এ জন্যই সম্ভবত বলে, খেয়ালি প্রতিভাধরদের মাঝে মাঝে অহমে ধাক্কা দিতে হয়! না হলে তাদের আড়মোড়া ভাঙে না।
অবিশ্বাস্য প্রতিভার হেঁয়ালি অপচয়–নেইমারের ক্যারিয়ারের দীর্ঘশ্বাসকে সম্ভবত এই চার শব্দে বুঝিয়ে দেয়া যায়। কিশোর বয়সে সান্তোসে পায়ের নাচনে মুগ্ধতা ছড়ানো নেইমারের ৩০ বছর বয়স পেরিয়েও যখন একটিবারের জন্যও বালন দ’রের মঞ্চে সোনালি ট্রফিটা হাতে দাঁড়ানো হয় না, ব্রাজিলের জার্সিতে এক কনফেডারেশনস কাপের বাইরে যার অর্জন নেই, পারফরম্যান্সের চেয়ে বিতর্কেই যার ধারাবাহিক উপস্থিতি, মেসি-রোনালদোর ছায়ায় থাকতে থাকতেই যখন মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে তাকে পেরিয়ে যান এমবাপ্পে-হলান্ডরা...নেইমারকে ঘিরে দীর্ঘশ্বাস অযৌক্তিক থাকে না।
এবার গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সেই নেইমারই হঠাৎ বিস্ময়ে আবিষ্কার করলেন, তাকে বিক্রি করে দেয়ার কথা গুরুত্ব দিয়েই ভাবছে পিএসজি! তার বেতনের ভার সইবার মতো ক্লাব ধরাধামে খুব বেশি নেই, তাই তাকে চাইলেই বিক্রি করা সহজ নয়। কিন্তু তাকে বিক্রি করে দেয়ার কথা ভাবছে পিএসজি, এমনকি সেটা মাত্র ৫ কোটি ইউরো পেলেও...নেইমার এতটাও হেঁয়ালি নন যে এসব তার অহমে আঘাত করবে না।
করেছে এবং সেটির প্রতিক্রিয়া কী দারুণই না লাগছে পিএসজি আর ব্রাজিল ভক্তদের!
দলবদলের গুঞ্জনের মধ্যেও নেইমার বার বার জানিয়েছিলেন, তিনি পিএসজিতে থেকে যেতে চান। তাকে কেনার মতো ক্লাব না পাওয়ায় পিএসজির আর তাকে বিক্রি করা হয়নি। নিজেদের ভাগ্যকে এখন বুঝি নিজেদেরই হিংসে হয় পিএসজির!
মৌসুমের এখনো দুই মাসও যায়নি, এখনই কিছু বলে ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু মৌসুমের শুরুর এই নেইমারকে দেখে এটুকু অন্তত নিশ্চিত, ফুটবল পায়ে এই নেইমারের মুখে হাসি থাকলেও চোয়াল শক্ত। জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞায়। কিছু করে দেখানোর দৃঢ়তায়।
লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ গোল, ৭ অ্যাসিস্ট – এই পরিসংখ্যানের সাধ্য নেই এই মৌসুমের নেইমারকে পুরোপুরি বোঝায়। এই নেইমার অযথা দেখনদারিতে সময় নষ্ট করছেন না। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে মাঠে তার যে আচরণ সবচেয়ে বেশি সমালোচনা কুড়িয়েছে, অল্প আঘাতেই গড়াগড়ি করার সে অভ্যাস ততটা আর চোখে পড়ে না। তার ফুটবল সব সময়ই উপভোগের অনুষঙ্গ, এই নেইমারের উপভোগের মন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে গোল, অ্যাসিস্ট, সুযোগ তৈরি। এই নেইমার সিরিয়াস!
নিজের আনন্দ ছাপিয়ে দলের স্বার্থও এই নেইমারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ৩৫ পেরিয়ে আসা মেসির আর দৌড়ে মাঠ দাপানোর দম নেই, এমবাপ্পের ব্যক্তিপ্রাধান্যে গোলে নাম লেখানোই মনোযোগ পায় বেশি...কিন্তু পিএসজির তারকাখচিত আক্রমণত্রয়ীর কেউ রক্ষণেও সাহায্য না করলে কী হয়, সেটি গত মৌসুম বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। নতুন কোচ ক্রিস্তোফ গালতিয়েরের ৩-৪-১-২ ছকে মাঝমাঠ ভারী থাকে বলে মেসিদের অত নিচে নামতেও হয় না, তবু যতটুকু নামতে হয় সে দায়িত্বটা নেইমারই স্বেচ্ছায় কাঁধে নিচ্ছেন। গালতিয়েরকে বলতে বাধ্য করছেন, ‘আক্রমণে ভারসাম্য আনার কাজটা নেইমারই করে!’
গালতিয়েরের কৌশলের একটা পাতা হয়তো ব্রাজিল কোচ তিতেও ধার নিতে পারেন। গালতিয়েরের কৌশলে নেইমারের দৌড়াদৌড়ি মাঠের ‘ফাইনাল থার্ডের’ ৩০-৪০ গজেই বেশি থাকছে, তাতে গোলের পথে ছুটতে আগের চেয়ে কম খেলোয়াড়কে কাটাতে হচ্ছে নেইমারদের। পাশাপাশি ওপর-নিচ দৌড়াদৌড়ি বেশি করতে না হওয়ায় দমও থাকছে! ফল? গত শনিবার ব্রেস্তের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকের মতো দৃশ্যের দেখা মিলছে, যেখানে নেইমারকে দেখা যাচ্ছে দল মাত্র ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের পেছন পেছন ধাওয়া করতে!
পিএসজির জার্সিতে এই নেইমারকে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে কি না, সে উত্তর এপ্রিল-মে মাসের আগে দিতে যাওয়া বড় ঝুঁকির। তবে তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তো এবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে – কাতার বিশ্বকাপ! সেখানে ব্রাজিলের জার্সিতেও এই নেইমারকে দেখা যাবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এই জায়গায় আশীর্বাদ মানতে হয়, অতিউৎসাহী ব্রাজিল সমর্থকেরা নেইমারের একটি ছবি জুম করে ‘আবিষ্কার’ করেছেন – নেইমারের ফোনের ওয়ালপেপারে শোভা পাচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফি। নেইমারের নিজেকে অনুপ্রেরণা জোগানোর মন্ত্রই হয়তো!
ব্রাজিল কোচ তিতে নিশ্চিত করে দিয়েছেন, কাতারে নেইমার থাকবেন ব্রাজিলের প্লে-মেকারের ভূমিকায়। ঠিক উইং ধরে দৌড়ানো তার কাজ হবে না, সেটির জন্য ভিনিসিয়ুস-আন্তনি-রাফিনিয়ারা তো আছেনই। নেইমার থাকবেন মাঝমাঠ আর ফরোয়ার্ড লাইনের মাঝের ‘পকেটে।’
কিন্তু ডিফেন্ডারের পকেটবন্দি যে থাকছেন না, পিএসজিতে তার ফর্ম সম্ভবত সেটির নিশ্চয়তা দিয়েই দেয়!
ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। ২০২৫–২৬ মৌসুমের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দল দুটিকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের নিওনে আজ এই ড্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
টানা পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি মৌসুমেই বিভিন্ন ধাপে দল দুটি লড়াই করেছে। রিয়াল-সিটি লড়াই ছাড়াও এবারের ড্রতে আরও কয়েকটি বড় ম্যাচ নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিএসজি ও চেলসি পরস্পরকে মোকাবিলা করবে।
এবারের ড্র অনুযায়ী ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের পথটি কিছুটা সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। তারা লেভারকুসেনকে হারাতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে স্পোর্তিং বা বোডো/গ্লিমটের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে বার্সেলোনার শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে নিউক্যাসল।
প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপগুলোর সমীকরণও বেশ আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়াল ও সিটির মধ্যকার জয়ী দলকে সেমিফাইনালের পথে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা আতালান্তার বাধা পার করতে হতে পারে। একইভাবে পিএসজি বা চেলসির মধ্যে যারা জয়ী হবে, তাদের মোকাবিলা করতে হতে পারে লিভারপুল কিংবা গালাতাসারাইয়ের সাথে।
ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নেওয়া কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচগুলো আগামী ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণী দ্বিতীয় লেগের ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে ১৭ ও ১৮ মার্চ।
স্প্যানিশ লিগ ছেড়েছেন অনেক আগেই, কিন্তু স্পেনের ফুটবলে তাঁর উপস্থিতি থাকছেই। এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, মালিক হিসেবে। দ্বিতীয় বিভাগের দল আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই পর্তুগিজ তারকা। নিজস্ব বিনিয়োগ কোম্পানির মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি ৪১ বছরে পা দিয়েছেন রোনালদো। আগেই জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলে একটি ক্লাবের মালিক হতে চান। বুট তুলে রাখার আগেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন তিনি। বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, মাঠের বাইরেও ফুটবলে অবদান রাখার ইচ্ছা তাঁর অনেক দিনের। আলমেরিয়াকে তিনি শক্ত ভিত্তিসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় ক্লাব হিসেবে দেখছেন। নতুন বিকাশপর্বে ক্লাবকে সহায়তা করতে চান বলেও জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে একটি সৌদি বিনিয়োগ গোষ্ঠী আলমেরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়। নতুন অংশীদার হিসেবে রোনালদোকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ আল খেরেইজি। তিনি বলেন, মাঠে যেমন রোনালদো সেরাদের একজন, তেমনি স্প্যানিশ ফুটবল কাঠামো সম্পর্কেও তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। ক্লাব ও যুব একাডেমিকে ঘিরে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, রোনালদো সেটির সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে লা-লিগা থেকে অবনমিত হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যায় আলমেরিয়া। তবে চলতি মৌসুমে দলটি ছন্দে আছে। ২৭ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে থেকে আবার শীর্ষ লিগে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) শুরুর দিকে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও প্রীতি ম্যাচ তথা ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্যুর’-এ জয়ের ধারায় ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। ইনদেলপেনদিয়েন্তে দেল ভ্যালের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের এক ঘাম ঝরানো জয় পেয়েছে ফ্লোরিডার এই ক্লাবটি। পুয়ের্তো রিকোর এস্তাদিও হুয়ান রামোন লোউব্রিয়েলে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটেছে লিওনেল মেসিদের মুখে।
ম্যাচ শুরুর ১৬তম মিনিটেই সান্তিয়াগো মোরালেসের চমৎকার ফিনিশিংয়ে লিড নেয় মায়ামি। তবে সেই স্বস্তি খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গোল হজমের ঠিক পরের মিনিটেই ইনদেলপেনদিয়েন্তের পক্ষে গোল করে প্যাট্রিক মার্কাডো ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
খেলার প্রথমার্ধে সাইড বেঞ্চে বসে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে প্রবেশ করেন ইন্টার মায়ামির প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। তাঁর উপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগে নতুন গতির সঞ্চার হয়। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে পুনরায় এগিয়ে দেন এই ফুটবল মহাতারকা। চলতি নতুন মৌসুমে এটিই মেসির প্রথম গোল হিসেবে নথিবদ্ধ হলো। তাঁর এই জয়সূচক গোলের সুবাদেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পরাজয় সত্ত্বেও জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজার জন্য ম্যাচটি ব্যক্তিগত অর্জনের এক বিশেষ স্মারক হয়ে থাকবে। বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বিরল এক ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সুপার এইটের এই ম্যাচে এমন অভাবনীয় কৃতিত্ব অর্জন করেন এই অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩ হাজার রান এবং ১০০ উইকেটের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাজা। ভারতের দেওয়া ২৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১৪তম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে চার মেরে তিনি এই অভিজাত তালিকায় প্রবেশ করেন। আর্শদীপ সিংয়ের বলে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ২১ বলে ৩১ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি চার ও সমান সংখ্যক ছক্কার মার। ১৩২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের ঝুলিতে এখন ১০৪টি উইকেট এবং ৩০১৬টি রান জমা হয়েছে।
সিকান্দার রাজার আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান ও উইকেটের এই জোড়া মাইলফলক ছিল কেবল মালয়েশিয়ার ক্রিকেটার বীরানদীপ সিংয়ের। ১১১টি ম্যাচ খেলে ২৬ বছর বয়সী বীরানদীপ ৩১৮০ রান এবং ১০৯টি উইকেট নিজের নামে করেছেন। ডাবল অর্জনের পাশাপাশি এই ম্যাচে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন রাজা। জিম্বাবুয়ের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩ হাজার রানের গণ্ডি অতিক্রম করেছেন। সব মিলিয়ে এই ফরম্যাটে বিশ্বের ১৪তম ব্যাটার হিসেবে ৩ হাজার বা তার বেশি রান করার তালিকায় নাম ওঠালেন তিনি বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
ব্রাজিলীয় ক্লাব ফুটবলে ভাস্কো দা গামাকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে সান্তোস। ২-১ ব্যবধানে জেতা এই ম্যাচে নেইমারের একক নৈপুণ্য ছিল নজরকাড়া। ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লড়াইটি অনুষ্ঠিত হয়।
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেকে ফিরে পেতে লড়াই করছিলেন নেইমার। সিরি’আতে ফিরেই জোড়া গোল করার মাধ্যমে নিজের চিরাচরিত ছন্দে ফেরার জানান দিলেন এই ফরোয়ার্ড। খেলার ২৪তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত এক শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে সান্তোসকে লিড এনে দেন তিনি।
গোলের পর ভাস্কো সমর্থকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে চুপ থাকার সংকেত দেন এই ব্রাজিলীয় তারকা। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঢঙে নেচে গোলটি উদযাপন করেন নেইমার। মাঠের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় থিয়াগো মেন্দেসের সঙ্গে নেইমারের পুরোনো দ্বৈরথের কারণে।
২০২০ সালের এক তিক্ত স্মৃতি নিয়ে প্রথমার্ধেই মেন্দেসের সাথে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায় নেইমারকে। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে বারোসের গোলে সমতায় ফেরে ভাস্কো দা গামা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারো দৃশ্যপটে আসেন নেইমার। উইলিয়ান আরঁর চমৎকার একটি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক লিও জারডিমের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
এই পরাজয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই পড়ে থাকল ভাস্কো দা গামা, যারা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের মুখ দেখেনি। অন্যদিকে, টানা হারের বৃত্ত ভেঙে এই জয়ে টেবিলের ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে সান্তোস।
মৌলভীবাজারের রাজনগরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক তারেক রহমান (২২) নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ঘরগাঁও এলাকায়। নিহত তারেক ওই গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত আতিক, তারেকের সমবয়সি ও একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘরগাঁও গ্রামের একটি মাঠে স্থানীয় যুবকরা ক্রিকেট খেলছিলেন। খেলার সময় জোরে বল করার কারণে তারেক ও আতিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে আতিক তারেককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
পরিস্থিতি গুরুতর দেখে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকরা জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব চলাকালীন আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে অলরাউন্ডারদের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছেন। অন্যদিকে, ব্যাটার ও বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের দুই তারকা অভিষেক শর্মা ও বরুন চক্রবর্তী। বিশ্বকাপের লড়াই যত জমে উঠছে, র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জিম্বাবুয়েকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সুপার এইটে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন সিকান্দার রাজা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিনি পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে টপকে আবারও বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার হয়েছেন। বর্তমানে ২৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে রাজা শীর্ষে রয়েছেন, যেখানে সাইম ২৮১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছেন। এছাড়া অলরাউন্ডারদের তালিকায় ভারতের শিবম দুবে এবং আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীও নিজেদের অবস্থানের উন্নতি ঘটিয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।
ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ভারতের অভিষেক শর্মা তাঁর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে, যদিও চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাটে বড় কোনো রান নেই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান এখন ৬১ পয়েন্টের। পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান টুর্নামেন্টের অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা ডেভাল্ড ব্রেভিস এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বড় ধরনের উন্নতি করে র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ব্রুক ১৮তম অবস্থানে উঠে এসেছেন।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে বরুন চক্রবর্তী শীর্ষস্থানে থাকলেও বেশ কয়েকজন বোলার অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ এগিয়ে এক লাফে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, যা টুর্নামেন্টে তাঁর বোলিং প্রভাবের প্রমাণ দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাথু ফোর্ড এবং ভারতের যশপ্রীত বুমরা যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম স্থানে জায়গা পেয়েছেন। স্পিন বিভাগে গুড়াকেশ মোতিও বড় ধরনের উন্নতি করে শীর্ষ বিশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটের ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় ব্যাপক ওলটপালট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশী তরুণ ফুটবলার কিউবা মিচেল আবারও ইংল্যান্ডের চিরচেনা ফুটবল আঙিনায় ফিরে গেছেন। গত বছর বড় আশা নিয়ে তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে দেশের শীর্ষ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিলেও, শেষ পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে মাত্র ৬ মাসের মাথায় ক্লাব ছাড়েন এই ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। গত ৩ জানুয়ারি পারস্পরিক সমঝোতায় বসুন্ধরার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং সম্প্রতি দেশটির সপ্তম স্তরের দল গ্লুস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
সান্ডারল্যান্ড ও বার্মিংহাম সিটির মতো নামী ক্লাবের বয়সভিত্তিক একাডেমি থেকে উঠে আসা কিউবা মিচেল তাঁর এই নতুন পদক্ষেপকে ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। গ্লুস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং দলের সাফল্যে সর্বোচ্চ অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে গ্লুস্টার সিটি দক্ষিণ প্রিমিয়ার বিভাগের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এবং পরবর্তী স্তরে উন্নীত হওয়ার দৌড়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কিউবা আশা করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা দিয়ে মৌসুমের বাকি সময়ে ক্লাবের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
বাংলাদেশে কাটানো সংক্ষিপ্ত সময়টি কিউবা মিচেলের ক্যারিয়ারে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানে খেলেই তিনি প্রথমবারের মতো কোনো দেশের প্রথম সারির লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং জাতীয় দলে অভিষেকের সুযোগ পান। গত নভেম্বরে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হয়। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়েও তিনি মাঠে ছিলেন, যা ছিল দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। কিউবা জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করেছে, যা ইংল্যান্ডের ফুটবলে তাঁকে আরও ভালো করতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আবারও বিলেতের মাঠে নিজের মেধা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত আসরের শিরোপাজয়ী পিএসজি এবার বেশ ঘাম ঝরিয়েই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল। প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে আরেক ফরাসি ক্লাব মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করলেও, প্রথম লেগের ৩-২ ব্যবধানের জয়টি লুইস এনরিকের দলকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দিয়েছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে প্যারিসিয়ানরা। তবে পিএসজির এই অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে মোনাকো মিডফিল্ডার মামাদু কুলিবালির দেখা লাল কার্ড, যা পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সারা ম্যাচজুড়ে পিএসজির আধিপত্য থাকলেও মাঠের লড়াই ছিল সমানে সমান। প্যারিসের দলটির দখলে ৬৮ শতাংশ বল থাকলেও প্রথমার্ধে মাঘনেশ অ্যাকলিউশের গোলে লিড নিয়ে এনরিকের শিষ্যদের চাপে ফেলে দিয়েছিল মোনাকো। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কাভারৎস্খেলিয়াকে ফাউল করে কুলিবালি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মোনাকো। এর আগপর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মোনাকোর হাতেই ছিল। তবে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার সুযোগ নিতে দেরি করেনি পিএসজি। লাল কার্ডের ঠিক পরের মিনিটেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। এর ৬ মিনিট পর খিচা কাভারৎস্খেলিয়া গোল করে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে মোনাকোর জর্ডান তেজে গোল করে ম্যাচ ড্র করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
মোনাকোর কোচ সেভাস্তিয়েন পোকোগনলি ম্যাচ শেষে তাঁর ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তাঁর মতে, কুলিবালির লাল কার্ডই ছিল ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট। তিনি দাবি করেন, মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো ছিল একটি কঠোর এবং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। যদিও ১০ জন নিয়ে পিএসজির মতো দলের বিপক্ষে ড্র করতে পারায় তিনি খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, তারকাবহুল পিএসজির দুর্বলতাগুলো তাঁরা ঠিকই খুঁজে বের করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না।
অন্যদিকে, পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে স্বীকার করেছেন যে ম্যাচটি তাঁদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রথমার্ধে মোনাকোর দাপটের সামনে তাঁর দল কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। তবে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতায় তিনি সন্তুষ্ট। গত মৌসুমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতা পিএসজি এবার প্লে-অফ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে সক্ষম হলো। এখন নকআউট পর্বে নিজেদের পুরনো দাপট ফিরিয়ে আনাই হবে এনরিকের মূল লক্ষ্য।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় লেগে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নকআউট পর্বের টিকিট কাটল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এর আগে প্রথম লেগে বেনফিকার মাঠে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা। ঘরের মাঠে ড্র করলেই চলত রিয়ালের, কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয় দিয়েই পরের রাউন্ডে পা রাখল তারা।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বুধবার রাতের এই ম্যাচে বল দখল এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই আধিপত্য বজায় রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ১৬টি শট নেয় তারা। অন্যদিকে বেনফিকা ৩৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে রিয়ালের গোলবার লক্ষ্য করে ১২টি আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। যদিও ম্যাচের প্রথম গোলটি হজম করতে হয়েছিল স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদকেই। ১৪তম মিনিটে রুই সিলভার গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বার্নাব্যু গ্যালারি, ১-০ তে এগিয়ে যায় বেনফিকা।
তবে ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেয়নি লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। মাত্র দুই মিনিট পরেই ১৬তম মিনিটে উরুগুইয়ান তারকা ফেডরিকো ভালভার্দের বাড়ানো পাসে নিখুঁত এক শটে চুয়োমেনি বল জালে জড়ালে সমতায় ফেরে রিয়াল। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুদল। দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের নেশায় মরিয়া হয়ে খেলতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। যদিও ফিনিশিংয়ের অভাবে বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল, তবে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ত্রাতা হয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি করেন ফেডরিকো ভালভার্দে। তাঁর বাড়ানো বল থেকে সহজ এক ফিনিশিংয়ে বেনফিকার জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস। ফলে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় রিয়াল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আরবেলোয়ার দল। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা আরও একবার প্রমাণ করল কেন তাদের এই টুর্নামেন্টের রাজা বলা হয়। বেনফিকার বিদায়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের সমীকরণ এখন আরও জমে উঠেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা। কলম্বোর মাঠে লঙ্কানদের জন্য ম্যাচটি ছিল টিকে থাকার লড়াই, কিন্তু মিচেল স্যান্টনারের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং রাচিন রবীন্দ্রর স্পিন জাদুতে ৬১ রানের বিশাল জয় পায় নিউজিল্যান্ড। এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কিউইরা, যা তাদের সেমিফাইনালের পথে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হেরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই থেমে গেল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। কিউই ওপেনার ফিল অ্যালেন ২৩ রান করে ঝোড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও মাঝপথে শ্রীলঙ্কার বোলাররা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ১২তম থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৫ রান তুলতে সক্ষম হয়, ফলে এক সময় তাদের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে। তবে শেষ দিকে চিত্র বদলে দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। এই দুই ব্যাটার মাত্র চার ওভারে ৮৪ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়েন। স্যান্টনার মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন, আর ম্যাককঞ্চি অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পেসার ম্যাট হেনরির তোপে দলীয় শূন্য রানেই বিদায় নেন পাথুম নিশাঙ্কা। পাওয়ার প্লের চাপ সামলে ওঠার আগেই কিউই স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। রাচিন একে একে কুশল মেন্ডিস ও অধিনায়ক দাসুন শানাকাসহ চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা শেষ করে দেন। কামিন্দু মেন্ডিসের ৩১ এবং দুনিথ ভেল্লালাগের ২৯ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা।
বল হাতে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করা রাচিন রবীন্দ্র একাই নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া ম্যাট হেনরি পান ২ উইকেট। এই জয়ের পর সুপার এইটের এই গ্রুপে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান তিনে থাকলেও তলানিতে থাকা শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিউইদের এই দাপুটে পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তাদের শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে দুই ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দেশ। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের অংশ হিসেবে এই সিরিজটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূচি অনুযায়ী, সিরিজের প্রথম টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে। এরপর ২২ থেকে ২৬ আগস্ট কুইন্সল্যান্ডের ম্যাককেতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি আয়োজিত হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩ সালে টাইগাররা প্রথমবারের মতো দেশটিতে টেস্ট সফরে গিয়েছিল। যদিও ২০২০ সালে এই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। দুই দেশ সর্বশেষ ২০১৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। এবার ডারউইন ও ম্যাককেতে লাল বলের ক্রিকেট ফিরছে দীর্ঘ বিরতির পর। বিশেষ করে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ২০০৪ সালের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে এই ভেন্যুটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেছিল।
ডারউইন ও ম্যাককে উভয় ভেন্যুই গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সাদা বলের 'টপ এন্ড' সিরিজের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও সেই চেনা প্রাঙ্গণে টেস্টের আমেজ ফিরছে। বাংলাদেশ সিরিজ শেষ করেই অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে তিনটি টেস্ট খেলতে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে অজিরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের হাই-ভোল্টেজ টেস্ট সিরিজ খেলবে। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের মার্চে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট ম্যাচ আয়োজনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই সফরটি অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত ক্রিকেট মৌসুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে।
নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সোরলোথের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে ৩-৩ গোলে ড্র করায়, দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে (অ্যাগ্রিগেট) এই জয় তুলে নেয় তারা। পুরো ম্যাচে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কার্যকর আক্রমণ দিয়ে ঠিকই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল স্বাগতিকরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য অ্যাতলেটিকোকে বেশ কঠিন পরীক্ষাতেই ফেলেছিল ক্লাব ব্রুগ। ৪৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় অ্যাতলেটিকো। অন্যদিকে, বল দখলে এগিয়ে থাকা ব্রুগ ৭টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখে। ম্যাচের ২৩ মিনিটেই সোরলোথের গোলে লিড পেয়ে যায় মাদ্রিদের দলটি। ব্রুগের গোলরক্ষক সিমোন মিগনোলেতের গায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৬ মিনিটে সেট পিস থেকে সতীর্থের পাস পাওয়া বলে হেড করে ক্লাব ব্রুগকে সমতায় ফেরান একুয়েডরের ডিফেন্ডার হোয়েল ওরদোনিয়েস। ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অ্যাতলেটিকো। ৪৬ মিনিটে সফরকারী ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে দলকে ফের এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড জনি কারদোসো। এরপরের গল্পটা শুধুই সোরলোথের। ৭৬ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। আর ৮৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি দলের ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ান দলটিকে আর কোনো সুযোগই দেয়নি স্বাগতিকরা। দাপুটে এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পা রাখল সিমিওনের শিষ্যরা।