো খেলারই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল। হয়ে উঠল অদ্বিতীয় শুভেচ্ছাদূত। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এমন মানুষ খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যারা টেনিস খেলার নিয়ম-কানুন অতটা না জানলেও, ছেলেটাকে এক লহমায় চিনতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলেটার সঙ্গী হলো মুচকি একটা হাসি, যে হাসিতে মিশে নেই কোনো প্রতিহিংসা, দ্বেষ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান। টেনিসে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাপকাঠি ছেলেটা এত উঁচুতে নিয়ে গেল, যা অতিক্রম করার জন্য রাফায়েল নাদাল-নোভাক জোকোভিচদের অতিমানব হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না।
ছেলেটার নাম রজার ফেদেরার।
বলা বাহুল্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফেদেরার শিখে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেও। বাসেল ওল্ড বয়েজ ক্লাবের এক অনুশীলনে একদিন উইম্বলডন জেতার ঘোষণা দেওয়া সেই ফেদেরার অল ইংল্যান্ড ক্লাবে রাজত্ব করেছেন একবার নয়, আট-আটবার। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন বিশবার। এর চেয়ে ভালোভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কী আসলেও যেত? সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরাই তো এভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন!
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত রাতে জীবনের শেষ ম্যাচটা খেলতে নেমেছিলেন। শেষ ম্যাচে ফেদেরার জিতবেন, তাতে ভাগ্য বিধাতার সায় ছিল না হয়তো। কিংবা কে জানে, বিশ্বজয়ী অ্যাথলেটদের আখ্যানের শেষ পর্বে একটু অপ্রাপ্তির ছোঁয়া থাকবে, সেটাই হয়তো নিয়তি। যে কারণে উসাইন বোল্ট জীবনের শেষ রেসে দৌড়াতে নেমে হ্যামস্ট্রিংয়ের কাছে হেরে যান, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের হয়ে ম্যারাডোনা আর জিদানের শেষ ম্যাচটা মোড়ানো থাকে অপ্রাপ্তিতে। মোহাম্মদ আলীকেও রিং থেকে নেমে যেতে হয় অধোবদনে। রজার ফেদেরারই -বা সে ধারার ব্যতিক্রম হবেন কেন!
জ্যাক সক-ফ্রান্সিস তিয়াফোর জুটির বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচটায় জয়ের মুখ দেখা হয়নি ফেদেরারের। তবে এমন দিনে ম্যাচের ফলাফল কি আসলেই কোনো অর্থ বহন করে? বেদনার চাদরে মোড়া লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাদাল আর জোকোভিচের বাঁধনহারা কান্নাই বুঝিয়েছে, গত দেড় দশকে একজন ফেদেরার না থাকলে তাঁদের মনে জয়ের নেশাটা হয়তো এভাবে জেগে উঠত না। হয়তো অবিশ্বাস্য সাফল্যে মোড়া ক্যারিয়ারও পেতেন না দুজন।
বিশ গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি তাই রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বড় অর্জন টেনিসকে রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের মতো দুজন হার-না-মানা মানসিকতার অ্যাথলেটকে শ্রেষ্ঠত্বের ওই রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়া, তাদের আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা। টেনিসকে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সাহায্য করা।
সকল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রেষারেষি ছাপিয়ে যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তো ওখানেই!
আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস প্রকাশ করেছে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল। আগামী ২৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবে আট দলের এই মর্যাদাপূর্ণ আসর। টুর্নামেন্টটি ২৮ আগস্ট শুরু হলেও বাংলাদেশ তাদের শিরোপা জয়ের অভিযান শুরু করবে ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর।
এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘ক’-তে স্থান পেয়েছে শক্তিশালী ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও হংকং। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ ‘খ’-তে, যেখানে তাদের লড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে নিজেদের গ্রুপের বাকি তিন দলের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের খেলার সময়সূচি অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার পর ৬ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারী দল। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। বাংলাদেশের এই তিনটি ম্যাচই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হবে।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালের টিকিট পাবে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে ‘ক’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ‘খ’ গ্রুপের রানার্সআপের মোকাবিলা করবে। তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ‘খ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও ‘ক’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। সব বাধা পেরিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দল প্রস্তুতি ম্যাচে মিশ্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশ দল ২৬৩ রানে অলআউট হয়েছে। টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর হার না মানা ১০৯ রানের অসাধারণ শতকের ওপর ভর করেই সম্মানজনক সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তুলে দিন শেষ করেছে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায়। ওপেনার তানজিদ হাসান ৮ বল খেলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও আজ শূন্য রানে আউট হয়ে হতাশ করেছেন। টপ অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭ এবং সাদমান ইসলাম ৩১ রান করে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। মূলত অফ স্পিনার কোরি রকিচায়োলির ঘূর্ণিতেই নাস্তানাবুদ হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। কোরি একাই ৬টি উইকেট শিকার করে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান।
একপর্যায়ে ১৯৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম সংকটে, তখন শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদকে নিয়ে মিরাজ ৬৯ রানের অবিস্মরণীয় জুটি গড়েন। খালেদ ১৫ রান করে আউট হলেও মিরাজ ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১৪১ বলে ১০৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। মিরাজের এই লড়াকু সেঞ্চুরিই বাংলাদেশকে আড়াইশ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে। কোরি রকিচায়োলি ৮৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সফলতম বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায়। হাসান মাহমুদের বলে ১ রান করা ওপেনার স্যাম কনস্টাস বিদায় নেন। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদ ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে সরাসরি বোল্ড করলে মাত্র ১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে কুর্টিস পিটারসন ও জশ ফিলিপ প্রতিরোধ গড়ে দিন শেষ করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন, অন্যদিকে তাসকিন ২৪ রানে ১টি উইকেট শিকার করেন। আগামীকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অজি ব্যাটসম্যানদের দ্রুত ফিরিয়ে বড় লিড নেওয়াই হবে টাইগার বোলারদের মূল লক্ষ্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৬৩ (সাদমান ৩১, তানজিদ ০, মুমিনুল ১৬, নাজমুল ৩৭, মুশফিক ০, অমিত ১৫, মিরাজ ১০৯*, সৌম্য ১৬, তাইজুল ১০, হাসান ৪, খালেদ ১৫; কোরি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, থম্পসন ১/২৬)
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংস: ৫১/২ ( কনস্টাস ১, কেলাওয়ে ০, পিটারসন ২৬*, ফিলিপে ২২*; তাসকিন ১/২৪, হাসান ১/৪, ইবাদত ১১/০, খালেদ ১১/০)—প্রথম দিন শেষে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানে আরও একটি খুশির খবর দেন। তিনি জানান যে, আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদকে সরকারি ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধা পেলেও নতুনরা যুক্ত হওয়ার ফলে ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০ জনে। এশিয়ান প্যারা গেমস বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনকারী নতুন মুখদেরও পর্যায়ক্রমে এই সম্মানজনক ভাতার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আয়োজিতব্য এই জাতীয় প্রতিযোগিতার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারগুলো যেন তাঁদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের লুকিয়ে না রাখেন, কারণ সঠিক সুযোগ পেলে তাঁরাই অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারেন। এই ক্রীড়াবিদদের সক্ষমতা বাড়াতে সারা বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
রাজধানীর বাইরে সারা দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রতিভাবান প্যারা ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ নামে একটি জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন আমিনুল হক। মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে। পরিশেষে তিনি ক্রীড়াবিদদের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদক জয়ের মাধ্যমে দেশের সুনাম উজ্জ্বল করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
২০২৮ সালের যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রস্তুতি কার্যক্রম নতুন গতিতে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রি কেট বোর্ড (বিসিবি) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ এবং খুলনায় প্রাথমিক ট্রেনিং সেশন সম্পন্ন করেছে। নতুন কোচ হান্নান সরকারের অধীনে জুলাই মাসে বিকেএসপিতে ২১ দিনের ক্যাম্প শেষে এবার রাজশাহীতে পরবর্তী পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এই নতুন ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
এই ক্যাম্পে ৩০ জন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে ডাকা হয়েছে। প্রশিক্ষণের এই ধাপে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্কিল বা দক্ষতা বৃদ্ধি, ম্যাচ সিনারিও এবং বাস্তবিক ম্যাচ প্র্যাকটিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোচিং স্টাফরা ক্রিকেটারদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। মূলত আগামী বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই এই ক্যাম্পকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই বিশেষ ক্যাম্পে প্রধান কোচ হান্নান সরকারের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য থাকছেন অভিজ্ঞ পেস বোলিং কোচ ডলার মাহমুদ এবং ফিল্ডিং কোচ মোহাম্মদ সেলিম ও মুরাদ খান। বিসিবির এই সময়োচিত উদ্যোগটি তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহীর এই নিবিড় অনুশীলন পর্বটি যুবাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক প্রসারে বেসরকারি বিনিয়োগের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০ বিলিয়ন ডলারের ওই বৃহৎ পরিকল্পনাটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর ইনফান্তিনো এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ফিফার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ভুল সংঘটিত হয়েছিল এবং পুরো বিষয়টি আরও ভিন্নভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল। ফিফা কাউন্সিল এবং সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সাথে সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বেসরকারি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাবটি এখন আর বিবেচনার টেবিলে নেই।
ফিফার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন এবং নিজস্ব শাসন প্রক্রিয়া ও পরিচালনা পদ্ধতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেবেন। তবে একই সাথে ফিফা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, তাদের সততা, সুশাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের ওপর কোনো ধরনের অযাচিত আক্রমণ সহ্য করা হবে না। সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই প্রস্তাবটি মূলত ফিফার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এফএফই-এর ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
ইনফান্তিনোর এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি গত শনিবার জনরোষের মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রধান অংশীদার হওয়ার কথা ছিল জশুয়া কুশনারের মালিকানাধীন ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’। তবে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্ত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রবল আপত্তির মুখে এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টটি আলোর মুখ দেখার আগেই মুখ থুবড়ে পড়ল। ফিফা এখন তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও সতর্ক এবং অন্তর্ভুক্তি মূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। স্পিনার সাজিদ খান ও আলি উসমানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে ক্যারিবীয়দের মাত্র ১১৭ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে সফরকারীরা জয়ের জন্য ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য পায়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ তিন বছরের টেস্ট জয়ের খরা কাটালো পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজমের নেতৃত্বে টানা আটটি অ্যাওয়ে টেস্ট হারের যে ধারা চলছিল, এই সাফল্যের মাধ্যমে তারও অবসান ঘটলো।
পাকিস্তানের এই জয়ের মূল নায়ক ছিলেন ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক। প্রথম ইনিংসে তাঁর অপরাজিত ১৬০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তান ৩৮৭ রান সংগ্রহ করে এবং ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায়। ১৯৭৭ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ১৫০-এর বেশি রান করা প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড গড়েন শফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমান প্রত্যেকে ৪টি করে উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনে ধস নামান। চতুর্থ দিনের শুরুতেই উসমানের ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লে পাকিস্তানের সামনে জয়ের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায়।
স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ম্যাচ শেষে বাবর আজম জোমেল ওয়ারিকানের বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের বিজয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা শফিক তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে নতু করে ক্যারিয়ার শুরুর মতো রোমাঞ্চকর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত এক বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য ধরার ফল তিনি এই ম্যাচে পেয়েছেন।
অধিনায়ক বাবর আজম দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নই এই জয়ের মূল কারণ ছিল। প্রথম ইনিংসে শফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের বিধ্বংসী বোলিং পাকিস্তানের সিরিজ রক্ষা নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বকাপ বিরতির পর ইন্টার মিয়ামিতে ফিরে দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে লিগস কাপের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন দখল করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসির জোড়া গোলের ওপর ভর করে আতলেতিকো দে সান লুইসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে মিয়ামি। বৃহস্পতিবার ভোরে মিয়ামির নিজস্ব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ভক্তদের জন্য ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
ম্যাচ চলাকালীন দ্বিতীয়ার্ধের ২৫ মিনিটের মাথায় প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার আগেই স্কোরলাইন ৪-২ এ স্থির ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হয় মিয়ামির। প্রথমার্ধেই মেসি ও ক্যাসেমিরোর দল ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। মিয়ামির পক্ষে মেসি একাই দুই গোল করার পাশাপাশি তেলাসকো সেগোভিয়া এবং মিকায়েল দোস সান্তোস একটি করে গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
এই জোড়া গোলের সুবাদে লিগস কাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা এখন ১৪-তে দাঁড়িয়েছে, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের করা সর্বোচ্চ গোল।
ট্রান্সফার উইন্ডোর বড় এক চমক দেখিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ব্রুনো গিমারেসকে দলে ভেড়াচ্ছে ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ১,১৭৫ কোটি টাকার বিনিময়ে দুই ক্লাব এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রাক-সিজন ক্যাম্প ছেড়ে ইতোমধ্যেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গানারদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তিনি।
উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে বেশ নজরকাড়া বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান আন্তর্জাতিক। আর্সেনালে তাঁর সাপ্তাহিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বোনাসসহ সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি বিশাল অঙ্কের চুক্তি উপভোগ করবেন এই তারকা খেলোয়াড়।
শুরুতে গিমারেসের জন্য আর্সেনালের দেওয়া ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রথম প্রস্তাব এবং নিউক্যাসলের চাওয়া ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের কারণে সমঝোতা আটকে ছিল। পরবর্তীতে আর্সেনালের ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে নিউক্যাসল। তবে গিমারেস নিজে আর্সেনালে যোগ দিতে দারুণ উন্মুখ থাকায় শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হয়।
অ্যানফিল্ডের ‘ইজিপশিয়ান কিং’ মোহাম্মদ সালাহ দীর্ঘ নয় বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে লিভারপুল থেকে রাজকীয় বিদায় নিয়েছেন। এই মিশরীয় সুপারস্টার এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরে যোগ দিচ্ছেন। তুর্কি ক্লাবটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সালাহর সাথে তাদের চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারই তাঁর ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখান থেকে তিনি ট্রাবজোন শহরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
ইউরোপীয় ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দুই বছরের জন্য ট্রাবজোনস্পরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি হয়েছেন। লিভারপুলের সাথে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে তাঁকে নিজেদের দলে ভেড়াচ্ছে তুর্কি ক্লাবটি। ২০১৭ সালে রোমা থেকে লিভারপুলে আসার পর সালাহ হয়ে উঠেছিলেন অ্যানফিল্ডের প্রাণভোমরা। ৯টি মৌসুমে ৪৪২টি ম্যাচে ২৫৭টি গোল করে তিনি নিজেকে ক্লাবের কিংবদন্তিদের কাতারে শামিল করেছেন।
লিভারপুলের জার্সিতে সালাহ প্রায় সব প্রধান শিরোপাই জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড চারবার প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। লিভারপুল ছাড়ার পর সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্রের লিগ থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব থাকলেও সালাহ ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত ট্রাবজোনস্পর আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সালাহ ক্লাবটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিভারপুলের হয়ে শেষ মৌসুমটি সালাহর জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না, ফর্মের কারণে তাঁকে অনেক ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নামতে হয়েছে। তবে ক্লাব ফুটবলের এই চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সম্প্রতি তিনি জাতীয় দল মিশরের হয়ে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। সালাহর নেতৃত্বেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মিশর। এখন তুরস্কের ক্লাব ফুটবলে এই কিংবদন্তি নতুন করে কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত-অনুরাগী।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় দফায় যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফার হতাশাজনক ফলাফলের পর নতুন করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩৭৩ জন প্রার্থী কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এই বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে গত ২ এবং ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৩৩ জন প্রার্থী। খাতা মূল্যায়নের পর এই পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০৬ জনকে মনোনীত করেছে বিসিবি।
নির্বাচিত এই ১০৬ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা আজ এবং আগামীকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ভাইভা পর্ব শেষ হওয়ার পরই কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বাকি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে এবার বিসিবির নিয়োগ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শূন্যপদের চেয়ে কিছুটা বেশি সংখ্যক বা অতিরিক্ত কোচকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি প্রয়োজন বা শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয়।
বিসিবির এই দ্বিতীয় দফার নিয়োগ প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে প্রথম দফার এক চরম হতাশাজনক ফলাফল। এর আগে জেলা পর্যায়ে ৫৯টি এবং ঢাকা মহানগরের দুটিসহ মোট ৬১টি কোচ পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বিসিবি। সেই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে প্রথম দফায় মোট ২১৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গত ২৩ ও ২৪ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় দিন তাদের ব্যবহারিক বা প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্রার্থীই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২১৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৭০ জনেরও বেশি প্রার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। ফলে ৬১টি পদের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে পাস করতে পেরেছিলেন মাত্র ৩৯ জন, যা ছিল চাহিদার তুলনায় বেশ নগণ্য। পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য কোচ না পাওয়ায় শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য বাধ্য হয়েই বিসিবিকে জুলাই মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন করে দ্বিতীয় দফার এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করতে হয়েছিল।
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দলের অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার বার্নার্দো সিলভা। বিশ্বকাপ পরবর্তী দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত ক্লাবের বিখ্যাত ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবাসে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরপরই এই তারকা মিডফিল্ডার ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম অনুশীলনে মাঠে নেমে পড়েন। কেবল বার্নার্দো সিলভা একাই নন; একই সাথে নিজেদের ছুটি কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন দলের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র এবং ব্রাহিম দিয়াস।
নতুন কোচ জোসে মরিনহোর অধীনে বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির চতুর্থ সপ্তাহ চলছে। মূলত স্বদেশি কোচ জোসে মরিনহোর বিশেষ অনুরোধেই স্প্যানিশ এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে যোগ দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিলভা জানান যে, মরিনহোর মতো একজন কিংবদন্তি কোচের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা একটি ক্লাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই প্রায় অসম্ভব। ইতোমধ্যে নতুন মৌসুমে মাঠে নামার আগেই লা লিগার জন্য বার্নার্দো সিলভার অফিশিয়াল নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ।
চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ চমকপ্রদ কিছু চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই নতুন চুক্তিতে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে বার্নার্দো সিলভার পাশাপাশি ডেনজেল ডামফ্রিস এবং কার্লোস এস্পি ইতোমধ্যে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া খুব শিগগিরই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির এই ক্যাম্পে দলের সঙ্গে দেখা মিলবে ইব্রাহিমা কোনাতে এবং মার্ক কুকুরেয়ার মতো আরও দুই নতুন তারকার। সব মিলিয়ে নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে কোচ জোসে মরিনহো নিজের স্কোয়াডকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, ছুটি কাটিয়ে দলে ফেরার প্রথম দিনেই অনুশীলনে চমৎকার একটি গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ও অবস্থানের কথা নতুন করে জানান দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র। দলের আক্রমণভাগের এই অন্যতম প্রধান অস্ত্র বর্তমানে তার চুক্তির একেবারে শেষ বছরে অবস্থান করছেন। এই অবস্থায় তাকে দীর্ঘমেয়াদে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ধরে রাখতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিউস জুনিয়র এবং তার প্রতিনিধিদের মধ্যে খুব শিগগিরই নতুন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
বিদেশি কিউরেটরদের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্থানীয় পিচ কিউরেটর তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী পিচ কিউরেটরদের এই লেভেল-১ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পিচ তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের এই মহতী উদ্যোগের সার্বিক পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিসিবির বর্তমান হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে উইকেট তৈরির দর্শনে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। একসময় ঘরের মাঠে যেকোনো সিরিজের জন্য কেবল স্পিনবান্ধব উইকেট তৈরির যে চিরাচরিত প্রথা ছিল, সেই চিন্তাধারা থেকে এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এর সুফলও ইতোমধ্যে বেশ ভালোভাবে পেতে শুরু করেছে দল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করেই দারুণ সব সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। আর উইকেট তৈরির মানসিকতায় এই আমূল পরিবর্তন এবং স্পোর্টিং উইকেটের মাধ্যমে সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন বিসিবির হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং।
টনি হেমিংয়ের এই নতুন দর্শনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অভিজ্ঞ স্থানীয় কিউরেটররা। তাদের মধ্যে জাহিদ রেজা বাবু, বদিউল আলম খোকন এবং শফিউল আলম বেলালের মতো প্রবীণ ও দক্ষ কিউরেটররা অন্যতম। এই স্থানীয় মাঠকর্মী ও কিউরেটরদের আধুনিক টার্ফ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি যুগোপযোগী করে তুলতেই মূলত এই লেভেল-১ কর্মশালার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্সে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামের মতো প্রধান ভেন্যুগুলো থেকে বাছাই করা মোট ৩০ জন কিউরেটর ও মাঠকর্মী অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন।
কিউরেটরদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের বিষয়ে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের কিউরেটর এবং মাঠকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতেই প্রথমবারের মতো প্রথম ধাপের এই সনদ কোর্স বা সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। টার্ফ ব্যবস্থাপনা প্রধান টনি হেমিংয়ের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত এই কোর্সটি কেবল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের জন্য কঠোর পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে। মাজহার উদ্দিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই প্রথম ধাপের এই স্বীকৃতি বা সনদ লাভ করবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট পিচ তৈরিতে এক নতুন পেশাদারি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বোর্ড।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তারকা রবার্তো কার্লোস লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশকে নিজের 'বাড়ি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি ব্রাজিল তারকা নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ব্রাজিল প্রবাসী বাংলাদেশি রবিন মিয়ার ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় কার্লোস বাংলাদেশের প্রতি এই গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের মতো বাংলাদেশেও এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়েই তিনি বাংলাদেশকে নিজের আপন ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা এ দেশের আপামর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল আনন্দ ও গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় রবার্তো কার্লোস স্পেনে অতিবাহিত করেছেন। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ মাতিয়েছেন, যে কারণে নিজের মাতৃভূমি ব্রাজিলের পর স্পেনের প্রতি তার এক বিশেষ আবেগ ও দুর্বলতা কাজ করে। তবে রবিন মিয়ার সেই ভিডিও বার্তায় তিনি প্রথমে পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলার পর ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে বলেন, 'বাংলাদেশ ইজ মাই হাউজ, ব্রাজিল-স্পেন-বাংলাদেশ'। অর্থাৎ, নিজের জন্মভূমি ব্রাজিল এবং ক্যারিয়ারের সোনালি সময় কাটানো স্পেনের ঠিক পরপরই তিনি বাংলাদেশকে নিজের হৃদয়ের কাছাকাছি স্থান দিয়েছেন। তার এমন আবেগঘন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি উন্মাদনা তার হৃদয় ছুঁয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রতি সমর্থন ও উন্মাদনা দীর্ঘদিনের পুরোনো। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই এই দেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে যে অভাবনীয় উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তা ইতোমধ্যেই বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উন্মাদনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছিল। সে সময় ফিফাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা এবং বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি এমন নিখাদ ভালোবাসার কথা বিশ্ববাসীর সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছিল।
শুধু সাবেক কিংবদন্তিরাই নন, বর্তমান প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররাও বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা খুব ভালোভাবে জানেন এবং এর মূল্যায়ন করেন। এর আগে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের বর্তমান তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নিজ দেশের পর বাংলাদেশের সমর্থকদের এই অভাবনীয় ভালোবাসার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া সমর্থকদের বিভিন্ন উন্মাদনা ও উদযাপনের ভিডিওগুলো ব্রাজিল দলের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত দেখেন এবং উপভোগ করেন। রবার্তো কার্লোস থেকে শুরু করে ব্রুনো গুইমারেস—ব্রাজিলিয়ান তারকাদের এমন ধারাবাহিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি।