বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

আমিরাতকে হারাতে পারল বাংলাদেশ

আমিরাতে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: টুইটার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ। এ ম্যাচে তো বাংলাদেশের জেতারই কথা! কিন্তু দুবাইয়ে আজ আমিরাতের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে বেশ পরিশ্রম করতে হলো নুরুল হাসান সোহানদের। ম্যাচের বড় একটা অংশ দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে কাটানো বাংলাদেশ জয় পেয়েছে প্রতিপক্ষের অনভিজ্ঞতার সুবিধা নিয়ে।

অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজের কথা না বললেও অন্যায় হয়ে যায়। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত মিরাজই তুলনামূলক কঠিন ম্যাচে ৭ রানের জয় এনে দিয়েছেন।

ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় পাঁচ ব্যাটসম্যানের। তবু বাংলাদেশ ১৫৮ রান তুলতে পেরেছিল আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহানের দৃঢ়তায়। ৮১ রানের জুটিতে অধিনায়ক সোহানের অবদান ৩৫, সেটাও শেষ বলের ছক্কার সুবাদে। এর আগে পুরো ইনিংসই ছিল আফিফময়।

৫৫ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রান তুলেছেন আফিফ। উইকেটে নামার পর দলের ১৩২ রানের ৫৮ শতাংশ রানই তার। তবে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস না হয়ে সেটা ২ রানেই থামতে পারত যদি সাবির আলীর বলে তোলা ক্যাচটি জাওয়ার ফরিদ না ফেলতেন।

তাড়া করতে নেমে জয়ের ইচ্ছাটা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিল আমিরাত। মাত্র ১ উইকে্ট হারিয়ে ৬৬ রান তুলে ফেলে স্বাগতিক দল। অস্টম ওভারের শেষ বলে মিরাজের বলে চিরাগ সুরি আউট হতেই ছন্দপতন। মিরাজের টানা দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটসম্যান সুরি ও লাক্রা আউট হয়ে যান।

তবু জয়ের পথে ছিল আমিরাত। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৭৯ রান তোলা দলটি এরপর মিরাজের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের শিকার। সিপি রিজওয়ান ও ভৃত্য অরবিন্দ দুজনই মিরজের ডাইভিং ক্যাচের শিকার। ১৭ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। তাতে ১৪ ওভার শেষে আমিরাতের রান ৬ উইকেটে ১০০। একই পর্যায়ে বাংলাদেশের রান ছিল ৫ উইকেটে ৯২।

কিন্তু বাংলাদেশের হয়ে লড়াইটা চালিয়ে নিতে পেরেছিলেন আফিফ ও সোহান। আমিরাতের হয়ে সেটা করার মতো কোনো মূল ব্যাটসম্যান টিকে ছিলেন না। অভিষিক্ত ১৬ বছরের আয়ান আফজাল খান চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশের ফিল্ডাররাও একের পর এক ক্যাচ ফেলে সহযোগিতা করেছেন বেশ।

কিন্তু ১৭ বলে ২৫ করে থেমেছেন আয়ান। শেষ ৩ বলে ৮ রান শেষ উইকেট জুটির জন্য একটু কঠিন বটে। পরের বলেই অলআউট আমিরাত। এতেই আমিরাতের বিপক্ষে হারের লজ্জা পেতে হয়নি বাংলাদেশকে।

আটে নেমে মিরাজের সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ২৭১ রান

প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি মিরাজের। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪১
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঠিক যেন আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। দৌড়ে ১ রান সম্পূর্ণ করেই চিৎকার মেহেদী হাসান মিরাজের। উদযাপনে শূন্যে মারলেন ঘুষি। আগের দিন এমন আনন্দে ভেসেছিলেন ভারতকে নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে হারিয়ে। আজ পেয়ে গেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। সেটিও চরম নাটকীয়ভাবে, ইনিংসের শেষ বলে এসে। এমন ইনিংসের মাহাত্ম্য কতটা সেটি বোঝা গেল মাঠ ছাড়ার আগে সেজদায় লুটিয়ে পড়া মিরাজকে দেখে। ততক্ষণে মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়াম প্রকম্পিত মিরাজ! মিরাজ! মিরাজ! ধ্বনিতে।

আটে নেমে সেঞ্চুরি মিরাজের। ওয়ানডেতে এর আগে মাত্র একজনই করতে পেরেছিলেন সেটা, আয়ারল্যান্ডের সিমি সিং।

অথচ সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নেমে শুরুতে কী বিপর্যয়েই না পড়েছিল বাংলাদেশ! আগে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকরা ৬৯ রানে খুইয়ে বসে ৬ উইকেট। সেখান থেকে ফের হাল ধরেন মিরাজ। আজ সঙ্গী হিসেবে পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। সপ্তম উইকেটে দু'জনের ১৪৮ রানের জুটিতে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে আড়াই শ ছাড়ায় বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরি করা মিরাজের ৮৩ বলে ১০০ ও ফিফটি করা রিয়াদের ৯৬ বলে ৭৭ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় স্বাগতিকদের ২৭১ রানের পুঁজিকে চ্যালেঞ্জিং বলা যায়। সিরিজ হার এড়াতে ভারতের প্রয়োজন ২৭২ রান।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরপুরে আজও টস জেতেন লিটন দাস। আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দলের ওপেনিং জুটিতে আসে পরিবর্তন। লিটনের সঙ্গী এনামুল হক বিজয়। তবে আরও একবার ব্যর্থ উদ্বোধনী জুটি। মোহাম্মদ সিরাজের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টানা দুই চার মেরে ভালো কিছুর আভাস দেন বিজয়। কিন্তু ফিরেছেন একই ওভারে। চতুর্থ বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বাঁচলেও পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন ৯ বলে ১১ করে।

দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে লিটনের জুটি ২৮ রানের। সিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে লিটন ৭ করে বোল্ড হলে ভাঙে এই পার্টনারশিপ। খানিক পর শান্ত পরাস্ত হন গতির ঝড় তোলা উমরান মালিকে। ১৫১ কিমি. গতিতে তেড়ে আসা বলকে পড়তে না পেরে ফেরেন ৩৫ বলে ২১ রান করে।

ইনিংসের ১৭তম ও ১৯তম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দর তুলে নেন ৩ উইকেট। ফেরান সাকিব আল হাসান (২০ বলে ৮), মুশফিকুর রহিম (২৪ বলে ১২) ও আফিফ হোসেনকে (০)। এরপরের গল্পটা মিরাজ-রিয়াদের। ২০ ওভারে জুটি শুরু করে দলকে টেনে তোলেন দুজন।

দারুণ সব ক্রিকেটীয় শটে শুরুতে ৫৫ বলে ফিফটি করেন মিরাজ। রিয়াদ অর্ধশতকের দেখা পান ৭৪ বলে। শেষদিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ইনিংসের ৪৭তম ওভারে রিয়াদ আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ৭ চারে ৯৬ বলে ৭৭ করেন রিয়াদ। এই জুটিতে ১৬৫ বলে দু'জন করে ১৪৮ রান। এটি সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

রিয়াদ আউট হওয়ার পর শেষ ২৩ বলে বাংলাদেশ তোলে ৫৪ রান। যেখানে বাঁহাতি নাসুম আহমেদে অবদান ১১ বলে ১৮ ও মিরাজ করেন ১২ বলে ২৯ রান। ইনিংসের শেষ বলে ১ রান নিয়ে আজ পেয়ে গেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৮ চার ও ৪ ছয়ে ৮৩ বলে অপরাজিত থেকে করেন ১০০ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭১ রান।


আঙুলের চোটে হাসতাপালে রোহিত শর্মা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল বিভাগ জানিয়েছে, রোহিতের আঙুলের চোটের ধরণ বুঝতে স্ক্যান করা হয়েছে। তবে এখনো ফল পাওয়া যায়নি। ফল হাতে আসলে বোঝা যাবে তিনি চলমান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে ফিরতে পারবেন কিনা।

তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, চোটের ধরন যেমন, তাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোহিতের ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ওভারে এনামুল হক বিজয়ের ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেছিলেন রোহিত। ক্যাচটি ফসকে যায় এবং আঙুলে চোট পান ভারতীয় ওপেনার। রোহিত না থাকায় ভারতকে মাঠে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লোকেশ রাহুল।


রোনালদোর বিকল্প হিসেবে নেমেই হ্যাটট্রিক, ইতিহাস রামোসের

উড়ন্ত রামোস, দুরন্ত পর্তুগাল
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৩:০৪
নিশাত আহমেদ

এমন চিত্রনাট্য এই ধরাধামে বাস করা কারওর পক্ষে লেখা সম্ভব নয় অন্তত!

ম্যাচ শুরুর আগেই ইতিহাস গড়েছিল পর্তুগাল। জুগিয়েছিল অন্তহীন আলোচনায় খোরাক। মূল একাদশে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নেই! বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব তো দূর, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পর্তুগাল কবে সুস্থ রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে একাদশ ঘোষণা করেছে, এন্তার গবেষণার বিষয় হতে পারে। বয়সী রোনালদোর ফর্মের লুকোচুরিতে আজ সেটাই করে দেখিয়েছেন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। রোনালদো না খেললে দল ভালো খেলে - এই সত্যটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মেনে নিলেও, এই সান্তোসের পর্তুগালই এতদিন মানতে পারছিল না। আজ সেটাই হলো। মানলেন সান্তোস। রোনালদোর পরিবর্তে নামানো হল বেনফিকার ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসকে।

ফলাফল? বিশ্বকাপে নিজের প্রথম মূল একাদশে সুযোগ পাওয়ার উপলক্ষটা রাঙালেন হ্যাটট্রিক করে। তাতে পুড়ে ছারখার সুইসরা। জাতীয় দলের মূল একাদশ থেকে রোনালদোর বিদায়ঘন্টাও কি বাজিয়ে দিলেন না? পর্তুগাল জিতল ৬-১ গোলে। আজ তারাও বুঝল, রোনালদো না খেললেই দল ভালো খেলে! গোটা ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে রোনালদো যতগুলো গোল করেছেন, রামোস এক ম্যাচ খেলেই করলেন তার চেয়ে তিনটে বেশি, মেসির চেয়ে দুটি বেশি। বিশ্বকাপ নকআউটে রোনালদোর গোলসংখ্যা কতো সেটা হয়তো না বলে দিলেও চলছে।

এখন আপনিই বলুন, এমন চিত্রনাট্য ধরাধামে বাস করে এমন কারও পক্ষে লেখা আদৌ সম্ভব? রোনালদোর জুতোয় পা গলিয়ে জুতোজোড়া এমনভাবে নিজের করে নিলেন, যেন তা রোনালদোর ছিলই না কখনও - অন্তত বিশ্বকাপের মঞ্চে!

পরিসংখ্যানের কচকচানির দিকে চোখ দেওয়া যাক একটু। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন রামোস। ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের পর এত কম বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে কেউ হ্যাটট্রিক করলেন। দ্বিতীয় পর্তুগিজ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক পেলেন তিনি। আগেরজন? ইউসেবিও, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে যিনি করেছিলেন আগের হ্যাটট্রিকটা। ২০০২ সালে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার পর এই প্রথম কেউ বিশ্বকাপ অভিষেকেই হ্যাটট্রিক পেলেন। পর্তুগালের হয়ে বাকি তিনটে গোল পেপে, রাফায়েল লিয়াও আর রাফায়েল গেরেইরোর। সুইজারল্যান্ডের হয়ে অর্থহীন গোলটা এসেছে ম্যানচেস্টার সিটির সেন্টারব্যাক ম্যানুয়েল আকাঞ্জির কাছ থেকে।

এই বিশাল জয়ে পর্তুগাল অবশেষে বুঝিয়ে দিল, বিশ্বকাপের দৌড়ে আছে তারাও। এতদিন দলকে খেলানোর উপযুক্ত রসায়ন খুঁজে না পাওয়া কোচ ফের্নান্দো সান্তোস আজ হলেন চিন্তাহীন - রোনালদোকে বেঞ্চে রেখেই। কে ভেবেছিল? দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাকে বেঞ্চে বসানোর মাধ্যমেই নিদান মিলবে? উজ্জ্বল হবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন?

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। সে ম্যাচে রোনালদো মূল একাদশে থাকেন কি না, দেখা যাক!


টাইব্রেকারেও নির্বিষ স্পেন, ইতিহাস মরক্কোর

হাকিমির শট জালে জড়াতেই নিশ্চিত হলো, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠছে মরক্কো। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:২০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইতিহাস! মহাকাব্য! অবিশ্বাস্য রূপকথা!

মরক্কো এই অর্জনকে কীভাবে বর্ণনা করবে কে জানে! যেভাবেই বর্ণনা করুক, কোনোটিকেই বাড়াবাড়ি বলে মনে হবে না। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়াকে টপকে গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেই চমক দেখিয়েছে আফ্রিকান দলটি, কিন্তু চমকের সেখানেই শেষ হয়নি।

এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে আজ গোলশূন্য সমতার পর টাইব্রেকারে স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল মরক্কো! টানা দ্বিতীয়বার শেষ ষোলোতেই বিদায় স্পেনের।

টাইব্রেকারেই যে এই ম্যাচ গড়াবে, তা সম্ভবত শুরুর কয়েক মিনিট পরই বলে দেয়া যাচ্ছিল! স্পেন বল দখলে রেখে এদিক-ওদিক পাস-পাস খেলেছে, মরক্কো নিজেদের বক্সের সামনে তাঁবু গেঁড়ে প্রেসিং করেছে আর চেষ্টা করেছে পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানার।

এই করেই ৯০ মিনিট গেল, অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও। ম্যাচ টাইব্রেকারেই গড়াল! আর স্পেনের জন্য সেটি এল দুঃস্বপ্ন হয়ে। বিশ্বকাপে আগের ৭ টাইব্রেকারে পরে যারা শট নিয়েছে, তারাই জিতেছে। এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামেও আজ ধারাটা বদলায়নি।

গোলশূন্য ড্র ম্যাচে টাইব্রেকারেও বল জালে জড়াতে পারল না স্পেন। প্রথম তিন শটের তিনটিতেই ব্যর্থ স্পেন – সারাবিয়া, সোলেরের পর অধিনায়ক বুসকেতসের শটও ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলকিপার। মরক্কো প্রথম চার শটের মধ্যে শুধু তৃতীয়টিতেই ব্যর্থ। চতুর্থ শটে আশরাফ হাকিমির শট জালে জড়াতেই মরক্কান উচ্ছ্বাস!

প্রথমার্ধে বলার মতো ঘটনা বলতে স্পেনের হয়ে আসেনসিও আর মরক্কোর এগার্দের দারুণ দুটি সুযোগ হারানো। এর বাইরে স্পেন শুধু মরক্কো বক্সের আগ পর্যন্ত মাঠের এদিক থেকে ওদিক আর ওদিক থেকে এদিক পাস-পাসই খেলেছে, কিন্তু বক্সে ঢোকার সুযোগ তেমন পায়নি। মরক্কোও পাল্টা আক্রমণে উঠলেও শেষ পাসটা ঠিকঠাক দিতে পারেনি। তবে ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, মরক্কোর আক্রমণে গতি বেড়েছে। ‘লো ব্লক প্রেসিং’ ঠিক রাখলেও বল পেলে আক্রমণে লাল-সবুজ জার্সির খেলোয়াড় উঠেছে বেশি। তাতে উল্টো দিকে আকাশি জার্সিতে খেলা স্পেনের খেলোয়াড়েরাও বক্সে ঢোকার পথে জায়গা পেয়েছেন আগের চেয়ে বেশি।

শেষ ছয়-সাত মিনিটে মরক্কোর ছেদ্দিরাই দুবার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, স্পেন বক্সে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা তিন-চার স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে সামলে ঠিকমতো শটগুলো নিতে পারলে মরক্কোর জন্য দারুণ কিছুই হয়তো অপেক্ষায় থাকত। স্পেন জয় ছিনিয়ে নেয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছে যোগ করা পাঁচ মিনিট সময়ের শেষ মিনিটেই! কিন্তু জটলার মধ্য থেকে অলমোর শট ফিরিয়ে দেন মরোক্কান গোলকিপার বুনু। ফিরতি শটে রদ্রি বা নিকো উইলিয়ামস কেউ বলে পা ছোঁয়াতে পারলেই বুনুর কাজটা কঠিন হয়ে যেত।

কিন্তু হয়নি। গোলশূন্য সমতায় শেষ নির্ধারিত ৯০ মিনিট। ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আলজেরিয়ার পর (জার্মানির বিপক্ষে) এই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ নিয়ে গেছে অতিরিক্ত সময়ে। আলজেরিয়ার কাছ থেকে অবশ্য প্রেরণা নেয়ার কিছু ছিল না মরক্কোর, আট বছর আগে সে ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতেছিল জার্মানি।

অতিরিক্ত সময়ে মোরাতার পাশে ফাতিকেও নামিয়ে স্পেন চেষ্টা করেছে একটা গোল বের করার। এর মধ্যেও ১০৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েছে মরক্কো, কিন্তু স্পেনকে বেশ ভোগানো শেদ্দিরা স্পেনের রক্ষণরেখা পেরিয়ে গিয়ে যে শট নিলেন, তা ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলকিপার সিমন।

স্পেন এরপর মরক্কো বক্সের সামনে তাঁবু গেঁড়েছে, মরক্কো টাইব্রেকারে ভাগ্যলিখন বলে যেন মেনে নিয়েছে। স্পেন তবু গোল পাচ্ছে না দেখে ১১৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড়েরই বদলি নামিয়ে দেন স্পেন কোচ লুইস এনরিকে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা নিকো উইলিয়ামসের বদলে নামান সারাবিয়াকে, নিকোর চেয়ে যিনি পেনাল্টিতে দক্ষ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়েরও শেষে যোগ করা সময়ে সেই সারাবিয়াই কী দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন!

একেবারে শেষ মুহূর্ত তখন। রেফারির বাঁশি এখন বাজে তখন বাজে! মরক্কো বক্সের ডানে বল পেলেন সারাবিয়া, শটও নিলেন। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে নেয়া তার শটটা বাঁ দিকের পোস্টে লেগে চলে যায় বাইরে!

নিশ্চিত হলো, টাইব্রেকারেই ভাগ্য লেখা দুদলের। সেখানে মরক্কোর হয়ে প্রথম শটে সাবিরি গোল করলেন। কিন্তু স্পেনের প্রথম শট নিতে এসেই ব্যর্থ খেলোয়াড়ের নাম কী? সারাবিয়া!


নেইমার-ভিনিসিয়ুসের ব্রাজিল যেভাবে ফেরাল সাম্বার ছন্দ

নেইমার-ভিনিসিয়ুস ঝলকে ব্রাজিল মেতেছে সাম্বার ছন্দে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিশাত আহমেদ

‘জোগো বোনিতো’ ফেরাল ব্রাজিল। নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা আক্ষরিক অর্থেই গত রাতে বুঝিয়ে দিলেন, শুধু ফ্রান্স-স্পেন-ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনাই নয়, বিশ্বকাপ নিতে আসছে ব্রাজিলও। ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের দাদাগিরিটা একটু বেশিই। নেইমারের চোটের কারণে কিছুদিন আগেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা খানিক অবাস্তব বলে মনে হলেও, নেইমার ফিরে এসে সদম্ভে ঘোষণা করলেন - কোনোভাবে, কোনো পরিস্থিতিতেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অবাস্তব হয় না, হতে পারে না। আর সে তেজে পুড়ে ছারখার দক্ষিণ কোরিয়া।

কিন্তু কীভাবে সবার মন ভরাল ব্রাজিল? কীভাবে কাতারে আনল সাম্বার সুবাতাস? চোট থেকে ফিরেই এক সুতোয় গেঁথেছেন নেইমার। এ ব্রাজিলের খেলার ধরণে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা নজর কাড়ে।

এক - এ দলের দুই ফুলব্যাকের কেউই ওভারল্যাপ করে সামনে চলে যায় না, অধিকাংশ ফুলব্যাক যা করে থাকেন। দুই ফুলব্যাকের মধ্যে একজন দুই সেন্টারব্যাক থিয়াগো সিলভা ও মার্কিনিওসের পাশে তৃতীয় সেন্টারব্যাক হয়ে যান (এ ম্যাচে যে ভূমিকায় ছিলেন কাগজে-কলমে রাইটব্যাকের ভূমিকায় থাকা এদের মিলিতাও)। আরেক ফুলব্যাক একটু উপরে উঠে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার কাসেমিরোর পাশে মাঝমাঠে খেলেন (এ ম্যাচে যে ভূমিকায় ছিলেন লেফটব্যাকের দায়িত্বে থাকা দানিলো)। অর্থাৎ, বল দখলে থাকলে ব্রাজিলের ছকটা রক্ষণ ও মাঝমাঠে অনেকটা ৩-২ হয়ে যায়

দুই - পেছনে পাঁচজনকে রেখে বাকি পাঁচজন চলে যান সামনে। একদম বাম উইং বরাবর সাইডলাইন ঘেঁষে থাকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ডিবক্সের মধ্যে স্ট্রাইকার হিসেবে হিশার্লিসন, হিশার্লিসন আর ভিনিসিয়ুসের মাঝের ‘লেফট হাফ স্পেসে’ নেইমার, একদম ডান উইং বরাবর সাইডলাইন ঘেঁষে রাফিনিয়া, রাফিনিয়া আর হিশার্লিসনের মাঝখানের ‘রাইট হাফ স্পেসে’ লুকাস পাকেতা

মোটাদাগে বল দখলে থাকলে ব্রাজিলের মূল কৌশল এটাই। গত দুই ম্যাচে নেইমার ছিলেন না, তার জায়গায় খেলানো হয়েছিল পাকেতাকে, পাকেতার জায়গায় খেলেছিলেন ফ্রেদ বা ব্রুনো গিমারায়েস। নেইমার না থাকার অভাবটা বোঝা গেছে প্রতি ক্ষণে। নেইমার যে একটু নিচে নেমে এসে অনেকটা বাম দিকের মিডফিল্ডার হয়ে খেলেন, সে কারণে এক-দুইজন ডিফেন্ডার তাকে অনুসরণ করতে করতে নিজের ডিবক্স ছেড়ে ওপরে উঠে আসে। ওই ফাঁকা জায়গায় গতি আর ড্রিবলিংয়ের জাদু দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ বানিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। নেইমার না থাকায় গত দুই ম্যাচে এ কৌশলটা খাটাতে পারছিল না ব্রাজিল। নেইমার দলে ফিরেই ভিনিসিয়ুস যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেলেন। ব্রাজিলের বাঁ দিকটা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল। আর তাতে প্রাণশক্তি মিইয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়ার!

নেইমারের হিটম্যাপ
নেইমারের হিটম্যাপ

এ বিশ্বকাপে নেইমার আর ভিনিসিয়ুস বাঁ দিকে যে কি পরিমাণ ত্রাস ছড়াচ্ছেন, দুজনের ‘হিটম্যাপ’ অন্তত ওই কথাই বলে!

ভিনিসিয়ুসের হিটম্যাপ
ভিনিসিয়ুসের হিটম্যাপ

ব্রাজিলের মতো পরাশক্তি, যারা বল দখলে থাকলে পাঁচজনকে নিয়ে আক্রমণ করে, অমন দলের বিপক্ষে জিততে বা ড্র করতে চাইলে, নাক মুখ চেপে রক্ষণ করা ছাড়া গতি নেই। আক্রমণে উঠে যাওয়া পাঁচজনকে থামাতে রক্ষণে আরও বাড়তি এক-দুইজন খেলাতেই হবে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া তা করল কোথায়? ৪-৪-২ ছকে খেলা দক্ষিণ কোরিয়া রক্ষণে খেলোয়াড় রাখল চারজন, অর্থাৎ - ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডের চেয়ে একজন কম। অঙ্কের হিসেবে তো সেখানেই পিছিয়ে গিয়েছিল তাঁরা!

শুধু তাই নয়, অঙ্কের হিসেবে আরও একজায়গায় পিছিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ৪-৪-২ ছকে দুই ফরোয়ার্ড প্রেস করছিলেন ব্রাজিলের তিন ডিফেন্ডারকে। ওখানে একজন বেশি খেলোয়াড় থাকার সুবাদে পেছন থেকে আক্রমণ গড়তে সমস্যা হচ্ছিল না ব্রাজিলের। আর একটু ওপরে কাসেমিরো তো ছিলেনই!

দক্ষিণ কোরিয়ার ৪-৪-২ ছক
দক্ষিণ কোরিয়ার ৪-৪-২ ছক

নাক মুখ চেপে রক্ষণ না করে ব্রাজিলের সঙ্গে শুরু থেকেই সেয়ানে সেয়ানে লড়তে চেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। অমন চিন্তায় ক্ষতি নেই। কিন্তু তার জন্য নিশ্চিত করতে হবে, রক্ষণ আর আক্রমণ - দুটোই যেন সমানতালে হয়, ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা যেন জাদু দেখানোর সুযোগ না পান, আবার ডিফেন্ডাররা যেন কোরীয়দের আক্রমণের গতি সামাল না দিতে পারেন। মাঠের প্রত্যেকটি ‘জোনে’ যেন ভালোভাবে প্রেস করা হয়, ব্রাজিলিয়ানদের পায়ে বল আসার আগে যেন বল দখলে নেওয়া যায়।

প্রেসিং করা, বা নিজেদের জায়গায় স্থির থেকে রক্ষণ করা, কোনোটাই করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। উলটো দুই ফুলব্যাককে ‘ম্যান মার্ক’ করতে গিয়ে বারবার নিজের জায়গা থেকে সরে আসছিল। দানিলো যেহেতু লেফটব্যাক হয়েও মাঝমাঠে চলে আসছিলেন, তাঁর দেখাদেখি মাঝমাঠে চলে আসছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাইট মিডফিল্ডার জে-সুং লি। যে কারণে আরও সুবিধা হয়ে যায় নেইমার আর ভিনিসিয়ুসের। এমনিতেই ভিনিসিয়ুসের মতো খেলোয়াড়কে একজন দিয়ে আটকে রাখা যায় না। প্রতিপক্ষ রাইটব্যাকের পাশাপাশি রাইট মিডফিল্ডে যিনি খেলেন, তাঁকেও নেমে এসে ভিনিসিয়ুসকে ঠেকাতে হয়। আর ওদিকে যদি ভিনিসিয়ুসের পাশাপাশি নেইমারও চলে আসেন, তাহলে তো কথাই নেই। মাঠের ওই ‘জোনে’ অন্তত দুই থেকে তিনজন থাকা বাঞ্ছনীয়।

যে কাজটা সুইজারল্যান্ড করেছিল। রাইট মিডফিল্ডার জের্দান শাকিরি নিচে নেমে রক্ষণ করতে পছন্দ করেন না, ফলে ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ওখানে শাকিরিকে নামানোই হয়নি। নেমেছিলেন আনকোরা ফাবিয়ান রেইডার। কারণ একটাই, ভিনিসিয়ুসকে একা রাইটব্যাক সিলভান উইদমার আটকাতে পারবেন না। রাইট মিডফিল্ডারের সাহায্য লাগবেই। দক্ষিণ কোরিয়ার রাইট মিডফিল্ডার জে-সুং লি যদি দানিলোর পিছুপিছু মাঝমাঠেই চলে আসেন, ভিনিসিয়ুস-নেইমারকে রাইটব্যাক মুন-হুয়ান কিম একাই আটকে ফেলবেন, এটা অলীক কল্পনা ছাড়া কিছুই না।

ব্রাজিলের দুই ফুলব্যাককে ‘ম্যান মার্ক’ করা, ব্রাজিলের পাঁচ ‘ফরোয়ার্ড’কে ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়ার মাত্র চারজনকে দায়িত্ব দেওয়া যে কতটা ভুল ছিল - তা ম্যাচের ১৩ মিনিটেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ততক্ষণে ব্রাজিল কোরিয়ার জালে দুই গোল দিয়ে দিয়েছে!

এই ভয় জাগানো ব্রাজিলকে রুখবে কে?


তাসকিন নেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও

তাসকিন থাকছেন না দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

কথা ছিল আজ ফিটনেস টেস্টে পাস করলে আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলবেন তাসকিন আহমেদ। সে পরীক্ষায় উতরে গেছেন ডানহাতি পেসার। পিঠের চোট কাটিয়ে আজ দলীয় অনুশীলনে ফিরে ফুটবল খেলছেন, পুরোদমে বোলিং করেছেন নেটে। এমন দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে কাল একাদশে ফিরছেন তাসকিন।

তবে আজ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো দিলেন ভিন্ন তথ্য। সামনে টানা খেলা থাকায় ঝুঁকি এড়াতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাসকিনকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট।

ডমিঙ্গো বলেন, '৩-৪ দিন আগে তাসকিন একটা ইনজেকশন নিয়েছে। আজ ৫-৬ ওভার বল করেছে। আমি জানি না সে বিশ্রাম চায় কি না। সামনে অনেক ম্যাচ আছে, দুটি টেস্ট আছে। এদিকে অন্য বোলারদের নিয়েও কাজ করা প্রয়োজন। তাই আমার মনে হয় না তাকে নিয়ে এখন কোনো ঝুঁকি নেওয়া উচিৎ।'

তাসকিন ছাড়াও ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ইবাদত হোসেন ৪৭ রানে ৪ উইকেট নেন। স্বাভাবিকভাবেই ‘উইনিং কম্বিনেশন’ ভাঙতে চাইছে না স্বাগতিকরা।


এবার রোনালদোর উপর চটেছেন পর্তুগাল কোচ

রোনালদো
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:২২
ক্রীড়া ডেস্ক

এতদিন শোনা যেত, ক্লাবের কোচের সঙ্গে বনছে না রোনালদোর। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ রালফ রাংনিককে সহ্য করতে পারতেন না তিনি, বর্তমান কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ করে বিদায় নিয়েছেন ক্লাব থেকেই। তবে এতকিছুর মধ্যেও বছরের পর বছর ধরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মাথার ওপর ছায়া হয়ে ছিল পর্তুগাল কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের সমর্থন। ম্যাচের পর ম্যাচ অধিনায়ককে খেলিয়ে গেছেন তিনি। রোনালদোর ফর্ম যত বাজেই হোক না কেন, অধিনায়ককে বেঞ্চে বসানোর কথা মাথাতেও আনেননি।

এ নিয়া সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর। বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে ১৯৯২ সাল থেকে পর্তুগাল জাতীয় দল নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষক আন্তোনিও তাদেইয়া যেমন বলেছিলেন, 'অনেক ভক্তই আছেন যারা মনে করেন ফের্নান্দো সান্তোস আসলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হাতের পুতুল। সান্তোস সেটাই করেন যা রোনালদো চান।'

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবর মানলে সে কোচেরও বিরাগভাজন হয়েছে রোনালদো। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় আজ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে মূল একাদশে রাখা হয় কি না, প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ৬৫ মিনিটে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন ফের্নান্দো সান্তোস। ব্যাপারটা রোনালদোর পছন্দ হয়নি। মাঠেই বিরক্তি প্রকাশ করে কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এক খেলোয়াড়কে উদ্দেশ্য করে কিছু বাক্যবিনিময়ও করেন। পরে নিজেই খোলাসা করেন, ওই খেলোয়াড় অপমান করেছিলেন রোনালদোকে।

কারণ যাই হোক, রোনালদোর ওসব কাণ্ডে বিরক্ত কোচ সান্তোস। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেই বোঝা গেছে সেটা, 'আমি কী ছবিগুলো দেখেছি? হ্যাঁ। তবে ছবিগুলো আমার একদমই পছন্দ হয়নি। একদমই পছন্দ হয়নি। তবে এই বিষয় নিয়ে ওই মুহূর্তের পরই সবকিছু মিটমাট হয়ে গিয়েছে। এসব ব্যাপারগুলো বন্ধ দরজার পেছনে সমাধান করতে হয়। এই ব্যাপারটাও সমাধান হয়ে গিয়েছে। সবার মনোযোগ এখন সামনের ম্যাচে।'


স্বরূপে দেখা দেবেন রোনালদো?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যেমনটা ভাবা হয়েছিল, বিশ্বকাপ মঞ্চে তেমনই দেখা গেছে লিওনেল মেসি কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার আগে নিজেকে চিনিয়েছেন রবার্ত লেভানদফস্কি। নেইমার গতকাল রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে নেমেছেন কি না, তা এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে জানা যায়নি, তবে গতকালের আগে বিশ্বকাপে যে এক ম্যাচ খেলেছেন, তাতে ‘ভালোই খেলেছেন।’ ‌

কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো এসব তারকার সঙ্গে ঠিক যেন মেলানো যায় না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে! ‘ভালো’ তো নয়ই, ঘানার বিপক্ষে শুরুর ম্যাচের গোলে পাঁচ বিশ্বকাপেই গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়া রোনালদোকে ‘মোটামুটি’ও বলা যাচ্ছে না।

যারা পর্তুগালের খেলা দেখেছেন, রোনালদো নয়, তাদের চোখে বরং লেগে আছে ব্রুনো ফের্নান্দেসের পারফরম্যান্স। গোল না পেলেও ঘানার বিপক্ষে দুই গোল করিয়েছেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে পর্তুগিজদের জোড়া গোলের নায়ক তো তিনিই। যাকে বলে দলের প্রাণভোমরা, পর্তুগাল দলের জন্য ব্রুনো ফের্নান্দেস এখন তা-ই!

সেটি আরও বোঝা যায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ ষোলো আগেই নিশ্চিত হওয়ায় কোচ ফের্নান্দো সান্তোস খেলাননি ফের্নান্দেসকে। ফল অঘটনে ভরা বিশ্বকাপের আরেক চমক দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পর্তুগালের হার। সে ম্যাচে বিবর্ণ রোনালদোকে ঘিরে বিতর্কও আছে। ৬৪ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন পর্তুগাল কোচ সান্তোস, কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদোর আচরণ নাকি সান্তোসের ভালো লাগেনি – ইংলিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তা-ই জানাচ্ছে।

শেষ ষোলোয় আজ যখন সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি পর্তুগাল, বিতর্ক আর বিবর্ণ পারফরম্যান্স একপাশে রেখে রোনালদোর গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠাই তাদের চাওয়া।

সেটি রোনালদোও ভালো করেই জানেন। অন্য সবাইকে তো বটেই, নিজেকেও নিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়া তার অনন্ত প্রেরণার উৎস। কোরীয়দের কাছে হারের পর নিজের পারফরম্যান্সও নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করেছেন ‘সিআরসেভেন।’ নকআউটে যখন উপনীত বিশ্বকাপ, তখনই তো তার নিজেকে মেলে ধরার পালা। অন্তত এমনই আশা পর্তুগাল ক্যাম্পের।

যেটি পর্তুগালের আশা, সেটিই আশঙ্কা সুইজারল্যান্ডের। মাঠের লড়াই শুরুর আগে সে আশঙ্কার কথাই বললেন সুইস তারকা জেরদান শাচিরি, ‌‘মেসির মতো সে-ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, কাজেই তাকে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। সে ম্যাচের যেকোনো সেকেন্ড, যেকোনো মিনিটে গোল করতে পারে। তার অভিজ্ঞতা তো কম নয়! আর সবাই জানে পর্তুগালের জন্য তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

পর্তুগালে রোনালদো যা, সুইজারল্যান্ডে তো সেটা শাচিরিই। গ্রুপ পর্বে রোনালদো ‘রোনালদো’ হতে না পারলেও শাচিরিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল সুইদের, তার অনেকটাই পূরণ হয়ে গেছে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। বাঁচামরার ম্যাচে সার্বিয়াকে হারানোর পথে সুইজারল্যান্ডের প্রথম গোলটি ছিল শাচিরিরই। তবে বিনয়ী শাচিরি দলের সাফল্যে কোনো কৃতিত্ব নিতে নারাজ, ‘দলের ভালো পারফরম্যান্স মানে একটি ইউনিট হিসেবে খেলা। আমাদের দলে কোনো ক্রিস্টিয়ানো নেই, তাই সাফল্য পেতে একটি ইউনিট হিসেবেই খেলতে হবে আমাদের।’

মেসি আর রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ বলে তাদের দলের প্রতিটি ম্যাচের আগেই তো শঙ্কা আর উন্মাদনা হাত ধরে চলে, তাই তাদের দলের ম্যাচই সব ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজ দিনের অন্য ম্যাচটাতেও আকর্ষণ কম কী! ক্রোয়েশিয়া আর বেলজিয়ামের গ্রুপ থেকে সেরা দল হয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো উঠবে – এ যেমন কেউ আশা করেননি, তেমনি জার্মানির বিদায় দেখা গ্রুপে জাপানের পেছনে থেকে স্পেন দ্বিতীয় হবে, তা-ও কেউ ভাবেননি।

শেষ ম্যাচে জাপানের কাছে হেরে স্পেন ইচ্ছে করেই গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে, যাতে নকআউটে রাস্তাটা অপেক্ষাকৃত সহজ হয় – এমন অভিযোগও উঠেছে। মরক্কোর বিপক্ষে আজ স্পেনের পরীক্ষায় তাই যোগ হচ্ছে বাড়তি মাত্রা। হেরে গেলে যে হাস্যরসের শিকার হতে হবে!

সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচে অপরাজিত মরক্কো অবশ্য স্পেনকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। রেগরাগির অধীনে জিয়েশ-হাকিমিরা আছেন দারুণ ছন্দে, তাদের হাতছানি ইতিহাসেরও। সেনেগালের বিদায়ের পর আফ্রিকার পতাকা তাদেরই হাতে। আজ জিতে ১৯৯০-এর ক্যামেরুন আর ২০১০-এর ঘানার পর তৃতীয় আফ্রিকান দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগও তাদের প্রেরণা।

স্পেনের প্রেরণা? গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আর শেষ ষোলোয় বিদায়ের পর এবারও একই ভাগ্য এড়াতে লুইস এনরিকের দলের চেষ্টার নিশ্চয়ই কমতি থাকবে না!


মরুর বুকে সাম্বার ফুল ফোটাল ব্রাজিল

ব্রাজিল জিতেছে ৪-১ গোলে
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:২৮
নিশাত আহমেদ

অবিশ্বাস্য! অনবদ্য! অবর্ণনীয়!

ঠিক কোন শব্দে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সকে বিশেষায়িত করবেন আপনি? কোন বাক্যের ব্যঞ্জনায় ব্যাখ্যা করবেন থিয়াগো সিলভা আর হিশার্লিসনের ওই রসায়নকে? বা ভিনিসিয়ুসের মাপা চিপকে? ভিনিসিয়ুসের ভাসানো বলে লুকাস পাকেতার ভলির বর্ণনায় বিশ্বের যেকোনো ভাষাই হয়তো অসহায় হয়ে যাবে, মিইয়ে যাবে ঝঙ্কার তোলা শব্দের দ্যোতনা।

সাম্বা, জোগো বোনিতো, ট্যাঙ্গো, টোটাল ফুটবল, তিকিতাকা, কাতেনাচ্চিও - ব্যবহারের বাহুল্যে শব্দগুলো এখন বড্ড ক্লিশে হয়ে গেছে। ব্রাজিল কয়েকটা গোল দিলেই আশপাশে ‘সাম্বা, সাম্বা’ আর জোগো বোনিতো’র রব ওঠে। কিন্তু জোগো বোনিতো যে শুধু হালি হালি গোল দেওয়া নয়, বরং নব্বই মিনিট জুড়ে চোখ ধাঁধানো, প্রাণ জুড়ানো ছন্দময় ফুটবলের বিজ্ঞাপন, ব্রাজিলিয়ানদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য এক অনুষঙ্গ - সেটা বেমালুম ভুলে যান অনেকেই।

আজ সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যেন কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা। আর তাতে থেমে গেল বিটিএস-আর্মির সকল কোলাহল। মাঝে মাঝে ফুটবল খেলায় স্কোরলাইনটা বড্ড নিরামিষ হয়ে ওঠে, বেরসিক বুড়োর মতো আচরণ করে। ৪-১ স্কোরলাইনটা যেন সেটারই সর্বশেষ উদাহরণ। না হয় ব্রাজিল আজ যা খেলল, তাতে চারটা কি, চল্লিশটা গোল হলেও হয়তো কেউ আপত্তি করত না। আপত্তি করত না এ খেলা অনন্তকাল ধরে চললেও।

জোগো বোনিতোর মাহাত্ম্যই যে ওখানে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা নীতির মতো আরও পাওয়ার তৃষ্ণা থেকে যাবে মনের মধ্যে। মনে হবে, হুট করে শেষ হলো কেন? চলছে চলুক না! নেইমাররা আজ বিশ্ববাসীকে দেখালেন, শতভাগ সহি ও যথার্থ জোগো বোনিতো কীভাবে খেলতে হয়। আদি ও অকৃত্রিম সাম্বা কাদের পায়ে ফুল হয়ে ফোটে, কাদের ড্রিবলে পায় নিখুঁত ব্যঞ্জনা! হাসপাতালের বিছানায় শোয়া, মরণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে নিত্য লড়াই করা পেলে যা দেখে হয়তো জীবনের জয়গানে আরেকটু গলা মেলানোর প্রেরণা পাবেন, দুচোখের কোণায় মুক্তোদানা চিকচিক করে উঠবে, ঠোঁটে দেখা মিলবে গর্বিত অভিভাবকের অস্ফুট হাসির। হয়তো বলে উঠবেন, 'বাহ, ওরা তো ঠিক আমাদের মতোই খেলে!'

লাতিনরা ফুটবল খেলে উপভোগের নেশায়। ওই জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় দূত ব্রাজিলিয়ানরাই। আজ নব্বই মিনিট ধরে নেইমাররা নিজেদের উপভোগ করে গেলেন। কীসের চাপ? কীসের শঙ্কা? নেইমারের মূল একাদশে ফেরার আনন্দে ওসব সাজঘরেই রেখে আসে ব্রাজিল। স্টেডিয়াম ৯৭৪ এর মাঠটা হয়ে যায় রিও দি জানেইরোর 'ফাভেলা'-র ধারে গড়ে ওঠা কংক্রিটের একেকটা দেয়াল। যে দেয়ালের বাহারি ম্যুরালগুলো দেয় ব্রাজিলিয়ানদের রঙিন জীবনযাত্রার বিজ্ঞাপন। তবে এই ম্যুরালের শিল্পী ছিলেন ভিনিসিয়ুস, নেইমার, রাফিনিয়া, হিশার্লিসন আর পাকেতারা। ৭ থেকে ৩৬ - মেরেকেটে এই আধঘন্টায় ঝড় বয়ে গেল সন হিউং মিনদের ওপর। দেশের টানে ক্লাব-বৈরিতা ভুলে সাত মিনিটে এক সুরে গোলের গান গাইলেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস আর বার্সেলোনার রাফিনিয়া। ১৩ মিনিটে হিশার্লিসনের ক্রমাগত প্রেসিংয়ের সুফল ঘরে তুলল ব্রাজিল। পেনাল্টিতে নেইমারের গোলটা বুঝিয়ে দিল, আজ উপভোগ করতেই নেমেছে ব্রাজিল। আর ফুটবল উপভোগ করা ব্রাজিলিয়ানদের মতো এই খেলায় সেরা জাতি আর কে আছে?

২৯ মিনিটে এবার নিজেই গোলের খাতায় নাম তুললেন হিশার্লিসন। বক্সের ঠিক বাইরে থিয়াগো সিলভা আর লুকাস পাকেতার সঙ্গে মিলে যে গোলের ছবি আঁকলেন, চাইলে বাঁধাই করে ফ্রান্সের লুভর জাদুঘরে সাজিয়ে রাখা যায়। দেখে পাকেতার হিংসে হলো কি না কে জানে, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে জোট বেঁধে ৩৬ মিনিটে নিজেই হিশার্লিসনের গোলটার প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি করে ফেললেন। সামনে দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক খেলোয়াড় আছে দেখে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে মাটিঘেঁষা ক্রস না দিয়ে চিপ করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। তা মাটিতে পড়তে না দিয়ে যেভাবে ডান পায়ের আলতো স্পর্শে গোলপোস্টের এক কোণায় প্লেস করলেন, তা দেখে মনে হতেই পারে - সাদা ক্যানভাসে মাইখেল অ্যাঞ্জেলোর আলতো তুলির আঁচড় এভাবেই জীবন্ত করে তুলত যেকোনো শিল্পকর্মকে!

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আর গোল পায়নি। বলা ভালো, গোল করেনি। উলটো দক্ষিণ কোরিয়া সান্ত্বনার গোল পেয়েছে একটা। কিন্তু সে গোলের আগে ব্রাজিল যা দেখিয়েছে, তাই কি বিশ্বকাপ-প্রত্যাশী সকল দলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? 'মিশন হেক্সা' শব্দগুলো যে আস্তে আস্তে জোরালো হয়ে উঠছে!


তিন পেনাল্টি ঠেকিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিলেন লিভাকোভিচ

লিভাকোভিচকে নিয়েই তো উল্লাস করবে ক্রোয়েশিয়া। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৩:৫৩
ক্রীড়া ডেস্ক

টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ে খেলা না গড়ালে ভালো লাগে না সম্ভবত ক্রোয়েশিয়ার। ২০০৮ ইউরো দিয়ে শুরু, ২০১৬, ২০১৮, ২০২১ হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের প্রথম চারটি নকআউট ম্যাচ ৯০ মিনিটেই শেষ হয়েছে।

কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচেই অতিরিক্ত সময় হাজির। জাপানের সঙ্গে লুকা মদরিচ-ইভান পেরিসিচদের ম্যাচটাও গড়াল পেনাল্টি। নির্ধারিত সময়ে ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়া ম্যাচে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকিয়েছেন তিনটা পেনাল্টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে টাইব্রেকারে তিনটি শট ঠেকালেন লিভাকোভিচ। আগের দুজন ক্রোয়েশিয়ার সুবাসিচ (২০১৮, প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক) ও পর্তুগালের রিকার্দো (২০০৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড)।

শুধু ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল বাদ পড়েছে। এর বাইরে সর্বশেষ ৮টি নকআউটের ৭টিই গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। তবে আজকের ম্যাচে একটু ব্যতিক্রম। আগের ৭ ম্যাচেই শেষ অর্ধ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন লুকা মদরিচ। ২০২১ ইউরোতে ১১৪ মিনিটে মাঠ ছাড়লেও ততক্ষণে স্পেনের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। দোলাচালে থাকা ম্যাচে তাকে বেঞ্চে পাঠানোর সাহস দেখাতে পারেননি কেউ।

আজ ম্যাচের ৯৮ মিনিটে মদরিচকে তুলে নিয়েছেন কোচ দালিচ। শুধু মদরিচ নন, মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণে তার সঙ্গী কোভাচিচকেও তুলে নেয়া হয়েছে। একটু পর পেরিসিচকেও তুলে নিয়েছেন দালিচ। ক্রোয়েশিয়াকে উদ্ধারের দায়িত্বটা তাই পড়েছিল নতুন প্রজন্মের ওপর। লভরো মায়ের, গাভারদিওলরা পাশ করেছেন তাদের প্রথম পরীক্ষায়।

১২০ মিনিটের মধ্যে মীমাংসা না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। অথচ বিশ্বকাপের সর্বশেষ ৬ পেনাল্টি শুটআউটেই পরে শট নেয়া দল সফল।

প্রথম শটেই ব্যর্থ মিনামিনো। তার দুর্বল শট নাগালে পেয়েছেন লিভাকোভিচ। জাপানের পরের শটও ঠেকিয়ে দিয়েছেন লিভাকোভিচ। মিতোমার শটে অবশ্য একটু ঝাঁপাতে হয়েছে তাকে। প্রথম দুই শটে ক্রোয়েশিয়া গোল করলেও লিভায়ার শট পোস্টে লেগে ফিরেছে। কিন্তু জাপানের চতুর্থ শটও ঠেকিয়ে দিয়েছেন লিভাকোভিচ। ইউয়শিধার শট ডানদিকে জাঁপিয়ে আটকেছেন লিভোকোভিচ। চতুর্থ শট নিতে এসে পাসালিচ কোনো ভুল করেননি। শুটআউটে ৩-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া।

এর আগে ম্যাচ গড়িয়েছে প্রত্যাশিত ঢংয়ে। ক্রমাগত অবস্থানের পরিবর্তন ও দ্রুত তালের ফুটবলে ভয় ধরিয়েছে জাপান। ওদিকে মাঝমাথে মদরিচ-কোভাচিচ-ব্রজোভিচদের দিয়ে বলের দখল নেয়ার চেষ্টা করেছে ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধে প্রত্যাশিতভাবে দাপট তাই জাপানের। দ্বিতীয়ার্ধটা ক্রোয়েশিয়ার। স্কোরেও সে প্রমাণ।

উইং দিয়ে বল পাঠিয়ে ৪৩ মিনিটে দাইজেন মায়েদার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। ৫৫ মিনিটে পেরিসিচের সমতা ফেরানো গোল এসেছে অবশ্য আচমকা। নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা এক ক্রস করেছিলেন লভরেন। বক্সের ওপর থাকা পেরিসিচ জোড়ালো এক হেডে কীভাবে যেন জাল ঠিকই খুঁজে পেলেন।


জিকোর বীরত্বে স্বাধীনতা কাপ কিংসের

শিরোপা নিয়ে কিংসের উদযাপন। ছবি: বাফুফে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টাইব্রেকারে দু-দুটি শট আটকে দিয়েছিলেন। তাতেই দলের নায়ক হতে পারতেন আনিসুর রহমান জিকো। তাতে হয়তো নায়কত্বের শেষটা এতটা শৈল্পিক হতো না, যতটা স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে সোমবার হলো কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। দুটি শট আটকে দেয়ার পর স্পট কিক থেকে প্রতিপক্ষের জালে গোল করে তবেই শিরোপা উৎসবে মাতলেন জিকো, মাতালেন দলকে।

নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও না হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে জিকোর অসমান্য বীরত্বে ৪-১ ব্যবধানে বসুন্ধরা হারিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। স্বাধীনতা কাপের গত তিন আসরে এটি বসুন্ধরার দ্বিতীয় শিরোপা।

ম্যাচের শুরুতেই, প্রথম মিনিটে মিগুয়েল ফিগেরার গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ১২ মিনিটে সমতায় সানডে উদোর গোলে সমতায় ফেরে শেখ রাসের।

দ্বাদশ মিনিটেই সমতায় ফেরে শেখ রাসেল। সতীর্থের ক্রসে ডি-বক্সে হেডে গোলটি করেন সানডে উদো। ৩২ মিনিটে চার্লস দিদিয়ের গোলে এবার এগিয়ে যায় শেখ রাসেল। কিন্তু প্রথমার্ধে শেষের আগেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরে কিংস। স্পট কিক থেকে গোল করেন রবিনিয়ো। এরপর গোলশূন্য দ্বিতীয়ার্ধ এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের পর টাইব্রেকার। শ্যূটআউটে কিংসের প্রথম গোল করেন রবিনিয়ো।

শেখ রাসেলের প্রথম শট রুখে দেন জিকো। কিংসের দ্বিতীয় শটে দোরিয়েলতনের গোল। এরপর শেখ রাসেলের ভিনসেন্টের শট এবং গোল। কিংসের পক্ষে পরের শটে গোল করেন রেজা খান। কিন্তু শেখ রাসেলের পরের শটটি রুখে দেন জিকো। এরপর যখন গোল করলেই শিরোপা নিশ্চিত, শট নিতে আসেন জিকো। গোল করে দলকে জিতিয়ে দেন জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক।


অদম্য এমবাপ্পে, ‘মিডফিল্ডার’ গ্রিজমান - যেভাবে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

গ্রিজমান আর এমবাপ্পে - দুজনের জাদুতে কোয়ার্টারে ফ্রান্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিশাত আহমেদ

প্রায়ই কৌশলগত দিক দিয়ে দর্শকদের চমকে দিতে ভালোবাসেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ২০১৬ ইউরো আর ২০১৮ বিশ্বকাপেই যেমন, একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারকে বাম দিকের উইঙ্গার হিসেবে খেলিয়ে (২০১৬ তে টটেনহামের মুসা সিসোকো, ২০১৮ সালে পিএসজির ব্লেইজ মাতুইদি) বাজিমাত করে দিয়েছিলেন। মাতুইদি যাওয়ার পর ওই এক ভূমিকায় খেলানো শুরু করেছিলেন আরেক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওকে। নেশনস লিগে কিংসলে কোমানের মতো উইঙ্গারকে উইংব্যাক হিসেবে খেলিয়ে জিতেছেন শিরোপা। তো এবারের বিশ্বকাপই বা বাদ যাবে কেন?

নাহ, বাদ যায়নি। এবারও কৌশলগত কুশলতায় সবাইকে চমকে দিচ্ছেন ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ। দেশমের উদ্ভাবনী কৌশলের সঙ্গে অদম্য এমবাপ্পের ফর্ম - সবকিছু মিলিয়ে এ বিশ্বকাপেও উড়ছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ফলে ১৯৬২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পর প্রথমবার টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আরও রঙিন হচ্ছে ফরাসিদের। কিন্তু কী সেই কৌশল? দেখে নেওয়া যাক।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। চোটের কারণে মূল একাদশের দুই মিডফিল্ডার পল পগবা আর এনগোলো কান্তের বিদায় চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেশমের কপালে। শুধু তাই নয়, একে একে চোটের কারণে ফ্রান্স হারায় প্রেসনেল কিমপেম্বে, ক্রিস্তোফার এনকুনকু, করিম বেনজেমা, লুকাস এর্নান্দেসের মতো তারকাদেরও। গত এক বছর ধরে ৩-৪-১-২ ছক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দেশমও যে কারণে বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করার সময় জানিয়ে দেন, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, পরিচিত ৪-২-৩-১ ছকেই ফিরে যাচ্ছেন তিনি। কান্তে আর পগবার চোট হয়তো সাবধানী করে তুলেছিল অধিনায়ক হিসেবেও ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কোচকে!

পগবা ও কান্তে - কেউই নেই এবার
পগবা ও কান্তে - কেউই নেই এবার

মাঝমাঠে কান্তে-পগবা জুটি খেললে সৃষ্টিশীলতার দায়িত্ব থাকে পগবার ওপর, ওদিকে কান্তে ট্যাকল করা, বল কেড়ে নেওয়া, ক্রমাগত প্রেস করার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পগবা যেন ওই কাজটা ঠিকমতো করতে পারেন। পেছন থেকে আক্রমণভাগের সংযোগ ঘটিয়ে খেলা গড়ে দিতে পারেন। দুজন না থাকায় এই বিশ্বকাপে ওই দায়িত্ব কার কাঁধে পড়ে, প্রশ্ন ছিলই। দেখা গেল - ওই দুই জায়গায় রিয়াল মাদ্রিদের অরেলাঁ চুয়ামেনি ও জুভেন্টাসের আদ্রিয়াঁ রাবিওকে খেলানো শুরু করেছেন দেশম। চুয়ামেনির পাশে রাবিওর চলে আসার অর্থ, লেফট উইঙ্গার হিসেবে একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে দেশম যে রাবিওকে খেলাচ্ছিলেন, সেটা হচ্ছে না। সে জায়গায় চলে আসলেন এমবাপ্পে, আর দ্বিতীয় উইঙ্গার হিসেবে দলে জায়গা পেলেন ওসমান দেম্বেলে।

বল কেড়ে নেওয়া, প্রেস করা, ট্যাকল করার দিক দিয়ে চুয়ামেনি বেশ ভালো, সেক্ষেত্রে কান্তের ভূমিকায় চুয়ামেনি খেলবেন, আর রাবিওকে দেওয়া হবে পগবার সৃষ্টিশীল ভূমিকা, কাগজে-কলমে সেটাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু খেলার মাঠেই বদলে গেল সব! বলা ভালো, বদলে দিলেন আতোয়ান গ্রিজমান আর অলিভিয়ের জিরু!

২০১৮ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশাপাশি আতোয়ান গ্রিজমানও ছিলেন ফ্রান্সের গোলের অন্যতম উৎস। দুজনই গোল করেছিলেন চারটা করে। ওদিকে এ দুজনকে গোলের সুযোগ দেওয়ার জন্য গোলহীন থেকেছিলেন মূল স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরু আর লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেলা ব্লেইজ মাতুইদি। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা জিরু একটু নিচে নেমে আসতেন, বল ‘হোল্ড’ করে রাখতেন। জিরুর নিচে নেমে আসার সুবাদে ডিবক্সে তাঁর ফেলে আসা জায়গায় উঠে যেতেন এমবাপ্পে আর গ্রিজমান। আর গ্রিজমান-এমবাপ্পে উঠে যাওয়ার কারণে রক্ষণে যেন সমস্যা না হয়, সেটা মাঝমাঠে নেমে এসে নিশ্চিত করতেন মাতুইদি।

এবার জিরু আর গ্রিজমান, দুজনের ভূমিকাই বদলে গেছে। বলা বাহুল্য, পগবা-কান্তে না থাকার কারণেই। গ্রিজমান এখন যতটা না গোল করছেন, তার চেয়ে বেশি করাচ্ছেন। নিখুঁত পাসের গাঁথুনিতে মাঝমাঠ থেকে গড়ে দিচ্ছেন খেলার গতিপথ। এখনও একটা গোলও নেই গ্রিজমানের নামের পাশে, কিন্তু তাতে কি? ‘মিডফিল্ডার’ গ্রিজমান যেভাবে নেমে এসে সৃষ্টিশীলতা দেখাচ্ছেন, তাতে তাঁর ওই গোলহীনতাই শাপে বর হয়ে দেখা দিচ্ছে ফ্রান্সের জন্য।

আক্রমণে সতীর্থরা, মাঝমাঠ থেকে দেখছেন গ্রিজমান
আক্রমণে সতীর্থরা, মাঝমাঠ থেকে দেখছেন গ্রিজমান

আক্রমণভাগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে পোল্যান্ডের বিপক্ষে বেশি সফল পাস দিয়েছেন গ্রিজমান (৫৪), যেখানে এমবাপ্পে দিয়েছেন ৪১টি, জিরু ১৬টি ও দেম্বেলে ৪৩টি। বলে স্পর্শও পেয়েছেন ওই তিনজনের চেয়ে বেশি (৭০ বার - যেখানে জিরু ১৯ বার, এমবাপ্পে ৬৬ বার ও দেম্বেলে ৫১ বার)। এক জামাল মুসিয়ালা ছাড়া এই বিশ্বকাপে ফরোয়ার্ডদের মধ্যে গ্রিজমানের চেয়ে বেশি মাঝমাঠ থেকে বল পুনরুদ্ধার আর কেউ করেননি (গ্রিজমান ১৮, মুসিয়ালা ১৯)। মুসিয়ালাকে পরের ম্যাচেই গ্রিজমান ছাড়িয়ে যাবেন, তা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়!

মাঝমাঠের যেসব জায়গা থেকে বল পুনরুদ্ধার করেছেন গ্রিজমান। ছবি : অপটা
মাঝমাঠের যেসব জায়গা থেকে বল পুনরুদ্ধার করেছেন গ্রিজমান। ছবি : অপটা

গ্রিজমানের নেমে আসার কারণে শুধু এমবাপ্পেই নন, গোল পাচ্ছেন জিরুও। যে জিরু গত বিশ্বকাপে একটা গোলও পাননি, গোলহীনতার কারণে শিকার হয়েছেন অন্তহীন ‘ট্রল’-এর। সে জিরু এবার কোয়ার্টারের আগেই তিন গোল করে ফেলেছেন। ফ্রান্সের জার্সি গায়ে থিয়েরি অঁরিকে টপকে হয়ে গেছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্রিজমান নেমে আসছেন দেখে চুয়ামেনির পাশে খেলা রাবিও-ও সময়-সুযোগমতো প্রতিপক্ষের ডিবক্সে উঠে যাচ্ছেন আক্রমণ করার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাবিওর গোলটা, বা জিরুর গোলে রাবিওর সহায়তা - এভাবেই এসেছে।

মাঝমাঠ থেকে এ বিশ্বকাপে যতগুলো পাস দিয়েছেন গ্রিজমান। ছবি : টোয়েন্টি থ্রি টুলবক্স
মাঝমাঠ থেকে এ বিশ্বকাপে যতগুলো পাস দিয়েছেন গ্রিজমান। ছবি : টোয়েন্টি থ্রি টুলবক্স

পেছনে গ্রিজমান, রাবিও আর চুয়ামেনি থাকার কারণে দুই উইঙ্গার এমবাপ্পে আর দেম্বেলে খুব বেশি নিচে নেমে খেলতেও হচ্ছে না। বিশেষ করে এমবাপ্পে তো গতবারের চেয়েও বিধ্বংসী ফর্মে আছেন এবার। গোল করেছেন পাঁচটি, বাম উইংয়ে লেফটব্যাক থিও এর্নান্দেসের সঙ্গে তাঁর জুটি মুগ্ধ করছে ফুটবলভক্তদের।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে যে দলটাকে চোটজর্জর বলে অনেকেই হেলাফেলা করছিলেন, সে দলটাই কৌশলগত নৈপুণ্যে দেখিয়ে দিচ্ছে - ছেড়ে কথা কইতে আসেনি তারা। এসেছে বিশ্বকাপ ধরে রাখতেই।


বিয়ারের প্রচারে এমবাপ্পের অনীহা

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগের বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা ইউরোপিয়ান দল পরেরবার গ্রুপপর্ব থেকে বাদ পড়ে– বিগত কয়েক বিশ্বকাপের এমন পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে ফ্রান্স। সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দলটির ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের।

গ্রুপপর্বে ৩ গোলের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছেন ২ গোল। যে তিন ম্যাচে ফ্রান্স জিতেছে, সব ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। তবে পারফরম্যান্স ছাড়াও মাঠের বাইরের ঘটনায় সম্প্রতি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এমবাপ্পে।

এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার না দেয়া। অবশ্য ফ্রেঞ্চ ক্লাব পিএসজিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন কথা বলা না লাগে সেজন্যই এ পন্থা অবলম্বন করেছেন ফরাসি সুপারস্টার। তাছাড়া বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি। এক্ষেত্রে অবশ্য ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনও এমবাপ্পেকে পুরো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো আর্থিক জরিমানা দিতেও প্রস্তুত তারা।

এমবাপ্পের কাল আলোচনায় আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান স্পন্সর ‘বাডভাইজার’র প্রচার ইচ্ছাকৃতভাবে না করা। এই বিয়ার কোম্পানিটিই ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কারের ব্র্যান্ডিং করছে।

ফরাসি গণমাধ্যম লে’কিপের মতে, বিশ্বকাপে অ্যালকোহলের প্রচার এড়াতে এমবাপ্পে ইচ্ছাকৃতভাবে তার ম্যান অব দ্য ম্যাচের ছবিতে ‘বাডভাইজার’র নাম লুকিয়ে রেখেছেন। নিজের ‘ইমেজ’ ধরে রাখতেই অ্যালকোহল, জাঙ্ক ফুড ও স্পোর্টস বেটিং কোম্পানির বিজ্ঞাপন থেকে বিরত রাখছেন তিনি।

পোল্যান্ড ম্যাচের পরে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার ক্ষেত্রে এমবাপ্পের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তিনি নন বলে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘যদি আমি কথা বলতে না আসি তার কারণ আমাকে প্রতিযোগিতায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে হবে এবং অন্য কোনো কিছুতে শক্তি নষ্ট করবো না। এই টুর্নামেন্ট জেতার জন্য আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেছি।’


banner close