ক্রিকেট
রূপগঞ্জ টাইগার্স - ব্রাদার্স
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স - শাইনপুকুর
মোহামেডান - ঢাকা লেপার্ডস
সকাল ৯টা, ইউটিউব/ @bcbtigercricket
আইপিএল
বেঙ্গালুরু - চেন্নাই
রাত ৮টা, গাজী টিভি, টি স্পোর্টস
ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
লিডস ইউনাইটেড - লিভারপুল
রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২, র্যাবিটহোল
লা লিগা
সেল্টা ভিগো - মায়োর্কা
রাত ১টা, স্পোর্টস ১৮ এইচডি, র্যাবিটহোল
সিরি আ
ফিওরেন্তিনা - আতালান্তা
রাত ১২টা ৪৫মি., স্পোর্টস ১৮, র্যাবিটহোল
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গত সোমবার (১১ মে) ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ২–১ সেটে পরাজিত করে ছাত্র বিভাগে শিরোপা জিতে নেয় চবি দল।
এর আগে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের চার কৃতি ক্রীড়াবিদ—আব্দুর রহিম রাকিব, মুশফিক অভি, আল মাশরাফি হাসান ও তাযবি উল হাসান অয়ন—দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ সাফল্য বয়ে আনেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শাওন বলেন, ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’
তিনি জানান, এ টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের।
ভবিষ্যতেও খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এ অর্জনে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারীদের ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়ের নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল টাইগাররা।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৬৮ রান। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ; ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি শুভসূচনা করেন। দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। লড়াকু ৬৬ রান করা ফজলকে তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে এই জুটি ভেঙে যায়। এরপরই শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব। তিনি নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
বল হাতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’। নাহিদ রানার তোপ সামলাতে না পেরে পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটাররা দ্রুতই আত্মসমর্পণ করেন। রানাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম; তারা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে সফরকারীদের রানের লাগাম টেনে ধরেন। অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
মিরপুর টেস্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল লক্ষ্যণীয়। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর ৮৭ এবং মুমিনুলের ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান, যা তাড়া করতে নেমে নাহিদ রানার গতির কাছে হার মানে পাকিস্তান।
এই জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশকে দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যে সময়ে ১১টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর মিরপুরে এই জয়টি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয়। আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।
আজই শেষ হচ্ছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ফিফার কাছে হস্তান্তরের সময়সীমা। শেষ সময়ে এসে আর্জেন্টিনার প্রথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রাথমিক স্কোয়াড হওয়ায় লম্বা তালিকা করেছেন স্কালোনি। ৫৫ জনের এই প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত দল হবে ২৬ জনের।
আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রিভার প্লেটের তরুণ এই গোলরক্ষক। এ ছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো ও হেতাফের জাইদ রোমেরোও জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরির মত ফুটবলাররা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)
ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)
মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এক্সেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রাসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)।
আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় শুরু হতে যাওয়া সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আজ সোমবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে থাই ক্লাব কাসেম বুন্ডিতকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে নামবে বাংলাদেশ, আর সেই লক্ষ্যেই থাইল্যান্ডে এই বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল লক্ষ্য করার মতো। খেলার দুই অর্ধে একটি করে গোল করে জয় নিশ্চিত করে সাবিনা-তহুরারা। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে লিড এনে দেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রাখে বাংলাদেশ। খেলার ৭৭ মিনিটে উমহেলা মারমা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে সহজ জয় নিশ্চিত হয়। উল্লেখ্য, কাসেম বুন্ডিত থাইল্যান্ডের প্রথম স্তরের লিগের চতুর্থ স্থানে থাকা শক্তিশালী দল এবং গত মাসে এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা থাই জাতীয় দলের চারজন ফুটবলার এই ক্লাবটিতে খেলছেন।
যেহেতু এটি একটি প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল, তাই কোচ পিটার বাটলার দলের প্রায় সকল খেলোয়াড়কেই মাঠে নামিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থা দেখে নিয়েছেন। খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং কৌশলগত দক্ষতা যাচাই করতেই মূলত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সবাইকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। থাইল্যান্ডে ১৫ দিনের এই ক্যাম্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দল আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। আগামী ১৭ মে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় বিভাগের দল ব্যাংকক স্পোর্টস স্কুল ক্লাব। এরপর ২১ মে ব্যাংকক থেকে সরাসরি ভারতের গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে বাংলাদেশ দল।
আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ খেলছে ‘বি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে রয়েছে স্বাগতিক ভারত ও মালদ্বীপ। আগামী ২৯ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৩১ মে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। থাইল্যান্ডের এই জয় ও নিবিড় প্রস্তুতি সাফের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের জন্য সম্ভাব্য দল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মিরপুর টেস্টের উত্তেজনাপূর্ণ পঞ্চম দিনের লড়াই চলার মধ্যেই খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, আগামী ১৬ মে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টেও বাংলাদেশ দল কোনো পরিবর্তন আনছে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডটিই দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য বহাল থাকছে। খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা বজায় রাখতেই নির্বাচকরা বড় কোনো রদবদল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সিরিজে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া হলেও প্রথম টেস্টে তাদের অভিষেকের সুযোগ হয়নি। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করা অমিত হাসান প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েও একাদশে জায়গা পাননি। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, স্কোয়াডের গভীরতা বজায় রাখতে এবং তরুণদের জাতীয় দলের আবহে অভ্যস্ত করতে দ্বিতীয় টেস্টেও একই স্কোয়াডকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে নতুনদের অভিষেকের জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও টপ অর্ডার এবং বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স বিসিবিকে আশাবাদী করেছে। ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলাম এবং মাহমুদুল হাসান জয় আশানুরূপ রান করতে না পারলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অভিজ্ঞ মুমিনুল হক সৌরভের ব্যাটিং ফর্ম দলের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামদের কার্যকর ভূমিকা টিম ম্যানেজমেন্টকে স্কোয়াডে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে দেয়নি। ধারাবাহিকতা রক্ষার তাগিদেই মূলত একই দল নিয়ে সিলেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় টেস্টের জন্য সম্ভাব্য এই ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক হিসেবে যথারীতি থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্কোয়াডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এবং নতুন মুখ তানজিদ ও অমিত হাসান। পেস ইউনিটে অভিজ্ঞ তাসকিন-শরিফুলের পাশাপাশি নাহিদ রানার গতির ওপর আস্থা রাখছে বোর্ড।
মিরপুর টেস্টের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ইতোমধ্যে ২১৯ রান সংগ্রহ করেছে ৬ উইকেট হারিয়ে, ফলে সফরকারীদের সামনে লিড দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রানে। এই ম্যাচের ফলাফল সিরিজের ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলবে এবং ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি হবে সিরিজ নির্ধারণী লড়াই। বিসিবি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অপরিবর্তিত স্কোয়াডটির ঘোষণা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে। নির্মল ও সুন্দর পরিবেশে সিরিজটি শেষ করাই এখন বিসিবির মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীকে ছাড়াই আসন্ন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ আয়োজিত হতে যাচ্ছে। সাধারণত প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তবে এবার সেই সুযোগটি লুফে নিয়েছে ফর্টিজ এফসি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি তাদের শর্তাবলী পর্যালোচনা করে ফর্টিজ এফসি ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে লাইসেন্সের অনুমোদন দিয়েছে। গত সোমবার এই দুই ক্লাবই ফেডারেশন থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছে। বাফুফেতে মোট ৬টি দল লাইসেন্সিংয়ের জন্য আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে কেবল এই দুটি ক্লাব।
দেশের ফুটবলের অন্যতম সফল দল ঢাকা আবাহনী ও টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে। বিদেশি ফুটবলারদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা আবাহনীর কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাশ রুপু জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন এবং আসন্ন ঘরোয়া লিগে দলবদলে অংশগ্রহণের আশা রাখছেন। অন্যদিকে, বসুন্ধরা কিংসের পরিস্থিতিও বেশ জটিল। তারা ক্লাব লাইসেন্সিং সম্পন্ন করতে না পারায় এবং ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকায় আগামী মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলেও তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের জন্য একটি স্লট বরাদ্দ রয়েছে। চলমান প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হওয়ায় ফর্টিজ এফসি সেই স্লটটি পাওয়ার অধিকারী হয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা শুরু করা ফর্টিজ এখন পর্যন্ত কোনো বড় ট্রফি জিততে না পারলেও ক্লাব পরিচালনার পেশাদারিত্বের কারণে দ্রুতই সবার নজরে এসেছে। তাদের নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করায় এবার তারা ঘরোয়া সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি ক্লাবটির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশ পুলিশ এফসি-ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার স্বপ্ন দেখছে। যদিও বর্তমানে একটি মাত্র স্লট বরাদ্দ, তবে গত আসরের মতো অন্য দেশের দলগুলো লাইসেন্সিংয়ে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে পুলিশের খেলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সত্তর দশক থেকে ফুটবলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বাংলাদেশ পুলিশ এবারই প্রথম এএফসি লাইসেন্স পেয়েছে। পুলিশের কোচ আসিফুজ্জামান আশা প্রকাশ করেছেন যে, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় সফল হওয়া তাদের দলের জন্য এক বড় অর্জন এবং এটি খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের অভাবে দেশের বড় ক্লাবগুলো যখন আন্তর্জাতিক আসর থেকে ছিটকে পড়ছে, তখন ফর্টিজ ও পুলিশের মতো দলগুলোর এই উত্থান বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক বার্তাই দিচ্ছে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিজ এফসির অংশগ্রহণ কেবল তাদের ক্লাবের জন্যই নয়, বরং ঘরোয়া ফুটবলের অন্যান্য ছোট ক্লাবগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অন্যদিকে কিংস ও আবাহনীর মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো কত দ্রুত তাদের আর্থিক ও সাংগঠনিক সমস্যা কাটিয়ে মাঠে ফিরতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এএফসি আসর ঘিরে এখন দেশের ফুটবল প্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ফর্টিজ এফসি।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ কে এম অলি উল্যাকে।
বাকি দুই সদস্য হচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমনটিই জানানো হয়েছে কমিটিকে।
সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার কারণ নিরাপত্তা শঙ্কা। ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিলে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দেয়।
কেননা তখন প্রশ্ন ওঠে একজন ক্রিকেটারকে যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না ভারত, তখন বাংলাদেশ দলকে কিভাবে দেবে?
এই আশঙ্কা প্রকাশ করেই আইসিসির কাছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি চিঠি লিখেছিল যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবির চাওয়ায় অবশ্য সাড়া দেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই পরে বাধ্য হয়ে তখনকার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাংলাদেশকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে পরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার লড়াই এক রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আলোক স্বল্পতা ও বৃষ্টির বাগড়ায় দিনের অনেকটা সময় নষ্ট হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো টাইগারদের হাতেই রয়েছে। চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১৫২ রান। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের বর্তমান লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রানের। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এখন পঞ্চম ও শেষ দিনটিই হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত নির্ধারক।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে সমানে সমান লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করালে জবাবে পাকিস্তানও দাপট দেখিয়ে ৩৮৬ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের সকালে কিছুটা বিপাকে পড়েছিল। দুই ওপেনার দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে দলের ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ সামাল দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক।
শান্ত ও মুমিনুলের মধ্যকার দায়িত্বশীল ব্যাটিং জুটিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের সাবলীল ব্যাটিংয়ের মুখে পাকিস্তানি বোলাররা বেশ কিছুক্ষণ উইকেটশূন্য থাকতে বাধ্য হন। তবে লাঞ্চ বিরতির পর খেলার গতি থমকে দেয় অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। বৃষ্টির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ম্যাচের দ্বিতীয় সেশনটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। এতে রান বাড়ানোর গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়লে ম্যাচে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাও উঁকি দিতে শুরু করে।
চা বিরতির পর বৃষ্টি থামলে পুনরায় খেলা শুরু হয়, কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকায় মাঠের আলো দ্রুত কমে আসে। আলোক স্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। ফলে দিনের নির্ধারিত ওভারের একটি বড় অংশ মাঠে গড়ায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৫২ রানে দিন পার করে বাংলাদেশ। টাইগার শিবিরে এখন মূল লক্ষ্য থাকবে পঞ্চম দিনের সকালে দ্রুত কিছু রান তুলে নিয়ে একটি চ্যালেঞ্জিং টার্গেট পাকিস্তানের সামনে ছুঁড়ে দেওয়া।
মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনটি এখন উভয় দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ চাইবে তাদের বর্তমান লিডকে আড়াইশ থেকে তিনশ রানের ঘরে নিয়ে যেতে, যাতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের ওপর চতুর্থ ইনিংসে চাপ সৃষ্টি করা যায়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা নাগালে রাখা। বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকলে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে শেষ দিনের রোমাঞ্চ উপভোগ করবেন দর্শকরা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ক্যাম্প ন্যু জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা। এটি ক্লাবটির ২৯তম লিগ ট্রফি। কেবল মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বই নয়, এই শিরোপা জয়ের ফলে কাতালান ক্লাবটির কোষাগারে জমা হতে যাচ্ছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। টানা দ্বিতীয় এবং গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো স্প্যানিশ ফুটবলের এই শীর্ষ মুকুট নিজেদের করে নিল বার্সা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জিতেই শিরোপা নিশ্চিত হওয়ায় সমর্থকদের আনন্দ এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
গতরাতে অনুষ্ঠিত এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল বার্সার। মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় মার্কাস র্যাশফোর্ডের দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা। এরপর ১৭তম মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় দ্বিতীয় গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিড ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে লিগের শীর্ষস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি শিরোপা উদযাপনের মঞ্চ প্রস্তুত করে নেয় কাতালানরা।
ট্রফির পাশাপাশি বার্সেলোনা বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পেতে যাচ্ছে মূলত লা লিগার টেলিভিশন স্বত্ব থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন দলকে লিগের মোট উপার্জিত অর্থের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে শিরোপা জিতে বার্সা ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরোর কিছু বেশি পেয়েছিল। তবে এবার টেলিভিশন স্বত্বের বাজারদর আগের চেয়ে বাড়ায় বার্সেলোনা অন্তত ৬ কোটি থেকে ৯ কোটি ইউরো পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৬৫ কোটি থেকে ১৩০০ কোটি টাকার মধ্যে।
এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বার্সেলোনার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, পুরস্কারের এই অর্থ প্রধানত তাদের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যুর সংস্কার ও নবনির্মাণ কাজে ব্যয় করা হবে। এছাড়া চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের ফলে পাওয়া আলাদা প্রাইজমানিও ক্লাবের তহবিলে জমা হবে। তবে লা লিগা শিরোপার এই প্রাইজমানিই হতে যাচ্ছে ক্লাবটির জন্য এ বছরের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রাপ্তি।
শিরোপা জয়ের এই মুহূর্তটি দলের কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য ছিল একই সঙ্গে আনন্দ ও বিষাদের। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দলকে এই উচ্চতায় নিয়ে আসায় ফুটবল মহলে তিনি বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য এই ২৯তম শিরোপা কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখে থাকা ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর একটি শক্তিশালী বার্তা। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পুরস্কার এবং মাঠের এই সাফল্য—উভয়ই কাতালানদের আগামীর পথে বড় ধরনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
টানা তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসি। রেড বুল ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে ম্যাচে দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন নেইমার জুনিয়র। গত তিন ম্যাচে দুটি ড্র ও একটি হারের পর এই জয়টি সান্তোসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঘরের মাঠে নেইমারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২-০ ব্যবধানের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ক্লাবটি, যা সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে সান্তোস এফসি। পুরো সময়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন নেইমাররা। প্রতিপক্ষের গোল অভিমুখে তারা মোট ১০টি শট নেন, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যভেদী। অন্যদিকে, সফরকারী ব্রাগান্তিনো ৪৩ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পারলেও সান্তোসের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। তারা গোল লক্ষ্য করে মোট ৮টি শট নিলেও কোনোটিই জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
ম্যাচের প্রথম গোলের জন্য সান্তোসকে অপেক্ষা করতে হয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময় পর্যন্ত। সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বোন্টেম্পোর চমৎকার এক পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন নেইমার জুনিয়র। এই গোলের সুবাদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রেখে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাডোনিস ফ্রাইয়াস। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সান্তোস।
এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিক থেকে কিছুটা উপরে উঠে এসেছে সান্তোস। বর্তমানে ১৫ রাউন্ড শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের ১৫তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়া ব্রাগান্তিনো সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে সপ্তম স্থানে। ব্রাজিলের শীর্ষ এই ফুটবল লিগে বর্তমানে ১৫ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করে রেখেছে পালমেইরাস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলতে না পারা পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজমের মাঠে ফেরা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বাম হাঁটুর অস্বস্তিবোধের কারণে মিরপুর টেস্টে তিনি মাঠের বাইরে থাকলেও দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাকে নেটে পুরোদমে অনুশীলন করতে দেখা গেছে। বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ম্যানেজমেন্ট তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ ইতিবাচক এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৬ মে থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে তিনি একাদশে ফিরছেন।
বাবর আজম পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে দুর্দান্ত ফর্ম প্রদর্শন করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৫৮৮ রান সংগ্রাহক হিসেবে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা এই ব্যাটার মিরপুর টেস্ট শুরুর আগের দিন হঠাৎ করেই হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত হন। ফলে শেষ মুহূর্তে তাকে ছাড়াই প্রথম ম্যাচের পরিকল্পনা সাজাতে বাধ্য হয় পাকিস্তান দল। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং ইতোমধ্যে দলের নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।
অনুশীলন পর্বে বাবর আজমকে বেশ সাবলীল দেখা গেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তিনি একটি দীর্ঘ ব্যাটিং সেশনে অংশ নেন। এসময় দলের ফিজিওথেরাপিস্ট ও ট্রেইনাররা তার প্রতিটি মুভমেন্ট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ব্যাটিং অনুশীলনের পাশাপাশি উইকেটের মাঝে দৌড়ানোর (রানিং ড্রিল) সময়ও বাবরের মধ্যে কোনো প্রকার অস্বস্তি পরিলক্ষিত হয়নি। তার এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দ্রুত উন্নতি টিম ম্যানেজমেন্টের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইনজুরি খুব বেশি গুরুতর না হলেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বাবরকে প্রথম টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও দলের নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটার নিজে একাদশ থেকে বাদ না পড়ার জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার যে উন্নতি দেখা যাচ্ছে, তাতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে তার অংশগ্রহণ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
আগামী ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাবরের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার দলে ফিরলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি মানসিকভাবেও দলটি এগিয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ ব্যাটিং সেশন ও ফিটনেস পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপগুলো পার করে ১৬ তারিখ সকালে বাবর আজম টস করতে নামেন কি না।
আইপিএলের একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ম্যাচের একেবারে শেষ বল পর্যন্ত রোমাঞ্চ বজায় থাকলেও শেষ হাসি হেসেছে আরসিবি। এই পরাজয়ের ফলে মুম্বাইয়ের প্লে-অফে যাওয়ার সব গাণিতিক সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ১৫ রান, যা নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়।
মুম্বাইয়ের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শেষ ওভারের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তরুণ বোলার রাজ বাওয়ার হাতে। তবে চাপের মুখে রাজ বাওয়া খেই হারিয়ে ফেলেন এবং শুরুতেই একটি ওয়াইড ও একটি নো-বল করে বসেন। পুরো ওভারে তিনি মোট ৫টি অতিরিক্ত রান দেন, যার মধ্যে ছিল চারটি ওয়াইড। শেষ বলে আরসিবির জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন ছিল। স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা রসিক সালাম দার একটি শট সরাসরি বোলারের দিকে খেললেও রাজ বাওয়া তা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সেই সুযোগে দুই রান পূর্ণ করে উল্লাসে মেতে ওঠে বেঙ্গালুরু শিবির।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তের কিছু দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ফিল্ডিংয়ের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফিল্ডার যদি উইকেটরক্ষকের পরিবর্তে বোলারের প্রান্তে বল ছুড়তেন, তবে হয়তো নন-স্ট্রাইকার ব্যাটারকে রান আউট করার সুযোগ থাকতো। সেক্ষেত্রে ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। তবে ফিল্ডিং মিস এবং বোলার পজিশনে দাঁড়িয়ে থাকায় মুম্বাই সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি। এই পরাজয়টি মুম্বাইয়ের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল কারণ তারা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ১১ ম্যাচ শেষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সংগ্রহ মাত্র ৭ পয়েন্ট। হাতে থাকা বাকি তিনটি ম্যাচ জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে ১২ (আপনার দেওয়া তথ্যমতে), যা ইতোমধ্যে শীর্ষ চার দলের অর্জিত পয়েন্টের চেয়ে কম। ফলে বাকি ম্যাচগুলো এখন মুম্বাইয়ের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। দলের এই হারের পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তরুণ রাজ বাওয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ বাওয়া সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং শেষ ওভারের দায়ভার তিনি একার ওপর চাপাতে চান না।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মাঝারি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি শুরু থেকেই সতর্ক ছিল। বেঙ্গালুরুর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচ করে মুম্বাইয়ের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। অসাধারণ এই বোলিং স্পেলের জন্য ম্যাচ শেষে ভুবনেশ্বর কুমারকেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং এবং ব্যাটারদের দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে দিন শেষ করেছে লাল-সবুজের দল। এর ফলে বর্তমানে স্বাগতিকদের ঝুলিতে মোট ৩৪ রানের লিড রয়েছে। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের নির্ধারিত সময়ের আগেই আম্পায়াররা খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ম্যাচের তৃতীয় দিন পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করে। অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইস তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই ১০৩ রানের এক ধ্রুপদী ইনিংস খেলে ইতিহাস গড়েন। তাঁর সহযোগী আব্দুল্লাহ ফজলও ৬০ রান করে পাকিস্তানের স্কোরকে মজবুত করার চেষ্টা করেন। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের যৌথ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার। একপর্যায়ে ৩৪৯ রানে ৫ উইকেট থাকা পাকিস্তান মাত্র ৩৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।
পাকিস্তানের ইনিংসের মধ্যভাগে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা ৫৯ ও ৫৮ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে তাঁরা টিকতে পারেননি। পেসার নাহিদ রানা তাঁর বিধ্বংসী গতিতে সালমানকে পরাস্ত করেন এবং তাইজুল ইসলাম রিজওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন। তবে দিনের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ১০২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ‘ফাইফার’ পূর্ণ করেন। তাঁর ঘূর্ণি জাদুতে পাকিস্তান বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৪১৩ রানের স্কোরের নিচে আটকা পড়ে।
ম্যাচের মাঝপথে বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল, যার ফলে সেশন পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলে মাত্র ১.৫ ওভার পরই খারাপ আলোর কারণে মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের। মাহমুদুল হাসান জয় ২ রান করে অপরাজিত আছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬ (আওয়াইস ১০৩, ফজল ৬০; মিরাজ ৫/১০২, তাইজুল ২/৬০)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩ ( নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাসকিন ২৮, তাইজুল ১৭, সাদমান ১৩ ; আব্বাস ৫/৯২, আফ্রিদি ৩/১১৩, হাসান ১/৭৫, নোমান ১/৮০)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১.৫ ওভারে ৭/০ ( মাহমুদুল ২*; আফ্রিদি ০/২)