মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

ছাদখোলা বাসে বাফুফের উদ্দেশে চ্যাম্পিয়নরা

ছাদ খোলা বাসে চ্যাম্পিয়নরা। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:১৯

সাফজয়ী বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলকে ছাদখোলা বিশেষ বাসে বিমানবন্দর থেকে মতিঝিলের বাফুফে ভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চ্যাম্পিয়নদের বহনকারী বাসটি বিমানবন্দর-কাকলী-জাহাঙ্গীর গেট-পিএম অফিস-বিজয় সরণি-ফকিরাপুল হয়ে বাফুফে ভবন যাচ্ছে।

সাফ চ্যাম্পিয়ন নারী দলকে নিয়ে ছাদখোলা বাসটি বিমানবন্দর থেকে বের হলেই রাস্তার দুপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারও মানুষ তাদের শুভেচ্ছায় সিক্ত করে। ফুটবলাররাও হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব জানান। বিমানবন্দর এলাকা ছাড়িয়ে ভক্তদের সেই ভিড় ছাড়িয়ে গেছে তাদের যাত্রাপথের প্রায় পুরোটা জুড়েই।

চ্যাম্পিয়ন দলকে স্বাগত জানাতে সড়ক জুড়ে ছিল ভক্তদের ভিড়
চ্যাম্পিয়ন দলকে স্বাগত জানাতে সড়ক জুড়ে ছিল ভক্তদের ভিড়

চ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে বিকেএসপি থেকে বিমানবন্দরে এসেছিল খুদে ক্রীড়াবিদদের একটি দল। সাবিনা-স্বপ্নাদের বরণ করে নিতে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছিল না তাদের। শেষ পর্যন্ত তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলে তারও উচ্ছ্বাস জানায়। বিকেএসপির ক্রীড়াবিদ লামিয়া বলেন, ‘আপুরা ভালো খেলেছে, ট্রফি জিতেছে। তাদের জন্য এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।’

ছাদখোলা বাস চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে, ট্রাফিক পুলিশ যাত্রাপথ সহজ করছে।

নারী ফুটবলাররাও হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেয়
নারী ফুটবলাররাও হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেয়

বাফুফে ভবনে দলকে সংবর্ধনা দেবে ফুটবল ফেডারেশন। সেখান দলের অপেক্ষায় আছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

এর আগে, সাফের শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দুপুর পৌনে ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ছাদখোলা বাসের পেছনেও রীতিমতো মিছিল শুরু হয় ভক্তদের
ছাদখোলা বাসের পেছনেও রীতিমতো মিছিল শুরু হয় ভক্তদের

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তারা তাদের বিমানবন্দরে বরণ করে নেন। এর আগে থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন ভক্ত ও সমর্থকরা।

ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান


নারী আম্পায়ার ইস্যুতে এবার প্রশ্ন তুললেন সুজন

খালেদ মাহমুদ সুজন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ডিপিএলের নারী আম্পায়ার নিয়ে বির্তক নিয়ে ইতোমধ্যেই নিজেদের ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব আর মোহামেডান। কিন্তু এ ইস্যু নিয়ে বিতর্কের যেন অবসান ঘটছেই না। ক্রিকেট পাড়ায় এখনো চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেই সমালোচনার পালে এবার হাওয়া দিলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। বড় ম্যাচে নারী আম্পায়ার জেসিকে দেওয়ায় তিনি প্রশ্নের তীর ছুড়ে দিয়েছেন।

সুজনের মতে বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ আম্পায়ার নির্বাচন করা প্রয়োজন অবশ্যই। তিনি বলেন, ‘বড় খেলায় আমি সবসময় মনে করি আপনাকে এমন একজন আম্পায়ার দেওয়া উচিত যার অভিজ্ঞতা আছে, মাঠের প্রেশারটা কিন্তু অনেক বড়। যদিও আজকালকার ক্রিকেটে সেই বিগত আবাহনী-মোহামেডানের সেই প্রেশার নাই। তারপরও বড় দল খেলছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলছে। আপনাকে এমন একজন আম্পায়ার দিতে হবে যার প্রতি খেলোয়াড়দের রেসপেক্টটা থাকে।’

সে ম্যাচের নারী আম্পায়ার জেসিকে ভালো আম্পায়ার মানলেও এখনো প্রিমিয়ার লিগের বড় ম্যাচে আম্পায়ারিং করার অভিজ্ঞতা তার হয়নি বলে দাবি সুজনের, ‘যিনি আম্পায়ারিং করেছেন, সে খুব ভালো আম্পায়ার। বাংলাদেশের হয়ে ভবিষ্যতে খুব ভালো করবে। সে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়। সবমিলিয়ে তার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে ক্রিকেটে অবশ্যই। কিন্তু আম্পায়ার হিসেবে তার অভিজ্ঞতাটা আমার মনে হয় না প্রিমিয়ার লিগের এত বড় ম্যাচে করার মতো।’

বিসিবির সাবেক এ পরিচালক প্রশ্ন তোলেন দেশে অনেক অভিজ্ঞ আম্পায়ার থাকা সত্ত্বেও কেনো এতবড় ম্যাচে জেসিকে আম্পায়ার দেওয়া হলো। তিনি বলেন, ‘যদি আমার মত দিই, আমার মতে প্রিমিয়ার লিগের এত বড় একটা প্রেশার ম্যাচে আমার মনে হয় যে আরেকটু বিচক্ষণ হতে হবে, আম্পায়ার কারা করছে, দেখতে হবে। আমাদের দেশে এত অভিজ্ঞ আম্পায়ার থাকতে কেন জেসিকে প্রয়োজন হলো আম্পায়ারিং দেওয়ার ওই ম্যাচটাতে আমি জানি না।’

অবশ্য এমন বড় ম্যাচে সাথীরা জাকির জেসিকে আম্পায়ার দেওয়ার ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছেন, বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেন, ‘সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, তাই আমরা এসব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দিচ্ছি। আমরা আমাদের নারী আম্পায়ারদের তৈরি করতে চাই। যাতে বিশ্বকাপে আইসিসি এদেরও কিছু ম্যাচ দেয়। তারাও (আইসিসি) দেখছে, ওরা কোথায়, কী করছে। এখন আমি যদি এদের লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে আম্পায়ারিং না করাই বাংলাদেশে, তাহলে হবে না। মেয়ে বলেন, ছেলে বলেন নতুন প্রজন্মে পাইপলাইন তৈরি করার চেষ্টা করছি।’


অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার উসমান খাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

কথা ছিল কত শত মানুষের আকাশে ওড়ার স্বপ্নপূরণ করবেন; বিমান নিয়ে চষে বেড়াবেন নীলাভ ওই আকাশে। তাই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাভিয়েশনের ওপর। তবে বিমান নিয়ে আকাশ নয় ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে চষে বেড়িয়েছেন বাইশ গজ। তিনি অজিদের টপ-অর্ডার ব্যাটার উসমান খাজা।

উসমান খাজার খেলার কথা ছিল পাকিস্তানের হয়ে। কারণ ১৯৮৬ সালে তার জন্মটা হয়েছিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদ শহরে। মাত্র ৪ বছর বয়সেই বদলে যায় তার ভাগ্য; উসমান খাজার পরিবার পাড়ি জমান নিউ সাউথ ওয়েলস শহরে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি নেন খাজা। অল্প বয়সেই নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দিয়ে নজর কাড়েন সবার।

২০০৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় খাজার। সেই বছরই নজরে আসেন দারুণ এক কীর্তি গড়ে। দলটির দ্বিতীয় একাদশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা ডাবল সেঞ্চুরি করেন খাজা।

উসমান খাজার এমন পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি অজি ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের। পুরস্কার আসে ২০১১ সালে। রিকি পন্টিংয়ের ইনজুরি খুলে দেয় খাজার ভাগ্য; সুযোগ পায় অ্যাশেজ সিরিজে। প্রথম কোনো মুসলিম ও পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা পান তিনি। দুই বছর পরে ২০১৩ সালে খাজার অভিষেক হয় ওয়ানডে ক্রিকেটে। তারও তিন বছর পরে ২০১৬ সালে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টিতে।

সাদা পোশাকের টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত সদস্য উমান খাজা; কিন্তু রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে খাজার উপস্থিতি বেশ সীমিত। ২০১৩ সালে ওয়ানডে অভিষেক হলেও খেলেছেন মোট ৪০টি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টিতে সেই পরিসংখ্যান আরও সীমিত; ২০১৬ সালে অভিষেকের পর খেলেছেন মোটে ৯টি ম্যাচ। অন্যদিকে ২০১১ সালে টেস্টে অভিষেকের পর খেলেছেন ৭৩টি ম্যাচ।

উসমান খাজা টেস্টে কতটা সাবলীল তার প্রমাণ মেলে একটি পরিসংখ্যান থেকে; ২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ৭টি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সে সময় এতগুলো সেঞ্চুরি করতে পারেনি আর কোনো ব্যাটার। ৭৩ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৫টি সেঞ্চুরি করেছেন খাজা।

পুরো নাম: উসমান তারিখ খাজা।

জন্ম: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ সাল।

জন্মস্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

রাশি: মকর রাশি।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট, গলফ।

প্রিয় খাবার: চিকেন স্যান্ডউইচ।

প্রিয় পানীয়: সফট ড্রিংকস (রেড বুল)।

প্রিয় রং: সাদা ও কালো।

প্রিয় ক্রিকেটার: অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ব্রায়ান লারা।

প্রিয় ক্রিকেট দল: অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

প্রিয় সতীর্থ: নাথান লায়ন ও ডেভিড ওয়ার্নার।

প্রিয় ফুটবলার: দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

প্রিয় ফুটবল দল: আর্জেন্টিনা।

প্রিয় গাড়ি: মার্সিডিজ বেঞ্জ।

প্রিয় শখ: মাছধরা ও ভ্রমণ।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: নাইকি।


টি-টোয়েন্টিতে ‘চার’ হাঁকানোর রেকর্ড বাবরের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাবর আজমের কভার ড্রাইভ অনেক ক্রিকেটপ্রেমীরই প্রিয়। তবে শুধু কভার ড্রাইভ নয়, মাঠের অন্যান্য দিকেও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে জানেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। উড়িয়ে নয়, বাবর খেলেন মাটি কামড়ে। ছক্কা নয়, চার হাঁকাতেই যেন স্বস্তি ডানহাতি এই ব্যাটারের। চোখজুড়ানো এই ব্যাটিং করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন বাবর। সেটা ‘চার’ হাঁকানোর রেকর্ড। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে ১০৮ ম্যাচে ৪০৯টি চার হাঁকিয়েছেন বাবর। এতে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটার পল স্টার্লিংকে ছাড়িয়ে চার হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

এতদিন সবচেয়ে চার হাঁকানোর রেকর্ডটি ছিল স্টার্লিংয়ের। আইরিশ এই ব্যাটার ১৩৬ ম্যাচে চার হাঁকিয়েছেন ৪০৭টি। আর গতকাল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৪৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে ৬টি চার হাঁকান বাবর। এতেই স্টার্লিংকে পেছনে ফেলেন তিনি।

চার হাঁকানোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বিরাট কোহলি। ১০৯ ইনিংসে ৩৬১টি চার হাঁকিয়েছেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার। কোহলির পরই আছেন আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। ১৪৩ ম্যাচে এই ভারতীয় ব্যাটার হাঁকিয়েছেন ৩৫৯টি চার।

এদিন আরও একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন বাবর। এতদিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলকে সবচেয়ে বেশি ৭৬ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যারন ফিঞ্চ। গতকাল ফিঞ্চের সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন বাবর। বাবরের রেকর্ডের দিনে নিউজিল্যান্ডকে ৯ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। স্বাগতিকদের দেওয়া ১৭৯ রানের জবাবে কিউইরা অলআউট হয়ে গেছে ১৬৯ রানে।


ইংলিশদের লর্ডসের নতুন নায়ক ক্রিস ওকস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইংলিশ তরীর হাল ধরতে যুগে যুগে অনেক প্রেসারই এসেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের দক্ষতার সবটুকু ঠেলে দিয়ে দাগ কেটে রেখে গেছেন দর্শকদের মনে। বাইশ গজে কেউ ছুড়েছেন আগুনের গোলা, কেউ প্রতিপক্ষের কাঁপন তুলেছেন সুইং কিংবা বাউন্স দিয়ে। তাদেরই একজন হবেন ক্রিস ওকস। গতি, বাউন্স আর সুইং দিয়ে কাবু করেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আর ফাইনালে ওকসের পারফরম্যান্স আজীবন মনে রাখবে ইংলিশরা।

১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্ম ক্রিস ওকসের। ক্রিকেটের হাতেখড়ি সাত বছর বয়সে; স্থানীয় ফোর ওকস সেন্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে ২০০৮ সালে জায়গা করে নেন ওয়ারউইকশায়ারের মূল দলে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক মৌসুমেই ২০.৫৭ বোলিং গড়ে শিকার করেন ৪২ উইকেট।

চ্যাম্পিয়নশিপে ওকসের এমন পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের। ২০০৯ সালে ডাক আসে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলে। অভিষেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রান খরচায় শিকার করেন ৬ উইকেট।

শুধু বল হাতেই নয় ওকস যে ব্যাটিংয়েও বেশ দক্ষ সেটাও জানা যায় ওই মৌসুমেই। হ্যাম্পশায়ারে বিপক্ষে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতক; অপরাজিত থাকেন ১৩১ রানে।

কাউন্টিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পান ২০১১ সালে এসে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দলে। ওয়ানডে ক্রিকেটের রঙিন পোশাকও গায়ে জড়ান একই সিরিজে। ২০১৩ সালে এসে পূরণ হয় টেস্ট দলের স্বপ্ন; এবারও প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াই।

ইংল্যান্ডের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ ক্রিস ওকস। কিন্তু নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি টেস্ট দলে। যে কারণে নিয়মিত হতে পারেননি লাল বলের ক্রিকেটে। ক্রিকেটের এ ফরম্যাটে ওকস সবচেয় বেশি সফল হয়েছেন ক্রিকেটের আতুর্ঘর খ্যাত লর্ডসের মাঠে। ক্যারিয়ারে একমাত্র শতকটি হাঁকিয়েছেন তিনি লর্ডসে, নাম তুলেছেন অনার্স বোর্ডে। বল হাতেও অনার্স বোর্ডে নাম আছে তার। এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট এবং একবার ম্যাচে দশ উইকেট শিকার করেছেন, যার সবকটি ম্যাচই ছিল লর্ডসে।

পুরো নাম: ক্রিস্টোফার রজার ওকস

জন্ম: ২ মার্চ, ১৯৮৯

জন্মস্থান: বার্মিংহাম, পশ্চিম মিডল্যান্ডস, ইংল্যান্ড

রাশি: মীন

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট, গলফ

প্রিয় খাবার: ক্লাব স্যান্ডউইচ

প্রিয় পানীয়: হেইনিকেন বিয়ার

প্রিয় রং: সাদা

প্রিয় ক্রিকেটার: জ্যাক ক্যালিস

প্রিয় ক্রিকেট দল: ইংল্যান্ড

প্রিয় সতীর্থ: স্টিভেন ফিন, জন বাটলার, অ্যালেক্স হেলস।

প্রিয় গাড়ি: ফেরারি লা ফেরারি।

প্রিয় স্টেডিয়াম: এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ইংল্যান্ড।

প্রিয় শখ: সাইকেল চালানো, ভ্রমণ।

প্রিয় জুতার ব্র্যান্ড: নাইক।


বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ভালো সুযোগ দেখছেন জ্যোতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও খুব একটা দেরি নেই। আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশেই বসবে নারী ক্রিকেটের বৈশ্বিক এ আসর। ঘরের মাঠে ভালো কিছুর আশায় ক্রিকেট বোর্ড থেকে শুরু করে দর্শক সবাই। তাই বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বিসিবি। সে জন্য পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ইতোমধ্যেই সিলেটে অবস্থান করছে দুই দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বিকেল ৪টায় মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।

বিশ্বকাপের আগে এ সিরিজকে প্রস্তুতির ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন টাইগ্রেসদের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। গতকাল শনিবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেটিই জানালেন তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘আমি যেটা চিন্তা করছি এটা সুযোগ হিসেবে দেখছি। কারণ ভারত ভালো দল এবং তারা কিন্তু ফুল প্যাকেজ নিয়ে এবার এসেছে। বিশ্বকাপে হয়তো তারা এই টিমটাই খেলবে। ওদের জন্য একটা ভালো প্রস্তুতির সুযোগ, আমাদের জন্যও।’

কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার নারীদের বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের একটা সিরিজ পার করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা পেয়েছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সিরিজেই। সেখান থেকে কামব্যক করতে হলে ভালো ক্রিকটে খেলতে হবে। এবং এটাকেই সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ভারতের মতো দলের বিপক্ষে পাঁচটা টি-টোয়েন্টি খেলা এবং দলটা যে কঠিন সময় পার করে এসেছে। সেটা থেকে কামব্যাক করতে হলে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের জন্য এটা বড় সুযোগ। সিলেটের মাঠ, এখানে আমাদের অনেক বড় অর্জন নেই হয়তো। কিন্তু ভালো ক্রিকেট খেলার কিছু স্মৃতি আছে। সেগুলোকে নিয়েই ইনশাআল্লাহ চেষ্টা থাকবে।’

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই এখন অন্যরকম দ্বৈরথ কাজ করে। ভারত নারীদের বিপক্ষে গত সিরিজেও যেটা দেখা গিয়েছিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও ড্র করেছিল ওয়ানডে সিরিজে। শেষ ম্যাচে মাঠের আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি জানিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। পরে সেটি চলে এসেছিল পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেও। সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। সেই প্রশ্ন আসতেই জ্যোতি জানালেন সেসব কিছু মনে রাখেনি তারা, ‘প্রথমত দেখেন, জানি না যেটা আপনি বললেন রাইভালরির কথা। অতীতে অনেক কিছু হয়ে গেছে। কিন্তু যা হয়েছে, তা অতীত। ওটা নিয়ে আমরা বসে নেই।’

আজকের ম্যাচটা ভালোভাবে শুরুর দিকেই নজর টাইগ্রেসদের কাপ্তান নিগার সুলতানা জ্যোতির।


আবারও ইংলিশ লিগ মাতাবেন বাংলাদেশি হামজা চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হামজা চৌধুরী নামটা অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সবচেয়ে বড় তারকা বলা যায় তাকে। অধিনায়কত্ব করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী দল লেস্টার সিটির। আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামতে যাচ্ছে এই বাংলাদেশি তারকা। লিগে খেলা নিশ্চিত করেছে তার দল।

২০১৫-১৬ মৌসুমে রূপকথার গল্প লিখেছিল লেস্টার সিটি। অখ্যাত দলটিই সেবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ডের গৌরবময় প্রিমিয়ার লিগের। কোনো ম্যাচ খেলা না হলেও সে দলের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী। এর পরে অবশ্য প্রিমিয়ার লিগে দলটির হয়ে অধিনায়কত্ব করার সুযোগও হয়েছিল তার।

কিন্তু ২০২২-২৩ মৌসুমে রেলিগেটেড হয়ে নেমে যেতে হয়েছিল ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। তবে তারা যে হারিয়ে যেতে আসেনি, সেটার জানান দিলেন এক মৌসুম পরেই। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে আবারও প্রিমিয়ার লিগে ফিরে এসেছে লেস্টার সিটি। আগামী মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগে খেলবে তারা। সাউথাম্পটনকে আগের ম্যাচে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের কাজ এগিয়ে রেখেছিল লেস্টার সিটি। শুক্রবার কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে লিডস ইউনাইটেডের ৪-০ গোলের হারে নিশ্চিত হয়ে যায় লেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যাবর্তন।

নিয়ম অনুযায়ী ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে প্রিমিয়ার লিগে। লেস্টার সিটির এখন শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত।

কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের কাছে হারা লিডস ইউনাইটেড এখনো পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে আছে; ৪৫ ম্যাচে ৯০ পয়েন্ট তাদের। কিন্তু ম্যাচ বাকি আছে মোটে একটি। অন্যদিকে তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেও ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে লেস্টার সিটি। ৮৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইপ্সউইচ টাউন। তবে তাদের ম্যাচ বাকি এখনো তিনটি। শীর্ষ দুইয়ে থাকার সম্ভাবনায় তাই তারাই এগিয়ে।

পয়েন্ট টেবিলের পরিস্থিতি জানান দিচ্ছে, দুইয়ে থাকা লিডসের আর কোনো সম্ভাবনা নেই লেস্টার সিটিকে টপকে যাওয়ার। তাই লেস্টারের অন্তত সেরা দুইয়ের পেছনে যাওয়ার আর সুযোগ নেই। লেস্টারের বাকি আছে আরও দুটি ম্যাচ। এই দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট পেলেই চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও জিতে নেবে তারা।

তাই এখন বলাই যায় সবকিছু ঠিক থাকলে আবারও প্রিমিয়ার লিগ মাতাতে দেখা যাবে বাংলাদেশি হামজা চৌধুরীকে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ দলে হামজা চৌধুরীর জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।


প্রোটিয়াদের বাইশ গজের আরেক আতঙ্ক ডি কক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের গোড়াপত্তনটাই ছিল তার মুল কাজ। পাশাপাশি সামলাতেন উইকেট কিপিংয়ের দায়িত্বটাও। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নাকানি-চুবানি খেয়েছে অনেক বাঘা বাঘা বোলাররা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাইশ গড়ে চলেছে তার ব্যাটিং রাজত্ব। নিজের দিনে তিনি ছিলেন বোলারদের জন্য এক মুর্তিমান আতঙ্কের নাম। বলছি প্রোটিয়া কিংবদন্তি কুইন্টন ডি ককের কথা। সদা শান্ত-শিষ্ট, ভদ্র ক্রিকেটারের অন্যান্য উদাহরণ তিনি।

১৯৯২ সালে দক্ষিন আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্ম কুইন্টন ডি ককের। তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি জোহানেসবার্গের অ্যাডওয়ার্ডস স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ২০০৯-১০ মৌসুমে গৌতেংয়ের হয়ে মুল দলে অভিষেক হয়। সেখানে দারুণ পারফর্মের সুবাদে ২০১২ সালে ডাক পান দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার। নিজের ছাপটা বেশ ভালোভাবেই রাখেন সেখানে। টুর্নামেন্টের চতুর্থ সেরা রান সংগ্রাহক হন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরেই ডি কক ডাক পান টি-টোয়েন্টি দলে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ২৩ বল থেকে ২৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতান। এরপর ডি কক শো দেখা যায় ২০১৩ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কিউইদের ওই সিরিজেই অভিষেক হয় ওয়ানডে ম্যাচেও। সে ম্যাটে মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ৩৪ বল থেকে করেন ১৮ রান। তার দলও হেরে যায়।

তবে প্রথম ম্যাচে খারাপ করলেও হারিয়ে যাননি ডি কক; নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। উন্নতির ছোঁয়ায় বদলে ফেলেছেন নিজেকে। মিডল অর্ডার থেকে চলে এসেছেন ইনিংস ওপেন করতে। এখানেই সফল তিনি। পরবর্তীতে এটাই ছিল তার প্রিয় পজিশন। প্রোটিয়া এ বাঁহাতি উইকেট রক্ষকের সাদা পোষাকের ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

২০২১ সালে বিদায় জানান টেস্ট ক্রিকেটকে। ২০২৩ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটিই হবে ওয়ানডেতে তার শেষ ম্যাচ; এমন ঘোষণা দিয়েই ভারত এসেছিলেন ডি কক। মনে রাখার মত একটি বিশ্বকাপ দিয়েই ইতি টানেন ওয়ানডে ক্রিকেটের।

পুরো নাম- কুইন্টন ডি কক।

জন্ম- ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯২ সাল।

জন্মস্থান- জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাশি: ধনু রাশি।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট, গলফ।

প্রিয় খাবার: ক্লাব স্যান্ডউইচ।

প্রিয় পানীয়: বিয়ার।

প্রিয় রং: সাদা, কালো।

প্রিয় ক্রিকেটার: কুমার সাঙ্গাকারা, ক্রিস গেইল।

প্রিয় ক্রিকেট দল: দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল।

প্রিয় সতীর্থ: হাসিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স।

প্রিয় বোলার: ডেল স্টেইন।

প্রিয় গাড়ি: মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডাই।

প্রিয় শখ: মাছ ধরা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: সিএ স্পোর্টস।


শরণার্থী শিবির থেকে অধিনায়ক আসগর আফগান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আফগানিস্তানের এক সময়ের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক ছিলেন আসগর আফগান। তার ছিল মূলত মোহাম্মদ আসগর স্টানিকজাই। নিজের দেশকে পুরো বিশ্বে পরিচিত করতে নামের শেষে যোগ করেন ‘আফগান’। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বহু জয়ের সাক্ষী হয়ে আছে তার নেতৃত্বে।

তবে আসগর আফগানের ক্রিকেট খেলাটা এতটা সহজ ছিল না। ১৯৭৭ সালে আফগানিস্তানের কাবুল শহরে জন্মগ্রহণ করেন আজগর আফগান। শৈশবেই শিকার আমেরিকানদের অত্যাচারের। বিভিন্ন অজুহাতে সে সময় আফগানিস্তান দখল করে নেয় পশ্চিমা শক্তিরা। তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকে আফগানিস্তানের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বাহিনী তালেবান।

সে সময় যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছেড়ে পাকিস্তানের পেশোয়ারে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয় আসগর আফগানের পরিবার। সেখানেই মোহাম্মদ নাবী, দৌলত জাদরান, শাপুর জাদরানদের সঙ্গে ক্রিকেটের হাতেখড়ি নেন আফগানদের সাবেক এ অধিনায়ক।

এরপর ২০০৪ সালে এসিসি অনূর্ধ্ব- ১৭ টুর্নামেন্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানেড অভিষেক হয় তার। পরের বছর টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় আসগর আফগানের।

আফগানিস্তানের বহু প্রথমের নায়ক এবং সাক্ষী তিনি। আজকের এ আফগানিস্তান দলের পেছনে বড় ভুমিকা ছিল তার। ব্যাট হাতে যেমন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি অধিনায়ক হিসেবেও আগলে রেখেছেন দলকে।

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হঠাৎ করেই তিনি অবসরের ঘোষণা দেন। বিশ্বকাপের মাঝপথেই তিনি তার অবসরের ঘোষণা দেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তবে তার এমন অপ্রত্যাশিত অবসর বেশ খানিকটা ব্যথিতই করেছিল আফগান ক্রিকেট সমর্থকদের। আফগান ক্রিকেটে তার অবদান ভুলবে না আফগানিস্তানবাসী।

পুরো নাম : মোহাম্মদ আসগর আফগান (মোহাম্মদ আসগর স্টানিকজাই)

জন্ম : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সাল

জন্মস্থান : কাবুল, আফগানিস্তান

রাশি: মীন

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট

প্রিয় খাবার: আফগানি পোলাও

প্রিয় পানীয়: চা

প্রিয় রং: সাদা, কালো

প্রিয় ক্রিকেটার: মাইকেল ক্লার্ক

প্রিয় ক্রিকেট দল: আফগানিস্তান

প্রিয় সতীর্থ: মোহাম্মদ নাবী

প্রিয় গাড়ি: অডি

প্রিয় শখ: ভ্রমণ

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: সিএ স্পোর্টস


সময় নিয়েই মাঠে ফিরতে চান ইবাদত হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পেসারদের পথ চলতে হয় ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করেই। যখনই নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তখনই হুট করে কালো মেঘের মতো আকাশটা অন্ধকার করে আসে ইনজুরি। তেমনটাই হয়েছিল বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার ইবাদত হোসেনের সঙ্গে। ইবাদতকে নিয়ে যখন দেশের মানুষের এক আকাশ স্বপ্ন তখনই ইনজুরির করাল থাবায় লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে গেলেন মাঠের বাইরে। যেতে হলো ডাক্তারের ছুরি-কাঁচির নিচে। সেটাও প্রায় বছর খানেক হয়ে গেল। ইবাদত এখন চালাচ্ছেন ফেরার লড়াই।

হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে পূরণ করছেন নিজের ছোট ছোট লক্ষ্যগুলো। এতেই তার মুখে বিশ্বজয়ের আনন্দের হাসি। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় স্বাভাবিকভাবে কিছুটা বিষণ্ণ ইবাদত। তার ওপর বাবার গলার ক্যানসার ইবাদতকে ফেলেছে আরেক দুশ্চিন্তায়, ‘আমি নিজেই একটা ট্রমার মধ্যে আছি। এত বড় একটা সার্জারি, সাত-আট মাস ধরে খেলতে পারছি না। এর মধ্যে বাবা অসুস্থ। খারাপ সময় যাচ্ছে। তবে চেষ্টা করছি মানসিকভাবে নিজেকে চাঙা রাখতে।’

দীর্ঘদিন ধরে ফেরার লড়াইয়ে ইবাদত হোসেন। ফেরার প্রক্রিয়ার কথা জানাতে গিয়ে এ পেসার জানালেন, লন্ডনের লম্বা সেই সার্জারির কথা, ‘অনেক বড় সার্জারি যেহেতু, ডাক্তার বলেছিলেন আমার পাঁচটা জায়গা ঠিক করতে হয়েছে। এ রকম সার্জারি তিনি খুব কমই করেছেন। হাঁটু খোলার পর নাকি ডাক্তার দেখেছেন, আমার এসিএল, লিগামেন্ট, সবই খোলা। তখনই তিনি বলেছিলেন, আমার ফিরতে একটু সময় লাগবে। আমি যদি রিহ্যাবে একটু বেশি সময় দিই, তাহলে ক্যারিয়ারটা একটু লম্বা হবে।’

এশিয়া কাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের এ গতি তারকার। তাই ফেরা নিয়ে খুব বেশি তাড়াহুড়া করছেন না তিনি। এ বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত সফর দিয়ে খেলায় ফেরার লক্ষ্য ইবাদতের, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপের পর এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলতে পারব না। সবই যখন মিস হয়েছে, তখন সময় নিয়ে ভালোভাবে ফেরা ভালো। দেখি ভারত সিরিজ দিয়ে ফেরা যায় কি না।’

ইনজুরির থেকে ফেরার পর পেসারদের পুরোনো ফর্ম ফিরে পাওয়া নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যায়। ইবাদতের গতির বাউন্স আর আগ্রাসন কি থাকবে? সেটা পেতে খুব একটা সময় লাগবে না তার, ‘একবার ফিটনেস ফিরে পেলে ছন্দে ফিরতে বেশি দিন লাগবে না। আমার অ্যাকশন খুবই সাদামাটা, আমার জন্য এটা কঠিন কিছু নয়। আমাকে সবাই চেনে গতির কারণে। গতিই যদি না থাকে, তাহলে তো হবে না।’


ভারতের বোলিংরাজ্যের অকুতোভয় সৈনিক চেতন শর্মা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৯৬৬ সালে লুধিয়ানায় জন্ম ভারতের সাবেক পেসার চেতন শর্মার। ক্রিকেটের প্রতি প্রেম জেগে উঠেছিল অনেক অল্প বয়সেই। সেই প্রেমকে প্রণয়ে রূপ দিতে পেয়েছিলেন দক্ষ গুরুও। দেশপ্রেম আজাদ; যার হাতে ক্রিকেটের দীক্ষা নিয়েছিলেন স্বয়ং কপিল দেব।

গুরুর সঠিক নির্দেশনা, নিজের ভালোবাসা আর কঠোর পরিশ্রম নষ্টের পথে নয়- সেটা প্রমাণ হয় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই। ১৯৮০ সালে নর্থ জোনের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ডাক পেয়ে তিনি রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

হরিয়ানার হয়ে ১৯৮২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় চেতনের। রঞ্জি ট্রফির সেই মৌসুমটাতে ছয় ম্যাচ খেলেই চেতন নিয়েছিলেন ২৭ উইকেট। প্রথম মৌসুমের এই পারফরম্যান্সের পর তিনি ডাক পেয়েছিলেন দ্বিতীয় মৌসুমেও, সেখানেও উজ্জ্বল চেতন শর্মা। মাত্র নয় ম্যাচ খেলেই নিয়েছিলেন ৫১ উইকেট।

ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ আসরে এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেতে দেরি হয়নি এ পেসারের। পরের বছরই (১৯৮৩) জামশেদপুরে চেতন শর্মার মাথায় উঠে ভারতীয় ওয়ানডে অভিষেকের টুপি। ওয়ানডেতে সেই ম্যাচে ৬০ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে হয়তো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি।

তবে পরের সিরিজে পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালে লাহোরে সেই টেস্ট থেকেই যে শুরু, ধীরে ধীরে চেতন শর্মা হয়ে উঠলেন ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য।

হঠাৎ করেই ওয়ানডে দলের বাইরে চলে যান চেতন শর্মা। সেই যে বাদ পড়লেন, আর সহজে দলে ফিরতে পারছিলেন না চেতন। বেলায় বেলায় মেঘ গড়াচ্ছিল, একে একে গড়িয়ে যাচ্ছিল অনেক অনেক বসন্ত, কিন্তু চেতনের আর দলে ফেরা হচ্ছিল না। তবে সেই সুযোগ চেতনের সামনে আসে ১৯৯২ সালে। দারুণ একটা ঘরোয়া মৌসুম কাটানোর পর তিনি দলে ফিরেছিলেন অনেক দিন পর; দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে।

তবে, এরপরও টিকে থাকতে পারেননি তিনি। আস্তে আস্তে তিনি চলে গেলেন পর্দার আড়ালে। কিন্তু ক্রিকেটকে তিনি একেবারেই কখনও ছেড়ে যাননি। অবসরের পর দায়িত্ব পালন করেছেন বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাচকেরও। ক্রিকেট নিয়ে কাজ করেছেন বিভিন্ন টেলিভিশন, পত্রিকা, এমনকি সিনেমাতেও।

পুরো নাম : চেতন শর্মা

জন্ম : ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৬ সাল

জন্মস্থানম: লুধিয়ানা, পাঞ্জাব, ভারত

রাশি: মকর

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট

প্রিয় খাবার: চিকেন তান্দুরি

প্রিয় পানীয়: সফল ড্রিংকস (লিমকা)

প্রিয় রং: সাদা, নীল

প্রিয় ক্রিকেটার: ভিভ রিচার্ডস, সুনিল গাভাস্কার

প্রিয় ক্রিকেট দল: ভারত

প্রিয় সতীর্থ: মাইকেল হোল্ডিং

প্রিয় গাড়ি: অডি

প্রিয় শখ: সিনেমা দেখা, গান শোনা

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: অ্যাডিডাডস


নগর প্রতিদ্বন্দ্বিদের হারিয়ে শিরোপা উৎসব ইন্টার মিলানে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

এসি মিলান আর ইন্টার মিলানের ম্যাচ মানেই যেনো এক অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে ইতালির মিলান শহরে। পুরো শহর ভাগ হয়ে যায় দুই ভাগে; উদ্বেলিত হয় ফুটবল প্রেমে। দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বিকে সমর্থন জোগাতে থাকে হাউজফুল গ্যালারি। এটা অবশ্য মর্যাদার লড়াইও বটে। এক সময় এ লড়াইয়ে আধিপত্য থাকতো এসি মিলানেরেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধার কমেছে তাদের। ২০২২ সালের পরে আর ইন্টার মিলানকে হারাতেই পারেনি তারা।

গতকাল রাতে আবারও সেই মর্যাদার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বি। এ ম্যাচে ছিলো আরেকটি বিশেষত্ব; জিতলেই সিরি-আ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইন্টার মিলান, সেটাও পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই। সে রকম প্রস্তুতিও নিয়েই এসেছিল নেরাজ্জুরিদের খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে দর্শকেরাও। ৩ লালকার্ড, ৫ হলুদকার্ড আর ২৯ ফাউলের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে হলোও সেটাই। ২-১ গোলের জয়ে নিজেদের ইতিহাসের ২০তম লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে সিমোনে ইনজাগির শিষ্যরা।

পুরো ম্যাচে বল দখলে সামান্য এগিয়ে থাকা এসি মিলান গোলের জন্য কিংবা লক্ষ্যে শট রাখায়ও আধিপত্য করে। মোট ১৫টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা, যেখানে ইন্টারের ১১ শটের তিনটি থাকে লক্ষ্যে। তবে, ওই তিন শটের দুটিই জালে পাঠিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে ইনজাগির দল।

ম্যাচের শুরুতেই কিছুটা আধিপত্য দেখায় ইন্টার মিলান। সেটার ফল পেতেও খুব একটা সময় লাগেনি তাদের। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে কর্নারের ফলশ্রুতিতে বাঁজামাঁ পাভার্দের হেড পাস পেয়ে কাছ থেকে হেডেই ইন্টারকে এগিয়ে নেন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার ফ্রান্সেসকো আচের্বি। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দর্শনীয় এক গোল করেন মার্কাস থুরাম। সান সিরোতে তখন নেরাজ্জুরি সমর্থকরা মেতে উঠেছেন শিরোপার উৎসবে।

এরপর এসি মিলান একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের খাতা খুলতে পারেনি। অবশেষে ৮০ মিনিটে এসি মিলানকে গোলের স্বাদ এনে দেন ডিফেন্ডার ফিকায়ো তোমোরি। গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এসি মিলান। ম্যাচে তৈরী হয় নতুন উত্তেজনা।

পরে অবশ্য সেই উত্তেজনা রূপ নিলো বাগ-বিতণ্ডতায়। লাল কার্ড দেখেন এসি মিলানের ডিফেন্ডার থিও এরনঁদেজ ও ইন্টারের ডিফেন্ডার ডেনজেল ডামফ্রিস। খানিক বাদে প্রতিপক্ষের একজনকে কনুই মেরে ডিফেন্ডার দাভিদে কালাব্রিয়াও বহিষ্কার হলে ৯ জনে পরিণত হয় এসি মিলান।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়েই শিরোপা উল্লাস করে ইন্টার। ৩৩ ম্যাচে ইন্টারের পয়েন্ট ৮৬। সমান ম্যাচে দুইয়ে থাকা এসি মিলানের পয়েন্ট ৬৯।


বেলজিয়ামের গোল্ডেনবয় এডেন হ্যাজার্ড

আপডেটেড ২৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৫:২৯
নাজমুল সাগর

বেলজিয়ামের লা-লুভিয়ের শহরে জন্ম। ফুটলের হাতেখরিটা পরিবার থেকেই। বাবা ছিলেন বেলজিয়ামের পেশাদার ফুটবলার। ছেলেও অনুসরণ করলেন বাবার পদাঙ্কই। ভালোবেসে ফেললেন ফুটবলকে। অল্প বয়সেই জানান দিতে শুরু করেন নিজের প্রতিভার। বলছি সাবেক বেলজিয়াম ফুটবলার এডেন হ্যাজার্ডের কথা।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রেনোয়ার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন হ্যাজার্ড। এরপর ফরাসি ক্লাব লিলের যুবদলের খেলার পর সুযোগ পান মুলদলে। সেখানে ৫ মৌসুমে ১৪৭ ম্যাচ খেলে গোল করেন ৩৬টি।এরপর ২০১২-২৩ মৌসুমে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে পাড়ি জমান ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে। এখানে কাটানো সময়কেই বলা হয় হ্যাজার্ডের ক্যারিয়ারের প্রাইম টাইম।

লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে অর্জনের খাতায় যোগ করেন ২টি লিগ শিরোপা আর ২টি উয়েফা ইউরোপা লিগ। এরপর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বদলি হিসেবে ২০১৯-২০ মৌসুমে নাম লেখান স্পেন জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে। সেখানেও জিতেছেন একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব শিরোপা।

বেলজিয়ামের গোল্ডেন জেনারেশনের অন্যতম তারকা ছিলেন তিনি। হ্যাজার্ডের জাতীয় দলে এসেছিল সময় নিয়ে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে। খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬, ১৭, ১৯ দলে। বয়সভিত্তিক দলে চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে ডাক আসে জাতীয় দলে। সতেরো বছর বয়সেই অভিষেক হয় লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে।

এরপর বেলজিয়ামের হয়ে খেলেছেন ৩টি বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালে তার দল বিশ্বকাপ শেষ করেছিল তৃতীয় দল হিসেবে। সেবার সেমিফাইনালে স্বপ্ন ভেঙেছিল ব্রাজিলের। ইনজুরির থাবায় ৩১ বছর বয়সে ২০২৩ সালে বিদায় বলেন জাতীয় দলকে।

পুরো নাম- ইডেন মাইকেল ওয়াল্টার হ্যাজার্ড।

জন্ম- ৭ জানুয়ারি, ১৯৯১ সাল।

জন্মস্থান- লা লুভিয়ের, বেলজিয়াম।

রাশি: মকর রাশি।

প্রিয় খেলা: ফুটবল।

প্রিয় খাবার: বার্গার ।

প্রিয় পানীয়: বিয়ার।

প্রিয় রং: নীল।

প্রিয় ফুটবলার: জিনেদিন জিদান।

প্রিয় ফুটবল দল: বেলজিয়াম, চেলসি।

প্রিয় সতীর্থ: কেভিন ডি ব্রুইনা, লুকা মদ্রিচ, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

প্রিয় গাড়ি: অডি।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ, গান শোনা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: নাইকি।


প্রোটিয়াদের স্বল্প সময়ের তারকা রিচার্ড স্নেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছোট কিন্তু কার্যকরী এক ক্যারিয়ার ছিল রিচার্ড স্নেলের। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি তার; কিন্তু যখনই মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে, তখনই তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম রিচার্ড পিটার স্নেলের। প্রেটিয়াদের হয়ে মাঠে নেমেছেন ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ চার বছর। মূলত একজন অলরাউন্ডার ছিলেন তিনি। প্রেটিয়াদের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনের কাজ করতেন তিনি, পাশাপাশি ডানহাতি মিডিয়াম পেস বলার ছিলেন।

স্নেল নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের দল ট্রান্সভালের হয়ে খেলতেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে স্টিভেন জ্যাকের সঙ্গে অবিস্মরণীয় উদ্বোধনী জুটি গড়ে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

স্নেলের টেস্ট অভিষেকটা ছিল অবিস্মরণীয়। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শেষে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা দল আবার ক্রিকেটে ফেরে তিনি ছিলেন সেই দলের সদস্য। এবং ফেরার পরে প্রোটিয়াদের হয়ে প্রথম টেস্ট উইকেট নেন তিনি। সেটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তার এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯১ সালে তার রঙিন পোশাকের জার্সি ওয়ানেডেতে অভিষেক হয়।

শুরুর কয়েক ম্যাচে খুব একটা নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছিলেন না। তবে সবাইকে চমকে দেন ১৯৯৩ সালে হিরো কাপে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শিকার করেন ৭ ওভার ১ বলে মাত্র ২৪ রান দিয়ে শিকার করেন চার উইকেট। এরপর ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্ব সিরিজে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪০ রান দিয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট। আর এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার।

প্রোটিয়াদের হয়ে ৫টি টেস্ট ও ৪২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল তার। ১৯৯৮ সালে বিদায় জানান সব ধরনের ক্রিকেটকে। এরপর কাজ শুরু করেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে। এর আগে বল হাতে ৫ টেস্টে ম্যাচে শিকার করেছেন ১৯ উইকেট। আর ব্যাট হাতে করেছেন ৯৫ রান। ৪২ ওয়ানডেতে শিকার ৪৪ উইকেট। আর রান করেছেন ৩২২।

পুরো নাম: রিচার্ড পিটার স্নেল।

জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ সাল।

জন্মস্থান: ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাশি: মেষ।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট।

প্রিয় খাবার: ছাকালাকা।

প্রিয় পানীয়: বিয়ার।

প্রিয় রং: সাদা।

প্রিয় ক্রিকেটার: চার্লস ভিন্টসেন্ট।

প্রিয় ক্রিকেট দল: দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল।

প্রিয় সতীর্থ: অ্যান্ড্রু হাডসন।

প্রিয় গাড়ি: মার্সিডিজ বেঞ্জ।

প্রিয় স্টেডিয়াম: ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রিয় শখ: গলফ খেলা।

প্রিয় জুতার ব্র্যান্ড: অ্যাডিডাস।


banner close